৪১

(৯ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)

সনির মডেল নাম্বারের মাজেজা বুঝার পর সনি ব্র্যান্ড থেকে কিনলে মডেল সিলেকশন করা সহজ হয়ে গেল।

মডেল নাম্বারের মূল বিষয় এরকম: মডেল নাম্বারের শুরুতে KDL বা এই ধরণের ২/৩টা অক্ষর দিয়ে ব্রাভিয়া সিরিজ বুঝায়। তারপরের দুইটা সংখ্যা দিয়ে কয় ইঞ্চি স্ক্রিন সেটা বুঝায়। তারপর R, W, X, Z, S এই অক্ষরগুলো থাকে এগুলোর অর্থ নিম্নরূপ:
R = স্টার্টার মডেল
W = HD একটু এডভান্সড মডেল
X = UHD আল্ট্রা হাই ডেফিনিশন মডেল
Z = ফ্ল্যাগশীপ মডেল
S = কার্ভড মডেল
এরপর ২/৩/৪ টা সংখ্যা দিয়ে ঐ মডেলের মধ্যে কম্পোনেন্টগুলোর শক্তি বুঝায়, ঐ নম্বর যত বড় হবে তত উন্নততর কম্পোনেন্ট (প্রসেসর, মেমরি ইত্যাদি)।

শেষে A/B/C/D/E এই অক্ষরগুলোর যে কোন একটা থাকে - যা কোন বৎসরের মডেল সেটা বুঝায়।
A = ২০১৩ সালের; B = ২০১৪ সালের; C = ২০১৫ সালের; D = ২০১৬ সালের; E = ২০১৭ সালের মডেল।

smile
উদাহরণ:
Sony KLV 32R302D = ব্রাভিয়া ৩২ ইঞ্চি, মিডরেঞ্জ/স্টার্টার মডেল, তেমন ফিচার নাই, ২০১৬ সালের।
Sony KD 75X8500D 75 = ৭৫ ইঞ্চি, UHD আল্ট্রা হাই ডেফিনিশন, ভালরকম অ্যাডভান্সড হার্ডওয়্যার, ২০১৬ সালের।

===========
স্যামসাং-এর মডেল নম্বর এরকম:

প্রথম অক্ষর: U = LED মডেল; Q = QLED; K = OLED; P = Plasma; L = LCD; H = DLP

দ্বিতীয় অক্ষর: A = এশিয়া; E = ইউরোপ; N = নর্থ আমেরিকা .... এরকম আরো দেশভিত্তিক কোড থাকতে পারে।

পরের দুই ডিজিট = স্ক্রিন সাইজ (ইঞ্চি)

পরের এক বা দুই অক্ষর বছর:
Q - 2017 QLED;
KS - 2016 UHD;
KU - 2016 UHD;
L - 2015;
JS - 2015 SUHD;
JU - 2015 UHD;
J - 2015 HD;
H - 2014;
HU - 2014 UHD;
F - 2013; E - 2012; D - 2011; C - 2010; B - 2009; A - 2008

শেষের নম্বরগুলো সিরিজ (অন্যান্য হার্ডওয়্যার): 9 সিরিজ হল সবচেয়ে ভাল, আর 5 সিরিজ হল দুধ-ভাত।

৪২

(৯ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)

ধন্যবাদ সকলকে।

মূল ব্যবহারকারী হবে আমার সন্তান।

দাম অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অযথা যেসব সার্ভিস ব্যবহার করা হবে না সেগুলোর  জন্য টাকা খরচ না করে বরং যেগুলো ব্যবহার করবো সেগুলো ভাল হওয়া দরকার। উদাহরণ হিসেবে ইন্টারনেটের কথা বলা যায় -- আমার সার্ভিসে লিমিটেড ব্যান্ডউইড্থ, যদিও মাসিক ব্যবহারের লিমিট সম্ভবত ৫০ গিগাবাইট। টিভিতে একটা কিছু দেখতে গিয়ে যদি ডাউনলোড ঘুরতে থাকে তাহলে ভাল লাগবে না। এছাড়া টিভিতে গেম আনতে চাই না এজন্য যে, বাচ্চা (এবং বাবা wink ) এডিক্টেড হয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনে HDMI কিংবা ইউএসবি কেবল দিয়ে বাচ্চাকে কার্টুন/মুভি দেখার অপশন রাখতে চাই। মুশকিল হল কিছু মডেলে মিডিয়া প্লেয়ার বিল্ট-ইন নাই, ফলে মুভি চালাতে সমস্যা হবে। এদিকে বাচ্চাদের হাতে অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট একসেস (=ক্ষমতা) থাকলে কী হয় তার কিছু উদাহরণ জানা আছে -- অনলাইনে গেম-টেম কিনে ফতুর করে দিতে পারে ghusi । আর হ্যাক/প্রাইভেসি সংক্রান্ত কী কী জানি আজেবাজে কথাও মাঝে মাঝে শুনেছি।

তাই অফলাইন টিভি পছন্দ। হয়তো বাচ্চা কাচ্চা ছাড়া কারো জন্য স্মার্টফোনের সুবিধাগুলো টিভির বড় স্ক্রিনে হলে মন্দ হবে না।

৪৩

(১৭ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে সঙ্গীত)

ছাত্রগণ ছিল না?

৪৪

(৯ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)

একটা LED টিভি কিনতে চাই। কিন্তু বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামের আকাশ পাতাল তফাত দেখে ঘাবড়ায় গিয়েছি।  whats_the_matter

আমার চাহিদা হল:
- আকার ৪২ ইঞ্চির আশেপাশে।
- USB, HDMI এবং টিভি-কেবল ইনপুট নিতে পারবে।
- শব্দ এবং ছবির কোয়ালিটি ভাল হতে হবে।
- টেকসই হতে হবে (ওয়ারেন্টি .. ইত্যাদি)।
- তথাকথিত স্মার্ট হবে না; অর্থাৎ ইন্টারনেটে কানেক্ট করতে পারবে না।
- আর কোনো বিষয়ে সচেতনতা দরকার?

কেউ কি আমার সাথে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন?

৪৫

(১০ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে ছড়া-কবিতা)

আমার মনে হয় এটা অনেকের সাথেই কমন পরবে। চমৎকার!  thumbs_up

৪৬

(২ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে ছড়া-কবিতা)

ভেবে অবাক হই, কিভাবে একটা লেখা স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলে।  sad
চলুক ...  thumbs_up

২ বছর ধরে উনি কি ভর্তি না হয়ে পরামর্শের আশায় বসে আছেন?  hehe

৪৮

(৩ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে ছড়া-কবিতা)

এইবার দেখি সিরিয়াস এটাক হয়েছে!  lol

৪৯

(৯ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে ভ্রমণ)

দারুন!

বউ কিছুদিন যাবৎ বালি বালি করে মাথাটা খাচ্ছে। আমি বালির নামটা কয়েকটা খবর টবর দেখে একটু একটু জানি ....
# বেশ কয়েক বছর আগে একবার সাংঘাতিক বোমা হামলায় প্রচুর পর্যটক মারা গেছে। এটা দারুন পর্যটন এলাকা এবং অস্ট্রেলিয়ানরা এখানে ঘুরতে আসে।
# সৌদি বাদশা গেছে - ওনার সম্মানে অন্য জায়গার ভাস্কর্যগুলো আড়াল করা হলেও বালি কর্তৃপক্ষ তাদের কোন ভাস্কর্য ঢাকেনি (হাত তালি হবে) -- তারপরেও দলবল নিয়ে সৌদি বাদশা ওখানে গেছে।
# কিছুদিন আগে প্রাক্তন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ওবামা'ও পরিবার সহ এখানে গেছে।

বউকে এই বোমা হামলার ব্যাপারটা বার বার বলে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছি। বলেছি, গেলে চল অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে যাই (কারণ ওখানে বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন + বন্ধুবান্ধব আছে) ... ... । আপনার লেখা দেখে সম্ভবত আমার (আমাদের) বালিতে যাওয়ার উৎসাহের ব্যারোমিটারের পারদ আকাশে উঠবে ...

লেখা দৌড়াতে থাকুক।

৫০

(৮ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে দৈনন্দিন)

উদাসীন লিখেছেন:

আপডেট জানিয়েন। কী হল জানতে ইচ্ছে করছে! ....তবে বিষয়টা দুঃখজনক! না জানি ছেলেটা কোন্‌ চক্রে জড়িয়ে পড়েছে! উদ্বেগনক!!

এরকম ঘটনা এর আগে শুনেছি। কিন্তু নিজেই গল্পের অংশ হয়ে যাব ভাবিনি। এগুলো ঠেকাতেই নিয়মিত অভিভাবকগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। স্মার্ট কার্ড করা হয়েছে - যেন অভিভাবক বাসা থেকেই টাকা রিফিল করে দিতে পারে আর কার্ড দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফী, ফটোকপি মেশিন, ক্যান্টিনের বিল, বাসের টিকিট - এ ধরণের নির্দিষ্ট কয়েকটা সার্ভিস ছাড়া অন্য কোথাও সেটা খরচ করার উপায় নাই।

বিষয়টা এক অর্থে বেশ পীড়াদায়ক। কারণ, বিশ্ব-জ্ঞানে আলোকিত হতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীকে আমরা সাবালক (প্রাপ্তবয়স্ক বা এডাল্ট) মনে করতে চাই -- অর্থাৎ তাঁদের নিজেদের ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে। সাবালক ব্যক্তি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে - তাই রেজাল্ট নিতে গার্ডিয়ান ডাকা লাগে না। তারা নিজেরাই নিজেদের গার্ডিয়ান। --- অন্তত এটা আশা করি। কিন্তু আমরা কি সেরকম সাবালক তৈরী করার মত সামাজিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে পারছি ... ...

উদাসীন লিখেছেন:

আপনি তো মিয়া একেবারে ছোটগল্প ধাঁচের লিখে ফেলেছেন!

মানুষের শখ আহ্লাদ বলে একটা কথা আছে না ....

৫১

(৮ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে দৈনন্দিন)

বোঝাই যাচ্ছে কুমিল্লা থেকে ফোন করার বদলে স্বশরীরে ডিপার্টমেন্টের অফিসে হাজির হওয়া অভিভাবক মায়ের  উদ্বেগ যথেষ্ট গুরুত্বের দাবী রাখে। ওনার ছেলে এবার ৩য় সেমিস্টারে, ইভিনিং ব্যাচ; কিন্তু জিজ্ঞাস্য হল: ও কি ঠিকঠাকমত ক্লাস করছে? ছেলেটি বললো সে ক্লাসে একটু অনিয়মিত, চাকুরী করে তাই। এভাবে বিভিন্ন অভিভাবকগণ নিজে এসে বা ফোনে প্রায়ই খোঁজখবর নেন, কাজেই আমি এই প্রশ্ন শুনে মোটেও বিচলিত হলাম না। সন্ধ্যা বেলায় আমি অফিসে রয়ে গিয়েছিলাম জন্য এই দেখাটা হয়ে গেল; না হলে খোঁজ না নিয়েই হয়তো ওনাকে ফেরত যেতে হত।

ছেলেকে আইডি জিজ্ঞেস করলাম। বলতে পারে না। বললাম আইডি কার্ড দেখে বল --- সেটাও হারিয়েছে। 'তুমি কেমন ছাত্র, তিন সেমিস্টার ধরে পড় অথচ আইডি মনে রাখতে পার না? এটা বড় নম্বর হওয়ার কারণ এগুলো ভর্তি সেমিস্টার আর ডিপার্টমেন্ট কোডের সমন্বয়ে তৈরী - রেজিস্ট্রেশনের সময়েই ছাত্রদেরকে এটা সহজে মনে রাখার সহজ টেকনিক শিখিয়ে দেই। আইডি নম্বর ছাড়া তো অনলাইনে থাকা শিক্ষকদের রিসোর্স থেকে ওর রেজিস্ট্রেশন আর রেজাল্ট জানা যাবে না। অবশ্য এটার‌‌ সমাধান আছে - সেটা হল ছাত্র-তথ্যের ডেটাবেস। রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ছাত্রদের যে ডেটাবেস থাকে সেখানে নাম, আইডি থেকে শুরু করে মায়ের ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা সবই ইনপুট দেয়া থাকে। যে কোন আইটেম কিংবা ওয়াইল্ডকার্ড দিয়েও সার্চ করে মূহুর্তে সব তথ্য জানা যায়।

মায়ের নাম দিয়ে সার্চ দিয়ে ১৯৫ জনের নাম আসলো, তার মধ্যে এই ডিপার্টমেন্টের ৩জন। কিন্তু সেই ৩ জনের একটাও এই ছেলের নাম নয়। এখন পর্যন্ত এই ডেটাবেসে সার্চ দিয়ে পাইনি এমন কোন অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু এবার তাই ঘটল। ছেলের নামের বানান দিয়ে খুঁজেও কাউকে পাওয়া গেল না। কাজেই সে যে আমাদের ছাত্র না সেই বিষয়টায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কবে ভর্তি হয়েছ? --- গত নভেম্বরে। কিন্তু নভেম্বরে তো ভর্তি নেয় পরের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য, সেখানে ভর্তি হলে এখন ওর ২য় সেমিস্টার চলার কথা। এরপর জিজ্ঞেস করলাম কোন সেকশনে পড়? -- উত্তরে জানালো সি সেকশনে। কতজন ছাত্র সেই সেকশনে? এর উত্তরে জানালো ৬০ জনের মত। ঠান্ডা গলায় জানালাম, আমাদের এখানে ৩য় সেকশন আছে যেই ব্যাচে সেটার এখন ১ম সেমিস্টার চলে; ২য় বা ৩য় নয়। তাছাড়া আমাদের কোন সেকশনে সর্বোচ্চ ৪০ জন থাকে - ৬০ জনের প্রশ্নই আসে না; আর ৩য় সেকশনে সর্বোচ্চ আছে ১৭ জন। সর্বোপরী সি-সেকশন বলে এখানে কিছু নাই; সেকশনের নামকরণ করা হয় অন্য একটা নিয়মে যাতে কখনই সি নামে কোনো সেকশন হয় না।

অভিভাবক মা, এখানে খরচ কেমন জিজ্ঞেস করাতে সেটা জানালাম। বললো এটার পরিমান মিলেছে। অর্থাৎ ছেলে এখানে ভর্তি এবং পড়ার কথা বলে নিয়মিত টাকাপয়সা আনিয়েছে। অভিভাবককে আরও জানালাম, অনিয়মিত ছাত্র হলেও রক্ষা নাই, কারণ ধারাবাহিক অনুপস্থিত ছাত্রের কাছে ফোন করে নিয়মিত খোঁজ নেয়া হয়, আবার অভিভাবকের কাছেও ফোন করে সেটার সত্যতা যাচাই করা হয় - আর সব শেষে সেই রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুলিশের কাছে দিতে হয় সেই হলি আর্টিজানের ঘটনার পর থেকে। আপনার বাসায় কখনো ফোন গিয়েছে? যায় নাই।

কাজেই আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলাম। জানিনা চলে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে কী কী ঘটলো।

৫২

(৩ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে ছড়া-কবিতা)

চমৎকার!
শিরোনাম দেখে বেলা শেষে সিনেমার শেষবেলায় গানটা মনে পড়ে গেল ...

৫৩

(২ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে অর্থনীতি)

কনস্ট্রাকশন সাইটটির চারপাশে উঁচু বেড়া দিয়ে ঘেরা। শুধু গেটটা একটু খুলেছে। সেখান দিয়ে একটা বিরাট ট্রাকের সামনের দিকটা দেখা যাচ্ছে, ট্রাকটা বের না হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। আমি সামনের ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গেট এবং ট্রাকের মাঝের ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলাম ভেতরে মাথায় সেফটি হ্যাট আর পায়ে গামবুট পরা একজন কর্মী এক হাতে একটা বড় ব্রাশ নিয়ে ট্রাকের চাকা ঘষে দিচ্ছে আর আরেক হাতে একটা পানির হোস পাইপ দিয়ে পানি দিয়ে চাকার সেই ময়লা ধুয়ে দিচ্ছে। সাথে সাথে সামনের রাস্তাটা আরেকবার ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম -- সেটা ঝকঝকে তকতকে পরিষ্কার; কোথাও কোনো কাদা লেপ্টে নাই; কোথাও কোনোে শুকনা ধুলা নাই যে উড়ে এসে ফুসফুসের বারটা বাজাবে, কিংবা উড়ে এসে চলমান মেশিনারীর ক্ষয় বৃদ্ধি করবে।

প্রায় এক যুগ আগে জাপানের ওসাকা শহরে দেখা এই দৃশ্যটা আমার জন্য একটা কালচারাল শক্ ছিল। পরিবেশের প্রতি ভালবাসা থেকে হোক, কিংবা চাপে পড়েই হোক, এই কাজটুকুর উপকারী প্রভাব অসাধারণ। কিন্তুু সেই তুলনায় খরচ কতটুকু?

একেকটা ট্রাকে গড়ে ৫ মিনিট সময়, একজন অতিরিক্ত কর্মী, পানি এবং ড্রেনেজের ব্যবস্থা -- এই হল খরচ। লাভ হল: রাস্তার আয়ু বৃদ্ধি পেল + বায়ু দূষণ জনিত অসুস্থতার চিকিৎসা খরচ লাগলো না + আশেপাশের লোকজন সু্স্থ থাকাতে উৎপাদনশীলতা কমে গেল না + ধুলামুক্ত বাতাসে যন্ত্রপাতির ক্ষয় কম হল + ধুলা কম বলে যন্ত্রপাতি ও অফিস রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম লাগলো + কোম্পানির সুনাম বা গুডউইল বৃদ্ধি পেল + এলাকার সৌন্দর্য্য মূল্য হ্রাস পেল না
(সৌন্দর্য্য মূল্য: কর্দমাক্ত রাস্তার পাশের দোকান বা অফিস এড়িয়ে চলে মানুষ; ভাড়া নিতে হলে ঐ এলাকার স্থাপনা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকবে; ফলে ভাড়া বা জমির মূল্য কমে যাবে -- এগুলোর অর্থনৈতীক ক্ষতি পরিমাপ করা অসম্ভব নয়)।

শুধুমাত্র সুনাম (গুডউইল) তৈরীতে বিজ্ঞাপন, সমাজসেবা ইত্যাদির পেছনে একটা কোম্পানির যে খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচে এই কাজটা করা সম্ভব। এই কাজটার প্রচারই তাদের সুনাম বৃদ্ধি করবে অনেক বেশি। কাজেই আপাত দৃষ্টিতে প্রজেক্ট খরচ বাড়ছে মনে হলেও আসলে এতে সত্যিকার ভাবে কোনো কোম্পানির খরচ বাড়বে না। বরং সুনাম বাড়ানোর প্রচেষ্টায় তাদের সাশ্রয় হবে আরও বেশি।

কিছু প্রাসঙ্গিক লিংক:
https://en.wikipedia.org/wiki/Wheel_washing_system
http://atconsulting.ca/news/passive-vs- … tion-sites

৫৪

(২ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বটগাছ)

Jol Kona লিখেছেন:

....
সো কার টার্ন যে কখন ক্লিক করে বলা মুশকিল!  hmm

আমির খানের 'তারে জামিন পর' - সিনেমাতে কিন্তু এমনই একটা কাহিনী দেখিয়েছে।

হয়তো সেই মেয়ের সেই সময়ে শেখা সংক্রান্ত যেই জটিলতাগুলো ছিল সেগুলো পরে কেটে গিয়েছিলো।

৫৫

(২ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বটগাছ)

কেউ শিক্ষক হয়েছেন 'বাই চয়েস', কেউ 'বাই চান্স'। আমি ২য় দলে।

আমার দাদা-নানা দুজনেই নিজের সময়ে স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। দাদা-নানার সংসারের বিষয়গুলো বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে যতটুকু বুঝেছিলাম, আদর্শ শিক্ষক ধনসম্পদ করতে পারেন না। কাজেই শেখাতে ভাল লাগলেও, বড় হয়ে শিক্ষকতা করবো এমন কোন পরিকল্পনা আমার ছিল না। যা হোক, জীবনযুদ্ধের পথে ছুটতে ছুটতে উচ্চতর ডিগ্রীর ভারে প্রায় নিরূপায় হয়ে একসময় শিক্ষকতায় ঢুকে পড়তে হল। তবে যে কাজেই থাকি না কেন, কাজকে সিরিয়াসলি নেয়ার অভ্যাস সব-সময়ই ছিল।

শিক্ষকতা করতে করতে বুঝলাম, এটা সম্পুর্ন অন্যরকম একটি কাজ, এবং এটা করতে কিছু বিশেষ দক্ষতার দরকার হয় যা আমার নিজের বিষয়ের লেখাপড়ায় শেখানো হয়নি, শেখানোর কথা-ও না। কাজেই সেই বিষয়গুলো এখন শেখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি -- বর্তমান যুগে ইন্টারনেটে জ্ঞান-চর্চার মত উপকরণের অভাব নাই - তাই রক্ষা।

ইদানিং একটা বিষয় বুঝতে পারছি - সেটা হল প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে মেধা পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। শুধু গণিতে দক্ষ হলেই মেধাবী - আগে এমন ভাবতাম। কিংবা পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেলে সে মেধাবী ... ... নাহ্ এখন আর তেমন ভাবি না। আসল কাজের সময়ে যে কাজটা সুন্দরভাবে গুছিয়ে সম্পুর্ন করতে পারে না, তার ভাল রেজাল্ট দিয়ে কী হবে?! কর্মক্ষেত্রে ইদানিং ভাল জিপিএ'র কাগজের চেয়ে আসল কাজে কেমন করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করেছি, একেকজনের মেধার বিকাশ একেক বয়সে হয়। ছোটবেলায় যে লেখাপড়ায় খুবই কাঁচা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পর্যায়ে দেখা যায় সে তুখোড় হয়ে উঠছে। স্কুলের ক্লাসের ব্যাকবেঞ্চার একজন তুখোড় পেশাজীবী কিংবা ব্যবসায়ী হয়েছে - যায় অধীনে প্রচুর তথাকথিত ভাল ছাত্র কাজ করছে। আবার দেখেছি, স্কুলে সবসময় ভাল ফলাফল করা কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে; কর্মক্ষেত্রেও তেমন ভাল করছে না।

আমার মনে হয়, উৎসাহ এবং ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত প্রশ্রয় হয়তো একজনের ভবিষ্যতে তুখোড় হয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। একজনকে কটু কথা বলে তার আত্মবিশ্বাস তলানীতে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাঁর ফাইট দিয়ে ফেরত আসা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই শিষ্যের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটা খুব জরুরী। যে শিক্ষক এটা করতে পারেন সেই একজন সফল শিক্ষক -- কারণ তাঁর ছাত্রগণ সফল হবেই।

৫৬

(৭ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ)

সমালোচক যদি সমালোচনা না করে তাহলে করবে টা কী?  tongue  hehe

৫৭

(৮৯০ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ)

ইয়ে, এই বিষয়ে অধমের একখান লেখা ছিল: (পডকাস্ট শ্রবণপূর্বক লিখিত; ২২-ফেব্রুয়ারী-২০১৩ সালে প্রকাশিত)

ফ্রিকোনমিক্স, প্রণোদনা কেরামতি এবং দ্যা কোবরা ইফেক্ট - লিংক: সচলায়তন, লিংক: খিচুড়ি ব্লগ

৫৮

(৪ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে পড়াশোনা)

বর্তমানে কাউন্সেলিং শব্দটি আমাদের কর্মক্ষেত্রের প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে বার বার ঘুরে ফিরে আসছে। সাধারণ ভাবে মনে হয় councelling -এই ইংরেজি শব্দটির অর্থ কাউকে পরামর্শ দেয়া। কিন্তু গুগল আংকেলের কাছে এই বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চেয়ে ধারণা হল, এর ব্যাপ্তি আরো অনেক গভীর এবং এটা করতে চাইলে রীতিমত আলাদা দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষন নেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়।

গুগলে কাউন্সেলিং লিখে সার্চ দিলে এই সংজ্ঞাটি আসে

Counselling is a type of talking therapy that allows a person to talk about their problems and feelings in a confidential and dependable environment. A counsellor is trained to listen with empathy (by putting themselves in your shoes). They can help you deal with any negative thoughts and feelings you have.

অনলাইনে এ বিষয়ে বিভিন্ন রকম সাহায্যমূলক পোস্টও দেখলাম (বাংলা এবং ইংরেজিতে) – কয়েকটির বিষয়বস্তু হচ্ছে যে কখন নিজেই বুঝতে পারবো আমার কাউন্সেলিং দরকার। আমার মনে হয়, একজনের পক্ষে নিজে নিজেই এই সমস্যা এবং প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারার বিষয়টা হল সবচেয়ে ভাল অবস্থা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অন্যেরা একজনের মাঝে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেও সেই ব্যক্তি নিজে কিন্তু সেটা অনুভব করতে পারেন না; এমনকি কেউ যদি বলে তোমার কাউন্সেলিং দরকার, তাহলে উল্টা মাইন্ড করে বসতে পারে। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই আরেকজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ চোখের দরকার হয়, যে শিশুদের আচরণের মধ্যে অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটা চিহ্নিত করতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা নিবে। আমার ধারণা, শিশুকে সরাসরি কিছু কাউন্সেলিং দেয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই তার পরিবারকে কাউন্সেলিং দেয়া বেশি জরুরী হয়ে যায়।

অর্থাৎ সকলেরই হয়তো কাউন্সেলিং-এর দরকার নাই। কারো কারো দরকার আছে। কেউ যদি সেটা নিজেই বুঝতে পারে তাহলে তো ভাল, কিন্তু না হলে আরো কিছু চোখ দরকার যারা দেখে শুনে কিংবা তাদের অজান্তেই কিছু মানসিক বিষয় পরীক্ষা করে দেখে কাউন্সেলিং দরকার – এমন ব্যক্তি চিহ্নিত করতে পারবেন। চিহ্নিত ব্যাক্তিটি প্রতিষ্ঠানের স্টাফ, কর্মকর্তা, শিক্ষক কিংবা ছাত্র হতে পারে।

আপনাদের হয়তো জানা আছে, সরকারী চাকুরীর মৌখিক পরীক্ষা বা সাক্ষাতকারের সময়ে সেই ভাইবা বোর্ডে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ বসে থাকেন এবং চাকুরীপ্রার্থীর আচরণ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করতে থাকেন। একই রকম বা এর চেয়েও সিরিয়াসভাবে মানসিক গড়ন পরীক্ষা করা হয় সেনাবাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। আমার বাচ্চার স্কুলেও এরকম পূর্ণকালীন সাইক্রিয়াটিস্ট আছে বলে শুনেছি।

কিছু কিছু অস্বাভাবিকতা আমরা যে কেউ চিহ্নিত করতে পারি – যেমন ক্লাসে অমনোযোগী, বাচালতা, উগ্রতা, মনমরা হয়ে থাকা ইত্যাদি। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলোর সমাধানও সকলের জানা - যদিও সব ইস্যূতে প্যাঁদানি দেয়া কোনো সঠিক সমাধান হতে পারে না ... ... আবার, এখন তো স্কুলে মারধর করা আইনত নিষেধ (ইস্ আমাদের সময়ে যদি এমন থাকতো! ...); আর কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মারধর তো দুরের কথা, বকা দিতেও এখনকার যুগে রীতিমত ভয় লাগে ... ...। আমি যতটুকু বুঝি, বকা দিয়ে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হয় না। ভারতীয় নায়ক আমীর খানের ‘তারে জামিন পার’ সিনেমাটি হয়তো অনেকেরই দেখা আছে - এটা এবিষয়ে চিন্তার খোরাক যোগাবে।

কাউন্সেলিংএর কথা একটু বাদ থাক ... আমরা যে শিক্ষকতা করি সেটারই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ কয় জনের আছে? আমি নিজে প্রকৌশলী হওয়ার শিক্ষা পেয়েছি, শিক্ষকতা করার জন্য কিছু আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন আছে, যা বিকাশের জন্য কোন উপযুক্ত প্রশিক্ষন পাইনি – আমাদের পাঠ্য সিলেবাসে ছিল না। সম্ভবত বেশিরভাগ বিষয়ের শিক্ষকগণেরও আমার মত একই অবস্থা – আমরা গান শিখে নয়, বরং গাইতে গাইতে গায়েন হয়েছি। আমার ধারণা, যাঁরা লেখাপড়া বিষয়ে লেখাপড়া করেন অর্থাৎ বি.এড, এম.এড করেন (কিংবা পুরানা আমলের বি.এ.বি.টি) তাঁদেরকে এই বিষয়গুলোর অনেকটাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আবার বিদেশী, বিশেষত আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রীর কোর্স কনটেন্ট ঘাটাঘাটি করে দেখেছি সেখানে ক্লাস ম্যানেজমেন্ট, প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ, গবেষণার পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে রীতিমত কোর্সওয়র্ক করতে হয়। – এর উপরে যুক্ত হচ্ছে কাউন্সেলিং; কাউন্সেলিংকে আলাদাভাবে চিন্তা করছি তার কারণ আছে ...

কার কাউন্সেলিং-এর দরকার আছে সেটা চিহ্নিত করাটা একটা প্রাথমিক কাজ। এটার জন্য প্রশিক্ষণ দরকার আছে। চিহ্নিত করার জন্য হয়তো কিছু ধাপে ধাপে করার মত প্রক্রিয়া আছে, হয়তো কিছু প্রশ্নপত্র আছে যার অনেকগুলো সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে – সেই উত্তরের প্যাটার্ন থেকে একেকজনের মানসিক গড়নটা বেরিয়ে আসবে, অস্বাভাবিকত্ব থাকলেও বেরিয়ে আসবে। হয়তো কিছু মানসিক পরীক্ষা আছে, যেগুলোতে প্রতিক্রিয়া দেখে অস্বাভাবিকত্ব চিহ্নিত করা যাবে।

সম্ভবত, এর পরের কাজ হল সেই কাউন্সেলিং দেয়া অথবা তাকে অভিজ্ঞ কাউন্সেলরের কাছে পাঠানো। ছাত্র কাউন্সেলিং নিয়ে গুগল আংকেল ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে দেখলাম বিদেশি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং বিষয়ে রীতিমত আলাদা বিরাট সেটাপ রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রকম বিষয়ে কাউন্সেলিং দেয়া হয়; বিষয়গুলোর নামের উদাহরণ দিচ্ছি -যেমন আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (Iowa State University) কাউন্সেলিং বিষয়ক বিভাগের ওয়েব পেজ অনুযায়ী বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়:

- আত্মপরিচয় এবং নৈতিকতা (exploration of identity and values)
- পেশাগত উন্নয়ন – ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং? (exploration and development of career and majors)
- সম্পর্ক বিষয়ক সমস্যা (relationship problems)
- হীনমন্যতা (low self-esteem)
- চাপ (stress)
- একাকীত্ব (loneliness)
- মানসিক অবস্থার সমস্যা, মনমরা থাকা (mood disturbances or depression)
- সামাজিক রীতিনীতির পার্থক্য অভিযোজন বিষয়ক (cultural exploration or navigating differences)
- যৌননিপীড়ন থেকে আরোগ্য (sexual assault recovery)
- শরীরবৃত্তীয় অথবা খাদ্যাভাস বিকৃতি বিষয়ক (body image or disordered eating concerns)
- মানসিক আঘাত এবং/অথবা অত্যাচার (trauma and/or abuse)
- যৌনপ্রবৃত্তি বা পরিচয় বিষয়ক (questioning sexual identity or orientation)
- সম্পদের অপচয় (substance misuse)
- লেখাপড়া বিষয়ক কিংবা প্রেরণা (academic concerns or motivation)

এ্যাতসব বিষয়ে সম্যক জানা এবং কাউকে সঠিক পরামর্শ দেয়া এবং তাঁর মানসিক পর্যায়ে প্রভাবিত করা যে কোন একজনের পক্ষে বেশ কঠিন কাজ হবে বলেই মনে হয়। আর, যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া এটা করতে গেলে হীতে-বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে না - এমনটিও নিশ্চিত করা যায় না। ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং ছাড়া দলগত কাউন্সেলিংও আছে বলে দেখেছি। এমনকি সমবেত সংগীতে অংশগ্রহণ করলেও কিছু বিষয়ে উপকার হয় বলে কোথায় জানি পড়েছিলাম। পরিবেশ, শব্দ, রং, সংগীত সবই মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা (এবং অসুস্থতা) প্রভাবিত করে বলে বেশ ভালো গবেষণা প্রকাশনা রয়েছে। মানুষের মনের অলিগলিতে কত রহস্য লুকিয়ে আছে কে জানে। আমার মনে হচ্ছে, এই বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষিত একটা লোকবল যে কোন প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য একটা মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।

দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় গত ৩১-জানুয়ারী-২০১৬ সালে এ বিষয়ক একটা অসাধারণ উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হয় যা হুবহু নিচে তুলে ধরা হল। এখানে লেখকদ্বয় সরাসরি বলে দিয়েছেন কাউন্সেলিং মানে শুধু পরামর্শ দেয়া নয় ...

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সেলিং
গ্লোরিয়া রোজারিও ও প্রিয়াংকা শঙ্কর দাস

একটি হাসপাতালের মানসিক বিভাগে আমার ভিজিটিং কার্ড দিতে গিয়েছিলাম, যাদের কাউন্সেলিং প্রয়োজন তাদের যেন ‘রেফার’ করা হয়। কিন্তু মানসিক ডাক্তারের কথায় আমি হতবাকই হলাম। তিনি বললেন যে ‘আমিই কাউন্সেলিং করি। কারো কাছে আমার ‘রেফার‘ করার প্রয়োজন হয় না। ’

আরেক দিন একটি স্কুলে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলাম, যেসব ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকের মানসিক সমস্যার জন্য সাহায্যের দরকার তারা যেন কাউন্সেলিংয়ের জন্য ‘রেফার’ করেন। দুজন শিক্ষক আমাকে মুখের ওপর ফের বলে দিলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের আমরাই কাউন্সেলিং করি। ’ এ তো একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হয়ে দাঁতের যন্ত্রণায় কাতর রোগীর দাঁতের অপারেশন করার শামিল। একজন স্কুল শিক্ষক যদি মানসিক সমস্যার জন্য কাউন্সেলিং করেন (প্রশিক্ষণ ছাড়া), তাহলে ওই রোগী বা ক্লায়েন্ট কি সঠিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে? তাঁদের কথা শুনে ভাবলাম, সবাই যদি কাউন্সেলিং করেন, তবে যাঁরা কাউন্সেলিংয়ের ওপর পড়াশোনা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁদের কাজ কী হবে!

অপ্রিয় হলেও সত্য যে এখনো পর্যন্ত অনেকেরই কাউন্সেলিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। অনেকেই ভাবেন, কাউন্সেলিং হলো পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু না, কাউন্সেলিং মোটেও পরামর্শ দেওয়া নয়। কাউন্সেলিংয়ে মূলত একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ ও আচরণগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হয়। তাই আমাদের এ লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো কাউন্সেলিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া।

কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল প্রাচীন সভ্যতার মিসর, মেসোপটেমিয়া (বর্তমানে ইরাক) ও পারস্যে (ইরান)। সেখানকার ধর্মযাজকরা মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি দান করতেন। ঐতিহাসিক পণ্ডিতদের মতে, সমসাময়িক কাউন্সেলরদের আবির্ভাব ঘটে ১৮০০ শতকের পর। তখনকার কাউন্সেলররা মূলত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক (বিশেষত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক), যাঁরা ছাত্রদের শুধু একাডেমিক ফলাফল ছাড়াও তাদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা, যেমন আবেগীয় ও আচরণগত সমস্যা, এসব ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করে কাউন্সেলরের ভূমিকা পালন করতেন। আমেরিকার কংগ্রেস ১৯৫৮ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স এডুকেশন অ্যাক্ট (এনডিইএ) চালু করে এবং এর মাধ্যমে স্কুলগুলোতে কাউন্সেলিংয়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।

যে ব্যক্তি কাউন্সেলিং দেন, তিনিই কাউন্সেলর। একজন ব্যক্তি কাউন্সেলিং পেশায় সংশ্লিষ্ট হওয়ার জন্য তাঁকে মনোবিজ্ঞানে অনার্স ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি কিংবা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চতর শিক্ষা অর্থাৎ মাস্টার্স, সেই সঙ্গে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হয়। আর যে ব্যক্তি কাউন্সেলিং সেবা নেন তাঁকে বলা হয় ক্লায়েন্ট।

কাউন্সেলিং এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি পেশাগত সম্পর্ক বিরাজ করে এবং ব্যক্তিগত, দলগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হয়। ফলে তাদের মধ্যে নিজেদের ও অন্যদের সম্পর্কে এমন একটা স্পষ্ট ধারণা জন্মায় যেটা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও দ্বন্দ্বগুলো সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। অনেকেই কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি শব্দ দুটি সমার্থক কিংবা একই অর্থে অদলবদল করে ব্যবহার করে। থেরাপি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেরাপিয়া থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘একসঙ্গে পথ হাঁটা’। কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় কাউন্সেলর ও ক্লায়েন্ট একসঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করেন। তাহলে দুটি বিষয়ই অর্থাৎ কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপির কাজ মোটামুটি একই রকম।

কাউন্সেলরের প্রাথমিক কাজ হলো ক্লায়েন্টকে তার নেতিবাচক চিন্তাপদ্ধতি পরিবর্তন, প্রতিরোধ, পুনর্বাসন, জীবনের মানোন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সে যেন তার অনুকূল মাত্রায় মনঃসামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় হতে পারে সে ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করা। এ জন্য কাউন্সেলররা মানসিক স্বাস্থ্য, মনোবৈজ্ঞানিক ও মানুষের বিকাশগত বিভিন্ন তত্ত্ব প্রয়োগ করে চিন্তাভাবনা, আবেগীয়-আচরণীয় অথবা নিয়মতান্ত্রিক বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে তাদের ভালো থাকা বা সুস্থ থাকা, ব্যক্তিগত বিকাশ অথবা পেশাগত উন্নয়ন, এমনকি মনোরোগ থাকলে সে ক্ষেত্রেও সাহায্য করে থাকেন।

কাউন্সেলরের ভূমিকা অন্যান্য পেশা থেকে ভিন্ন। কারণ এখানে কাউন্সেলর সমস্যাটির দিকে খেয়াল করেন এই ভেবে যে এই সমস্যাটি ব্যক্তি, নিয়ম ও সংস্কৃতি—সব মিলিয়েই বেড়ে চলেছে। কাউন্সেলররা রোগ নির্ণয় ও প্রতিকারের তুলনায় বেশি খেয়াল করেন ক্লায়েন্টদের মানসিক বিকাশ ও মানসিক ব্যাধি প্রতিরোধ, দক্ষতা, গুণাগুণ, মানসিক শক্তির উৎস ও চাপ নিয়ন্ত্রণ করা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর।

সাধারণত কাজে অনাগ্রহ, সামাজিক ভয়, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় আচ্ছন্ন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, যোগাযোগে অক্ষম, অবিরাম চিন্তা, দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন, যেকোনো মাদকে আসক্ত হয়ে পড়া, শুচিবায়ু, বারবার হাত ধোয়া, হতাশাগ্রস্ততা, একাকিত্ব, আশাহীনতা, পেটে সমস্যা, মাথাব্যথা, অকারণে জ্ঞান হারানো, অনিয়ন্ত্রিত রাগ, ভাঙচুর করা, মিথ্যা কথা বলা, অতি চঞ্চলতা, অমনোযোগী, অটিজম, মিশতে না পারা, দুঃখজনক ঘটনা থেকে প্রাপ্ত আঘাত, দুঃস্বপ্ন দেখা, নিদ্রাহীনতা, ঘুমে ব্যাঘাত, মন মরা হয়ে থাকা কিংবা অনিয়ন্ত্রিত আনন্দ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং করা হয়।

কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটি যখন শুরু হয় তখন ক্লায়েন্ট তার মনের কষ্টের সব কথা খুলে বলতে থাকে। দুঃখের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময়ই সে খুব কান্নাকাটি করে, ভেঙে পড়ে। তখন ক্লায়েন্ট নিজেও হয়তো মনে করতে পারে যে এখানে এসে সব কিছু খুলে বলে তো আমি আবারও আগের সেই আঘাত পাওয়া মুহূর্তের কষ্টটা পাচ্ছি। তাহলে আমার সঙ্গে এটা কী হচ্ছে? এটা কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াতে ক্লায়েন্টের জন্য বিপজ্জনক। কিন্তু ভয়ের কিছুই নেই; সেই বিপজ্জনক মুহূর্তটিতেও তাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই কাউন্সেলররা আছেন। কাউন্সেলরই ওই মুহূর্তটিতে তাকে সহায়তা করবেন স্থির হওয়ার জন্য, ভালো থাকার জন্য।

কাউন্সেলিং সেশনটি সাধারণত হয় ৪৫-৫০ মিনিটের। আর কাউন্সেলিং সেশন সংখ্যার গড় হলো সাত-আটটি। তবে সমস্যার বিষয়ভেদে ও ক্লায়েন্ট অনুযায়ী সেশন সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

কাউন্সেলিং সেশনে গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে ক্লায়েন্ট কাউন্সেলরের কাছে যেসব কথা বলবে সেসব কথা গোপন রাখা হয়। তবে তিনটি ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ভাঙা হবে। প্রথমত, ক্লায়েন্টের যদি আত্মহত্যার প্রবণতা থাকে, তাহলে ক্লায়েন্টের মা-বাবা বা কাছের মানুষদের তার জীবন বাঁচানোর জন্যই তথ্যটি জানাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্লায়েন্ট যদি কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তৃতীয়ত, যদি কখনো কোর্ট থেকে নির্দেশ আসে। তবে এ তথ্যগুলো জানানোর আগে অবশ্যই ক্লায়েন্টকে এ বিষয়ে বলে নেওয়া হবে।

আমাদের দেশে কাউন্সেলিং করাতে হলে ফি দিতে হয় ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে কিছু কিছু জায়গায় বিনা মূল্যেও কাউন্সেলিংসেবা পাওয়া যায়। যেমন—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য টিএসসির কাউন্সেলিং ও গাইডেন্স সেন্টারে।

কাউন্সেলিং হলো মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি পেশাগত প্রক্রিয়া। একজন পেশাদার কাউন্সেলরের এ পেশা চর্চা করার জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। কাউন্সেলররা দক্ষতার সঙ্গে ক্লায়েন্টদের আবেগ, চিন্তাভাবনা ও আচরণ নিয়ে কাজ করেন। কাউন্সেলিং নেওয়ার আগে কাউন্সেলরের যোগ্যতা সম্পর্কে জেনে নিন, যেন সঠিক সেবা পেতে পারেন।

লেখকদ্বয় : গ্লোরিয়া রোজারিও, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও

প্রিয়াংকা শংকর দাস, কাউন্সেলর, হিলিং হার্ট কাউন্সেলিং ইউনিট, বসুন্ধরা, ঢাকা

ধৈর্যসহ এ্যাতদুর পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সহায়কমূলক তথ্যসূত্রসমূহ:
https://www.google.com/
http://www.counseling.iastate.edu/counseling
http://www.gau.edu.tr/en/homepage/psych … ounselling
http://www.kalerkantho.com/print-editio … /31/319282 (মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সেলিং)
https://bn.thecabindhaka.com.bd/10-sign … -health-2/ (১০ টি সংকেত যা নির্দেশ করে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কাউন্সেলিং দরকার)
http://www.newsbangladesh.com/details/2399 (অনলাইনে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং)

৫৯

(৪ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ)

fish cage পদ্ধতি এ দেশীয় কিভাবে? এটাতো পৃথিবীর বহু জায়গায় প্রচলিত ....

বিশ্বখাদ্য সংস্থায় এ বিষয়ে গাইড: http://www.fao.org/docrep/x5744e/x5744e0f.htm

উইকিপিডিয়া: https://en.wikipedia.org/wiki/Fish_farming#Cage_system

http://www.seafdec.org.ph/wp-content/uploads/2011/08/milkfish-harvest_02.jpg

নিচের ছবি ভিয়েতনামের:
https://c1.staticflickr.com/7/6048/6342188465_a8b73ef7d0_b.jpg


পরেরটা মিয়ানমারের:
http://www.fao.org/docrep/004/ad497e/ad497e0t.jpg

এবার ফিলিপাইন:
http://www.seafdec.org.ph/wp-content/uploads/2011/08/IMS_05b.jpg

৬০

(৮৯০ উত্তর, পোস্ট করা হয়েছে বিবিধ)

জিম স্টোন ফুকুশিমা -- ইংরেজিতে দিয়ে গুগলাইয়া দেখেন ... ...  nailbiting  donttell