টপিকঃ BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

মানুষের স্বপ্নগুলো নাকি প্রথমে বড় থাকে। আস্তে আস্তে নানা বাস্তবতায় সেগুলো ছোট হয়, হতে থাকে-কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা একসময় মিলিয়েও যায়। আমারও তেমন একটি স্বপ্ন ছিলো- সেই কোনকালে- বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শেষদিকে। স্বপ্নটাকে স্বপ্ন হিসেবেই রেখেছিলাম- কখনও ভাবি নি বাস্তবায়ন করতে পারবো। হঠাৎ একসময় মনে হলো- দেখি না চেষ্টা করে কিছু করতে পারি কিনা! সেই শুরু- বাস্তবায়নের কাজ চলছে এখন।

এর আগে অন্য এক লেখায় বিস্তারিত বলেছিলাম স্বপ্নটার কথা। আবারও বলি, সংক্ষেপে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শেষ দিকে থিসিস করার সময় কিছু জার্নালের আর্টিক্যাল ডাউনলোড করতে পারি নি- পারমিশন কিংবা ক্রেডিট কার্ড নেই বলে। তখনই প্রথম প্রশ্নটা মনে জেগেছিলো- জ্ঞানের জগতে এই বাঁধানিষেধ থাকাটা কি ঠিক? হয়তো ঠিক। জ্ঞান তৈরিতেও তো অর্থ লাগে! সেদিক দিয়ে ঠিকই আছে। কিন্তু তাহলে কি আমার মতো অর্থহীনদের জন্য জ্ঞানার্জন বন্ধ থাকবে?

স্বভাবজ্ঞান বলে- না, থাকবে না। থাকা উচিত নয়।

তাহলে?

তাহলে আর কি! অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে যেখানে পড়ালেখার জন্য সমস্ত জ্ঞান উন্মুক্ত থাকবে। পৃথিবীতে এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে রয়েছে। যেমন- উইকিপিডিয়া। কিন্তু সেখানে তথ্যের সমাহার; বিশেষায়িত জ্ঞানের জন্য গবেষণাভিত্তিক লেখা সেখানে নেই। তাই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার যেখানে ‘শিক্ষা’সম্পর্কিত যাবতীয় লেখা থাকবে। যে কেউ সেখান থেকে লেখা পড়তে পারবে, ডাউনলোড করতে পারবে, জ্ঞানার্জনের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। আমার দেশ যেহেতু বাংলাদেশ, তাই বাংলাদেশের শিক্ষাসম্পর্কিত লেখাগুলোই সেখানে প্রাধান্য পাবে।

http://h.imagehost.org/0156/goutamblog_1257078341_1-bdeduarticle_gif.jpg

সেই থেকে শুরু http://www.bdeduarticle.com -এর যাত্রা, যার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় ২০০৯ সালের মার্চের ১৪ তারিখে। ইতোমধ্যে সাইটটি ১০০ লেখার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এটুকু দাবি করা যায়- খুব খারাপ লেখা সেখানে নেই, কিন্তু বেশ কিছু ভালো লেখা পাওয়া যাবে। ভালো-খারাপ সব মিলিয়েই এই একশটির বেশি লেখা বাংলাদেশের শিক্ষাকে তুলে ধরেছে নানা দিক থেকে। এগুলোর মধ্যে যেমন গবেষণাধর্মী লেখা আছে, তেমনি আছে কেস স্টাডি, অ্যাকাডেমিক লেখা, বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ, কলাম ইত্যাদি।

যেভাবে চলছে
নাম না দিয়ে নিজের একটি লেখা দিয়েই সাইটটির কাজ শুরু করেছিলাম। সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব, অ্যাকাডেমিশিয়ান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- সবার কাছেই লেখা চেয়েছি। কেউ কেউ লেখা দিয়েছেন, কেউ কেউ দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। কেউ বা কোনো কথাই দেন নি। কিন্তু সবাই উৎসাহ দিয়েছেন অফুরান। লেখা চেয়েছি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকেও। পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে অনেক সংস্থা থেকে অনুমতি আসতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন অনেক সংস্থার প্রধানরাই। সবার আগে অনুমতি পেয়েছি আমার কর্মস্থল ব্র্যাক গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের লেখাগুলো প্রকাশের। তৎকালীন পরিচালক ইমরান মতিন সাইটের উদ্দেশ্য জেনে সাথে সাথেই অনুমতি দিয়ে দেন। তাঁকে ধন্যবাদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক তাদের সমস্ত লেখা এই সাইটে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। তাঁদেরকেও ধন্যবাদ। অনুমতি দেওয়ার এই পাইপলাইনে আছে আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান- দেশের ও বিদেশের।

এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর মানুষ সাইট তৈরির পর থেকে উৎসাহ দিয়েই যাচ্ছেন। অনেকে লেখা দিচ্ছেন নিয়মিত, কেউ কেউ লেখা যোগাড়ও করে দিচ্ছেন। কেউ কেউ নিয়মিত সাইট ভিজিট করছেন, কেউ মন্তব্য করছেন। কেউ ইমেইলে নিয়মিত পরামর্শ পাঠাচ্ছেন। পরিচিতদের যে যেভাবে পারেন, সেভাবেই উৎসাহ দিচ্ছেন, সাহায্য করছেন। যদিও উদ্যোগটি আমার, কিন্তু তাঁদের সবার নানামাত্রার সম্পৃক্ততা সাইটটি ভালোভাবে চলার পাথেয়।

যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
সাইটটি তৈরির সময় এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞানও আমার ছিলো না। সুতরাং সাহায্য নিতে হয়েছে বিভিন্নজনের কাছ থেকে। নানান ধরনের কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে জুমলাটাকে ভালো লাগলো। গুগলিং করে, ইবুক ডাউনলোড করে কিছুটা জুমলা শিখলাম, অবশ্যই শিখতে গিয়ে অনেককে বিরক্ত করতে হয়েছে। পুরো সাইটটি তৈরি করা জুমলা দিয়ে। সাইটটি ডোমেইন নেম, স্পেস ইত্যাদি বিষয়ে সোলার সফটওয়্যার সিস্টেমের সিইও আননূর রহমান বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন। সাইট চালুর পর নানা কারণেই একের পর এক ঝামেলা দেখা দিতে থাকে। পিএইচডি থিসিস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানোর পরও সচলায়তনের সহমর্মী আলমগীর ভাইকে বিরক্ত করেছি। তিনি অনেক খুঁটিনাটি টেকনিক্যাল বিষয়ে সহায়তা করেছেন। সহকর্মী রিফাত আফরোজ বিভিন্নজনের কাছ থেকে লেখা আনার ব্যাপারে সহায়তা করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব মালয়-এর সিনিয়র লেকচারার গাজী মাহবুবুল আলম লেখা ও বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে সাহায্য করেছেন। এ সম্পর্কিত একটি লেখা লিখেছেন সামহোয়্যারইনের কৌশিক। সময়ে সময়ে বিভিন্ন উপদেশ ও মন্তব্য দিয়ে সহায়তা করেছেন শেভরন বাংলাদেশের পলাশ বসাক ও ইউনিভার্সিটি অব জর্জ ওয়াশিংটনের পিএইচডি গবেষক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লেকচারার মোহাম্মদ মিজানুর রশিদ শুভ্র। ডি. নেটের আসাদুজ্জামান আসাদ লেখা দিয়ে ও নানাজনকে সাইটের কথা বলেছেন সময়ে সময়ে। নানা ধরনের খুঁটিনাটি সাহায্য করেছেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির তামান্না কলিম। প্রজন্ম ফোরামের বন্ধুদের কাছ থেকে নানা ধরনের টেকনিক্যাল সহায়তা। এরকম প্রচুর মানুষ আমাকে সাহায্য করেছেন যাদের অবদানের কারণেই আজকের এই সাইট- সবার নাম উল্লেখ করতে গেলে বিশাল তালিকা হয়ে যাবে। আর যারা লেখা দিয়েছেন, তাদের সহায়তার কথা উল্লেখ নাই করলাম! তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হতো না, যদি না তারা আমার পাশে থাকতেন। সবচেয়ে বড় কথা, যে স্লোগান দিয়ে সাইটটি শুরু করেছিলাম, Knowledge is power only when it is shared, তাঁরা সেটিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রভুত সহায়তা করেছেন।

অর্থই অনর্থের মূল
থাকলে অফুরান আনন্দের উৎস, না থাকলে টাকা-পয়সা খুব খতরনাক বিষয়। একটি সাইট তৈরি করে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজনের কাছে ধর্না দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যখন হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম, তখনই জুমলার সাথে পরিচয়। কিছুদিন ঘাটাঘাটি করে নিজের ল্যাপটপে একটা সাইট তৈরিও করে ফেললাম। ব্যস, আর পায় কে! কয়েকদিনের মধ্যে ডোমেইন নেম আর স্পেস কিনে যাত্রা শুরু করলাম।

ডোমেইন নেম আর স্পেস কিনতে গিয়ে আরেক অভিজ্ঞতা। পকেট থেকে বেশকিছু টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্রথমে ফ্রিতে করার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না। নানা জনে ভয় দেখালেন, ফ্রিতে করে অমুক হ্যাপা, তমুক হ্যাপা। তাঁদের পরামর্শ মেনে শেষ পর্যন্ত কারো কাছে হাত না পেতেই কাজ শুরু করে দিলাম।

সাইট চালু হওয়ার পর গুগল অ্যাডসেন্সের দ্বারস্থ হলাম। প্রবল জনপ্রিয় এই মাধ্যমটি নিয়ে প্রথমদিকে বেশ চিন্তাগ্রস্তই ছিলাম- না জানি কী সব অ্যাড দেখায়! কিছুদিন ব্যবহারের পর মোটামুটি নিঃশঙ্ক হলাম যে, তারা উল্টাপাল্টা কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না। সেই থেকে গুগল অ্যাডসেন্স চালু রাখলাম। পকেটের পয়সা খরচ করে সাইট তৈরি ও মেইনটেইনেন্সের মতো সামর্থ্য নেই, ফলে এর দ্বারস্থ হতেই হলো। উদ্দেশ্য- সাইটের খরচটুকু তুলে আনা। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত থাকলে বাড়তি টাকা দিয়ে ঠিক একই রকম আরেকটি সাইট বানানোর চিন্তা আছে- আমার প্রিয় বাংলায়। সেখানে শিক্ষাবিষয়ক সব বাংলা লেখা থাকবে, থাকবে বাংলায় ভাবনাচিন্তা বিনিময় করার সহায়ক উপাদানগুলো। যারা বিভিন্ন কারণে ইংরেজিতে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারাও তখন এখানে বাংলায় লিখতে পারবেন সহজেই। না, সাইটের খরচ উঠে আসে নি, কিন্তু ছোট্ট সুখবর এই যে, বাংলা সাইট বানানোর কারিগরি দিকটি তৈরি করে রাখা হচ্ছে। যে কোনোদিন হুট করেই হয়তো শিক্ষাবিষয়ক এরকম একটি বাংলা সাইট চালু হয়ে যাবে।

শেষ কথা
এই লেখাটা কেন লিখলাম? নিজের আনন্দটুকু প্রকাশের জন্য, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ে যারা ভাবেন, চিন্তা করেন, লিখেন- তাঁদের অনুরোধ করার জন্য যে, আপনার মতামত কিংবা লেখাটা পাঠিয়ে দিন সাইটের ঠিকানায়। শিক্ষা নিয়ে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ভাবনা আছে, আছে নিজস্ব মতামত- সেগুলোই পাঠিয়ে দিন। আপনার-আমার ছোটখাট ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন অনেক বড় হয়ে উঠবে, দেশের শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তপু (২৮-১১-২০০৯ ২১:০৮)

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

সুন্দর কাজ।
অনেক আগে একবার ভিজিট করেছিলাম।
আমি কি আমার লেখা ও প্রকাশিত আর্টিকেলগুলো দিতে পারব? ওগুলো পিডিএফ হিসাবে আছে।

একটু আপডেটঃ
টারসিয়ারি লেভেলকে Higher education level বললে ভাল হয়।
আর প্রত্যেক লেভেলে বিষয়ভিত্তিক সাব-হেডার যোগ করে সেখানে লেখাগুলো যোগ করলে আরো ভাল হয়, যারা খুজঁবে তাদের জন্য।

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন গৌতম (০১-১২-২০০৯ ০৭:৪৭)

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

তপু লিখেছেন:

আমি কি আমার লেখা ও প্রকাশিত আর্টিকেলগুলো দিতে পারব? ওগুলো পিডিএফ হিসাবে আছে।

অবশ্যই দিতে পারবেন। লেখা পুরনো কিংবা নতুন বিষয় নয়— লেখার মান ও বিষয়বস্তুই মূল। তবে আপনার লেখা সবাই যাতে জ্ঞানার্জনের কাজে ব্যবহার করতে পারে, সেই অনুমতি দিতে হবে এবং পিডিএফ বাদ দিয়ে এমএসওয়ার্ড ফরম্যাটে দিতে হবে। সাথে ছবিও দিতে পারেন। লেখা অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে শিক্ষাসম্পর্কিত হতে হবে। ধন্যবাদ।

আপডেট:
টারশিয়ারি লেভেলকে হায়ার এডুকেশন বলা যায়, কিন্তু হায়ার এডুকেশনের কনসেপ্ট আমাদের এখানে মোটামুটি মাস্টার্স পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এর পরের স্তরগুলোকে অনেকেই হায়ার এডুকেশনের মধ্যে ফেলতে চান না। যে কারণে সবগুলোকে মিলিয়ে টারশিয়ারি বলা হয়েছে। তবে এটা নিয়ে আরও ভাবা যেতে পারে।

আর আপনার দ্বিতীয় প্রস্তাবটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই এ ব্যাপারে আরও চিন্তাভাবনা করা হবে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

প্রথমেই বলতে হয় খুবই ভালো উদ্যোগ। এরকম উদ্যোগী মানুষ সমাজে পাওয়া বড়ই মুশকিল। আমি কয়েক বছর আগে আপনার সাইটের মত একটি সাইট করার চেষ্টা করেছিলাম। কিছু দূর এগোনোর পর আমার স্পৃহা দমে যায়। আপনি উদ্যমী হয়ে শেষ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন এটাই বড় সাফল্য আমার কাছে মনে হয়।

সাইট সম্পর্কে কিছু কথাঃ
সাইটের রঙএর বিন্যাস কিছুটা মন মরা মন মরা টাইপের মনে হয়েছে। শিক্ষা সংক্রান্ত সাইটে আরেকটু আকর্ষণীয় একটু উজ্বল রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যানারের ব্যাকগ্রাউন্ডে সুন্দর একটি ছবি দেয়া যেতে পারে। মাঝে মাঝে পরিবর্নত করা যেতে পারে।

জুমলাতে mod_rewrite ব্যবহার করে ভালই করেছেন। নিয়মিত জুমলা আপডেট করবেন এবং ব্যাকআপ রাখবেন। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে কে জানে। সাইট যত জনপ্রিয় হয় হ্যাকারদের আনাগোনা ততই বাড়তে থাকে। নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে ডোমেইন কিনেছেন তো?

আরাফাত রহমান
Web Application Developer
চি‌ৎকার করতে করতে গলাটা ফাইট্টা গেছে (প্রজন্ম ফোরামে)

আরাফাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

আরাফাত লিখেছেন:

জুমলাতে mod_rewrite ব্যবহার করে ভালই করেছেন। নিয়মিত জুমলা আপডেট করবেন এবং ব্যাকআপ রাখবেন। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে কে জানে। সাইট যত জনপ্রিয় হয় হ্যাকারদের আনাগোনা ততই বাড়তে থাকে। নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে ডোমেইন কিনেছেন তো?

হুমম। এসব তো করতেই হবে।  hehe

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

ধন্যবাদ আরাফাত ও শিপলু।

সাইট সম্পর্কে আপনার পরামর্শগুলো মাথায় রাখলাম। ভবিষ্যতে এগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। আর আপনি ঠিকই বলেছেন- রঙটা আরেকটু উজ্জ্বল হলে ভালো হতো। ব্যানার পরিবর্তনের পরামর্শটাও দারুণ। সমস্যা হলো কি- আমি নিজে টেমপ্লেট বানাতে পারি না। এই ফোরামেরই একজনকে দিয়ে বর্তমান টেমপ্লেটটি বানিয়েছি কিন্তু প্রত্যাশানুযায়ী সার্ভিস পাই নি। টেমপ্লেট নিয়ে আমার কিছু চিন্তাভাবনা ছিলো। এমন কাউকে যদি পাই যিনি সাইটটির কথা মাথায় রেখে আন্তরিকভাবে টেমপ্লেট বানিয়ে দিতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী আফটার সেলস সার্ভিস দিতে পারবেন, তাহলে পরবর্তী সময় টেমপ্লেট বানানোর ব্যাপারে আপনার পরামর্শটা অবশ্যই তাকে জানাবো।

আর হ্যাঁ, নিয়মিত আপডেট করা ও ব্যাক-আপ রাখার চেষ্টা করি।

আপনাদেরকে আবারও ধন্যবাদ।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

গৌতম ভাই, আপনি বেশ সুন্দর করে লিখতে পারেন। একটা অবাক করা বিষয় দেখেছি - যারা ইংরেজিতে ভাল তারা বাংলাও বেশ গুছিয়ে লিখতে পারে। তা যাই হোক, আপনার সাথে প্রথম যোগাযোগ সামহোয়্যারইনে। তারপর মেইলও করেছিলাম। জবাবও পেয়েছিলাম। তবে দুঃখ, ব্যস্ততার কারণে মেইলের রিপ্লাইও করতে পারিনি। (sorry about that.)

আপনার সঙ্গে আমার মিল আছে বেশ। তবে আমি আপনার মত ভাগ্যবান নই। আমি যখন আমার সাইটের আইডিয়া বের করলাম সবার উৎসাহ পাবার বদলে নিরুৎসাহ পেয়েছি - বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের। বিশেষ করে প্রায় সবাই বলেছিল বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইট খোলার কোনো মানে হয় না, অনেক ঝামেলা, চলবেও না। তারপরও অনেক ঘেটে, অনেক গবেষণা (!) করে বের করলাম ওয়েবপেজে ইউনিকোড বাংলা লেখার পদ্ধতি। পরে HTML ও জাভাস্ক্রিপ্ট এর বেসিক জ্ঞানের সাহায্যে এবং 110mb.com-এর ফ্রি হোস্টিং দিয়ে সাইটটা চালু করলাম। অটোমেটিক ফন্ট ডিটেকশন সিস্টেম (প্রস্তুতি উইজার্ড)ও রাখলাম যাতে সহজেই ভিজিটররা বাংলা ফন্ট ডাউনলোড করতে পারে। চালু করার পর যারা নিরুৎসাহিত করেছিলো তারাই বাহবা দিতে লাগলো। সামহোয়্যারইনে সাইটটার উপর একটা লেখা দিয়েছিলাম। তারাও একচোট উৎসাহ দিলেন। সেই লেখাটার রেফারেন্স দিয়ে wmstalk নামের দেশি একটা ফোরামে লিখলাম, ওই সাইটের এবং wev2 হোস্টিং ব্যবসার মালিক আহমেদ নিতুল সাইটটা দেখে এতটাই পছন্দ করলেন যে তিনি আমাকে আজীবন ফ্রি হোস্টিং ও ফ্রি ডোমেইন সুবিধা দিলেন (এদিক থেকে আমি একটু ভাগ্যবান smile )। কিছুদিন পরে একটি ফোরামও চালু করলাম যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারে (যদিও সেটা খুব একটা জনপ্রিয় হয় নি)।

তবে সমস্যা হল এখনো আমাকে নতুন নোট দিতে গেলে HTML এডিট করে ম্যানুয়ালি পেজ তৈরি করতে হয়। এই সমস্যা দূর করার জন্য একটা সফটওয়্যার বানানোর চেষ্টা করছি। এজন্য আপনাদের মত জ্ঞানী-গুনী মানুষের শুভাকাঙ্ক্ষা প্রয়োজন।

এই দেখুন আপনার খোলা টপিকে কেমন স্বার্থপরের মত নিজের ওয়েবসাইট নিয়ে বক বক করছি। আপনার ওয়েবসাইটটি অনেকদিন পর ভিসিট করলাম। আগের চেয়ে ভাল হয়েছে। হোমপেজটাকে আরো তথ্যবহুল মনে হয় এখন। তবে স্যরি - একটা জিনিস আমার ভাল লাগে নি। সবার জন্য উন্মুক্ত জ্ঞান সরবরাহ করার জন্য আপনার সাইটটি শুরু করা হয়েছে। কিন্তু যেকেউ লেখা জমা দিতে গেলে নিজে নিজে ওয়েবসাইটে জমা দিতে পারে না - এটাকে উন্মুক্তের বিপরীত বলে মনে হয় - যেখানে উইকিপিডিয়াতে লেখার জন্য রেজিস্টারও করা লাগে না। নিজে রেজিস্টার করে সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট জমা দিতে পারবে (এবং প্রয়োজনে সেটার প্রকাশ করার ক্ষমতা আপনার উপর থাকলো) এরকম একটা সিস্টেম থাকলে ভাল হত। আমি জানি না জুমলায় এরকম সিস্টেম আছে কিনা, তবে ওয়ার্ডপ্রেসে দেখেছি। (তৃতীয়বারের মত স্যরি - সমালোচনা করলাম। big_smile )

সাথে সাথেই আপনার আনন্দে আমিও আনন্দিত। আপনার সাইটে ১০০ লেখা পূর্ণ হয়েছে এজন্য আপনাকে অভিনন্দন। আশা করি এই সাইটটি চিরদিন থাকুক এবং ১০০০ লেখা, ১০০০০ লেখা পূর্ণ হোক। বাংলা ওয়েবসাইটে কোন সাহায্য লাগলে বলবেন।

Put the fun back into programing, Code in Lazarus to create cross platform, easily deployable software. Visit:
A planet of Lazarus users

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

অনেক অনেক ধন্যবাদ আদনান ভাই। আর হ্যাঁ, আপনার সাথে যোগাযোগটাও হলো অনেক দিন পর।

আমি মাঝে মাঝেই আপনার সাইটটি দেখি। বেশ ভালো কাজ। চালিয়ে যান। একসময় ধারণা ছিলো যে এটিতে শুধু নোটজাতীয় কিছু দেয়া হবে, কিন্তু সাইটটি সেদিকে যায় নি দেখে ভালো লাগলো। তবে আপনার মতো কারিগরি জ্ঞান আমার নেই, জাস্ট জুমলা আর ওয়ার্ডপ্রেস কিছুটা জানি। সেগুলো দিয়েই সাইটটি মেনটেইন করার চেষ্টা করছি।

আর স্যরি বলার কিছু নেই। এই সমালোচনাগুলোই তো কাজে লাগে, এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি ঠিকই ধরেছেন, ওখানে সরাসরি পোস্ট করার ব্যবস্থা রাখি নি, কারণ অভিজ্ঞতা বলে— অনেকে ভুল ইংরেজিতে কয়েক লাইন লিখেই পোস্ট করে দেয়। ন্যূনতমমান বজায় রাখার জন্যই এই ব্যবস্থাটা করা। তবে যারা ইমেইলে লেখা পাঠান, তাদের লেখা (প্রয়োজনে লেখককে দিয়ে সংশোধন করিয়ে) অবশ্যই ছাপা হয়। কারও লেখা পারতপক্ষে বাদ দেওয়া হয় না।

তবে বাংলায় আরেকটি সাইট বানাচ্ছি যেখানে সবাই রেজিস্ট্রেশন করে শিক্ষাবিষয়ক লেখা দিতে পারবে। এই সমস্যাটা বাংলা সাইটে থাকবে না।

আর আপনার সাহায্য দরকার। বিশেষ করে লেখা দিয়ে প্রভূত সাহায্য করতে পারেন। বাংলা ও ইংরেজি— উভয় সাইটে নতুন বা পুরনো লেখা বলে কিছু নেই। শিক্ষাসম্পর্কিত লেখা যেগুলো মানুষের কাজে আসবে, সেরকম যে কোনো লেখাই ওখানে থাকতে পারে। আশা করি আপনি লিখবেন, অন্যকেও লিখতে বলবেন।

দীর্ঘ মন্তব্য করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

4 minutes and 13 seconds after:

জরিপে বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করেছেন দেখে ভালো লাগলো। সাইটটি সম্পর্কে অনেকেই মতামত জানিয়েছেন যেগুলো সাইটের উন্নয়নে কাজে লাগবে। অন্যদের কাছেও অনুরোধ থাকবে মন্তব্য বা পরামর্শ জানানোর জন্য, বিশেষ করে যারা মনে করছেন সাইটটি ভালো না, তাদেরকে অনুরোধ করবো কী কী খারাপ লেগেছে সেগুলো জানানোর জন্য। আপনার সমালোচনাই সাইটটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ধন্যবাদ।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

এমএস ওয়ার্ড ফরম্যাটেই দিতে হবে, জিনিসটাই ভাল লাগল না। যারা ওয়ার্ড ব্যবহার করে না, তারা কী করবে?

১০

Re: BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা

স্বপ্নচারী লিখেছেন:

এমএস ওয়ার্ড ফরম্যাটেই দিতে হবে, জিনিসটাই ভাল লাগল না। যারা ওয়ার্ড ব্যবহার করে না, তারা কী করবে?

দুঃখিত, ওটা আসলে অভ্যাসবশে লিখেছি। আসলে পাঠাতে হবে ওয়ার্ড ফরম্যাটে। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে .doc, .odt বা .docx, এমনকি টেবিল বা ছবি বা গ্রাফ না থাকলে .txt ফাইল ফরম্যাটে পাঠালেও চলবে।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...