টপিকঃ পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানায় পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। পৃথিবীর বড় বৌদ্ধ বিহার গুলোর মধ্যে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার অন্যতম। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বৌদ্ধ স্থাপত্যের অন্যতম। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (World Heritage Site) এর মর্যাদা দেয়।
http://forum.projanmo.com/uploads/thumbs/542_Paharpur.jpg

অবস্থান ও আয়তন
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বাদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। অপর দিকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এর দূরত্ব পশ্চিমদিকে মাত্র ৫ কিমি। এর ভৌগলিক অবস্থান ২৫°০´ উত্তর থেকে ২৫°১৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫০´ পূর্ব থেকে ৮৯°১০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত। গ্রামের মধ্যে প্রায় ০.১০ বর্গ কিলোমিটার (১০ হেক্টর) অঞ্চল জুড়ে এই পুরাকীর্তিটি অবস্থিত। এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি চতুর্ভূজ আকৃতির যার বাইরের অংশের প্রতিটি পার্শ্বের দৈর্ঘৈ ২৭৫ মিটার।[১] এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত। বিস্তীর্ণ সমভূমির মধ্যে একটি সুউচ্চ (পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২৪ মিটার উচুতে অবস্থিত) পাহাড় সদৃশ স্থাপনা হিসেবে এটি টিকে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন একে পাহাড় বলে ডাকতো। সেই থেকেই এর নাম হয়েছে পাহাড়পুর।

প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার ইতিহাস
ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমনের পর তারা সকল স্থানে জরিপ কাজ চালানো শুরু করে। পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন বুকানন হ্যামিল্টন যিনি ১৮০৭ থেকে ১৮১২ সালের মধ্যে কোন এক সময়ে পাহাড়পুর পরিদর্শন করেন। এটিই ছিল পাহাড়পুর প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক পরিদর্শন। এরপর এই প্রত্নস্থল পরিদর্শনে আসেন ওয়েস্টম্যাকট। ১৮৭৯ সালে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর এই জমিটি ব্যাপক হানে খনন করার প্রতি তিনি আগ্রহ দেখান। কিন্তু জমির মালিক বলিহারের তদানীন্তন জমিদার তাকে এই কাজে বাঁধা দেয়। তাই তিনি বিহার এলাকার সামান্য অংশে এবং পুরাকীর্তির কেন্দ্রীয় ঢিবির শীর্ষভাগের সামান্য অংশে খনন কাজ চালিয়েই অব্যাহতি দেন। এই খননকার্যের সময় কেন্দ্রীয় ঢিবির অংশে চারপাশে উদ্‌গত অংশ বিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইমারত আবিষ্কার করেন যার দৈর্ঘ্য ছিল ২২ ফুট।[২]

১৯১৯ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯০৪ সালের পুরাকীর্তি আইনের আওতায় এই ঘোষণা দেয়া হয়। এর পরই মূলত এই প্রত্ন নিদর্শনের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং এর উদ্ধারকাজ বিশেষ গুরুত্বের সাথে শুরু হয়। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ, বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এর ব্যাপকতর খননকাজ শুরু করে ১৯২৩ সালে। এটি প্রথম ব্যাপক আকারের খননকাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। এই কাজে প্রথমদতিকে আর্থিক সাহায্য করে দিঘাপতিয়ার জমিদার শরৎ কুমার রায় এবং এর নেতৃত্ব দেন ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের পশ্চিম অঞ্চলের প্রাক্তন সুপারিনটেনডেন্ট অধ্যাপক ডি. আর. ভাণ্ডারকর।

তথ্য সমহ বাংলাপিডিয়া  থেকে নেওয়া

বাংলা আমার মা,বাংলা আমার মাতৃভাষা
[img]http://forum.projanmo.com/uploads/2007/12/542_flagmobile.gif[/img]

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

অফটপিক: আমার ধারণা এখন যদি কেউ পাহাড়পুরে যায় তাহলে সেখানে রাখালকে গরু চড়াতে দেখবে। আশেপাশে নোংরা ময়লা আবর্জনা দেখবে।
এই রকম একটা জায়গার যত্ন নেয়ার দিকে সরকারের কোন লক্ষ্য নেই। angry

প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

রাজশাহীতে পড়ার সময় ২বার  পাহাড়পুর এ যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এমন চমৎকার একটা স্থাপনা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে ম্রিয়মান। যে রাস্তায়  ওখানে যাওয়া যায় তার নেই কোন সংস্কার । দর্শনার্থীদের  বাথরুম সংক্রান্ত ভালো কোন ব্যবস্থা ছিল না। মিউজিয়ামটা কেমন যেন ফকির ফকির লাগতো।

তথ্যপ্রযুক্তির সবকিছু চাই বাংলায়
খেরোখাতায় লিখি মনের কথা।

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

এসব দেখে মনে হয় তখনকার বাংলাদেশ অনেক উন্নত ছিল। আর এখন আমরা উন্নতির জোয়ারে(!) আছি, এই যা পার্থক্য।

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

তারেক লিখেছেন:

এসব দেখে মনে হয় তখনকার বাংলাদেশ অনেক উন্নত ছিল। আর এখন আমরা উন্নতির জোয়ারে(!) আছি, এই যা পার্থক্য।

সহমত(y)

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

আমি গত মাসে পাহাড়পুর ঘুরে আসলাম, এতটা খারাপ লাগেনি।যত্নের অভাব আছে সত্যি কিন্তু দেখার জিনিসেরও অভাব নেই। চমৎকার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। জাদুঘরটাকে আরো সুন্দর করা যেত কিন্তু সেই আন্তরিকতা কিংবা উদ্যোগ প্রশাসনের নেই।এছাড়া স্থানীয় লোকজনদের অভিযোগ ভাল ভাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণগুলো শহরে নিয়ে যাওয়া হয়, তাই তাদের যাদুঘরের আজ এই করুণ অবস্থা।আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লেগেছে পোড়ামাটির ফলকগুলো, যা এখনো বিহারের দেওয়াল থেকে তুলে ফেলা হয়নি,তবে সংস্কারের অভাবে অনেক ফলক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।পালবংশীয় রাজা ধর্মপালের সময়ে(৭৭০-৮১০ খ্রিঃ) নির্মীত এই অসাধারণ কারুকার্যমন্ডিত ফলকগুলোয় হাত রেখে যে অনুভূতি হয়েছিল তা কোনদিন ভুলব না।
সাম্প্রতিক তোলা কিছু ছবি দিতে চাচ্ছিলাম কিন্তু কিভাবে ছবি আপলোড করতে হয় জানা না থাকায় দিতে পারছি না।

বিঃদ্রঃ গরু চড়ে বেড়াতে দেখিনি কিন্তু ছাগল আর তার ছানাপোনাদের ঘুরে বেড়াতে দেখেছি;D;D

আমি ঝড়ের কাছে রেখে এলাম আমার ঠিকানা

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

আমার এখনও সেখানে যাওয়া হয় নাই গেলে না হয় আপনার সাথে কিছু শেয়ার করতে পারতাম
তবে শীঘ্রই যাবো ইনশাল্লাহ thumbs_up

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

গিয়েছিলাম.... চমৎকার জায়গা।

আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই....