টপিকঃ ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

যাদের রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ, তাদের ইউনিভার্সাল ডোনার বলা হয় কেন? রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ নয়, এমন কোন ব্যক্তির ঐ গ্রুপের রক্ত গ্রহণে ঝুঁকির মাত্রা কতটুকু? বিস্তারিত ব্যাখ্যা আশা করছি।

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৯-০৯-২০১০ ০৩:০৪)

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

ইমিউনোলজীর ব্যাপার স্যাপার একটু ঝামেলার, তবে সহজ ভাষায় ব্যাখা করার চেষ্টা করছি।

আমাদের রক্তের লোহিত কণিকা বা Red blood cell (RBC)-এর গায়ে কয়েক ধরণের প্রোটিন থাকে। যেমন A, B, Rh প্রোটিন ইত্যাদি।

যার RBC-তে A প্রোটিন আছে, তার ব্লাডগ্রুপ A।
যার RBC-তে B প্রোটিন আছে, তার ব্লাডগ্রুপ B।
আর যার RBC-তে দু'টোই আছে, তার ব্লাডগ্রুপ AB।
যার RBC-তে দু'টোর একটাও নেই, তার ব্লাডগ্রুপ হলো O।

৩য় প্রোটিন - অর্থাৎ, Rh - এটা যার রক্তে থাকবে, সে পজিটিভ, যার থাকবে না সে নেগেটিভ।

ধরুন, আপনার রক্তে A এবং Rh  প্রোটিন আছে - তাই আপনার ব্লাডগ্রুপ হবে A +ve

আবার ধরুন, আপনার বন্ধুর রক্তে A এবং B আছে, কিন্তু Rh  নেই - তাহলে তার ব্লাডগ্রুপ হবে AB -ve

যেমন অয়ন ভাইয়ের রক্তে ৩টি প্রোটিনের মধ্যে কিছুই নাই (নিজে নিজে ডিম রান্না করে খেলে এই অবস্থাই হয়  tongue) - তাই তাঁর ব্লাডগ্রুপ O-ve।


এখন, ব্লাড ট্রান্সফিউশনের কিছু নিয়ম আছে। আবিষ্কারক কার্ল ল্যান্ডস্টিনারের নামানুসারে একে ল্যান্ডস্টিনার'স ল বলে।

যার শরীরে A প্রোটিন নাই (অর্থাৎ ব্লাডগ্রুপ B), তাকে A ব্লাডগ্রুপের রক্ত দিলে শরীরে রিয়্যাক্সন হবে, নতুন দেয়া রক্ত রিজেক্ট করবে, এমনকি মারাও যেতে পারবে।

ঠিক তেমনি ব্লাডগ্রুপ A ব্যক্তির লোকের শরীরে B-গ্রুপের রক্ত দিতে গেলেও একই সমস্যা হবে।

আবার ধরুন, দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যে A আর B ম্যাচ করতে পারলেন। কিন্তু আরেকটা প্রোটিন/এ্যান্টিজেন যে রয়ে গেছে - Rh!
যার শরীরে Rh ফ্যাক্টর নাই (অর্থাৎ Rh -ve), তাকে Rh +ve ব্লাড দিতে গেলেও একই ধরণের রিয়্যাক্সন হবে - পুরো ব্লাড রিজেক্ট করবে।

A গ্রুপের দাতা শুধু A এবং AB গ্রুপের গ্রহীতাকে রক্ত দিতে পারবেন। (এখানে খেয়াল করুন, দাতা এবং গ্রহীতাদের সবারই রক্তে A প্রোটীন কমন আছে)।
তেমনি B গ্রুপের দাতা শুধু B এবং AB গ্রুপের গ্রহীতাকে রক্ত দিতে পারবেন। (এখানে সবার মাঝে B কমন)
আর AB গ্রুপের দাতা শুধু AB গ্রুপের গ্রহীতাকে রক্ত দান করতে পারবেন।

এই জন্য, সবচাইতে নিরাপদ উপায় হলো: যিনি রক্ত দেবেন তাঁর শরীরে কোনো এ্যান্টিজেন/প্রোটিন-ই না থাকা - অর্থাৎ ব্লাডগ্রুপ O-ve। তাই এদেরকে ইউনিভার্সাল ডোনার বলা হয় - এরা যে কাউকে রক্ত দিতে পারেন।

ঠিক তেমনি এর উল্টোও আছে - ইউনিভার্সাল রেসিপিয়েন্ট। এদের ব্লাড গ্রুপ হলো AB +ve - এদের A, B এবং Rh সব প্রোটিনই আছে। কাজেই যেকোনো ব্লাডগ্রুপই গ্রহণ করতে পারবে।

Calm... like a bomb.

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

হে হে, ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে আমাদের স্যারও অনেক সুন্দর করে বুঝিয়েছিলেন। বিয়ের আগে এই জিনিসটা অর্থাৎ ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করে বিয়ে করা উচিত। তা না হলে স্বামী-স্ত্রীর হয়ত তেমন কিছুই হবেনা তবে তাদের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ পুরো অন্ধকার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। বিয়ের পর শারীরিক সম্পর্কের কারনে ও রক্তের মাধ্যমে বেশ কিছু সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ হতে পারে যেমন, এইচআইভি/এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি, ডায়াবেটিস, লিউকোমিয়া, সিজোফ্রেমিয়া ইত্যাদি। সেক্সুয়্যাল প্রবলেম যেমন স্বামী-স্ত্রীর নরমাল প্রোডাক্টিভিটি ও নষ্ট হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া নামের এই রোগটি বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচুর। বাবা-মা দুইজনই এই রোগের বাহক হলে সন্তান জন্মের পরই এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং সাধারনত ২১ বছরের বেশি বাঁচে না। এবং এতসব ঝামেলা এড়ানোর জন্যই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

ব্যাপারটা নাহয় আমিও একটু ব্যাখ্যা করিঃ
যদি কোন নেগেটিভ রক্তের মহিলার সাথে পজিটিভ রক্তের পুরুষের বিয়ে হয়, তবে তাদের প্রথম বাচ্চা হবে পজিটিভ রক্তের, অর্থ্যাৎ বাচ্চার রক্তে Rh প্রোটিন থাকবে যা প্রকট বৈশিষ্ট্যের। প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। পজিটিভ রক্তে যেহেতু Rh এন্টিজেন/প্রোটিন ছিলো, তাই বাচ্চা পজিটিভ রক্তের হবে। সবচেয়ে বড় ভয়টা এখানেই, মা নেগেটিভ রক্তের বলে বাচ্চার জন্মের সময় অমরার মাধ্যমে বাচ্চার রক্তে থাকা Rh এন্টিজেন মায়ের দেহে প্রবেশ করে (কারন বাচ্চা যেহেতু পজিটিভ রক্তের সুতরাং তার রক্তে Rh থাকবেই এবং অমরা মানে বাচ্চা যেখানে মায়ের উদরে থাকে)। এখন মার রক্তে Rh নেই কিন্তু সন্তানের কারনে ঢুকে পড়েছে। তাই মায়ের নেগেটিভ রক্ত আগত Rh কে শত্রু ভাবে এবং মায়ের দেহে অ্যান্টিবডি (বুঝার সুবিধার্তে অ্যান্টিবডিকে অ্যান্টিভাইরাসও ধরে নিতে পারেন) তৈরি করে। যার ফলে মায়ের রক্ত অ্যান্টিবডি/অ্যান্টিভাইরাস সমৃদ্ধ যা কোন রকমের পজিটিভ রক্ত পেলেই সেটাকে ধ্বংস করে ফেলে। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই প্রথম বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয় বলে প্রথম বাচ্চা কোনোরকমে বেচে গেলেও পরবর্তী বাচ্চা গুলো আর বাঁচেনা। কারন বাবার রক্ত পজিটিভ, মায়ের রক্ত পজিটিভ কিছু পেলেই ধ্বংস করে ফেলে। এইজন্য দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আগেই মারা যায় মানে ভ্রুনে থাকতেই মৃত্যুবরন করে।

তবে অয়ন ভাইয়ের জন্য সুখবর হচ্ছে, আপনি নিশ্চিন্তে প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে যা ইচ্ছে করেন কোনো সমস্যা নেই। মানে আপনি পৃথিবীর যেকোনো মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন।  tongue
তবে বিয়ের সময় আমাকে আর invarbrass ভাইকে স্পেশাল দাওয়াত না দিলে কইলাম খবর আছে।  hehe

Flickr     500px    Facebook     SRS    Twitter

শিমুল১৩'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন jyoti1211 (২৯-০৯-২০১০ ১১:৩৮)

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

শিমুল১৩ লিখেছেন:

হে হে, ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে আমাদের স্যারও অনেক সুন্দর করে বুঝিয়েছিলেন। বিয়ের আগে এই জিনিসটা অর্থাৎ ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করে বিয়ে করা উচিত। তা না হলে স্বামী-স্ত্রীর হয়ত তেমন কিছুই হবেনা তবে তাদের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ পুরো অন্ধকার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। বিয়ের পর শারীরিক সম্পর্কের কারনে ও রক্তের মাধ্যমে বেশ কিছু সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ হতে পারে যেমন, এইচআইভি/এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি, ডায়াবেটিস, লিউকোমিয়া, সিজোফ্রেমিয়া ইত্যাদি। সেক্সুয়্যাল প্রবলেম যেমন স্বামী-স্ত্রীর নরমাল প্রোডাক্টিভিটি ও নষ্ট হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া নামের এই রোগটি বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচুর। বাবা-মা দুইজনই এই রোগের বাহক হলে সন্তান জন্মের পরই এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং সাধারনত ২১ বছরের বেশি বাঁচে না। এবং এতসব ঝামেলা এড়ানোর জন্যই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

ব্যাপারটা নাহয় আমিও একটু ব্যাখ্যা করিঃ
যদি কোন নেগেটিভ রক্তের মহিলার সাথে পজিটিভ রক্তের পুরুষের বিয়ে হয়, তবে তাদের প্রথম বাচ্চা হবে পজিটিভ রক্তের, অর্থ্যাৎ বাচ্চার রক্তে Rh প্রোটিন থাকবে যা প্রকট বৈশিষ্ট্যের। প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। পজিটিভ রক্তে যেহেতু Rh এন্টিজেন/প্রোটিন ছিলো, তাই বাচ্চা পজিটিভ রক্তের হবে। সবচেয়ে বড় ভয়টা এখানেই, মা নেগেটিভ রক্তের বলে বাচ্চার জন্মের সময় অমরার মাধ্যমে বাচ্চার রক্তে থাকা Rh এন্টিজেন মায়ের দেহে প্রবেশ করে (কারন বাচ্চা যেহেতু পজিটিভ রক্তের সুতরাং তার রক্তে Rh থাকবেই এবং অমরা মানে বাচ্চা যেখানে মায়ের উদরে থাকে)। এখন মার রক্তে Rh নেই কিন্তু সন্তানের কারনে ঢুকে পড়েছে। তাই মায়ের নেগেটিভ রক্ত আগত Rh কে শত্রু ভাবে এবং মায়ের দেহে অ্যান্টিবডি (বুঝার সুবিধার্তে অ্যান্টিবডিকে অ্যান্টিভাইরাসও ধরে নিতে পারেন) তৈরি করে। যার ফলে মায়ের রক্ত অ্যান্টিবডি/অ্যান্টিভাইরাস সমৃদ্ধ যা কোন রকমের পজিটিভ রক্ত পেলেই সেটাকে ধ্বংস করে ফেলে। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই প্রথম বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয় বলে প্রথম বাচ্চা কোনোরকমে বেচে গেলেও পরবর্তী বাচ্চা গুলো আর বাঁচেনা। কারন বাবার রক্ত পজিটিভ, মায়ের রক্ত পজিটিভ কিছু পেলেই ধ্বংস করে ফেলে। এইজন্য দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আগেই মারা যায় মানে ভ্রুনে থাকতেই মৃত্যুবরন করে।

hehe

invarbrass ও শিমুল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। এ তথ্যটি শুনেছি কিন্তু এত সহজভাবে বুঝিনি। আরো কিছু অজানা তথ্য দেন  thinking

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

invarbrass ভাই ও শিমুল১৩ ভাই কে ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ন কিছু জিনিস জানানোর জন্য।
আমার রক্তের গ্রুপ কিন্তু AB+ big_smile
সবার কাছ থেকে শুধু নিয়েই যাবো নিয়েই যাবো....

God is great.....

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

ধন্যবাদ অয়ন ভাই, টপিকটি খোলার জন্য এবং ধন্যবাদ invarbrass ভাই ও শিমুল ভাইকে, খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৯-০৯-২০১০ ১৫:০৪)

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

শিমুল১৩-কে ধন্যবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তুলে ধরার জন্য।

Rh +ve পুরুষের সাথে Rh -ve মহিলার বিয়ে হলে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বিয়ের আগেই উভয়ের ব্লাডগ্রুপ নির্ণয় করে নেয়া উচিৎ। তথ্যটি জানা থাকলে গর্ভধারণকালে চিকিৎসকের ট্রীটমেন্ট প্ল্যানিং-এ সুবিধা হবে।

তবে এই ব্যাপারটি নিয়ে এখন আর চিন্তিত হবার কারণ নেই। এককালে হয়তো এটা সিরিয়াস প্রবলেম ছিলো, এখন এর কার্যকরী চিকিৎসা বেরিয়ে গেছে।

Rh -ve মায়ের গর্ভে যদি Rh +ve ভ্রুণ থাকে, তাহলে মা'কে ২টি Rh Ig (ইম্যুনোগ্লোবিউলিন) ইন্জেক্সন দেবেন চিকিৎসক। প্রথম ইন্জেক্সন দেয়া হয় প্রেগনেন্সীর ২৮ সপ্তাহের মাথায়। আর শেষ ইন্জেক্সনটি দেয়া হয় ডেলিভারীর ৩ দিনের মধ্যে। ব্যস, সময়মত এই দু'টি ইন্জেক্সন নিয়ে নিলে আর কোনো চিন্তা নেই! আমেরিকায় এই ট্রিটমেন্টের সাক্সেস রেট ৯৯%।

তবে আমাদের দেশে একটু সমস্যা আছে - দারিদ্র, অবহেলার কারণে গর্ভবতী মায়ের সঠিক মনিটরিং-এর অভাব। যে কারণেই হোক না কেন, গর্ভবতী মায়ের Rh incompatibility-র ব্যাপারটা আনডিটেক্টেড থেকে যেতে পারে (এটা আমাদের দেশে প্রায়ই হয়, বিশেষ করে গ্রামান্চলে)। তবে এরও চিকিৎসা আছে। যদি ধরা পড়ে গর্ভের ভ্রূণের ব্লাড টাইপ পজিটিভ এবং এই কারণে বাচ্চার ক্ষতি হচ্ছে - তাহলে সেক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধরণের ব্লাড ট্রান্সফিউশন করা হয় - এর নাম এক্সচেন্জ ট্রান্সফিউশন। এর মাধ্যমে ভ্রুণের Rh+ve রক্ত সরিয়ে ধীরে ধীরে Rh-ve রক্ত দিয়ে রিপ্লেস করা হয়।

Calm... like a bomb.

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

আমি শুনলাম একই ব্লাডগ্রুপের পজেটিভ আর নেগেটিভ ওয়ালাদের বাচ্চার নাকি সমস্যা হতে পারে? এজন্য নাকি একটা ইঞ্জেকশন দিতে হয়?

উল্লেখ্য, আমার ও নেগেটিভ আর আমার স্ত্রীর ও পজেটিভ। ইনভারব্রাস ভাই বা শিমুল ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসা রইলো।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শিমুল১৩ (২৯-০৯-২০১০ ১৭:৫৯)

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

babuks লিখেছেন:

আমি শুনলাম একই ব্লাডগ্রুপের পজেটিভ আর নেগেটিভ ওয়ালাদের বাচ্চার নাকি সমস্যা হতে পারে? এজন্য নাকি একটা ইঞ্জেকশন দিতে হয়?
উল্লেখ্য, আমার ও নেগেটিভ আর আমার স্ত্রীর ও পজেটিভ। ইনভারব্রাস ভাই বা শিমুল ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসা রইলো।

আপনি যেহেতু ও নেগেটিভ তাহলে আর চিন্তা কি? পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য আপনি নিরাপদ। কোনো ইঞ্জেকশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাচ্চারও কোনো সমস্যা হবেনা। তবে যদি উল্টোটা হত মানে আপনার ও পজেটিভ আর আপনার স্ত্রীর ও নেগেটিভ, তাহলে এতদিনে নিশ্চয়ই খবর হয়ে যেত। আল্লাহর কাছে এজন্য শোকর করা উচিত  smile

একই ব্লাড গ্রুপের পজেটিভ আর নেগেটিভ ওয়ালাদের বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। সেটা নির্ভর করে স্বামী/স্ত্রী কোন এন্টিজেন বহন করছে। মোট কথা স্বামী যদি পজিটিভ রক্ত বহন করে এবং স্ত্রী নেগেটিভ তাহলে অবশ্যই সমস্যা হবে... সমস্যা এক্ষেত্রে স্ত্রীরও হতে পারে আবারও বাচ্চারও হতে পারে। বাচ্চার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে স্বামীর রক্ত নেগেটিভ হলে তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত (অতিরিক্ত এন্টিজেন থাকলেতো kidding ) এন্টিজেন স্ত্রীর রক্তে প্রবেশ করার সুযোগ নেই বলে কোনোপ্রকার সমস্যা হয় না।

তবে হ্যা, আপনাদের কারো রক্তে যদি কোনো রোগের বাহক থাকে তাহলে সন্তানের শরীরেও সেই রোগ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia)...

একজন থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক সারাজীবন একজন সুস্থ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতে পারে। থ্যালাসেমিয়ার বাহক বিয়ের জন্য অযোগ্য নয়। তবে সতর্কতার বিষয় হচ্ছে তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে হবে একজনকে যে থ্যালাসেমিয়ার বাহক নয়। আবার বাবা-মা উভয়েই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন তাহলেও আশঙ্কার কিছু নেই। থ্যালাসেমিয়া ছোঁয়াচে রোগ নয়, জন্মগত প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনভাবে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে এ রোগ ছড়ানোর কোন আশঙ্কা নেই।

বাবা-মায়ের মধ্যে যেকোন একজন যদি বাহক হন, তাহলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা নেই তবে সন্তানটি প্রায় ক্ষেত্রেই থ্যালাসেমিয়া রোগের জীবাণু বহন করে বেড়ায়। তারমানে এই নয় যে সন্তানটি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, সে শুধু থ্যালাসেমিয়া বহন করছে মাত্র। তাছাড়া মা-বাবা উভয়েই বাহক, এরূপ দম্পতিদের ক্ষেত্রে গড়ে ৪ জনে একজন সন্তান মারাত্মক থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে, দু'জন বাহক হিসেবে জন্মগ্রহণ করবে এবং অবশিষ্ট একজন হবে সম্পূর্ণ সুস্থ শিশু।

এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় হচ্ছে কোন থ্যালাসেমিয়া বাহক ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন বাহকের বিয়ে না হওয়া। কারন আমার জানামতে থ্যালাসেমিয়ার জন্য এখনো কোন শক্তিশালী প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। সে কারণে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে পুরুষ-নারী উভয়েরই রক্ত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি থ্যালাসেমিয়ার বাহক আছে। এবং প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৩-৬ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহন করছে। এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো অত্যাবশ্যক যে, থ্যালাসেমিয়া আসলে কী এবং কেনই বা প্রয়োজন এত সতর্কতা?

এভাবে বিভিন্ন রোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রক্তের ক্ষেত্রে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে, নাও হতে পারে। সমস্যা হলেও ক্ষেত্রবিশেষে সেটা ভিন্ন হবে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যা জানি তা শেয়ার করলাম। বিস্তারিত ব্যাপারগুলো ফোরামের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞজনরা শেয়ার করলে খুশি হব।

Flickr     500px    Facebook     SRS    Twitter

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৯-০৯-২০১০ ১৭:৫৬)

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

@বাবুকস ভাই: আপনাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই, আপনাদের ব্লাডগ্রুপ কম্বিনেশন সঠিক আছে।
Rh সেরো-নেগেটিভ/পজিটিভ এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইন্জেক্সনের ব্যাপারটা আগের পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

একই ব্লাড গ্রুপের পজেটিভ আর নেগেটিভ ওয়ালাদের বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। সেটা নির্ভর করে স্বামী/স্ত্রী কোন এন্টিজেন বহন করছে। মোট কথা স্বামী যদি পজিটিভ রক্ত বহন করে এবং স্ত্রী নেগেটিভ তাহলে অবশ্যই সমস্যা হবে... সমস্যা এক্ষেত্রে স্ত্রীরও হতে পারে আবারও বাচ্চারও হতে পারে। বাচ্চার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে স্বামীর রক্ত নেগেটিভ হলে তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত (অতিরিক্ত এন্টিজেন থাকলেতো  ) এন্টিজেন স্ত্রীর রক্তে প্রবেশ করার সুযোগ নেই বলে কোনোপ্রকার সমস্যা হয় না।

এখানে একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। স্বামী Rh +ve এবং স্ত্রী Rh -ve হলেই সবসময় দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এদের সন্তানের ব্লাডগ্রুপ কি সেটাই মূল ফ্যাক্টর। এই ধরণের দম্পতির ক্ষেত্রে ৫০-৫০ চান্স আছে সন্তানের সেরোপজিটিভ বা সেরোনেগেটিভ হবার।

সন্তান যদি সেরোনেগেটিভ হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। অন্য আর দশটা সাধারণ প্রেগনেন্সীর মতই কন্টিনিউ হবে।

আর যদি বেচারা বাকি ৫০%-এ পড়ে যায়, অর্থাৎ শিশুর রক্ত Rh +ve - সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেই হবে।

সাধারণত: পৃনেটাল চেকআপে গেলে প্রথম দিকেই মা'র ব্লাডগ্রুপ টেস্ট করে নেয়া হয়। মা'র গ্রুপ যদি নেগেটিভ পাওয়া যায়, তখন পিতার ব্লাডগ্রুপও টেস্ট করা হয়। চিকিৎসক যদি রিস্ক আছে বলে মনে করেন (যেমন পিতার পজিটিভ পাওয়া গেলো), তখন প্ল্যাসেন্টা থেকে রক্ত নিয়ে বাচ্চার ব্লাডগ্রুপও নির্ণয় করা হয়।

বাচ্চার গ্রুপই আসল - এটাই নির্ধারণ করে প্রেগনেন্সীটা রিস্কী নাকি নরমাল, চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি নেই।

Calm... like a bomb.

১১

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

শিমুল এবং ইনভারব্রাস ভাই, দুজনকেই ধন্যবাদ নিশ্চিন্ত করার জন্য। বেশ ভালো দুশ্চিন্তায় ছিলাম।

১২

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

আমার B+ রক্তের গ্রুপ মুই কি করুম আমার কি কোন সমস্যা আছে। তারাতারি কন ওদিকে নিশ্চিন্ত করা লাগবে তো  crying crying crying

১৩

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

আশিফ শাহো লিখেছেন:

আমার B+ রক্তের গ্রুপ মুই কি করুম আমার কি কোন সমস্যা আছে। তারাতারি কন ওদিকে নিশ্চিন্ত করা লাগবে তো  crying crying crying

ওদিকের গ্রুপের কি অবস্থা সেটাও তো জানাবেন?

Calm... like a bomb.

১৪

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

invarbrass লিখেছেন:
আশিফ শাহো লিখেছেন:

আমার B+ রক্তের গ্রুপ মুই কি করুম আমার কি কোন সমস্যা আছে। তারাতারি কন ওদিকে নিশ্চিন্ত করা লাগবে তো  crying crying crying

ওদিকের গ্রুপের কি অবস্থা সেটাও তো জানাবেন?

lol2  lol2  lol2

১৫

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। টপিকটি খোলার পর এই নিয়ে অনলাইনে বেশ কিছুক্ষণ ঘাঁটাঘাঁটি করে আরেকটি তথ্য জানতে পারি সেটি হচ্ছে, যাদের ব্লাড গ্রুপ এবি পজেটিভ তাদের ইউনিভার্সাল রেসিপিয়েন্ট বলা হয়। অর্থাৎ তারা যে কোন গ্রুপেরই ব্লাড নিতে পারে। এই বিষয়ে অবশ্য ইনভারব্রাশ ভাই পূর্বেই লিখেছেন।

আমার ব্লাড গ্রুপ ও নেগেটিভ নয়, বি পজেটিভ। আসলে একটি টিভি সিরিজ দেখছিলাম, লস্ট। সিরিজটির একটি পর্বে একটি ছেলে গুরুতর আহত হলে তাকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়, কিন্তু ঐ গ্রুপের রক্ত কারও সাথে ম্যাচ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ছেলেটিকে ও নেগেটিভ রক্ত দেওয়া হয়। সেখান থেকেই প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। অনলাইনে এই বিষয়ে ঘেঁটে ঠিক মজা পাচ্ছিলাম না। অবশেষে এই টপিকের স্মরণাপন্ন হই। এদিকে সকালে আব্বুকেও এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করি এবং বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাই। উল্লেখ্য, আব্বু একটি ফার্মাসিটিউক্যালস কোম্পানিতে চাকুরি করে।

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

invarbrass লিখেছেন:
আশিফ শাহো লিখেছেন:

আমার B+ রক্তের গ্রুপ মুই কি করুম আমার কি কোন সমস্যা আছে। তারাতারি কন ওদিকে নিশ্চিন্ত করা লাগবে তো  crying crying crying

ওদিকের গ্রুপের কি অবস্থা সেটাও তো জানাবেন?

ইযে মানে জানি না তয় কোন গ্রুপ হলে কি হবে একটু কবেন?

১৭

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

আশিফ শাহো লিখেছেন:

ইযে মানে জানি না তয় কোন গ্রুপ হলে কি হবে একটু কবেন?

ভাই সব তো উপরেই দেওয়া আছে... কষ্ট করে উপরে আমার আর ইনভারব্রাশ ভাইয়ের লেখা গুলো পড়েন। আপনি নিজেই সব বুঝতে পারবেন। আমার মনে হয়না এর চেয়ে সহজ করে কাউকে রক্তের এই ব্যাপারগুলো বুঝানো যাবে।

Flickr     500px    Facebook     SRS    Twitter

শিমুল১৩'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

শিমুল১৩ লিখেছেন:

ভাই সব তো উপরেই দেওয়া আছে... কষ্ট করে উপরে আমার আর ইনভারব্রাশ ভাইয়ের লেখা গুলো পড়েন। আপনি নিজেই সব বুঝতে পারবেন। আমার মনে হয়না এর চেয়ে সহজ করে কাউকে রক্তের এই ব্যাপারগুলো বুঝানো যাবে।

আমারও একই প্রশ্ন।
আমার তো বি+। তার মানে বি-  ওয়ালিদের এড়িয়ে চললেই হবে।  tongue

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

ভাই আমার A+ পজিটিভ আমার কি করা উচিত । আমি কি শুধু A- এড়িয়ে চলব? নাকি আর কোনো প্রব্লেম আছে?

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনিয় তাছবিহ হলো "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম"

২০

Re: ও নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ এবং দুটি প্রশ্ন

জ্ঞান পাগলা লিখেছেন:

ভাই আমার A+ পজিটিভ আমার কি করা উচিত । আমি কি শুধু A- এড়িয়ে চলব? নাকি আর কোনো প্রব্লেম আছে?

সকল নেগেটিভকেই এড়িয়ে চলা উচিত। তবে দৈবাৎ নেগেটিভ কারো পাল্লায় পড়ে গেলে আমরা হবু ডাক্তাররা তো আছিই। এতো চিন্তার কিছু নাই। আসলে ইউনিভার্সাল ডোনার বা রেসিপিয়েন্ট বাস্তব জগতে ব্যবহৃত হয় না।