৩০১

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمالْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينالرَّحمـنِ الرَّحِيممَـالِكِ يَوْمِ الدِّينإِيَّاك نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِياهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمصِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّين

আলহামদুলিল্লাহি রাব্লিল আ’লামিন। আর রাহহমানির রাহিম।মালিকি ইয়াওমিদ্দিন।ইয়্যা কানা’বুদু ওয়াইয়্যা-কানাসতাঈন।ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাক্বিম। সিরাত্বাল্লাযিনা আন আ’মতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবে আলাইহিম ওয়ালাদ্বদ্বো-য়াল্লিন।

১। শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
২। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’ আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
৩। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
৪। যিনি বিচার দিনের মালিক।
৫। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
৬। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,
৭। সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। – আমিন

৩০২

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: মিথ্যা শপথের মাধ্যমে যদি কোন লোক কোন মুসলমানের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে তবে সে এরুপ অবস্থায় আল্লাহ তায়ালার নিকট উপস্থিত হবে যে, তিনি (আল্লাহ) তার প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট থাকবেন। আশআস ইবনু (রাঃ) বলেন , আল্লাহর শপথ ! তিনি এ হাদিসটি আমার সম্পর্কে বলেছেন। আমার ও এক ইহুদির মধ্যে একটি শরিকানা জমি ছিল। কিন্তু সে আমার অংশ দিতে অস্বীকার করে বসে। আমি তাকে নিয়ে নবী (সাঃ) এর নিকট আসি। রাসুলে করিম (সাঃ) বললেনঃ তোমার সাক্ষ্য প্রমাণ আছে কি ? আমি বললাম না । তিনি ইহুদিকে বললেন, শপথ কর। আমি বললাম হে আল্লাহুর রাসুল ! এতো শপথ করবেই এবং আমার সম্পদ আত্মসাৎ করবে। আল্লাহ তায়ালা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেন: "যারা আল্লাহ তায়ালার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রয় করে, আখিরাতে তাদের জন্য কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা না তাদের স আথে কথ বলবেন, না তাদের প্রতি তাকাবেন আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি"। 
সূরা আল ইমরান - ৭৭

৩০৩

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

ওয়াজ্জাহাতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাতারস্সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানিফাওঁ ওমা আনা মিনাল মুশরেকিন, ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়াইয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, লা-শারিকালাহু ওয়াবিজাঁলিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলেমিন। আল্লাহুম্মা আনতাল মালিকু লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, আনতা রব্বী ওয়া আনা আবদুকা, জলামতু নাফসি ওয়া তারফতু বিজানবী ফাগফিরলি জুনুবি জামীয়ান ইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আনতা, ওয়াহিদিনি লি আহসানিল আখলাক্বি লাইয়াহদি লিআহসানিহা ইল্লা আন্তা, ওয়াস্রিফ আন্নী সাইয়্যিয়াহা ইল্লা আন্তা, লাব্বাইকা ওয়াসা’আদাইকা, ওয়াল খাইরু কুলুহু বিইয়াদাইকা ওয়াশ শাবরু লাইসা ইলাইকা, আনা বিকা ওয়া ইলাইকা, তাবারকতা ওয়া তা’য়ালাইতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।

আমি সেই আল্লাহ তায়ালার দিকে একনিষ্ঠভাবে চেহারা ফিরাচ্ছি যিনি আকাশ সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, কোরবানী-হজ্জ, জীবন ও মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদতি। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আর এজন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।
হে আল্লাহ ! তুমি সেই বাদশাহ যে তুমি ব্যতিত সত্যিকার কোন মা’বুদ নেই, তুমি আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার বান্দা, নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ খাতা স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দাও আর নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া গুনাহ মাফের আর কেউ নেই। আর তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত কর তুমি ব্যতিত উত্তম চরিত্রের দিকে কেউ পরিচালিত করতে পারে না। আমার চরিত্রের মন্দ গুনাবলী আমার থেকে দূর কর খারাপ গুনাবলী তুমি ব্যতিত অন্য কেউ দূরীভূত করতে পারবে না।  আমি তোমার আহবানে তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে তোমার নিকচ উপস্থিত। যাবতীয় কল্যান তোমার হাতে নিহিত, অকল্যান তোমার দিকে সম্পৃক্ত নয়। আমি তোমার জন্য এবং তোমারই দিকে আমার প্রবণতা। তুমি মহিমান্তিত ও অতি উচ্চ, আমি তোমার নিকচ ক্ষমা  চাই এবং তোমার নিকট তওবা করছি। (মুসলিম)

৩০৪

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/02/Image-2.png


আমিরুল মোমেনিন হযরত আবু হাফস ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, নিয়ত হচ্ছে মানুষের সকল কাজের মূল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে সে তাই পাবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স) এর জন্য হিজরত করেছে তার হিজরত আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের জন্যই হয়েছে, আর যার হিজরত ছিল দুনিয়া (তথা পার্থিব বস্তু) অর্জণের জন্যে কিংবা কোন মেয়েকে বিয়ের জন্যে তার হিজরত সেই জন্যেই বিবেচিত হবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে। মোহাদ্দেসদের দুজন প্রধান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বিন মোগীরাহ বিন বারদেযবাহ আল বুখারী এবং আবুল হাসান মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মোসলেম আল কোশায়রী আন নিশাপুরী আপন আপন সহীহ গ্রন্থে এ বর্ণনাটি পেশ করেছেন। যা সব সংকলিত হাদিসের কিতাব থেকে সহীহ গ্রন্থে শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়েছে

৩০৫

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/02/Image-3.png

হাদিস নং – ২
এই হাদিসটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসুলে করিম (সা) এর কাছে বসেছিলাম এমন সময় সেখানে হঠাৎ করেই একজন লোক আমাদের সামনে উপস্থিত হন, যার পরিধানের কাপড় ছিল খুবই সাদা এবং চুল ছিল খুবই কালো। তার ওপর সফরের কোন লক্ষণই ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে আদৌ চিনত না। তিনি নবী (সাঃ) এর কাছে গিয়ে বসেন এবং নিজের হাঁটু তাঁর হাটুঁর সঙ্গে মিলিয়ে দেন এবং নিজের হাত তাঁর উরুতে স্থাপন করে বলেন, হে মোহাম্মদ ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। হুজুরে পাক (সাঃ) বলেন, ইসলাম হচ্ছে এই যে, তুমি সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোন মা’বুদ নাই এবং মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রসুল, নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানে রোযা রাখবে এবং যদি সামর্থ থাকে তবে আল্লাহর ঘরের হজ্জ করবে।
তিনি বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন। তার প্রতি আমাদের বিস্ময় হলো এ জন্যে যে, তিনি নিজে তাঁর কাছে জানতে চাচ্ছেন, আবার নিজেই তাঁর উত্তরকে সঠিক বলে ঘোষণা করছেন। তিনি বললেন, আচ্ছা আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, ঈমান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর রসুলরা ও পরকালের বিশ্বাস করা এবং তাকদিরের ভাল মন্দকে বিশ্বাস করা । তিনি বললেন আপনি সঠিক বলেছেন। তিনি বললেন আমাকে এবার ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি (রাসূল সাঃ) বললেন: তা হচ্ছে এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর এবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে একথা জানবে যে, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন, কিয়ামত বিষয়ে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে এ ব্যাপারে বেশি কিছু জানেন না। তিনি বললেন, কেয়ামতের লক্ষণ সমম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই, দাসী (কোন কোন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে মহিলা) নিজের মালিককে জন্ম দিবে, জুতা বিহীন ও বিবস্ত্র দরিদ্র রাখালরা উঁচু উঁচু ঘরবাড়ি বানাতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করবে।
তারপর লোকটি চলে গেলেন। আমি আরো কিছু সময় সেখানে বসে থাকলাম। এবার রাসূল (সা) আমাকে বললেন, হে ওমর ! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কে ছিলেন ? আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন জিব্রাঈল (আঃ) তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন। [মোসলেম]

৩০৬

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/02/Image-4.png

হাদিস নং – ৩
হযরত আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, পাঁচটি খুঁটির উপর ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে। একথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, আল্লাহর ঘরে হজ্জ করা এবং রমযানের রোযা রাখা। [ বুখারী ও মুসলিম]

৩০৭

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/02/Image-1.png

হাদিস নং – ৪
হযরত আবু আবদুর রহমান আব্দুল বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) যিনি সত্যবাদি এবং যার কথাকে সর্বদাই সত্য বলে মেনে নেওয়া হয় – আমাদের বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের আসল বস্তুটি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দনি পর্যন্ত শুক্র রুপে জমা হতে থাকে। তারপর তা জমাট বাধা রক্ত রুপে মজুদ থাকে। অতপর থাকে মাংসপিন্ড রুপে। তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় যিনি তার মধ্যে রুহ প্রবেশ করান এবং এ সময় তাকে ৪টি কথার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার জীবিকা, তার বয়স, তার কাজ ও সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্যের লিখন।অতএব আল্লাহর শপথ ! যিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার মধ্যে ও জান্নাতের মধ্যে এক হাত মাত্র ব্যবধান থেকে যায়। তখন তার ওপর তার ভাগ্যলিপি কার্যকর হয় এবং সে দোজখীদের মতো আমল করতে শুরু করে।অতপর সে তাতে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের মধ্যে একজন দোজখীর মত কাজ করতে শুরু করে, এমনকি তার ও দোজখের মধ্যে এক হাত মাত্র ব্যবধান থেকে যায়, তখন তার ওপর তার ভাগ্যলিপি কার্যকর হয় এবং সে একজন বেহেশতবাসীর মতো আমল করতে শুরু করে এবং পরিশষে সে তাতেই প্রবেশ করে। [ বুখারী ও মুসলিম]

৩০৮

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/02/Image-21.png

হাদীস নং – ৫
উম্মুল মোমেনীন উম্মে আব্দুল্লাহ হযরত আয়েশা (রা) থেকেও বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলে করিম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এ বিধানের মধ্যে একন কোন নতুন বিষয় সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয় তা প্রত্যাখ্যাত হবে। ( এই হাদিসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের এক বর্ণনার ভাষা হলো, এমন আমল করবে যা আমাদের বিধানে পরিচিত নয় – তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না অর্থ্যাৎ তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।)

৩০৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হেলাল উদ্দীন (০৮-০৩-২০১৫ ১৩:০৯)

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

খলিফা হিসেবে আলী(আ.)কে নিজের পাগড়ী পরান বিশ্বনবী (সা.)সুরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: 
"হে রসূল, পৌঁছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।"



গাদীরের ওই সমাবেশে এক লাখ বিশ হাজারেরও বেশি সাহাবি ও হজযাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

'জুহফা' নামক এলাকার কাছে 'গাদিরে খুম' জলাশয়ের পাশে বিশ্বনবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন যে " মান কুনতু মাওলা ফাহাজা আলিয়ুন মাওলা" অর্থাত আমি যাদের মাওলা আলীও তাদের মাওলা বা নেতা।

ইমাম বোখারীসহ ৩৬০ জন সুন্নি মনীষী এ সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটির সনদ ১১০ সাহাবি কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে এবং ২৬ জন মুসলিম মনীষী এর সনদ ও পন্থা সম্পর্কে আলাদা বই রচনা করেছেন।



বিশ্বনবী (সা.) নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আলী (আ.)'র মাথায় নিজের হাতে তাঁর একটি পবিত্র পাগড়ী পরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি গাদিরে খুমে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। এই তিন দিন ধরে শীর্ষস্থানীয় সব সাহাবিগণসহ সব মুসলিম নারী-পুরুষ পৃথকভাবে হযরত আলী (আ.)-কে আমিরুল মুমিনিন হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ।

সেদিন একটি কবিতা লিখেছিলাম , লেখা শেষ হলে দেখি একি ?
সারা পাতা জুড়ে শুধু তোমারই নাম ।

৩১০

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত :
‘‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: সর্বশ্রেষ্ট যিকর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং সর্বশ্রেষ্ট দো‘আ ‘আলহামদুলিল্লাহ’’।

৩১১

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/03/h-9.png

হযরত আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান বিন ছাখর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে বলতে শুনেছি – আমি তোমাদেরকে যা নিষেধ করেছি তা থেকে বেঁচে থেকো, আর আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি তোমরা তা পালন করো। কারণ তোমাদের আগেকার লোকদের যে জিনিসটা ধ্বংস করে দিয়েছে তা ছিলো নবীদের কাছে তাদের বেশি বেশি প্রশ্ন করা ও নবীদের ব্যাপারে তাদের অধিক পরিমাণ মতবিরোধ করা। [ বুখারী ও মুসলিম]

পূর্ব প্রকাশ

৩১২

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/04/Hadis-15.png

হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলে মকবুল (স) বলেছেন, যে লোক আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাতের ওপর ঈমান আনবে হয় তার ভালো কথা বলা উচিত নতুবা তার চুপ করে থাকা উচিত। যে লোক আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাতের ওপর ঈমান আনবে তার নিজের প্রতিবেশির প্রতি সদয় হওয়া উচিত আর যে আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাতের উপর ঈমান আনবে তার নিজের মেহমানের সম্মান প্রদর্শণ করা উচিৎ । [বোখারী ও মুসলিম

পূর্ব প্রকাশ

৩১৩

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/04/Hadis-15.png

হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলে মকবুল (স) বলেছেন, যে লোক আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাতের ওপর ঈমান আনবে হয় তার ভালো কথা বলা উচিত নতুবা তার চুপ করে থাকা উচিত। যে লোক আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাতের ওপর ঈমান আনবে তার নিজের প্রতিবেশির প্রতি সদয় হওয়া উচিত আর যে আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাতের উপর ঈমান আনবে তার নিজের মেহমানের সম্মান প্রদর্শণ করা উচিৎ । [বোখারী ও মুসলিম

পূর্ব প্রকাশ

৩১৪

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

http://www.sotterpath.com/wp-content/uploads/2015/04/Hadis-16.png

হাদিস নং ১৬
হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, একজন লোক আল্লাহর রসূল (স) কে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন ক্রোধ করো না। সে লোকটি কয়েকবার একই কথা বলে, আর তিনিও (রাসুল স:) বার বার বলেন ক্রোধ করো না। [ আন নববীর মতে ক্রোধ হচ্ছে মানুষে স্বাভাবিক ক্রিয়া। হাদীসে রসূল আমাদেরকে বলছে, এ ক্ষেত্রে আমরা যেন ক্রোধের বশবর্তী না হয়ে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখাই।

৩১৫

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

আমিন

4 minutes and 54 seconds after:

আমিন

6 minutes and 26 seconds after:

আমিন

বেকুবে কয় কি?

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

৩১৬

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

আর মূসা বেছে নিলেন নিজের সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোক আমার প্রতিশ্রুত সময়ের জন্য। তারপর যখন তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তখন বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি যদি ইচ্ছা করতে, তবে তাদেরকে আগেই ধ্বংস করে দিতে এবং আমাকেও। আমাদেরকে কি সে কর্মের কারণে ধ্বংস করছ, যা আমার সম্প্রদায়ের নির্বোধ লোকেরা করেছে? এসবই তোমার পরীক্ষা; তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। (Al-A'raaf: 155)

৩১৭

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

‘‘বলুন: আমার সালাত, আমার ইবাদত (কুরবানী ও হজ্জ) আমার জীবন মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই উদ্দেশ্যে, তাঁর কোনো শরীক নেই, আর আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।’’(সূরা আল আন'আম ১৬১-১৬২)

৩১৮

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুতঃ তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায়, একান্ত শিথিল ভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে। (An-Nisaa: 142)

৩১৯

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতকে বিশ্বাস করে, তার হয় উত্তম কথা বলা উচিত অথবা চুপ থাকা উচিত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতকে বিশ্বাস করে, আপন প্রতিবেশীর প্রতি তার সদয় হওয়া উচিত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতকে বিশ্বাস করে, আপন অতিথিকে তার সম্মান করা উচিত।"
বুখারীঃ ৬০১৮, মুসলিমঃ ৪৭

৩২০

Re: প্রতিদিন একটা কোরআনের আয়াত অথবা হাদীস.......

عَنْ عُثـْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ".
(صحيح مسلم, رقم الحديث 41 - (26), ).
1 -  অর্থ:  ওসমান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন:  “যে ব্যক্তি
"لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ"
(  অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য বা মাবূদ নেই”)।
এর সঠিক জ্ঞানার্জন করে মৃত্যুবরণ করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 41 -(26) ]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
ওসমান বিন আফফান বিন আবীল আস আলকুরাশী। হস্তী বাহিনীর ছয় বছর পর তিনি মাক্কা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]  নবুওয়াত প্রাপ্ত হওয়ার পরে পরেই  তিনি ইসলাম ধর্ম  গ্রহণ করেন। তিনি হলেন আমীরুল মুমিনীন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে তৃতীয় খলিফা। তিনি নিজ স্ত্রী আল্লাহর রাসূলের মেয়ে রোকাইয়্যাকে সঙ্গে করে সর্ব প্রথম আবিসিনিয়ায় বা ইথিওপিয়া দেশে হিজরত করেন। তিনি নিজের জান ও মাল দ্বারা ইসলামের সাহায্য করেন। তিনি তাবুক যুদ্ধে সৈন্য বাহিনী তৈরীর জন্য 950টি উষ্ট্র এবং 50 টি ঘোড়া প্রদান করেন।  20 হাজার দিরহাম মুদ্রা দিয়ে মাদীনায় রোমা কুয়া ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য তিনি সাদাকা জারিয়া হিসেবে দান করে দেন। মাসজিদে নবাবী প্রশস্ত করণেও তিনি ২৫ হাজার দিরহাম মুদ্রা দান করেন। ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের তিনি তৃতীয় খলিফা নিযুক্ত হন। তিনি পবিত্র কুরআন একত্রিত করার কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর খেলাফতের সময় এশিয়া মহাদেশ ও আফ্রিকা মহাদেশে মহা বিজয়ের র্কাযক্রম সম্পাদিত হয়। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হচ্ছে ১৪৬ টি। তিনি মাদীনায় স্বীয় বাসভবনে দুষ্কৃতিকারী পাপাচারিদের হাতে সন ৩৫ হিজরীতে ৮০ অথবা ৯০ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,  যে ব্যক্তি নিজের অন্তরে একত্ববাদের কালেমা, কালেমায়ে তাওহীদকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে এবং শিরক, কুফরী ও মহা পাপগুলি বর্জন করে মৃত্যুবরণ করবে, সে ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২। মুসলিম ব্যক্তির অপরিহার্য কর্ম হলো এই যে, সে যেন একত্ববাদের কালেমা, কালেমায়ে তাওহীদকে বাহ্যিক, আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক দিক দিয়ে বাস্তবায়িত করে এবং অন্তরে সঠিক পন্থায় কালেমায়ে তাওহীদকে স্থাপিত করে।
৪।  মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন একত্ববাদের কালেমা, কালেমায়ে তাওহীদের প্রভাবকে রক্ষা করার জন্য শিরক, কুফরী ইত্যাদি বর্জন করে।