টপিকঃ উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

[এই লেখাটা আমার নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। তাই কাউকে দু:খ দিয়ে থাকলে তা নিতান্তই মনের অজান্তে এবং এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত।

লেখাটা আমাদের প্রযুক্তিতে ও প্রকাশিত।

সতর্কীকরন: ইহা একটি ডাইনো পোস্ট, উপসর্গ হিসেবে নিদ্রা পাইবার সম্ভাবনা একেবারে উড়াইয়া দেয়া যায়না।]

যখন প্রথম কম্পিউটার জিনিসটা দেখি তখন ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি। তখন ছিল ডসের যুগ। টেলিভিশনের মত যন্ত্রের সামনে কালো স্ক্রিনে কি কি লেখা আসে। ক্লাস নাইনে বাসা থেকে নিজের জন্য যখন পিসি পেলাম, তখন ছিল উইন্ডোজ ৯৫ এর যুগের একদম শেষের দিক। আমার পিসিতে ছিল প্রিইন্সটলড উইন্ডোজ ৯৮ (বাংলাদেশে তো পিসি কিনলেই উইন্ডোজ থাকে)। নিজে পিসি পাবার আগে অন্যদের পিসিতে হালকা পাতলা গেম খেলেছিলাম, তাই উইন্ডোজের ইন্টারফেসের সাথে খুব একটা অপরিচিত ছিলামনা। তাই আশেপাশে সাহায্য করার মত তেমন কেউ না থাকলেও নিজে নিজে আয়ত্ত্ব করতে বেশি দিন লাগেনাই। আয়ত্ত্ব বলতে মুভি দেখা, গান শোনা, গেম খেলা, টুকাটাক টাইপ করা আর এমএস পেইন্টে ছবি আঁকার চেষ্টা করা। আর এই পাঁচটা কাজের প্রথম চারটা কাজ আমি বয়সানুযায়ী বেশ দক্ষতার সাথেই করতে পারতাম। কম্পিউটারে যে এর চেয়ে বেশি কিছু করা যায় সেটাই জানতামনা! সেটা জেনেছি আরো পরে যখন সি এর সাথে পরিচয় হয়। নটরডেম কম্পিউটার ক্লাবের ছোট্ট রুমটাতে সপ্তাহে একবার যেতাম প্রোগ্রামিং শেখার জন্য। তখনই আস্তে আস্তে বুঝতে শিখি কম্পিউটারের আসল ক্ষমতা। এর আগ পর্যন্ত কম্পিউটার ছিল আমার কাছে টাইপরাইটার, ভিসিডি প্লেয়ার আর সেগা-নিন্টেন্ডোর গেমস্টেশনের মিলিত একটা যন্ত্র। এরও কয়েক বছর পর জানতে পারি উইন্ডোজই কেবল একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম না, আরো আছে, আর লিনাক্স হচ্ছে সেরকমই একটা!

এই কথাগুলো কেন বললাম? এটা বোঝানোর জন্য যে উইন্ডোজ সে সময় কতটা ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস নিয়ে এসেছিল যে আমার মত শিশুও (জাতিসংঘের আইনানুসারে ১৬ বছরের নিচে সবাই শিশু) উইন্ডোজের ইন্টারফেস সহজে ধরতে পেরছিল! একসময় কম্পিউটার ছিল কেবলমাত্র টেকি লোকদের জন্য। উইন্ডোজই বোধকরি এটাকে একেবারে সাধারন মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসে। সাধারন একজন মানুষ কি কাজে পিসি ব্যবহার করছে সেটা ব্যাপার না, সে যে পিসি ব্যবহার করছে এটাই ব্যাপার। উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তি মনে হয় এটাই ছিল যে, যে কেউ কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই পিসির সামনে বসে যেতে পারবে; সেই সাথে উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও এই "পিসির সামনে বসে যাওয়া ইউজার"! এই পিসাবযাই'রা (পিসির সামনে বসে যাওয়া ইউজার) যে শুধু উইন্ডোজেরই বড় দুর্বলতা তাই না, এরা তথ্য প্রযুক্তির এই বিশ্বেও সিংহভাগ ঝামেলার জন্য দায়ী।

বেশিরভাগ উইন্ডোজ ব্যবহারকারিরই আসলে কম্পিউটার বা উইন্ডোজ সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই। ভড়কে গেলেন? ভুল বুঝবেননা, আসলে পিসিতে লেটেস্ট এন্টিভাইরাস ইন্সটল করা বা কোন সফটওয়্যার রান করানো বা কিবোর্ড টিপে লেখালেখি করাটাকে আমি কম্পিউটার সম্পর্কে ধারনার মধ্যে ফেলতে চাচ্ছিনা। কি করছি না করছি সেটা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকাটাকে আমি এখানে বুঝাচ্ছি। আমি এমনও ইউজার দেখেছি যে কিনা কম্পিউটারকে "অধিক" সুরক্ষিত করার জন্য একইসাথে একাধিক এন্টিভাইরাস ইন্সটল করে রাখে! এতে করে তার পিসিতে কি কি সাইড এফেক্ট হতে পারে সেটা নিয়ে তার কোন ধারনাই নাই! প্রায়ই বেশিরভাগের পিসিতে যে জিনিসটা দেখি সেটা হল ডেস্কটপের উপর বা স্টার্ট মেনুতে শত শত ফাইল বা লিঙ্ক থাকে, এতে করে যে তাদের র্যামে কি পরিমান চাপ পড়ছে সেটা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। উইন্ডোজে যে ঘন ঘন ডিফ্র্যাগমেন্ট যে করতে হয় এটাই অনেকে জানেনা। এটা হচ্ছে কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার ফল। সমস্যা হচ্ছে এই পিসাবযাই'রা জানেন পর্যন্ত না যে তাদের জ্ঞানের ঘাটতি আছে। কারন তাদের জানতে দেয়া হচ্ছেনা।

পিসাবযাইদের আরেকটা উদাহরন দেই। আমি যখন প্রথম প্রথম ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হই তখন আমার একাউন্টে এক ধরনের মেইল প্রায়ই আসতো, যাতে লেখা থাকতো এই মেলটাকে ট্র্যাক করা হচ্ছে, তাই যত বেশি একাউন্টে এই মেইল পাঠাবেন আপনার একাউন্টে তত বেশি টাকা জমা হবে। ততদিনে প্রোগ্রামিং জিনিসটা হালকা পাতলা বুঝি। তাই সাবধানে মেইলটার আগগোড়া দেখলাম, যাদের হাত ঘুরে এসেছে তাদের একগাদা ইমেইল এড্রেস ছাড়া এমন কোন সফটওয়্যার এটাচড অবস্থায় পেলামনা যেটা এই মেইল ট্র্যাক করতে পারে। তাই এইরকম ইমেইল এলেই ডিলিট করে দিতাম। কিন্তু আসা বন্ধ হতনা। কেন? কারন এই ইমেইলটা যাদের কাছে গেছে তাদের সিংহাভাগই ব্যাপারটাকে বিশ্বাস করে। তারা জানে পর্যন্ত না যে এটা চেইন মেইল!

এইসব পিসাবযাইদের বেশিরভাগই জানেনা যে একই কাজ করার জন্য কম্পিউটার বিশ্বে একাধিক প্রোগ্রাম আছে। এমএস অফিস ছাড়াও যে লেখালেখি আর হিসাব-কিতাব করার জন্য আরো সফটওয়্যার আছে সেটা অনেকেই জানেনা। আর জানলেও তারা সুইচ করতে চাননা, কারন তারা মাইক্রোসফটের ইন্টারফেসের উপর এত বেশি নির্ভরশীল যে তারা অন্য কিছুতে গিয়ে থাকতে পারেননা। এক উইন্ডোজ ব্যবহারকারিকে একবার উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারের বদলে উইনএ্যাম্প ইন্সটল করে দিয়েছিলাম, কয়দিন পর সে আবার মিডিয়া প্লেয়ারে ফিরে আসে, কারন উইনএ্যাম্প তার পছন্দ হয়নাই। পছন্দ না হবার কারন মিডিয়া প্লেয়ারের মত দেখতে না! বাংলাদেশে যে ভার্সিটিতে শিক্ষকতা করতাম সেখানে আমাদের ডিপার্টমেন্টে একটা আলাদা রুম ছিল কেবলমাত্র শিক্ষকদের জন্য, যেখানে নেটব্রাউজ থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যন্ত করা হত। সেখানকার ইনচার্জ ছিলেন যেই শিক্ষক তিনি একবার কয়েকটা পিসিতে ওপেন অফিস ইন্সটল করেন। যার ফলাফল ছিল সম্মিলিত প্রতিবাদের ঝড়। প্রথম কারন এটা এমএস অফিস না! দ্বিতীয় কারন এমএস অফিসের যেখানে যা থাকে ওপেন অফিসের সেখানে সেটা নাই! তাই তাদের ব্যবহারে খুব কষ্ট হচ্ছে। অর্থ্যাৎ এমএস অফিসের ইন্টারফেস না হলে কিছুতেই ব্যবহার সম্ভব না। সেইদিন এক বাংলা ফোরামে (!) উইন্ডোজ বনাম লিনাক্স নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিল। তো এক উইন্ডোজ ব্যবহারকারি বলছিলেন যে তার কাছে লিনাক্সের কোন প্রোগ্রামই জাতের মনে হয়না, কারন সেগুলোর ইন্টারফেস তার পছন্দ না! চিন্তা করে দেখুন, উনি একটা প্রোগ্রামকে তার ইন্টারফেস দিয়ে বিচার করছেন, প্রোগ্রামটার ফাংশনালিটি তার কাছে কিছুই না!

বাংলাদেশে সাইবার ক্যাফেতে আমার যাতায়াত একেবারেই ছিলনা, তার প্রধান কারন হচ্ছে একেকটা পিসি ভাইরাস বোঝাই হয়ে এমন স্লো হয়ে থাকতো আর এত বেশি এডওয়্যার পপডআপ করত যে ব্রাউজ করার মজাটাই নষ্ট হয়ে যেত! কেন ঐ পিসিগুলার এই অবস্থা? কারন ঐ পিসাবযাই'রা। এরা ইন্টারনেটে কোন খানে "ক্লিক হিয়ার" শব্দটা পেলেই ক্লিক করে বসে। "মিলিয়ন পাউন্ড জিততে এইখানে ক্লিক করুন", "টিভি গাড়ি পেতে ক্লিক করুন" কিংবা "পিসিতে ভাইরাস আছে, ভাইরাস তাড়াতে অমুক প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে এইখানে ক্লিক করুন" - এই সবগুলোতেই তারা কোন রকম ভাবনা চিন্তা ছাড়া ক্লিক করে বসে। এর মাধ্যমে যে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার পিসিতে আসতে পারে এতে তাদের বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। তাদের ধারনা পিসিতে এন্টিভাইরাস থাকা মানেই "হোয়াইট হাউজের" সিকিউরিটি সেখানে চলে এসেছে। কিন্তু এন্টিভাইরাস মানেই যে কম্পিউটার পুরোপুরি নিরাপদ তা কিন্তু না। সেদিন পিসাবযাইদের একজন বলছিল যে ভাইরাস তার পিসিতে কোন সমস্যাই না, তার অমুক ব্র্যান্ডের এন্টিভাইরাস আছে। সেই এন্টিভাইরাস নাকি প্রথম চোটেই একগাদা ভাইরাস ডিলিট করেছে। সে এইটা বোঝেনা যে এন্টিভাইরাস যেসব ভাইরাস চিহ্নিত করতে পেরেছে সেগুলোকে ডিলিট করেছে যেগুলো চিহ্নিত করতে পারে নাই সেগুলো কোথায়? নিশ্চয়ই পিসির ভেতর তার কাজ চলে যাচ্ছে। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে আনেকে আবার অপরিচিত ইমেইল থেকে পাওয়া এটাচমেন্ট নামিয়ে চালাতে যায়, কারন তারা জানেনা ম্যালওয়্যার কি জিনিস। ফলাফল হিসেবে তাদের কাছে প্রায়ই শোনা যায় আমার পিসি খুব স্লো বা আমার নেট স্লো। স্লো হবারই কথা কারন সেই সময় তার পিসি তার অজান্তে পৃথিবীর হাজার হাজার পিসিতে স্প্যামিং করতে ব্যস্ত। আর এই সব প্রোগ্রাম যদি একবার অসাবধানতায় এডমিন প্রিভিলেজে ইন্সটল হয়ে যায় তাহলে আর কথাই নাই, এন্টিভাইরাসের সাধ্য নাই সেই পিসিকে জম্বি মেশিন হওয়া থেকে ঠেকায়।

সমস্যাটা এইখানেই। লোকজন কম্পিউটার ব্যবহার করছে ঠিকই কিন্তু না বুঝে না জেনে। আর এইসব অবুঝ ব্যবহারকারিরাই উইন্ডোজের মূল সম্বল। উইন্ডোজ তাদেরকে একের পর এক এত সহজ ইন্টারফেসের পিসি দিচ্ছে যে তাদের মধ্যে বুঝদার হবার ইচ্ছেটাই কখনো জাগেনা। অথবা উইন্ডোজ তাদের ইচ্ছা করেই অবুঝ করে রাখছে। এইবার নিশ্চয়ই আমার উপর ক্ষেপে উঠেছেন! আমি তো আগেই বলেছি আমার নিজেরও শুরু উইন্ডোজ দিয়ে। কিন্তু এরপর আমাকে অনেক কিছু জানতে হয়েছে যেটা একজন সাধারন ইউজারের ইচ্ছেই হবেনা। এই অবুঝ ইউজার তৈরিতে আমাদের আইটিবিদদেরও একটা বেশ প্রচ্ছন্ন ভূমিকা আছে বলে আমার বিশ্বাস। কারন সম্ভবত তাদের বেশিরভাগই উইন্ডোজ দিয়ে তাদের অাইটি জীবন শুরু করেছেন এবং পরে আর কোন ওএস হয় চেখে দেখেননি অথবা চেখে দেখলেও ইন্টারফেস ব্যবহারে সফল হননি কিংবা সফটওয়্যার ব্যবসার খাতিরে উইন্ডোজেই বাধা পড়ে গেছেন। এই ব্যাপারটা ঢাকা দেবার জন্য তাদের কথা বার্তা হয় উইন্ডোজ কেন্দ্রিক। এবং ভাবখানা হয় লিনাক্স বা অন্য সব ওএস অতি উচ্চমার্গীয় ব্যাপার-স্যাপার। এতে করে সাধারন ইউজাররা চিন্তা করেন যে অমুক আইটি বিশেষজ্ঞ যদি সারক্ষন উইন্ডোজ উইন্ডোজ করেন তাহলে নিশ্চয়ই অন্যগুলোতে ঘাপলা আছে! অবশ্য অন্য যে আরো ওএস আছে সেটা কয়জন সাধারন ব্যবহারকারি জানেন সেটাও একটা ব্যপার। আমি নিজেও লিনাক্স বা অন্যান্য ওএসের নাম শুনেছি অনেক পরে। কারন আমরা পিসি কিনলেই তাতে একটা পাইরেটেড উইন্ডোজ ভরে দেয়া হয়। ফলে অন্য যে আরো ওএস থাকতে পারে এটা মাথাতেই আসেনা। ফলে অবুঝরা অবুঝ হয়েই থাকছে।

তাহলে এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি? সেই গতানুগতিক "উইন্ডোজ ছেড়ে লিনাক্স ধরুন" সমাধান? হয়তোবা? কিন্তু তাতেই বা কি লাভ হবে? যেই অবুঝ ইউজার উইন্ডোজে এডমিন মোডে ভাইরাসকে এক্সেস দেয় সেই একই ইউজার লিনাক্সেও হাসতে হাসতে রুট মোডে ভাইরাসকে এক্সেস দিয়ে দেবে। কার্যকরি সমাধান হচ্ছে অবুঝদেরকে বুঝদার করা অথবা অবুঝ ইউজার কমিয়ে বুঝদার ইউজার বাড়ানো। ধরুন আপনার গাড়ি আছে সংগে গাড়ির সাথে ড্রাইভারও আছে। এখন আপনার ইচ্ছা আপনি কি গাড়ির ব্যাপার স্যাপার শিখবেন নাকি "গাড়ি চালানো কঠিন কাজ" বিবেচনা করে ড্রাইভারকেই গাড়ির সর্বময় কর্তা করে দেবেন। যদি আপনি গাড়ি সম্পর্কে অবুঝ হন তবে ড্রাইভার যা বলবে আপনাকে সেটাই করতে হবে, ড্রাইভার বলল এয়ার ফিল্টার নষ্ঠ, যেহতু আপনি জানেননা গাড়ির এয়ার ফিল্টার কোথায় থাকে বা কিভাবে পাল্টাতে হয় তাই ড্রাইভার সত্যি মিথ্যা যাই বলে সেটাই মেনে নিতে আপনি বাধ্য। কিন্তু যদি এয়ার ফিল্টার নিয়ে আপনার সামান্য একটু ধারনা থাকে যে এটা কোথায় থাকে বা এটা কিভাবে কাজ করে তবে কিন্তু ড্রাইভার আপনাকে ইচ্ছামত কলা দেখাতে পারবেনা। আর জানার এই কাজটাই উইন্ডোজ করতে দিচ্ছেনা। কারন এই ইউজারা যদি বুঝদার হয়ে যায় তবে তারা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে উইন্ডোজের তুলনা শুরু করবে এবং খুব সহজেই আবিষ্কার করে ফেলবে যে উইন্ডোজ আসলে সেইরকম শক্তিশালী কোন ওএস না। ফলাফল হিসেবে উইন্ডোজবিমুখতা। আর এই জিনিসটাকেই উইন্ডোজ সম্ভবত বেশি ভয় পায় - ব্যবসা হারানো।

তবে আশার কথা নতুন প্রজন্ম আমাদের মত না, তারা জন্মের পর থেকেই বাসায় পিসি দেখে অভ্যস্ত। ছোটবেলা থেকেই তারা পিসি নেড়েচেড়ে বড় হচ্ছে। ফলে তারা একসময় বুঝদার ইউজার হিসেবেই বড় হবে আর অবুঝ ইউজাররা ক্রমেই কমতে থাকবে। আগে হোক পরে হোক এটা ঘটবেই। উইন্ডোজ তার অবুঝ ইউজারদের বলতে পারে যে লিনাক্স অতি অখাদ্য কঠিন জিনিস এবং এই ইউজাররা এই ব্যাপারে দ্বিমত পোষন করবেনা। কিন্তু কি হবে যখন বুঝদার ইউজারদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে এবং তারা কেবল মাত্র ইন্টারফেস দেখে ওএস ব্যবহার করবেনা বরং এর কার্যক্ষমতা আর উপযোগীতাকে প্রাধান্য দেবে? যখন তারা ওপেন সোর্সের মর্মার্থ ধরতে পারবে? যেকোন সফটওয়্যারকে গড়ে নেবে নিজের পছন্দমত? কম্পিউটারগুলো তখন এমন ইউজারদের অধীনে থাকবে যারা তাকে ভালোভাবে চিনে জানে। এইসব বুঝদার ইউজাররা খামাখা সফটওয়্যার ইনস্টল করবেনা, কম্পিউটারের ঝুকি যাবে অনেকটুকু কমে। তারা কম্পিউটার থেকে বের করে নেবে তাদের যা দরকার তার সবটুকুই। কেমন হবে সেই সময়? কোন ভাইরাস নাই, কোন ম্যালওয়্যার নাই। তাহলে কি উইন্ডোজও নাই হয়ে যাবে? কারন সহজ সমীকরন - অবুঝ ইউজার নেই তো উইন্ডোজও নেই!

দেখা যাক। সময়ই বলে দিবে।

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

উইন্ডোজ ভক্ত (তাও আবার পাইরেটেড smile) হলেও আপনার লেখাটা ছোট করে বলতে বললে বলব অসাধারন হয়েছে।আমার জানা মতে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ আর অফিস ছাড়াও মনে হয় কিছু ভাল কাজ করেছে। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলপমেন্ট মনে হয় ওদের একটা ভাল কাজ যদিও আমার সেই ব্যাপারে ভাল জানা নেই।আর বিল গেইটস ব্যাবসা ছাড়াও কিছু ভাল কাজের সাথে যুক্ত যা আমার দ্রষ্টিতে সাধুবাদ পাবার যোগ্য।যাই হোক আমরা বোধ হয় আরেকটা বিস্ফোরণ দেখতে যাচ্ছি... shame hairpull notlistening

answering-islam টাইপের সাইট এর লেখাগুলো পড়ে পড়ে মুসলাম থেকে নাস্তিক হবার আগে পালটা যুক্তিগুলো জানতে ভিজিট করুন http://www.islamic-awareness.org/আশা রাখি মুসলমান হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে মনের সন্দেহ দূর হবে ইনশাল্লাহ।

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

বিশাল লিখা কিন্তু খুব সুন্দর বিশ্লেষন। thumbs_up অনেক অনেক ধন্যবাদ।

neutral আপনার কথার সাথে আমিও একমত যে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে জেনে, বুঝে, শিখে। কেননা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানই হবে আমাদের ভাল খারাপ বিশ্লেষনের মূল ভিত্তি, এটাই আমাদের পরনির্ভরতাকে তাড়িয়ে করবে স্বনির্ভর আর চিন্তা চেতনাকে করবে স্বাধীন।

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

a thief; a pilferer; a stealthy man. ̃কাঁটা n. a kind of prickly thistle that sticks fast to the clothes of a passer-by, bur, burr. ̃কুঠুরি n. a secret chamber; a  secret recess or cupboard in the wall of a room. চোর-চোর খেলা a game of hide and-seek in which some children act as policemen and the rest as thieves. চোরছ্যাঁচড় n. pl. thieves and swindlers. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই (fig.—dero.) birds of the same feather (flock to gether). চোরের ধন বাটপাড়ে খায় (fig.) ill earned money has to be lost for noth ing. চোরের মার বড় গলা (fig.)

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

পুরোটা পড়লাম। এক কথায় অসাধারণ লিখেছেন। তবে ভয় পাচ্ছি এখানে না আবার শুরু হয়ে যায়  donttell

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

ভালো লাগলো আপনার বিশ্লেষন।

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

সবটা পড়তে পারলাম না ভাই। sad তবে বেশি অর্ধেক পড়েছি। বাকিটা পড়ে পড়ব। ধন্যবাদ এমন লেখার জন্য। আমারা বোধহয় স্বপ্নচারী ভাইয়ের মত আরও একজনকে পেতে যাচ্ছি। thumbs_up clap

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

ফায়ারফক্স ভাই কী বললেন বুঝলাম না ... ... কোন একটা অভিধান থেকে কিছু অংশ তুলে দেয়ার প্রাসঙ্গিকতাটাই বা কী?!! নাকি পোস্ট সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা??
====

চমৎকার লেখা। এইখানে একটা বিষয় পরিষ্কার হলো .... বুঝদার ব্যবহারকারীগণই বিকল্প খোঁজে এবং জ্ঞানময়/সতর্ক ভাবেই অন্য সিস্টেমগুলো ব্যবহার শুরু করে। আর বুঝদার জন্যই এরা আগের উইন্ডোজ সম্পর্কেও ভালো জ্ঞান রাখে। কিন্তু একটি ফোরামে(!) যখন এই বিষয়ে তর্ক হয় তখন একপক্ষের তর্ক হয় সেইরকম .... ... ধোঁয়া ধোঁয়া একটা আইডিয়া থেকেই বিপক্ষ যুক্তি বানিয়ে দেয়!!

লেখার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করার কোনো মানে নাই  big_smile তাই রেপু দিলাম।  cool

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

সামিউল লিখেছেন:

পুরোটা পড়লাম। এক কথায় অসাধারণ লিখেছেন। তবে ভয় পাচ্ছি এখানে না আবার শুরু হয়ে যায়

সেটাই।

১০

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

ভালোই হয়েছে। কারণ আপনি উইন্ডোজ ব্যবহারকারদের লিনাক্সে আসতে বলেন নি। বললে আরেকটি বিস্ফোরণ দেখতে পেতেন। আমি বিস্ফোরণ ঘটালাম না। কিন্তু পলাশ ভাই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। তবে এখন আর উইন্ডোজকে ছাড়ছি না। পাইরেসি আন্দোলন হলে তো আমি হার্ট এটাকই করব। thumbs_up

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মেহেদী৮৩ (১১-০৯-২০০৯ ১১:৫২)

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

চমৎকার লিখেছেন নীলদা।  thumbs_up

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নচারী (১১-০৯-২০০৯ ১৬:০৮)

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

@ফায়াফক্স
কাকে বললেন, কি বললেন, কেনইবা বললেন বুঝলামনা!  thinking

@ফাহিম

ভালোই হয়েছে। কারণ আপনি উইন্ডোজ ব্যবহারকারদের লিনাক্সে আসতে বলেন নি। বললে আরেকটি বিস্ফোরণ দেখতে পেতেন।

না বিস্ফোরণ হতনা। কেন হতনা সেটা শামীম ভাইয়ের পোস্টেই বলা আছে।

আমি বিস্ফোরণ ঘটালাম না।

তুমি কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটাবে? আমি তো বিস্ফোরক কিছু দেইই নাই!  lol আর বিস্ফোরন ঘটাবার আগে শামীম ভাইয়ের পোস্টটা দেখে নিও, কেমন?  wink

@সবাইকে
আমি মনে হয় ফোরামে অনেকের চক্ষুশূল হয়ে গেছি! আমার জানা মতে কাউকে আমি ব্যক্তিগত কোন আক্রমন করিনি। আজ গোপন বার্তা হিসেবে LoveULinux নামের একজনের কাছ থেকে বার্তা পেলাম। নিচে সেটার স্ক্রিনশট দিলাম।

মডারেশন: গোপন বার্তা প্রকাশ করবেন না।

১৩

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

ভালো লিখেছেন, কিন্তু কয়েকটা জায়গায় একমত হতে পারলাম না:

১. উইন্ডোজের সিকিউরিটি সম্পর্কে যা বললেন তার বেশিরভাগই প্রযোজ্য ৮ বছরের পুরানো একটা অপারেটিং সিস্টেমের জন্য। উইন্ডোজের নতুন ভার্সনগুলোতে সিকিউরিটি সমস্যা অনেক কম। এতে নিয়মিত ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট করারও প্রয়োজন নেই, সপ্তাহে একবার নিজে থেকেই ডিফ্র্যাগমেন্ট হয়ে যায়।

২. "অবুঝ ইউজার নেই তো উইন্ডোজও নেই"- এটা ভুল ধারণা। কারণ শুধু অবুঝরাই উইন্ডোজ ইউজ করে না। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগও উইন্ডোজ ব্যবহার করে। এটা শুধু আমাদের দেশেই না, সারা পৃথিবীতেই সত্য।

৩. আপনি যাদের অবুঝ ইউজার বলছেন তাদের পরিমাণ ভবিষ্যতে তো কমবেই না- বরং কম্পিউটারের যত প্রসার ঘটবে সে ধরনের ইউজারের শতকরা পরিমাণ ততই বাড়বে। বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ব্রাউজিং, গান শোনা, মুভি দেখা কিংবা গেইম খেলার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে। কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে সেটা জানার আগ্রহ বা সময় তাদের নেই। এগুলো জানার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করার মতো মানসিকতা খুব কম মানুষেরই আছে।

৪. অবশ্যই উইন্ডোজের সাফল্যের মূল কারণ সহজ ইউজার ইন্টারফেস- কিন্তু এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোন কারণ নেই। ইউজার ইন্টারফেস যেকোনো সফটওয়্যারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা ডেভেলপ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং কাজ। মাইক্রোসফট ইউজার ইন্টারফেস সহজ করার জন্য শত শত কর্মঘন্টা ব্যয় করে থাকে যাতে “অবুঝ” ইউজাররাও কম সময়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। এর ভালো উদাহরণ হচ্ছে অফিস ২০০৭-এর রিবন। অফিস ২০০৩-এর জনপ্রিয়তার কোনো অভাব ছিল না। তবুও রিবনের মত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এটাই।  যদিও প্রথম দিকে অনেক সমালোচনা হয়েছিল কিন্তু নতুন ইউজারদের কাছে এটা অনেক জনপ্রিয়।

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন উন্মাতাল_তারুণ্য (১১-০৯-২০০৯ ১৪:২৪)

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

pezzonovante লিখেছেন:

কারণ শুধু অবুঝরাই উইন্ডোজ ইউজ করে না। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগও উইন্ডোজ ব্যবহার করে। এটা শুধু আমাদের দেশেই না, সারা পৃথিবীতেই সত্য।

ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

@অনী,
'যাহাদের আসিবার সাহস নাই দিবালোকে, আসে তাহারা রাতের আঁধারে, পিছন দিয়ে।'
'লিনাক্স' থেকে ঘুষের পয়সাটা পাইলে আমারেও একটু ভাগ দিয়েন কিন্তু। big_smile

" 'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি। তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥ " - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উন্মাতাল_তারুণ্য'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

pezzonovante লিখেছেন:

ভালো লিখেছেন, কিন্তু কয়েকটা জায়গায় একমত হতে পারলাম না:

১. উইন্ডোজের সিকিউরিটি সম্পর্কে যা বললেন তার বেশিরভাগই প্রযোজ্য ৮ বছরের পুরানো একটা অপারেটিং সিস্টেমের জন্য। উইন্ডোজের নতুন ভার্সনগুলোতে সিকিউরিটি সমস্যা অনেক কম। এতে নিয়মিত ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট করারও প্রয়োজন নেই, সপ্তাহে একবার নিজে থেকেই ডিফ্র্যাগমেন্ট হয়ে যায়।

২. "অবুঝ ইউজার নেই তো উইন্ডোজও নেই"- এটা ভুল ধারণা। কারণ শুধু অবুঝরাই উইন্ডোজ ইউজ করে না। কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগও উইন্ডোজ ব্যবহার করে। এটা শুধু আমাদের দেশেই না, সারা পৃথিবীতেই সত্য।

৩. আপনি যাদের অবুঝ ইউজার বলছেন তাদের পরিমাণ ভবিষ্যতে তো কমবেই না- বরং কম্পিউটারের যত প্রসার ঘটবে সে ধরনের ইউজারের শতকরা পরিমাণ ততই বাড়বে। বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ব্রাউজিং, গান শোনা, মুভি দেখা কিংবা গেইম খেলার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে। কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে সেটা জানার আগ্রহ বা সময় তাদের নেই। এগুলো জানার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করার মতো মানসিকতা খুব কম মানুষেরই আছে।

৪. অবশ্যই উইন্ডোজের সাফল্যের মূল কারণ সহজ ইউজার ইন্টারফেস- কিন্তু এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোন কারণ নেই। ইউজার ইন্টারফেস যেকোনো সফটওয়্যারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা ডেভেলপ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং কাজ। মাইক্রোসফট ইউজার ইন্টারফেস সহজ করার জন্য শত শত কর্মঘন্টা ব্যয় করে থাকে যাতে “অবুঝ” ইউজাররাও কম সময়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। এর ভালো উদাহরণ হচ্ছে অফিস ২০০৭-এর রিবন। অফিস ২০০৩-এর জনপ্রিয়তার কোনো অভাব ছিল না। তবুও রিবনের মত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এটাই।  যদিও প্রথম দিকে অনেক সমালোচনা হয়েছিল কিন্তু নতুন ইউজারদের কাছে এটা অনেক জনপ্রিয়।

আপনার সাথে আমি ১০০% একমত। আপনি খুব সুন্দরভাবে এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভালো ভালো কথা বলে কিভাবে যে আপনি রেপুগুলো পেয়েছেন না। নেন আরেকটা। আমার পক্ষ থেকে। thumbs_up

১৬

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

বার বার একই বিতর্ক কেন ঘুরেফিরে আসে? কোনটি ভালো ওএস? আমার মতে যে ওএস ভালো তা এমনিতেই নিজের জায়াগা করে নিবে।
আমি বুঝি না লিনাক্স এর কথা বল্লে ইউন্ডোজ ব্যবহারকারীরা আর ইউন্ডোজএর কথা বল্লে লিনাক্স  ব্যবহারকারীর এতো ফুসে উঠে কেন? কারো কারো কথা শুনে মনে হয় কম্পিউটারের ইতিহাসে Microsoft এর ভূমিকা সবই নেতীবাচক। আর ইউন্ডোজ মানেই ভাইরাস,ক্রাস,পাইরেসি আরযে কত সমস্য তার হিসাব নেই।

আমার কথাহলো লিনাক্স বা ইউন্ডোজে দেষ খোজা বাদ দিয়ে এদের গুন গুলো খুজুন, কাজ হবে।

আমি নিজেও অরিজিনাল ইউন্ডোজএর এক্সপি পাশাপাশি  লিনাক্স ব্যবহার করি কিছুটা হলেও জানি লিনাক্সে  এর সুবিধা। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে জনপ্রিয়তার দৌড়ে ইউন্ডোজ অনেক এগিয়। তাই লিনাক্সকে জনপ্রীয় করতে হলে ইউন্ডোজের জনপ্রীয়তা বা সুবিধা/অসুবাধা নিয়ে বিতর্ক করে কোন লাভ হবে না। সাবাইকে জানাতে হবে লিনাক্সের সুবিধার কথা তবে যত দিন ২০/৩০ টাকায় ইউন্ডোজএর সিডি বাংলাদেশ পওয়া যাদব তত দিন লানাক্সে ব্যবহার আমাদের দেশে খুব একটা বারবে না

লিনাক্স প্রমীদের কাছে আমার একটি অনুরোধ ইউন্ডোজের সমালোচনা ছাড়ুন এবং লিনাক্সের সুবিধার কথা সবাইকে জানান।

আমা আশাবাদী একদিন বংলার সব পিসিতে লিনাক্স চলবে। চুরির দায় থেকে মুক্ত হবো আমরা

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

১৭

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

আপনার লেখা সাথে গোপন বার্তার স্ক্রিনসটটাও দেখলাম। লেখাটা দারুণ হয়েছে। আর গোপন বার্তা সম্পর্কে কিছুই বলতে চাচ্ছিনা।

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

অবুঝ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না। কম্পিউটার চালানোর জন্য সেটা কিভাবে কাজ করে বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ না। সাধারণের আওতায় কম্পিউটিং আনতে হলে - অবশ্যই তাকে ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে হবে। অবুঝ ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ ব্যবহার করেন না জেনেই। এটার মূল কারণ, তাদের কম্পিউটার ধরিয়ে দেয়া হয় উইন্ডোজ দিয়ে। তারা কম্পিউটার আর উইন্ডোজের মধ্যে কোন পার্থক্য বোঝে না। উইন্ডোজ-ই তাদের কাছে কম্পিউটার। এটাতে দোষের কিছু নাই। সবাইকে সবকিছু জানতে হয় না।

লিনাক্সের প্রসারে এ ধরণের চিন্তা-ভাবনা অন্যতম বড় বাধা। একজন ইউজারকে কম্পিউটিং-এর নাড়ি-নক্ষত্র জানতে হবে, এমন হওয়া উচিত না। তাহলে তার অন্য ক্রিয়েটিভিটি নষ্ট হবে। সবাই কম্পিউটিং বিশেষজ্ঞ হয়ে গেলে অন্য কাজ হবে কিভাবে? যে যেটা পারবে, তাকে সেটাই করতে দেয়া উচিত।

উবুন্তু আসার আগ পর্যন্ত লিনাক্স (ওপেনসোর্স) বিশ্বের এই ধরণের ধারণাই ছিল। কিন্তু শাটলওয়ার্থ ব্যাপারটা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন এবং উবুন্তু তৈরী করেছেন ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস আনার জন্য।

আসলে লিনাক্স অলরেডি ইউজার ফ্রেন্ডলি-ই। একজন লিনাক্স ইউজারকে ডিফ্র্যাগ করার কথা মনে রাখতে হয় না, ক্লিনআপ-চেকডিস্ক চালানোর দরকার পড়ে না, এন্টি-ভাইরাস, এন্টি-স্পাইওয়্যার নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না। আরও অনেক কিছুই জানার প্রয়োজন পড়ে না।

আমার আত্মীয় আছে - যারা উবুন্তু ব্যবহার করে ফুলটাইম, কিন্তু কম্পিউটিং-এর ক-ও জানে না। জানতে চায়-ও না। তার জানার দরকারও নাই। তাদের দেখিয়ে দিয়েছি কোন সফটওয়্যার দিয়ে কী কাজ করতে হয়, তারা সেভাবেই কাজ করছে।

সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। তবে সেটা সবাইকে কম্পিউটিং বুঝতে হবে, তা না। বরং সবার আশেপাশে কিছু সচেতন দক্ষ ইউজার থাকাটা প্রয়োজন। আর যারা কম্পিউটিং ব্যবসায় জড়িত, তাদের সচেতনতা, সততা-র প্রয়োজন। কোন নতুন ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে হাজার হাজার পাইরেটেড সফটওয়্যার দিয়ে দিলে সেই নতুন ব্যক্তি আর কিছুই জানবে না, শিখবে না। বরং সফটওয়্যার চুরি করা তার অধিকার, এই ভুল ধারণায় বিশ্বাসী হবে।

বিঃ দ্রঃ, অনুগ্রহ করে কখনও গোপন বার্তা প্রকাশ করবেন না। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহায়তা নিন।

১৯

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

New Note 9

আপনার বিশ্লেষণ দেখেই আমার আক্কেলগুড়ুম বলা ভাল আহাম্মক বনে গেলাম! এইরকম বিশ্লেষণ জীবনে প্রথম দেখলাম।

লিনাক্স ব্যবহারকারীদের পোস্টটি ভাল লাগলেও একজন পূর্ণ লিনাক্স ব্যবহারকারী হিসেবে পোস্টটাকে আমার আবেগপূর্ণই মনে হয়েছে।

লো লার্নিং কার্ভ কথাটা প্রায় শুনা যায়! পোগ্রামিং এ বিভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে কাজকে সহজ করার জন্য এবং রেপিড ডেভেলপমেন্টের জন্য। কিন্তু আপনার ভাষ্য অনুযায়ী আহাম্মকগুলোই সেসব জিনিস ব্যবহার করে।  নিত্য নতুন যত সেবা আসবে অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি লো লার্ণিং ব্যাপারটি মাথায় রেখেই আসে।

উইন্ডোজ বা কোন অপারেটিং সিস্টেম বা কোন সফটওয়্যার যদি কাঙ্খিত কাজগুলোকে সহজ করে সেটা তার দূর্বলতা বা ব্যর্থতা? অনেকের কম্পিউটারে কাজই টাইপ করা। আপনি তো দেখি তাদেরকে লিনাস টারভালস বানিয়ে ফেলার দিবাস্বপ্নে আছেন। আপনি গাড়ির উদহারণ দিয়েছেন। কিন্তু গাড়ির সব বিষয়গুলো কি আপনি জানেন? তাহলে মেকানিকের কাছে যাওয়ার দরকার কি? যে লোকের কাজ ডকুমেন্ট তৈরি করা, তার ডিফ্রাগমেন্ট সম্পর্কে জানা জরূরী নয় বলেই মনে করি! তবে জানলে ভাল।

আমার কম্পিউটারের ডেক্টটপে (উইন্ডোজ বা লিনাক্স) আইকনে ভর্তি থাকে। কিন্তু তাতে আমার কোন মাথাব্যাথা নাই। আমাকে এভাবেই কাজ করতে হবে। তাতে যদি র্যাম নষ্ট হয়ে যায় তাহলে নতুন র্যাম কিনে লাগাব। আমি কম্পিউটার কিনেছি ব্যবহার করার জন্য মাথায় তুলে রাখার জন্য নয়। কম্পিউটার স্পেশালিস্ট ছাড়া বাকিরা কম্পিউটার ব্যবহার করা নিজের কাজটি করার জন্য। কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে সেটা জানার প্রয়োজন দেখি না।  আপনি জ্ঞানের ঘাটতির কথা বলেছেন? এমন একজন দেখাতে পারবেন যার নাই? [পরের লাইনটি লিখলে সেটা নিয়ম পরিপন্থী হবে বলে লিখলাম না!] ডিফ্যাগমমেন্ট না করা বা ডেস্কটপে অনেক আইকন রেখে দেয়া যদি এরকম এনালাইসিসের বেজ হয় তাহলে আর কি বা বলার আছে।

আপনি ইমেইলের কথা বলেছেন। আপনি প্রোগ্রামিং জানায় ওটা ফেইক মেইল সেটা ধরতে পেরেছেন (যদিও দুটোর কোন রিলেশন দেখি না)। কিন্তু আপনি কি চাচ্ছেন সেজন্য সবাইকে প্রোগ্রামিং শেখাতে?

ইউআই সম্পর্কে আপনার ধারণা দেখে আরও একবার আহাম্মক হয়ে গেলাম। একজন প্রোগ্রামার আপনি, আপনার মুখে এরকম কথা শুনে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

আপনি এ দেশে বা বিশ্বে লিনাক্সের আজকে এত জনপ্রিয়তার বড় কয়েকটি কারণ বলতে পারবেন? আমি অবশ্য পারব না বলতে! তবে সাদা চোখে যা দেখি তাতে আপনার গল্পটিকে রূপকথারও অতীত মনে হচ্ছে। আজকে লিনাক্স বেজড ওএস এর জনপ্রিয়তা চমৎকার ইউআই এর কারণেই। এত ভেতরের ক্ষমতা তো আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু আগে সেটা মানুষের কাছে আসতে পারেনি। এখন পারছে।

যারা এমএস অফিস না দেয়ায় চিল্লা ফাল্লা করছে তাদের একটা গ্রাউন্ড থাকতে পারে। তারা একবার এম এস অফিস শিখেছেন। তাদের কাজ চলছে। অন্যটা শেখার পেইন নেয়ার মত তাদের সময়, সুযোগ ঔ ধৈর্য্য নাও থাকতে পারে। আপনি সেদিকে যাওয়ারই দরকার নেই। আপনি সিম্পল অফিস ২০০৩ এবং অফিস ২০০৭ দেখুন।অনেকেই ২০০৭ দিয়ে পরে মুছে দিয়েছে। আমি নিজেও বেশ কিছুদিন বিপদে ছিলাম। পরে অবশ্য ওপেন অফিসে চলে আসায় সেদিকে আর মাথা ঘামাইনি । ২০০৭ কেন মুছে দিয়েছে? ওটা তো অফিসই তাই না? কারণ তাদের পরিচিত ইন্টারফেসের সাথে পরিচিত নয়!  কাজের সময় খোঁজাখুঁজি করতে কারই হয়তো ভাল লাগার কথা নয়! যিনি ব্যবহার করছেন তার হয়তো পার্থক্যগুলো দেখার সময় নেই অথবা অন্য যে কোন যুক্তিই থাকতে পারে। এখানে উইন্ডোজ বা লিনাক্স, এমএসঅফিস বা ওপেন অফিস জাতিয় কোন ব্যাপার নেই।

আর অভ্যাসও একটা ব্যাপার। আমি এখনও ওপেন অফিস ফন্ট বড় করার জন্য ctrl + ] চাপি! অন্যদিকে এখন উইন্ডোজে বসলে সবার আগে কমান্ডো প্রমট ওপেন করি! সুতরাং পূর্বেরটার মত ভাবতে কোন দোষ দেখি না।  অভ্যাস পরিবর্তন হওয়ার জন্যও সময় দরকার।

আপনাকে জানতে হয়েছে। কিন্তু সবাইকে জানতে হয় না। আপনার জানার দরকার না হলে আপনি জানতেন না! তাদের দরকার হয়না বলে তারও জানেনা। নিজের অবস্থান বদলে যাওয়ার সাথে সাথে পূর্বের অবস্থায় অবস্থিতদের সম্পর্কে এরকম মন্তব্য শুধু এদেশের রাজনীতিবিদদেরই মানায়। কেউ যদি কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না নিয়ে তার কাজটি ঠিকমত সম্পন্ন করতে পারে তাহলে আমি তাকে ক্রেডিটই দেব। আর কোন সফটওয়্যার মানুষকে কম্পিউটার শেখানোর জন্য তৈরি হয় না বরং নির্দিষ্ট কাজটি অন্য কোনটির চেয়ে দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য তৈরি হয়।

আপনি এক কথায় উইন্ডোজ শক্তিশালী না বলে! হাজার হাজার কম্পিউটার স্পেশালিস্ট যে উইন্ডোজ ব্যবহার করে, সে বিষয়টি আপনি জেনেও তা কিভাবে অস্বীকার করে গেলেন সেটা মাথায় ঢুকল না। আপনি বলতে পারতেন উইন্ডোজের চেয়ে আরও শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম সহজলভ্য।  পৃথিবীতে বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ উইন্ডোজ এবং উইন্ডোজ বেজড ডেভেলপাররা অবুঝ হয়ে থাকে তাহলে আপনার মত একজন বুঝদার দেখে আমি সত্যিই বিমোহিত, জীবনটা স্বার্থক হল।

একটি উদাহরণ দেই, বর্তমানে আমি একটা ওয়েব সার্ভিস নিয়ে কাজ করছি (twilio.com) যেখানে এপিআই দিয়ে সহজেই কল করা বা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু আগে কাজটি এত সহজ করা যেতনা আর সহজেই বুঝতে পারছেন  এরজন্য কতটা বিশাল সেটআপ দরকার। অথচ এই সেবাটি'র ফলে ভিওআইপি'র আন্ডারলাইনং টেকনোলজি সম্পর্কে না জেনেও চমৎকার একটা এপ্লিকেশন করা সম্ভব যেটা দিয়ে ফোনে/মোবাইলে কল করা যাবে বা কল গ্রহণ করা যাবে। আপনার হিসেব অনুযায়ী তো বেকুবরাই এই সেবা গ্রহণ করে। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা দিন দিন আরও বেকুব হতে চাই।


[বি:দ্র: ফোরামে লিনাক্স নিয়ে যত লেখা দেখলাম এরপর এটাকে সবচেয়ে অখাদ্য মনে হয়েছে। সেজন্যই উত্তর দেবনা ভাবছিলাম। কিন্তু পাছে মৌনতা লেখার প্রতি সমর্থণ বোঝায় কিনা সে ভয়েই উত্তর দিলাম।  এই উত্তরটি দেয়ার আগে আমি ৮ নম্বর পোস্ট অথ্যাৎ শামীম ভাইয়ের উত্তর পর্যন্ত পড়েছি। সুতরাং এটাকে অন্য কারও লেখার সাথে মেলানোর দরকার নেই। এই উত্তরের আমি উইন্ডোজের বা লিনাক্সের কোনটারই সমর্থণ করছি না। কোন ভাষা কষ্ট দিয়ে থাকলে দু:খিত। আসলে এরকম লেখা মোস্তফা জব্বার ছাড়া কারও কাছে থেকে আশা করিনা।]

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

২০

Re: উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

অনেক জ্ঞান হলো। আমি নিলাম।

আরাফাত রহমান
Web Application Developer
চি‌ৎকার করতে করতে গলাটা ফাইট্টা গেছে (প্রজন্ম ফোরামে)

আরাফাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত