৭২১

(৫ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিজ্ঞান)

গ্রহ নক্ষত্রের প্রযুক্তি বিষয়ে একটা লাইনও পেলাম না। গ্রহ নক্ষত্রের উপস্থিতি বিষয়ে কিছু বিবৃতি আছে মাত্র। টপিকটিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বলতে কিছুই নাই।  worried

এছাড়া এখানে আরবী গ্রামার সম্পর্কে দুই প্যারা আছে। দ্বিবচনের ব্যবহার করেনি ভাল কথা কিন্তু সেটার কোন তুলনীয় আলোচনা নাই। আরও কোথায় কোথায় করেছে কিন্তু এই ক্ষেত্রে করেনি - যেটা সিগনিফিকেন্ট পার্থক্য নির্দেশ করে এমন কিছুই এতে নাই। বিজ্ঞান হলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রমাণ করতে হবে।  thinking  confused

৭২২

(১১ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বটগাছ)

উদাসীন লিখেছেন:

হুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আসলেই দরকার আছে। এই বোধটা যে কবে আসবে আমাদের মধ্যে, কে জানে? sad মনে আছে একবার দেশে গিয়ে একটা জুসের প্যাকেট কিছুতেই রাস্তায় ফেলতে চাইছিলাম না। সবাই বললঃ গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দাও। আমি কিছুতেই ফেলতে পারলাম না; সারা রাস্তা সেটা ব্যাগে করেই বহন করেছিলাম। জাপানি বৃদ্ধদের সচেতন মনোভংগিটা বেশ মনে দাগ কাটলো। ওরকম সবাই হলে রাস্তাঘাট বাসাবাড়ির কদর্যতা অনেক কমে যেতো।

সেইম এক্সপেরিয়েন্স আছে আমারও। আমি রাস্তায় বাদাম খেলে প্রথমে বাদামগুলো পকেটে নিয়ে নেই। তারপর ঐ ঠোঙ্গায় বাদামের খোসা ফেলি। ডাস্টবিন না পাওয়া পর্যন্ত ওটা পকেটে থাকে। রাস্তায় ডাস্টবিন না পেলে বাসায় পৌছে গার্বেজ শ্যূটে ফেলে তারপর বাসায় ঢুকি।   neutral এই বাসাটার সিড়ির পাশ দিয়ে কমন গার্বেজ শ্যূট আছে যেটার জন্য আর্কিটেক্ট ধন্যবাদ পেতে পারেন।

একবার এক বন্ধুকে নিয়ে ওর জন্য পাত্রী দেখাতে গিয়েছিলাম বুয়েটে। সে ছুটিতে কানাডা থেকে দেশে এসেছিলো। দুজনে ক্যাফেটেরিয়ায় কফি খেয়ে, হাতের মধ্যেই ডিসপোজেবল কাপটা মুচড়ে, আশে পাশে ট্র্যাশ ক্যান খুঁজছি। কেউই মেঝেতে ফেলছি না। তারপর দুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে দন্ত বিকশিত --- কারণ সারা মেঝে ঐ রকম চ্যাপ্টা কাপ দিয়ে সাদা হয়ে আছে। তারপরেও ফেলতে পারি নাই। আমাদের পরিচিত ক্যাম্পাস ওটা - তাই রক্ষে, কারণ জানতাম ক্যাফেটেরিয়ার দরজার পাশেই একটা ওয়েস্ট ক্যান আছে।  cool

অ.ট.

উদাসীন লিখেছেন:

অটঃ ইয়ে শামীম ভাই, এই নিকে আপনাকে কেমন যেন অচেনা লাগে! হঠাত 'শামীম' নিকটির প্রতি বিতৃষ্ণা হলো কেন?  thinking

এই নিকে অভিযোগ দেখা যায় না, ট্র্যাশ দেখা যায় না (এখনও লগ ইন করলে সম্মাননা দেখা যায় না, কিন্তু লগ ইন ছাড়া দেখা যায়) --- বড়ই আরামদায়ক। smile

লেখার ব্র্যান্ড নেম পাল্টালাম আর কি!
এক টাইটেল ছেড়ে আরেক টাইটেল নিলাম মনে হয়

৭২৩

(২৮৪২২ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ)

ইলিয়াস লিখেছেন:
পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

পার্টি কী উপলক্ষে একটু খুলে বলেন।

নতুন নিকের আকিকা দিতে হবে না ? wink

ভাই, নিকটা তো নতুন না। নিবন্ধনটা নতুন, কিন্তু ফোরামেও এই নিকটা আরো পুরাতন। আপডেটের সময়ে এই নিকটাই কাটা পড়েছিলো জন্য আবার নিবন্ধন করতে হয়েছে। এই নামে পার্সোনাল ব্লগের বয়সও কয়েক বছর।

এই নিকটা নতুন বলে এটার অনেক সুবিধা নাই। সিগনেচার দেখায় না, কারো সম্মাননা দেখতে/দিতে পারি না - বেশ মজার একটা অনুভুতি। কাটা পড়ার আগে এটা দিয়ে লগ-ইন করলে সম্মাননা দেখা যেত।

খাওয়া দাওয়া করতে উছিলার অভাব হবে না  smile । আপাতত পরবর্তীতে দেখা হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকি।

৭২৪

(১১ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বটগাছ)

ফায়ারফক্স লিখেছেন:

এই পোষ্ট পড়ার পর বিশ্বাস হতে চায় নি
আজ মনে হল ১০০% সত্য

আরে এই পোস্টে দেখি ডিটেইলস লিখেছে। তবে টোকিওতে বেড়াতে গিয়ে ওখানে দেখেছিলাম সব ময়লা একই ব্যাগে ফেলে। ময়লা কিভাবে ফেলবে সেটা নির্ভর করে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উপরে। একটু মূল পোস্টের লিংকটা দিয়েন তো ... ... এটা দেয়াতে এই টপিকটা আরো পরিপূর্ণতা পেয়েছে - থ্যাংকস্ ।
ও হ্যাঁ, আমার নষ্ট টিভিটা ফেলতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইয়েন লেগেছিলো। গাড়ি ফেলতে লেগেছিলো দশ হাজার ইয়েন!

faysal_2020 লিখেছেন:

আমি শুনেছিলাম সিঙ্গাপুর সবচাইতে পরিষ্কার দেশ।

আমার বস্ সিঙ্গাপুরে কিছুদিন লেখাপড়া করেছিলো। উনি বলেন: সিঙ্গাপুর ইজ আ ফাইন সিটি --- ---- এই ফাইন হল জরিমানা। পাবলিক প্লেসে থুথু ফেললে নাকি ৫০০ ডলার জরিমানা করে!

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

এজন্যই জ্যপনিজ সাবওয়ের এত প্রশংসা মানুষ করে!

পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে একই রকম কথা শুনেছি যারা আমেরিকা থেকে বেড়াতে আসতো তাদের মুখে আর যারা আমেরিকা বেড়িয়ে জাপানে ফিরতো তাদের মুখেও ... ...

৭২৫

(১১ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বটগাছ)

১।
আমার পরিচ্ছনতার ব্যারাম আছে বলে মনে হয়। তবে সেটা শুচিবায়ুগ্রস্থতার পর্যায়ে পৌছেছে বলে মনে হয় না। কারণ .....  লিমিট টানতে পারি, ধূলাবালি ভরা কীবোর্ডেও টাইপ করে যাচ্ছি, কিন্তু সচেতনতায় ধূলাবালির কথাটা বিস্মৃত হচ্ছে না। বাসে, সিএনজিতে ময়লা সিটে ভ্রমন করতে পারি, ড্রেনের উপরের সালাদিয়া হোটেলের পাশে দাঁড়িয়ে চা খেতে পারি।

পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যে আমি খুব খুঁতখুঁতে ছিলাম তা কিন্তু নয়। ছোট বেলায় নিয়মিত মায়ের বকুনি বরাদ্দ ছিল নিজের কাপড় চোপড় ধোয়ার জায়গায় না দেয়ার জন্য। আমাদের বাসার মেঝে এমন ডলা দিয়ে মোছা হত যে কয়েকদিনের মধ্যেই সেটা চকচকে মসৃন প্রতিফলক হয়ে যেত। নিয়ম করে প্রতিটা জানালার ধুলা মুছতেন মা। তবে ইদানিং বয়স হয়ে যাওয়াতে এই পরিচ্ছন্নতায় উনি অনেক ছাড় দিয়েছেন, বা দিতে বাধ্য হয়েছেন। মাঝে মাঝে মা'র বাসায় গিয়ে চারিদিকের ধূলা ধুসরিত ময়লা জিনিষপত্র দেখে আমিই শিউরে উঠি। ন্যাকড়া ভিজিয়ে ডলাডলি করে কিছু ফার্নিচারের চেহারা পরিবর্তন করেছি। তবে আম্মার পরিচ্ছন্নতাগ্রস্থতার একটা ব্যাপারে এখনও দুইয়ে দুইয়ে চার মেলেনি --- একবার চেস্ট অব ড্রয়ার থেকে একটা ধোয়া শার্ট বের করে চেয়ারের পেছনে ঝুলিয়ে রেখেছিলাম, ওটা পরে বাইরে যাব বলে। এর মাঝে কোন এক ফাঁকে আম্মা এসে ওটাকে ধুতে নিয়ে গিয়েছিলেন!! এর পর মা'কে অনেকবারই বলেছি, আমার গায়ের বোটকা গন্ধ, ময়লা কুতকুতে ভাব এসব আসলে কথার কথা, পুরাপুরি সত্য না -- এসব কারণের আপনি কাপড় ধুতে নিয়ে গেলে ঐ শার্টটা নিয়ে গিয়েছিলেন কোন হিসাবে? ওটাতে তো গন্ধ ছিল না।

২।
যা হোক, পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে জাপানের অভিজ্ঞতা আমাকেও অনেক বেশি খুঁতখুঁতে করে তুলেছে এই ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নাই। ওখানকার পিচ্চিগুলো নিজেদের পরিচয় দেয়ার সময় বলতো "ভাল ভাবে পরিচ্ছন্ন করতে চায়" -- সোউজি গাম্বারিমাস; কিংবা গামবাত্তে সোওজি শিমাস্  (গাম্বারিমাস্ বা গামবাত্তে অর্থ হল বেস্ট অব লাক; আর সোউজি কিংবা সোউজি শিমাস মানে হল ময়লা পরিষ্কার করা)। ঘটনা কী, খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, ডে-কেয়ার স্কুলে বাচ্চারাই তাঁদের ক্লাসরুম পরিষ্কার করে -- এখানে আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মত, এই ধোয়া মোছা করার সময় প্রচন্ড শীতকালেও গরম পানি ব্যবহার করেনা। এদিকে নাক দিয়ে তরল সর্দি পড়ছে, ওদিকে এজন্য বাবা-মা বাচ্চাদেরকে ঔষধ খাওয়াচ্ছে তবুও স্কুলে কিন্তু গরম পানি দেবে না: অবশ্য এটার পেছনেও যুক্তি অকাট্য -- এভাবে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করিয়ে করিয়ে বাচ্চাদের শরীরে রেজিস্টেন্স ডেভেলপ করাচ্ছে। অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ওদেরকে সত্যিকার অর্থেই ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে আর শক্তপোক্ত করেও গড়ে তুলছে -- আমরা তো খালি "পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ" বলেই খালাস।

৩।
জাপানে যেখানে থাকতাম সেখানকার একটা ব্যাপার যেটা আমাকে দারুন ধাক্কা দিয়েছিলো: সেটা হল জাপানের বুড়াদের ইভনিং ওয়াকের সময়ে ময়লা পরিস্কার করা দেখে। দৃশ্যগুলো ছিল এমন - একজন অবসরপ্রাপ্ত লোক বিকালে মাঠের চারপাশ দিয়ে আর পার্কে হাঁটছে। লোকটার হাতে মিষ্টির দোকানে মিষ্টি তোলার যে চিমটা আকৃতির চামচ থাকে সেরকম লম্বা একটা মেটাল চিমটা, আর আরেক হাতে একটা পলিথিনের ব্যাগ। হাঁটতে হাঁটতে যেই সামনে কোনো ময়লা কাগজ, চকলেটের বা আইসক্রিমের খোসা পাচ্ছে সেটা চিমটা দিয়ে নিয়ে সোজা ব্যাগে চালান করে দিচ্ছে। চিমটাটা লম্বা হওয়াতে এই কাজে তাকে ঝুঁকতে হচ্ছে না তেমন একটা। হাঁটাহাঁটির শেষ পর্যায়ে এই পলিথিনের ব্যাগটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে বাসার পথ ধরলেন। তাঁর এই সচেতন হাঁটাহাঁটিতে নিজের স্বাস্থ্যের উপকারের পাশাপাশি সমাজেরও উপকার হচ্ছে। কি সাংঘাতিক বুদ্ধি এদের: বুদ্ধিতে অবশ্য আমরাও কম না -- আমরা এখন হয়তো তাঁদের খুঁত ধরতে সেই বুদ্ধি ব্যবহার করবো।

আরেকটা জিনিষ ভীষন অবাক করেছিলো একটা পার্কে। একজন বৃদ্ধা মহিলা একটা চমৎকার ছোট কুকুরকে নিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম উনি ওনার হ্যান্ডব্যাগের মত একটা কৌটা কুকুরের পেছনে ধরেছেন --- বুঝতে পারলাম সেটা কুকুরের পটি। ঘটনাটা যেখানে ঘটেছিলো সেটা ছিল একটা জঙ্গলের ভেতরের পায়ে চলা পথ। জঙ্গলটা শুকনা ঝরা পাইন পাতার পুরু কার্পেটের মোড়ানো ছিল। এখন বুঝতে পারলাম, এখানে কোন রকম ময়লাতে পাড়া না দিয়েই দৌড় দেয়া যাবে নিশ্চিন্তে। বিশেষত যেসব বাচ্চারা এটার মধ্যে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে তাঁদের এই সংক্রান্ত কোনো চিন্তা নাই --- এই ব্যাপারটা বাংলাদেশের জঙলা এলাকা দুরের কথা ফুটপাথেই চিন্তা করা যায় না!

৪।
আমি যেই বাসায় থাকতাম সেটা একটা ৫ তলা ভবন ছিল। এর পেছনের ডাস্টবিনটা আমাদের ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট করা ছিল। প্রতিটা ডাস্টবিনের বাইরে সেখানে কোন কোন ভবনের বাসিন্দাগণ ময়লা ফেলবে সেটার লিস্ট দেয়া থাকতো। আমার বাসার পেছনের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতো ৪টা ভবনের ৪৮টা ফ্ল্যাটের লোকজন। ডাস্টবিনটা আসলে হাউজের মত একটা কংক্রিটের হাফ দেয়ালে ঘেরা ছোট ঘর। এর উপরে কাক বা বিড়াল যাতে ময়লা ছড়াতে না পারে সেজন্য নেট দেয়া। সামনে গেটে ছিটকিনি টাইপের লক। একদিন সকালে হঠাৎ আমার দরজার বাইরে একটা ফাইল আর লম্বা ডান্ডার মাথায় ব্রাশ দেখে বিল্ডিং-এর লিডারকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম যে এটাতে ডাস্টবিনের সাথে থাকা কলের চাবি আছে। আগামী এক সপ্তাহ আমাকে ডাস্টবিনটা পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিটা ফ্লাটের লোকই এভাবে এক সপ্তাহ করে ডাস্টবিন পরিষ্কার রাখে -- এভাবে ৪৮ পরিবার ঘুরে প্রায় একবছর পর পর সকলের কাছেই দায়িত্ব আসে। সেখানে ময়লা ফেলার নিয়ম বেশ কড়া ছিল, তাই ওটা বাসযোগ্য ঘরের চেয়ে ময়লা হওয়ার সম্ভাবনা থাকতোই না। সেই আলাপে এখন না যাই।

http://1.bp.blogspot.com/-qry7nY5QOo8/UUJJjwdVVtI/AAAAAAAABuM/liWGg6zqAhA/s600/My-Apt-002.JPG
অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের দিক আর ডাস্টবিন। ডাস্টবিনের গায়ে কবে কোন ধরণের ময়লা ফেলবে আর কোন কোন ভবন থেকে ফেলবে সেই সংক্রান্ত দুটি নোটিশ লাগানো

এই এপার্টমেন্টেরই আরেকটা নিয়ম ছিল যে প্রতি মাসের প্রথম রবিবার (ছুটির দিন) সকালে আধাঘন্টা প্রতি পরিবার থেকে একজন  করে নামতে হবে চারপাশ পরিষ্কার করার জন্য। একটা কমন ফান্ড ছিল ঝাড়ু আর আনুসাঙ্গিক অন্য জিনিষপাতি যেমন, ময়লা ফেলার ব্যাগ, গাছ ছাটার যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কেনার জন্য। প্রতি মাসে সকালে মূলত প্রতিবেশিদের সাথে গল্পগুজব করতে করতে চারপাশ ঝাড়ু দিতাম, কেউ ঘাস এবং বেড়ার গাছগুলো কাটতো, তারপর সেগুলো জড়ো করে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে আসতাম। একবার নিজে উদ্যোগি হয়ে স্টর্ম সুয়ারের ড্রেনে জমা কয়েক বছরের বালু তুলে বাগানের মাটি বাড়ালাম। মাঝে মাঝে কিছু বুড়া বুড়ি ময়লা ফেলতে ভুল করতো, ফলে ময়লার গাড়িতে সেই ব্যাগ নিয়ে যেত না -- এই দিনে সকলে মিলে বসে বসে সেই ব্যাগগুলোর ময়লা বাছাবাছি করে নির্দিষ্ট প্রকৃতির ময়লা নির্দিষ্ট ব্যাগে আলাদা করে রাখতাম যেন পরেরবার এগুলো নিয়ে যায়।

নিজেরাই নিজেদের বাসার চারপাশ পরিষ্কার করা হত বলে সকলেই ময়লা না করার ব্যাপারে সচেতন থাকতো। বাচ্চারাও দেখতাম মা কিংবা বাবাকে এই কাজে উৎসবের মুডে সাহায্য করতে আসতো। ইউনিভার্সিটি এবং অফিসগুলোতেও এই পরিষ্কারের কর্মসূচী থাকতো বছরে দুই দিন। পূর্বঘোষিত সেই দিনে ইউনিভার্সিটির ভিসি/প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রফেসর, গবেষনা ক্লাসের ছাত্র সবাই লাইন ধরে সেই চিমটা আর ব্যাগ নিয়ে বাস্তবিকই চিরুনী অভিযান চালাতো ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের এক মাথা থেকে আরেক মাথা। আমি দেখেছি যে এই অভিযানে তেমন ময়লা পাওয়া যেত না -- কারণ পরিষ্কার রাখার জন্য অনেক কর্মী থাকে। তারপরও দেখা যেত বিভিন্ন চিপা থেকে কেউ মাতাল টাতাল হয়ে ফেলে যাওয়া ক্যান বোতল ইত্যাদি বের হচ্ছে।

http://1.bp.blogspot.com/-eTD17o7jcVE/UUJJsLkAbWI/AAAAAAAABuU/KKfHUWcizYU/s600/My-Apt-001.JPG
বাসার চারপাশ নিজেদেরকেই পরিষ্কার করতে হত

বাসা নেয়ার আগে ইউনিভার্সিটির প্রথম বছর ইন্টারন্যাশনাল হাউজে থাকতাম। সেখানে ঐ ফ্লোরে বিদেশি দেশি (জাপানি) মিলিয়ে ১২ জন থাকতাম। প্রতি রবিবার সন্ধ্যা ৬টা-৭টা ছিল কমন স্পেস পরিষ্কারের সময়। কেউ করিডোর ঝাড়ু দিচ্ছে, কেউ মুছতেছে, কেউ গেছে কমন গোসলখানাগুলো পরিষ্কার করতে (টয়লেট, বেসিন প্রতি রুমে আলাদা ছিল)। আমি সাধারণ কিচেন পরিষ্কার করতাম। রান্নাঘরের চূলা আর বেসিনটা ধুতাম। চূলার পার্ট বাই পার্ট সাবান ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধুয়ে পরিষ্কার করতাম। আসলেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাটা যে কত আনন্দময় একটা অনুভূতি সেটা এই ব্যাপারগুলো না ঘটলে কোনদিন জানতেই পারতাম না।

http://3.bp.blogspot.com/-r9FwGHO-r9k/UUJKTcsL0PI/AAAAAAAABug/YgRlEkpYs6s/s600/Int-House-0003.JPG
ইন্টারন্যাশনাল হাউজের কমন কিচেন-১

http://4.bp.blogspot.com/-YaeSWVy_hng/UUJKYifrfNI/AAAAAAAABus/Fx---UYIiR8/s600/Int-House-0004.JPG
ইন্টারন্যাশনাল হাউজের কমন কিচেন-২

http://4.bp.blogspot.com/-2SUebyp_q_4/UUJKYm1AxKI/AAAAAAAABuw/Z6RJ03Jb-2Q/s600/Int-House-0005.JPG
ইন্টারন্যাশনাল হাউজের কমন কিচেন-৩

http://4.bp.blogspot.com/-i4i_OxnnMuY/UUJKzJWHutI/AAAAAAAABu0/ETc1IoC7fWc/s600/Int-House-0006.JPG
ইন্টারন্যাশনাল হাউজের করিডোর; ডানে কিচেন আর বামে এর বিপরীতে আমার রূম

৫।
দেশে ফিরেও সেই অভ্যাসটা বজায় রেখেছিলাম অনেক দিন। এখনও কিছুটা আছে। শুরুর দিকে নিজের অফিসরূম ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে ডলে মুছে ফেলতাম প্রতি দুইদিন পরপর। ফলে সেখানে কোন ধুলিকনা থাকতো না। এখন অবশ্য হয়তো মাসে একবার সব জানালা, কীবোর্ড, মনিটর, মেঝে নিজে ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে ডলে মুছি। মাঝে মাঝেই সিড়িতে দুমড়ানো মোচড়ানো কাগজ দেখলে তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দেই। এই কাজে কোনো লজ্জা নাই -- বরং ময়লা ছেড়ে দেয়াটাই লজ্জার মনে হয় আমার কাছে।

মাঝে মাঝে চোখের সামনে কলিগদের ময়লা ধুলা জমে কুতকুতে কীবোর্ড আর  মনিটর দেখে সহ্য করতে না পেরে ধরে মুছে দেই। একই কাজ করি বাসায় গিয়ে ছোটভাইয়ের কম্পিউটারেও (ওয়াক, এ্যাত ময়লা কীবোর্ড ধরে কীভাবে কে জানে)। আমার বাসায় বউয়েরও পরিষ্কার পরিচ্ছনতার রোগ আছে। তবে আমি যখন হাত লাগাই তখন ঐ জায়গাগুলো মুছি যেগুলো সকলেই সাধারণত এড়িয়ে যায়: টিউব লাইট, দেয়ালে ঝুলানো বাধাই ছবিগুলো, ফ্রিজের উপরদিক, দরজার কপাটের উপর, দেয়ালের স্কার্টিং, জানালার গ্রীল -- এগুলো সাধারনত কাজের লোকের সেন্সরে ধরা পড়ে না কখনই।

৬।
বছর দুই আগে একবার সকল ব্যাচমেট গেলাম ভালুকায় আনন্দ রিসর্ট নামে একটা পিকনিক স্পটে। সবাই বউ বাচ্চার কিচির মিচিরে দারুন অবস্থা। কিন্তু সেখানেও দেখি বাচ্চা বুড়া সকলেই যত্র তত্র ময়লা ফেলছে। লটারিতে পুরষ্কার পেল, প্যাকেট ছিড়ে সেখানেই মেঝে মাঠে ফেলে রাখছে। নিজে তুলে তুলে চারদিকে সুন্দর সব ডাস্টবিন ছিল সেখানে ফেলছিলাম প্রায় পাগলের মত। একবার মাইকে ঘোষককে দিয়ে বলিয়েও এলাম। কিন্তু রক্ত আর জিনে সভ্যতা কি আর একবেলাতে ঢুকে, সভ্যতা এবং সভ্য আচরণ আয়ত্ব করতে সময় লাগে।

গতবছর অনেকে একসাথে গেলাম মাওয়াতে পদ্মা সেতু'র সাইট দেখাতে। বাস বুকিং দিয়ে প্রায় ৪০ জনের টিম। খাওয়া দাওয়ার জন্য ছিল প্যাকেট লাঞ্চ। লাঞ্চ খেয়ে যথারীতি সকলেই যার যার ডিসপোজেবল বাটি বালুর প্রান্তরে এদিক সেদিক ফেলে মুহুর্তেই জায়গাটা ডাস্টবিন বানিয়ে ফেললো। আমি বাস থেকে নেমে কুড়াতে লাগলাম কয়েকটা করে মিলে একটা নেটের ব্যাগে ঢুকাচ্ছিলাম। বসকে এই কাজ করতে দেখে বাকীরাও সেই পথ ধরল অবশেষে। অবশ্য আমার চিন্তা ওখানে অমূলক ছিল, একটু পরেই টোকাই গ্রুপ এসে সব সাফ করে নিয়ে গেল।

৭।
ইদানিং প্রায়ই নিজেকে নিয়ে তাই চিন্তা হয়: শেষে মানসিক রোগের ডাক্তারের কাছে যেতে হবে নাকি পরিষ্কার দেশের সন্ধানে ভাগতে হবে কে জানে!

৭২৬

(২৮৪২২ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ)

ইলিয়াস লিখেছেন:

পরিবেশ প্রকৌশলী শামিম ভাইয়ের নতুন নিক মনে হচ্ছে।  thinking যদি তাই হয় তাহলেতো শামিম ভাইয়ের কাছে একটা পার্টি পাওনা হয়ে গেলাম।  smile

পার্টি কী উপলক্ষে একটু খুলে বলেন।
তবে শামিম (ঈ-কারের বদলে ই-কার দিয়ে) নামে একটা নতুন একাউন্ট খোলার বুদ্ধিটা কিন্তু খারাপ না।  thumbs_up
অন্য টপিকে

ফায়ারফক্স লিখেছেন:

সারিম ভাই মনে হয় শামীম ভাইকে মিন করে কথাটা বলেছেন।
তবে খামাখা শামীম ভাইয়ের নতুক নিক খোলার দরকার হল কেন (যদি সত্যি সেটা শামীম ভাইয়ের হয়)

শামীম ভাইরে এ্যাত টানা হেঁচড়ার দরকার টা কী? তারে মনে হয় লুকজন ভয় পায়।  tongue_smile

৭২৭

(২১ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে আলোকচিত্র)

৪ নং ছবিটায় ছবির ডানদিকের যন্ত্রটা দেখতে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মত। এর পাশেরটা নিঃসন্দেহে ব্যালেন্স (ওজন পরিমাপক)।

পিএইচ এবং ও আর পি (অক্সিডেশন রিডাকশন পোটেনশিয়াল) মাপার মিটারটা দেখে একটু লোভ লাগছে। এই রকম যন্ত্রপাতি দিয়ে ম্যালা কাজ করতে হয়েছে এক সময়ে।

হ্যাক (HACH) এর যন্ত্রগুলোর দাম অনেক। তবে তাই বলে কালারিমিটারের দাম এ্যাত বেশি পুরাই অবিশ্বাস্য। কারণ কালার মাপার জন্য DR5000 স্পেক্ট্রোফটোমিটারের দাম করেছিলাম বছর দুই আগে -- ৫/৬ লাখ টাকা চেয়েছিলো। http://www.hach.com/asset-get.product.image.jsa?type=P&sku=DR5000-03&size=T যেটা দিয়ে কালার বা রং ছাড়াও আরও প্রায় ৩০টা মৌলের পরিমান মাপা যায়। অবশ্য এটার সাথে কী কী এটাচমেন্ট আর রিএজেন্ট নিয়েছে + বিভিন্ন ঘাটে কত কমিশন বাণিজ্য হয়েছে সেটা জানা গেলে অনুমান করতে সুবিধা হত। বাংলাদেশে এই HACH এর অফিসিয়াল লোকাল এজেন্ট আছে। তবে এই ওয়েবসাইটে এটার (কালারিমিটারের) দাম ১১৮১ ইউএসডলার লেখা আছে -- অর্থাৎ মাত্র লাখ খানেক টাকা হবে।

৭২৮

(৩৫১ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে দৈনন্দিন)

সাইকেল একটা পরিবেশ বান্ধব বাহন। উন্নত বিশ্বে এখন শহরগুলোতে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন রাখা হয়। কিছু ক্ষেত্রে লেনগুলো রাস্তার পাশে, কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির লেন থেকে অনেক দুরে, পার্কের মধ্য দিয়ে। এমনকি ইদানিং কার ফ্রী কমিউনিটি তথা দূষণমুক্ত কমিউনিটি বুঝাতে বাইসাইকেল সিটি নামে একটা টার্মই দাঁড়িয়ে গিয়েছে। পরিবেশ বান্ধব হওয়ার পাশাপাশি সাইকেল চালানো একটা স্বাস্থ্যকর জিনিষ -- এজন্য অনেকেই এখন বাসায় এক জায়গায় বসে বসে প্যাডেল মারার যন্ত্র চালায়।

সাইকেল চালানো শিখেছিলাম ক্লাস এইটে পড়ার সময়। দাদী বাড়ির ঠিক পেছনে একটা নির্জন পায়ে চলা রাস্তা ছিল যেটা খুব সামান্য ঢালু। হ্যাঁ বিখ্যাত ফিনিক্স সাইকেল দিয়েই শিখেছি। প্রথমে সাইকেলটা হাটিয়ে নিয়ে সাথে সাথে হাঁটতাম, মাঝে মাঝে একটা প্যাডেলে এক পায়ে চড়ে দাঁড়িয়ে কিছুদুর, ঢালু থাকাতে দেখা যেত মাঝে মাঝে একবারও অন্য পা টা মাটিতে না ছুঁইয়ে ঢালের শেষ পর্যন্ত চলে গিয়েছি। এভাগে একবার সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে যেতে যেতে সাহস করে অন্য পা টা পেছন দিয়ে ঘুরিয়ে সিটে চড়ে বসলাম ---- ---- এবং ধড়াম্। মাটির রাস্তা বলে তেমন কিছু হয়নি। এভাবে কয়েক বারে সাইকেলে উঠা শিখে গেলাম --- মোট একদিনে। তবে পরের দিন গ্রামের রাস্তায় অনেক দুর ঘুরে আসার সময়ে এ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিলো -- একটা ছাগলের বাচ্চার উপরে চালিয়ে দিয়েছিলাম। মানুষজন এই মারে তো সেই মারে -- তবে চাচার নামে রক্ষা, আর ছাগল ছানাটাও তেমন আহত হয়নি। দুই একবার সুপারি গাছের সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম -- কারণ অত উঁচু সাইকেল থেকে নামাটা প্রায় অসম্ভব ছিল আমার জন্য। একটা গাছ ধরে থেমে তারপর নামতাম।

কলেজ লাইফের পর অনেক চালিয়েছি নিজের অ্যাভন সাইকেল -- হ্যাঁ সেকেন্ড হ্যান্ড ছিল সেটা। এটা ফিনিক্সের চেয়ে অনেক ভারী, তাই স্টেবল বেশি -- তবে প্রতিদিন ঘাড়ে করে চারতলায় তুলতে আর নামাতে অবস্থা কাহিল হয়ে যেত। ইদানিং আবার সাইকেল কেনার একটা ইচ্ছা জেগেছে -- অফিসে যাতায়াতে খরচ কমবে, বাধ্যতামূলক ব্যায়ামের ফলে মেদ কমবে আর পরিবেশ প্রকৌশলী হিসেবে পরিবেশ বান্ধব বাহনও ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ছোটকালে ভিলেন ছিল দাদী -- ক্লাস ফাইভে রেজাল্টে একটা শর্ত পূরণ করতে পারা সত্বেও তাই সাইকেল পাইনি; আর এই বয়সে ভিলেন হয়েছেন আমার দাদীশাশুড়ির নাতনী।  mad

সাইকেল চালানো শেখার জন্য পা নামালেই মাটিতে ঠেকে এমন নিচু সাইকেলই ভাল। একটু ঢালু জায়গায় বসে প্রাথমিক প্র্যাকটিস করে নেয়া যেতে পারে। আর শিক্ষনবীশদের জন্য পরামর্শ হল চালানোর সময়ে কখনই নিজের পা, বা সাইকেলের চাক্কার দিকে তাকাবেন না। তাকাতে হবে সামনের দিকে।  smile