টপিকঃ ধ্বংসের পথ থেকে বাঁচানোর আকুতি

শুরু করার আগে উইকি থেকে একটু ইতিহাস পড়ুন:

ভিকারুননিসা নুন স্কুল ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থিত বাংলাদেশে মেয়েদের একটি স্বনামধন্য স্কুল। ১৯৫২ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের (বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশ) গভর্নর ফিরোজ খান নুনের সহধর্মিনী ভিকারুননিসা নুন ঢাকায় মেয়েদের একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করার লক্ষ্যে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন ও তাঁর নামানুসারেই স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছে। ভিকারুননিসা স্কুলের সাথে ক্ষেত্রবিশেষে উপমহাদেশের ইতিহাসের সংযোগ রয়েছে।

ইতিহাস

স্কুলটির নামের উৎস জন্মসূত্রে অস্ট্রিয়ান মহিলা ভিকারুননিসা নুন। ১৯৪৫ সালে ফিরোজ খান নুনের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার সূত্রে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তার পূর্ববর্তী নাম ভিক্টোরিয়া পরিবর্তন করে ভিকারুননিসা নুন নাম গ্রহণ করেছিলেন। নুন পরিবার সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ভাবে তাদের অবদানের অংশ হিসেবে ১৯৫১ সালে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সমসাময়িক সময়ে শিক্ষা বিস্তার ও প্রসারে অবদান হিসেবে নুন পরিবার একটি তহবিল গঠন করেন যা থেকে উচ্চশিক্ষা লাভে আগ্রহী তৎকালীন পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে গমনের জন্য বৃত্তিসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দান করা হত। অবশ্য এই তহবিল ভিকারুননিসা নুন স্কুলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা।

সূত্র: উইকি

প্রতিবছর এসএসসির রেজাল্টের সময় ভিকারুননেসার মেয়েদের আনন্দ করতে দেখা যায় সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম হওয়ার আর এইচএসসির রেজাল্টের পর ২য় হওয়ায়। তাই এই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম অনেক। কিন্তু নিচের খবর দুটি পড়ুন:

রাজধানীর সবুজবাগের বাসাবো এলাকা থেকে পুলিশ গত শুক্রবার মানিয়া সুলতানা (১৮) নামে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে। সে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
পুলিশ সূত্র জানায়, মানিয়া সুলতানা তার মা-বাবার সঙ্গে সবুজবাগের ১২৫/৩ দক্ষিণ মাদারটেকের বাসায় থাকত। গত শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে সবুজবাগ থানার পুলিশ দক্ষিণ মাদারটেকে যায়। এ সময় তারা দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মানিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ভিকারুন-নিসা স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্থানীয় ইবনে ফাহাদ নামের এক তরুণের সঙ্গে তার গোপনে বিয়ে হয়। ২০০৭ সালে মানিয়ার মা-বাবা বিয়ের খবর জানতে পারেন এবং তাঁরা বিয়ে মেনে নেননি। এর পর থেকে সে বিষণ্নতায় ভুগছিল। তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়। ২০০৯ সালে মানিয়ার বিবাহ বিচ্ছেদ করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অপহূত ছাত্রী রাখীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গতকাল শনিবার র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব ১-এর সদস্যরা যৌথভাবে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তানভীর হোসেন রাজীব নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর তানভীর ও রাখী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ২০০৮ সালের ১০ আগস্ট মিরপুর রোড ১-এর ব্লক-ই, সেকশন-১২ এলাকার একটি কাজি অফিসে তাঁরা বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা এত দিন সংসার করছিলেন। র‌্যাবের সদস্যরা এ দাবির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ওই কাজি অফিসে অভিযান চালান। তবে বিয়ের কোনো প্রমাণ র‌্যাব সেখানে পায়নি ।
তানভীর র‌্যাবকে জানান, তিন বছর আগে নাজনীন নামের এক মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন। বিবাহিত স্ত্রীর পাশাপাশি রাখীর সঙ্গেও তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাঁকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই তানভীর দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।
রাখীর চাচা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপহরণের চার দিন পর তানভীরের বন্ধু মিথুন ও চাচাতো ভাই সোহেল রাখীর মাকে একটি সিডি দিয়ে যান। ওই সিডিতে রাখীর অশালীন ছবি ও ভিডিওচিত্র রয়েছে। র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, তানভীরের নির্দেশে অন্য সহযোগীরা এ কাজ করেছে।

সূত্র: প্রথম আলো

আবার নেট ঘাটাঘাটি করলে এই প্রতিষ্ঠানেরই একটি ছাত্রীর অশ্লীল ভিডিও পাওয়া যায়।

এখন উপর্যুক্ত খবর দুটিতেই দেখা যাচ্ছে যে, মেয়ে দুটি নিজ ইচ্ছায় অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ে করেছে এবং পরবর্তীতে পরিবার মেনে না নেয়ায় একজন আত্মহত্যা করেছে এবং একজন পালিয়ে গেছে। কিন্তু এমন সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ কি শুধু তাদের ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা মুখস্হ করানো যাতে তারা ভালো রেজাল্ট করতে পারে নাকি একজন আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা। মানছি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই এমন বিপথগামী ছাত্রছাত্রী আছে। কিন্তু যেহেতু ভিকারুননেসা অন্যতম সম্মানিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাই তাদেরকে উদ্যোগী হওয়া উচিত তাদের ছাত্রীদের সুযোগ্য গড়ে তোলার- কারণ তারা এই কাজে ব্যর্থ হলে অন্যরাও তাদের উদাহরণ দিয়ে বলবে যে তারা যেহেতু পারেনি আমাদের পারার প্রশ্নই আসে না। তাই আশা করব, কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্হা নেয়। নতুবা এখন ৮ম-১০ম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীরা বিপথগামী হচ্ছে, কিছুদিন পর ৫ম-৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীরাও মডার্ন যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে এ পথে পা বাড়াবে।

Re: ধ্বংসের পথ থেকে বাঁচানোর আকুতি

আমি মনে করি এতে স্কুলের দায় দায়িত্ব নাই। কারণ স্কুল ওদেরকে ঐ পথে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে এমন তো না। বরং তাদের পারিবারিক বন্ধনকেই দায়ি করা যায়। কারণ এই ধরণের শিক্ষাগুলোর মূল উৎস পরিবার। বিদ্যালয়ও শিক্ষার উৎস, কিন্তু এই ধরণের শিক্ষার ক্ষেত্রে সেটা পরিবারের তুলনায় নগণ্য।

নিশ্চয়ই আশা করবেন না ... আপনার আদরের ছোট বোনকে/কন্যাকে যখন ভিকারুন্নেসাতে ভর্তি করতে নিয়ে যাবেন, তখন ওখানকার কর্তৃপক্ষ ভর্তির সময়ে এবং প্রতিনিয়ত তাকে "এই তুমি কি প্রেম কর, বা স্কুলে পড়াকালীন সময়ে করতে ইচ্ছুক" .... কিংবা আরেকটু আগ বাড়িয়ে আরো ব্যক্তিগত এই ধরণের প্রশ্নবানে জর্জরিত করুক।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত