সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (২৬-০১-২০১১ ২১:৪৬)

টপিকঃ সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

ডিসেম্বারের ১৭ তারিখ সকাল ১০টা ৩০মিনিটেই আমাদের এ্যারপোর্টে নেয়ার জন্য মাইক্রবাস এসে পরে। আগের দিনই বলে রাখা ছিলো “মিস্টার ইয়াং হো”কে, ইনিই ছিলেন আমাদের সিঙ্গাপুর ভ্রমণে ব্যবহৃত মাক্রবাসের ড্রাইভার। আমাদের সিংঙ্গাপুর টু মালায়শিয়া ফ্লইট টাইম দুপুর ১টা ২৫মিনিটে। সিঙ্গাপুরে আসার সময় হোটেল রিজারভেশানের কাগজ না থাকায় বিশাল ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তাই এবার সমস্ত কাগজ-পত্র ভাতিজা সোহেলের কাছ থেকে আমার কাছে নিয়ে রেখেছি। কিন্তু এবারও ভুল আমাদের পিছু ছাড়েনি, এবার দেখি মালয়শিয়ার হোটেলের রিজারভেশানের  কাজগই নেই। সকালের নাস্তার সময় বেশ কয়েকবার ঢাকায় ফোন করে আমাদের ট্যুর-অপারেটারের কাছ থেকে হোটেলের নাম জেনে নিতে সক্ষম হই।

এবার আবার খেচর হওয়ার পালা, মাত্র এক ঘন্টার উড়ালেই চলে যাওয়া যায় মালয়শিয়া। এয়ারপোর্টের সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে চড়ে বসি প্লেনে। ৩০/৩৫ মিনিট যাওয়ার পরেই আকাশে দেখাদেয় কালো মেঘের ঘনঘটা। প্লেনের ছোট্ট জানালা দিয়ে দেখি কাছেই একগুচ্ছ মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরছে। কিছুক্ষণ পরেই আবহাওয়া বেশ খারাপ হয়ে যায়, কালো আর ঘন সাদা মেঘের ভিতর দিয়ে উড়ে চলেছি। প্রচন্ড ঝাকুনি আর গোগো শব্দে অনেকেই ভয় পেয়ে যায়। মেঘ, মেঘের ভিতরে বৃষ্টি আর বৃষ্টিতে ভিজে উড়েচলেছি একবার উচু আর একবার নিচু দিয়ে মেঘের বাইরে বেরোবার প্রচেষ্ঠায়। জানালার কাচে বৃষ্টি ফোঁটা বিচিত্র সব নকশা কেটে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে পিছনে। একটু পরেই হঠাৎ করে দেখি প্লেনটি অনেক নিচে নেমে এসেছে, উপরের ঝনঝাট এখানে অনেক কম। উপরের মেঘগুলি এখনো হালকা বৃষ্টি ঝরিয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে নিচে দেখতে পাই আদিগন্ত পামগাছের বাগান, গাঢ় সবুজে একাকার। খুব দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছি। দেখতে দেখতে পামবাগানের মাথা ছুই ছুই করে উড়েচলছি। আসলে এ্যায়ারপোর্টে চলে এসেছি, এখনই ল্যান্ড করবে প্লেন, অথচ এতোক্ষণ বুঝতেই পারিনি।

এখনো বৃষ্টি পরছে ভালই, বৃষ্টিস্নাতো রানওয়েতে চাকা ছোঁয়ায় প্লেন। কিন্তু অবাক হয়ে যাই যখন দেখি এই বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হবে প্লন থেকে। বাইরে বৃষ্টি কম হলেও ভিশন বাতাস রয়েছে। ডিসেম্বরে এমন বাতাস আর বৃষ্টি আমরা বাংলাদেশে কল্পনাও করতে পারি না, শীত নেই এক বিন্দুও। ছাতা মাথায় বৃষ্টির ছটায় কোনরকমে কাকভেজা হয়ে এসে দাঁড়াই ইমেগ্রেশানের সামনে। যাবতীয় ফর্মালিটি সেরে এসে দাঁড়াই এয়ারপোর্টের গেটে, যেখানে আমাদের রিসিভ করতে আসবে হোটেল থেকে। কিন্তু না, এখানে কেউ নেই আমাদের জন্য। আশেপাশে খুঁজেও কাউকে পাওয়া গেলো না। মোবাইলে অনেক চেষ্ঠা করেও বাংলাদেশের ট্যুর-এজেন্টকে ধরতে পারলাম না। এভাবে বার বার চেষ্ঠা করে আর আশেপাশে খুঁজতে খুঁজতে ঘন্টাদুয়েকের বেশি সময় পেরিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে এ্যায়ারপোর্ট থেকে একটি মাইক্রবাস ভাড়া করি হোটেলে যাওয়ার জন্য ২০০ রিঙ্গিতে। হোটেলে গিয়ে কি দেখতে হবে আল্লাহ জানে, আমাদের হাতে রিজারভেশানের কোনো প্রমাণও নেই।

অনেকটা পথ পারিদিয়ে একসময় এসে পৌছাই হোটেলে। রিসিপশান থেকে জানতে পারি আমাদের জন্য রুম বুক করা আছে কিন্তু মাত্র এক রাতের জন্য। আমরা দুরাত এখানে থাকবো বললে ওরা জানায় সেটা সম্ভব না, কারণ হোটেলের কোনো রুমই পরের দিন খালি থাকবে না। কালকের কথা কলকে দেখা যাবে, আজতো আগে রুমে উঠি!! বিকেল গড়িয়ে সন্ধা হচ্ছে দুপুরের খাওয়া হয়নি, আগে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া সারি- তারপর দেখা যাবে কি হয় আগামী কাল।

আমরা ফ্রেশ হতে গেলাম আপনার ততোক্ষণ ঐদিনে তোলা কিছু ছবি দেখেন। 

১। সিঙ্গাপুর এ্যারপোর্টে মনির ভাইয়ের সাথে
http://img406.imageshack.us/img406/7792/dec172010105custom.jpg


২। সিঙ্গাপুর এ্যারপোর্টে
http://img513.imageshack.us/img513/8381/dec172010110custom.jpg


৩। সিঙ্গাপুর এ্যারপোর্টে
http://img405.imageshack.us/img405/9528/dec172010115custom.jpg

৪। বড় দিনের জন্য এই সাজ।
http://img834.imageshack.us/img834/5843/dec172010116custom.jpg

৫। বড় দিনের জন্য এই সাজ।
http://img29.imageshack.us/img29/7034/dec172010117custom.jpg

৬।  সিঙ্গাপুর এ্যারপোর্টে
http://img30.imageshack.us/img30/8844/dec172010126custom.jpg

৭। বড় দিনের জন্য এই সাজ।
http://img638.imageshack.us/img638/9414/dec172010137custom.jpg


৮। সাইফুল, দস্যু, সাইফুল ২ ও ভাতিজা সোহেল।
http://img827.imageshack.us/img827/3567/dec172010145custom.jpg


৯। পাখির চোখে দেখা....
http://img593.imageshack.us/img593/5126/dec172010152custom.jpg

১০। সাপের মত একেবেকে বয়েচলে নদী
http://img840.imageshack.us/img840/494/dec172010157custom.jpg

১১ । আকাশ থেকে দেখা বৃষ্টি ঝরানো মেঘ
http://img716.imageshack.us/img716/271/dec172010174custom.jpg


১২। হোটেলের রুম থেকে তুলা Kulal Lumpur টাওয়ার
http://img222.imageshack.us/img222/9193/dec172010188custom.jpg

১২। Kulal Lumpur টাওয়ার
http://img638.imageshack.us/img638/8885/dec172010180custom.jpg

১৩। Kulal Lumpur টাওয়ার
http://img836.imageshack.us/img836/7259/dec172010179custom.jpg

১৪। হোটেলের রুম থেকে তুলা Numismat জাদুঘর
http://img402.imageshack.us/img402/2815/dec172010184custom.jpg

চলবে.........

আরো দেখুন
সিঙ্গাপুর ভ্রমণের প্রথম দিন
সিঙ্গাপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

ভাইয়া অনেক ধন্যবাদ আপনাকে খুবই ভাল লাগল
বাকিটার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

অপ্রিয়

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

"সিঙ্গাপুর" বানান ভুল, আশা করি ঠিক করে নেবেন।

অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ
ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ স হ ক্ষ ড় ঢ় য়
ৎ ং ঃ ঁ

আলোকিত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

পরের পর্ব কবে পাব? বেশ ভাল লাগছে

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

ধন্যবাদ  love love love love love love love

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

সুজন রায় লিখেছেন:

ভাইয়া অনেক ধন্যবাদ আপনাকে খুবই ভাল লাগল
বাকিটার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

ধন্যবাদ আপনাকে সুজন ভাই।

আলোকিত লিখেছেন:

"সিঙ্গাপুর" বানান ভুল, আশা করি ঠিক করে নেবেন।

ঠিক করে দিলাম, ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য।

arnab127 লিখেছেন:

পরের পর্ব কবে পাব? বেশ ভাল লাগছে

ইয়ে মানে, এই সিরিজটি বেশ দেরি করে দেরি করে লিখা হয়।  mail mail

asraful_3883 লিখেছেন:

ধন্যবাদ  love love love love love love love

আপনাকেও ধন্যবাদ ।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

ধন্যবাদ সোহেন   clap
এক সময় মালয়েশিয়া থেকে ছাত্ররা বাংলাদেশ পড়তে আসতো !
গুরমিত নামে সেরকম একজন আমাদের পরিচিত ছিল যে ঢাকা কলেজ থেকে ময়মনসিং মেডিক্যাল কলেজে পড়াশুনা শেষ করে।
সেই গুরমিতের মালয়েশিয়া আজ কতদূর এগিয়েছে, আর আমরা ?
আগামী ২০০ বছরেও মালয়েশিয়ার কোন রাস্তাঘাট বিল্ডিং এ পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধনের জন্য হাত দিতে হবে না
অথচ আমাদের খোদ রাজধানীতে প্রতি বৎসর ব্যস্ততম সড়ক গুলিতে টিএন্ডটি, পয়ঃনিস্কাশন, বিদ্যুৎ, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগ বিশাল বিশাল গর্ত করে জন দূর্ভোগ ঘটিয়ে কাজ করে। কারো সাথে কোন সমন্বয় নেই ।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

ছবিসহ ভ্রমন বর্ননা খুবই ভাল লাগছে। সোহেন ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

১২। হোটেলের রুম থেকে তুলা Kulal Lumpur টাওয়ার

ভাই, ছবির পজিশন দেখে মনে হচ্ছে হোটেল রেনেসন্স এ উঠেছিলেন।

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

অনেক ভাল লাগল। এত ঝামেলার পরেও ভ্রমন আনন্দ এতটুকু কমেছে বলে মনে হচ্ছে না।

১০

Re: সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়া

masud3011 লিখেছেন:

ধন্যবাদ সোহেন   clap
এক সময় মালয়েশিয়া থেকে ছাত্ররা বাংলাদেশ পড়তে আসতো !
গুরমিত নামে সেরকম একজন আমাদের পরিচিত ছিল যে ঢাকা কলেজ থেকে ময়মনসিং মেডিক্যাল কলেজে পড়াশুনা শেষ করে।
সেই গুরমিতের মালয়েশিয়া আজ কতদূর এগিয়েছে, আর আমরা ?
আগামী ২০০ বছরেও মালয়েশিয়ার কোন রাস্তাঘাট বিল্ডিং এ পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধনের জন্য হাত দিতে হবে না
অথচ আমাদের খোদ রাজধানীতে প্রতি বৎসর ব্যস্ততম সড়ক গুলিতে টিএন্ডটি, পয়ঃনিস্কাশন, বিদ্যুৎ, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগ বিশাল বিশাল গর্ত করে জন দূর্ভোগ ঘটিয়ে কাজ করে। কারো সাথে কোন সমন্বয় নেই ।

আসলেই তাই।
ওদের রাস্তায় ১২০কি.মি.তে গাড়ি ছুটছে, অথচ মনে হয় যেন ৭০/৮০তে চলছে।
ওরা সবদিক দিয়েই আমাদের চেয়ে এগিয়ে।

শান্ত বালক লিখেছেন:

ছবিসহ ভ্রমন বর্ননা খুবই ভাল লাগছে। সোহেন ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

১২। হোটেলের রুম থেকে তুলা Kulal Lumpur টাওয়ার

ভাই, ছবির পজিশন দেখে মনে হচ্ছে হোটেল রেনেসন্স এ উঠেছিলেন।

পরের পর্ব যে কবে আসবে!!!!
হোটেলের নাম Radius

Sun লিখেছেন:

অনেক ভাল লাগল। এত ঝামেলার পরেও ভ্রমন আনন্দ এতটুকু কমেছে বলে মনে হচ্ছে না।

আনন্দ কমেনি কিন্তু ঘোরার সুযোগ কমেছে। এ্যায়ারপোর্ট থেকে হোটেরে আসতে ৪৪০০টাকা খরচ হলো, এটা কিন্তু অতিরিক্ত খরচ। এর জন্য বাংলাদেশেই আমরা টাকা দিয়ে গেছি। brokenheart

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।