টপিকঃ কিলোগ্রামের নতুন সংজ্ঞার দ্বারপ্রান্তে বিজ্ঞানীরা!

স্থির ওজনের সাপেক্ষে পরিমাপের একটি বিশ্বজনীন পদ্ধতি নির্ধারণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে বর্তমানে প্রচলিত কিলোগ্রামের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আসবে।

গত ২শ' বছর ধরে পরিমাপের একটি বিশ্বজনীন পদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা কাজ করে আসছেন।

কিলোগ্রাম আন্তর্জাতিক পরিমাপ পদ্ধতির (এসআই) একমাত্র মৌলিক পরিমাপ যার সংজ্ঞা এখনও একটি প্রাকৃতিক পদার্থখন্ড দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে।

এই প্রাকৃতিক পদার্থখন্ডটি একটি প্লাটিনাম-ইরিডিয়ামের নমুনা যার ভরকে এক কিলোগ্রাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিলোগ্রামের মূল এই নমুনাটি ফ্রান্সে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পরিমাপ ব্যুরোর (বিআইপিএম) ভল্টে সংরক্ষিত আছে।

কিলোগ্রামের মূল নমুনাটির ভর স্থির থাকা খুব জরুরি। কারণ কিলোগ্রাম একটি মৌলিক পরিমাপ এবং এর থেকে আরো বহু ধরনের যৌগিক পরিমাপ নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু গত ১শ' বছরেরও বেশী সময় ধরে করা পরিমাপে দেখা যায় কিলোগ্রামের আন্তর্জাতিক মূল নমুনাটি সম্ভবত ৫০ মাইক্রোগ্রামের মত ভর হারিয়েছে।

এই পরিমাণ বালির একটি দানার মত।

এ কারণে বিআইপিএম প্রাকৃতিক মৌলিক পদার্থ দিয়ে কিলোগ্রামের একটি মূল নমুনা তৈরির চেষ্টা করছে।

কিলোগ্রামের সংজ্ঞা পুননির্ধারণের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানীরা সোমবার ব্রিটেনের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমী 'রয়াল সোসাইটি'তে মিলিত হয়েছিলেন।

সেখানে তারা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের মৌলিক ধ্র"বক, 'প্লাঙ্ক ধ্র"বকে'র ভিত্তিতে নতুনভাবে নির্ধারিত কিলোগ্রামের সংজ্ঞার অগ্রগতি দেখান।

"প্ল্যাঙ্ক ধ্র"বকের স্থির মানের ভিত্তিতে নিকট ভবিষ্যতে কিলোগ্রামের সংজ্ঞা পূণনির্ধারণে আন্তর্জাতিক সমঝোতা হয়েছে" এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিমাপ ব্যুরোর পদার্থবিজ্ঞানী মিশেল স্টোক।

মিশেল জানান, প্লাঙ্ক ধ্র"বক ও ভরের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিমাপ করা ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণায় ব্যস্ত।

কিন্তু গবেষণার ফল পাওয়ার সাঙ্গে সঙ্গেই নতুনভাবে নির্ধারিত কিলোগ্রামের সংজ্ঞা গ্রহণ করা হবে না ।

গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা চলমান গবেষণার ফল পরীক্ষা করে একমত হলেই কেবল নতুন সংজ্ঞা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মিশেল।

আন্তর্জাতিক পরিমাপ পদ্ধতি বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহার হওয়া পরিমাপ পদ্ধতি। বিজ্ঞান গবেষণা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশ্বব্যাপী এটির ব্যবহার ব্যাপক।

সাতটি মৌলিক পরিমাপ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমাপ পদ্ধতি গঠিত। এগুলো হল মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড, অ্যাম্পিয়ার, কেলভিন, ক্যান্ডেলা, এবং মোল।

১৮শ' শতকের ফ্রান্সে এসআই পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয় এবং ১৯৬০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পরিমাপ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

পূর্বে দূরত্বের একক মিটারের সংজ্ঞা প্লাটিয়াম-ইরিডিয়ামের দুটি লাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব দিয়ে নির্ধারণ করা হত। কিন্তু এটি এখন আলোর দ্রুতি থেকে নির্ধারণ করা হয়।

সূত্রঃ http://www.bdnews24.com/bangla/details. … amp;cid=21

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত