টপিকঃ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে মেলালেন মেসি

ঘরের শত্রু বিভীষণ! ১০ বছর বয়সী সন্তান রোনালদকে এখন এ অভিধা দিতে পারেন রোনালদো। বাবা ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন, অথচ সে কিনা এক আর্জেন্টাইনের পাঁড় ভক্ত! তাও কার? লিওনেল মেসি। ওই 'স্বপ্নের তারকা'র পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় কী আনন্দ ছোট্ট রোনালদের! বাবা রোনালদোকে তখন নিজের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য ছেলেকে শুনিয়ে সাংবাদিকদের বলতে হয়, 'লিও তো মাত্র একবার ফিফা বর্ষসেরা হলো। আমার ট্রফি-কেসে কিন্তু ওই পুরস্কার আছে তিনটি!'
পুরোটাই মজা। শতভাগ বিনোদন। কঠোর পেশাদারী ফুটবলার জীবনের ফাঁক গলে এক প্রস্থ ঝিরঝিরে হিমেল হাওয়ার মতো। কাল সাও পাওলো রাজ্যের ইনদায়াতুবা স্টেডিয়াম বনে গিয়েছিল যেন এমনই আনন্দ-রাজ্য। উদ্দেশ্যটা মহৎ_ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া পর্তুগিজ তারকা ডেকো ওখানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ডেকো ২০ ইনস্টিটিউট। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ফুটবলে হাতিখড়ি দেওয়া হয় সেখানে। ওই প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের জন্য ডেকোর বন্ধু বনাম বাকি বিশ্ব নামে দুটি দল খেলে চ্যারিটি ম্যাচ। ৩-৩-এ ড্র হওয়া খেলায় রেজাল্টটি কতই না অগুরুত্বপূর্ণ! বরং ব্রাজিলের ফুটবল-গালিচায় মেসির প্রথম পদধূলি, ছেলে রোনালদকে নিয়ে হঠাৎ রোনালদোর হাজির হওয়া, আরেক কিংবদন্তি রিভেলিনোর ড্রিবলিংয়ে মেসির মুগ্ধতা_এমনসব টুকরো টুকরো ছবিই গেঁথে থাকবে স্মৃতির ক্যানভাসে।
দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে আসেন মেসি। গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি মাঠে। লাউড স্পিকারে তাঁর আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়ামপূর্ণ ১১ হাজার দর্শক। এরপর যতবারই খুদে জাদুকর বল ধরেছেন, করেছেন কারিকুরি_ততবারই দর্শককুলের হর্ষধ্বনি। মাঠে '৭০-এর সর্বজয়ী দলের রিভেলিনো ছিলেন, ছিলেন কারেকার মতো প্রজন্মসেরা স্ট্রাইকার; ডেকো, অ্যামোরোসো, ভ্যাম্পেটা, লুইজাও, রক জুনিয়র, সিলভিনহো, রিংকনরাও কম আলো ছড়াননি। তবে সব ছাপিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় মেসি। 'আমি বিস্মিত। আনন্দিতও। ব্রাজিলে যে এত লোক আর্জেন্টিনার জার্সি পরে স্টেডিয়ামে আসবে_ভাবতেই পারিনি। ব্রাজিলিয়ান দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি সত্যি খুব খুশি। সময়টা দারুণ কেটেছে'_বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলে ছুটি কাটাতে আসা ফিফার বর্তমান বিশ্বসেরা এভাবেই জানিয়েছেন তাঁর অনুভূতি।
দর্শকরা আরেক প্রস্থ মুহুর্মুহু করতালিতে ফেটে পড়েন রোনালদো মাঠে আসায়। ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক চিরসখা ইনজুরির বৈরিতায় এখন মাঠের বাইরে। এ ফাঁকে ছেলে রোনালদকে মেসি-দর্শন করাতে নিয়ে এলেন। সেখানেই ওই কৌতুককর কথোপকথন। মেসিকে জড়িয়ে ধরে তাঁকে শুভেচ্ছাও জানালেন রোনালদো। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফুটবল-সম্প্রীতির এক চিরন্তন ছবি হয়ে থাকল তা।
http://a.imagehost.org/0041/image_230_74013.jpg

মেসির কীর্তি টেলিভিশনে নিশ্চয়ই দেখেছেন রিভেলিনো। তবে চর্মচক্ষে সরাসরি দেখলেন এই প্রথম। তাতে মুগ্ধ তিনি। এ আর্জেন্টাইনকে সেরাদের সেরার কাতারেই রেখেছেন পেলে-টোস্টাও-গারসনদের সতীর্থ, 'ও তো দেখি একেবারে ছোটখাটো। গ্রেট ফুটবলাররা এমনই হয়। পেলে, ম্যারাডোনা, গারিঞ্চা_কেউই খুব লম্বা ছিল না। আকারে ছোট হলেও তারা সবাই দুর্দান্ত ফুটবলার। মেসিও তা-ই।' কিংবদন্তি এ ড্রিবলার খেলা ছেড়েছেন সেই কবে! তবু তাঁর ড্রিবলিং-জাদুতে এখনো মোহিত খোদ মেসি। তাঁর কাছ থেকে টিপস নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন এ আর্জেন্টাইন, 'বিস্ময়কর সব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষত রিভেলিনোর ড্রিবলিং তো অসাধারণ! তাঁর মতো ড্রিবলিং করার জন্য আমি কঠোর অনুশীলন করব। কিছু টিপস দিয়েছেন তিনি। সেগুলো কাজে লাগাতে পারি কি না, দেখি।'
মাঠের খেলায় অবশ্য বিশ্বকাপের দশা ছিল মেসির। ঝলমলে পারফরম্যান্স; তবে গোলহীন। দ্বিতীয়ার্ধে বল একবার জালে পাঠিয়েছিলেন। অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তা। শুধু তাই নয়, বাঁশি বাজানোর পরও বল গোলে ঠেলায় রেফারি হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেখিয়েছেন মেসিকে। এর পরপরই উঠে যান 'দ্য ফ্লি'। এ নিয়েও মজা করতে ছাড়েননি রেফারি টাটা, 'আমি অফসাইডের বাঁশি বাজানোর পরও সে গোল দিয়েছে। হলুদ কার্ড না দেখিয়ে উপায় ছিল না। আমার মনে হয়, লিও লাল কার্ডের ভয় পাচ্ছিল। তাই তো সে উঠে গেল।'
বিশ্বকাপ শেষের ছুটি প্রায় শেষ। শিগগিরই 'দে ছুট' দিতে হবে বার্সেলোনা পানে। এর আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দেশে গিয়ে তাদের মন জয় করে আসাটা মেসিকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে নিঃসন্দেহে। কে জানে, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রেরণাও খুদে জাদুকরের সঙ্গী হলো কি না! ওয়েবসাইট

দুই সেরা
ছেলে মেসিভক্ত। আর তাই রোনালদো ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন মাঠে। তাতে দেখা হলো দুই সেরার। ক্যারিয়ার প্রায় শেষ করে ফেলা রোনালদো তাঁর সময়ে ছিলেন বিশ্বসেরা। আর মেসি বর্তমানের। দুজনেরই এ সাক্ষাৎ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জন্যও যেন একটা সম্প্রীতির গান।
লিংক...http://www.kalerkantho.com/

খুবিই ভালো লাগে নামীদামি খেলোয়াড়দের মধ্যে এরকম বন্ধুসুলভ আচারন দেখে......থাক্সস মেসি clap clap clap clap clap

Everything is Possible.
Something is little difficult, but not Impossible.

Re: ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে মেলালেন মেসি

এরকম পোষ্টগুলো আমাদের রাজনীতিবিদদের পড়ানো দরকার। খুব শিঘ্রই সংসদে এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হবে, আপনারা ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন।  big_smile  lol

Allah is a better planner... so whenever u'r plan fails, cheer up... Allah has a better plan for you

Shahanur79'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে মেলালেন মেসি

আরো কিছু ছবি দিলে জোসস হইত!  big_smile

আমার সবচেয়ে ফেভারিট দুজন স্ট্রাইকার!!!  big_smile একসাথে দেখে জোসস লাগছে!  yahoo

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD