টপিকঃ দৃশ্যমূল্য

===================================
ডিসক্লেইমার: লেখাটি সচলায়তনে প্রকাশিত।
===================================

আঘাত, বিষাক্ত পদার্থ বা জীবানু যেভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে তেমনি দৃশ্যও মানুষের সুস্থতা এবং মননশীলতার উপরে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। বিষাক্ত পদার্থ, জীবানু বা আঘাত দ্বারা আক্রান্ত হলে মানুষ যেরকম অসুস্থ হতে পারে তেমনি দৃশ্য দ্বারাও একই ভাবে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। অন্য দৃষ্টিকোন থেকে (গ্লাসের অর্ধেক ভর্তি) চিন্তা করলে বলা যায় দৃশ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উন্নয়ন করা সম্ভব। আর ইতিমধ্যেই এদেশেও দৃশ্য বেশ দামী বিষয়। এই লেখার পরবর্তী অংশে এই বিষয়ে সহজবোধ্য উদাহরণ সহ দৃশ্য উন্নয়নকল্পে কে কী কীভাবে কেন কোথায় .. ইত্যাদি বিষয়ে গুতাগুতি করার ইচ্ছা করি।

মূল্য
প্রথমে আসি মূল্যের ব্যাপারে। পার্কভিউ, রিভারভিউ ইত্যাদি বিস্তর ভিউয়ের কারণে একটা অ্যাপার্টমেন্টের দাম প্রতি বর্গফুটে কয়েকশ থেকে হাজার টাকা বেশি হতে পারে। কাজেই শুধুমাত্র দৃশ্যের কারণে একটা এপার্টমেন্টের দাম কয়েক লাখ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত মূল্যটা তাহলে দৃশ্যের মূল্য। মজার ব্যাপার হল যে এই দৃশ্য কিন্তু ঐ এপার্টমেন্টের মালিক তৈরী করেনি। একই ভাবে সমূদ্র তীরের হোটেলগুলোতে যেই কক্ষগুলো থেকে সমূদ্র দেখা যায় সেগুলোর ভাড়া ও চাহিদা বেশি।

কিংবা ধরুন, বিশেষ কিছু রেস্টুরেন্টে শুধুমাত্র অনেকদুর পর্যন্ত বাইরের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় বলে একই খাবার অনেক বেশি দাম দিয়ে সানন্দে(!) খাই; যেমন সিটিভিউ, স্কাইভিউ টাইপের উঁচুতলায় অবস্থিত রেস্টুরেন্ট। অথবা শুধুমাত্র দেখতে সুন্দর করার জন্য কত কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে স্থপতি দিয়ে ভবনের আকার আকৃতি পরিবর্তন করানো হয়। এতে অনেকক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য মেঝের ক্ষেত্রফলও কমে যায় কিন্তু দেখা যায়, তা সত্বেও ঐ ভবন থেকে মালিক বেশি ভাড়া আয় করে। কাজেই শুধুমাত্র দৃশ্যের কারণেই এই খরচ এবং বর্ধিত মূল্য পাওয়া যায়। আগের পার্কভিউ বা রিভারভিউএর মত নয়, বরঞ্চ এখানে বর্ধিত মূল্যের জন্য দৃশ্যগুলো নিজেরাই খরচ করে তৈরী করানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য
এবারে আসি স্বাস্থ্যের ব্যাপারে। DOOM2 নামে একটা কম্পিউটার গেম খেলতাম একসময়ে, ওটার গ্রাফিক্স কোয়ালিটির কারণে খেলার সময় এবং পরে অদ্ভুদ গা-গুলানো, বমি বমি অসস্তি লাগতো। খুব সম্ভবত এ ধরণের অসুস্থতাকে বর্ণনা করার জন্য Motion sickness নামক একটা অসুস্থতা আছে। যখন টিভির রিমোট হাতে একজন যখন কোন চ্যানেল না দেখে শুধু চ্যানেল পাল্টাতে থাকে তখনও আমার (এবং হয়তো অন্যদের) মনে এরকম একটা গা-গুলানো ভাব আসে। এরশাদের আমলে বাসার কাছে একটা ট্রাক অ্যাকসিডেন্টে রাস্তার উপরে পড়া কানসহ চামড়া, হলুদ ঘিলুর দৃশ্য দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ভৌতিক দৃশ্য দেখে কারো কারো হার্টফেল করার খবরও অনেকের জানা আছে। কয়েকদিন আগে একটা খবর শুনে বেশ মজা পেলাম। আমার আত্মীয়ের আত্মীয়, তাদের বাসায় হঠাৎ হঠাৎ করে লোকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। এহেন ঘন ঘন কোনো অসুস্থতা ছাড়াই অজ্ঞান হওয়া দেখে পারিবারিক ডাক্তার বেশ অবাক হয়েছিলেন। ওনার তদন্তে থলের বেড়াল বের হয়ে আসে। বার্জার কালার ব্যাংক ব্যবহার করে অনেক মাথা খাটিয়ে (!) মনের মাধুরী মিশিয়ে ঘরের একেক দেয়ালে একেক রং দেয়া ছিল। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সব দেয়াল নতুন করে একরঙা করা হয়েছে, অজ্ঞান হওয়ার সমস্যাও দুর হয়ে গেছে। চিন্তা করুন, সামান্য রঙের ভুল ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কেমন ক্ষতিকারক হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, স্থাপত্যবিদ্যায় ঘরের দেয়ালে রং-এর ব্যবহারের উপরে আলাদা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এবার আপনাদের চিন্তাভাবনার জন্য কিছু দৃশ্যের নাম দেই: মিডিয়াতে খুনের দৃশ্য, মৃতদেহের দৃশ্য ... কোরবানীর রক্তের ফোয়ারার দৃশ্য ... নিরীহ পশুর গলায় ছুরি চালানোর দৃশ্য ... এসব আমাদের প্রজন্মকে কিভাবে প্রভাবিত করছে? শিশুদের মনে দীর্ঘমেয়াদে কিসের বীজ বপন করছে?

বিভিন্ন স্থাপনার দৃশ্য
একটা বিদ্যূত উৎপাদন কেন্দ্রের মত বড় স্থাপনা যদি হাইওয়ের পাশে হয়, তবে তা হবে উৎকটরূপে দৃষ্টি আকর্ষক। বিরাট আকারের কারণে এটা মানুষের দৃষ্টিকে অন্য শ্যামলিমা থেকে সরিয়ে এখানেই আটকে ফেলবে। আবার আদিগন্ত বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত বা বন বা নদীর উপর দিয়ে যখন বিদ্যূতের টাওয়ার আর তার দেখা যায় তখন সেটা প্রকৃতির মধ্যে বিসদৃশ লাগে। আবার অনেক জায়গায়, বিশেষত বনের মধ্য দিয়ে ট্রান্সমিশন লাইনের নিচে গাছপালা ছেঁটে দেয়া হয়, এটাও প্রাকৃতিক দৃশ্যের ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করে। একটা উড়াল রাস্তা (flyover) কিংবা উঁচু ভবনও একই ভাবে মানুষের দৃষ্টির বিস্তারকে বাধাগ্রস্থ করে। মানুষ দিগন্ত দেখতে চায়, আকাশ দেখতে চায়; আর এই দৃশ্যগুলো বৃহদাকৃতির স্থাপনা বাধাগ্রস্থ করে; চারদিক থেকে মাথার উপর চেপে আসছে - এমন একটা অনুভুতির সৃষ্টি করে।

প্রকৃতি মানেই সবুজ আর জলাশয়। ছোট জলাশয়ের চেয়ে বড় জলাশয় বেশি আকর্ষনীয়। জলাশয় থাকলে ঐ এলাকার আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়, আর এজন্যই লেকভিউ-এর দাম বেশি। কিন্তু জলাশয়ের তীর যদি একঘেয়ে রকম সরল হয় তবে সেটাও দেখতে ততটা ভাল লাগে না, কিন্তু তা যদি হয় বৈচিত্রময় ও আঁকাবাঁকা তবে তা মনকে চাঙ্গা করে তোলে। একইভাবে বৈচিত্রহীন সমতলের চেয়ে সামান্য উঁচু নিচু বা ঢালু জায়গা দেখতে ভাল লাগে।

দৃশ্য বিচার করা
কয়েকটি কারণে এইটা বিরাট একটা কঠিন কাজ। কারণ, প্রথমত: নান্দনিকতা বা সৌন্দর্যবোধ বা aesthetics বিষয়টার কোন স্ট্যান্ডার্ড নাই। একেক জনের কাছে রূচিবোধ অনুযায়ী একেকটা দৃশ্য সুন্দর লাগে, এর কোনো নিয়মনীতি নাই। এছাড়া লিখিত কোনো স্ট্যান্ডার্ড বা নির্দিষ্ট টার্ম না থাকায়, একজনের মনের ভাব অন্যজনকে লিখিতভাবে বা বলে পুরাপুরি বুঝানো যায় না। এই বিষয়ে ক্লায়েন্টের চাহিদা স্থপতিকে বুঝাতে পারেনা, স্থপতির নির্দেশ বা আইডিয়া উন্নয়নকর্মী ঠিকমত নিতে পারে না ... দেখা যায় পুরা উল্টা বিষয় করে রেখেছে। এছাড়া এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত পেশাদার লোক পাওয়াটাও কঠিন।

এত সীমাবদ্ধতা সত্বেও উন্নত ও সভ্য দেশে সরকারী পর্যায়েও বিভিন্ন এলাকার দৃশ্যমূল্যকে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দৃশ্য খারাপ হয়ে গেলে সেই এলাকার স্থাপনগুলোর অর্থনৈতিক আয় কমে যাবে, অর্থাৎ আয়কর/ট্যাক্স প্রদানও কমে যাবে, এছাড়া সেখানে পর্যটনের মত শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পর্যটন এমন একটা শিল্প যেখানে স্থানীয় সৌন্দর্য্য ও দর্শনযোগ্য স্থান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কোন এলাকায় সৌন্দর্য কেমন তা জানতে দৃশ্য অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক রেটিং বা ইনডেক্স তৈরী করা হয়। এতে একদিকে যেমন কোন কোন এলাকায় পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া যায় সেটা নির্ধারণ করার সুবিধা হয়, অপরদিকে তেমনি যেসব এলাকায় উন্নয়ন প্রয়োজন সেটা নির্বাচন করায় সুবিধা হয় এবং সেই এলাকাগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধণ প্রকল্প গ্রহণ করা যায়।

একটা এলাকার দৃশ্যমানের ইনডেক্স নির্নয় করার দুইটা পদ্ধতি আছে। প্রথমটি হল দৃশ্যকে নম্বর প্রদান পদ্ধতি (simple view scoring technique), আর অপরটি হল পূর্বনির্ধারিত তালিকা পদ্ধতি (checklist method)। পদ্ধতি বর্ণনা করার আগে জানিয়ে রাখি যে, পদ্ধতিগুলোতে ছবি, স্কেচ এবং মডেল ব্যবহার করা হয়। যেমন ধরুন একটা ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে চারিদিকে যেমন দেখা যাবে সেই ফটো বা দৃশ্যগুলো কিংবা ধরুন একটা রাস্তার বিভিন্ন অংশে পথচারী বা গাড়ির যাত্রীগণ যা যা দেখতে পাবে সেই দৃশ্যসমূহকে ফটো তুলে বা এঁকে নেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন ঋতূতে কেমন দেখাবে সেটাও বিবেচনার জন্য ঋতূভিত্তিক ছবি/স্কেচ/ফটো নেয়া হয়। ছবির উপরে আনুপাতিক আকারে আঁকা নতুন স্থাপনার ছবি টেপ দিয়ে আটকিয়ে কেমন দেখাবে সেটা অনুমান করা হয় (photomontage)। এছাড়া দৃশ্য বিচারের সময়ে দৃশ্যের সাপেক্ষে দর্শকের অবস্থানটাও বিবেচনা করা হয়।

দৃশ্যকে নম্বর প্রদান পদ্ধতিতে বিবেচ্য দৃশ্যগুলোর মধ্য থেকে প্রথমে দৈবচয়নে যে কোনো একটি ছবি নেয়া হয়। সেই ছবিটাকে ১০ নম্বর বা পয়েন্ট বা মার্ক দেয়া হয়। পরবর্তী ছবির দৃশ্যটাকে এই ছবির দৃশ্যের সাথে তুলনা করে আরেকটা নম্বর দেয়া হয়। যদি এটা আগের থেকে অনেক ভালো হয়, তবে এর নম্বর ৪০/ ৫০/১০০ ইত্যাদি হতে পারে কিংবা সামান্য খারাপ হলে ৮ / ৯ হতে পারে। একজন বা একাধিক নির্বাচক নিয়ে এই কাজটা চালানো যেতে পারে। এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ছবিগুলোকে নম্বর দেয়া মাধ্যমে খুব ভালো, ভালো, মোটামুটি, খারাপ, খুব খারাপ ... এই ধরণের ক্যাটাগরিতে দৃশ্যগুলোকে ভাগ করে ফেলা যায়। খুব ভালো দৃশ্যগুলোকে অবশ্যই আড়াল হতে দেয়া যাবে না, এবং এটা ব্যবহারকারী বা সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে প্রজেক্টের মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেবে। বিল্ডিং হলে সেইদিকে বারান্দা বা বড় জানালা দেয়া হবে ইত্যাদি ... ...। আবার খুব খারাপ দৃশ্যকে অবশ্যই আড়াল করতে হবে, কারণ এটা ব্যবহারকারীর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সহজ ভাষায় বললে, বস্তি ভিউ বা নর্দমা ভিউ যেদিকে সেদিকে জানালা/ড্রইং রূম ইত্যাদি না দেয়াই ভাল; কিংবা বলা যেতে পারে রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে কিচেন হবে ঐদিকে আর সুন্দর দৃশ্য যেদিকে সেদিকে কাস্টমার বসবে। বস্তি/নর্দমা ইত্যাদি খারাপ দৃশ্যগুলোকে আড়াল করার জন্য অনেক সময় দৃষ্টিপথে চমৎকার গাছ/লতাপাতা দিয়ে ঝোপ তৈরী করে প্রাকৃতিক সবুজ পর্দার মত তৈরী করা হয়। এতে দুষ্টু দৃশ্য আড়াল হওয়ার পাশাপাশি চমৎকার একটা দৃশ্যও তৈরী হয় -- কে না জানে যে মানুষ প্রকৃতি তথা সবুজ গাছপালা দেখতে পছন্দ করে।

তালিকা পদ্ধতিতে পূর্বনির্ধারিত ছক অনুযায়ী কিছু প্রশ্নের নির্ধারিত উত্তরে টিক দেয়া হয়। উত্তর অনুযায়ী নম্বর নির্ধারিত থাকে, যা যোগ করে সেই এলাকার মোট স্কোর নির্ণয় করা হয়। স্কোর অনুযায়ী এলাকাটার দৃশ্যমান ভাল, মোটামুটি বা অনুল্লেখ্য এমন শ্রেণীবিভাগ করা যায়।

দৃশ্যের উন্নয়ন
এ বিষয়ে সাধারণ আইডিয়াগুলো ইতিমধ্যেই লেখায় চলে এসেছে। এক্ষেত্রে ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা একটা বড় ইস্যূ, যদিও ১০ বছর আগের চেয়ে এখনকার ঢাকার প্রধান সড়কগুলো আমার কাছে বেশি দৃষ্টিনন্দন লাগে (রোড আইল্যান্ডের গাছপালা/বাগানের জন্য)। দৃশ্যের উন্নয়ন করতে হলে প্রথমেই কোন জিনিষগুলো দেখতে সুন্দর তা চিহ্নিত করতে হবে। আর যেই ধরণের ঘটনা বা দৃশ্য একটা দৃষ্টিকটু বৈসাদৃশ্য তৈরী করে সেগুলো যাতে তৈরী না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনে আইন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। দর্শনযোগ্য স্থানের তালিকায় পার্ক, বন, জলাশয়, প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থান, ল্যান্ডস্কেপ বা স্থাপত্যগুলো স্থান পায়। এছাড়া উন্নয়নকল্পে মানুষের মতামত যাচাই করে কোন জিনিষগুলো তাঁদের সবচেয়ে ভালো লাগে আর কোনগুলো খারাপ লাগে তার তালিকাও করা হয়ে থাকে। এর মধ্য থেকে যেগুলো খুব বেশি প্রভাব বিস্তারকারী (ঋণাত্বক অর্থে) সেগুলোকে আগে বিবেচনা করা হয়।

মানুষ প্রাইভেসী পছন্দ করে। তাই আবাসিক এলাকাগুলোকে পাবলিক এলাকা থেকে আড়াল করতে হবে, এসব ক্ষেত্রে দেয়ালের চেয়ে সবুজ দেয়াল (একটা তারের বেড়ার উপর লতাগুল্ম দিয়েও তৈরী করা যায়) পথচারী/যাত্রী এবং ওখানে বসবাসকারী উভয়পক্ষের জন্যই বেশি আকর্ষনীয় হবে। এছাড়া এলাকার সুন্দর দৃশ্যগুলোতে যেন সহজে যাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। খেয়াল করতে হবে যে একটা প্রাকৃতিক পরিবেশকে সব দিক থেকে একই রকম সুন্দর লাগে না। যেদিকে থেকে বা যেই স্থানগুলো থেকে এটা সবচেয়ে সুন্দর দেখায় সেই জায়গাগুলো থেকে বাধামুক্ত দেখার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা সুন্দর জলাশয় যেন ঝোপজঙ্গল বা টংঘর দোকান দিয়ে আড়াল না হয়ে যায় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর জায়গাগুলোতে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বা বিলবোর্ড স্থাপন করা ঠিক হবে না। পরিত্যক্ত কোন স্থাপনা থাকলে সেগুলোকে সংস্কার করতে হবে। উঁচু-নিচু জায়গার ক্ষেত্রে মৃদু ঢাল দৃশ্য হিসেবে খাড়া ঢালের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক। ... ... ইত্যাদি ইত্যাদি উচিত, করতে হবে মার্কা বিস্তর কথাবার্তা লেখা যায় ... ...।

দৃশ্য মোটেই অবহেলা বা হেলাফেলার বিষয় নয়। এ জন্যই 'পয়লা দর্শনধারী আর পরে গুণবিচারী' - এ ধরণের কি জানি একটা কথা প্রচলিত আছে।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দৃশ্যমূল্য

শামীম স্যার খুব সুন্দর বর্ণনা করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশাকরি আপনার আইডিয়া গুলো আমাদের জীবনে সুফল বয়ে আনবে। thumbs_up

নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হয়

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০২-০১-২০১১ ০২:৩৩)

Re: দৃশ্যমূল্য

বরাবরের মতই চমৎকার লেখা! দৃশ্যমূল্যের রেপু-মূল্য বুঝে নিন!  lol

শামীম লিখেছেন:

স্বাস্থ্য
এবারে আসি স্বাস্থ্যের ব্যাপারে। DOOM2 নামে একটা কম্পিউটার গেম খেলতাম একসময়ে, ওটার গ্রাফিক্স কোয়ালিটির কারণে খেলার সময় এবং পরে অদ্ভুদ গা-গুলানো, বমি বমি অসস্তি লাগতো। খুব সম্ভবত এ ধরণের অসুস্থতাকে বর্ণনা করার জন্য Motion sickness নামক একটা অসুস্থতা আছে।

হেহে, এই সিকনেসটার আলাদা নামই আছেঃ Doom Sickness! ডুমের নির্মাতা কারম্যাক ভাইদের আরো পুরোনো গেইম Return to Castle Wolfenstein খেলার সময় আমিও এই সিকনেসে ভুগতাম - খেলার পরে বমি বমি লাগতো। ওই সময়ের একটি ঘটনার কথা এখনো মনে আছে - পরিচিত এক ব্যক্তি কয়েক ঘন্টা ঊলফেন্সটাইন খেলার পরে বাড়ী ফিরে যাচ্ছিলো, রাস্তায় নেমে রিক্সায় উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেছিলো!
তবে আপনি ঠিকই বলেছেন - এটা একধরণের মোশন সিকনেসই। অনেক আগে ডুম FAQ-এ এর একটা ব্যাখ্যা পড়েছিলাম। বিতর্কিত লজিকটা এরকমঃ পিসি স্ক্রীনে ফার্স্ট পার্সন পয়েন্ট-অব-ভিউ (POV) এ্যানিমেশন দেখে ব্রেন বোকা বনে যায়, সে মনে করে বডি খুব দ্রুত মুভ করছে, লাফঁঝাপ মারছে; কিন্তু বাস্তবে শরীরটা inertia-র মধ্যে রয়েছে। এই ব্রেইন-বডি perception discrepancies-র কারণেই নাকি nausea, dizziness ইত্যাদি মোশন সিকনেস সিম্পটমগুলো দেখা দেয়।  thinking

Calm... like a bomb.

Re: দৃশ্যমূল্য

এই ডুম সিকনেস আমার ও ছিল। আমি কোন দিন এই ফার্স্ট পার্সন শুটার টাইপের গেম খেলতে পারিনি। মাথা ঘুরতে থাকতো। অথচ আমার অন্য সব বন্ধুরা কিভাবে খেলতো? যাক, শুনে বরই প্রীত হচ্ছি যে আমি একাই ছিলাম না ---

কতদুর আর যাওয়ার আছে
কত পথ রয়েছে বাকী,
কত মেঘ এই আকাশে উড়ে
আজ রোদের হাসি কাল বৃষ্টি।

Re: দৃশ্যমূল্য

@invarbrass ভাই,
রেসিং গেম খেলার সময় যতই উল্টাপাল্টা চালাই না কেন গা গুলায় না অতটা। অবশ্য এতে ব্যাকগ্রাউন্ডের দৃশ্যগুলো বেশিরভাগক্ষেত্রেই দিগন্তে থাকে। অন্য ফাস্ট পারসন শুটিং গেমগুলোতেও মনে হয় ডুমের মত অসুস্থ লাগে না -- ডালমে কুছ কালা হ্যায় ... ...

জিয়া লিখেছেন:

এই ডুম সিকনেস আমার ও ছিল। আমি কোন দিন এই ফার্স্ট পার্সন শুটার টাইপের গেম খেলতে পারিনি। মাথা ঘুরতে থাকতো। অথচ আমার অন্য সব বন্ধুরা কিভাবে খেলতো? যাক, শুনে বরই প্রীত হচ্ছি যে আমি একাই ছিলাম না ---

আমিও সহমর্মী পেয়ে একটু সান্তনা পেলাম।  smile

Re: দৃশ্যমূল্য

যাক এতদিনে ডুম সিকনেসের কারন জানতে পারলাম।আগে ভাবতাম আমিই মনে হয় এটা খেলার মত স্যুস্থ নই। nailbiting

seeming is being