১৬১

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। গাধা চক্রাকারে ঘুরে যেমন গম পিষে তেমনি দোযখে তাকে পিষ্ট করা হবে। জাহান্নামবাসীরা চারিপাশে সমবেত হয়ে জিজ্ঞাসা করবে, হে অমুক ব্যক্তি ! তুমি তো পৃথিবীতে আমাদের সৎ কাজের উপদেশ দিতে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে (তবে আজ তোমার এই অবস্থা কেন ?)।
উত্তরে সে বলবে, আমি তোমাদের সৎ কাজের উপদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না আর তোমাদেরকে অসৎ কাজ করতে নিষেধ করতাম কিন্তু নিজে তা থেকে বিরত থাকতাম না।

[বুখারী, ৭০৯৮]

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৬২

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকূকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজীলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মত, যে তার কচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাণ্ডের ওপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন।’ {সূরা আল-ফাতহ, আয়াত : ২৯}

১৬৩

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবী করবে না এবং ভাল কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের আনুগত্য গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু। {আল-মুমতাহানা: ১২}

১৬৪

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

"তোমরা অবশ্যই (ভ্রষ্টতার বশে) তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে, প্রতিটি বিঘতে বিঘতে, প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্যে দৈর্ঘ্যে [তাদের তোমরা অনুসরণ করবে], এমনকি তারা সরীসৃপের গর্তে প্রবেশ করলে, তোমরা সেখানেও তাদেরকে অনুসরণ করবে ৷”

আমরা বললাম, "হে রাসূলুল্লাহ ! তারা কি ইহুদী ও খ্রীস্টান?” তিনি বললেন: "তাছাড়া আর কে?”

{সহীহ বুখারি-ভলিউম-০৯, অধ্যায়-৯২, হাদীস নং-৪২২}

১৬৫

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

"Kind Words With Forgiveness are better than charity followed by insult"-Surah: Baqarah, Verse: 263

"নম্র কথা দিয়ে ক্ষমা করা ঐ দান খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেয়া হয় " -সূরা বাকারা, আয়াত-২৬৩

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৬৬

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

‘তুমি জিজ্ঞেস কর, কে রুজি দান করে তোমাদেরকে আসমান থেকে ও জমিন থেকে, কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক ? তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন ? এবং কেইবা মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন ? কে করেন কর্ম-সম্পাদনের ব্যবস্থাপনা ? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ ! তুমি বল, তারপরেও ভয় করছ না ?’{সুরা-ইউনুস-৩১}

১৬৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সাবাস বাংলাদেশ ফোরাম (০৯-০১-২০১২ ০২:২০)

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"

আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা:) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, "ঐ ব্যক্তি মুসলিম, যার জিহবা ও হাত থেকে মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে। আর মুহাজির হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহ্ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।" [বুখারী শরীফ]

১৬৮

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

"আল্লাহ বলেন-''নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান করএবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও। সবর ও নামায সহকারে সাহায্য চাও। নিঃসন্দেহে নামায বড়ই কঠিন কাজ, কিন্তু সেসব অনুগত বান্দাদের জন্য নয় যারা মনে করে, সবশেষে মিলতে হবে তাদের রবের সাথে এবং তারই দিকে ফিরে যেতে হবে।”{সূরা বাকারা ৪৩ ও ৪৫}

১৬৯

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি.

"দু:খ কষ্টে এবং প্রতিকূল অবস্থায় দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য ধারণ কর" সূরা: বাকারা, আয়াত-১৭৭

In the name of Allah, The Beneficent, The Merciful

"Be firm and patient in pain of sufferings and adversity"-Surah: Baqarah, Verse-177

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৭০

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নবী ও মুমিনদের জন্য সঙ্গত নয়, যখন এটা সুষ্পষ্ট হয়ে গেছে ওরা জাহান্নামী।“ {১১৩,৯}

১৭১

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি

"কখনও সকল পথের অধিকারী হতে পারবে না, যতদিন না তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে অপরের জন্য ব্যয় কর"-সূরা: আল-ইমরান, আয়াত-৯২

In  The Name of Allah, The Beneficent, The Merciful

"By no means shall you attain righteousness until you spend benevolently out of what you love"-Surah: Al-Imran, Verse-92

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৭২

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

ঈমানদার ব্যক্তির উদাহরণ শস্যের নরম ডগার ন্যায়, বাতাস যে দিকেই বয়ে চলে, সেদিকেই তার পত্র-পল্লব ঝুঁকে পড়ে। বাতাস যখন থেমে যায়, সেও স্থির হয়ে দাঁড়ায়। ঈমানদারগণ বালা-মুসিবত দ্বারা এভাবেই পরীক্ষিত হন। কাফেরদের উদাহরণ দেবদারু (শক্ত পাইন) বৃক্ষের ন্যায়, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তা মূলসহ উপড়ে ফেলেন।” [বুখারী : ৬৯১২]

১৭৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মুন (১৮-০১-২০১২ ২০:৪৬)

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

আবু হামযা আনাস ইবনে মালিক (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, মরুভূমিতে উট হারিয়ে যাবার পর ফিরে পেলে কোন ব্যক্তি যেমন খুশি হয়, বান্দার তওবা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তার চেয়েও বেশি খুশি হন। (বুখারী ও মুসলীম)

মুসলিম শরীফের আরেক বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবা দ্বারা তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশি খুশি হন যার উট, খাদ্য ও পানীয় মরুভূমিতে হারিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিরাশ হয়ে লোকটি কোন গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল। হঠাৎ দেখতে পেল উটটি  তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। লোকটি তার লাগাম ধরে ফেলল। আর অতি আনন্দে বলে উঠল, "হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার রব। সে আনন্দের আতিশয্যেই যে এ ধরনের ভুল করে ফেলেছে।

এই হাদিসটার বর্ণনা রাসূলুল্লাহ (স) এর মাধ্যমে আল্লাহ্ সুবহানাওয়াতায়ালা নিজেই দিয়েছেন। আমরা নিজেরাই ত কখনও কখনও আনন্দের আতিশয্যে উদ্বেলিত হয়ে যাই কোন না কোন সময়। তাই এই উদাহরণের বর্ণনা পড়লে আনন্দের আতিশয্য আর সাথে সাথেই শুকরিয়া জ্ঞাপনের যে তাড়া, যে আগ্রহ - তা বোঝা যায়। নিজেদের আনন্দ আর আবেগের সাথে মেলালে বোঝা যায় সেই অনুভূতি। আসলে ত লোকটি বলতে চেয়েছিল, "হে আল্লাহ! তুমি আমার রব আর আমি তোমার বান্দা।" কিন্তু সে ভুল করেছে। আল্লাহ তার মনের কথা জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞানী। তিনিও তার দুয়া কবুল করেছেন খুশি মনে। তাই তার কথা হাদিসের বর্ণনায় তুলে ধরেছেন। কতটা মহানুভব সেই সত্ত্বা যিনি তার এমন ভুলও পশ্রয়ের দৃষ্টিতে দেখেছেন। আর সবাইকে জানিয়েছেন।

এই হাদিসটা পড়লেই মনের ভেতরটা একটা ছোট্ট শিশুর মতো খুশি হয়ে ওঠে। আমরা আল্লাহর তুচ্ছ বান্দা। প্রতিদিন কত শত শত যে ভুল, অন্যায় করি। ছোট ছোট ত করিই, কত বড় বড় অন্যায়ও করি। কিন্তু শুধু একাগ্র চিত্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বরং আরও বেশি খুশি হয়ে আমাদের মাফ করে দিবেন। এইটা অ-নে-ক বিশাল ভরসা আমাদের জন্য। সুবহানাল্লাহ। এই হাদিসটা আমার খুব প্রিয় একটা হাদিস। এখানে তওবা আর ক্ষমার বিশালতা আল্লাহ যেন অসাধারন কোন সাহিত্যিক উপমায় আমাদের উপলব্ধি করিয়েছেন। পড়লেই আনন্দ লাগে।

আমি এতো তুচ্ছ যে তা প্রকাশও করতে পারলাম না।

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা য়াফু্‌ঊন - (হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল)
তুহীব্বুল য়াফওয়া - (আপনি মাফ করতে ভালবাসেন)
ফা' ফু আন্নী - (আমাকে মাফ করে দিন।)

১৭৪

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

আবু হুরাইরা রা.এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জান্নাতের নির্মাণশৈলি সম্পর্কে  জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন জান্নাতের একটি ইট স্বর্ণের অপরটি রৌপ্যের। দুই ইটের মধ্যবর্তী মসলা হলো মেশকের। জান্নাতের নুড়ি ও কাঁকর হলো, মুক্তা ও নীলকান্তমণি। এর মাটি হলো সুগন্ধময় জাফরানের। জান্নাতে যে প্রবেশ করবে সে চিরদিন সুখে থাকবে, দুঃখ কখনো তাকে স্পর্শ করবে না। জান্নাতীরা জান্নাতে চিরকাল থাকবে। তাদের কখনো মৃত্যু হবে না। তাদের পরিধেয় পোশাক কখনো পুরোনো হবে না। তাদের যৌবন কোনদিন লোপ পাবে না।  {আহমাদ ও তিরমিযি}

১৭৫

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

যারা রাতে সালাত আদায় করে ও যারা করে না তারা উভয় সমান নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রব-এর রহমত প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান যে এরূপ করে না) বল, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে”। [সূরা যুমার: (৯)]

১৭৬

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি
"সম্মানজনকভাবে যা উপার্জন করেছো, তা হতে তোমরা দান কর....."-সূরা: বাকারা, আয়াত-২৬৭

In The Name of Allah, The Beneficent, The Merciful
"Give of the good things which you have honourably earned......"-Surah-Baqarah, Verse: 267

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৭৭

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত। (An-Nisaa: 135)

১৭৮

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি
"পুরুষেরা নারীদের রক্ষক এবং ভরণপোষনকারী"-সূরা: আন্‌ নিসা, আয়াত-৩৪

In The Name of Allah, The Beneficent, The Merciful
"Men are protectors and maintainers of women"-Surah-An Nisa, Verse: 34

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৭৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (২৬-০২-২০১২ ১৬:০৯)

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://i.imgur.com/V3ae0.jpg

১৮০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মুন (২৭-০২-২০১২ ১১:৫৫)

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

হযরত আবু ইয়াহ্‌ইয়া সুহাইব ইবনে সিনান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন. "মুমিনদের(ঈমানদারের) বিষয়টা আশ্চর্যজনক। তার সকল কর্মই কল্যাণময়। তার জন্য আনন্দজনক কিছু হলে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে, তাতে তার কল্যাণ সাধিত হয়। আবার তার জন্য দুঃখজনক কিছু হলে সে সবর করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে থাকে।"

আমার আরেকটি অতি প্রিয় হাদিস। আমরা কত অল্পতেই দুশ্চিন্তিত হই, অস্থির হই, ধৈর্য্যহারা হই। কিন্তু এমন কোন সময় নেই, এমন কোন ঘটনা নেই, যেখানে আল্লাহ আমাদের জন্য অচিন্তনীয় আনন্দ রেখেছেন, আর আমরা তা পেয়ে খুশি হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেছি আর সেই আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায় নি। খুশির আতিশয্য আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রসংসা আল্লাহর) আর সুবহানাআল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র) বলার সাথে সাথে আনন্দ আরও আরও বেড়ে যায়।

আর এমন কোন কষ্ট বা বিপদ নেই যেখানে মন থেকে হাসবুনাল্লাহি ওয়া নী'মাল ওয়াকিল (আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মপন্থানির্ধারণকারী) বললে দুশ্চিন্তা ও বিপদ কমে আসে না।

ঈমানদারদের জন্য অবশ্যই সব হালাল কাজেই কল্যান আছে, যদি সে আল্লাহর কাছে কল্যাণ আশা করে আল্লাহর জন্য এই কাজটা করে। মানুষের জীবনের প্রতি পদক্ষেপেই এর উদাহরণ বিদ্যমান। যেমন, একজন মায়ের জন্য, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো শুরু করানো কষ্টকর, দুধ খাওয়ানোও কষ্টকর কিন্তু আল্লাহ এর প্রতি ঢোকের মধ্যে সোওয়াব ও কল্যাণ রেখেছেন। আবার দুধ খাওয়ানো ছাড়ানোটাও কষ্টকর। চেষ্টা করতে হয়, বাচ্চার মন খারাপ হয়, অস্থির লাগে, কষ্ট হয়, অনেক সময় বেশি নির্ভরশীলতা থাকলে বাচ্চার মেজাজ চিটে চিটেও হয়। কিন্তু তাতেও মায়ের কষ্ট হয়। বাচ্চার মন খারাপ দেখলেও মন খারাপ হয়। কারো কম চেষ্টা করতে হয়, কারো অনেক বেশি। মায়ের চেয়ে বেশি এই কষ্টটা আর কেউ উপলদ্ধি করে না। কিন্তু দুই-ই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করলে, সবর করলে - আল্লাহ তার বান্দাকে নিরাশ করেন না।

মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ পর্যায়ক্রমে আসতেই থাকে। হাদিসের বানী উপলব্ধি করে জীবনে তার প্রয়োগ করলে দুটো থেকে কল্যান পাওয়া যায়। আল্লাহ পবিত্র, আর তার বান্দারা নিশ্চই সৌভাগ্যবান। আল্লাহ তার বান্দার জন্য পুরস্কার আর প্রশান্তি রেখেছেন বলেই, কঠিন থেকে কঠিন সময়ে মুমিনরা হতাশ হয় না। তারা এজন্য নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যবান। আর সব চাইতে দয়াময়, সকল নিয়ামতের মালিক, কল্যানময় রব পাওয়ার থেকে সৌভাগ্যময় আর কি আছে?

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা য়াফু্‌ঊন - (হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল)
তুহীব্বুল য়াফওয়া - (আপনি মাফ করতে ভালবাসেন)
ফা' ফু আন্নী - (আমাকে মাফ করে দিন।)