টপিকঃ ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবস

২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবস। ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদরদপ্তরে সংঘটিত হয় বর্বরোচিত এক হত্যাকাণ্ড। সেদিন শহীদ হয় বাংলাদেশের ৫৭ জন সেনা অফিসার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও এত সেনা অফিসার শহীদ হয়নি। দুর্ঘটনাসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৫৫ জন অফিসার শহীদ হয়েছে।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা ২৭ মিনিটে শুরু হয় সেই কালো অধ্যায়ের। ওই দিন দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে পড়ে। এদের মধ্যে একজন বিডিআর মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা।

বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে, তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় তখন এক ভীতিকর বীভৎস ঘটনার সৃষ্টি হয়। এসময় বিদ্রোহীরা পিলখানার চারটি প্রবেশ গেট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশে-পাশের এলাকায় গুলি ছুঁড়তে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়ে মেধাবী সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে।

বিদ্রোহীদের হত্যাযজ্ঞ ঘটনায় পুরো বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। এরপর শুরু হয় বিডিআর পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোষাক, লোগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপারে পুনর্গঠন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল হুতা হল ভারত। বিডিআর বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতেই ভারত এই ঘটনা ঘটায়। কেননা ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৬ জন বিএসএফ জওয়ান মারা যায় (বিবিসি)। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিস্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানায়, “এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।”

৫৭ জন সেনা অফিসার কারো না কারো ভাই, কারো না কারো পিতা, কারো না কারো সন্তান, কারো না কারো স্বামী।

দেশ সম্পদ হারা হল। দেশ বীর সন্তান হারা হল। দেশ বীর সন্তানদের হারিয়ে আজ প্রায় নিঃস্ব বনে গেল। সেই ৫৭ জন বীর সন্তানের অভাব আমরা পরতে পরতে দেখতে পাই। দেখতে চান কোথায় সেই অভাব?

সেই বীরদের হারিয়ে জাতি আজ অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে। সীমান্তে প্রতিদিন বিএসএফ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে। বিনিময়ে বিজিবি প্রধান ভারতকে শক্তিশালী করতে এবং বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের এইসব অন্যায় কাজে যেন কেউ বাধা কিংবা প্রতিবাদ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করবে।

রৌমারিতে তৎকালীন বিডিআর বাহিনী বিএসএফ কি রকম নাকানি চুবানি খাইয়েছিল, সেই কথা নিশ্চয়ই আপনাদের স্মরন আছে। স্থানীয় মানুষদের মুখে শুনা যায়, আগে বিডিআরকে দেখলে ভারতের বিএসএফ সৈন্যরা কাপড় নষ্ট করে ফেলতো। আর এখন বিজিপিকে দেখে বিএসএফরা দাঁত কেলিয়ে হাসে। মূল অভাবটা কি এবার বুঝে এসেছে?

#সংগৃহীত

"We want Justice for Adnan Tasin"