টপিকঃ কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

২০০৭-০৮ সালের বাজেটে কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। তো আমরা কেন থেমে থাকব;)? আসুন আমরাও আলোচনা করি।
আপনি কি এর পক্ষে না বিপক্ষে? আপনার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিন।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

আমি কম্পিউটারের উপর শুল্ক আরোপের পক্ষে কারন কম্পিউটারের দাম বাড়লে এর অপব্যাহার কম হবে এবং এর টেক্সের শুল্কের টাকায় দেশ ভালো ভাবে চলবে। আর আমি কম্পিউটারের উপর শুল্ক আরোপের বিপক্ষে কারন কম্পিউটারের দাম কমলে সাধারন ছাত্র ছাত্রীরা কম্পিউটার বিষয়ে লেখা পড়ার সুযোগ পাবে।

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

বিপক্ষে।

১. যে কর ব্যবস্থা আছে/ছিল, সেটাই সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে আর দূর্নীতি কমলে, নতুন কর ছাড়াই দেশের রাজস্ব আয় অনেক বাড়বে।

২. সম্ভাবনাময় একটা খাত, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য এই খাতে অগ্রসর হওয়া খুব জরুরী। করারোপ বরং এর বিপরীত পন্থী।

৩. বরং এটা করা যেতো, কম্পিউটারের অ্যাডভান্সড ব্রান্ডের গ্রাফিক্স ও সাউন্ডকার্ডের উপর ১০০% ট্যাক্স দিক। কারণ আমার জানামতে (ভুল হতে পারে) হাই-ডেফিনেশনের এইসব পেরিফেরিয়াল গেম খেলা ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহৃত হয় না। ... আর যারা প্রফেশনাল কাজের জন্য এসব কিনেন, তাঁরা ট্যাক্স দিয়েই কিনতে পারবেন। আর যারা শিখতে চান, তাঁদের জন্য সাধারণ মানের কার্ডই যথেষ্ট, এ্যাত উন্নতমানের কার্ড না হলেও চলবে।

৪. উল্টা বরং ওপেন সোর্সের জন্য সরকারের তরফ থেকে ডেভেলপারদেরকে ভর্তুকী দেয়া যেতে পারে wink । সরকারের উচিৎ এসকল ডেভেলপারদের ভর্তুকী দিয়ে তাঁদের করা লোকালাইজড সফটওয়্যার ব্যবহার করাকে উৎসাহিত করা। সরকারী অফিস আদালতে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। এবং খরুচে সফটওয়্যারগুলো কিনে ব্যবহার করানো এবং এ সকল সফটওয়্যার কেনার জন্য সরকারী অর্থছাড়ের প্রক্রিয়াটা একটু জটিল করা (দক্ষ কর্মকর্তা দ্বারা  প্রয়োজনীয়তা/যৌক্তিকতা যাচাই করে, তবেই অর্থছাড়)। অফিসের সাধারণ কম্পোজিং আর মেইলের কাজে ওপেন সোর্স যথেষ্ট।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

আমি এর বিপক্ষে।কারন একটাই, এর ফলে দাম যা বেড়েছে তাতেই আমাদের অনেকের কেনার সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।;(

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বিপ্রতীপ (১৮-০৬-২০০৭ ১৬:৫৯)

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

আমি বিপক্ষে...
এমনিতেই আমাদের দেশে প্রযুক্তি পণ্যের দাম তূলনামূলক অনেক বেশি। তার উপরে এই শুল্ক আরোপ প্রযুক্তি পণ্যের প্রতি  সাধারন মানুষের উৎসাহ আরও কমিয়ে দেবে। দাম কমলে অপব্যবহার হবে কথাটি আমি পুরোপুরি মানতে পারছি না। কারণ, বাসায় একটি কম্পিউটার থাকলে গেমস, চ্যাট এর পাশাপাশি কেউ কিছু না কিছু শিখবেন...       
আমার শামীম ভাইয়ের একটি কথা ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়, সরকার যদি কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে পারে তবে কম্পিউটারে ভর্তুকি দিতে সমস্যা কোথায়? একটি দেশ কি শুধুমাত্র কৃষি দিয়েই সারা বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে পারবে...? পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেখানে দরিদ্র শিশুদের হাতেই ১০০ ডলারে ল্যাপটপ তুলে দিচ্ছে,সেখানে আমাদের দেশে ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে শুল্কের ভূত। আমাদের দেশে প্রযুক্তি বিষয়ক  গবেষণার উপর এমনিতেই তেমন একটা সরকারী বরাদ্দ নেই। তার উপর কম্পিউটারের মতো একটি প্রযুক্তি পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করাটা খুবই হতাশাজনক । এতো জ্ঞানী গুণী মানুষ মিলে এবার বাজেট করেছেন। তারা এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা  প্রযুক্তি মনস্ক যেকোন মানুষকেই হতাশ করবে । প্রযুক্তি বিভিন্ন শাখার মাঝে আইটি এমন একটি খাত যেখানে তূলনামূলক কম বরাদ্দে ভালো আউটপুট পাওয়া সম্ভব, যা প্রযুক্তির অন্য কোন খাতে সম্ভব নয়। আমাদের দেশে প্রযুক্তির অন্য খাতের কথা বাদই দিলাম (এসব নিয়ে হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া কারো তেমন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয় না )...এই আইটি খাতটি একটু আশা জাগিয়েছিল..। অথচ এই শুল্ক আরোপে কম্পিউটার মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে... sad     

 

আউল লিখেছেন:

আমি কম্পিউটারের উপর শুল্ক আরোপের পক্ষে কারন কম্পিউটারের দাম বাড়লে এর অপব্যাহার কম হবে এবং এর টেক্সের শুল্কের টাকায় দেশ ভালো ভাবে চলবে। আর আমি কম্পিউটারের উপর শুল্ক আরোপের বিপক্ষে কারন কম্পিউটারের দাম কমলে সাধারন ছাত্র ছাত্রীরা কম্পিউটার বিষয়ে লেখা পড়ার সুযোগ পাবে।

আউল ভাই, আপনার বক্তব্যটি আরেকটু পরিষ্কার করবেন কি ? 
আপনি কি পক্ষে বিপক্ষে দুটোই?

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

শামীম লিখেছেন:

বরং এটা করা যেতো, কম্পিউটারের অ্যাডভান্সড ব্রান্ডের গ্রাফিক্স ও সাউন্ডকার্ডের উপর ১০০% ট্যাক্স দিক। কারণ আমার জানামতে (ভুল হতে পারে) হাই-ডেফিনেশনের এইসব পেরিফেরিয়াল গেম খেলা ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহৃত হয় না। ... আর যারা প্রফেশনাল কাজের জন্য এসব কিনেন, তাঁরা ট্যাক্স দিয়েই কিনতে পারবেন। আর যারা শিখতে চান, তাঁদের জন্য সাধারণ মানের কার্ডই যথেষ্ট, এ্যাত উন্নতমানের কার্ড না হলেও চলবে।

শামীম ভাই,
অপব্যবহার রোধে আপনার এই মতামতটি খুব ভালো লেগেছে... thumbs_up

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অয়নবাংলা (১৯-০৬-২০০৭ ০০:১১)

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

কম্পিউটার একটি বিলাসী জিনিস। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ এটার সঠিক ব্যবহার করে না । বেশিরভাগ ই গেম্স, মুভি দেখা, গান শোনা, চ্যাটিং বা ইন্টারনেট এর জন্য ব্যবহার করে। এইকাজগুালা কে আমি বিলাসীতা বলব যখন আমার দেশের ৪৭.৫% মানুষ জাতীয় দারিদ্রসীমার নিচে

যারা সঠিক ব্যবহার করে তারা বেশিরভাগ ই দেখা যা্য় উনিভার্সিটির আগে তেমন কম্পিউটার ব্যবহার করেনি। আমি  তথ্যপ্রজুক্তির বিপখ্খে না। যার কিনার সামর্থ্য আছে আমি বিশ্বাস করি তার জন্য ১৫% বেশী কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। হ্য়তো সবচে নতুন মডেল না কিনে, একটু পুরান মডেল কিনবে

আমার কথা হয়তো আনেকের ভাল লাগবে না, তবু ও আমি বলব এটা একটি সঠিক পদখ্খেপ। ভোট কমে যাবে বলে আগের সরকারগুলো এটা করতে পারে নাই।

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

অয়নবাংলা লিখেছেন:

কম্পিউটার একটি বিলাসী জিনিস। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ এটার সঠিক ব্যবহার করে না । বেশিরভাগ ই গেম্স, মুভি দেখা, গান শোনা, চ্যাটিং বা ইন্টারনেট এর জন্য ব্যবহার করে। এইকাজগুালা কে আমি বিলাসীতা বলব যখন আমার দেশের ৪৭.৫% মানুষ জাতীয় দারিদ্রসীমার নিচে।

যারা সঠিক ব্যবহার করে তারা বেশিরভাগ ই দেখা যা্য় উনিভার্সিটির আগে তেমন কম্পিউটার ব্যবহার করেনি। আমি  তথ্যপ্রজুক্তির বিপখ্খে না। যার কিনার সামর্থ্য আছে আমি বিশ্বাস করি তার জন্য ১৫% বেশী কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। হ্য়তো সবচে নতুন মডেল না কিনে, একটু পুরান মডেল কিনবে।

আমার কথা হয়তো আনেকের ভাল লাগবে না, তবু ও আমি বলব এটা একটি সঠিক পদখ্খেপ। ভোট কমে যাবে বলে আগের সরকারগুলো এটা করতে পারে নাই।

আয়ন ভাই,
আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না:(।
এই কথা সত্য কিছু মানুষ অপব্যবহার করছেন। মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলে দেয়া কোন সমাধান নয়। অপব্যবহার রোধে শামীম ভাইয়ের আইডিয়াটি দেখতে পারেন।কিছু মানুষ অপব্যবহার করছেন বলে কম্পিউটারের মতো একটি প্রযুক্তি পণ্যকে মানুষের হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়াটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
প্রত্যেক শিশুর জন্য একটি ল্যাপটপ  তুলে দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। শিশুর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেয়ার কারণ কি ?...একটি শিশু বসে বসে প্রোগ্রামিং করবে ? মোটেও না...সে একটি যন্ত্রের মাধ্যমে ছবি আঁকবে,খেলবে..অংক করবে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সে প্রযুক্তিটাকে বুঝতে শিখবে। যারা কম্পিউটার শুধুমাত্র বিনোদনে ব্যবহার করছেন ...তারাও ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন বিনোদন ছাড়াও এতে কাজ করা যায়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পাল্টাবে।শুধু শুধু প্রযুক্তিটাকে দূরে সরিয়ে লাভ কি? দেশে তো আরোও অনেক খারাপ জিনিস আছে ।কেন সিগারেটের উপর শুল্ক তিন থেকে চারগুন বাড়ানো যায় না? নাকি শুধু কম্পিউটারকে কিছু হাতে গোনা জ্ঞানী এবং ধনী মানুষের বাক্স বানিয়ে দিয়েই সব সমস্যার সমাধান হবে?

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:

২০০৭-০৮ সালের বাজেটে কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। তো আমরা কেন থেমে থাকব;)? আসুন আমরাও আলোচনা করি।
আপনি কি এর পক্ষে না বিপক্ষে? আপনার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিন।

কোডার পক্ষে না বিপক্ষে? এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি...?:rolleyes:

১০

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

ভাই অয়নবাংলা (পরে ভাই লিখলে কেমন যেন বাংলা ভাই বাংলা ভাই লাগে wink ),

অর্থনীতিতে একটা নিয়ম শিখেছিলাম: ল অব ডিমিনিশিং ইউটিলিটি

কোন বস্তুর চাহিদা/উপযুক্ততা সময়ের সাথে কিংবা সরবরাহের প্রাচুর্যের সাথে আস্তে আস্তে কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বলা হয় ব্যাপারটা। যেমন ধরুন: একজন মানুষের কাছে কোন টাকা নেই। তাঁকে যদি দিনে ১০ টাকা দেয়া হয়, তাহলে তিনি সেই টাকা দিয়ে অতি প্রয়োজনীয় খাবার কিনবেন। তাঁকে যদি ২০ টাকা দেয়া হয় তবেও হয়ত খাবারই কিনবেন। এভাবে ১০  ১০ করে বাড়াতে থাকলে একসময় দেখা যাবে খাবারের পরে ঔষধ কিনছে, বাসস্থান উন্নত করার কাজে লাগাচ্ছে ... আরও পরে হয়ত সিনেমা দেখতে ব্যয় করবে। অর্থাৎ প্রথমে প্রাপ্তটাকাটার যে প্রয়োজনীয়তা সেটা শেষে প্রাপ্ত টাকার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয়/গুরুত্বপূর্ণ।

একই ধরণের আরেকটা উদাহরণ হল ক্ষুধার্ত অবস্থায় যে কোন খাবার যত মজা লাগে, ভরা পেটে কিন্তু ততটা লাগে না। এটা খাবারের দোষ নয় .... যে গ্রহণ করছে, তাঁর অবস্থার উপর নির্ভরশীল।

আমার কথা বলি: প্রথম প্রথম কম্পিউটার নিয়ে রাতের পর রাত গেম খেলেছি। এর মাঝে চেষ্টা করেছি খবরদারি করতে। সাউন্ড আসেনা.. আহারে.. গেম খেলার মজা নষ্ট --- ম্যানুয়াল পড়ে সাউন্ডকার্ড ইনস্টল (উইন্ডোজ ৯৫ এর যুগের কথা); ভাল গেমের জন্য ভিজিএ পাল্টাতে হবে --- এটা আবার কি জিনিস >> পড়ে জানতে হল। তারপরতো গেম খেলি দারুন স্কোর হল, কিন্তু রেকর্ড থাকেনা। কি করা যায় >> হ্যাকিং। এজন্য আমাকে জানতে হয়েছে কোন ফাইলে ফলাফলের রেকর্ড থাকে, সেটা কোথায়। তারপর সেটার প্রোপার্টি পরিবর্তন করে রিড-অনলি তুলে দিলাম। ................................. গেম আর কত খেলা যায়? গেম বানাই তো!! শুরু হল প্রোগ্রামিং নিয়ে ঘাটাঘাটি, গেম বানাতে না পারলেও ইন্টারাক্টিভ প্রোগ্রাম বানাতে পারলাম।
............................. আপনি বলুন, যদি কম্পিউটার হাতেই না পেতাম তাহলে কি ধীরে ধীরে কৌতুহল বৃদ্ধি পেয়ে শিখতে আগ্রহী হতাম।
-- ল অব ডিমিনিশিং ইউটিলিটি --- মানে গেম খেলার চাহিদা সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। এখন ক্রিয়েটিভ কিছু কাজ করতে ইচ্ছে করে।

- শুধু একটা কম্পিউটার কিনে সেটা দিয়ে কাজ করবেন? কি কাজ? কেন? আসল সমস্যার মুখোমুখি না হলে আসল তাগিদ আসে না (গেমের সমস্যা থেকে ছোট-খাটো ট্রাবল শুটিং শিখতে হয়েছে)। তাই সব গেম খেলা সবসময় খারাপ না।

মুভি দেখা, গান শোনার কথা বলছেন ..... এগুলো না দেখলে আগ্রহ আসবে কোত্থেকে। ধার করে আনা সিডির গান শুনেই না মনে হল ... ইশ্ এটাকে আবার শুনতে হবে। কি করা যায় .... তখন এ্যাত এম.পি.থ্রি ছিল না .... অনেক টেক-পত্রিকা ঘেটে পরে উপায় পেলাম। কিভাবে এম.পি.থ্রি তে কনভার্ট করতে হয়। ......................... এটা হয়তো কোন কাজের সংজ্ঞায় ফেলতে রাজি হবেন না আপনি। কিন্তু আমি বলব এসব থেকে যে আনন্দ আর আত্মবিশ্বাস জন্মে তা সামনে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়।

ইন্টারনেট ঘাটা বা চ্যাটিং করা খারাপ কে বলল? ফোরামে আসাটাকে তাহলে আপনি পছন্দ করছেন না???? আপনার কাছে চ্যাটিং খারাপ মনে হতে পারে, কিন্তু সমাজের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত আধুনিক বিশ্বে একত্রে বসে আড্ডা মারার সময় কোথায়। আর চ্যাটিং না করলে তো সব মানবীয় গুণ হারিয়ে গিয়ে রোবটে পরিনত হবে।

যদি বলেন অনেকে চ্যাট করে সময় নষ্ট করে -- তাহলে একটা গল্প বলি: (পুরানো)
রাজার এক কর্মচারী ঘুষখোর। রাজার কাছে রিপোর্ট গেল। এই কর্মচারীকে ঘুষ থেকে দুরে রাখার জন্য তাকে জেলার হিসেবে নিয়োগ দিলেন রাজামশাই। ওখানে তো সব অপরাধী... ঘুষ খাওয়ার উপায় কি? -- এই ছিল রাজার ভাবনা। একদা এক কয়েদী মারা গেল। ...সেই কর্মকর্তা/কর্মচারী নিজে কয়েদীর বাসায় গিয়ে খবর জানালো। আর বলল: "দেখ ওনার তো আরো কয়েক বছরের সাজা বাকী ছিল, তোমাদের কারো এসে সেটা খেটে দিয়ে যেতে হবে।" বাড়ীর লোকজনতো বিপদে পড়ল। হাতে পায়ে ধরে বলে, "মহান রাজকর্মচারী - এ আমরা পারবো না, কোন একটা উপায় বলুন।" গম্ভীর কর্মচারী বলে "তাহলে তো রাজামশাইকে জানাতে হয় ব্যাপারটা..... তবে..এএ. তোমরা যদি চাও তবে আমি জানাবো না কিন্তু ...."
রাজার কানে এরকম ঘুষ খাওয়ার কাহিনী পৌছে গেল গোয়েন্দা মারফত। ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে উনি কর্মচারীকে নদীর ঢেউ গণনা করার কাজ দিলেন (মানে কোন কাজ করারই দরকার নাই, শুধু ব্যস্ত রাখা)। নদী দিয়ে একটা নৌকা যাচ্ছিলো; কর্মচারী ডাক দিয়ে নৌকা ভেড়ালো "ব্যাটা মাঝি, তুই জানিস না যে, রাজামশাই আমাকে ঢেউ গুনতে বলেছেন; তোর সাহস তো কম না তুই নৌকা চালিয়ে ঢেউ ভাঙ্গিস .... চল রাজার কাছে... এর একটা বিচার হতেই হবে" - বলে মাঝিকে ধরে রাজার কাছে নেয়ার জন্য টানাটানি। মাঝি বলে "মহাবতার, না বুঝে ভুল করেছি.. মাফ করে দেন"। "ধুর ব্যাটা... চল রাজার কাছে।"। হাউমাউ কান্না। "আচ্ছা একটা উপায় আছে... ধর্ আমি রাজাকে বল্লাম না, তবে-এ-এ........

মূলকথা হল, যে ঘুষ খাবে সে সবখানেই খাবে। যে সময় নষ্ট করবে, সে ইন্টারনেট না থাকলেও করবে। আগে ঘরে বসে ইন্টারনেটে গ্যাজাতো। ইন্টারনেট না থাকলে অভিভাবকদের চোখের আড়ালে রাস্তার মোড়ে গ্যাজাবে, কমেন্ট পাস করবে।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

শামীম ভাই...দারুণ...(y)

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অয়নবাংলা (১৯-০৬-২০০৭ ০২:০৭)

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

পলিসির জন্য, ইউজার নেম পরিবর্তন করতে পারছি না, ভাই বলা লাগবে না smile

আমি গেম্স, মুভি দেখা, গান শোনা, চ্যাটিং বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা কে খারাপ বলছি না কোন ভাবেই, আমি এটাকে বিলাসীতা বলছি যখন একটা দেশের মানুষের বড় অংশ একবেলা খায়। আর বিলাসী জিনসের উপর কর থাকা উচিৎ।

বেশিরভাগ মানুষ মানুষের ই কম্পিউটারে হাঁতখড়ি হয় গেম্স দিয়ে। তারপর সে এগিয়ে যায় প্রোগরামিং এ, তবে দেখতে হবে তা কয়জন। বেশিরভাগ ই অবদান রাখে উনিভার্সিটিতে, এক দুই জন ব্যাতিক্রম আছে, কিন্তু সেটাকে তো আর উধাহরণ হিসাবে নিতে পারি না।

আমাদের আগে নিশ্চিত করতে হবে আমাদের মানুষজন যেন না খেয়ে না থাকে। এর জন্য আমাদের অনেক নিচু থেকে শুরু করতে হবে। এর জন্য আমাদের অনেক টাকা দরকার - অনেক....................

১৩

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

জটিল

define:friendship
a story of friendship, a friend who always watching you…
http://www.facebook.com/define.friendship

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (১৯-০৬-২০০৭ ১০:০৫)

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

ভাই অয়নবাংলা:

একবেলা খাওয়ার সাথে তুলনা করে কম্পিউটারকে বিলাসীতা বললে তো যখন-তখন চা-সিঙ্গারা খাওয়াও বিলাসীতা। প্যান্ট-সার্ট পড়াও বিলাসীতা। দামী প্লেটে খাওয়া, ফ্লাটবাড়ীতে থাকা সবই বিলাসীতা। রিকশা/ট্যাক্সিতে চড়াও বিলাসীতা।

যে সকল মানুষের দুই বেলা খাওয়ার যোগ হয় না, কম্পিউটারে ট্যাক্স দিয়ে তাঁরা কিভাবে লাভবান হবে?! কম্পিউটারে ট্যাক্স তুলে দিয়ে যদি ৫০% ভর্তুকিও দেন তবে কি তাঁরা কম্পিউটার কিনতে বা ব্যবহার করতে পারবে? -- যদি না ই পারে তাহলে তাঁদেরকে এই প্রসঙ্গে টেনে আনার দরকারটা বুঝলাম না !!!! hmm

আর যারা বিলাসীপণ্য হিসেবে কিনেন তাঁরা হাই-স্পেসিফিকেশনের সিস্টেমই কিনেন। আপনি কম্পিউটার সায়েন্সে লেখাপড়া করছেন... নিশ্চয়ই ব্যাপারটা আপনার অজানা নয়। তুলনামূলক চিত্রটা অনেকটা এরকম:

বিলাসী পণ্য হিসেবে:
- তাঁদের সিস্টেমে থাকে ভুডু বা বংশীর মত হাই-পারফর্মেন্স সাউন্ডকার্ড। ঘরবাড়ী কাঁপানো সারাউন্ড ৫-পিস সাউন্ড সিস্টেম।
- ক্রিস্টাল কোয়ালিটি এল.সি.ডি মনিটর।
- থাকে প্রায় ১ গিগা মেমরি সহ এজিপি কার্ড .... নাম আমারও জানা নেই wink
- থাকে হাই কোয়ালিটি কালার ফটো প্রিন্টার।
- থাকে উইন্ডোজ পরিবারের মত দামী সফটওয়্যারসমগ্র (উইন্ডোজ, অফিস, এন্টিভাইরাস, ফটোশপ মিলিয়ে ৫০০ ডলার মূল্যের তো হবেই- সবই যাচ্ছে ঐ কোম্পানীগুলোর পকেটে; অবশ্য চুরির ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা)

ঠেকায় পড়া লোকজনের জন্য, যাঁরা কাজের জন্যই কিনেন:
- বড়জোর ছোট দুইটা স্পীকার, অবশ্য মনিটরের সাথে স্পীকার থাকলে তা-ও দরকার নাই।
- সাউন্ড কার্ড .. মাদারবোর্ডে থাকলেই চলে। না থাকলেও সমস্যা নাই .. .. বড়জোর ইয়ামাহা।
- প্রিন্টার, দরকার নাই। খুব বেশি চাইলে সাদা-কালো প্রিন্ট করতে পারে এমন বাবল-জেট প্রিন্টার।
- সফটওয়্যার। ফ্রী এবং ওপেনসোর্স। লিনাক্স (উবুন্টু/শ্রাবণী), সাথে ওপেন-অফিস, GIMP, (এন্টি-ভাইরাস - এটা আবার কি জিনিস!) ............. অবশ্য চুরির ক্ষেত্রে উইন্ডোজও চলে।

সুতরাং শুধু বিলাসী ব্যবহার ঠেকাতে চাইলে সামগ্রিকভাবে ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেইসব হাই-স্পেসিফিকেশনযুক্ত পেরিফেরিয়ালগুলোর উপর ট্যাক্স বেশী পরিমানে বাড়িয়ে দেয়াটাই যথেষ্ট -- খুব কি ভুল বললাম?

এখন, সামগ্রিকভাবে ট্যাক্স বাড়ালে বিলাসী ক্যাটাগরির যারা তাঁদেরকে ঠেকাতে পারবেন না। ওরা কিনবেই। সরকারও সামান্য কিছু ট্যাক্স পাবে। কিন্তু মেজরিটি (হ্যা ভাই মেজরিটি ইউজার; যেটা ঢাকায় বিলাসী এলাকায় বসে বোঝা সম্ভব না) ব্যবহারকারী- যারা ২য় ক্যাটাগরিতে, তাঁরা সুযোগ বঞ্চিত হবে, বা অত্যন্ত চাপের মধ্যে পড়বে। স্পেসিফিক বিলাসী পেরিফেরিয়ালের উপর ট্যাক্স বাড়ালে বরং সেটা "বিলাসী" ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার সরকারী আন্তরিকতাটাই প্রকাশ করবে।

একটা কলম দিয়ে লেখা যায়। আবার খেলাধুলা গুতাগুতিও করা যায়। খেলাধুলা করে যারা তাঁদের জন্য কলমের দাম বাড়িয়ে দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

কোথায় ১০০ডলার ল্যাপটপ প্রজেক্ট দেশে নিয়ে আসবে ... তা না করে উল্টা পথে সরকার।

সরকারের কাজ হল, জনগণের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা বা তেমন ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। সামগ্রিকভাবে কম্পিউটারে ট্যাক্স দিয়ে বরং সুযোগ কেড়ে নেয়া হবে। আর সুক্ষ্ণভাবে বাড়াবে শ্রেণী-বৈষম্য।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

শামীম ভাই,
আপনার অধিকাংশ পোস্টের মত এই পোস্টগুলো দারুন, লিখার সুযোগই পাচ্ছি না ! সবই মনের কথা।
সহমত।

“All our dreams can come true if we have the courage to pursue them.” - Walt Disney
http://www.amanpages.com/

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অয়নবাংলা (১৯-০৬-২০০৭ ১২:২৭)

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

শামীম লিখেছেন:

যে সকল মানুষের দুই বেলা খাওয়ার যোগ হয় না, কম্পিউটারে ট্যাক্স দিয়ে তাঁরা কিভাবে লাভবান হবে?! কম্পিউটারে ট্যাক্স তুলে দিয়ে যদি ৫০% ভর্তুকিও দেন তবে কি তাঁরা কম্পিউটার কিনতে বা ব্যবহার করতে পারবে? -- যদি না ই পারে তাহলে তাঁদেরকে এই প্রসঙ্গে টেনে আনার দরকারটা বুঝলাম না !!!! hmm

যে সকল মানুষের দুই বেলা খাওয়ার যোগ হয় না তাদের জন্য সাধারনত আপনি বা আমি একা তেমন কিছু করতে পারব না। এটা করতে হবে গভমের্ন্টকে, তারা এই সকল মানুষদের উপযুক্ত শিখ্খা, কাজের ব্যাবস্থা, ইত্যাদি নিশ্চয় করবে আর তার জন্য দরকার টাকা। তারা এটার জন্য টাকা পাবে কই? আপনি বা আমি এমনি এমনি দিব না। আপনার নিশ্চয় জানা আছে গভমের্ন্টের ফাইনেন্স হচ্ছে ট্যাক্স। কম্পিউটারের উপর ট্যাক্স উঠায় দেওয়া মানে একটা বড় ট্যাক্সের % কমে যাওয়া। মানে এদের বন্চিত করা।

আবার গভমের্ন্টে যদি এই ট্যাক্স ব্যবহার করে কলেজ, উইনিভার্সিটি গুলো কে কমপিউটার দেয় উপকারটা কয়জনের হবে? বাসায় হয়ত একজন চ্যাট করত, তার বদলে আনেকজন শিখতে পারবে।

শামীম লিখেছেন:

আপনি কম্পিউটার সায়েন্সে লেখাপড়া করছেন.... নিশ্চয়ই ব্যাপারটা আপনার অজানা নয়। তুলনামূলক চিত্রটা অনেকটা এরকম...........

যদি ও আমি কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছি না তবু আপনার দুইটা চিত্র ই বুঝতে পারলাম। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। ২ টা চিত্রের(হাই-স্পেসিফিকেশন,লো-স্পেসিফিকেশন) বেশিরভাগ মানুষ এটা বিলাসীতা হিসাবে ব্যাবহার করছে। হাতেগোনা কয়েকজন প্রোগরামিং করছে। কাজেই আপনার সাথে দ্বিমত পোষন করতে বাধ্য হচ্ছি।
   

শামীম লিখেছেন:

সরকারের কাজ হল, জনগণের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা বা তেমন ক্ষেত্র সৃষ্টি করা................

খুব ভাল একটা কথা বলেছেন। এটা ম্যাস পোপুলেশন এ করতে হবে। এই জন্য কলেজ, উনিভার্সিটিতে কম্পিউটার বাড়াতে হবে। যাতে অনেক মানুষ একসাথে উপক্রিত হয়।

১৭

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

কম্পিউটারের ওপরে ট্যাক্স আরোপ করে জানি না সরকার কি পরিমান আয় করবে এবং তার কতুটুকই একদম অপরিহার্য দারীদ্র বিমোচনে। এমন যদি হত দারীদ্র বিমোচনে সরকারের টাকা কম পড়েছে তা হলে এক কথা হত। অবশ্যই আমাদের মত দরীদ্র দেশে সব ক্ষেত্রেই টাকা টানাটানি আছে, কিন্তু আমি বলতে চাইছি এমনও তো হতে পারে কম্পিউটার-শুল্ক থেকে প্রাপ্ত টাকা প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ হল বা অন্য কোন খাতে ? যেহেতু টাকা আসছে তাই অন্য কোন ক্ষাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেতেই পারে।

তারচাইতেও বড় কথা, কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা আজ টিভির মত ব্যাপক কিন্তু ব্যাবহার টিভির মত বিনোদনে নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। গতকাল আমার এক আত্মীয়ের সাথে কথা হচ্ছিল। উনি ছোট্ট এটকি চাকরী করেন একটি বেসরকারী প্রতিষ্টানে। অফিসে সাধারন সহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। খুব কষ্টে টাকা জমায় একটি কম্পিউটার কিনে নিজের চেষ্টায় এমএস অফিস শেখেন। এখন তার বেতন বেড়েছে, তার হিসাবে আরেকটু সম্মানের কাজ পয়েছেন। চিঠিপত্র ড্রাফ্ট করেন। তিনি চাচ্ছেন এখন স্প্রেডশীট শিখবেন, অফিসে টালি আছে ওটাও শিখবেন। খুব খুশী হয়ে বল্লেন, ভাগ্যিস কম্পিউটার টা কয়দিন আগেই কিনেছিলাম!

লক্ষনীয়,
তার পদোন্নতি হয়েছে -- মানে আগের পদে আর কেউ আসবে।
বেতন বেড়েছে -- মানে তাকে দিয়ে অফিসের আরও লাভ হচ্ছে।
এই দুটোই কি দেশের সমৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক নয় ?

ট্যাক্স আরোপের ফলে কে জানে এমন কত স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নি:শেষ / কঠিন হয়ে যাবে।

আমাদের তিনতালার প্রতিবেশী চাচা খুব অল্প পরিসরে কিছু টোনার আমদানী করেন। মতিঝিলে ছোট একটি অফিস ছিল। সেটা ছেড়ে বাসায় কাজ করেন। উনার খুব পুরানো একটি কম্পিউটার আছে। তাদিয়ে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন ক্লায়েন্টদের সাথে। কিন্তু এখন নষ্ট হয়ে যাওয়ায়  অনেক দিন ধরেই নতুন একটা কিনবেন কিনবেন করে কিনছিলেন না। এখন তিনি সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে কষ্ট করে কাজ সারেন আর আফসোস করছেন কতগুলো টাকা গচ্চা যাবে এখন নতুন কম্পিউটার কিনলে।

দেখেন এঁদের দারা কি দেশ ট্যাক্স পাছ্ছে না ?


আসলে এসব প্রধান কারন না। প্রধান কারন একটাই, আমাদের দেশের মানুষ প্রযুক্তি সম্মন্ধে তেমন জানে না। ওয়াকিবহাল নয়। টিভি দেখে, মোবাইলে কথা বলে, তার মানে কিন্তু এই নয় তারা প্রযুক্তির অবদান নিজেদের জীবনে সুফল পাচ্ছে বা সফলতা আনছে। আমার মতে কম্পিউটারই একমাত্র প্রযুক্তি যেটায় সাধারন মানুষের নিজের কাজে ব্যাবহার করার সম্ভাবনা আছে।

মোড়ের মোবাইল সার্ভিসিং দোকানটিও এখন কম্পিউটার কিনতে চায় আরও ব্যাবসা বাড়ানোর জন্য।
মার্কেটের দোকানটিও সফ্টওয়ার ব্যাবহার করতে চায় ব্যাবসায় আরও সাফল্যের জন্য।

দেখেন কম্পিউটার হয়ত কোন যাদুর চেরাগ না যে এটা যেই পাবে সেই একটা সর্বকাজের কাজী এক দৈত্য পেয়ে যাবে। কিন্তু এটা অনেক মানুষের জন্য একটি চমৎকার হাতিয়ার হতে পারে যা দিয়ে নিজের ভাগ্য ও জীবনকে আরেকটু সহজ ও সাচ্ছন্দময় করা যেতে পারে। যার সম্মিলিত অবদান,আমার মতে , জাতিকে আরেকটু এগিয়ে নেওয়ার পথে সাহায্য করতে পারে; যা কিনা এই ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত লাভের চাইতে বেশি।

অবশ্যই একটা সময় আসবে যখন এর উপর ট্যাক্স নেয়াটা দরকার হবে, কিন্তু আমার মনে হয় এখনও সেই সময় আসে নাই আমাদের দেশে। সেই সময় দ্রুত আনার জন্য এই শুল্ক একটা প্রতিবন্ধকতা না হয়ে দাড়ায় !

“All our dreams can come true if we have the courage to pursue them.” - Walt Disney
http://www.amanpages.com/

১৮

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

অয়নবাংলা লিখেছেন:

যে সকল মানুষের দুই বেলা খাওয়ার যোগ হয় না তাদের জন্য সাধারনত আপনি বা আমি একা তেমন কিছু করতে পারব না। এটা করতে হবে গভমের্ন্টকে, তারা এই সকল মানুষদের উপযুক্ত শিখ্খা, কাজের ব্যাবস্থা, ইত্যাদি নিশ্চয় করবে আর তার জন্য দরকার টাকা। তারা এটার জন্য টাকা পাবে কই? আপনি বা আমি এমনি এমনি দিব না। আপনার নিশ্চয় জানা আছে গভমের্ন্টের ফাইনেন্স হচ্ছে ট্যাক্স। কম্পিউটারের উপর ট্যাক্স উঠায় দেওয়া মানে একটা বড় ট্যাক্সের % কমে যাওয়া। মানে এদের বন্চিত করা।

প্রথমত:
আসলে ডেটা দরকার। তুলনামূলক ডেটা .... গত কয়েকবছরে মোট কতটাকার কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রয় হয়েছে --> তারপর এর সাথে একটা কাল্পনিক ১০% ট্যাক্স যুক্ত করে তারপর দেখা মোট কত টাকা ট্যাক্স হিসেবে সরকার পেত (যদিও বাস্তবে করারোপ করলে বিক্রয় কমে যেত কিছু অংশ)। এরপর সেটাকে তুলনা করতে হবে, সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের সাথে ... সেটা মোট রাজস্ব আয়ের কত অংশ হতে পারত।

এরপরে আরও তুলনা করতে হবে, সেই রাজস্ব মোট রাজস্ব ফাকির কত অংশ। যদি এমন হয়, দূর্নীতির কারণে রাজস্ব ফাঁকির পরিমান এর চেয়ে বেশি, তাহলে নতুন ও অজনপ‌্রিয় করারোপ না করে জনপ্রিয় দূর্নীতি দমন করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।

যদি দেখা যায়, আসলেই কম্পিউটার সামগ্রী থেকে আসা রাজস্ব দূর্নীতির কারণে হারানো রাজস্ব থেকে অনেক বেশি, শুধু তবেই আপনার সাথে একমত। দ্বিমত হওয়ার কারণ, আমার শক্ত ধারণা, তুলনাটা উল্টা হবে।

দ্বিতীয়ত:
কম্পিউটার ব্যবহার করে মানুষের যে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, তার ফলে সেই দক্ষ মানুষ সরকারের রাজস্ব উপার্জনে অনেক বেশি অবদান রাখবে। ... কম্পিউটারের উপরে শুল্ক মওকুফ করার পেছনে এটাকেই প্রধান কারণ ধরা হয়।

তৃতীয়ত:
রাজস্ব যে দারিদ্র বিমোচনেই সরকার লাগাবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? হয়ত নৌবাহিনীর জন্য আরেকটা ফ্রিগ্রেট কিনবে। লক্ষ্য করুন, এ বছর সেনাবাহিনীর বাজেট প্রায় ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেই.. ঐ লাইনের চিন্তাটা একটু ব্যাপক হয়ে যাবে।

দারিদ্রের মূল কারণ কি টাকার অভাব? মনে হয় না... সীমাহীন দূর্নীতিই এর কারণ। নতুবা, এ পর্যন্ত যতগুলো দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী নেয়া হয়েছে তাতে দেশে দারিদ্রের গ্রেট গ্রান্ডফাদারও থাকার কথা না।

অয়নবাংলা লিখেছেন:

আবার গভমের্ন্টে যদি এই ট্যাক্স ব্যবহার করে কলেজ, উইনিভার্সিটি গুলো কে কমপিউটার দেয় উপকারটা কয়জনের হবে? বাসায় হয়ত একজন চ্যাট করত, তার বদলে আনেকজন শিখতে পারবে।

ইউনিআর্সিটির ছেলেরাই খালি শিখবে? অন্যরা কি দোষ করল?

আমার যে ফিল্ড ওয়র্কর আছে, মাঝে মাঝে অফিস/সেন্টারে বা অন্য কোন বাসায় গিয়ে চেয়ে চিন্তে কম্পিউটারে কাজ করা শেখে, তাঁর মত লোকগুলো কোথায় যাবে?

সামান্য এস.এস.সি/এইচ.এস.সি/ ডিগ্রি পাশ একটা কর্মোদ্যম ছেলে (মেজরিটি কি ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা নাকি এরা... ভেবে দেখার অনুরোধ রইল) আগে স্বপ্ন দেখতে পারত কোন রকমে একটা কিছু শিখে স্বাধীন ব্যবসা করবে (শেষ পর্যন্ত করদাতা হবে!!) ....সেটাতে উৎসাহিত হওয়ার কিছু কি অবশিষ্ট থাকলো?

অয়নবাংলা লিখেছেন:
শামীম লিখেছেন:

আপনি কম্পিউটার সায়েন্সে লেখাপড়া করছেন.... নিশ্চয়ই ব্যাপারটা আপনার অজানা নয়। তুলনামূলক চিত্রটা অনেকটা এরকম...........

যদি ও আমি কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছি না তবু আপনার দুইটা চিত্র ই বুঝতে পারলাম। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। ২ টা চিত্রের(হাই-স্পেসিফিকেশন,লো-স্পেসিফিকেশন) বেশিরভাগ মানুষ এটা বিলাসীতা হিসাবে ব্যাবহার করছে। হাতেগোনা কয়েকজন প্রোগরামিং করছে। কাজেই আপনার সাথে দ্বিমত পোষন করতে বাধ্য হচ্ছি।

আপনার সাথে একমত। হাতে গোনা কয়েকজন প্রোগ্রামিং করছে। এটাই তো হওয়া উচিৎ। কয়েকলক্ষ কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য কয়েকজন প্রোগ্রামার থাকবে সেটাই তো স্বাভাবিক।  কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ছাড়াও কত যে ক্ষেত্র আছে ... সায়েন্স ছাড়াও অনেক প্রায়োগিক দিক আছে। আর ঐ প্রায়োগিক ব্যবহারকারীগণের কথাই হচ্ছে এখানে -- ওরাই মেজরিটি।

একটা বড় ক্ষেত্র কম্পোজিং ও পাবলিশিং। এটার জন্য প্রোগ্রামার দরকার নাই... প্রাপ্ত সফটওয়্যার দিয়েই করা যায়।

আমার ফিল্ডের একটি ছেলে ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে গেল কম্পিউটার শিখতে (!!)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি কম্পিউটার শিখবা (!!)? বলে কি কি প্রোগ্রামিং ইত্যাদি। আমি বলেছিলাম... এখনই ভর্তি পাল্টাও। শুধু ওয়র্ড আর এক্সেল চালানো শিখো। --- এটাই বাস্তবতা। ছেলেটি এখন অফিস এসিস্টেন্টের চাকরী করছে smile

মেজরিটি কাজের জন্য অফিস ইউটিলিটি চালানো জানাই যথেষ্ট। প্রোগ্রামিং খুব জরুরী একটা বিষয় হলেও এটা সীমিত লোকজনের মধেই সীমাবদ্ধ।


অয়নবাংলা লিখেছেন:
শামীম লিখেছেন:

সরকারের কাজ হল, জনগণের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা বা তেমন ক্ষেত্র সৃষ্টি করা................

খুব ভাল একটা কথা বলেছেন। এটা ম্যাস পোপুলেশন এ করতে হবে। এই জন্য কলেজ, উনিভার্সিটিতে কম্পিউটার বাড়াতে হবে। যাতে অনেক মানুষ একসাথে উপক্রিত হয়।

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কিভাবে মানুষ উপকৃত হয়েছে? বেশিরভাগ মানুষই তো গ্যাজায়.. তাই না? -- সেটাও সামাজিকতার জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমান পর্যন্ত জরুরী। তারপরেও এই তথ্য প্রবাহের ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি কিভাবে হয়েছে তা বিশ্লেষন করতে হলে একটা কয়েক ভল্যূয়মের বই লেখতে হবে।

একই ভাবে কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার দ্বারা যে কত কিছু করা সম্ভব তা উদাহরণ সহ বলতে গেলে বই রচনা করতে হবে। দেখি, আপনার জন্য কিছু উদাহরণ দেই ....

ই-গভর্নেন্স একটা ছোট্ট কথা কিন্তু অর্থটা ব্যাপক।

এখন পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য অনেক কর্মঘন্টা ব্যয় করে রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম বাড়িয়ে দিয়ে কোথাও যেতে হচ্ছে না। ইন্টারনেটে কয়েক ক্লিকেই ৫/১০ মিনিটে সব জানা যাচ্ছে। --- এই ধরনের উপকার কি কম্পিউটারের ব্যাপক প্রসার ছাড়া সম্ভব? (-- প্রোগ্রামিং জানার দরকার নেই এজন্য।)

যদি সমস্ত জমির ডকুমেন্ট অনলাইন হয়। তারপর কয়েক ক্লিকেই আপনার জমির পর্চা, রেকর্ডস সব পেয়ে যান... আর ওটার প্রিন্টআউট দিয়ে কাজ চালানো যায়। তবে তহশীল অফিসের লোকজন পয়সা খাবে কিভাবে। এক কাজের জন্য ১০ দিন দৌড়াতেও হবে না। সব মিলিয়ে অনেক কর্মঘন্টা বাঁচবে, যা ট্যাক্স-এ প্রাপ্ত সামান্য কয়েকটাকার চেয়ে অনেক বেশি উপকার করবে দেশের। (-- প্রোগ্রামিং জানার দরকার নেই এজন্য।)

টেন্ডার ডকুমেন্টস সবই অনলাইন। যদি জমার প্রক্রিয়াও অনলাইন হয়... তবে টেন্ডারবাজদের ক্ষেত্র কমে যাবে। আর টেন্ডারবাজি না করলে অস্ত্র কেনার পয়সার সোর্সও কিছুটা বন্ধ। এজন্যও কম্পিউটারের এবং এটার ব্যবহারকারীর প্রসারের দরকার রয়েছে।(-- প্রোগ্রামিং জানার দরকার নেই এজন্য।)

কোন জায়গায় যাওয়ার আগে, অনলাইন থেকে ম্যাপটা দেখে নিলাম। ভোগান্তি কমে গেল। (সবসময় জাপানে কাজে লাগছে) (-- প্রোগ্রামিং জানার দরকার নেই এজন্য।)

কোন একটা অফিসিয়াল ব্যাপারে জানতে, সেখানকার ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ফর্ম সব ডাউনলোড করে নিলাম। পরবর্তীতে কাজ অনেক সহজ হয়ে গেল। (-- প্রোগ্রামিং জানার দরকার নেই এজন্য।)

একটা নতুন কসমেটিকস/ঔষধ/সেচযন্ত্র কিনবেন। কোনটা ভাল? তুলনামূলক ভাবে উপযুক্ত? স্পেসিফিকেশন? দাম? .... সবই জানলেন। নবাবপুরে ঘুরাঘুরি করে চান্দি গরম করার দরকার নাই। ইন্টারনেটেই অর্ডার দেন। (-- প্রোগ্রামিং জানার দরকার নেই এজন্য।)
....
...
..
বললামই তো একটা বই রচনা করা যাবে। যা অনুমান নির্ভর নয়.... অন্য অনেক জায়গার উদাহরণ দেয়া যাবে।

কাজেই এসকল ব্যাপারে অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে। যা এখন দেয়া কর ছাড়ের সুফল হিসেবেই আসবে। করারোপ করা এই প্রক্রিয়াগুলোকেই পিছিয়ে দেবে।

(মূল ইস্যূ যদি বিলাসী সামগ্রী হয়... তাহলে শুধু হাই-স্পেসিফিকেশন ওয়ালা পেরিফেরিয়ালস.. যেগুলো গেমিং ছাড়া অন্য কাজে লাগে না - ওগুলোতেই উচ্চহারে ট্যাক্স দেয়া যেতে পারে; কোনক্রমেই ঢালাও ভাবে কম্পিউটারের উপরে নয়।)

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

অফটপিক
আমান ভাইয়ের মন্তব্য দেখার আগেই উপরের মন্তব্যটা লেখা শুরু করেছিলাম। তারপর পোস্ট করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা পার করতে হল।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: কম্পিউটার সামগ্রীর উপর শুল্ক আরোপ

শামীম ভাই একমত... thumbs_up
অফটপিকঃ চালিয়ে যান...;)