টপিকঃ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক মার্কিনির কৃতিত্ব

মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিজয়ী আবুল হুসাম তার একটি আবিষ্কার দিয়ে বিশ্বের অভাবী মানুষের উপকার করতে নিরলসভাবে কাজ করে যচ্ছেন। তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে টিউবওয়েলের পানি থেকে আর্সেনিকসহ অন্যান্য ময়লা ও দূষিত পদার্থ দূর করা যায়। ভার্জিনিয়ার জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আবুল হুসাম দশ লাখ ডলার মূল্যমানের ‘গ্রেইনজার চ্যালেঞ্জ পুরস্কার-২০০৭’ লাভ করেন। এই অর্থের বেশির ভাগই তিনি দান করে দেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গরিব মানুষের মধ্যে তার উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের পানি বিশোধনকারী ব্যব¯’া বিতরণ করার জন্য। বাংলাদেশে সাত কোটি ৭০ লাখ থেকে নয় কোটি ৫০ লাখ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে। পুরস্কারের অবশিষ্ট অর্থ জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা হয় বা আলাদা করে রাখা হয় এ বিষয়ে আরও গবেষণা করার জন্য। বাংলাদেশ, ভারতের পূর্বাঞ্চল, নেপাল এবং আরও কয়েকটি দেশের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক দূষণ একটি মারাত্মক সমস্যা। আর্সেনিক একটি বিষ। এমনকি স্বল্পমাত্রার ঘনত্বেও এটি চর্মরোগ, স্নায়ুতন্ত্রে ক্ষতি, প্রাণঘাতী ক্যান্সার, অঙ্গহানি, অবশ ও হাত-পা বিকলাঙ্গের কারণসহ মৃত্যুও ঘটায়। আর্সেনিক সমস্যা নিয়ে হুসাম সর্বপ্রথম পেশাগতভাবে কাজ করতে শুরু করেন যখন তার ভাই, যিনি বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় একজন চিকিৎসক, তাকে নিখুঁতভাবে আর্সেনিক পরিমাপের একটি পদ্ধতি তৈরির জন্য অনুরোধ করেন। জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে হুসাম একটি ইলেক্ট্রো কেমিক্যাল অ্যানালাইজার তৈরি করেন এবং একটি পরিমাপ প্রটোকল তৈরি করতে এটি ব্যবহার করেন। তিনি জানালেন, ‘নমুনা হিসেবে আমরা সর্বপ্রথম আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করি। এই নমুনায় আর্সেনিকের মাত্রা পাওয়া গেল ১৬০-১৯০ পিপিবি। অথচ পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হ”েছ ৫০ পিপিবি। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম একটি পানি শোধন ফিল্টার উদ্ভাবন করবো।’ হুসাম দেখলেন, তিনি যে গ্রামে বড় হয়েছেন সেখানকার সবাই এবং কুষ্টিয়ার চার লাখ অধিবাসীর মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে। যদিও তার বা তার ভাইবোনদের কারো আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় আক্রান্তের লক্ষণ দেখা যায়নি, কিš‘ তার প্রতিবেশীদের অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত। গ্রেইনজার ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আমেরিকার ন্যাশনাল একাডেমী অব ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএই) ‘গ্রেইনজার চ্যালেঞ্জ পুরস্কার’ চালু করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিউবওয়েলের পানি থেকে কার্যকরভাবে আর্সেনিক দূর করার উদ্দেশ্যে একটি পানি শোধন ব্যব¯’া উদ্ভাবন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশল সমাজের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল এনএই। এই চ্যালেঞ্জের আরও শর্ত ছিল যে, এই ব্যব¯’াটি হতে হবে স্বল্প-ব্যয়ী, কারিগরিভাবে উন্নত, নির্ভরযোগ্য ও রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য; সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও গ্রাহকের সাধ্যের মধ্যে; উন্নয়নশীল দেশে তৈরি ও মেরামত করার জন্য উপযুক্ত এবং যা অন্য পানির গুণাগুণকে নষ্ট করবে না তথা এর বর্জ্য কোনরকম বিষক্রিয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে না। পুরস্কার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ম্যারিল্যান্ডে অব¯ি’ত জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর চার্লস ও’মেলিয়া জানান, হুসামের সোনো (ঝঙঘঙ) ফিল্টারটি ছিল জমা পড়া ৭৫টি এন্ট্রির একটি। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা এজেন্সির ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয় এবং পুরস্কার নির্বাচন কমিটির ১০ জন সদস্যের প্রত্যেকেই এটি বিশ্লেষণ করে দেখেন। ও’মেলিয়া হুসামের আবিষ্কারকে ‘অভিনব’ বলে আখ্যায়িত করেন। সোনো ফিল্টার বিদ্যুৎ ছাড়াই চলে। তিনটি বালতি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি কাজ করে। সবার উপরের বালতিটি পূর্ণ থাকে নদীর মোটা বালি এবং কম্পোজিট আয়রন ম্যাট্রিক্স দিয়ে, যা আর্সেনিক দূর করার সক্রিয় উপাদান হিসেবে কাজ করে। জৈবিক দূষিত পদার্থ দূর করতে মধ্যের বালতিটিতে থাকে নদীর মোটা বালি এবং কাঠ কয়লা। মিহি সূক্ষ্ম উপাদান দূর করতে এবং পানির প্রবাহ ¯ি’তিশীল করতে নিচের বালতিতে থাকে নদীর মিহি বালি এবং ইটের খোয়া। সোনো ফিল্টার বাংলাদেশে ¯’ানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে আড়াই-তিন হাজার টাকায় প্র¯‘ত করা যায়। এটি ঘণ্টায় ২০ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করে। এতে কোন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না এবং এটি কমপক্ষে পাঁচ বছর টেকে। এটি পরিবেশবান্ধব, কারণ এটি কোন ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সৃষ্টি করে না। হুসাম বলেন, তিনি বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি স্কুলসহ ৩২,৫০০ ফিল্টার বিতরণ করেন। (সংকলিত)

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক মার্কিনির কৃতিত্ব

ডঃ হুস্সামের সাক্ষাৎকার পাবেন বিজ্ঞানী.অর্গের মূল পৃষ্ঠাতেই। এছাড়া ওনার উপরে প্রকাশিত খবর সংগ্রহে রেখেছি আমার ইয়াহু ব্লগে।

১. বিজ্ঞানী.অর্গের প্রবন্ধ: http://biggani.com/content/view/417/114/
২. আমার সংগ্রহশালা: ড: হুস্সাম, ডা. মুনীর

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত