সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হাঙ্গরিকোডার (০৫-০৯-২০০৯ ১৫:১১)

টপিকঃ অন্যরকম এক অনুভূতি

আমি এখন লিখছি আঙ্গুরপোতা-দহগ্রাম থেকে! ভারতের তিন বিঘা করিডোর পার হয়ে এখানে আসলাম! যাত্রী ছাউনি ও বিডিআর এর ক্যাম্প থেকে বসে লিখছি! লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না! একটি অন্যরকম অনুভূতি!

------------------ মূল লেখা ---------------

এর আগে একবার তিস্তা ব্যারেজ দেখে অদ্ভূত ভাল লেগেছিল! তখন থেকেই পরিকল্পনা ছিল সুযোগ পেলেই আবার আসব দেখতে! অফিসের কাজ, ইন্টার্ণশীপ এবং তার রিপোর্ট লেখা, ঈদের পর এমবিএ ফাইনাল সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম! তখনই তুষারের সাথে কথা বলে ঠিক করলাম বৃহ:স্পতিবার আবার নীলফামারি যাব এবং যেহেতু এ সময় বিশাল বড় একটা চাঁদ পাওয়া যাবে, রাতে বেলায় তিস্তা ব্যারেজ দেখতে নিশ্চয়ই মজা হবে! তুষার রাজি হল! আমি অলজবসবিডি.কম এর এডমিন খোকন ভাইকে ফোন দিলাম তিনি কুড়িগ্রাম থেকে এসে আমাদের সাথে যোগ দিতে আগ্রহী কিনা! তিনি রাজি হলেন! আমি বৃহঃষ্পতিবার সকালে তিতুমির এক্সপ্রেসে রাজশাহী থেকে ট্রেনে উঠলাম নীলফামারির উদ্দেশ্যে! ১১টার দিকে খোকন ভাই মোটর সাইকেল নিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে রওনা দিলেন নীলফামারির উদ্দেশ্যে! হঠাৎ মনে হল আমার তো পর্যাপ্ত টাকাই নেয়া হয়নি! তাই আমি সৈয়দপুর নেমে গেলাম! সেখানে ডিবিবিএল এর বুথ থেকে টাকা তুলে খোকন ভাইকে ফোন দিলাম! তিনি বললেন ৩০ মিনিটের মধ্যে তিনি সৈয়দপুর পৌঁছে যাবেন! আমি ভাবলাম তাহলে এখান থেকে একসাথেই যাব! আমি একটা রিকসা নিয়ে ঘুরলাম! প্রথমেই রেল কারখানায় গেলাম! গেটের গার্ড বলল (ঐ) লাল রুম থেকে আগে পারমিশন আনতে হবে! আমি সেখানে গিয়ে বললাম আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছি, আমি ভেতরে দেখতে চাই! তিনি বললেন আজকে তো অফিস ছুটি! শনিবার আসেন! আমি বললাম অনুমতির নাকি ব্যাপার আছে?

http://photos-d.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc1/hs234.snc1/8129_1192598210020_1080340658_593011_1260805_n.jpg

তিনি বললেন আপনি আসেন, ব্যবস্থা হবে! গেটে আরেকজন বললেন আসেন, আমি ঘুরিয়ে দেখাব!
তারপর সৈয়দপুরে আরো কিছুক্ষণ ঘুরলাম এবং একটা শপিং মলে গেলাম! তারপর বাস স্ট্যান্ডের কাছে মিনিট দুয়েক দাঁড়াতেই খোকন ভাই তার এক কাজিন সহ মোটর সাইকেল নিয়ে হাজির! এরপর ৩জনে মোটর সাইকেলে করে নীলফামারি (প্রায় ২০ কি.মি) তুষারের অফিস সংলগ্ন বাসায় পৌঁছে গেলাম! রেস্ট নিয়ে দুপুরে খেলাম  ghusi তারপর একটা ছোট্ট ঘুম দিয়ে আরো একটি মোটর সাইকেল নিয়ে আমরা ৪জন যাত্রা করলাম তিস্তা ব্যারেজের উদ্দেশ্য! ক্যানাল থেকে আমি ড্রাইভিং শুরু করলাম! সন্ধ্যার সময় ৬০+ গতি নিয়ে চালানোর অভিজ্ঞতা এই প্রথম! আগেই ঠিক করা পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে ব্যাগ রেখে আমরা চলে গেলাম ব্যারেজে! সেখানে ঘন্টা দুয়েক কাটালাম! চাঁদের আলোচ অসাধারণ লাগল সময়টা! পানির শব্দ, চাঁদের আলো সব মিলিয়ে অপার্থিব লাগল! সেখান থেকে আমরা রেস্ট হাউজে এসে (ব্যারেজ থেকে ৪ কি.মি এর মত দুরুত্ব) খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুম দিলাম রাত ১টার দিকে!

সকালে উঠে সিন্ধান্ত নেয়া হলো আর একবার ব্যারেজ দেখে আমরা নিলফামারি ফিরে যাব! আমরা ব্যারেজে এবং তার আশে পাশে অনেকক্ষণ ঘুরলাম! নৌকায় করে চরে গিয়ে ছবি তুললাম! তারপর ফিরে আসব এমন সময় সবার মনে হল ভ্রমণটা এখনও স্বার্থক হয়নি! কারণ সবাই আমরা আগে একবার ব্যারেজে গেলাম! তখন সিন্ধান্ত হল আমরা আঙ্গুরপোতা-দহগ্রাম যাব তিন বিঘা করিডোর দিয়ে! ব্যাস, আবার যাত্রা শুরু হল! কত কিলো গেলাম সেটা খোকন ভাই ভাল বলতে পারবে!

http://photos-c.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc1/hs234.snc1/8129_1192598810035_1080340658_593026_626153_n.jpg

২-৩ টা রেস্ট দিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম করিডোরের গেটে! ডিউটিরত বিডিআর এর সাথে কথা বলে ব্যাপারটি জানলাম! তারা বলল কোন ভয় নেই! আপনার ডানে বামে না গিয়ে সোজা চলে যান! ঐ পাশেও আমাদের লোক ডিউটিরত আছে! তারপরও একটু ভয়ে ভয়ে (বিশাল দেহি এক শিখ কটমট করে তাকিয়ে ছিল) মোটর সাইকেল নিয়ে পারলাম হলাম! ভয় পাওয়ার কারণও আছে! বিএসএফ তো পাখি মারার মত করে বাংলাদেশিদের মারে! সে খবর তো আর আমাদের অজানা নয়!

http://photos-h.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc1/hs234.snc1/8129_1192599330048_1080340658_593039_2096919_n.jpg

ওপাশে নেমে বিডিআরের অন্য লোকদের সাথে কথা বলে পুরো বিষয়টা জানলাম! তাদের অনুমতি নিয়ে সেখানে ছবিও তুললাম! আমি ফোরামে একটা পোস্টও দিলাম। বিডিআর কে জিজ্ঞেস করলাম হেঁটে পার হওয়া যাবে কিনা! তারা বলল কোন সমস্যা নেই! তাদের সাথে অনেক্ষণ কথা বলে (এই দুইজন জোয়ান খুবই আন্তরিক ছিলেন) হেঁটে পার হলাম! তারপর এ পাশের বিডিআরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম! যাওয়ার সময় আমি অর্ধেক চালালেও এবার প্রায় পুরোটা পথই আমিই ড্রাইভিং করলাম! অন্যটা করছিলেন খোকন ভাইয়ের কাজিন! তিস্তা ব্যারেজের থেকে প্রায় ১০ কি.মি আগে একটা রাস্তা লালমনিরহাট চলে গেছে! খোকন ভাই ও তার কাজিন সে রাস্তা দিয়ে আবার কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা হলেন আর আমরা আবার ব্যারেজ এর উপর দিয়ে নিলফামারির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম! অনেক সাহস  nailbiting নিয়ে সেতুর উপর ৮৫ কি.মি এর মত গতি তুললাম! তারপর আমার স্টিডি ৫০-৬০ এর মধ্যে রেখে ফেরত আসলাম!

http://photos-b.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc1/hs234.snc1/8129_1192599090042_1080340658_593033_3930167_n.jpg


কিন্তু সমস্যা হল ক্যানাল এর রাস্তা শেষই হচ্ছে না! মনে হচ্ছিল এত বড় রাস্তা তো আগে পার হইনি! হঠাৎ এক জায়গা দেখলাম গোসল করার সুন্দর ব্যবস্থা! যদিও আমাদের নদীতে গোসল করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু পানি বালু থাকায় করিনি! অথচ এখানের এত স্বচ্ছ পানি দেখে আমি আর তুষার নেমে পড়লাম! গোসল সেরে আবারও ভোঁ! কিন্তু একি! ক্যানালের পাশে দিয়ে যাওয়া পাকা রাস্তা তো এখানেই শেষ! তার মানে নিশ্চিত হলাম আমরা একটা ডানে'র টার্ন মিস করেছি! লোকজনকে জিজ্ঞেস করে করে ফেরত এলাম! অনেকটা রাস্তা আসার পর আমাদের রাস্তা খুঁজে পেলাম! অথ্যাৎ আমরা প্রায় ২৫ কি.মি রাস্তা বেশি ঘুরেছি!  cry

অবশেষে নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছি! এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে লম্বা রাস্তা মোটর সাইকেল ড্রাইভিং! ১০০-১৩০ কি.মি. হবে মনে হয়! কারণ শুধুমাত্র আসার পথেই আমি প্রায় ৬২ কি.মি ড্রাইভিং করেছি! এত টায়ার্ড লাগছিল যে রাতে আর কিছু লেখার শক্তি পাইনি! ঘুম থেকে উঠে লেখা শুরু করলাম! প্রায় ১ ঘন্টা লাগলো এটি শেষ করতে!

দুঃখজনক ব্যাপার হল আজকে রেল কারখানা দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও যেতে পারছি না একা বলে! কারণ খোকন ভাই চলে গেছেন! তুষারের অফিস! একা একে গিয়ে তো আর ভাল লাগবে না!  sad

http://photos-a.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc1/hs234.snc1/8129_1192599050041_1080340658_593032_6468154_n.jpg


আরও ছবি

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নীল (০৬-০৯-২০০৯ ১৫:৫১)

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

খুব ভাল লিখেছেন  thumbs_up

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

অপেক্ষায় রইলাম . . .

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অভিযাত্রিক (০৫-০৯-২০০৯ ১৫:৫০)

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

এ পর্যন্ত প্রজন্ম ফোরামে যত গুলো লেখা পড়েছি তার মধ্যে আপনার এ লেখাটি আমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে। লেখাটা অতুলনীয় এবং একজন দক্ষ শিল্পীর তুলীর আচরে গড়ে তোলা। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল যেন আপনাদের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আপনাকে লক্ষ-কোটি ধন্যবাদ এমন একটি এ্যাডভেন্জার আমাদের উপহার দেয়ার জন্য। আপনার জন্য রইল একটি সম্মাননা। smile

You came a long way to find something that isn't out here. Don't you see? It's not about you. It's about them.

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

সেখানকার বর্তমান অবস্থা জানার অপেক্ষায় রইলাম।

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

আল্লাহ যদি বাঁচাইয়া রাখে...... big_smile

কি ভাবে গেছেন ক্যমনে গেছেন তাও জানাবেন  waiting

রাহাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

ভাইজান সাবধানে থাইকেন। যে ভ্যাজাইল্যা জায়গা  waiting

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

কোডারের কোমড় ব্যাথা !!! tongue

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

শামস লিখেছেন:

ভাইজান সাবধানে থাইকেন। যে ভ্যাজাইল্যা জায়গা  waiting


এইটা আপনারে কে কইছে? wink

১০

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

আরে এটা লালমনি জিলায় না.

বেশি করে গাছ লাগাই + একটা গাছ কাটলে ১০টা গাছ লাগাই- আসুন আমরা সবাই পরিবেশ বাঁচাই ।

১১

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

কোডার ভাই,
তাড়াতাড়ি বাড়ী আসেন। আপনারে হারাতে চাই না ... যায়গাটা খারাপ .......... dancing
কখন আবার বি,এস,এফ গুলাগুলি শুরু করে দেয় .....

১২

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

আপনার ভ্রমননানন্দে ভাগ বসাবার আপেক্ষায়.......
"শুভ কামনা"

চলো আমারা মোমবাতির মত বাঁচি, নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে আলো দিয়ে।

১৩

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

কবে ফিরছেন !

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

১৪

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

কাহিনী ও ছবি দিলাম smile!

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

১৫

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

এক কথায় অসাধারণ!!!

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

১৬

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:

কাহিনী ও ছবি দিলাম smile!

কই?

১৭

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

আপনার অনেকেই জানেন না যে তুষার , রাজু ভাই এর বয়ফ্রেন্ড।

১৮

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

অভিযাত্রিক লিখেছেন:

এ পর্যন্ত প্রজন্ম ফোরামে যত গুলো লেখা পড়েছি তার মধ্যে আপনার এ লেখাটি আমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে।

সহমত।

অবসর থাকলে চলুন ঘুরে আসি অবসর.কম থেকে।

চালু হলো নতুন টেকি ব্লগ টেক সিটিজি।ঘুরে আসুন একবার।

১৯

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

ধন্যবাদ সুন্দর লেখা ও ছবির জন্য।

২০

Re: অন্যরকম এক অনুভূতি

সবাইকে ধন্যবাদ।

তবে এ ভ্রমনের শেষের একটা দুঃখজনক ব্যাপার হল একটা ছোট্ট এক্সিডেন্ট! আসার পথে মেইনরোড দুইটা শালিক খাবার কুড়োচ্ছিল! আমি স্লো করলাম! একটা শালিক উড়ে এক পাশে চলে গেল কিন্তু আরেক একটু যায় তো একটু থামে! আমিও বেশ কনফিউজড হলাম! এরপর আমিও টান দিলাম, পাখিটাও আমার সামনে দিয়ে উড়াল দিল! আমার মনে হল পাখিটা সাইকেলের নিচে পড়েছে! খোকন ভাই বললন না পড়েনি। কিন্তু পেছনের মোটর সাইকেলের ওরা এসে বলল, আপনি পাখি মেরেছেন! তার মানে পাখিটি সত্যিই মরেছে sad! অন্য পাখিটি নিশ্চয়ই আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে!  dontsee nailbiting

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?