সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শান্ত বালক (১২-০৮-২০১০ ০০:১৭)

টপিকঃ মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নিয়তের সঙ্গে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহারসহ যাবতীয় অন্যায়-অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাকেই রোজা বা সিয়াম সাধনা বলে।

ইসলামের পঞ্চভিত্তির তৃতীয় ভিত্তি হলো রোজা, প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নর-নারীর প্রতি মাহে রমজানের রোজা পালন করা ফরজ। একজন মুসলমানের জন্য নামাজ যেমন ফরজ, ঠিক তেমনিভাবে রমজান মাসের রোজা পালন করাও ফরজ।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা তোমাদের প্রতি আমি মাহে রমজানের রোজাকে ফরজ করেছি। যেমন ফরজ করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতি। এতে আশা করা যায় যে, তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারবে।’ (আল-কুরআন)

রোজা রাখার প্রথম বা পূর্বশর্ত হচ্ছে নিয়ত। সহি নিয়ত ছাড়া রোজা কবুল হয় না। ইসলামে সৎকাজে নিয়ত করাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নিয়তকে গুরুত্ব দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি কাজে দেহ ও আত্মার সমন্বয় সাধন করে কাজটিকে সর্বাধিক বাঞ্ছিত মানে উত্তীর্ণ করা। তাই রোজা রাখার পূর্বে অন্তরের অন্তস্হল থেকে নিয়ত করা অবশ্যই করনীয়।

মানব জীবনে নিয়তের গুরুত্ব অনেক। রাসূল (সা:) বলেন,
إﻧﻤﺎ اﻷﻋﻤﺎل ﺑﺎﻟﻨﻴﺎ ت
প্রত্যেকটি আমল(কর্ম) নিয়তের উপর নির্ভরশীল বা সকল কাজের ফলাফল নিয়ত অনুযায়ী পাবে। (বুখারী ও মুসলিম)

রোজার নিয়ত:

নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিনশাহরি রামাদ্বনাল মুবারাকি ফারদ্বাল্লাকা ইয়া আল্লাহ ফাতাক্বাববাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামীয়ু'ল আ'লীম।

ইফতারের দোয়া:

আল্লাহুম্মা ছুমতুলাকা ওয়া তাওয়াক্কালতু আ'লা রিজক্বিকা ওয়া আফতারতু বি রাহমাতিকা ইয়া আর্ হামার রাহিমীন।


যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ:

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক (বালেক) সুস্হ মস্তিষ্কের অধিকারী মুসলমান নর-নারীর উপর মাহে রমজানে রোজা রাখা ফরজ। তবে যারা প্রচন্ড অসুস্হ অর্থাৎ রোজা রাখলে কষ্টকর হয় তাদের উপর কিছুটা শিথীল করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া রোজাগুলি আদায় করে নিবেন। আর কেহ যদি একেবারে বৃদ্ধ হয়ে যায় যে, তারপক্ষে রোজা রাখা সম্ভব নয় তার উপর অর্পিত রোজার পরিবর্তে নির্দিষ্ট নিয়মে কাফফারা আদায় করলেও চলবে।

রোজা ভঙ্গের কারন সমুহ:
*সজ্ঞানে আহারদি করলে।
*রোজা অবস্হায় মুখ ভবে বমি হলে। অল্প বমি হলে রোজা ভঙ্গ হবে না কিন্তু তা আবার গিলে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
*ভুলবশত: পানাহার করে তাতে রোজা নষ্ট হয়েছে বিবেচনা করে পানাহার করলে।
*কুলি করার সময় গলার ভেতরে পানি চলে গেলে।
*মাথায় এবং পেটে ঔষুধ লাগানোর পর তার তেজ মস্তক ও পেটে ঢুকলে।
*রাত্রি আছে মনে করে কিছু খেলে এবং সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে বেলা থাকা অবস্হায় ইফতার করলে।
*ঔষুধ সেবন করলে।
*সহবাস করলে
উপরে বর্নিত কারনে রোজা ভেঙ্গে গেলে সেক্ষেত্রে রোজার কাযা আদায় করলেই চলবে।
তবে নিম্নোক্ত কারনে রোজা ভাঙ্গলে কাযা আদায়ের পাশাপাশি কাফফারাও দিতে হবে:
*বিনা ওযরে অর্থাৎ কোন কারন ছাড়া রোজা ভেঙ্গে ফেললে।
*রোজা রাখা অবস্হায় সহবাস করলে।
*ইচ্ছা করে ঔষধ সেবন করলে।

যে সকল কাজ রোজা ভঙ্গের কারন না:
*মনের ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে। তবে বোঝামাত্র মুখের মধ্যে যা খাবার জাতীয় আছে সাথে সাথে সব ফেলে দিতে হবে।
*চোখে সুরমা ব্যবহার করলে।
*হঠাৎ(অনিচ্ছাকৃত) ধূলা, মশা-মাছি বা কিছু কোন কারনে গলায় ঢুকলে।
*হঠাৎ(অনিচ্ছাকৃত) কানে পানি ঢুকলে।
*কন্ঠ পর্যন্ত বমি উঠে তা আবার মিম্নে নেমে গেলে।
*মুখের থুথু গিলে ফেললে।
*তৈল মালিশ করলে।
*স্বপ্নদোষ হলে।

যে যে পরিস্হিতিতে রোজা ভাঙ্গা জায়েজ আছে:
*অসুস্হ ব্যক্তি রোজা থাকা অবস্হায় তার রোগবৃদ্ধি পেলে বা পীড়া বৃদ্ধির আশংকা দেখা দিলে।
*বয়স বেশী হবার কারনে অত্যন্ত দুর্বল ও দৈহিক খারাপ অবস্হা দেখা দিলে।
*গর্ভবতী মহিলার গর্ভের সন্তানের ক্ষতির আশংকা দেখা দিলে।
*মুসাফির অবস্হায় থাকলে।
*সাপে দংশন করলে।
*মহিলাদের হায়েজ-নেফাছ হলে।
*ক্ষুধা-তৃষ্নায় মৃত্যুর আশংকা দেখা দিলে।

রোজার সুন্নত সমুহ :

*সর্বদা নেক কাজে রত থাকা।
*শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গের রোজা অর্থাৎ হাত, পা, নাক, কান, চোখ,মুখ, জিহবা এবং অন্তরের রোজা পালন করা। অর্থাৎ সকল প্রকার খারপ কাজ থেকে নিজেকে সংযত রাখা।
*দান-খয়রাত করা।
*সাহরী খাওয়া সুন্নত। যদি ক্ষুধা না থাকে, তাহলে অন্তত ২/৩টি খুরমা/খেজুর এবং এক ঢোক হলেও পানি পান করে সাহরী করা সুন্নত।
*রমজানের রাত্রিতে তারাবিহ্ নামাজ আদায় করা।
*সব সময় দোয়া, তাছবীহ, কুরআন তেলাওয়াতে রত থাকা।
*তারাবীহ নামাজে কুরআন শরীফ পাঠ করা বা শ্রবন করা।
*সঠিক সময়ে ইফতার করা।
*ইতিকাফ করা।

সহি হাদিস :

হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা বলেন -আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় বান্দা তাহারাই যাহারা ইফতার করিতে দেরী করে না। (তিরমিযী)

মহানবী (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজদারকে ইফতার করাইবে যে রোজদারের সমতুল্য সওয়াব পাইবে -তবে এই সওয়াব অন্য ধরনের, ইহাতে রেজদারের সওয়াবের কিছুমাত্র লাঘব হইবে না। (তিরমিযী)

রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা কারনে বিনা অসুখে রমজান মাসের কোন একটি রোজা ভঙ্গ করে সে সারা জীবন রোজা রাখিলেও তাহার এই রোজার কাযা আদায় হবে না। (বুখারী)

মহানবী (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে কথা ও বর্জনীয় কাজ হতে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না -তার পানাহার ত্যাগ করার কোনই মূল্য নাই। (বুখারী)

সদকায়ে ফিতরা :

সঙ্গতিসম্পন্ন (যে ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যকীয় উপকরন ব্যতীত যাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিমান মালের মালিক) রোজদারের উপর তার নিজের পক্ষ হতে এবং নাবালক পুত্র-কন্যাদের পক্ষ হতে এবং দাস-দাসীর পক্ষ হতে ঈদের দিন ফিতরা দেয়া ওয়াজিব।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সহি নিয়তে রোজা রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

খুবই দরকারী এবং সময়োপযোগী পোস্ট।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই সবগুলো রোজা সহীহ নিয়মে পালন করবে।

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

তারাবীহ'র নামাজ সম্বন্ধে কেউ যদি বলতেন smile
খতম তারাবীহ ২০ রাকাআত পড়া খুব কঠিন hairpull

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শান্ত বালক (১২-০৮-২০১০ ০৩:৩৯)

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

তারেক হাসান লিখেছেন:

তারাবীহ'র নামাজ সম্বন্ধে কেউ যদি বলতেন smile

ভাই, যতো জায়গায় তারাবীহ নামাজ সম্বন্ধে পড়েছি সবচেয়ে ভাল লেগেছে নিচের লিংকের লেখা
http://www.rongmohol.com/viewtopic.php?id=5357
http://articles.ourislam.org/articles/4 … Page1.html এই লেখাটাও পড়তে পারেন।
ধন্যবাদ।

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

খুব ভাল পোস্ট।

আল্লাহ আপনি মহান

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

ধন্যবাদ। সকলের কাজে আসবে। আর কষ্ট করে লেখার জন্য+

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

ধন্যবাদ শান্ত বালক। খুবই সময়োপযোগী পোস্ট।

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

ধন্যবাদ শান্ত ভাই খুবই ভাল লাগল

Re: মাহে রমজান : জ্ঞাতব্য বিষয়

অনেক ভালো পোস্ট। ধন্যবাদ... thumbs_up

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...