টপিকঃ ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৫ (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জ

    ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের দূরত্ব ৬৮ কিঃ মিঃ। বাসে যেতে সময় লাগে ২.৩০ ঘন্টার মত। ভাড়া লাগবে ৪০ টাকার কম। গাবতলী আর গুলিস্থান থেকে সারাদিনই বাস ছেড়ে যায় মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে।   

    তেওতা রাজবাড়িঃ আরিচার শিবালয়ে এর অবস্থান। ঢাকা থেকে আরিচার দূরত্ব ৯০ কিঃ মিঃ। ৩ ঘন্টায় বাসে যেতে ভাড়া দিতে হবে ৫০-৬০ টাকা। গাবতলী থেকে যাত্রীসেবা, বিআরটিসি, পদ্মা লাইন, ইত্যাদি বাসে আরিচা ঘাট যেতে হবে। আরিচা ঘাট থেকে রিকশায় ১৫-২০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যাবে তেওতা জমিদার বাড়ি বা তেওতা রাজবাড়ি।

বাড়িটি এখনো তার কাঠামোতে দাড়িয়ে আছে। যদিও খয়ে গেছে এর ইটের দেয়াল। এই বাড়িতে আছে দুটি পুকুর। একটি বিশাল পুকুর আছে বাড়ির সামনে, যেখানে ছিলো চমৎকার ঘাটলা, এখনো টিকে আছে। অন্য পুকুরটি বাড়ির ভিতরে, খুবই করুন অবস্থা তার। বাড়ির সামনে আছে একটি বহুতল মন্দির। কারুকাজময় মন্দিরটি আজ বিলিন হবার পথে। এখনো যেটুকু সৌন্দর্য অবশিষ্ট রয়েছে তার আকর্ষণও কম নয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বাড়িটি আজ দখল হয়ে আছে নদী ভাংগা কিছু উদ্বাস্তের হাতে। বাড়িটিতে এক কালে ছিলো ৫৫টি ঘর, আজ তারই কিছু ঘরে সেই সাথে খালি যায়গায় নিজেদের তৈরি ঘরে বসবাস করে উদ্বাস্তরা। নোংড়া করে রেখেছে বাড়িটি। এখনো এর সিড়ি ব্যবহার করে দোতালায় উঠা যায়, যাওয়া যায় ছাদেও। ছাদ থেকে দেখতে পারবেন পুরোবাড়ির গঠনকাঠামো। বাড়ির ভেতরের যে পুকুরটি ছিলো আজ তা মজাপুকুরে পরিনত হতে চলেছে। এই বাড়িতেই ছিলো ৫টি কুয়া। একটি দেখতে পাবেন বাড়ির সামনে মাঠের কোনায়। বাড়ির সামনেই আছে এই সবুজ ঘাসের বড়সর মাঠ। মাঠেই রয়েছে জমিদারদের তৈরি টিনের চালার এক কাচারিবাড়ি।
   
           বালিয়াটি জমিদার (চৌধুরী) বাড়িঃ  মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৮ কিঃ মিঃ দূরে সাটুরিয়া উপজেলায় এর অবস্থান। ঢাকার গাবতলী থেকে পাটুরিয়া, আরিচা বা মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে চড়ে মানিকগঞ্জের ৮ কিমি আগেই  সাটুরিয়া বাসস্টপে নেমে যেতে হবে। ভাড়া লাগবে ৩৫-৪০ টাকা। আর মানিকগঞ্জ থেকে যেতে চাইলে শুভযাত্রা, পল্লীসেবা, শুকতারা ইত্যাদি বাসে চড়ে চলে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ২০টাকার মত। সাটুরিয়া বাসস্টপে থেকে ১২ কিমি দূরে এই বালিয়াটি জমিদারবাড়ির অবস্থান। সাটুরিয়া থেকে পাকুটিয়াগামী রাস্তায় সাটুরিয়ার জিরপয়েন্টে নামতে হবে। এখান থেকে মাত্র ১ কিমিরো কম দূরত্ব বালিয়াটি চৌধুরীবাড়ির।
যদি একবার কষ্ট করে চলে যেতে পারেন আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি ভালো লাগবেই আপনার। এতোটাই টিপটপ আর সাদাসিদে যে ভালো নালাগার কোনো কারণই নেই। 

বাড়ির চত্তোরের বাইরে ঠিক সামনেই রয়েছে বিশাল এক পুকুর। বাড়িতে ঢুকার জন্য রয়েছে এক, দুই, তিনটি সিংহদরজা (চারটিও হতে পারে, সেভাবে লক্ষ করা হয়নি।)।  আর বাড়ির ভিতরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্থাপনা (খুব সম্ভব আটটি)। মনে হবে সোঁনারগায়ের পানাম নগরে এসে হাজির হয়েছেন। আট হেক্টর যায়গা নিয়ে বিস্তৃত এই বাড়িটির সবচেয়ে ভালো লাগবে বাড়ির ভিতরের পুকুরটি, খুব বেশী বড় নয়, কিন্ত পাঁচ-পাঁচটি চমৎকার ঘাটলা রয়েছে তার, এখনো অক্ষত। বিশাল ঘাটলার ছোট্ট পুকুরে বসতে ভালো লাগবে খুব। পুকুরের পাশেই দেখবেন আছে তিনটি কুয়া, পানি নেই আছে দর্শনার্থির ফেলা ময়লার মেলা।

এই পরিবারেরই তৈরি আরো কয়েকটি স্থাপনা আছে গোটা গ্রামজুড়ে। সময় নিয়ে গেলে দেখে আসতে পারবেন পূববাড়ি, উত্তরবাড়ি, গোলাবাড়ি আর ১ কিমি দূরেই আছে পশ্চিমবাড়ি বা ছয়ানি বাড়ি।

সূত্রঃ নিজস্ব অভিজ্ঞতা

তেওতা জমিদার বাড়ির ছবি
বালিয়াটি জমিদার (চৌধুরী) বাড়ির ছবি


মানিকগঞ্জ সম্পর্কে আরো জানতে চলে আসুনএখানে

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৫ (মানিকগঞ্জ)

ধন্যবাদ সোহেন,
আমার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ ~ তারপরও উল্লেখিত স্থান দুটিতে যাওয়া হয়নি !
খুব শিঘ্রই যাবো ।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

Re: ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৫ (মানিকগঞ্জ)

masud3011 লিখেছেন:

ধন্যবাদ সোহেন,
আমার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ ~ তারপরও উল্লেখিত স্থান দুটিতে যাওয়া হয়নি !
খুব শিঘ্রই যাবো ।

যান ঘুরে আসুন, ভালো লাগবে আশাকরি।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।