টপিকঃ মালয়শিয়া ভ্রমণের প্রথমদিন

আমার ভ্রমণ কাহীনি শুরু হয়েছিলো সিঙ্গাপুর ভ্রমণের প্রথম দিন দিয়ে। সিঙ্গাপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন শেষে লিখেছিলাম সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়ার কথা। আজ দেখুন
                                                              মালয়শিয়া ভ্রমণের প্রথমদিন
ডিসেম্বারের ১৭ তারিখ সকালে সিঙ্গাপুর থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যার দিকে এসে পৌছেছি কোয়ালালামপুর হোটেলে। অথচ দুপুরের পরেই এখানে পৌছে যাওয়ার কথা ছিলো। দিনটিই মাটি হয়ে গেলো। হোটেল থেকে ফ্রেস হয়ে সামান্য রেস্ট নিয়ে নেমে আসি হোটেলের রেস্টুরেন্টে, দুপুরের খাওয়া হয়নি এখনো। খাওয়া দাওয়া সেরে বেড়হই হোটেলের আসে-পাশে পাঁয়ে হেঁটে দেখবো বলে। এদিক সেদিক এলোমেলো হেঁটে বেড়াই। হঠাৎ করেই ভাতিজা সোহেল দেখতে পায় একটি পার্টি সেন্টার কাম রেস্টুরেন্টে ইরানী হুক্কা সাজিয়ে রেখেছে, যেগুলিকে ঢাকায় বলে শিশা। ঢাকার এ্যাটরিয়াম রেস্টুরেন্টে যখনই খেতে যাই তখনই দেখি এই বস্তুটি। আমার কার্ড করা আছে, একটা নিলে একটা ফ্রী। কিন্তু কখনো টেস্ট করা হয়নি। আমি সিগারেটই ফুকিনা তো হুক্কার দিকে নজর থাকে কি করে বলেন? ভাতিজা আর ভাগিনার আগ্রহ উপেক্ষা করা গেলো না। মিথ্যে বলবো না, দুই টান দিয়ে দেখেছি কোনো টেস্টই নেই, শুধু চমৎকার একটি ফ্লেবার। আমি আর সাইফুল ছাড়া বাকিরা খুব আয়েশ করে টানলো। চারপাশ চমৎকার এক মহোনীয় ঘ্রানের আবেসে টইটুম্বোর হয়ে উঠলো। বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। অনেকটা সময় এখানে বসে আড্ডা আর দেশে কল করে কথা বলার পালা শেষে এবার আবার হোটেলে ফেরার পালা। যে পথ ধরে এসেছি সবাই আবার সেই পথেই ফিরতে লাগলো, আমি ছাড়া। এ্যায়পোর্টে ভাঙ্গানো রিঙ্গিত সব শেষ, তাই একজনকে মানি এক্সচেঞ্জের কথা জিজ্ঞেস করে আমি একা অন্য পথে হাঁটা ধরি। একটি মোর ঘুরতেই দেখি আমি একেবারে হোটেরের কাছে এসে পরেছি, একটু দূরেই মানি এক্সচেঞ্জ। ডলার ভাঙ্গিয়ে উদ্ভট সব চাইনিজ খাবারের খোলা দোকান দেখতে দেখতে হোটেরের সামনে এসে দাঁড়াই। তখনই দেখতে পাই সামনের মোড় ঘুরে অন্যরাও আসছে।   

হোটেরের রুমে বসে থাকতে ভালো লাগছেনা, রাত হয়েছে বেশ তবুও আমি একাই বেরিয়ে আসি রাস্তায়। অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে এরই মধ্যে, উদ্ভট চাইনিজ দোকানের খাবার এখনো খেয়ে চলেছে নানান কিসিমের খদ্দের। ফুটপাতের উপরেই চেয়ারটেবিল পাতা। একা একা ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই অনেকটা দূর। বুকিত বিতানের এই এলাকাটি বেশ জমজমাট থাকে সব সময়ই। সাথে ক্যামেরা নেইনি এই বৃষ্টির কারণেই। তাই কোনো ছবিও তোলা হয়নি। মূলতো আমি মেইন রোড ধরে হাঁটছি, কারণ সাথে রয়েছে প্রায় দুইলাক্ষ টাকার মত ডলার, অবশ্য সবটাই আমার না। ফিরে আসার সময় ভাবলাম একটু ঘুর পথে হোটেলের অন্য পাশ দিয়ে ফেরা যায় কিনা দেখি। পাশের অপেক্ষাকৃত কম ব্যাস্ত একটি রাস্তাতে কিছুটা হেঁটে যেতেই ভিন্ন কিছু প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত ফিরে আসি মেইন রোডে। সিঙ্গাপুরের মত টুরিস্ট প্রধান শহরে এই বিরম্বনার সম্মুখিন হতে হয়নি। হোটেলে যখন ফিরেছি তখন আমার সারাশরীরই ভিজে গেছে বৃষ্টির পরশে। এখন ঘুম দিবো কালকের দিনের জন্য নিজেকে যেন প্রস্তুত রাখতে পারি।
ভ্রমণ কাহিনীতে ছবি না থাকলে জমে না জানি, কিন্তু আজকের এই রাতের জন্য কোনো ছবি নেই। তুলিইনিযে, দিবো কি করে বলেন!! আগামী কালই ছবি সহ পোস্ট পাবেন কথা দিচ্ছি।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মালয়শিয়া ভ্রমণের প্রথমদিন

ওয়াও ভাইয়া, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ  thumbs_up

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss