টপিকঃ মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

বিভিন্ন সময় মন্তব্যের জায়গায় দেখি কিছু মন্তব্য যেটা সাধারণত পোস্টকারীকে নিরুৎসাহিত করে। উদাহরণ, "পুরাতন জোক", "আগেই শুনেছি"।

একটা জোক বা মজার কিছু পড়ে কারোও যদি মজা লাগে বা আনন্দ লাগে, তাহলে সে সেটা অন্যদের সাথে শেয়ার করার জন্যই কষ্ট করে ব্লগে বা ফোরামে পোস্ট করে। আর তাঁকে এভাবে নিরুৎসাহিত করাটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। আমি জোক পড়তে খুব পছন্দ করি, তাই অনেক উৎস থেকে জোক পড়ি প্রায় নিয়মিত। এমনকি একসময় দম ফাটানো হাসির গল্প শিরোনামের বইও কিনতাম!!  স্বাভাবিকভাবেই অনেক জোকই কমন পরে যায়। কিন্তু যেই আগ্রহ নিয়ে সবার সাথে আনন্দটা শেয়ার করার জন্য একজন পোস্ট করে সেই আগ্রহটাকে চুপসে দিতে মন চায় না, তাই কোন রকম মন্তব্য করি না। অন্ততঃপক্ষে এটা সরাসরি নিরুৎসাহিত করার চেয়ে ভালো মনে হয়। আবার মজা পাইলেও শুধু "মজা পাইলাম" টাইপের মন্তব্য করি না, কারণ অন্য একজন পাঠকের আবার সেটা পড়তে তেমন একটা ভালো না-ও লাগতে পারে। তাই রেপুটেশন দিয়ে সেখানে "মজা পাইসি" লিখে দিয়ে আসি।

"মজা পাইছি", "খুব ভালো",  "ধন্যবাদ" এই টাইপের মন্তব্য করা কমিয়ে দিচ্ছি ক্রমশঃ। কারণ বিভিন্ন আলোচনামূলক টপিকে এগুলো অপর একজন পাঠকের পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দেয়, বিরক্তি উৎপন্ন করে। আগ্রহের একটা আলোচনায় নতুন একটা মন্তব্য এসেছে দেখে, খুলে যদি দেখা যায় -- ভাল হৈছে টাইপ মন্তব্য, হতাশার সাথে মেজাজটাও কিঞ্চিৎ খারাপ হয়। কারণ, আমার উদ্দেশ্য ছিল ঐ বিষয়ে আরোও কিছু জানার। অন্য অনেকের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই এরকম মনে হয়।  তাই, চমৎকার একটা লেখার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা জানাতে তাই রেপুটেশন দেই -- লেখকও জানলেন আমার কৃতজ্ঞতা, আর অন্যদের পড়ার ফ্লো-ও নষ্ট হলো না কিংবা মিসগাইডেড হলেন না।

একটা সমস্যা রয়ে গেছে .... একই ব্যক্তিকে ৫ ঘন্টার (৩০০ মিনিট) ভেতরে একাধিকবার রেপুটেশন দেয়া যায় না। অবশ্য ৫ ঘন্টার মধ্যে একাধিক চমৎকার মৌলিক লেখা প্রকাশ করাও সহজ নয়। এ বিষয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে .... তবে এটার সময় নিয়ন্ত্রন না থাকলে কেউ কেউ বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেবেন - এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আবার অন্য একটা প্রশ্ন এসে যায়, সবাই যদি এভাবে মন্তব্যের বদলে রেপুটেশন দিতে থাকে তাহলে একেকজনের সম্মাননা বা রেপুটেশন কেমন দাঁড়াবে। এ বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হল, রেপুটেশনগুলি হবে কয়েক শত বা কয়েক হাজার। এই মুহূর্তে কারো ৫ কারো ২০ দেখে যতটা কম বেশি মনে হচ্ছে, পরবর্তীতে ২৫০০ আর ২৬০০ এর মধ্যে তেমন কম বেশি মনে হবে না। smile

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

শামীম ভাই, সময় উপযোগী একটা চমৎকার পোস্ট করেছেন। আলোচনার বিষয়বস্তুর কারণেই সম্ভবত আপনার পোস্টে এখন "ভাল লেখা" জাতীয় মন্তব্য আসে নি=))।

আগ্রহের একটা আলোচনায় নতুন একটা মন্তব্য এসেছে দেখে, খুলে যদি দেখা যায় -- ভাল হৈছে টাইপ মন্তব্য, হতাশার সাথে মেজাজটাও কিঞ্চিৎ খারাপ হয়।

এ বিষয়টি চমৎকার বলেছেন। আমার তো হয়ই এবং মনে হয় অন্যদেরও হয়।

আমি সবচেয়ে খুশি সম্মাননা পদ্ধতি চালুর পর আমাদের গড় পোস্টের সংখ্যা প্রথম দিকে কমে গেলেও ফালতু পোস্টের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। তবে এখন আবার গড় পোস্টের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু সে হারে ফালতু পোস্ট বাড়ছে না। তার মানে দাঁড়াল আমাদের লেখার মান ভাল হচ্ছে:cool:। এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।

একটা সমস্যা রয়ে গেছে .... একই ব্যক্তিকে ৫ ঘন্টার (৩০০ মিনিট) ভেতরে একাধিকবার রেপুটেশন দেয়া যায় না।

এটা কিন্তু কমিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু সম্ভাব্য ঝুঁকিটা আপনি নিজেই ব্যাখা করছেন আর এর কারণও এটি। আমার তো প্রথমে ইচ্ছে ছিল ২৪ ঘন্টা করার! কিন্তু একটু বেশি হয়ে যাবে মনে হওয়ায় তা করলাম না।

বিভিন্ন সময় মন্তব্যের জায়গায় দেখি কিছু মন্তব্য যেটা সাধারণত পোস্টকারীকে নিরুৎসাহিত করে। উদাহরণ, "পুরাতন জোক", "আগেই শুনেছি"।

সম্পূর্ণ সহমত।

সামহয়্যারইনে এ আমার শেয়ার বাজারের উপর লেখাটা দেয়ার পর কি হয়েছে তা হয়তো দেখেছেন। আমি প্রথমেই স্বীকার করে নিয়েছিলাম যে আমার সীমাবদ্ধতা আছে। শুধু যা জানি তাই লিখলাম। একজনের কমন পড়ল এবং একজন ভুল ধরলেন। আমি বিনয় প্রকাশ করাতেই তিনি বিষয়টি ব্যাখা করলেন এবং আমারও শেখা হল। কিন্তু আমি রাগলে ব্যাপারটি অন্যরকম হত। আর জানাটাও হতো না। কিন্তু এসময় অন্য একজন এসে বাজে পোস্ট করা শুরু করল। বাধ্য হয়ে তার কমেন্ট মুছে দিলাম কারণ এতে পরবর্তী কমেন্টারদেরকে মূল আলোচনা থেকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করবে। যদিও আমার ইচ্ছে ছিল আমি কোনদিন কারও পোস্ট মুছব না বা কাউকে ব্যান করব না। কিন্তু সেদিন তা করতে হয়েছে।

যে কারণে বললাম:
আমাদের ফোরামেও এমন হয় যে: এমন একটা মন্তব্য করা হল, যে তা পরবর্তী আলোচনাগুলো ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করে। যেমন, আপনার এই টপিকের উত্তরে আমি হয়তো বললাম:

শামীম ভাইয়ের মনে হয় আজকে মুড অফ

তাহলে পরের উত্তরটা এরকম হতে পারে:

সম্ভবত ভাবি ঝাড়ি মারছে

বা

সুপারভাইসরের বকা খাইছেন নাকি?

যা ধীরে ধীরে মূল আলোচনা থেকে ১০০গজ দূর দিয়ে চলে যাবে। এরকম ক্ষেত্রে যা করা যেতে পারে তা হল, আমরা ঐ পোস্টগুলো মুছে দিতে পারি যা আমার জন্য (মনে হয় অন্য মডারেটরদের জন্যও) মোটেও সুখকর বা আনন্দদায়ক নয়। সেক্ষেত্রে একটা বিকল্প হল সদস্যদের প্রতি অনুরোধ,
১. আলোচনা থেকে বাইরে চলে যায় এমন মন্তব্য করবেন না। আর করলেও সেখানে মূল বিষয়ের উপর মন্তব্য করার পর  (কেবল মূল বিষয়ের উপর মন্তব্য করার পর) অফটপিক শিরোনামে ঐ বিষয়ে বলুন।
২. এরপর যারা ঐ মন্তব্য (অফটপিক) পড়েছেন তারাও মূল বিষয়ে আলোচনা অংশ না নিলে ঐ অফটপিকেও অংশ নিবেন না। সেক্ষেত্রে মূল বিষয়ের উপর মন্তব্য করার পর আবারও অফটপিক লিখে আগের অফটপিকের আলোচনা করতে পারেন।
৩. সবচেয়ে ভাল, যদি কেউ মূল ধারার (টপিকের কথা বলছি) বাইরে আলোচনা করেও থাকে তাহলে আপনি মন্তব্য করার সময় ঐ বিষয়টাকে অগ্রাহ্য করুন। এতে অফটপিক নিরুৎসাহিত হবে এবং ধীরে ধীরে তার পরিমাণ কমে যাবে।

আরও কি কি জানি লিখব ভাবলাম, বানান ঠিক করতে যেয়ে ভুলে গেলাম। সবশেষে, এই টপিকের জন্য শামীমভাইকে ধন্যবাদ।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

এক কাজ করা যায় না?
+ রেপু এর জন্য সময় লিমিট উঠায় দেওয়া
- রেপু এর জন্য ৩০০ মিনিট লিমিট টা ঠিক রাখা

Re: মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

সেভারাস লিখেছেন:

এক কাজ করা যায় না?
+ রেপু এর জন্য সময় লিমিট উঠায় দেওয়া
- রেপু এর জন্য ৩০০ মিনিট লিমিট টা ঠিক রাখা

না। এমনটা সম্ভব নয়।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বাবু (২০-০৫-২০০৭ ০০:২৮)

Re: মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

শামীম ভাইয়ের লেখাটা পড়ার পড়ে 'জোসিলা পোষ্ট' এই ধরনের পোষ্ট করার শাহস হয়নি সত্য তবে একটু নাড়া খেলাম।
যেমনঃ

বিভিন্ন সময় মন্তব্যের জায়গায় দেখি কিছু মন্তব্য যেটা সাধারণত পোস্টকারীকে নিরুৎসাহিত করে। উদাহরণ, "পুরাতন জোক", "আগেই শুনেছি"।

এটা আসলেই নিরুৎসাহিত করে যেমন আমি একটা পোষ্ট করার পড়ে এমন একটা মন্তব্য পেয়েছিলাম। যার কারনে আমি আমার পরবর্তি পোষ্টগুলোতে  নিচের দিকে আত্নরক্ষামুলক কথা লিখে দেওয়া শুরু করেছিলাম। এখন মনে হয় আর লাগবে না।

"মজা পাইছি", "খুব ভালো",  "ধন্যবাদ" এই টাইপের মন্তব্য করা কমিয়ে দিচ্ছি ক্রমশঃ। কারণ বিভিন্ন আলোচনামূলক টপিকে এগুলো অপর একজন পাঠকের পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দেয়, বিরক্তি উৎপন্ন করে। আগ্রহের একটা আলোচনায় নতুন একটা মন্তব্য এসেছে দেখে, খুলে যদি দেখা যায় -- ভাল হৈছে টাইপ মন্তব্য, হতাশার সাথে মেজাজটাও কিঞ্চিৎ খারাপ হয়। কারণ, আমার উদ্দেশ্য ছিল ঐ বিষয়ে আরোও কিছু জানার। অন্য অনেকের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই এরকম মনে হয়।

এই ক্ষেত্রে আমার নিজের দৃষ্টিকোন থেকে বলতে হলে আপনি শামীম ভাই যেহেতু অনেক পুরনো সদস্য তাই এখন কমিয়ে দি্চ্ছেন কিন্তু আমরা যারা নতুন যারা অনভিজ্ঞ তারা নিজের পোষ্ট বাড়ানো বলেন আর প্রতিটি লেখায় নিজের ছবিযুক্ত একটা কমেন্ট দেখার মজা যাই বলুন এই কারনেই এটা হয়ে থাকে। তবে এটা আমি একবাক্যে মানি যে এই ধরনের লেখা আলোচনামূলক টপিকে ১জন পাঠকের পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। কিন্তু মুল ব্যপার হচ্ছে এটা সবার বুঝতে হবে। আমার মনে হয় এটা যখন সবাই  বুঝবে তখন এই ধারাটা এমনেই বন্ধ হয়ে যাবে। এই বিষয়ে আমি অনেক আগে ফোরামে লেখা এবং পোষ্টে বৈচিত্র আনুন। নামে একটা লেখা লিখেছিলাম। তো ওখানে  শামীম ভাইয়ের একটা লেখা মনে পড়লঃ-

শামীম লিখেছেন:

বাচ্চাদের বেশি শাসন করতে নেই... বড় হলে এমনিই বুঝবে ... তা না হলে অতিরিক্ত শাসনে বখে যেতে পারে ........
এই ফোরামটা বাচ্চা .. ৫০০০ পোস্ট তো কি হয়েছে। নিয়মিত ফোরামিস্ট ২০ জনের মত। যখন ২০ জন ২০০ জনে পরিবর্তিত হবে তখন দেখবেন অটোমেটিকভাবেই সবকিছু ঠিকমত হবে... কারণ প্রতিটি ফোরাম -- যেমন বিজ্ঞান, রাজনীতি ইত্যাদি -- এর জন্য আলাদা আলাদা ডেডিকেটেড ফোরামিস্ট থাকবেন.. আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত মডারেটর থাকবেন। তখন অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের অবসর/সুযোগই থাকবে না.. কারণ সবাই তার প্রিয় বিষয়ে অনেক সমসনা বা বিতর্ক করার মত লোক পাবেন। আপাতত শিশুকে দুষ্টামি করতে দিন... ময়লা নাই তো শেখাও নাই

আমারো তাই মনে হয় তবে বাচ্চা থেকে এখন মনে হয় কিশোর হয়েছে তাই বুঝতে একটু সময় নেয়। বলতে দ্বিধা নেই যেমন আমি 'ভাষা বিষয়ক কচকচি'তে এমন একটা মন্তব্য করেছিলাম যা আমার কাছে পরে ফালতু মনে হয়েছে তাই সেটা আমি মুছে দিয়েছিলাম।
আর রেপুটেশন চালু হওয়ার পরে আমাদের লেখার মান অনেক বেড়েছে এটার কারন সতর্কতা।
আর রেপুটেশনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমি সন্তষ্ঠ। তবে রেপুটেশন নিয়ে কারো উত্তেজিত হওয়া ঠিক না। -রেপু মানে যে সে নিম্নমানের এটা আমি মানতে নারাজ যেমন ইশতিয়াক।
তবে তাকে -দেওয়ার বৈধ সুযোগ আছে তাই তার রেপু এত কম। কারন  রেপুটেশনের নোটিশে সম্ভবত বলা আছে আপনার কারো লেখা ভালো লাগলে বা খারাপ লাগলে যথাক্রমে +এবং - রেপু... দিন।
তবে আমি আশাবাদী ইশতিয়াক অচিরেই সর্বোচ্চ রেপুটেশনের অধিকারী হবে। কারন বয়স কম থাকলে মারামারি বেশি বাধে বড়রা তেমন মারামারি করে না। আমাদের এখনও পুরোপুরি ম্যাচুউরিটি আসে নাই।
শেষের লেখাগুলো বোধহয় অপটপিক হয়ে গেছে।
পুরনো অভ্যাসতো ছাড়তে একটু সময় লাগবে।

Re: মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

কালকে রাজশাহীতে থেকে ঢাকায় আসার সময় পোস্টটার কথা একটু মনে পড়ল। তখন মনে হল মনে হয় একটু বেশি সিরিয়াস হয়ে গেছে। সত্যি কি??

যাইহোক, আসলে আমাদের উদ্দেশ্য মজা নষ্ট করা নয় বরং শুধুমাত্র শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ মজা অর্জন করা। তাই বলছি, আমরা মজাও করব, সিরিয়াস বিষয়ের পোস্টও করব। শুধুমাত্র যা করব না তা হল, একটা সাথে আরেকটা মিলিয়ে ফেলা। 

ধন্যবাদ।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: মন্তব্য ও সম্মাননা সমাচার

নিরামিষ মার্কা পোস্ট পড়েও আনন্দ পেলাম। শামীম ভাইকে ধন্যবাদ।

অফ-টপিক:
টপিকটা পড়ার পর ভয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু ভয়কে জয় করে মন্তব্য করে ফেললাম!! (মন্তব্যে যা লিখেছি তার সবই মনে হয় অফ-টপিক)