টপিকঃ শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

স্বাধীনতাযুদ্ধে ও দেশ পরিচালনায় শহীদ তাজউদ্দীনের ভূমিকা সম্পর্কে আমার জানা শোনা স্বল্প দিনের! কিন্তু এত স্বল্প সময়ে যা জেনেছি তাতেই আমি শিহরিত হয়েছিলাম দেশের ইতিহাস কিভাবে ধামা চাপা দেয়া হচ্ছে ভেবে! আমি যে বিষয়গুলো জেনেছিলাম সেগুলো যে অনেকটাই সত্যি সেটা মনে হল গতকাল প্রথম আলোতে আসা এই কলামটি পড়ে! যারা দেশের প্রকৃত ইতিহাসের বিষয়ে আগ্রহী তারা পড়তে পারেনঃ

শ্রদ্ধাঞ্জলি
সৈয়দ বদরুল আহ্সান
তাজউদ্দীন আহমদ−তাঁর পরিবার এবং আমরা
গেল ২৩ জুলাই তাঁর জন্নদিনে জাতি তাজউদ্দীন আহমদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নরণ করেছে। তিনি ছিলেন এক মহান নেতা, যাঁর সরাসরি নেতৃত্বে আমাদের এই দেশটি পাকিস্তানমুক্ত হয় ১৯৭১ সালে। আমাদের সেই ঘন অন্ধকারের সময় যদি তাজউদ্দীন আহমদ উপস্িথত না থাকতেন অথবা তিনি দেশের হাল না ধরতেন, তাহলে বাঙালির ইতিহাস নিঃসন্দেহে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতো এবং সেটা যে খুব একটা সুখকর হতো, সে কথা আমরা বুকে হাত রেখে বলতে পারি না। তবে যে মুহুর্তে তাজউদ্দীন নিজ কাঁধে দায়িত্ব নিলেন এই মর্মে যে বাঙালির একটা সরকার গঠন করবেন এবং সেই সরকার দ্বারা একটি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা হবে দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে, সেই মুহুর্তে আমাদের আর কোনো সন্দেহ রইল না বাংলাদেশের ভবিষ্যতের বিষয়ে। এর কারণ তাজউদ্দীনের মেধা, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তাঁর দৃঢ়তা। এরই পাশাপাশি ছিল দীর্ঘ দিনের ইতিহাস, যা তিনি রচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে এবং ভবিষ্যৎ জাতির জনকের নেতৃত্বে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোকিত দিকটি হলো, শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদের একসঙ্গে রাজনীতি করা এবং একই লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ে নিজেদের আত্মনিয়োগ করা। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের জন্য তৈরি করেন আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধান ভুমিকা রাখেন তাজউদ্দীন আহমদ।
এসব সত্য আজ আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে। কিন্তু তার পাশাপাশি এটাও সত্য যে বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ ও তার নিরাপত্তা সেই দিনই হুমকির সম্মুখীন হয়, যেদিন বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন উভয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেন। তাজউদ্দীন বাধ্য হয়ে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেন ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে। অথবা তাঁকে বাধ্য করা হয় সরকার থেকে বেরিয়ে যেতে। অথচ এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না। যেটা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে হতে পারত তা হলো, ১৯৭২-এর জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের বন্দী অবস্থা থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু সরকার পরিচালনার দায়িত্ব তাজউদ্দীন আহমদের ওপর ন্যস্ত করে দিতে পারতেন। এবং তাজউদ্দীন যে একটি স্বাধীন দেশকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন, সে বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ ছিল না। বঙ্গবন্ধু যদি সরাসরি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব না নিয়ে বরং জাতির পিতার আসনটিই অলংকৃত করতেন, বোধ করি জাতির জন্য ভালোই হতো। তবে আবার এ কথাও সত্য যে আজীবন সক্রিয় রাজনীতি করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এটা কোনোক্রমেই সম্ভব হতো না মহাত্মা গান্ধীর মতো একটা স্থানে সন্তুষ্ট থাকার।
আমাদের দুঃখ এটা নয় যে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার ফলে তাজউদ্দীনকে অর্থমন্ত্রীর পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। দুঃখটা অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ১৯৭১ সালে তাজউদ্দীনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার বিষয়টি ভালো চোখে দেখেননি এবং বরাবরই প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন, কী ও কতভাবে তাজউদ্দীনকে অপদস্থ করা যায়, সেসব ব্যক্তিই ১৯৭২-এর জানুয়ারির পর আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুর উপস্িথতিতে তাজউদ্দীনকে খাটো করার জন্য। এবং তারা সফলও হয়েছিল। যে মুজিব ও তাজউদ্দীন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একদিন ছয় দফার আন্দোলন গড়ে তোলেন ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এবং যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে ১৯৭১-এর মার্চ মাসে, সেই বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন দেশ এবং গোটা পৃথিবীকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর। বলা হয়ে থাকে, তাজউদ্দীন অনেকবার বঙ্গবন্ধুর সামনে মুজিবনগর সরকার গঠনের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। খুব একটা সফল হননি। বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে কোনো দিন মুজিবনগর নামের সেই আম্রকাননে যাননি, যে স্থানে বাঙালির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সরকার গঠন করা হয়। যেসব মধ্যবয়সী ও যুব নেতা ১৯৭১-এ তাজউদ্দীনের বিরোধিতা করেছিলেন, সেসব ব্যক্তি স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের মধ্যে দুরত্ব তৈরি করেন। আমাদের ভাগ্যের নির্মম একটা দিক এই যে তাজউদ্দীনকে সরকার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো, অথচ খন্দকার মোশতাকের মতো একজন বুদ্ধিদীপ্ত ষড়যন্ত্রকারীকে রাখা হলো। এবং যেদিন তাজউদ্দীন মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নেন, সেদিনই আমরা বুঝে নিয়েছিলাম, আমাদের ভবিষ্যৎ আরেকবার অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এবং সেই অন্ধকার নেমে আসে ১৯৭৫-এর আগস্ট ও নভেম্বরে। পরবর্তী ইতিহাস আমাদের কারও অজানা নয়।
এবং সেই ইতিহাসের একটি মুখ্য দিক হলো, বেগম জোহরা তাজউদ্দীনের ভুমিকা। তাজউদ্দীন আহমদের দৃঢ়চেতা সহধর্মিণী হয়েই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি, বরং ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত যখন আওয়ামী লীগের হাল ধরে রাখার মতো কোনো বড় মাপের নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন জোহরা তাজউদ্দীনই এগিয়ে এসেছিলেন আমাদের সাহস দিতে। তাঁর মধ্যে কোনো ভয় কোনো দিন কাজ করেনি। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের পুরো সময়টিতে বেগম তাজউদ্দীন আওয়ামী লীগ সংগঠনটিকে ধরে রেখেছেন এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবেই সে দায়িত্বটি তিনি পালন করেছিলেন। আমরা যারা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধগুলো এখনো ধরে রেখেছি, সেদিন আমাদের বিশ্বাস ছিল, জোহরা তাজউদ্দীন তাঁর স্বামীর মতো আমাদেরকে জাতি হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। যখন শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখনো আমাদের বিশ্বাস ছিল, বেগম জোহরা তাজউদ্দীন দলে একটি শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আমাদের অনুপ্রাণিত করবেন। সে সুযোগটি জোহরা তাজউদ্দীন পাননি। অথবা বলা যায়, সেদিন সে সুযোগটি তাঁকে দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে আমরা জোহরা তাজউদ্দীনের কথা একপ্রকার ভুলেই গেলাম। এই যে বছরের পর বছর আওয়মী লীগের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে এত কিছু বলা হয় ও করা হয়, সেসব বলা ও করার মধ্যে জোহরা তাজউদ্দীনের নাম কেউ উল্লেখ করেন না। তাজউদ্দীন আহমদ ও জোহরা তাজউদ্দীন আমাদের গর্ব, আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অবহেলা করার অর্থ ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়া।
শুধু তাজউদ্দীন আহমদ ও জোহরা তাজউদ্দীনের কথাই বলব কেন? তাঁদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি বাবার স্নৃতি রক্ষার্থে যে কাজটি বছরের পর বছর করে যাচ্ছেন, সেই কাজ তো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করার কথা ছিল। সেটা হয়নি কেন এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার, বর্তমানে ও অতীতে, সেই দায়িত্ব পালন করেনি কেন, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন। রিমি তাঁর বাবার স্নৃতি উজ্জ্বল রাখার জন্য একাধিক বই ও সংকলন প্রকাশনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন। তাজউদ্দীনকেন্দ্রিক চর্চার আয়োজন করেছেন। বিশিষ্ট চিত্রনির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের তৈরি তাজউদ্দীনভিত্তিক ডকুমেন্টারি নির্মাণকাজে বড় আকারের ভুমিকা রেখেছেন। কোনো একসময়ে তাজউদ্দীনের ছোট ভাই শেখ হাসিনার প্রথম সরকারে কিছু দিন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন পরে পদত্যাগ করেন, সে বিষয়ে দেশবাসী কিছুই জানে না। তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, কী করছেন, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই। ঠিক একইভাবে এই কিছুদিন আগে তাজউদ্দীনের ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ সুদুর আমেরিকা থেকে আমাদের কেন জানালেন, তিনি আর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন না, তার বিস্তারিতও আমরা জানি না। হ্যাঁ, যেভাবে বিগত জুন মাসে সোহেল তাজ পদত্যাগ করেন এবং পরে বলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি, সেটা কারও পক্ষে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব নয়। এখন তিনি আবার বললেন, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছেন। কী এমন হয়েছিল বা কী চিন্তা করে সোহেল তাজ আর দেশে ফিরলেন না, সে বিষয়ে সরকারি ব্যাখ্যা আসেনি। আসবে বলেও মনে হয় না।
এই ছিল তাজউদ্দীন পরিবারের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ইতিহাস। লক্ষ করুন, যে দেশে তাজউদ্দীন আহমদ ও জোহরা তাজউদ্দীন এত ব্যাপক আকারের অবদান রেখে গেলেন, সে দেশেই তাঁদের মূল্যায়ন প্রকৃত পক্ষে সঠিকভাবে আজও হয়নি। এটা আমাদের সবার লজ্জা। আমরা নিজেদেরই অপমান করছি।
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক।

সূত্র

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

এমন ই হয়। কেউ কথা রাখেনা । কি বিচিত্র এই দেশ!!!

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মাসুদ৩০১১ (২৭-০৭-২০০৯ ১৫:২২)

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

বিশিষ্ট চিত্রনির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের তৈরি তাজউদ্দীন ভিত্তিক ডকুমেন্টারি "নিঃসঙ্গ সারথি" আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে । তাজউদ্দীন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে সেখান থেকে । সবাইকে অনুরোধ করছি দেখার জন্য যারা তাজউদ্দীন  সম্পর্কে/দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

masud3011 লিখেছেন:

বিশিষ্ট চিত্রনির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের তৈরি তাজউদ্দীন ভিত্তিক ডকুমেন্টারি "নিঃশব্দ সারথী" (বানানে confused)আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে । তাজউদ্দীন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে সেখান থেকে । সবাইকে অনুরোধ করছি দেখার জন্য যারা তাজউদ্দীন  সম্পর্কে/দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ।

কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া যাবে?

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:

কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া যাবে?

আমি বাংলাভিশন/বৈশাখী চ্যানেলে দেখেছি (গত ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেখিয়েছিল) ওদের সাথে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন বাজারে সিডি পাওয়া যায় কী-না !

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

ধন্যবাদ! ওনার মেয়ের সাথে যোগাযোগের একটা উপায় পাওয়া গেছে! দেখি সেভাবেই পাওয়া যায় কিনা!

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সৈকত০০৭ (০২-০৯-২০০৯ ০৫:১৯)

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

নির্মোহ রাজনীতিবিদের বর্তমান ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে এইভাবে হারিয়ে যাওয়া এই নতুন নয়।
এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলো দেশের রাজনীতির সুভ্র মোড়কের আড়ালে থাকা সেই সকল অশুভ দেশী ও বিদেশী শক্তির জানান দেয়, যেই অশুভ শক্তিরা এই দেশের পেছনে পড়ে থাকার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারন।

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

ডকুমেন্টারিটা পেয়েছি, মনে হয় সম্পূর্নটা নেই।
এখানে দেখুন

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

সৈকত০০৭ লিখেছেন:

নির্মোহ রাজনীতিবিদের বর্তমান ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে এইভাবে হারিয়ে যাওয়ার চিত্র এই দেশের রাজনীতির সুভ্র মোড়কের আড়ালে থাকা সকল অশুভ নিকশ কালো শক্তির জানান দেয় যারা এই দেশের পেছনে পড়ে থাকার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারন।

এই বাক্যের অর্থোদ্ধারে অক্ষম হইলাম। কেহ কি অনুগ্রহপূর্বক বুঝাইয়া দিয়া বাধিত করিবেন?

১০

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:

ধন্যবাদ! ওনার মেয়ের সাথে যোগাযোগের একটা উপায় পাওয়া গেছে! দেখি সেভাবেই পাওয়া যায় কিনা!

আপনি পেলে অবশ্যই জানাবেন । আমি আমার সংগ্রহে রাখার জন্য কপি করে নেবো ।

একজন মানুষের জীবন হচ্ছে - ক্ষুদ্র আনন্দের সঞ্চয়। একেকজন মানুষের আনন্দ একেক রকম ...
এসো দেই জমিয়ে আড্ডা মিলি প্রাণের টানে !
   
স্বেচ্ছাসেবকঃ  ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ, নীতি নির্ধারকঃ মুক্ত প্রযুক্তি।

১১

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

উপরের লেখাটি দেয়ার পর আরেকটি লেখা দেয়ার ইচ্ছে ছিল! এটা জাফর ইকবালের লেখা! অনেকদিন পরে আজকে খুঁজে পেলাম।

সাদাসিধে কথা
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
তাজউদ্দীন আহমদের হাতঘড়ি
কিছুদিন আগে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের বাসায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। মেয়ে সিমিন হোসেন রিমির মুখে শুনেছিলাম তাঁর শরীরটা নাকি ভালো যাচ্ছিল না। আমাদের দেশে কারও শরীর খারাপ হলে হঠাৎ করে এত মানুষ এসে হাজির হয়ে যায় যে সেটা এক ধরনের বিড়ম্বনা। যাঁর শরীর খারাপ শুভানুধ্যায়ীদের চাপে তাঁকে আরও বেশি হাঁপিয়ে পড়তে হয়। সিমিন হোসেন রিমি আমাদের অভয় দিল, বলল, আমরা যদি যাই, তাঁর ওপর আলাদা করে কোনো চাপ পড়বে না−সে জন্যই গিয়েছিলাম।
কারও বাসায় গিয়ে যতটুকু সময় থাকা ভদ্রতা, তার থেকে অনেক বেশি সময় বসেছিলাম। কারণ, সেই বাসায় গেলে আমি সব সময়ই খানিকটা হতবুদ্ধি হয়ে থাকি। আমার প্রায় বিশ্বাসই হতে চায় না যে আমাদের এই দেশটিকে যুদ্ধ করে স্বাধীন করার পেছনে যে মানুষটির সবচেয়ে বেশি অবদান, সেই তাজউদ্দীন আহমদের আপনজনের কাছে আমি বসে আছি। এই ঘরের মানুষগুলো আসলে এই দেশের ইতিহাসের একটি অংশ, এই ঘরের দেয়ালে টানানো ছবিগুলো আসলে এই দেশের ইতিহাস। তাঁরা মুখে যে কথাগুলো বলেন, সেগুলো আমরা ইতিহাস বইয়ে পড়ি, ইতিহাস বইয়ে লিখি। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের সঙ্গে কথায় কথায় ২৫ মার্চের সেই রাতের কথা উঠে এল। গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর তিনি তাঁর দুজন ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে ওপর তলায় উঠে গিয়েছিলেন। পাকিস্তান আর্মির একজন অফিসার তাঁদের খোঁজ করার সময় তাঁর সঙ্গেই কথা বলেছিল, তিনি তাকে নিজের পরিচয় বুঝতে দেননি। বিশুদ্ধ উর্দুতে কথা বলে সেই অফিসারকে কীভাবে বিদায় করে ছোট মেয়ে মিমি আর ছোট ছেলে সোহেলসহ নিজেকে রক্ষা করেছিলেন সেই গল্প করতে করতে এত দিন পরও তাঁর মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল! (সেই ছোট ছেলেটি বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন, এখন পদত্যাগ করেছেন। মাহজাবিন মিমি খুব সুন্দর কবিতা লেখে। সেই রাতে অন্য দুই মেয়ে রিপি আর রিমি তাদের খালার বাসায় ছিল। রিপির ভালো নাম শারমিন আহমেদ। বাচ্চাদের জন্য লেখা তাঁর একটা অসাধারণ বই হূদয়ে রংধনু-এর প্রকাশনা উৎসবে আমার হাজির থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। এই দেশে সিমিন হোসেন রিমিকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। অন্য সবকিছু যদি ছেড়ে দিই, শুধু জেল হত্যায় পেছনের ভয়ঙ্কর ইতিহাসটুকু খুঁজে বের করার জন্য এই জাতি তাঁকে মনে রাখবে। প্রায় কিশোরী একটা মেয়ের জন্য সেই সত্যানুসন্ধান কী ভয়ানক কষ্টের একটি অভিজ্ঞতা ছিল, সেটি কী কেউ কল্পনা করতে পারবে?)

২.
আমি জানি দেশের কথা বলার সময় অনেকেই নানাভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন−আমি কখনোই সেটা করি না। অস্বীকার করি না যে এই দেশের ওপর দিয়ে যত দুঃখ-কষ্ট গেছে, ঝড়-ঝাপটা গেছে, আপদ-বিপদ গেছে, সে রকম আর কোথাও যায়নি। যদিও পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশ হয়েছিল, তার পরও ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশকেই দ্বিতীয় পাকিস্তান বানানোর জন্য ছলবল আর কৌশল কম করা হয়নি। নেতৃত্বের অভাবে কিংবা ভুল নেতৃত্বের কারণে এই দেশ দীর্ঘদিন কানাগলিতে ঘুরপাক খেয়েছে, কিন্তু কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল তখন আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর তাজউদ্দীন আহমদের মতো নেতা পেয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তার নিশ্চয়ই এই দেশের মানুষের জন্য একটু মায়া আছে, তা না হলে কেমন করে আমরা সঠিক সময়ে সঠিক দুজনকে পেয়েছিলাম? বঙ্গবন্ধু এই দেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, কিন্তু যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়, তখন তিনি ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে। সেই সময় স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। যদি সেই সময় তিনি সঠিক নেতৃত্ব না দিতেন, তাহলে কী হতো−চিন্তা করে এত দিন পরও আমার বুক কেঁপে ওঠে। কিছুদিন আগে আমরা সমমনা কিছু মানুষ মিলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নামে খুব ছোট একটা বই প্রকাশ করেছি, সবার অনুরোধে সেটা লিখেছি আমি। সেখানে এক জায়গায় লেখা আছে, "এপ্রিলের ১০ তারিখ মুজিবনগর থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার সনদ ঘোষণা করা হয়।" কত সহজেই এই লাইনটি লেখা হয়েছে, কিন্তু সেই সময় সেটি যে কত জটিল একটি বিষয় ছিল, এত দিন পর কি কেউ সেটি কল্পনা করতে পারবে? সেটি সম্ভব হয়েছিল শুধু তাজউদ্দীন আহমদের মতো দুরদর্শী রাজনৈতিক নেতা আর সংগঠকের জন্য।
তাঁর পুরো জীবনটাই ছিল রূপকথার মতো আশ্চর্য। ২৫ মার্চের রাতে যখন গণহত্যা শুরু হয়, তখন তিনি খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন−পরিবারের আগে তাঁকে দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। তাই ২৭ মার্চ তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে একটা চিঠি লিখে চলে গেলেন। চিঠির ভাষা ছিল এ রকম, "আমি চলে গেলাম। যাবার সময় বলে আসতে পারিনি মাফ করে দিও। তুমি ছেলেমেয়ে নিয়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষের সাথে মিশে যেও। কবে দেখা হবে জানি না...মুক্তির পর।" ৩০ মার্চ তিনি সীমান্ত অতিক্রম করলেন এবং সীমান্ত অতিক্রম করার আগে স্বাধীনতা ঘোষণাকারী একটা দেশের প্রতিনিধির প্রাপ্য মর্যাদাটুকু তিনি নিশ্চিত করে নিলেন। নিজের দেশের মাটিতে ফিরে আসার আগে সব সময় তিনি এভাবে তাঁর মাতৃভুমির মর্যাদা রক্ষা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে তিনি প্রথমেই খুব স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটা আমাদের যুদ্ধ। এই স্বাধীনতা সংগ্রাম একান্তভাবেই আমাদের এবং আমরাই এই যুদ্ধ করব। তারপর তাজউদ্দীন আহমদ কিছু সুনির্দিষ্ট সাহায্য চেয়েছিলেন−শরণার্থীদের আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের কিছু সুযোগ-সুবিধা, কিছু অস্ত্রের সরবরাহ, বাইরের পৃথিবীতে স্বাধীনতার কথা প্রচারের জন্য সহায়তা, পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা। কিন্তু একটিবারও দেশকে স্বাধীন করে দেওয়ার কথা বলেননি−সেটা রেখেছিলেন নিজের দেশের মানুষের জন্য।
প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সব সময়ই নিজের দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। যখনই বিদেশ থেকে কোনো সাংবাদিক বা কোনো কুটনীতিক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতন, তিনি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতেন বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে কোনো মুক্তাঞ্চলে। ব্যাপারটি ছিল খুব ঝুঁকিপূর্ণ; কখনো কখনো সেখানে প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত, তার পরও তিনি দেশের মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের জন্য এই কষ্টটুকু করে গিয়েছেন।
প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁর যে ভুমিকাটি ছিল, সেটি এখন আমাদের সবার কাছে কিংবদন্তির মতো। প্রথমেই সবাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে যত দিন দেশ শত্রুমুক্ত না হবে, তারা কেউ পরিবারের সঙ্গে থাকবেন না এবং তাজউদ্দীন আহমদ সেটি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছিলেন। যুদ্ধের নয় মাস তিনি কখনো তাঁর পরিবারের কাছে যাননি। অফিসের পাশে একটা ঘরে তিনি ঘুমাতেন।
এপ্রিল মাসের ভেতরেই বাংলাদেশের ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন, তাঁরা থাকতেন মাত্র তিন-চার মাইল দুরে। ইচ্ছে করলেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাননি। এমনকি একবার সেই বিল্ডিংয়ে গিয়েছেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে, কিন্তু তবু তিনি তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করেননি। তিনি এসেছেন খবর পেয়ে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তাজউদ্দীন আহমদ তাঁদের দিকে তাকিয়ে একটুখানি হেসে লিফটের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন! এর পরেরবার যখন সেই বিল্ডিংয়ে গিয়েছিলেন, তখন গিয়েছিলেন আরও গোপনে, যেন তাঁর পরিবারের লোকজন দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে তাঁর মনকে দুর্বল করে দিতে না পারে। তাজউদ্দীন আহমদ জানতেন, খুব বড় কিছু পেতে হলে খুব বড় আত্মত্যাগ করতে হয়। তিনি অনায়াসে সেই আত্মত্যাগ করেছিলেন।
আমাদের নতুন প্রজন্ন কতটুকু জানে আমি জানি না, কিন্তু তাঁর সেই আত্মত্যাগের কথা এখনো আমাদের মাঝে একধরনের উদ্দীপনার জন্ন দেয়। সারা দিন তিনি মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমাতেন এ রকম একটা জনশ্রুতি চালু আছে−একজন মানুষ দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে বেঁচে থাকতে পারে কি না আমার জানা নেই। যারা তাঁর খুব কাছের মানুষ, তাদের কাছে শুনেছি, তিনি কাজের চাপে আক্ষরিক অর্থে নাওয়া-খাওয়া, ঘুমের সময় পেতেন না। ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বা বিলাসের তাঁর কোনো সময় বা প্রয়োজন ছিল না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, শুরুতে তাঁর মাত্র একপ্রস্থ কাপড় ছিল। একজন দেশের প্রধানমন্ত্রীর মাত্র একপ্রস্থ কাপড় থাকবে, সেটা কেমন দেখায়? তাই তাঁর পরিচিত একজন তাঁকে আরও একপ্রস্থ কাপড় কিনে দিয়েছিল। তিনি সেই কাপড় পরে থাকতেন। নিজের কাপড় নিজে ধুয়ে দিয়েছেন! কাপড় ধুতে ধুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম করে ফেলতেন, দাপ্তরিক কাজকর্ম শেষ করতেন। অফিসের পাশে যে ঘরটিতে থাকতেন, সেখানে ছিল একটা চৌকি, মাদুর, কাঁথা-বালিশ, চাদর আর সাড়ে তিন টাকা দামের একটা মশারি। যুদ্ধের সেই নয় মাস তাঁর ছিল শুধু কাজ, কাজ আর কাজ। দাপ্তরিক কাজের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রণাঙ্গন থেকে রণাঙ্গনে ঘুরে বেড়িয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বিদেশি সাংবাদিক, কুটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা করেছেন।

৩.
তাজউদ্দীন আহমদের জন্ন ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই, যার অর্থ ১৯৭১ সালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর! আমি মাঝেমধ্যে আমার নিজের সঙ্গে তুলনা করি−আমার বয়স যখন ৪৫ বছর, তখন আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান−আমার ওপর কয়েক শ ছাত্রছাত্রীর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আমি হিমশিম খেয়ে গেছি, অথচ সেই বয়সে তিনি সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মতো দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমরা এখন জানি সেই যুদ্ধটা চলেছে মাত্র নয় মাস, কিন্তু তখন কেউ সেটা জানত না, তখন যারা মুক্তিযুদ্ধের সেই অনিশ্চিত জগতে পা দিয়েছিল, তারা কিন্তু তাদের পুরো জীবনটাকেই সেখানে উৎসর্গ করেছিল।
যুদ্ধের নয় মাস তাজউদ্দীন আহমদকে রণক্ষেত্রের শত্রুর পাশাপাশি সম্পুর্ণ ভিন্ন একধরনের শত্রুকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল, সেই শত্রু ছিল তাঁর দলের ভেতর! সে রকম একজন মানুষ ছিল খন্দকার মোশতাক আহমদ−তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এত বড় একটা দায়িত্ব নিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ কিন্তু পুরো মুক্তিযুদ্ধের গতিধারাটুকুই পাল্টে ফেলতে চেষ্টা করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ছিল পাকিস্তানের পক্ষে, খন্দকার মোশতাক আহমদ সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জাতিসংঘের একটা অধিবেশনে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গতিপ্রকৃতিটুকুই পাল্টে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ খবরটুকু জানার পর শেষ মুহুর্তে তাঁকে সরিয়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে জাতিসংঘের সেই অধিবেশনে পাঠানো হয়েছিল।
খন্দকার মোশতাক আহমদ সে জন্য কখনো তাজউদ্দীন আহমদ আর তাঁর সহকর্মীদের ক্ষমা করেননি, প্রতিশোধ নিয়েছিলেন পঁচাত্তরের নভেম্বরে ঠান্ডা মাথায় জেলখানায় তাঁদের হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
সেদিন আমি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গিয়েছিলাম, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের ছবি রয়েছে সেখানে। সেখান থেকে খিমচে খিমচে কেউ একজন খন্দকার মোশতাক আহমদের ছবিটা তুলে ফেলেছে। কিন্তু জাদুঘরে খিমচে খিমচে ছবি তুলে ফেলাটাই কি এই মানুষের যোগ্য শাস্তি? বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বাসঘাতককে কি এই দেশের ইতিহাসের আস্তাকুরে আমরা ঠিকভাবে নিক্ষেপ করেছি? যে তীব্র ঘৃণা নিয়ে আমরা মীর জাফরের নাম উচ্চারণ করি, তার থেকেও বেশি ঘৃণা নিয়ে কি এই মানুষটির নাম উচ্চারণ করার কথা নয়?

সূত্র: http://www.prothom-alo.net/V1/archive/n … p;mid=Mw==

http://bnwebtools.sourceforge.net/ থেকে রূপান্তরিত

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

১২

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

বড়-ই দুখের ব্যাপার,যারা দেশের জন্য সত্যিকার ভাবে কাজ করছেন বা করেছিলেন তাদের-কাউকে সত্যিকার ভাবে মূল্যায়ন করা হয় না।
ধন্যবাদ হাঙ্গরিকোডার-কে।এই  মূল্যবান তথ্য জানানোর জন্যে।

1 minute and 4 seconds after:

স্বপ্নচারী লিখেছেন:
সৈকত০০৭ লিখেছেন:

নির্মোহ রাজনীতিবিদের বর্তমান ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে এইভাবে হারিয়ে যাওয়ার চিত্র এই দেশের রাজনীতির সুভ্র মোড়কের আড়ালে থাকা সকল অশুভ নিকশ কালো শক্তির জানান দেয় যারা এই দেশের পেছনে পড়ে থাকার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারন।

এই বাক্যের অর্থোদ্ধারে অক্ষম হইলাম। কেহ কি অনুগ্রহপূর্বক বুঝাইয়া দিয়া বাধিত করিবেন?

হা হা হা হা মজা পাইলাম। big_smile

অল্প কিছু শব্দের মাধ্যমে অনেক সওয়াব পেতে হাদীস অনুযায়ী নিচের শব্দগুলোই যথেষ্ট।
সুবহানাল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ।
অর্থ:-  আল্লাহু সুমহান , আল্লাহ-র জন্যই সমস্ত প্রশংসা,আল্লাহু ছাড়া কোনো ইলাহ নেই,আল্লাহ বিরাট ( মহান ) ।

imran ahmed'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন problogger99 (০৯-০৯-২০০৯ ১৫:০৪)

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

বিশিষ্ট চিত্রনির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের তৈরি তাজউদ্দীন ভিত্তিক ডকুমেন্টারি "নিঃশব্দ সারথী"/"Tajuddin Ahmed -- An Unsung Hero" ডাউনলোড করে নিজের সংগ্রহে রাখুনঃ

Part 01
http://www.megaupload.com/?d=E2KFLRLY
Part 02
http://www.megaupload.com/?d=SL9JYXNU
Part 03
http://www.megaupload.com/?d=ZH7WIOIN

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাধারন সব ডকুমেন্টারি পাবেন এই ২ জায়গায়ঃ

http://www.banglagallery.net/vdo/index.php
www.genocidebangladesh.org

****http://www.banglagallery.net/vdo/index.php এই লিঙ্কটা কিন্তু ঠিক আছে।আপনারা ক্লিক না করে লিঙ্কটা কপি করে পেষ্ট করে দেখেন কাজ করবে।

answering-islam টাইপের সাইট এর লেখাগুলো পড়ে পড়ে মুসলাম থেকে নাস্তিক হবার আগে পালটা যুক্তিগুলো জানতে ভিজিট করুন http://www.islamic-awareness.org/আশা রাখি মুসলমান হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে মনের সন্দেহ দূর হবে ইনশাল্লাহ।

১৪

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

কোডার ভাইকে ধন্যবাদ। অনেক মূল্যবান এবং অজানা তথ্য শেয়ার করার জন্য।

১৫

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে তাজউদ্দিন নামের বিরোধীতা করা মানেই শেখ নামের প্রতি সন্মান আর তাদের আস্থা অর্জন। আর আওয়ামীলীগেও বরাবরই তাজউদ্দিন নামের বিরোধীরাই ভাল অবস্থানে থেকেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আজ যেন শেখ পরিবারের সম্পদ। ৭১-এ মোশতাক মনি রা তাজউদ্দিন আহমেদের বিরোধিতা করেছেন, ৮১তে আমু ইলিয়াস রা জোহরা তাজউদ্দিন আর ২০০৯-এ সেলিম সাহারা সোহেল তাজ। এই বিরোধিতার পুরস্কার ও তারা ঐ সময়ে পেয়েছেন। আর ওই সকল নির্বুদ্ধিতার ফলও শেখ পরিবার খুব নিদারুন ভাবে ভোগ করেছেন। আল্লাহ না করুক হাসিনা যেভাবে পা চাটাদের প্রশ্রয় দিতাছেন তাতে আরেকটা ৭৫ না আবার ঘটে যায়।
৭১ এ মোশতাক এর বংগবন্ধুর জন্য কান্না আর মক্কায় চলে যাওয়ার ইচ্ছার কথা  শুনে বংগবন্ধু তাকে পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর বংগবন্ধুর মুক্তির বিনিময়ে পাকিস্তানের সাথে আপষে রাজি না হওয়ার হয়ত তাজউদ্দিনের উপর নাখোশ হয়েছিলেন(অজানা)।
৭১-এ মোশতাক কে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিষোধ মোশতাক নিয়েছেন ।৭৫-এর নভেম্বরে টানা ব্রাশফায়ারে একমাত্র তাজউউদ্দিন মারা যান নি মরার আগে একবার পানি খেতে চেয়েছিলেন ঘাতক তার বদলে তাকে দিয়েছিল বুকে বেয়নেটের খোচা।


তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতার আরেকটি প্রমান পাওয়া যায় ৭১ এর জুলাইয়ে শিলিগুরিতে আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের তার সেই বিখ্যাত ভাষনে  যেই ভাষন মোসতাকের পাকিস্থান রক্ষার সপ্ন ভেঙ্গে দেয়।
ভাষন টি>


“আমরা স্বাধীনতা চাই। স্বাধীনতা পেলেই বঙ্গবন্ধুকে আমাদের মাঝে পাব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যদি খোদা না করুন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয় পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে, তাইলে বঙ্গবন্ধু শহীদ হয়েও স্বাধীন বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে অমর ও চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। তিনি একটি নতুন জাতির জনক হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত হবেন। ব্যক্তি মুজিব, ব্যক্তি নজরুল, তাজউদ্দীন, কামরুজ্জামান কেউ হয়ত বেঁচে থাকবেন না। একদিন না একদিন আমাদের সকলকেই মরতে হবে। বঙ্গবন্ধুকেও মরতে হবে। আমরা চিরদিন কেও বেঁচে থাকব না।
আল্লাহর পিয়ারা দোস্ত, আমাদের নবী(সঃ) ও চিরদিন বেঁচে থাকেন নি। কিন্তু তিনি তাঁর প্রচারিত ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় আজ পরম শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তেমনি, আমরা যদি বাঙ্গালী কে একটি জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি, আমরা যদি বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক আরেকটি রাষ্ট্রের মানচিত্র স্থাপন করতে পারি, তাইলে সেই স্বাধীন জাতি এবং নতুন রাষ্ট্রের মানচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রভাত সূর্যের মত উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।
আমরা যখন বাংলাদেশ ছেড়ে যার যার পথে ভারত চলে আসি, তখন কিন্তু জানতম না বঙ্গবন্ধু জীবিত আছেন, না শহীদ হয়েছেন। ভারতে এসে দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমিও জানতাম না সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী কিংবা হেনা সাহেব(কামরুজ্জামান) জীবিত আছেন কিনা। আমি নিজেও বাঁচতে পারব এ কথাটি একবারও ভাবতে পারি নি। এখানে আসার পর যতক্ষন পর্যন্ত পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ঘোষনা না করেছে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাদের কাছে বন্দী আছেন, ততক্ষন পর্যন্ত আমি মনে করতে পারি নি তিনি জীবিত আছেন। পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনীর কামান, বন্দুক,ট্যাঙ্ক, মেশিনগানের গোলাগুলির মধ্যে বঙ্গবন্ধু আর বেঁচে নেই একথা ভেবে এবং সম্ভবত মেনে নিয়েই তো আমরা নিজ নিজ প্রাণ নিয়ে চলে এসেছি।
বঙ্গবন্ধু মুজিবের ছায়া হয়ে তার পাশে আজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে থেকেছি। তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন দেশের জন্য জীবন দিতে। তিনি নিজেও বারবার বাংলার পথে প্রান্তরে বলেছেন, বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিতে তিনি কুন্ঠিত নন। আজ যদি বঙ্গবন্ধু মুজিবের জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পাই, তাহলে সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যেই আমরা পাব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কে। আমি নিশ্চিত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিছুতেই পাকিস্তানিদের কাছে তার নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আপোষ করবেন না, আত্মসমর্পন করবেন না এবং করতে পারেন না। এটাই আমার প্রথম ও শেষ বিশ্বাস।
বাংলাদেশ যদি আজ এত রক্তের বিনিময়েও স্বাধীন না হয়, তাহলে বাংলাদেশ চিরদিনের জন্য পাকিস্তানি দখলদারদের দাস ও গোলাম হয়ে থাকবে। পূর্ব পাকিস্তানীর মর্যাদাও বাঙ্গালী কোনদিন আর পাকিস্তানীদের কাছে পাবে না। প্রভুভক্ত প্রাণীর মত আমরা যতই আনুগত্যের লেজ নাড়ি না কেন, পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানীদের আর বিশ্বাস করবে না, বিশ্বাস করার কোন প্রশ্নই উঠে না। আর এই অধিকৃ্ত পূর্ব পাকিস্তানে যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রেসেডিন্ট হয়েও আসেন, তবু তিনি হবেন পাকিস্তানের গোলামীর জিঞ্জির পরান এক গোলাম মুজিব।
বাংলাদেশের জনগন কোনদিন সেই গোলাম শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলে গ্রহন করবে না, মেনে নিবে না। আমার স্থির বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর পাকিস্তানীদের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। বাঙ্গালী জাতির গলায় গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দেবার পরিবর্তে তিনি নিজে বরং ফাঁসীর রজ্জু গলায় তুলে নেবেব হাসিমুখে। এটাই আমার বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এটাই আমার ঈমান। এ মূহর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছাড়া, আমাদের অস্তিত টিকিয়ে রাখার আর কোন বিকল্প নেই। বাঙ্গালীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য স্বাধীনতা চাই। স্বাধী্নতা ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর কোন অস্তিত্ব নেই, আর পরিচয় নেই। স্বাধীন বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। পরাধীন বাংলায় বঙ্গবন্ধু ফিরে আসবেন না। গোলামের পরিচয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অধিকৃত পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসবেন না কোন দিন। জীবনের বিনিময়ে হলেও আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করব। পরাধীন দেশের মাটিতে আমার লাশও যাতে ফিরে না যায় সে জন্য জীবিতদের কাছে আর্জি রেখে যাই। আমার শেষকথা, যে কোন কিছুর বিনিময়ে আমরা বাংলার মাটিকে দখলদার মুক্ত করব। বাংলার মুক্ত মাটিতে মুক্ত মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আমারা ফিরিয়ে আনব। মুজিব স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশেতে ফিরে আসবেন এবং তাকে আমরা জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনব ইনশাল্লাহ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাণ রক্ষার জন্য বিশ্ব মানবতার কাছে আমরা আকুল আবেদন জানাচ্ছি”



বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এই নেতার সঠিক ইতিহাস না জানালেও বাংলাদেশের ইতিহাসে সাথে তিনি সবসময় থাকবেন।

একাত্তরের রণাঙ্গন কিছু অকথিত কথা (নজরুল ইসলাম) এই বইয়ে তার ভুমিকা আরো বিস্তারিত আছে।
ভাষন টির জন্য কৃতজ্ঞতা অমি রহমান পিয়াল।

১৬

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

চমৎকার জিনিস দিলেন বাবু ভাই! অনেক ধন্যবাদ! ভাষণটির সারমর্ম আগে জেনেছিলাম আজকে পড়লাম। আহারে! আজকে যদি এরকম কোন নেতা থাকতেন তাহলে আমরা হয়তো কাঙ্খিত স্বপ্নেই পৌঁছে যেতাম।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

১৭

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:

আজকে যদি এরকম কোন নেতা থাকতেন তাহলে আমরা হয়তো কাঙ্খিত স্বপ্নেই পৌঁছে যেতাম।

আফসোস তার ছেলেটাকেও থাকতে দিল না ।

১৮

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

ত্রিমাত্রিক লিখেছেন:
হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:

আজকে যদি এরকম কোন নেতা থাকতেন তাহলে আমরা হয়তো কাঙ্খিত স্বপ্নেই পৌঁছে যেতাম।

আফসোস তার ছেলেটাকেও থাকতে দিল না ।

এখনো তাজউদ্দিনের মত নেতা আছেন তেমনি আছেন মোশতাকের মত ষরযন্ত্রকারী। কিন্তু আফসোস মোশতাকের মত নেতারা সবসময় হন আস্থাভাজন আর তাজউদ্দিনের মত নেতারা হন উপেক্ষিত আর বিরাগভাজন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ২টা অব্যর্থ অস্ত্র আছে একটা হল চোখের পানিযুক্ত আবেগ আর আরেকটা হল ব্লাকমেইলিং কেউ  তার বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি বলেন সে বংগবন্ধুর খুনের সাথে জড়িত।

১৯

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

বাবু লিখেছেন:

এখনো তাজউদ্দিনের মত নেতা আছেন তেমনি আছেন মোশতাকের মত ষরযন্ত্রকারী। কিন্তু আফসোস মোশতাকের মত নেতারা সবসময় হন আস্থাভাজন আর তাজউদ্দিনের মত নেতারা হন উপেক্ষিত আর বিরাগভাজন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ২টা অব্যর্থ অস্ত্র আছে একটা হল চোখের পানিযুক্ত আবেগ আর আরেকটা হল ব্লাকমেইলিং কেউ  তার বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি বলেন সে বংগবন্ধুর খুনের সাথে জড়িত।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বললে রাজাকার।

২০

Re: শহীদ তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

তাজউদ্দিনের মত নেতারা আওয়ামীলীগের দ্বারাই উপেক্ষিত হন। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্থান থেকে ফেরৎ এসে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনকে সরিয়ে নিজেই প্রধানমন্ত্রী হন। এবং তাজউদ্দিন হন উপেক্ষিত এবং মোশতাকের মত নেতারা হন পুরস্কিত, এখনও তাই চলছে...........

উত্তরা,ঢাকা