সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ??????? (১২-০৫-২০০৭ ০৮:২৫)

টপিকঃ কেউ কথা না রাখলে নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হয়!!!!!

http://forum.projanmo.com/uploads/thumbs/134_2.jpg
শামসুন্নাহার বিবি প্রতি হাটবারে চাল, মোরগ, ডিম বিক্রি করতে যান পাশের শ্রীপুর বাজারে। একটি নদীর খেয়া পার হতে হয়। একদিন সন্ধ্যায় ফেরার সময় মানুষবোঝাই নৌকাটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়। সবার মতো শামসুন্নাহারও জিনিসপত্র ফেলে নদী সাঁতরে প্রাণে বাঁচেন।
বাজার থেকে রাত নয়টার দিকে বাড়ি ফেরেন দর্জি আবুল কালাম। ঘরে পা দিতেই স্ত্রী জানান, ছেলের ডায়রিয়া। খাবার স্যালাইন লাগবে। কালাম দৌড়ে আবার বাজারের দিকে রওনা হন। নদীর ঘাটে এসে দেখেন, নৌকা নেই। হাঁক ছেড়ে ডাকাডাকি করে কাউকে না পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন কালাম। পরে এক বাড়ি থেকে কিছু চিনি এনে স্যালাইন বানিয়ে ছেলেকে খাইয়ে জীবন বাঁচান।
মাসছয়েক আগের এ দুটি ঘটনার মতো অনেক দুঃখের ঘটনার কথা জমা আছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের গ্রামবাসীর মনে। সেসব মনে করে অনেকেই নদীর দিকে তাকিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁদের প্রতি, যাঁরা এখানে একটি সেতু বানিয়ে দেবেন বলে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি। তিলে তিলে জমে ওঠা ক্ষোভ একসময় চার গ্রামের মানুষকে করে তোলে জেদি। চাঁদা তুলে টাকা জোগাড় করে নিজেরাই বানিয়ে ফেলেন একটি সেতু−‘ইহগুন-পান্ডারখাল ভাসমান সেতু’।
গ্রামবাসীর শ্রম-ঘাম-ভালোবাসায় তৈরি সেতুটি উদ্বোধন করতে ১৭ এপ্রিল ডেকে আনা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। তিনি এসে সেতু দেখে অভিভুত হয়ে বলেন, ‘আমি নই, এ সেতুর উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক।’ নিজের হাতে গড়া গর্বের এই সেতুর ওপর দিয়ে গ্রামের লোকজন এখন আনন্দচিত্তে নদী পার হন আর অতীত দিনের কষ্টের কথা ভাবেন।
কেউ কথা রাখেনি: পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে সুরমা নদীর একটি শাখা−‘পান্ডারখাল’। ইউনিয়নে ২৬টি গ্রাম আছে। এর মধ্যে ইসলামনগর, হরিপদনগর, গুপীনগর ও নতুননগর নদীর পশ্চিম পারে। এর উল্টোদিকে নদীর ওপারে প্রসিদ্ধ শ্রীপুর বাজার। এর মাঝামাঝি জায়গায় খেয়াঘাট। নদীর পূর্ব পারের প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষজনকে এই খেয়া পার হয়ে সুনামগঞ্জ সদরে যাতায়াত করতে হয়। বহু দিন থেকে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও তা হয়নি। ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এমন কোনো নেতা নেই, যাঁকে বলা হয়নি। সবাই বলেছেন, দল ক্ষমতায় গেলে ব্রিজ করে দেবেন। কিন্তু ৩৫ বছরেও কেউ কথা রাখেনি।’
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে একবার কয়েক হাজার মানুষ ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে সুনামগঞ্জে গিয়ে সাংসদ ও জেলা প্রশাসকের কাছে সেতুর দাবি জানিয়ে আসেন। এলাকার যুবক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভোট এলে নেতারা আসেন, নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে জোর গলায় প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে প্রতিশ্রুতিও হাওয়ায় মিশে যায়!’
ক্ষোভ থেকে উদ্যোগ: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হক, ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন, ইউপি সদস্য আতাউর রহমান, ওয়াব মিয়া ও প্রতাপ চন্দ্র দাশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পান্ডারখাল নদীর খেয়াঘাট কখনো ইজারা হতো না। শ্রীপুর গ্রামের একটি মুচি পরিবার এখানে নৌকা চালাত। নদী পারাপারের জন্য এলাকাবাসী তাদের কোনো টাকা দিতেন না। বৈশাখের ধান গোলায় তোলার পর যাঁর যাঁর সাধ্যমতো ওই পরিবারকে ধান দিয়ে সহযোগিতা করতেন। এতেই খুশি থাকত পরিবারটি। বিগত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ। সেই থেকে সমস্যার শুরু। চেয়ারম্যান এই খেয়াঘাটটি এলাকাবাসীর বিরোধিতা সত্ত্বেও ইজারা দিয়ে দেন তাঁর ঘনিষ্ঠ লোককে। এরপর দুই বছর ধানের বদলে টাকা দিয়ে খেয়া পারাপার হতে হয়েছে লোকজনকে।
২০০৬ সালে আবার ঘাট ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে চার গ্রামের মানুষ সেটা না করতে লিখিতভাবে দাবি তোলেন। তাতেও কাজ না হলে দুই ইউপি সদস্য ওয়াব মিয়া ও আতাউর রহমান পরিষদের সভায় জোর প্রতিবাদ জানান। পরে তাঁদের সঙ্গে আরও পাঁচ ইউপি সদস্য যোগ দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান পিছু হটেন। ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করায় এলাকার মানুষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ ক্ষোভ থেকেই মানুষ একটা কিছু করার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন।’
‘কুনতা করা যায়...?’: নেতাদের ‘কথা দিয়ে কথা না রাখা’, নদী পারাপারে সীমাহীন দুর্ভোগের ঘটনায় এমনিতেই এলাকাবাসীর মনে চাপা ক্ষোভ ছিল। তার ওপর ঘাট ইজারা দিতে চেয়ারম্যানের অতি উৎসাহ লোকজনকে খেঁপিয়ে তোলে। ইউপি সদস্য আতাউর রহমান বলেন, তখন থেকে মানুষের মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়−‘ইখানো কুনতা করা যায় কি না।’
এই চিন্তা মাথায় রেখে শুরু হয় গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে আলোচনা। একদিন ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন শ্রীপুর বাজারের একটি দোকানে আব্দুল হাফিজ, আব্দুর রউফ, ময়না মিয়া, তেরা মিয়া, আব্দুল খালিক, উস্তার আলীসহ কয়েকজনকে নিয়ে বসেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এলাকার মুরব্বি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ‘আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী হরিপদনগরের বাগানবাড়িতে চার গ্রামের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেখানে সবাই পান্ডারখাল নদীতে নিজেদের উদ্যোগে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে আরেক সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল হককে সভাপতি, আব্দুল ওয়াহিদকে সাধারণ সম্পাদক, নোয়াব আলীকে কোষাধ্যক্ষ এবং উস্তার আলী ও আমির আলীকে সদস্য করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তমতো চার গ্রামের প্রত্যেক পরিবারকে সেতু নির্মাণের জন্য একটি করে বাঁশ দিতে বলা হয়। এক হাজারেরও বেশি বাঁশ সংগ্রহ হয়। এর সঙ্গে সাধ্য অনুযায়ী ২০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন অনেকে। বাঁশ বিক্রি ও চাঁদা মিলিয়ে পৌনে দুই লাখ টাকা জমা হয়। কমিটির সভাপতি শফিকুল হক জানান, দোয়ারাবাজার এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী খন্দকার ফিজানুর রহমানের কাছ থেকে একটি ভাসমান সেতুর নকশা ও সম্ভাব্য ব্যয়ের ধারণা আনা হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী টাকা কম হওয়ায় গ্রামবাসী আবার বৈঠকে বসেন। সিদ্ধান্ত হয়, এলাকার লন্ডনপ্রবাসী−হাজি রফিক আলী, হাজি আব্দুন নুর, আরশ আলী ও আলতাউর রহমানের কাছে সেতু নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা চাওয়া হবে। গ্রামবাসীর উদ্যোগের কথা শুনে খুশি হন তাঁরা।
এই চার প্রবাসী লন্ডন থেকে চার লাখ টাকা পাঠান। গ্রামবাসীর কাছ থেকে জোগাড় হয় আরও ৫০ হাজার। কমিটির সদস্য আমির আলী বলেন, ‘এত এত মানুষ যখন এ সেতুর জন্য সাহায্য করছে, তখন আল্লাহও সাহায্য করবেন−এই বলে আমরা এ বছর শুরুর দিকে কাজ শুরু করে দিই।’ তিনি জানান, নির্মাণকাজের জন্য প্রকাশ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। শ্যামলবাজারের লোহার কারখানার কারিগর আবদুর রহিম কাজটি পান।
স্বপ্ন হলো সত্যি: পান্ডারখাল নদীতে সেতু নির্মাণ ছিল স্বপ্নের মতো। সবার প্রত্যয় ছিল এক−‘পারতেই হবে’। কাজের পুরো চার মাস গ্রামবাসী একে অন্যকে সাহস দিয়েছেন। অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে নির্মাণ করা সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে ইসলামপুর, হরিপদনগর, গুপীনগর, নতুননগরসহ আশপাশের ইউনিয়নের ১২০টি গ্রামের অসংখ্য মানুষ। সবাই মিলে ওই চার গ্রামের নামের আদ্যাক্ষর যেমন−ইসলামপুরের ‘ই’, হরিপদনগরের ‘হ’, গুপীনগরের ‘গু’ এবং নতুননগরের ‘ন’ দিয়ে ‘ইহগুন’ আর নদীর নাম পান্ডারখালজুড়ে সেতুর নামকরণ করেছেন ‘ইহগুন-পান্ডারখাল ভাসমান সেতু’।
শ্রীপুর বাজারসংলগ্ন নদীর যে অংশে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, তার দৈর্ঘয এখন ৪০০ ফুট। প্রস্থ সাড়ে পাঁচ ফুট। দুই পাশে লোহার রেলিং দেওয়া হয়েছে। সেতুর পশ্চিম অংশে খানিকটা উঁচু করে দেওয়া, যাতে নৌকা চলাচল করতে পারে। নিচে দেওয়া হয়েছে ১২০টি ড্রাম। এই ড্রামগুলো আনা হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। একটির সঙ্গে আরেকটি আটকে রাখা হয়েছে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে। সেতুর পাটাতন দেওয়া হয়েছে বাঁশ দিয়ে। দুই মাথায় চারটি করে রড-সিমেন্টের পিলার রাখা হয়েছে, যাতে নদীতে পানি বাড়লে সেতুটিও ভেসে ওপরে উঠতে পারে। কমিটির সদস্যরা জানান, নিচে আরও ড্রাম লাগবে। পানি বাড়লে সেতুর দৈর্ঘযও বাড়াতে হবে। বাঁশ বদলে লোহার পাটাতন দেওয়াসহ সম্পুর্ণ কাজ শেষ করতে আরও সাড়ে চার লাখ টাকা লাগবে। এবার ধান উঠলে আবার বৈঠক ডেকে করণীয় ঠিক করা হবে।
‘ভালা অউ লাগে’: কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি তবু মানুষজনের চলাচল করতে কোনো অসুবিধা হয় না। সেতুটি ভাসমান হওয়ায় যাতায়াতের সময় এপাশ-ওপাশ দোলে। লন্ডনপ্রবাসী রফিক আলী দিয়েছিলেন এক লাখ টাকা। তিনি এখন বাংলাদেশে। সেতু দেখে রফিক আলী বলেন, ‘ইটা সরকারের জায়গা, কাজ তো সরকারের করা উচিত আছিল। এলাকার মানুষ মিল্লা বড় গৌরবের কাজ করছইন। আমরা লন্ডনি অখলও খুশি। ভাবলে ভালা অউ লাগে!’ কৃষক ইরফান আলী বলেন, ‘মাঝখানো দুই বছর যন্ত্রণা পাইছি, খেয়া পার অইলে ট্যাকা দেওয়া লাগত। অখন সেতু অইছে। আমরা হখলে মিলে একটা ভালা কাজ করছি, অখন আনন্দ লাগের।’
ছেলের জন্য স্যালাইন আনতে গিয়ে কান্নাকাটি করছিলেন যে আবুল কালাম, তিনি আনন্দের আতিশয্যে বলেন, ‘হখল এক হইলে যেকোনো বড় কাজ যে করা যায়, ইটা তার প্রমাণ।’ হাজি কনু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিজ মিয়া বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে নদীর পূর্ব পারের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় দিনই তারা দেরি করে ফেলত। তা ছাড়া অভিভাবকেরাও দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এখন সেতু হওয়ায় সব সমস্যা মিটে গেছে।’
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহিনা বেগম, আফজাল হোসেন, বায়েজিদ বোস্তামী, ইয়াসমিনা বেগমও খুশি। নবম শ্রেণীর ছাত্রী তাছমিন বেগম জানায়, আগে তার অভিভাবক তাকে খেয়াঘাট পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন। বৃষ্টি আর হাটবার হলে সমস্যা হতো বেশি। সেতু হওয়ায় এখন মা-বাবা চিন্তামুক্ত হয়েছেন। হরিপদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী শাহেদা বেগমকে প্রতিদিনই খেয়া পার হয়ে স্কুলে আসতে হতো। শাহেদা ভাসমান সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে হেসে বলে, ‘এখন আমরা গাঙের ওপর দিয়ে দৌড়িয়া ইসকুলে যাইতাম পারি!’ পান্ডারখাল গ্রামের শিক্ষক আব্দুল মানিক বলেন, ‘আমরা অন্য গ্রামের মানুষ। তবু একটি বাঁশ দিয়ে সহযোগিতা করে এই ভালো কাজের সঙ্গে শরিক থেকেছি। এটা একটা শুভ দৃষ্টান্ত।’
তবু মনে শঙ্কা: যাঁরা এই উদ্যোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাঁদের মনে একটা শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। এটিকে তাঁরা স্থায়ী সমাধান মনে করছেন না। সব কাজ শেষ করতে আরও চার-পাঁচ লাখ টাকা দরকার। কমিটির সভাপতি শফিকুল হক বলেন, ‘গ্রামবাসী যতটুকু পেরেছেন, সহযোগিতা করেছেন। আরও হয়তো করবেন। কিন্তু সামনে ভরা বর্ষায় নদীর পানি যখন ফুলে-ফেঁপে উঠবে, তখন সেতুর কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।’ তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ মিলে এটা করেছে। রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার ইচ্ছে করলে এখানে একটা স্থায়ী সেতু বানাতে পারে।
দোয়ারাবাজার এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী খন্দকার ফিজানুর রহমান জানান, তিনি এই ভাসমান সেতুর জন্য ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে গ্রামবাসীকে বলেছিলেন। কিন্তু তারা এত টাকা জোগাড় করতে না পারায় চলাচলের একটা ব্যবস্থা করেছেন মাত্র। তিনি বলেন, এটাকে শক্তিশালী করতে হলে আরও কাজ করা দরকার। আর স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করতে কোটি টাকার ওপরে ব্যয় হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইদ্রিছ সিদ্দিকী বলেন, ‘এলাকাবাসীর এই উদ্যোগ দেখে আমি অভিভুত। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি সেতুর উদ্বোধন করিনি। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছি। দেখি, সেটা করা যায় কি না।’

গোসসা করেছেন চেয়ারম্যান
সেতুর কাজ চলাকালে বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁশ তোলা এবং অর্থ সহায়তা নেওয়াকে ‘চাঁদাবাজি’ বলে কে বা কারা আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেয়। বিষয়টি দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ তদন্ত করে কোনো সত্যতা পায়নি। হাফেজ আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান নেই। যেহেতু খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমাদের সমস্যা হয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে, বেনামি অভিযোগপত্রের সঙ্গে চেয়ারম্যান ফারুকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’
পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ এলাকাবাসীর এই উদ্যোগকে ‘দুর থেকে’ স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে সেতু নির্মাণের বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। বললে আমিও সহযোগিতা করতাম।’ খেয়াঘাট ইজারা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হয়নি। এ বছরও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। গ্রামবাসীর চাপে নয়, কেউ দরপত্র না কেনায় ইজারা দেওয়া যায়নি।’
যৌথ বাহিনীর কাছে বেনামে দেওয়া অভিযোগপত্রের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে চেয়ারম্যান ফারুক বলেন, ‘খেয়াঘাটের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের। গ্রামবাসীর উচিত ছিল সেতু নির্মাণের বিষয়টি আমাকে লিখিতভাবে জানানো। আমিই এখানে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি।’

সেভারাস লিখেছেন:

সাবাশ গ্রামবাসী। আপনাদের এই মহৎ উদ্যোগকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই এবং সেই সকল অকর্মণ মানুষের প্রতি নিন্দা জ্ঞ্যাপন করি।

উৎস প্রথম আলো

Re: কেউ কথা না রাখলে নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হয়!!!!!

দেশের সরকার অকার্যকর কি না তা জানিনা, কিন্তু এই কাজটা করে "জনগণই যে সরকার" সেটা প্রমাণ হল আবার।

কিঞ্চিৎ অফটপিক

প্রিয় সেভারাস,

বুঝতে পারছি, আপনার প্রথম আলো সমস্যার সমাধান হয়েছে smile

টেক্সটগুলো ছবি আকারে না দিয়ে টেক্সট হিসেবে দিলেই ভাল হত। এজন্য প্রথমে টেক্সটগুলো কপি করে নিয়ে অরূপ কামাল ও এস.এম.মাহবুব মুর্শেদ -এর লেখনী ও পরিবর্তক -এ নিচের অংশে "বংশী" সিলেক্ট করে পেস্ট করুন। তারপর, "ইউনিকোডে বদলে উপরে নাও" বোতামে ক্লিক করে উপরের অংশে ইউনিকোড পাবেন। সেই ইউনিকোড এখানে ফোরামে পেস্ট করুন কোন সমস্যা ছাড়াই।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কেউ কথা না রাখলে নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হয়!!!!!

শামীম লিখেছেন:

টেক্সটগুলো ছবি আকারে না দিয়ে টেক্সট হিসেবে দিলেই ভাল হত।

করে দিলাম। এবার আমার মিষ্টি কোথায় পাবো? নাকি ওগুলা সরকারী কর্মচারীদের কাছে থেকে নিতে হবে?;(