সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (২৪-০১-২০১০ ১৯:৫৫)

টপিকঃ ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৪ (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহ
    ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১২২ কিঃ মিঃ। মহাখালী বাসষ্ট্যাণ্ড থেকে বাসে যেতে সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘন্টার মত। ভাড়া লাগবে ১০০-১২০ টাকা। ট্রেনেও যাওয়া যায়, ঈশাখাঁ আর বলাকা এক্সপ্রেসে চড়ে। ট্রেনে যেতে কতটা সময় আর ভাড়া লাগে তা আমার জানা নেই।

যাইহোক, সড়কপথে যেতে আপনাকে গাজীপুর পর্যন্ত কিছুক্ষণ পরপর যানজটের মুকাবেলা করতে হবে। পথে যেতে চোখে পরবে ন্যাশনাল পার্ক ও মধুপুর। চমৎকার রাস্তা এখানে, প্রায়শই দেখা যাবে গজারি বনের বুকচিরে চলে গেছে পিচঢালা কালো রাস্তা-সাইসিই ছুটে চলছে গাড়ি। নামনাজানা পাখিরা হঠাত করেই ডেকে ডেকে উড়ে যাবে। হয়তো আচমকাই দেখাতে পাবেন ছোট্ট চঞ্চল কাঠবিড়ালি লাফিয়ে যাচ্ছে একগাছ থেকে আরেক গাছে, অথবা দৌড়ে পার হচ্ছে ব্যস্ত রাস্তা।

ময়মনসিংহে দেখার আছে ময়মনসিংহ যাদুঘর, সোমেস্বর বাবুর রাজবাড়ি, কিশোর রায় চৌধুরীর ভবন, রাজেশ্বরী ট্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজার, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি।
   
ব্রহ্মপুত্র নদ+ পার্কঃ ময়মনসিং এর ভ্রমণস্পট গুলোর মধ্যে উজ্বল উপস্থিতি এই ব্রহ্মপুত্র নদ ও এর পাড়ে গড়ে উঠা চমৎকার পার্কটির। দেখলেই মনে হবে ইশ ঢাকার বুড়িগঙ্গাকে কেন এমন ভাবে সাজানো গেলো না! এখানে দেখবেন নদে স্রোতের টানে ভেসে চলা পালতোলা নৌকা, নদের অপর তীরের কাশবন। অল্প কয়েক বছর আগে এখানে প্রায় চার একর জায়গায় পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এই পার্কটির নাম সাহেব কোয়ার্টার পার্ক। এখানে আসার চারটি পথ আছে। এগুলো হলো শহরের (১) কাঁচিঝুলি মোড় থেকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার সামনে দিয়ে। (২) জেলা প্রশাসকের বাসার সামনে দিয়ে। (৩) সার্কিট হাউস মাঠের দক্ষিণ প্রান্ত পণ্ডিতপাড়া ক্লাবের সামনে দিয়ে এবং (৪) কাচারিঘাটসংলগ্ন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে।
পার্ক ঘেঁষেই ব্রহ্মপুত্র নদে আছে বেশ কটি ঘাট। সেখানে নৌকা বাঁধা থাকে সব সময়। ইচ্ছে করলে এসব নৌকায়ও চড়ে চলে যাওয়া যায় নদের অপর পারে।

মুক্তাগাছার জমিদারবাড়ি বা আটআনি জমিদারবাড়িঃ  ঢাকা থেকে মুক্তাগাছার দূরত্ব ১৮০ কিঃ মিঃ। মহাখালী বাসষ্ট্যাণ্ড থেকে বাসে সরাসরি মুক্তাগাছা যেতে সময় লাগে ২.৩০ ঘন্টার মত। ভাড়া লাগবে ৮০-১০০ টাকা। তাছাড়া ময়মনসিংহ বাসষ্ট্যান্ড থেকে মুক্তাগাছা বাসষ্ট্যান্ড রিকশায় ১০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে মাত্র ২০ মিনিটে ১৬ কিঃ মিঃ পথ বাস কিংবা টেম্পুতে করে যাওয়া যায়। ভাড়া লাগবে ২৫-২০ টাকা। মুক্তাগাছা জমিদার বাড়িতে আছে জলসাঘর, কালি মন্দির, শিব মন্দির, দিঘি, সিন্দুক ইত্যাদি।

শশিলজ বা ময়মনসিংহ রাজবাড়িঃ ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল আন্তজেলা সড়কের পাশে জেলা পরিষদের সাথেই এই বাড়িটি অবস্থিত। বর্তমানে এটি মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এই বাড়িটির নিকটেই আছে পুরুষ শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় যা কিনা ছিল জমিদার পরিবারের বাগান বাড়ি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ খুবই সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ব্রক্ষ্মপুত্রের পাড় ঘেঁষে এর অবস্থান। বিশাল এই ক্যাম্পাসের রুপ বদলাতে থাকে প্রতিটি ঋতুতে।

বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার+নিজাম উদ্দিন আওলিয়ার মাজার (গৌরীপুর): ঢাকা থেকে সরাসরি ময়মনসিংহের বাসে গৌরীপুর এবং সেখান থেকে রিকশায় কেলা তাজপুরে সহজেই যাওয়া যায়। ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে গৌরীপুরের দূরত্ব ২৯ কিঃ মিঃ। ময়মনসিংহ ব্রিজের মোড় থেকে ৩০ মিনিট পরপর বাস গৌরীপুরে যায়। ভাড়া লাগে ১৫-২০ টাকা। ঢাকা বা ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনেও গৌরীপুর যাওয়া যায়। গৌরীপুরের কুমুড়ী গ্রামে ঝুরিয়া নদীর তীরে কেল্লা তাজপুরে আছে বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার। কেল্লা তাজপুরে আরো আছে একটি মাটির কেল্লা। গৌরীপুরে আছে নিজাম উদ্দিন আওলিয়ার মাজার । রামগোপালপুর এবং ডি.কে. লাহিড়ীর জমিদারবাড়ি আছে এখানে। আনন্দ গিরি মঠ। পৌর শহরের রাজেন্দ্র কিশোর স্কুলের সামনে আছে অনন্ত সাগর এছাড়া আছে গঙ্গা সাগরও। উপজেলা প্রশাসন ভবনে রয়েছে জোড়া লাভ পুকুর।


ত্রিশালঃ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের বাসে ২০ কিমি আগেই ত্রিশাল। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণেই সরু একটি রাস্তা। রাস্তার মাথায় একটি গেট। একপাশের দেয়ালে কবি নজরুলের প্রতিকৃতি। গেটের ভেতরে যেতেই চোখে পড়ে নজরুল ডাকবাংলো। সঙ্গেই রয়েছে বিশাল নজরুল মঞ্চ। নজরুল মঞ্চের সামনে বিশাল মাঠ। (নজরুল স্মৃতীবিজড়িত অনেক কিছুই আছে এখানে।)

তিনতরফ রাজবাড়িঃ ময়মনসিংহ শহর থেক এইর দূরত্ব ৩০ কিমি।

ধনবাড়ির জমিদারবাড়ি বা হাসান মঞ্জিলঃ ধনবাড়ির জমিদারবাড়ি খুবই চমৎকার একটি জমিদারবাড়ি, বর্তমানে এই বাড়িটি ব্যবহার অনুপোযোগী বলে পরিত্যক্ত হয়ে আছে।

ধলার জমিদারদের বাড়িঃ ধনবাড়ির জমিদারবাড়ি বা হাসান মঞ্জিলের বিপরীতেই এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। বর্তমানে সরকারী কর্মচারীদের বাসস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মহারাজ সূর্যকান্তের বাড়ীঃ বর্তমানে এ বাড়ীতে সরকারী শহীদ স্মৃতি কলেজ অবস্থিত।

অর্কিড বাগানঃ ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুলমা গ্রামে আছে এটি অর্কিড বাগান।

চীনা মাটির টিলাঃ ধোঁবাউড়া উপজেলা থেকে ১৫কিমি দূরে ভেদিকুড়া, গাছুয়াপাড়া ও মাইজপাড়া গ্রামে আছে চীনা মাটির টিলা।

তেপান্তর ফ্লিম সিটিঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় আছে তেপান্তর ফ্লিম সিটি।

কুমির প্রজনন কেন্দ্রঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় হাতিবেড় গ্রামে আছে এই কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি। ভালুকা শহর থেকে এর দূরত্ব ১৭ কিমি.।


(সূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা, বেড়াই বাংলাদেশ, ইন্টারনেট..)

অনুরোধ: ময়মনসিংহের অন্য কোনো ভ্রমণস্পট আপনার জানা থাকলে এখানে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। তাছাড়া আমার এই লিখা ভালো কি মন্দ লাগলো জানালে খুশি হবো।
ধন্যবাদ আপনাকে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৪ (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম ধন্যবাদ আপনাকে

Re: ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৪ (ময়মনসিংহ)

qshohenq লিখেছেন:

ময়মনসিংহ
   
ময়মনসিংহে দেখার আছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইত্যাদি।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ খুবই সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ব্রক্ষ্মপুত্রের পাড় ঘেঁষে এর অবস্থান। বিশাল এই ক্যাম্পাসের রুপ বদলাতে থাকে প্রতিটি ঋতুতে।

বাংলাদেশে এখন অনেকগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার মধ্যে ময়মনসিংহে যেটি আছে, সেটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যা সংক্ষেপে বা.কৃ.বি. নামে পরিচিত। আপনি এটুকু সংশোধন করে দিয়েন।
আর আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলে আপনাদেরকে স্বাগতম।

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

Re: ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৪ (ময়মনসিংহ)

"qshohenq" ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলাম ময়মনসিংহ সম্পর্কে,এতে করে ময়মনসিংহ বেড়াতে যাওয়ার সময় খুব উপকার হবে সবার।আবার ধন্যবাদ thumbs_up thumbs_up thumbs_up

আমাদের দেশের সকল রাজনীতিবিদদের প্রতি আকুল আবেদনঃ- "আপনারা আপনাদের পরিবারকে যতটুকু ভালবাসেন,জনগনের টাকাকে যতটুকু ভালবাসেন তার চেয়েও কিঞ্চিত পরিমান কম হলেও এই দেশটাকে ভালবাসুন।দেশের মানুষদের ভালবাসুন।দেখবেন সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে"।

Re: ভ্রমণ বাংলাদেশে ০৪ (ময়মনসিংহ)

তপু লিখেছেন:

বাংলাদেশে এখন অনেকগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার মধ্যে ময়মনসিংহে যেটি আছে, সেটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যা সংক্ষেপে বা.কৃ.বি. নামে পরিচিত। আপনি এটুকু সংশোধন করে দিয়েন।
আর আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলে আপনাদেরকে স্বাগতম।

ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিক করে দিলাম। তবে আমার জানা ছিল এর নাম "ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়"।
আপনার আমন্ত্রণ মনে রইলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত