টপিকঃ সিংঙ্গাপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন

সিংঙ্গাপুরে দ্বিতীয় দিন ১৬ই ডিসেম্বার, সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গে আমাদের সেদিনের টুরিস্ট গাইড মি. শংকরের কলে, সকাল সারে নয়টায়। মিনিট বিশেকের মধ্যেই আমি আর সাইফুল রেডি হয়ে নিচে নেমে আশি, আমাদের সাথে যোগদেন ভাগনে শাহিনও। বাকিদের জন্য দেরি না করে আমরা চলে যাই নাস্তা সারতে। অনেকটা সময় নিয়ে বাকি তিনজন ফ্রেস হয়ে বুফে নাস্তা সারতে সারতে ১১টা বেজে যায়। এবার যখন আমরা গাড়িতে চড়ে বসি তখন আমাদের গাইড মি. শংকর জানায়, আমাদের জন্য সময় বরাদ্দ ছিলো সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। যেহেতু আমরা অনেক দেড়ি করে রওনা হচ্ছি তাই সে অনেক যায়গাই দেখাতে পারবেনা। আমরা তাকে বলি আমাদের সাগর পারে নিয়ে যেতে। সেখান থেকে ফেরার সময় Merlion Park দেখে আমরা চলে আসবো। চমৎকার মানুষ মি. শংকর, সৈকত ভ্রমণ তার তালিকাতে না থাকার পরেও আমাদের কথায় তিনি রাজি হয়ে যান। কিন্তু শর্ত একটাই, দেড়টার মধ্যেই তাকে ছেড়ে দিতে হবে।

মি. শংকর আমাদের নিয়ে রওনা হয়ে যায় সাগর পারের দিকে। মাত্র আধা ঘন্টাতেই চলে আমি সৈকতে। এই আধা ঘন্টা মি. শংকর আমাদের অনেক তথ্য জানায় সিংঙ্গাপুর সম্পর্কে। একে-একে বলে যায় সিংঙ্গাপুর আবিস্কারের কাহিনী, নামকরণ, জনসংখ্যা ইত্যাদি ইত্যাদি। জানতে পারি দেশের ভূখন্ড কম বলে এখানকার জমির দাম অকল্পনীয় বেশী। জনসংখ্যার সিংহ ভাগই বাইরের লোক। ব্যাবসাতেও বাইরের জনগনই এগিয়ে আছে। ওদের আইন ও তার প্রয়োগ খুব কঠিন হওয়াতে অপরাথও খুব কম।

সাগর পারের যে জিনিসটি আমাকে আকৃষ্ট করেছে সব চেয়ে বেশী তা হচ্ছে- “সোনালী সৈকত”। বাংলাদেশের অনেকগুলি সৈকতই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। কক্সবাজারের লাবোনী পয়েন্ট, হীমছড়ি, ইনানী, টেকনাফের সৈকত, সেন্টমার্টিনের সৈকত, কুয়াকাটার সৈকত, ফাতরার চরের সৈকত, নিঝুম দ্বিপের সৈকত, কিন্তু কোনো সৈকতই সোনালী নয়। কিছুটা কালছে বালির সৈকত। কিন্তু এই প্রথম দেখলাম সত্যিকারের সোনালী সৈকত, বড়বড় লালচে সোনালী রঙের বালির সৈকতটি একেবারেই নির্জন। এখানে আরো যা লক্ষ্য করলাম তাহচ্ছে- সাগরে অসংখ্য জাহাজের ভীর, প্রায় ঢেউহীন সাগর, সাগর পারের চমৎকার ওয়াক ওয়ে, পাশেই সাইকেলিং ও স্কেটিংএর জন্য আলাদা রাস্তা।

সৈকত দেখে আমরা চলে আসি Merlion Park, রাতের আলোতে একবার দেখে গিয়েছি এবার দেখবো দিনের আলোতে। এখানে আসতেই মি. শংকর আমাদের চিনিয়ে দেয় সিংঙ্গাপুরের সর্বচ্চো তিনটি দালানের দুটিকে। সে আরো দেখিয়ে দেয় ওদের পারলামেন্ট হাউস, হাইকোট ইত্যাদি। দিনের আলোয় Merlion Park কে কিছু ছবি তুলে ফিরে আসি হোটেলে। মি. শংকর যখন আমাদের হোটেলের সামনে নামিয়ে দিয়ে যায় তখন ঘড়িতে একটা বেজে পনের মিনিট।


দুপুরের খাবার শেষে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আমি আর সাইফুল আমার বের হই হেঁটে-হেঁটে শহর দেখতে। আমাদের সাথে আরো যোগ হয় মনি ভাইও। তিন জনে হাঁটতে শুরু করি। উদ্দেশ্যহীন গন্তব্য ধরে হঁটাশুরু করি। কিছুদূর আসতেই একটি রাস্তাতে দেখি সমস্ত দোকানের সাইনবোর্ড বাংলাতে লেখা, সবাই বাংলাতে কথা বলছে। এই রাস্তা ধরে হেঁটে আরো কিছুদূর যেয়ে মেইন রোডে উঠে পরি। এভা হাটতে হাটতে এক সময় চলে আসি একটি পুরন জিনিস বিক্রির স্থানে। এখানে রাস্তার উপরে অনেক মানুষ তাদের পুরনো বাতিল জিনিস বিক্রির পশরা সাজিয়েছে। এখানে আসতেই শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি মুশুল ধারে না হলেও ভিজিয়ে দেয়ার পক্ষে যথেষ্ট। তাই জোড়ে হাঁটা ধরি আমরা একটু সামনের একটি মার্কেটের উদ্দেশ্যে। আধ ভেজা হয়ে এসে পৌছাই মার্কেটিতে। এই এলাকাটির নাম হচ্ছে “সিম-লিম স্কার”। মার্কেটের পেছনের রাস্তাতে মেরামতের কাজ চলছে এই বৃষ্টিতেও। সব কজন শ্রমিকই বাংলাদেশি, ওনাদের দেখে একটা কথাই মনে হয়েছে- “দেশের সকলেই যদি এমনি করে যার যার কাছ দায়ত্ব নিয়ে করতো তাহলে আজ আমাদের দেশের এই করুন অবস্থা হতো না।” মার্কেটটি মূলতো ইলেকট্রনিক মার্কেট, দেখলাম ল্যাপটপের দামে কোনো হেরফের নাই, এমনটা ক্যামেরার ক্ষেত্রেও। কিন্তু ৪২, ৫০ বা ৫২ ইঞ্চি টিভিতে বিশাল লাভ, বাংলাদেশের প্রায় তিনগুন কম দাম। সাইফুলের ৫০ ইঞ্চি টিভি কেনার ইচ্ছে আছে, আমার ইচ্ছে আছে ল্যাপটপ আর মনি ভায়ের ইচ্ছে ক্যামেরা কেনার, অবশ্য থাইল্যান্ড থেকে।   

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চলতে শুরু করি হোটেরের দিকে অন্য একটি রাস্তা ধরে। হঠাত করেই সামনে পড়ে একটি হিন্দু মন্দির। তার পরেই কিছুদুর হেঁটেই চলে আশি হোটেলে।

সন্ধ্যার পরে আবার সবাই মিলে বের হই। আমাদের হোটেলের পাশেই আছে একটি MRT পাতাল ট্রেন। সেখান থেকে টিকেট কেটে চলে যাই হারবার পয়েন্ট পর্যন্ত। উদ্দেশ্য সেন্ট্রস যাওয়া, তাই আবার SWR8 বাসে চেপে বসি সকলে। বাস আমাদের নামিয়েদয় রাস্তার শেষ প্রান্তে বিশাল এক ক্যাসিনোর সামনে। আমরা পাসপোর্ট দেখিয়ে ঠুকে পরি ভিতরে। সে এক বিশাল এলাহি কারবার, হাজার হাজার লোক, অসংখ্য জুয়ার টেবিলে বসে খেলে চলেছে। লাইফ কনসার্ট হচ্ছে। আলোয় আলোয় সব একাকার। ছবিতোলা কঠর ভাবে নিষেধ, একটাও ছবি তুলতে পারি নাই। বেশ কিছুটা সময় সেখানে কাটানো পর হঠাতকরেই দুজন সান্টা বেরিয়ে আসে ক্যান্ড্রি নিয়ে। আসলে সান্টা বুড়ো না, এরা ছিলো আতিশয় বি.ই.এ.উটিফুল ইয়াং মহিলা সান্টা। ফ্রী-তে কিছু ক্যান্ডি নিয়ে বেরিয়া আছি বাইরে। এবার ফেরার পালা রাত তখন সাড়ে ১০টার বেশি। বাস কাইন্টারের সামনে আসতেই দেখি একটি বাস ছেড়ে যাবে, মজার বিষয় হচ্ছে বাসটিও ফ্রী সার্ভিস। কিন্তু কেনো?? আমাদের গবেষনার ফালাফল- “ ক্যাসিনোতে হেরে যাদের পকেটে কানা কড়িও নেই তাদের জন্য এই ব্যবস্থা।” যাইহোক এই ফ্রী বাসে চেপে আবার হারবার পয়েন্টে ফিরে আসি, সেখান থেকে আবার আরেকটি বাসে চড়ে সারা শহর ঘুরে হোটেলের সামনে এসে নামি। কিন্তু দুঃক্ষের বিষয় হচ্ছে আমাদের কাছে ভাংতি ছিলো না, তাই টিকেটের জন্য বাসের মেশিনে নোট দিয়েছিলাম, ব্যাটা বজ্জাত মেশিন শুধু টিকেট দেয় বেশি টাকা ফেরত দেয় না। ফ্রীতে যা ভাল হয়ে ছিলো, এবার তারচেয়ে বেশী দিয়ে দিয়েছি।

রাত হয়েছে মেলা, কাল সকাল সকাল উঠতে হবে, আপনারা ছবি দেখান আমরা ঘুমাই।


১। সোনালী সৈকত।
http://img828.imageshack.us/img828/8636/sp11.jpg


২। সোনালী সৈকতে “মরুভূমির জলদস্যু” পেছনে কালো বিন্দুগুলি জাহাজ।
http://img440.imageshack.us/img440/9927/sp12nx.jpg


৩। এগুলি কিন্তু মরুভূমির জলদস্যুর জাহাজ না। বন্দরে খালাসের আপেক্ষায় এরা।
http://img526.imageshack.us/img526/9931/sp12a.jpg



৪। সৈতকের পাশেই শুধু সাইকেলিং ও স্কেটিং এর জন্য নির্ধারিত রাস্তা।
http://img408.imageshack.us/img408/6444/sp13k.jpg



৫। বাম দিক থেকে- ভাগিনা শাহিন, গাইড মি. শংকর, মরুভূমির জলদস্যু, সাইফুল ২, সাইফুল।
http://img502.imageshack.us/img502/7664/sp14.jpg


৬। দিনের আলোয় বিখ্যাত সেই Merlion
http://img156.imageshack.us/img156/184/sp21cd.jpg


৭। ভাব নিয়ে বসে আছে সদ্যু।
http://img703.imageshack.us/img703/129/sp22.jpg


৮। Merlion
http://img52.imageshack.us/img52/6701/sp23w.jpg


৯। Merlion
http://img267.imageshack.us/img267/1629/sp24.jpg


১০। Merlion পার্কের ছোট্ট Merlion পেছনেই দেখা যাচ্ছে বড়টির পিছন দিক।
http://img638.imageshack.us/img638/6774/sp25.jpg


১১। Merlion পার্কের ফটো তোলার একটা নমুনা দেখেন।
http://img709.imageshack.us/img709/253/sp26v.jpg


১২। দিনের আলোয় Sands Skypark
http://img560.imageshack.us/img560/1917/sp20v.jpg


১৩। Sands Skypark ও “মরুভূমির জলদস্যু”
http://img543.imageshack.us/img543/4712/sp19.jpg



১৪। Merlion Park থেকে তোলা Singapore Flyer
http://img801.imageshack.us/img801/1884/sp18.jpg



১৫। Singapore Flyer
http://img42.imageshack.us/img42/6528/sp17d.jpg



১৬।Esplanade Theatres
http://img41.imageshack.us/img41/5682/sp16i.jpg



১৭। সুপরিম কোর্ট অথবা পার্লামেন্ট ভবন (মনে করতে পারছিনা)
http://img838.imageshack.us/img838/4631/sp27e.jpg



১৮। সিম-লিম স্কয়ারের সামনে ছাতা মাথায় পথিকের পথ চলা।
http://img842.imageshack.us/img842/3149/sp30z.jpg




১৯। পাতাল ট্রেনে
http://img703.imageshack.us/img703/3214/sp31.jpg



২০। পাতাল ট্রেনে দস্যু, সাইফুল ও শাহিন
http://img195.imageshack.us/img195/4264/sp32.jpg



২১। ক্যাসিনোর সামনে সাইফুল।
http://img714.imageshack.us/img714/3712/sp34.jpg



২২। ক্যাসিনোর সাথেই এই সারকার্স।
http://img812.imageshack.us/img812/8802/sp35.jpg



২৩। ক্যাসিনো থেকে ফেরার পথে বাসে সাইফুল ও ভাতিজা সোহেল।
http://img684.imageshack.us/img684/1369/sp33f.jpg

আরো দেখুনঃ সিংঙ্গাপুর ভ্রমণের প্রথম দিন

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: সিংঙ্গাপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন

পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিন এরমধ্যে আমিও থাইল্যান্ড থেকে ঘুরে এলাম কিছুদিন পর আমার কাহিনীটাও পাবেন তার আগে আপনার কাহিনীটা দিন

Re: সিংঙ্গাপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন

মজায় আসেন ভাই big_smile,যাক অনাক কিছু সিক্লাম,  ধন্যবাদ smile

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞