টপিকঃ মানবত্বক উৎপাদন

হঠাৎ আছড়ে পড়লেন বা দৈবক্রমে আগুনে পুড়ে গেলেন; কিংবা যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হলো আপনার শরীর। একবার ভাবুন তো! কী দশাই না হবে আপনার! তার পরই ভাবুন বাজার থেকে কেনা ত্বক দিয়ে মেরামত করে দেওয়া হলো আপনার ক্ষতস্থান। বেশ অবাক হবেন তো! বিস্ময়ের কিছু নেই, বিজ্ঞানের কল্যাণে এটাও একদিন সম্ভব হবে। এ রকমই জানান দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী।
যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের জন্য কৃত্রিম ত্বক
তৈরি করতে বিশেষ স্কিন প্রিন্টিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের 'ওয়েক ফরেস্ট ইনস্টিটিউট' এর একদল বিজ্ঞানী। আর তাঁরা এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন অফিসে ব্যবহার্য ইঙ্ক জেট প্রিন্টার থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে শুধু মানুষের চামড়াই নয়, মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গও তৈরি করা যেতে পারে।
ওয়েক ফরেস্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক এন্থনি অ্যাটালা বলেন, "প্রথমে আমরা 'ডেস্কটপ ইঙ্ক জেট কার্টিজ' দিয়ে গবেষণা শুরু করি। ওই ইঙ্ক জেট কার্টিজে কালির পরিবর্তে ব্যবহার করি মানবকোষ। এই কৌশলে চামড়ার পুড়ে যাওয়া অংশ পুনর্নির্মাণ করা যাবে।"
অ্যাটালা আরো বলেন, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের কলাণে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে আরো পাঁচ বছর সময় লাগবে।
চামড়া তৈরির এ প্রকল্পের জন্য 'ওয়েক ফরেস্ট' সরকারের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি ডলার গ্রহণ করা হবে।
গবেষকরা জানান, তাঁরা 'বায়ো প্রিন্টারকে' পরিবর্তিত করে 'স্টোর বট প্রিন্টার'-এ উন্নীত করবে। এর ফলে এটি 'ত্রিমাত্রিক এলিভেটর'-এ পরিণত হবে। আর এই ত্রিমাত্রিক এলিভেটর মানবদেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সতেজ কোষে পরিণত করবে।
এই স্কিন প্রিন্টিং পদ্ধতি কয়েক ধাপে সুবিন্যস্ত। প্রথমে রোগীর দেহ থেকে ছোট এক টুকরো চামড়া নেওয়া হবে। নমুনাটির আকার হবে একটি ডাকটিকিটের অর্ধ পরিমাণ।

সূত্র : সিএনএন অনলাইন

জীবনে চলার পথে কখনও কখনও উদাসীন হতে হয় , তা না হলে জীবন জটিল হয়ে যায় ।

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত