টপিকঃ ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

সাবধান পোষ্টটা অত্যাধিক বড...

অধিকাংশ তথ্যই মেজর ডালিমের লিখিত বই এবং তার ওয়েব সাইট থেকে নেওয়া।



আজকে যেন কি মনে করে যেন রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিভাগে ঢুকলাম।ফোরামিস্ট পূরবের এই উক্তিখানা দেইখা এই পোষ্টটা। উনি বলছেন ''ডালিমের স্ত্রীর মত সুন্দরী স্ত্রী'' কাহিনী যা মাথায় ধরছে তাতে মনে হইল ঐযে শেখ কামাল ডালিমের বৌরে হাইজ্যাক করছে ঐটা বুঝাইছেন।
কিন্তু কাহিনী হইল ডালিম জানেনা যে তার বউরে হাইজ্যাক করছে কিন্তু অনেকেই জানে(পূরব ভাইয়ের মত) তার বউ হাইজ্যাক হইছে।
ডালিম তার জিবদ্দশায় কখনও বলে নাই যে শেখ পরিবারের কারো দ্বারা তার কোন ক্ষতি হইছে। বরং শেখ পরিবারের সাথে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা অনেক বলেছেন। মুজিবের অনেক বদান্যতার কথাও তার অনেক লেখায় খুজে পাওয়া যায়।
শেখ কামালের সাথে তার এবং তার বউ নিম্নীর সম্পর্কঃ
এখানে

লেখাটা এইখানে সরাসরিও দিলাম


একরাতে হঠাৎ করে শেখ কামাল, সাহান এবং তারেক এসে উপস্থিত আমার কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসায়। সাহান ও তারেক ছিল কামালের বিশেষ ঘনিষ্ট বন্ধু।

কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন বেশ রাত করেই শেখ কামাল, সাহান এবং তারেক কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আমার বাসায় এসে হাজির। রাত তখন প্রায় ১১টা বাজে। এতরাতে কোন খবর না দিয়ে ওদের আগমণে কিছুটা আশ্চর্য হয়েছিলাম।

-কি ব্যাপার কামাল। তোমরা এত রাতে এখানে ? প্রশ্ন করলাম।

-বস সরি! কিন্তু উপায় নাই। রাতটা আপনার বাসায় নিরাপদে কাটাবো বলেই এলাম। সকালে এসেছি পার্টির কাজে। সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম শহরে। খবর দেবার সময়ও পাইনি। কিছুক্ষণ আগে কাজ শেষ হল। দিনকাল খারাপ তাই ভাবলাম শহরে না থেকে আপনার কাছে চলে আসি।

-তা বেশ করেছো। শহরেতো আজ গোলাগুলিও হয়েছে শুনলাম।

-না বস। গোলাগুলি না; এই একটু রংবাজী আর কি! জানাল কামাল। এরি মধ্যে নিম্মী খাবারের বন্দোবস্ত করে এসে বলল,

-সবার মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে কারোই খাওয়া হয়নি, এসো খেয়ে নাও; তারপর কথা বলার জন্য সারারাত পড়ে আছে।

-নিম্মী You are really great বলল কামাল। সবাই হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেল। এরা তিনজনেই বিশেষভাবে পরিচিত এবং আপনজন। খাওয়ার মাঝেই সাহান বলে উঠল,
-ডালিম ভাই কামাল বিয়ে করছে।
-তাই নাকি! তা হঠাৎ করে বিয়ে কি বিষয়?
-না মানে, সবাই ধরছে; না করে আর উপায় কি বস ? রাজি হতেই হল।
-এত খুবই সুখবর। তা তোমার স্কলারশীপের কি হল? সস্ত্রীক যাচ্ছ নাকি? জানতে চাইলাম আমি।
-যাওন যাইবো না বস। পড়ালেখা করার সময় নাই। এরপর কামাল র্শাটের কলারের একপ্রান্ত আঙ্গুল দিয়ে নাড়িয়ে বেশ একটু গর্বের সাথেই বলল,
- Future Prime Minister বুঝতেইতো পারেন কত কাম। একদম সময় নাই।
-সেটাতো বুঝতেই পারছি; কিন্তু There is no short cut to knowledge. মাত্রতো ২-৪ বছরের ব্যাপার ছিল। লেখাপড়াটা সেরে আসলে ভবিষ্যতে একজন Educated Prime Minister পেতাম। This is my only interest nothing else. তাই বলা আর কি। তাছাড়া আগামী দু’চার বছরেতো চাচা রিটায়ার করছেন না; সেক্ষেত্রে স্কলারশীপটা avail করলেই পারতে। দেখ কামাল, চাচা বলেন তিনি প্রায় সর্বমোট ১৭ বছর জেল খেটেছেন পাক আমলে। জেলে থাকাকালীন অবস্থায় পৃথিবীর প্রায় সব নামি-দামী নেতারা বিস্তর লেখাপড়া করেছেন। আমাদের ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের লাইব্রেরীটাও শুনেছি খুবই rich. জেলে থাকাকালীন সময়টার যথাযধ সদব্যবহার করে চাচা কিন্তু তেমন একটা লেখাপড়া করেননি। সময়টাকে কাজে লাগালে আজ তারই অনেক সুবিধা হত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে। কি কথাটা ঠিক বললাম কি না? ওরা সবাই আমার কথা শুনছিল আর খাচ্ছিল। কামাল কিংবা অন্যদের কেউ কোন উত্তর দিল না। আমার কথাগুলো সম্ভবত ওদের মনঃপুত হয়নি। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা আলাপ করে সবাই শুয়ে পড়েছিলাম। পরদিন নাস্তার পর ওরা ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা হয়ে গেল। 

৩২ নম্বরের সাথে তার সম্পর্কের কথাও এখানে আছে

এইবার দেখাযাক তার বউরে কেমনে কি করছে সে কি বলে এইখানে
আবারো পুরা লেখাটা দিলামঃ

>রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। দুস্কৃতিকারী দমন অভিযানে সেনাবাহিনী তখনও সারাদেশে নিয়োজিত। আমার খালাতো বোন তাহ্‌মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই। বিয়ের দু’দিন আগে ঢাকায় এলাম কুমিল্লা থেকে। ঢাকা লেডিস ক্লাবে বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই বিয়েতে অনেক গন্যমান্য সামরিক এবং বেসামরিক লোকজন বিশেষ করে হোমরা-চোমরারা এসেছিলেন অতিথি হিসেবে। পুরো অনুষ্ঠানটাই তদারক করতে হচ্ছিল নিম্মী এবং আমাকেই। আমার শ্যালক বাপ্পি ছুটিতে এসেছে ক্যানাডা থেকে। বিয়েতে সেও উপস্থিত। বিয়ের কাজ সুষ্ঠভাবেই এগিয়ে চলেছে। রেডক্রস চ্যেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারও উপস্থিত রয়েছেন অভ্যাগতদের মধ্যে। বাইরের হলে পুরুষদের বসার জায়গায় বাপ্পি বসেছিল। তার ঠিক পেছনের সারিতে বসেছিল গাজীর ছেলেরা। বয়সে ওরা সবাই কমবয়সী ছেলে-ছোকরা। বাপ্পি প্রায় আমার সমবয়সী। হঠাৎ করে গাজীর ছেলেরা পেছন থেকে কৌতুকচ্ছলে বাপ্পির মাথার চুল টানে, বাপ্পি পেছনে তাকালে ওরা নির্বাক বসে থাকে। এভাবে দু’/তিনবার চুলে টান পড়ার পর বাপ্পি রাগান্বিত হয়ে ওদের জিজ্ঞেস করে,
-চুল টানছে কে?
-আমরা পরখ করে দেখছিলাম আপনার চুল আসল না পরচুলা। জবাব দিল একজন। পুচঁকে  ছেলেদের রসিকতায় বাপ্পি যুক্তিসঙ্গত কারণেই ভীষণ ক্ষেপে যায়; কিন্তু কিছুই বলে না। মাথা ঘুরিয়ে নিতেই আবার চুলে টান পরে। এবার বাপ্পি যে ছেলেটি চুলে টান দিয়েছিল তাকে ধরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে,
-বেয়াদপ ছেলে মশকারী করার জায়গা পাওনি? খবরদার তুমি আর ঐ জায়গায় বসতে পারবে না। এ কথার পর বাপ্পি আবার তার জায়গায় ফিরে আসে। এ ঘটনার কিছুই আমি জানতাম না। কারণ তখন আমি বিয়ের তদারকি এবং অতিথিদের নিয়ে ভীষণভাবে ব্যস্ত। বিয়ের আনুষ্ঠিকতার প্রায় সবকিছুই সুষ্ঠভাবেই হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়ার পর্বও শেষ। অতিথিরা সব ফিরে যাচ্ছেন। সেদিন আবার টেলিভিশনে সত্যজিৎ রায়ের পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি ‘মহানগর’ ছবিটি দেখানোর কথা; তাই অনেকেই তাড়াতাড়ি ফিরে যাচ্ছেন ছবিটি দেখার জন্য। অল্প সময়ের মধ্যেই লেডিস ক্লাব প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। মাহবুবের আসার কথা। মানে এসপি মাহবুব। আমাদের বিশেষ ঘনিষ্ট বন্ধুদের একজন। আমরা সব একইসাথে যুদ্ধ করেছি স্বাধীনতা সংগ্রামে। কি এক কাজে মানিকগঞ্জ যেতে হয়েছিল তাকে। ওখান থেকে খবর পাঠিয়েছে তার ফিরতে একটু দেরী হবে। ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরা সবেমাত্র তখন খেতে বসেছি। হঠাৎ দু’টো মাইক্রোবাস এবং একটা কার এসে ঢুকল লেডিস ক্লাবে। কার থেকে নামলেন স্বয়ং গাজী গোলাম মোস্তফা আর মাইক্রোবাস দু’টো থেকে নামল প্রায় ১০-১২ জন অস্ত্রধারী বেসামরিক ব্যক্তি। গাড়ি থেকেই প্রায় চিৎকার করতে করতে বেরুলেন গাজী গোলাম মোস্তফা।
-কোথায় মেজর ডালিম? বেশি বার বেড়েছে। তাকে আজ আমি শায়েস্তা করব। কোথায় সে? আমি তখন ভেতরে সবার সাথে খাচ্ছিলাম। কে যেন এসে বলল গাজী এসেছে। আমাকে তিনি খুঁজছেন। হঠাৎ করে গাজী এসেছেন কি ব্যাপার? ভাবলাম বোধ হয় তার পরিবারকে নিয়ে যেতে এসেছেন তিনি। আমি তাকে অর্ভ্যথনা করার জন্য বাইরে এলাম। বারান্দায় আসতেই ৬-৭জন স্টেনগানধারী আমার বুকে-পিঠে-মাথায় তাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘিরে দাড়াল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমিতো হতবাক! কিছুটা অপ্রস্তুতও বটে। সামনে এসে দাড়ালেন স্বয়ং গাজী। আমি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-ব্যাপার কি? এ সমস্ত কিছুর মানেই বা কি?
তিনি তখন ভীষণভাবে ক্ষীপ্ত। একনাগাড়ে শুধু বলে চলেছেন,
-গাজীরে চেন না। আমি বঙ্গবন্ধু না। চল্‌ শালারে লইয়া চল্‌। আইজ আমি তোরে মজা দেখামু। তুই নিজেরে কি মনে করছস?
অশালীনভাবে কথা বলছিলেন তিনি। আমি প্রশ্ন করলাম,
-কোথায় কেন নিয়ে যাবেন আমাকে?
আমার প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তিনি নির্দেশ দিলেন তার অস্ত্রধারী অনুচরদের। তার ইশারায় অস্ত্রধারীরা সবাই তখন আমাকে টানা-হেচড়া করে মাইক্রোবাসের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। বিয়ের উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বন্দোবস্ত করা হয়েছে; গাড়িতে আমার এস্কট সিপাইরাও রয়েছে। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। একটা বিয়ের অনুষ্ঠান। কন্যা দান তখনও করা হয়নি। কি কারণে যে এমন অদ্ভুত একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ দেখলাম বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আলম এবং চুল্লুকে মারতে মারতে একটা মাইক্রোবাসে উঠালো ৩-৪ জন অস্ত্রধারী। ইতিমধ্যে বাইরে হৈ চৈ শুনে নিম্মী এবং খালাম্মা মানে তাহমিনার আম্মা বেরিয়ে এসেছেন অন্দরমহল থেকে। খালাম্মা ছুটে এসে গাজীকে বললেন,
-ভাই সাহেব একি করছেন আপনি? ওকে কেন অপদস্ত করছেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে? কি দোষ করেছে ও?
গাজী তার কোন কথারই জবাব দিলেন না। তার হুকুমের তামিল হল। আমাকে জোর করে ঠেলে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বাসে উঠে দেখি আলম ও চুল্লু দু’জনেই গুরুতরভাবে আহত। ওদের মাথা এবং মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
-ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।
-ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।
গাজীর ইশারায় ওদেরকেও ধাক্কা দিয়ে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বেচারী খালাম্মা! বয়স্কা মহিলা, আচমকা ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন মাইক্রোবাসের ভিতরে। আমার দিকে অস্ত্রতাক করে দাড়িয়ে থাকলো পাঁচজন অস্ত্রধারী; গাজীর সন্ত্রাস বাহিনীর মাস্তান। গাজী গিয়ে উঠল তার কারে। বাকি মাস্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটা কোথায় যেন চলে গেল। মাইক্রোবাস দুইটি ছিল সাদা রং এর এবং তাদের গায়ে ছিল রেডক্রসের চিহ্ন আঁকা। গাজীর গাড়ি চললো আগে আগে আর আমাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি চললো তার পেছনে। এসমস্ত ঘটনা যখন ঘটছিল তখন আমার ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হক স্বপন বীর বিক্রম ও বাপ্পি লেডিস ক্লাবে উপস্থিত ছিল না। তারা গিয়েছিল কোন এক অতিথিকে ড্রপ করতে। আমাদের কাফেলা লেডিস কা্লব থেকে বেরিয়ে যাবার পর ওরা ফিরে এসে সমস্ত ঘটনা জানতে পারে লিটুর মুখে। সবকিছু জানার পরমুহুর্তেই ওরা যোগাযোগ করল রেসকোর্সে আর্মি কন্ট্রোল রুমে তারপর ক্যান্টনমেন্টের এমপি ইউনিটে। ঢাকা ব্রিগেড মেসেও খবরটা পৌঁছে দিল স্বপন। তারপর সে বেরিয়ে গেল ঢাকা শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের খুঁজে বের করার জন্য। আবুল খায়ের লিটু আমার ছোট বোন মহুয়ার স্বামী এবং আমার বন্ধু। ও ছুটে গেল এসপি মাহবুবের বাসায় বেইলী রোডে। উদ্দেশ্য মাহবুবের সাহায্যে গাজীকে খুঁজে বের করা।

এদিকে আমাদের কাফেলা গিয়ে থামল রমনা থানায়। গাজী তার গাড়ি থেকে নেমে চলে গেল থানার ভিতরে। অল্প কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসলেন গাজী। কাফেলা আবার চলতে শুরু করল। কাফেলা এবার চলছে সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে। ইতিমধ্যে নিম্মী তার শাড়ী ছিড়ে চুল্লু ও আলমের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ বেধে দিয়েছে। সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। গাজীর মনে কোন দুরভিসন্ধি নেইতো? রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে নাতো? ওর পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। কিছু একটা করা উচিত। হঠাৎ আমি বলে উঠলাম,
-গাড়ি থামাও!
আমার বলার ধরণে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। আমাদের গাড়িটা থেমে পড়ায় সামনের গাজীর গাড়িটাও থেমে পড়ল। আমি তখন অস্ত্রধারী একজনকে লক্ষ্য করে বললাম গাজী সাহেবকে ডেকে আনতে। সে আমার কথার পর গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে গাজীকে গিয়ে কিছু বলল। দেখলাম গাজী নেমে আসছে। কাছে এলে আমি তাকে বললাম,
-গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।

আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম। কলাবাগান দিয়ে ৩২নং রোডে ঢুকে আমাদের মাইক্রোবাসটা শেখ সাহেবের বাসার গেট থেকে একটু দূরে এলকটা গাছের ছায়ায় থামতে ইশারা করে জনাব গাজী তার গাড়ি নিয়ে সোজা গেট দিয়ে ঢুকে গেলেন ৩২নং এর ভিতরে। সেকেন্ড ফিল্ড রেজিমেন্ট তখন শেখ সাহেবের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। একবার ভাবলাম ওদের ডাকি, আবার ভাবলাম এর ফলে যদি গোলাগুলি শুরু হয়ে যায় তবে ক্রস-ফায়ারে বিপদের ঝুঁকি বেশি। এ সমস্তই চিন্তা করছিলাম হঠাৎ দেখি লিটুর ঢাকা ক-৩১৫ সাদা টয়োটা কারটা পাশ দিয়ে হুস্‌ করে এগিয়ে গিয়ে শেখ সাহেবের বাসার গেটে গিয়ে থামল। লিটুই চালাচ্ছিল গাড়ি। গাড়ি থেকে নামল এসপি মাহবুব। নেমেই প্রায় দৌড়ে ভিতরে চলে গেল সে। লিটু একটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষায় রইলো সম্ভবত মাহ্বুবের ফিরে আসার প্রতীক্ষায়। লিটু এবং মাহ্বুবকে দেখে আমরা সবাই আস্বস্ত হলাম। র্নিঘাত বিপদের হাত থেকে পরম করুণাময় আল্লাহ্‌’তায়ালা আমাদের বাচিঁয়ে দিলেন।
লিটু যখন মাহ্‌বুবের বাসায় গিয়ে পৌঁছে মাহবুব তখন মানিকগঞ্জ থেকে সবেমাত্র ফিরে বিয়েতে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। হঠাৎ লিটুকে হন্তদন্ত হয়ে উপরে আসতে দেখে তার দিকে চাইতেই লিটু বলে উঠল,
-মাহ্বুব ভাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। বিয়ে বাড়ি থেকে গাজী বিনা কারণে ডালিম-নিম্মীকে জবরদস্তি গান পয়েন্টে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
একথা শুনে মাহবুব স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকেই খবরটা সবচেয়ে আগে দেওয়া দরকার কোন অঘটন ঘটে যাবার আগে। গাজীর কোন বিশ্বাস নাই; ওর দ্বারা সবকিছুই সম্ভব। মাহবুব টেলিফোনের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ টেলিফোনটাই বেজে উঠে। রেড টেলিফোন। মাহবুব ত্রস্তে উঠিয়ে নেয় রিসিভার। প্রধানমন্ত্রী অপর প্রান্তে,
-মাহবুব তুই জলদি চলে আয় আমার বাসায়। গাজী এক মেজর আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ধইরা আনছে এক বিয়ার অনুষ্ঠান থ্যাইকা। ঐ মেজর গাজীর বউ-এর সাথে ইয়ার্কি মারার চেষ্টা করছিল। উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বেশি বাড় বাড়ছে সেনাবাহিনীর অফিসারগুলির।
সব শুনে মাহবুব জানতে চাইলো,
-স্যার গাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন মেজর ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় রেখেছেন তিনি?
-ওদের সাথে কইরা লইয়া আইছে গাজী। গেইটের বাইরেই গাড়িতে রাখা হইছে বদমাইশগুলারে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
-স্যার গাজী সাহেব ডালিম আর নিম্মীকেই তুলে এনেছে লেডিস ক্লাব থেকে। ওখানে ডালিমের খালাতো বোনের বিয়ে হচ্ছিল আজ। জানাল মাহবুব।
-কছ কি তুই! প্রধানমন্ত্রী অবাক হলেন।
-আমি সত্যিই বলছি স্যার। আপনি ওদের খবর নেন আমি এক্ষুণি আসছি।
এই কথোপকথনের পরই মাহবুব লিটুকে সঙ্গে করে চলে আসে ৩২নং ধানমন্ডিতে। মাহ্‌বুবের ভিতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রেহানা, কামাল ছুটে বাইরে এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়। আলম ও চুল্লুর রক্তক্ষরণ দেখে শেখ সাহেব ও অন্যান্য সবাই শংকিত হয়ে উঠেন।
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। অদূরে গাজী ভেজা বেড়ালের মত কুকড়ে দাড়িয়ে কাঁপছিল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। রেড ফোন। শেখ সাহেব নিজেই তুলে নিলেন রিসিভার। গাজীর বাসা থেকে ফোন এসেছে। বাসা থেকে খবর দিল আর্মি গাজীর বাসা রেইড করে সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সমস্ত শহরে আর্মি চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি চেক করছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিডন্যাপিং এর খবর পাওয়ার পরপরই ইয়ং-অফিসাররা যে যেখনেই ছিল সবাই বেরিয়ে পড়েছে এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীকে। সমস্ত শহরে হৈচৈ পড়ে গেছে। গাজীরও কোন খবর নেই। গাজীকে এবং তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরও খুঁজছে আর্মি তন্নতন্ন করে সম্ভাব্য সব জায়গায়। টেলিফোন পাওয়ার পর শেখ সাহেবের মুখটা কালো হয়ে গেল। ফোন পেয়েই তিনি আমাদের সামনেই আর্মি চীফ শফিউল্লাহকে হটলাইনে বললেন,
-ডালিম, নিম্মী, গাজী সবাই আমার এখানে আছে, তুমি জলদি চলে আসো আমার এখানে।
ফোন রেখে শেখ সাহেব গাজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-মাফ চা নিম্মীর কাছে।
গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
-খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
-কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে? এর উপযুক্ত জবাব আমি আজ চাই আপনার কাছ থেকে। আজ পর্যন্ত আপনি বলতে পারবেন না ব্যক্তিগতভাবে কোন কিছু চেয়েছি আপনার কাছে কিন্তু আজ দাবি করছি ন্যায্য বিচার। আপনি যদি এর বিচার না করেন তবে আমি আল্লাহ্‌র কাছে এই অন্যায়ের বিচার দিয়ে রাখলাম। তিনি নিশ্চয়ই এর বিচার করবেন।

আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
-মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।

রেহানা এসে নিম্মীকে উপরে নিয়ে গেল। ইতিমধ্যে জেনারেল শফিউল্লাহ এবং ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার সাফায়াত জামিল এসে পৌঁছেছে। শেখ সাহেব তাদের সবকিছু খুলে বলে জেনারেল শফিউল্লাকে অনুরোধ করলেন গাজীর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করতে। জেনারেল শফিউল্লাহ রেসকোর্স কন্ট্রোল রুমে অপারেশন কমান্ডার মেজর মোমেনের সাথে কথা বলার জন্য টেলিফোন তুলে নিলেন,
-হ্যালো মোমেন, আমি শফিউল্লাহ বলছি প্রাইম মিনিষ্টারের বাসা থেকে। ডালিম, নিম্মী, গাজী ওরা সবাই এখানেই আছে। প্রাইম মিনিষ্টারও এখানেই উপস্থিত আছেন। Everything is going to be all right. Order your troops to stand down এবং গাজী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দাও। অপরপ্রান্ত থেকে মেজর মোমেন জেনারেল শফিউল্লাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়া অফিসার এবং তার স্ত্রীকে না দেখা পর্যন্ত এবং গাজী ও তার ১৭জন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তার হাতে সমর্পন না করা পর্যন্ত তার পক্ষে গাজীর পরিবারের কাউকেই ছাড়া সম্ভব নয়। শফিউল্লাহ তাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু মেজর মোমেন তার অবস্থানে অটল থাকলেন শফিউল্লাহর সব যুক্তিকে অসাড় প্রমাণিত করে। অবশেষে শফিউল্লাহ ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অপারেশন কমান্ডার এর শর্তগুলো জানালেন। শেখ সাহেবের মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন মেজর মোমেনের সাথে কথা বলতে। আমি অগত্যা টেলিফোন হাতে তুলে নিলাম,
-হ্যালো স্যার। মেজর ডালিম বলছি। Things are under control প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন তিনি ন্যায় বিচার করবেন।
- Well Dalim it’s nice to hear from you. But as the Operation Commander I must have my demands met. I got to be loyal to my duty as long as the army is deployed for anti-miscreant’s drive. The identified armed miscreants cannot be allowed to go escort free. As far as I am concerned the law is equal for everyone so there can’t be any exception. Chief has got to understand this.বললেন মেজর মোমেন।
- Please Sir, why don’t you comeover and judge the situation yourself. অনুরোধ জানিয়েছিলাম আমি।
- There is no need for me to come. However, I am sending Capt. Feroz. বলে ফোন ছেড়ে দিলেন মেজর মোমেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ক্যাপ্টেন ফিরোজ এসে পড়ল। ফিরোজ আমার বাল্যবন্ধু। এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
-তুই গাজীরে মাফ কইরা দে। আর গাজী তুই নিজে খোদ উপস্থিত থাকবি কন্যা সম্প্রদানের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত। অনেকটা মোড়লী কায়দায় একটা আপোষরফা করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
-আমার বোনের সম্প্রদানের জন্য গাজীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। ওকে মাফ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা হবে আমার জন্য নীতি বিরোধিতা। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি রক্তের বিনিময়ে। আমাদের গা থেকে রক্ত ঝরাটা কোন বড় ব্যাপার নয়। ইউনিফর্মের চাকুরি করি টাকা-পয়সার লোভেও নয়। একজন সৈনিক হিসাবে আমার আত্মমর্যাদা এবং গৌরবকে অপমান করেছেন গাজী নেহায়েত অন্যায়ভাবে। আপনিই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। অবৈধ অস্ত্রধারীদের খুঁজে বের করে আইনানুযায়ী তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে। সেখানে আজ আমাদেরই ইজ্জত হারাতে হল অবৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে! আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কথা দিয়েছেন এর উচিত বিচার করবেন। আমরা আপনি কি বিচার করেন সেই অপেক্ষায় থাকব।

ক্যাপ্টেন ফিরোজকে উদ্দেশ্য করে সবার সামনেই বলেছিলাম, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিচারের ওয়াদা করেছেন সেক্ষেত্রে গাজীর পরিবারের সদস্যদের আর আটকে রাখার প্রয়োজন কি? কর্নেল মোমেনকে বুঝিয়ে তাদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করিস।
সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসছিলাম ঠিক সেই সময় শেখ সাহেব বললেন,
-আমার গাড়ি তোদের পৌঁছে দেবে।
-তার প্রয়োজন হবে না চাচা। বাইরে লিটু-স্বপনরা রয়েছে তাদের সাথেই চলে যেতে পারব।
বাইরে বেরিয়ে দেখি ৩২নং এর সামনের রাস্তায় গাড়ির ভীড়ে তিল ধারণের ঠাই নেই। পুলিশ অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধবরা যারাই জানতে পেরেছে আমাদের কিডন্যাপিং এর ব্যাপারটা; তাদের অনেকেই এসে জমা হয়েছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে। আমাদের দেখে সবাই ঘিরে ধরল। সবাই জানতে চায় কি প্রতিকার করবেন প্রধানমন্ত্রী এই জঘণ্য অপরাধের। সংক্ষেপে যতটুকু বলার ততটুকু বলে ফিরে এলাম লেডিস ক্লাবে। মাহবুবও এল সাথে। মাহবুবের উছিলায় সেদিন রক্ষা পেয়েছিলাম চরম এক বিপদের হাত থেকে আল্লাহ্‌পাকের অসীম করুণায়। বিয়ের আসরে আমরা ফিরে আসায় পরিবেশ আবার আনন্দ-উচ্ছাসে ভরে উঠল। সবাই আবার হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করে কন্যা সম্প্রদান করা হল। তাহমিনার বিয়ের রাতটা আওয়ামী দুঃশাসনের একটা ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে থাকলো। জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকলো আওয়ামী নেতাদের এবং তাদের ব্যক্তিগত বাহিনীর ন্যাক্কারজনক স্বেচ্ছাচার ও নিপীড়নের। কী করে এমন একটা জঘণ্য ঘটনার সাথে গাজী সরাসরি নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পেরেছিল তার কোন যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছিলাম আমাদের কুমিল্লা অপারেশনের পর পার্টির তরফ থেকে শেখ মুজিবের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদের বিশেষ করে আমার ঔদ্ধত্বের উপযুক্ত শিক্ষা দেবার জন্য। কিন্তু শেখ মুজিব ঐ চাপের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, “আর্মি কোন কাঁচা কাজ করে নাই। তারা আইন অনুযায়ী সবকিছু করছে, প্রত্যেককে ধরেছে হাতেনাতে প্রমাণসহ সে ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?” তার ঐ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আওয়ামী নেতাদের একাংশ। আইনের মাধ্যমে যদি কোন কিছু করা না যায় তবে অন্য কোনভাবে হলেও শিক্ষা তাদের দিতেই হবে এবং সেই দায়িত্বটাই গ্রহণ করেছিলেন সেই সময়ের Top terror and most powerful leader বলে পরিচিত গাজী গোলাম মোস্তফা। তখন থেকেই নাকি সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি জিঘাংসা মিটাতে। বিয়ে বাড়িতে বাপ্পি এবং তার ছেলেদের মাঝে যে সামান্য ঘটনা ঘটে সেটাকেই সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে গাজী চেয়েছিল আমাকে উচিত শিক্ষা দিতে। এ বিষয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি তার বই ‘বাংলাদেশ! সামরিক শাসন এবং গণতন্ত্রের সংকট’ এ লিখেছেন, “গাজী সমর্থক লোকদের সম্ভবতঃ মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।”




যাই হোক এইখানে গাজীর সাথে ডালিমের যেকোন কারণেই হোক একটা সমস্যা হইছিল যা ডালিম তার নিজের মত করে লিখেছে।


তবে আর যাই হোক ডালিমের বউরে মুজিবের ছেলে তুইলা নিছিল এইটা একটা আজগুবি ও বানোয়াট। এই কথাটা এইভাবে মানুষের মুখে মুখে এসেছে আসলে সেনা বাহিনী থেকে অবসর নেয়া সৈনিকদের কাছ থেকে কারণ ঐ সময় সাধারন সেনাদের মাঝে এইটা একটা প্রপাগান্ডার মত কাজ করত।

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

অসাধারন জিনিষ শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ.....বিশেষ করে মেজর ডালিমের পেইজটার লিংকের জন্য আবারো ধন্যবাদ।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

মেজর ডালিমের এই সাইট ব্যান করা হোক। এটা এখন সময়ের দাবী। কি বলেন জনগণ?
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকতে আমরা এই সাইট বাংলাদেশের জনগণকে ভিজিট করতে দিতে পারি না।

যারা এই সাইট ভিজিট করবেন তারা যুদ্ধপরাধী।

আরাফাত রহমান
Web Application Developer
চি‌ৎকার করতে করতে গলাটা ফাইট্টা গেছে (প্রজন্ম ফোরামে)

আরাফাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

আরাফাত লিখেছেন:

মেজর ডালিমের এই সাইট ব্যান করা হোক। এটা এখন সময়ের দাবী। কি বলেন জনগণ?
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকতে আমরা এই সাইট বাংলাদেশের জনগণকে ভিজিট করতে দিতে পারি না।

যারা এই সাইট ভিজিট করবেন তারা যুদ্ধপরাধী

কই দিয়া কই গেলেন sad

এই সাইট টা না থাকলে তো ডালিমের বউ হাইজ্যাকের আসল কাহিনী অনেকেরে বিশ্বাস করান যাইতোনা। সবাইরে তো আর ডালিমের বইর হার্ডকপি দেখান যাইতো না।

নাকি সাইট টা কারো কারো জন্য বুমেরাং হয়ে গেল? hehe

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

শুধু আপনার দেয়া লিংক নয় আমি আরো কিছু পোস্ট পড়ে দেখলাম। তাই এমন মন্তব্য করলাম। ডালিমের সাথে ডালিমের স্ত্রীকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল এটা আমিও যানতাম না। আপনাকে ধন্যবাদ লিংক দেবার জন্য।

তবে সাইটে আরো যা যা আছে তা সবকিছু যদি আপনি পড়েন তাহলে অচিরেই নির্ঘাত আপনার নাম যুদ্ধপরাধীদের মধ্যে পাওয়া যাবে।

আরাফাত রহমান
Web Application Developer
চি‌ৎকার করতে করতে গলাটা ফাইট্টা গেছে (প্রজন্ম ফোরামে)

আরাফাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

আজ সকালে বাবু ভাইয়ের লিংক অনুযায়ী গিয়ে আমি প্রায় প্রতিটি বিভাগেরই লেখাগুলো পড়েছি.....কিছু কিছু লেখা বিশেষ করে "বীরাঙ্গনা কোহিনূর" এই ঘটনাটা আমাকে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছে......। হ্যাঁ উনি হয়তো ১৫ই আগষ্ট সংক্রান্ত লেখাগুলো নিজের মত করে লিখেছেন.......যেখানে তার মতামতটাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, কিন্তু তবুও একজন আওয়ামীপন্থি হওয়া সত্বেও আমার কাছে তার লেখাগুলো ভালই লেগেছে,আমরা হয়তো অনেক কিছুই দেখিনি, বা আমাদের চরমভাবে বিকৃত ইতিহাসও আমাদের সঠিক কিছু শিখায়নি.......কিন্তু আমরাতো দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে জানি,আমরাতো সঠিক যুক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারিনা,আমরা না দেখেও বলেদিতেপারি.......মুজিবুর রহমান এ উপমহাদেশের সেরা নেতাদের তলিকায় আছেন......থাকবেন.......কিন্তু তার পেসিডেন্ট পরবর্তী শাসনকালই তাকে বিতর্কিত করার সুযোগ দিয়েছে,উনি যতটাই নেতা হিসেবে সেরা.....ঠিক ততটাই উনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে খারাপ।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

বাবু,
ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য জানতে মেজর ডালিমের সাইটের লিংকটি দেবার জন্য আপনাকে টুপি খুলে সালাম (hat off salute) ।

আরাফাত লিখেছেন:

তবে সাইটে আরো যা যা আছে তা সবকিছু যদি আপনি পড়েন তাহলে অচিরেই নির্ঘাত আপনার নাম যুদ্ধপরাধীদের মধ্যে পাওয়া যাবে।


আরাফাত,
আমিও তো আপনার মত অন্যান্য পোস্ট গুলোর কয়েকটা পড়ে দেখলাম এবং বাকী গুলোও পড়বো [যদি বর্তমান সরকার এই সাইট টাকে ব্যান না করে]। কই আমার কাছে তো সেরকম মনে হলো না ~ আপনি যেমনটি বললেন !

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

ঐতিহাসি একটা জিনিস জানালেন আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। thumbs_up thumbs_up

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

মেজর ডালিমের লেখার বইগুলো থাকলে বলেন। লাগবে আমার।

সবকিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, এমনকি মৃত্যুর জন্যও...
রয়েল টেকনোলজি | সমকাল দর্পণ | আমার ফেসবুক প্র্রোফাইল | আমার ফেসবুক পেজ | আমার গুগল+

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন উন্মাতাল_তারুণ্য (২৬-১০-২০০৯ ২৩:৩৪)

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

অফটপিক হবে কিনা জানি না, মুক্তিযু্দ্ধের পর আরো একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যুদ্ধ করেছেন এবং ১১ নম্বর সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, তিনি হলেন কর্নেল আবু তাহের ('৭১-এ মেজর ছিলেন) । যুদ্ধে হারিয়ে ছিলেন একটি পা। স্বাধীনতার পর রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাকে জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায়ই জেলখানার ভেতরই নিভৃতে বিচার করে সেখানেই ফাঁসি দেয় জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। তিনি বিচারের সময় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেখানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আওয়ামীলীগের একদলীয় রাজনীতি প্রবণতা সম্পর্কে কথা আছে। সেই জবানবন্দি পড়তে পারবেন এই ওয়েবসাইটে।

এই সাইটে বংশী আল্পনা ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে (প্রথম আলোর পুরোনো সাইটিটর ফন্ট)। এটি ইউনিকোডে পড়তে বিএনওয়েবটুলস ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা আমার ব্যক্তিগত আর্কাইভ সাইটেও পড়তে পারেন (সুবিধার জন্য এইমাত্র যোগ করলাম।)

লক্ষণীয়: এটিও একটি বিশাল সাইজের স্টেটমেন্ট কিন্তু!

" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উন্মাতাল_তারুণ্য'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

বাবু ভাই আপনার মাধ্যমে ইতিহাসটি জানতে পেরে মনে হলো আসলে আমরা (এ প্রজন্ম) অনেক কিছু বিষয়ে অজ্ঞ আছি.....

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে লিংকটা দেওয়ার জন্য......তবে কি জানি ভয় হয় ....

আপনি যুদ্ধাপরাধী হন কি?

মৃত্যুর পরে যার জন্য মানুষ মানুষের হৃদয়ে
অম্লান হয়ে থাকে সে হচ্ছে তার ব্যবহার।

১২

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

উন্মাতাল_তারুণ্য লিখেছেন:

অফটপিক হবে কিনা জানি না, মুক্তিযু্দ্ধের পর আরো একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যুদ্ধ করেছেন এবং ১১ নম্বর সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, তিনি হলেন কর্নেল আবু তাহের ('৭১-এ মেজর ছিলেন) । যুদ্ধে হারিয়ে ছিলেন একটি পা। স্বাধীনতার পর রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাকে জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায়ই জেলখানার ভেতরই নিভৃতে বিচার করে সেখানেই ফাঁসি দেয় জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। তিনি বিচারের সময় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেখানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আওয়ামীলীগের একদলীয় রাজনীতি প্রবণতা সম্পর্কে কথা আছে। সেই জবানবন্দি পড়তে পারবেন এই ওয়েবসাইটে।

শাবাব মুস্তাফা (উন্মাতাল_তারুণ্য),
আপনাকেও ধন্যবাদ; যেহেতু আপনার কল্যানে ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। আসলেই [একতরফা ভাবে বা একটা উৎস থেকে না জেনে] বিভিন্ন সুত্র/উৎস থেকেই ইতিহাসের প্রকৃ্ত বিষয়াদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। 

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

১৩

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

@বাবু ভাই
কোন কথা না বলা মানেই তা অস্বীকার করা নয়।স্বীয় স্ত্রীর কোন লম্পট দ্বারা অপহৃত হওয়া যেকোন পুরুষের জন্যই চরম লজ্জা,অপমান ও বেদনার বিষয়।তাই মেজর ডালিম তার স্ত্রীর অপহরণের কথা সগর্বে প্রচার করবে এটা ভাবার কোনও কারন নেই।আর ডালিম এ ঘটনা অস্বীকারও করেনি।তাই এটা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা দুর করে দেওয়া যায় না।

আর আপনি মেজর ডালিমের সাইটকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন।একে রেফারেন্স ধরলে শেথ সাহেবকে কিন্তু খলনায়কের চেয়ে উপরের কোন আসনে বসানো যায় না।

১৪

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

আমি দুই দিন বাবু ভাই এবং উন্মাতাল_তারুণ্য, এদুজনের দেওয়া লিংক থেকে মেজর ডালিম এবং কর্নেল তাহের সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলাম......আগের ভাসা ভাসা জ্ঞান আর এদুটো সাইট দেখে এটাই কনফার্ম হলাম......শেখ সাহেবকে আমরা যে জাতির আব্বা বলে যে উচুতেঁ স্থান দিয়েছি, সেটার যোগ্য তিনি নন, এমনকি জিয়া সাহেবও একই বলয়ের লোক।দুজনকে আমাদের দুটি দল যেভাবে হাইলাটেড করে জাতির সামনে,তারা ততটাই নীচ ও পৈচাশিক।তবে হ্যাঁ যুদ্ধপূর্বকালীন সময়ের শেখ সাহেবের অবদানের জন্য তাকে সম্মান করা যেতে পারে।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

১৫

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

ধন্যবাদ বাবু ভাই এবং উন্মাতাল_তারুণ্য ভাইকে অজানা সব তথ্য শেয়ার করার জন্য। thumbs_up
সব কিছু পড়ে আমার মনের মধ্যে কেমন যেন একটা পরিবর্তন এসেছে। thinking

আমি মানুষটা বড় বেশি রংছুট,চাঁদের ঘরে কড়া নেড়ে, চাঁদকে করি লুট

১৬

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

স্পাইডারম্যান লিখেছেন:

@বাবু ভাই
কোন কথা না বলা মানেই তা অস্বীকার করা নয়।স্বীয় স্ত্রীর কোন লম্পট দ্বারা অপহৃত হওয়া যেকোন পুরুষের জন্যই চরম লজ্জা,অপমান ও বেদনার বিষয়।তাই মেজর ডালিম তার স্ত্রীর অপহরণের কথা সগর্বে প্রচার করবে এটা ভাবার কোনও কারন নেই।আর ডালিম এ ঘটনা অস্বীকারও করেনি।তাই এটা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা দুর করে দেওয়া যায় না।

আর আপনি মেজর ডালিমের সাইটকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন।একে রেফারেন্স ধরলে শেথ সাহেবকে কিন্তু খলনায়কের চেয়ে উপরের কোন আসনে বসানো যায় না।

@স্পাইডারম্যান, আপনি মনে হয় না পুরাটা না পড়েই উক্তিটা করেছেন। যাই হোক ডালিম ছিন সেনাবাহিনীতে খুব জনপ্রিয় আর গাজী তাকে যে ধরে নি আসছে সেটাই পরে প্রচারিত হয়েছিল যে কামাল তার বৌকে অপহরন করছে।
যাই হোক এই গুজবটা এখনো যে আপনি বিশ্বাস করতাছেন তাতে হতাশ হলাম। sad
আর ডালিমের সাইট টা পড়ে কেউ একটা রিভিও দেন দেখি। ডালিম খুব মেধাবী ছিল সন্দেহ নাই তবে মেধাটা খারাপ কাজে লাগাইছে।
আর ১৫ আগস্টের কাহিনীতো কিছুদিন আগে প্রথম আলো ছাপাইছে।
ডালিম তার লেখায় অনেক চাতুরী আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি তার ৯০ভাগ এবং গুরুত্তপুর্ন লেখায় সাল তারিখ  উল্লেখ করেন নাই,যাতে তার লেখার ফাকফোকর সাধারন মানুষ ধরতে না পারে।
৭৫এর ১৫ আগস্ট তিনিই নারায়ে তাকবির বলে প্রথম স্লগান দিয়েছিলেন।
আর তার পাকিস্থান প্রেম এখানে http://www.majordalimbangla.net/Article01.html
আর তিনি বাংলাদেশ আর পাকিস্থান এর মাঝে কি সুন্দর মিল দেখাইছে দেখুন এখানে http://www.majordalimbangla.net/Article03.html

আর জাহানারা ইমাম রেও ইনি ছারেন নাই। গলাম আজমের বিচার চাওয়ায় তাকে বলেছেন বেইমান।

আর শেখ মুজিবের বাকশাল গঠনে আজকের বামপন্থি দের কিন্তু ব্যপক ভুমিকা ছিল। তবে বাকশালের সুফল কুফল কোনটার স্বাদই কিন্তু বাঙালী পায়নাই। এইটা নিয়া সময় করে আরেকদিন লিখব।
পরিশেষ ডামিমের এই বউ হাইজ্যাক করা আর তারে চাকুরি থেকে অব্যহতি এইগুলা তখনকার সেনাবাহিনীতে তুরুপের মত কাজ দিছিল। আর ঐসময়ে সেনাবাহিনীতে লিফলেট প্রচারনার প্রচলনের কথা হয়ত অনেকেই জানেন।
আবারও বলছি ডালিম কিন্তু খুব মেধাবী আর র্ধূত তিনি অনেক কিছু খুব সংক্ষেপে আর কৌশলে ব্যাক্ষা করেছেন তাই তার লেখাগুলা যদি আসল ইতিহাস ভাবেন তাইলে ভুল। তারাই কিন্তু তোয়াব কে জার্মানী থেকে বাংলাদেশে এনে বিমান বাহিনীর প্রধান বানাইছিল। আর এই তোয়াব কিন্তু বাংলাদেশে জিয়ার আমলে পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তনের বিপ্লব করেছিলেন। তাই ডালিমের চাতুকারিতা বুঝতে হলে আপনাকে আরো অনেক বেশী ইতিহাস জানতে হবে। তবে হ্যা ডালিমের লেখায় ততকালীন  আওয়ামী দুঃশাসনের বঙ্গবন্ধুর অদুরদর্শিতা ঠিকই ফুটে উঠেছে।

অট... এডমিন> কাহিনী কি লগআউট হয়ে যায় কেন? টাইম লিমিট আনলিমিটেড করা যায় না?

১৭

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

ঘটনা কি ! ডালিমের লিংকটা তো আপনেই দিলেন, এখন আবার তার বিপক্ষে বক্তব্য দিতাছেন ?

আপনের কি ধারনা ডালিমের লেখাগুলিকে নির্ভেজাল ইতিহাস ভাবছি !
নারে ভাই, মোটেও সে রকম না; তবে তার নিজস্ব চিন্তা/চেতনা জানতে তো পারলাম তার লেখা থেকে (যেগুলো আগে জানিতাম না)।

আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। আর আপনার ব্যখ্যা করার দরকার ছিল না যে, ডালিমের লেখায় ততকালীন  আওয়ামী দুঃশাসনের বঙ্গবন্ধুর অদুরদর্শিতা ফুটে উঠেছে। আসলে এটা সবাই জানে, এমনকি বর্তমান প্রজন্মও ।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

১৮

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

আমার কথাতো কেউ বিশ্বাস করলেন না। এখন দেখেন পাঠক কী বলে। সবাই দেখি যুদ্ধপরাধী খাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন।

আমি কি ভুল বললাম?

আরাফাত রহমান
Web Application Developer
চি‌ৎকার করতে করতে গলাটা ফাইট্টা গেছে (প্রজন্ম ফোরামে)

আরাফাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

বাবু লিখেছেন:

যাই হোক ডালিম ছিন সেনাবাহিনীতে খুব জনপ্রিয় আর গাজী তাকে যে ধরে নি আসছে সেটাই পরে প্রচারিত হয়েছিল যে কামাল তার বৌকে অপহরন করছে।


বাবু ভাই আমি বললাম আর আপনি পিছলাইয়া কোথায় গেলেন। এই কথাটাতো আপনি পুরো ধারণার ওপর দিয়ে বলে গেলেন।

আবারও বলছি ডালিম কিন্তু খুব মেধাবী আর র্ধূত তিনি অনেক কিছু খুব সংক্ষেপে আর কৌশলে ব্যাক্ষা করেছেন তাই তার লেখাগুলা যদি আসল ইতিহাস ভাবেন তাইলে ভুল।


আপনিই তো এই সাইটকে রেফারেন্স বানাইলেন।আর যেই সেটা বুমেরাং হয়ে গেল তখন ডালিমকে গালমন্দ করা শুরু করলেন?

২০

Re: ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী কথন আর শেখ কামাল

বাবু লিখেছেন:

আর তার পাকিস্থান প্রেম এখানে http://www.majordalimbangla.net/Article01.html
আর তিনি বাংলাদেশ আর পাকিস্থান এর মাঝে কি সুন্দর মিল দেখাইছে দেখুন এখানে http://www.majordalimbangla.net/Article03.html

মেজর ডালিম এই পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে তার ভূমিকা ভুলে যাওয়ার মত নয়।

আমি মানুষটা বড় বেশি রংছুট,চাঁদের ঘরে কড়া নেড়ে, চাঁদকে করি লুট