টপিকঃ সুন্দর ফুটবল খেলতে গিয়ে ২৪ বছর বিশ্বকাপ জিতিনি-দুঙ্গা

আরও একটা বিশ্বকাপে আপনি ব্রাজিলের কোচ। কেমন লাগছে?
এর চেয়ে অসাধারণ আর কিছু হয় না। আবার আমি ব্রাজিলের সঙ্গে বিশ্বকাপে। এ আনন্দ বুঝিয়ে বলা যাবে না। তবে একই সঙ্গে দায়িত্বও প্রচুর।
সাধারণত ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা ট্রফি ছাড়া বাকি সবই ব্যর্থতা বলে মনে করে। এটা কি বিশাল চাপ নয়?
আমরা ব্রাজিলিয়ানরা মনে করি আমরাই সেরা ফুটবল খেলার দেশ। তাই প্রতি চার বছর পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা দেখতে চাই। প্রতিবারই এ একটি লক্ষ্য নিয়েই খেলি। তাছাড়া আমরা ফুটবল খেলি সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে। তাই প্রত্যাশা সবসময় বেশিই থাকে। আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের সেরাটাই ঢেলে দেব।
২০০৬ সালে ফেভারিট হওয়ার পরও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। তারপর দায়িত্ব নেন আপনি। এখন আপনার কাঁধেও চূড়ান্ত সাফল্যের চাপ। কীভাবে সেটা দেখছেন?
বিশ্বকাপে আগে থেকেই কিছু বলা সম্ভব নয়। সে জন্যই এটি নিয়ে এত আগ্রহ এবং উত্তেজনা। কিন্তু ফেভারিট মানেই আপনি চ্যাম্পিয়ন হবেন এমন কথা বলা যাবে না। মাঠে নেমে সেটা করে দেখাতে হবে।
চার বছরে আপনি প্রচুর সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু তারপরও আপনার অধীনে ব্রাজিলের খেলার স্টাইল দেখে অনেকেই খুশি নয়। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
আমি শুধু সমালোচনাকারীদের এটুকু বলতে পারি, গত বছর আমরা ফিফা কনফেডারেশন কাপ জিতেছি। তার আগের বছর জিতেছি কোপা আমেরিকা। অলিম্পিকেও আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আমরা লাতিন আমেরিকা গ্রুর্পে শীর্ষস্থান দখল করেছিলাম। কাজেই আমি এখনতক যথেষ্ট তৃপ্ত। কিন্তু আগেই বলেছি, বিশ্বকাপ জিততে না পারলে এসবের কোনোই দাম নেই ব্রাজিলে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী এক মাস আমাদের কাছে কঠিনতম সময়।
সন্দেহ নেই আপনি সফল কোচ। কিন্তু সমালোচনা হচ্ছে ব্রাজিল এখন প্রতি আক্রমণনির্ভর দল হয়ে গেছে। আগের সেই ‘সুন্দর ফুটবল’ নেই
সৌন্দর্যের ওপর জোর দিতে গিয়ে আমাদের আরেকটি বিশ্বকাপ জিততে ২৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে আমরা যখন বিশ্বকাপ জিতলাম, সেই দলের খেলা কিন্তু ততটা দর্শনীয় ছিল না। কিন্তু ট্রফিটা আমরাই বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। সেটাই আসল কথা। বিশ্বকাপে হারার যন্ত্রণা আমি বুঝি। কারণ সেই অভিজ্ঞতা আমারও আছে। একই সঙ্গে জেতার আনন্দও জানি। আমি বিশ্বাস করি, ট্রফি জয়ের চেয়ে কেউই সুন্দর ফুটবলকে এগিয়ে রাখবে না। সুন্দর ফুটবল খেলতে গিয়ে যদি ট্রফিটা না জিতি তাহলে কি সবাই খুশি হবেন।
তাহলে দল বাছায় কী তারই প্রতিফলন ঘটেছে? যেখানে দেখনদারী ফুটবলারের চেয়ে কার্যকর খেলোয়াড় বেশি।
আমি এমন ফুটবলারই বেছেছি, যারা মাঠে নেমে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। গত চার বছর তারা সেটাই করছে। বিশ্বকাপেও তাদের সেটাই করতে হবে। প্রত্যেককে তাদের শারীরিক সক্ষমতা এবং সর্বশেষ ফর্ম দেখে নেয়া হয়েছে। সঙ্গে বিচার করা হয়েছে মাঠে সাংগঠনিক দক্ষতা, টেকনিক এবং প্রতিভাকেও।
রোনালদিনহো ইতালিয়ান লীগে বেশ ভালো খেলেছেন। তার অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগত না?
দল গড়ার সময় ও অবুশ্যই আলোচনায় ছিল। আমরা ওকে রিজার্ভে রেখেছি। যদি দরকার পড়ে তাহলে ওকে চূড়ান্ত দলে নিতেও পারি। তবে এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের দলে ও নেই।
পর্তুগাল, আইভরিকোস্টের সঙ্গে একই গ্রুপে ব্রাজিল। গ্রুপ অব ডেথ বলবেন কি?
দেখুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে গেলে যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। সেরা ৩২ দলই খেলবে। তাই বিশ্বকাপের সব ম্যাচই আমার কাছে কঠিন। আমাদের যে কোনো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সত্যি বলতে কি, ‘গ্রুপ অব ডেথ’ কথাটি আমার পছন্দ নয়। জিততে হলে লড়তে হবেই।
ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে কারা আপনাদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে?
অনেকেই আছে। স্পেন দারুণ ফর্মে আছে। আর আর্জেন্টিনা তো আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মেসিসহ একঝাঁক দুরন্ত প্রতিভা রয়েছে দলে। ইতালি গতবারের চ্যাম্পিয়ন। জার্মানি ইউরো রানার্সআপ। এছাড়া ইংল্যান্ডও ছেড়ে কথা বলবে না।

সূত্র- আমার দেশ

এবার সবাই সা-ব-ধা-ন ।

Re: সুন্দর ফুটবল খেলতে গিয়ে ২৪ বছর বিশ্বকাপ জিতিনি-দুঙ্গা

এবার কি অসুন্দর ফূটবল খেলে বিশ্বকাপ জিতবেন দুঙ্গা? lol

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সুন্দর ফুটবল খেলতে গিয়ে ২৪ বছর বিশ্বকাপ জিতিনি-দুঙ্গা

এইটা পড়ে মজার একটা কথা মনে হল, কিন্তু ১৮+ হইয়া যাইবো দেখে কইতে পারলাম না।

সারিম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত