টপিকঃ ব্রাজিলকে কক্ষপথে ফেরাতে তৈরি মেনেজেস

http://j.imagehost.org/0564/image_236_75773.jpg

অভিনন্দন : বিদায় কখনো-সখনো কতই না মধুর হয়! ছবিটিই তার প্রমাণ। করিন্থিয়ান্স থেকে বিদায় নিয়ে মানো মেনেজেস এখন ব্রাজিলের কোচ। সেই ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির রোনালদো, রবার্তো কার্লোসসহ অন্যরা তাঁকে জানাচ্ছেন শুভ কামনা। মেনেজেস কোচ হওয়ায় এই দুই কিংবদন্তির আবার জাতীয় দলে খেলার ধূসর স্বপ্নটি কি একটু রং ফিরে পেল?


কোচ হিসেবে মাত্রই ঘোষণা করা হয়েছে মানো মেনেজেসের নাম। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন তাই। হঠাৎ হুড়মুড় করে সেখানে উপস্থিত রোনালদো, রবার্তো কার্লোসরা। বিশ্বজয়, ইউরোপজয় করে ক্যারিয়ার সায়াহ্নে যাঁরা ফিরে এসেছেন ঘরের ক্লাব করিন্থিয়ান্সে। ক্লাবটির প্রেসিডেন্টকে সঙ্গী করে তাঁরা অভিনন্দন জানাতে এলেন সদ্যই অতীত হয়ে যাওয়া তাঁদের কোচকে। ব্রাজিলিয়ান এ ক্লাব ছেড়ে যে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন মেনেজেস!
গ্রেমিও-করিন্থিয়ান্সের হয়ে মেনেজেসের বিস্তর সাফল্য। বিশেষত 'ত্রাতা'র ভূমিকায়। ব্রাজিলের জনপ্রিয় এ ক্লাব দুটি দ্বিতীয় বিভাগ থেকে উঠে এসে পরাশক্তি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে তাঁর হাত ধরেই। এবার ব্রাজিলকে কক্ষপথে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ। কাজটি যে বহু গুণ কঠিন, মেনেজেসের সেটি না জানার কথা নয়। আর কে না জানে, ব্রাজিলের কোচের আসন মানেই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে অনুক্ষণ বাস। কিংবদন্তি ফ্যালকাওয়ের উদাহরণ নিশ্চয়ই ভুলে যাননি তিনি। '৯০-এর বিশ্বকাপে ব্রাজিল যাচ্ছেতাই রকম ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের শরণাপন্ন হয়েছিল ফুটবল ফেডারেশন। বছরখানেকের মধ্যেই ফ্যালকাওয়ের 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি' অবস্থা। রোনালদো-কার্লোসদের অভিনন্দন আর শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছাবার্তা যে মেনেজেসের রক্ষাবর্ম হবে না, সেটি তিনি ভালোই বোঝেন। গ্রেমিও-করিন্থিয়ান্সের মতো ব্রাজিলেরও ত্রাতা হতে হবে তাঁকে। নইলে ফ্যালকাওয়ের ট্র্যাজেডি। ভ্যান্ডারলি লুক্সেমবার্গো, এমারসন লিয়াওদের পরিণতি।
কী যে হবে, সেটি জানে মহাকাল। মেনেজেস সমর্থকদের জানালেন চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে থাকার কথা, 'আমাকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, পুরো ব্রাজিলের জন্য আমি তাতে সানন্দে সম্মত হয়েছি। দেশের সব কোচের স্বপ্ন জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া। আমার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর এখন আমি চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।' কনফেডারেশন অব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের (সিবিএফ) সঙ্গে আলোচনার সারমর্মও দিয়েছেন মেনেজেস, 'প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো টিসেইরার সঙ্গে আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমিও জানতে চেয়েছি প্রজেক্ট। দুই পক্ষ সন্তুষ্ট হওয়ায়ই আমার এ দায়িত্ব গ্রহণ।' সিবিএফের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও আছে এ আলোচনার বর্ণনা। তাতে মেনেজেসের ব্রাজিল দলের একটি রূপরেখাও দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, 'কথোপকথনে মানো মেনেজেস যে সাহসিকতা ও অদম্য ইচ্ছের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে টিসেইরা খুব সন্তুষ্ট। ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে সফল হওয়ার জন্য তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পুনর্গঠনপ্রক্রিয়ায় মেনেজেসের দলে শুধু প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশই থাকবে না, থাকবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতিচ্ছবিও। প্রাণবন্ত ফুটবল খেলবে দল। আর দলে থাকবে প্রতিভার ছড়াছড়ি। সমর্থক ও সাংবাদিকরা ঠিক যেমনটা দেখতে চান।'
স্বয়ং টিসেইরাও নতুন কোচকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নতুন যুগে প্রবেশের কর্ণধার বলে মানছেন। অথচ তিনি কিন্তু প্রথম পছন্দ ছিলেন না। জনমতে এগিয়ে ছিলেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী লুই ফেলিপ স্কলারি; সিবিএফের মনোনয়নের শীর্ষে রামালহো মুরিসি। স্কলারি আগেই অপারগতার কথা জানিয়েছেন; ক্লাব দল ফ্লুমিনেন্স না ছাড়ায় রামালহোও। রামালহো প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পরই না মেনেজেসের দ্বারস্থ সিবিএফ। তবে এ নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নন তিনি, 'আসলে ব্যাপারটা উল্টো। আমি খুব গর্বিত। কেননা ব্রাজিলে অন্তত জনা পঞ্চাশেক শীর্ষমানের কোচ আছে। এর মধ্যে যদি আমি পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয়তে থাকি, মন্দ কী! আর রামালহোর মতো একজন, যাকে কোচ ও ব্যক্তি হিসেবে আমি শ্রদ্ধা করি, তার পেছনে থাকায় কোনো গ্লানি নেই। উল্টো আমি ভীষণ আনন্দিত।'
আনন্দের বাতাবরণে ঢেকে নেই ব্রাজিলের সমর্থকরা। এমনিতে এ নতুন পাঞ্জেরি ব্রাজিলের বাইরে খুব পরিচিত নন। ব্রাজিলেও বাঁধনহারা আক্রমণাত্দক ফুটবলের পূজারি হিসেবে মেনেজেসের সর্বজনবিদিত সুনাম নেই। গ্রেমিও-করিন্থিয়ান্সকে এনে দেওয়া মেনেজেসের সাফল্য মূলত জমাট রক্ষণকে ভিত্তি করে। দুঙ্গা-উত্তর যুগে কি তাহলে আরেক 'দুঙ্গা'র হাতেই পড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল? এসব নিয়ে কথা বলার জন্য পরদিন তাঁর আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনের সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে বলেছেন মেনেজেস, 'সব সমর্থকের উদ্বেগ ও আগ্রহ আমি বুঝি। তবে সিবিএফের সঙ্গে মিলে ঠিক করেছি, জাতীয় দলের পরিকল্পনা, কোচিং স্টাফ, খেলার ধরন_এসব নিয়ে আমি আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনের সময় কথা বলব।'
আগ্রহ মেটানোর জন্য তাই একটু অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের। তবে অপেক্ষা শেষে আগ্রহ মিটলেও উদ্বেগ দূর হবে কি না, কে জানে?

Everything is Possible.
Something is little difficult, but not Impossible.

Re: ব্রাজিলকে কক্ষপথে ফেরাতে তৈরি মেনেজেস

thumbs_up
কিচ্ছু করার নেই ভাই!! ২০১৪ এর কাপ টা লাগবেই !!
শুভ কামনা রইল এখন থেকেই পরবর্তী খেলা গুলর জন্য !
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

আসেন, নিজের চরকায় তেল দেই!!

http://www.speedtest.net/result/1068474204.png  big_smile