৬১

Re: মহাভারতের গপ্পো

পাঞ্চালরাজ পৃযত ভরদ্বাজের বন্ধু ছিলেন। তাঁর ছেলে দ্রুপদ দ্রোণের সঙ্গে খেলা করতো। পাঞ্চালরাজপুত্র দ্রুপদ আর দ্রোণ ছোটো বেলায় অগ্নিবেশ্যের কাছে অস্ত্রশিক্ষা করেছিলো। তারা দুজন বন্ধু ছিলো। অস্ত্রশিক্ষা শেষ হলে চলে যাবার সময় দ্রুপদ দ্রোণকে বলেছিল সে যখন রাজা হবে তখনো তাদের বন্ধুত্ব থাকবে।

বড় হয়ে পিতার আদেশে দ্রোণ কৃপীকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলে হয়, ছেলেটি ভূমিষ্ঠ হয়েই অশ্বের মতো চিৎকার করেছিল বলে তাঁর নাম অশ্বথামা রাখা হয়।

ভরদ্বাজের মত্যুর পর দ্রোণ বাবার আশ্রমেই থেকে যায়। একদিন তিনি শুনলেন ভৃগুনন্দন পরশুরাম তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ ব্রাহ্মণদের দান করছেন। দ্রোণ পরশুরামের কাছে গিয়ে প্রণাম করে ধন-সম্পদ চাইলেন। কিন্তু ততোক্ষণে পরশুরাম তার সমস্ত ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন, শুধু মাত্র তার অস্ত্রশস্ত্র অবশিষ্ট ছিল। দ্রোণ সেই সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র চাইলো এবং সেগুলি কি করে ব্যবহার করতে হয় তাও পরশুরামের কাছ থেকে শিখে নিলো।

https://i.imgur.com/94zqOAy.jpg


একদিন বালক অশ্বত্থামা অন্য ছেলেদের দুধ খেতে দেখে বাবার কাছে দুধ চেয়ে কাঁদতে লাগল। কিন্তু দরিদ্র দ্রোণ বহু চেষ্টা করেও গাভীর দুধ জোগাড় করতে পালেন না। শেষে দরিদ্র দ্রোণ তার বাল্যবন্ধু পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের রাজ্যে গিয়ে হাজির হলেন। কিন্তু রাজা হওয়ার পরে দ্রুপদ বদলে গেছে। সে দ্রোণকে বন্ধু বলে পরিচয় দিলো না, বরং অপমান করে তারিয়ে দিলো। অপমানিতো হয়ে মনের দুঃখে দ্রোণ সেখান থেকে হস্তিনাপুরে গিয়ে নিজের পরিচয় গােপন রেখে বাস করতে লাগলেন।


একদিন রাজকুমাররা নগরের বাইরে এসে ডাংগুলি / গুলিডাণ্ডা খেলছিলো। হঠাত তাঁদের ডাংগুলিটি কূপের মধ্যে পড়ে গেল। তাঁরা অনেক চেষ্টা করেও সেটি তুলতে পারল না। দ্রোণ তখন সেখানেই বসা ছিলো। রাজকুমারদের ডাংগুলিটি তুলতে ব্যর্থ হতে দেখে দ্রোণ তাদের ভৎসনা করলেন এবং কাশ ফুলের গাছ দিয়ে এক বিচিত্র উপায়ে তিনি ডাংগুলিটি তুলে দিলেন।

রাজকুমাররা প্রাসাদে ফিরে গিয়ে সব কথা জানালো ভীষ্মকে। ভীষ্ম বুঝলেই ইনিই দ্রোণ, তাই তিনি সাথে সাথে দ্রোণকে প্রাসাদে এনে রাজকুমারদের অস্ত্রগুরু হিসেবে নিয়োগ দিলেন এবং দ্রোণের জন্য একটি চমৎকার বাসভবনের ব্যবস্থা করে দিলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬২

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/f9x7aKX.jpg

দ্রোণের কাছে পঞ্চপাণ্ডব আর দুষমন্তরাজপুত্রগণ অস্ত্রশিক্ষা নিতে লাগলেন। সেই সাথে অন্যান্য দেশের রাজপুত্রগণও তাঁর কাছে অস্ত্র শিক্ষার জন্য এলেন। সুতপুত্র কর্ণও তার কাছে অস্ত্র শিক্ষা নিতেন। সকলের মধ্যে অর্জুন ছিলেন দ্রোণের সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র।

https://i.imgur.com/Z8dgGBr.jpg

নিষাদরাজ হিরণ্যধনুর পুত্র একলব্য দ্রোণের কাছে অস্ত্র শিক্ষার জন্য এলেন, কিন্তু নীচজাতি বলে দ্রোণ তাঁকে নিলেন না। একলব্য দ্রোণের পায়ে মাথা রেখে প্রণাম করে বনে চলে গেলেন এবং দ্রোণের একটি মাটির তৈরী মূর্তিকে সামনে রেখে নিজের চেষ্টায় অস্ত্রবিদ্যা অভ্যাস করতে লাগলেন।

https://i.imgur.com/RhACqSl.jpg

একদিন রাজকুমাররা বনে গেলো হরিণ শিকার করতে। তখন তাদের একটি কুকুর ঘুরতে ঘুরতে একলব্যের কাছে চলে গেলো। একলব্যের জটাধারী শরীর দেখে চিৎকার করতে লাগল। একলব্য একসঙ্গে সাতটি তীর কুকুরটির মুখের মধ্যে পুরে দিলেন। কুকুরটি তাই নিয়ে রাজকুমারদের কাছে ফিরে গেল। তাই দেখে রাজকুমাররা বিস্মিত হয়ে রাজধানীতে ফিরে দ্রোণাচার্যকে একলব্যেরকথা জানাল।



দ্রোণাচার্য অর্জুনকে বলেছিলেন তার শিষ্যদের মধ্যে অর্জুনই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ। এবার অর্জুন দ্রোণাচার্যকে গিয়ে বললো একলব্য কি করে অর্জুনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠলো? তাই শুনে দ্রোণাচার্য অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে একলব্যের কাছে গেলেন, একলব্য ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলো।
দ্রোণ বললেন -  তুমি যদি আমার শিষ্যই হও তবে গুরুদক্ষিণা দাও।
একলব্য বললেন -  কি দেব আজ্ঞা করুন, গুরুকে অদেয় আমার কিছুই নেই।
দ্রোণ বললেন -  তােমার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি আমাকে দাও।

https://i.imgur.com/pyIYM8X.jpg

এই কথা শোনার সাথে সাথে একলব্য হাসি মুখে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে গুরুকে দিয়ে দিলেন।   অঙ্গুষ্ঠ ছেদন ক'রে দ্রোণকে দিলেন। তারপর একলব্য আবার তার বিনা বৃদ্ধাঙ্গুলিতে তীর চালনা করলেন। দেখা গেলো তার আর আগের মতো দ্রুতগতীতে নির্দিষ্ট যায়গায় লখ্যভেদ করতে পারছে না। তাই দেখে অর্জন সন্তুষ্ট হয়ে গুরুর সাথে ফিরে গেল।

দ্রোণের শিক্ষার ফলে ভীম ও দুর্যোধন গদাযুদ্ধে, অশ্বত্থামা গুপ্ত অস্ত্রে, নকুল-সহদেব অসিযুদ্ধে, যুধিষ্ঠির রথচালনায়, এবং অর্জুন বুদ্ধি বল উৎসাহ ও সর্বাস্ত্রের প্রয়ােগে শ্রেষ্ঠ হলেন।

https://i.imgur.com/99g6LXs.jpg

একদিন দ্রোণাচার্য একটি কৃত্রিম বাজ পাখি গাছের উপর রেখে রাজকুমারদের বললেন, তােমরা ঐ পাখিটিকে লক্ষ্য করে স্থির হয়ে থাক, যাকে বলব সে তির ছুড়ে পাখিটির মুণ্ডচ্ছেদ করবে। সকলেই পাখিটির দিকে লক্ষ্য স্থির করলো। এবার দ্রোণ যুধিষ্ঠিরকে বললেন, তুমি গাছের উপর ঐ পাখিটি দেখছ? ঐ গাছ, আমাকে আর তােমার ভাইদের দেখছ? যুধিষ্ঠির বললেন তিনি সবই দেখতে পাচ্ছেন। দ্রোণ বিরক্ত হয়ে বললেন, সরে যাও, তুমি এই লক্ষ্য বেধ করতে পারবে না। দুর্যোধন, ভীম সহ সকলেই বললেন, আমরা সবই দেখছি। দ্রোণ তাঁদেরও সরিয়ে দিলেন। তারপর অর্জুনকে একই প্রশ্ন করলেন। অর্জুন বললেন, আমি কেবল পাখিটি দেখছি। দ্রোণ বললেন, আবার বলো। অর্জুন বললেন, কেবল পাখির মাথাটি দেখছি। খুশী হয়ে দ্রোণ বললেন, এইবার তির নিক্ষেপ করো। তৎক্ষণাৎ অর্জুন তির নিক্ষেপ করলেন এবং পাখিটির মাথা মাটিতে পরে গেলো।



একদিন শিষ্যদের নিয়ে দ্রোণাচার্য গঙ্গায় স্নান করতে নামলেন। একটা কুমির তখন দ্রোণাচার্যের পায়ে কামড়ে ধরল। দ্রোণ চিৎকার করে উঠলেন। তখন অর্জুন এক সাথে পাঁচটি তির (শর) নিক্ষেপ করে কুমিরটিকে হত্যা করে গুরুকে বাঁচালো। অন্য শিষ্যরা তখন মোহাচ্ছন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। দ্রোণাচার্য খুশী হয়ে অর্জুনকে ব্রহ্মশির নামক অস্ত্র দান করলেন। তিনি অর্জুনকে বলে দিলেন এই অস্ত্র শুধু আক্রমণ করতে আশা শত্রুর উপর প্রয়োগ করতে পারবে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (১২-০১-২০২২ ১৭:৩১)

Re: মহাভারতের গপ্পো

একদিন দ্রোণাচার্য মহারাজ ধতরাষ্ট্রকে জানালেন যুবরাজদের অস্ত্রশিক্ষা শেষ হয়ে গেছে। রাজা অনুমতি দিলে তাঁরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রদর্শন করবেন। ধতরাষ্ট্রে অনুমতি দিলে দ্রোণের নির্দেশ অনুসারে বিশাল প্রদর্শনক্ষেত্র তৈরি করা হলো। নির্দিষ্ট দিনে সেখানে ভীষ্ম, কৃপাচার্য, ধতরাষ্ট্রের এবং গান্ধারী, কুন্তী সহ রাজপুরনারীরা মঞ্চে গিয়ে বসলেন। দ্রোণাচার্য তাঁর  পুত্র অশ্বত্থামাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন।

যৌদ্ধাবেশে সজ্জীত হয়ে রাজপুত্ররা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন। যুধিষ্ঠিরকে দিয়ে শুরু করে তাঁরা সকলে একে একে নিজেদের অস্ত্রশিক্ষার প্রয়ােগ দেখাতে লাগলেন। তাঁরা অশ্বারােহণে দ্রুতবেগে বাণ দিয়ে লক্ষ্যভেদ করলেন, রথ, গজ ও অশ্ব চালনা, বাহযুদ্ধ এবং ঢাল ব্যবারের নানান কৌশল দেখালেন।

https://i.imgur.com/06LfnPy.jpg

তারপর দুর্যোধন ও ভীম গদা হাতে সগর্জনে পরস্পরের সম্মুখীন হলেন। দর্শকদের একদল ভীমের এবং আরেক দল দুর্যোধনের পক্ষ নিলো। শুরু হয়ে গেলো প্রচন্ড কোলাহল। তখন দ্রোণের পুত্র অশ্বত্থামা পিতার নির্দেশে গদাযুদ্ধে উদ্যত ভীম আর দুর্যোধনকে থামালো।


https://i.imgur.com/pMblxCA.jpg

এবার অর্জুন তার শিক্ষা প্রদর্শন করতে শুরু করলো। অর্জুন আগুন-পানি বায়ু প্রভৃতি অস্ত্রের প্রয়ােগ দেখালেন। একটি ঘূর্ণমান লোহার শুকরের মুখে একসাথে পাঁচটি বাণ নিক্ষেপ করলেন, খড়্গ আর গদা হাতে বিবিধ কৌশল দেখালেন। দর্শকগণ অর্জনের নানাপ্রকার প্রশংসা করতে লাগল।


https://i.imgur.com/VUU9S7X.jpg


অর্জুনের কৌশলপ্রদর্শন শেষ হয়ে এসেছে এমন সময় সেখানে কবচকুণ্ডলশােভিত মহাবিক্রমশালী কর্ণ উপস্থিত হলেন। অর্জুন যে তাঁর ভাই তা তিনি জানতেন না। কর্ণ বললেন অর্জুন যাযা করে দেখিয়েছে তিনিও তাই তাই করে দেখাবেন। এই বলে তিনি দ্রোণের অনুমতি নিয়ে অর্জুন যা যা করেছিলেন তাই করে দেখালেন।

দুর্যোধন আনন্দিত হয়ে কর্ণকে আলিঙ্গন করে বললেন- তােমাকে স্বাগত জানাচ্ছি, তুমি এই কুররাজ্য ইচ্ছামত ভােগ কর।
কর্ণ বললেন- আমি তােমার সখা চাই, আর অর্জুনের সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করতে চাই।
দুর্যোধন বললেন- তুমি সখা হয়ে আমার সঙ্গে সমস্ত ভােগ কর আর শত্রুদের মাথায় পা রাখ।
অর্জুন কর্ণকে অপমান করার জন্য বললো কর্ণ অনাহূত হয়ে এসেছে এবং অনাহূত হয়ে কথা বলেছে তাই অর্জুন তাঁকে অনাহূতদের নরকে পাঠাবে।
কর্ণ বললেন- এই রঙ্গভূমিতে সকলেরই আসবার অধিকার আছে। মুখে কথা না বলে যুদ্ধ করো।

দ্রোণের অনুমতি নিয়ে অর্জুন তাঁর ভাইদের সঙ্গে কর্ণের সম্মুখীন হলেন, দুর্যোধন ও তাঁর ভাইয়েরা কর্ণের পক্ষে গেলেন।
ইন্দ্র ও সূর্য নিজ নিজ পুত্রকে দেখতে এলেন, অর্জনের উপর মেঘের ছায়া এবং কর্ণের উপর সূর্যের কিরণ পড়ল। দ্রোণ কৃপ ও ভীষ্ম অর্জুনের পক্ষে গেলেন।

কুন্তী কর্ণকে নিজের ছেলে বলে চিনতে পারলেন। দুই পুত্রকে সশস্ত্র দেখে কুন্তী বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন। এই সময়ে কৃপাচার্য কর্ণকে বললেন, অর্জুন কুরুবংশজাত, পাণ্ডু ও কুন্তীর পুত্র, ইনি তােমার সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করবেন। কর্ণ, তুমি কে? তােমার মাতা পিতার কুল কি? কোন রাজবংশের ছেলে তুমি? তােমার পরিচয় পেলে অর্জুন যুদ্ধ করা বা না করা স্থির করবেন, রাজপুত্রেরা তুচ্ছকুলশীল প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে যুদ্ধ করেন না। কৃপের কথায় কর্ণ লজ্জায় মাথা নত করলেন। তখন দুর্যোধন বললেন, আচার্য, অর্জুন যদি রাজা ভিন্ন অন্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না চান তবে আমি কর্ণকে অঙ্গরাজ্যে অভিষিক্ত করছি। এই বলে দুর্যোধন তখনই কর্ণকে অভিষিক্ত করলেন।

এমন সময় কর্ণের পালকপিতা অধিরথ ঘর্মাক্ত ও কম্পিত দেহে সেখানে প্রবেশ করলেন। তাঁকে দেখে কর্ণ নতমস্তকে প্রণাম করলেন। তাই দেখে ভীম বললেন, সুতপত্র, তুমি অর্জনের হাতে মরবার যােগ্য নও, তুমি কশা হাতে নিয়ে কুলধর্ম পালন কর।  যজ্ঞের খাবার যেমন কুকুর খেতে পারে না, তুমিও অঙ্গরাজ্য ভােগ করতে পার না।

দুর্যোধন বললেন, ভীম, এমন কথা বলা তােমার উচিত হয় নি। দ্রোণাচার্য কলস থেকে এবং কৃপাচার্য শরস্তম্ব থেকে জন্মেছিলেন, আর তােমাদের জন্মবত্তান্তও আমার জানা আছে। কবচকুণ্ডলধারী কর্ণ নীচ বংশে জন্মাতে পারেন না। কেবল অঙ্গরাজ্য নয়, সমস্ত পৃথিবীই ইনি ভােগ করবার যােগ্য।

এই সময়ে সুর্যাস্ত হল। দুর্যোধন কর্ণের হাত ধরে সেখান থেকে চলে গেলেন। পাণ্ডবগণ, দ্রোণ, কৃপ, ভীষ্ম প্রভৃতিও নিজ নিজ ভবনে চলে গেলেন। কর্ণ অঙ্গরাজ্য পেলেন দেখে কুন্তী আনন্দিত হলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৪

Re: মহাভারতের গপ্পো

দ্রোণাচার্য তার শিষ্যদের ডেকে বললেন যে তাদের সমস্ত শিক্ষা শেষ হয়েছে, এখন তাকে গুরুদক্ষিণা দিতে হবে। তাঁদেরকে যুদ্ধ করে পাঞ্চালরাজ দ্রুপদকে পরাজিত করে জীবন্ত ধরে নিয়ে নিয়ে আসতে হবে গুরুদক্ষিণা হিসেবে।

রাজকুমাররা দ্রোণাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সসৈন্যে পাঞ্চাল রাজ্য আক্রমণ করলেন। দ্রুপদ রাজা ও তাঁর ভাইয়েরা রথা নিয়ে ছুটে এসে কৌরবদের দিকে তীর বর্ষণ শুরু করলো। দুর্যোধন ভাইয়েরা যুদ্ধ শুরু করলো। তখন অর্জুন তার ভাইয়েদর নিয়ে নগর থেকে অর্ধ ক্রোশ দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অর্জুন দ্রোণকে জানালো দুর্যোধনরা দ্রুপদকে বন্দী করতে পারবে না। দুর্যোধনরা যখন ব্যর্থ হবে তখন অর্জুনরা যুদ্ধে নামবে।

দ্রুপদের তীরবর্ষণে দুর্যোধনরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেলো। তাঁদের সৈন্যের উপর নগরবাসীরা মুগুর আর লাঠি নিক্ষেপ করতে লাগলো। কৌরবদের মার খেয়ে আর্তচিৎকার করতে লাগলো।
যুধিষ্ঠিরকে পঞ্চপাণ্ডবভ্রাতারা যুদ্ধ করতে নিষেধ করলো। ভীম যমের মত গদা হাতে ঝাপিয়ে পড়লেন। পাঞ্চালরাজের হাতি, সৈন্য, ঘোড়া, রথ প্রভৃতি ধংস করতে লাগলেন। তারপর অর্জুনের সঙ্গে দ্রুপদের এবং তাঁর ভাই সত্যজিতের ভীষণ যুদ্ধ হল। অর্জুনের শরাঘাতে সত্যজিতের ঘোড়া মারা পরলে সত্যজিৎ পলিয়ে গেল। তখন অর্জুন দ্রুপদকে ধরে ফেললো আর পাঞ্চাল সৈন্যরা যে যেদিকে পারলো পালাতে শুরু করলো। দ্রুপদকে ধরে অর্জুন ভীমকে দ্রুপদের সৈন্যদের আর হত্যা করতে নিষেধ করলো, কারণ দ্রুপদ রাজা ছিলো কূরবদের আত্মিয়। আর গুরুদক্ষিণা দেবার জন্য শুধু দ্রুপদকে জীবিত ধরে নিলেই হবে।

রাজকুমারা দ্রুপদ আর তাঁর অমাত্যকে ধরে এনে দ্রোণকে গুরুদক্ষিণা উপহার দিলেন।
দ্রোণ বললেন, দ্রুপদ, আমি তােমার রাষ্ট্র দলিত করে রাজপুরী অধিকার করেছি, তােমার জীবনও আমার হাতে, এখন আমিই এই রাজ্যের রাজা। আমি ক্ষমাশীল ব্রাহ্মণ। তুমি ছোটোবেলায় আমার সঙ্গে খেলেছিলে, সেজন্য তােমার প্রতি আমার স্নেহ আছে। অরাজা রাজার বন্ধু হতে পারে না, তােমাকে আমি আমার অর্ধেক রাজ্য দিচ্ছি, এবার তুমি চাইলে আমার বন্ধু হতে পারো।
দ্রুপদ সাথে সাথে দ্রোণাচার্যের প্রস্তাব মেনে নিয়ে তার সাথে বন্ধুত্ব স্বীকার করে নিলো। তখন দ্রোণাচার্যও সন্তুষ্ট হয়ে দ্রুপদকে মুক্তি দিলেন।

গঙ্গার দক্ষিণে চর্মন্বতী নদী পর্যন্ত দেশ দ্রুপদকে দেয়া হলো, দ্রোণাচার্য গঙ্গার উত্তরে অহিচ্ছত্র দেশ নিলেন। কিন্তু মনঃক্ষুন্ন দ্রুপদ পুত্রলাভের জন্য চেষ্টা করতে লাগলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৫

Re: মহাভারতের গপ্পো

এক বৎসর পরে ধৃতরাষ্ট্র যুধিষ্ঠিরকে যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা করেন। নানান গুণে যুধিষ্ঠির তাঁর পিতা পাণ্ডুর চেয়েও বেশী লোকপ্রিয়তা পেলো।

ভীম বলরামের কাছে অসিযুদ্ধ গদাযুদ্ধ ও রথযুদ্ধ শিখলো। অর্জুন নানাবিধ অস্ত্রের প্রয়ােগে আরো দক্ষ হয়ে উঠলো। সহদেব সর্বপ্রকার নীতিশাস্ত্রে অভিজ্ঞ হলো। দ্রোণের শিক্ষার ফলে নকুলও শক্তিশালী যোদ্ধা হয়ে উঠলো। পাণ্ডরা যুদ্ধ করে বহু দেশ জয় করে নিজেদের রাজ্য বিস্তার করলেন।

পাণ্ডবদের বিক্রমের খবর শুনে ধতরাষ্ট্র দুশ্চিন্তায় পরে গেলো। তিনি মন্ত্রিশ্রেষ্ঠ রাজনীতিজ্ঞ [sb]কণিক[/sb]কের কাছে জানতে চাইলেন এখন পাণ্ডবদের সাথে শত্রুতা করবেন নাকি ওদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।

https://i.imgur.com/sIg8wRR.jpg

কণিক বললেন- মহারাজ, উপযুক্ত সময় না আসা পর্যন্ত অমিত্রকে কলসের ন্যায় কাঁধে বইবেন, তার পর সুযােগ এলেই তাকে পাথরের উপর আছড়ে ফেলবেন। যাঁকে দারুণ কর্ম করতে হবে তিনি বিনীত হয়ে হাস্যমুখে কথা বলবেন, কিন্তু হদয়ে ক্ষুরধার থাকবেন। মৎস্যজীবী যেমন বিনা অপরাধে মৎস্য হত্যা করে, সেইরূপ পরের মর্মচ্ছেদ ও নিষ্ঠর কর্ম না করে বিপুল ঐশ্বর্যলাভ হয় না। কুররাজ, আপনি সকলের শ্রেষ্ঠ; নিজেকে রক্ষা করুন, যেন পাণ্ডবরা আপনার অনিষ্ট না করে; এমন উপায় করুন যাতে শেষে অনুতাপ করতে না হয়।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৬

Re: মহাভারতের গপ্পো

পাণ্ডবদের হত্যা করার জন্য দুর্যোধন তাঁর মামা সুবলপুত্র শকুনি ও কর্ণের সঙ্গে পরামর্শ করলো। দুর্যোধন ধুতরাষ্ট্রকে বললেন, আপনি অন্ধ বলে রাজ্য পান নি, পাণ্ডু পেয়েছিলেন। কিন্তু পাণ্ডুর পুত্ররাই যদি বংশানুক্রমে রাজ্য পায় তবে আমাদের বংশ উপেক্ষিত হয়ে থাকবে। আপনি কৌশল করে পাণ্ডবদের বারণবতে পাঠিয়ে দেন, তা হলে আমাদের আর ভয় থাকবে না।

https://i.imgur.com/uW3GJp8.jpg

দুর্যোধন আরো জানালো সে অর্থ আর সম্মান দিয়ে প্রজাদের বশ করেছে, ধনাগারও তাঁর হাতে। ভীষ্মের কোনও পক্ষপাত নেই, অশ্বথামা দুর্যোধনের পক্ষে আছেন, দ্রোণও পুত্রের অনুসরণ করবেন, কৃপও তাঁর ভাগিনার সাথে আসবে। শুধু বিদুর পাণ্ডবদের পক্ষে থাকবে।

https://i.imgur.com/SJrcMF7.jpg

ধৃতরাষ্ট্রের কয়েকজন মন্ত্রী পাণ্ডবদের কাছে গিয়ে জানালো বারণাবত অতি মনােরম নগর, সেখানে পশুপতির উৎসব উপলক্ষ্যে এখন বহু লােকের সমাগম হয়েছে। এইসব শুনে পাণ্ডবদের বারণাবত যাবার ইচ্ছা হল। ধৃতরাষ্ট্রও পাণ্ডবদের বারণাবত যাওয়ার জন্য বললেন। যুধিষ্ঠির মাতা ও ভাইদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করলেন বারণাবতের পথে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৭

Re: মহাভারতের গপ্পো

দুর্যোধন পরােচন নামক মন্ত্রীকে দ্রুতগামী রথে তখনই বারণাবতে পাঠিয়ে দিলেন। আর বলে দিলেন বারাণাতে গিয়ে শণ, সরস (ধনা) প্রভৃতি দিয়ে একটি সুসজ্জিত গৃহ নির্মাণ করতে হবে। মাটির সঙ্গে প্রচুর ঘী, তৈল, বসা জতু (গালা) মিশিয়ে তার দেওয়ালে লেপ দিয়ে এবং চতুর্দিকে কাঠ, তেল ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ এমন করে রাখতে হবে যাতে পাণ্ডবরা বুঝতে না পারে। পাণ্ডবদের সমাদর করে সেখানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছুদিন পরে যখন তারা নিশ্চিন্তমনে নিদ্রামগ্ন থাকবে তখন সেই ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে হবে। পুরােচন তখনই দুর্যোধনের আদেশ পালন করতে বারণাবতে চলে গেলেন।


বুদ্ধিমান বিদুর দুর্যোধনের কুমতলব বুঝতে পেরেছিলেন। বিদুর ও যুধিষ্ঠির দুজনেই ম্লেচ্ছভাষা জানতেন। যুধিষ্ঠিরের যাত্রাকালে বিদুর শ্লেচ্ছভাষায় তাঁকে বললেন, শত্রুর অভিসন্ধি যে জানে সে যেন বিপদ থেকে নিস্তারের উপায় করে। লৌহ ভিন্ন অন্য অস্ত্রেও প্রাণনাশ হয়। অগ্নিতে শষ্ক বন দগ্ধ হয় কিন্তু গর্তবাসীর হানি হয় না। মানুষ শজারর ন্যায় গর্ত পথে পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারে। যে লােক নক্ষত্র দ্বারা দিক নির্ণয় করতে পারে এবং পথ চিনে রাখে সে নিজেকে এবং আরও পাঁচজনকে বাঁচাতে পারে। যুধিষ্ঠির উত্তর দিলেন, বুঝেছি

পথে যেতে যেতে কুন্তী যুধিষ্ঠিরকে কাছে জানতে চায় বিদুর অবােধ্য ভাষায় কি বলেছেন। যুধিষ্ঠির জানায় যে বিদুর বলেছেন আমাদের ঘরে আগুন লাগবে, পালাবার জন্য সকল পথই যেন আমরা চিনে রাখি।

পাণ্ডবগণ বারণাবতে পৌছালে পরােচন মহাসমাদরে তাঁদের এক বাসভবনে নিয়ে গিয়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। দশ দিন পর পাণ্ডবদের অন্য আরেকটি ভবনে নিয়ে গেলেন। যুধিষ্ঠির সেখানে গিয়ে ঘী, বসা ও লাক্ষার গন্ধ পেয়ে ভীমকে বললেন, এই ঘর আগ্নেয় পদার্থ দিয়ে প্রস্তুত করেছে, পাপী পােচন আমাদের দগ্ধ করতে চায়। আমরা যদি পালিয়ে যাই তবে দুর্যোধনের চরেরা আমাদের হত্যা করবে। আমরা এই জতুগৃহের মেঝেতে গর্ত করে তার ভিতরে বাস করব। পরোচন জতুগৃহের দরজার পাশেই নিজের ঘর বানিয়ে ঘুমাতো।

সেই সময়ে বিদুরের পাঠানো একজন লোক এসে নিজের পরিচয় দিয়ে জানালো সে খুব নিপুন ভাবে খনন কার্য করতে পারে।যুধিষ্ঠির তাকে ঘরের ভিতর থেকে লম্বা একটি সুরঙ্গ তৈরি করতে বললো। লোকটি সেই মতে একটি দীর্ঘ্য সুরঙ্গ প্রস্তুত করলো এবং সুরঙ্গের দুই দিক সুনিপুন ভাবে মাটির সমান করে লুকিয়ে রাখলো।

পাণ্ডবরা দিনের বেলা শিকারে যাবার নাম করে সমস্ত পথ চিনে নিতে লাগলো এবং রাতে সশস্ত্র ও সতর্ক হয়ে সুরঙ্গের মধ্যে বাস করতে লাগলো। এভাবে এক বছর কেটে গেলো। একদিন কুন্তী ব্রাহ্মণভােজন করালেন, অনেক স্ত্রীলােকও এলো, একজন মহিলা তার পাঁচ ছেলেকে নিয়ে খেতে এসেছিল, তারা প্রচুর মদ্যপান করে মৃতপ্রায় হয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লো। তখন ভীম পরােচনের শয়নগৃহে, জতুগৃহের চতুর্দিকে আগুন লাগিয়ে দিলেন। সকলে মনে করলো পঞ্চপাণ্ডব ও কুন্তী আগুনে পুরে মারা গেছে। হস্তিনাপুরে সংবাদ গেলে ধৃতরাষ্ট্রের কাছে। তিনি কুন্তী ও পঞ্চপাণ্ডবের অন্ত্যেষ্টির জন্য বারণাবতে লােক পাঠালেন।

https://i.imgur.com/fm1h2Hn.jpg

অন্য দিকে পঞ্চপাণ্ডব ও কুন্তী সুরঙ্গে প্রবেশ করলেন। তারা সুরেঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে এলেন। মহাবল ভীম কুন্তীকে কাঁধে এবং নকুল-সহদেবকে কোলে নিয়ে যুধিষ্ঠির-অর্জুনের হাত ধরে বনের পথে চললেন। বিদুরের একজন বিশ্বস্ত অনুচর পাণ্ডবগণকে গঙ্গা পার করে দিলো।

https://i.imgur.com/Sy9aQ8h.jpg

নৌকা থেকে নেমে পাণ্ডবরা নক্ষত্র দেখে পথনির্ণয় করে দক্ষিণ দিকে যেতে লাগলেন। দুর্গম দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে পরদিন সন্ধ্যাকালে তারা একটি ভয়ঙ্কর বনে উপস্থিত হলেন। ক্লান্ত হয়ে সকলে সেখানে ঘুমিয়ে পরলো। শুধু ভীম জেগে থেকে নানা প্রকার চিন্তা করতে লাগলেন।

https://i.imgur.com/O1vam9w.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (১২-০১-২০২২ ১৮:০৮)

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/5bMKgs4.jpg

কুন্তী ও যুধিষ্ঠিররা যেখানে ঘুমাচ্ছিলেন তার কাছেই একটি শালগাছের উপর ভয়ংকর আকারের হিড়িম্ব নামে এক রাক্ষস ছিল।  পাণ্ডবদের দেখে এই রাক্ষসের মনুষের মাংস খাবার ইচ্ছা হল, সে তার বোন হিড়িম্বাকে বললো মানুষ গুলিকে ধরি নিয়ে আসতে।

https://i.imgur.com/ZVIDQh4.jpg

ভাইয়ের কথা শুনে হিড়িম্বা পাণ্ডবদের কাছে এসে দেখলো একজন ছাড়া সকলেই ঘুমাচ্ছে। ভীমকে দেখে হিড়িম্বার খুর পছন্দ হয়ে গেলো। ভীমকে সে তার স্বামী হবার যােগ্য মনে করলো। ভ্রাতৃস্নেহের চেয়ে পতিপ্রেমই বড়। হিড়িম্বা তখন সুন্দরী রূপসী সালংকারা নারীর রূপ ধারণ করে ভীমকে বললো- আপনি কে, কোথা থেকে এসেছেন? এই ঘুমন্ত দেবতুল্য পুরুষরা এবং এই রমণী এরা কারা? এই বনে আমার রাক্ষস ভাই হিড়িম্ব থাকে, সে আপনাদের মাংস খেতে চায়। আপনাকে দেখে আমি মােহিত হয়েছি, আপনি আমার স্বামী হন। আমি আকাশচারিণী, আপনাকে সঙ্গে নিয়ে এখানে থেকে পালিয়ে যেতে পারবো।
ভীম বললেন-  ঘুমন্ত এরা আমার ভাই ও মা। এদের রাক্ষসের কবলে ফেলে আমি পালাবো না।
হিড়িম্বা বললো-  এদের জাগান, আমি সকলকে রক্ষা করবো।
ভীম বলেন- এরা সুখে নিদ্রা যাচ্ছেন, আমি এখন জাগাতে পারব না। রাক্ষস বা গন্ধর্ব সকলকেই আমি পরাস্ত করতে পারি। তুমি যাও বা থাকো বা তােমার ভাইকে এখানে পাঠিয়ে দাও।

https://i.imgur.com/RJAcMna.jpg

হিড়িম্বার ফিরতে দেড়ি হচ্ছে দেখে হিড়িম্ব দ্রুত পাণ্ডবদের কাছে আসলো। হিড়িম্ব এসে দেখলে, তার বোন সুন্দরী নারীর রূপ ধরে ভীমের সঙ্গে কথা বলছে। সে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বোনকে গালি-গালাজ করতে লাগলো। তখন ভীম রাক্ষসকে বললো তােমার বোনের দোষ নেই, শরীরের ভিতরে যে কামদেব আছেন তাঁর কারণে ও আমার প্রতি আসক্ত হয়েছে। তারপর ভীম আর হিড়িম্বের মধ্যে বাহুযুদ্ধ আরম্ভ হল। যুদ্ধের শব্দে সকলেই জেগে উঠলেন। শেষে ভীম রাক্ষসকে তুলে ধরে ঘোরাতে লাগলেন এবং তারপর মাটিতে ফেলে নিষ্পিষ্ট করে হত্যা করলেন।

https://i.imgur.com/lnwChSQ.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৬৯

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/nevhaGf.jpg

হিড়িম্বা কুন্তীকে নিজের পরিচয় দিয়ে জানালো যে সে ভীমকে পছন্দ করে ফেলেছে। কিন্তু ভীম তখন হিড়িম্বাকে হত্যঅ করতে উদ্ধত হলে, তখন যুধিষ্ঠির ভীমকে থামালেন। হিড়িম্বা কুন্তীর কাছে কাকুতি করে বললো যে সে তার স্বজনদের ছেড়ে এসেছে ভীমকে প্রতি রূপে বরন করতে বলে। ভীম প্রত্যাখ্যান করলে সে বাঁচবে না। ভীমের সাথে মিলিতো করে দিলে সে ভীমকে নিয়ে ইচ্ছামতো বিচরণ করা শেষে আবার তাকে এখানে ফিরিয়ে দিবে। এবং পরবর্তীতে কোনো দরকার পরলে তাকে মনে মনে ভাবলেই সে উপস্থিত হবে। 

https://i.imgur.com/Fgvyx6S.jpg

যুধিষ্ঠির বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের মিলনে মত দিলেন। তবে শর্ত হচ্ছে ভীম স্নান আহ্নিক করে হিড়িম্বা সঙ্গে মিলিত হবেন এবং সূর্যাস্ত হলেই ভাইদের কাছে ফিরে আসবেন। ভীম হিড়িম্বাকে বললেন, যত দিন হিড়িম্বার পুত্র না হয় ততো দিন ভীম হিড়িম্বার সঙ্গে থাকবেন! হিড়িম্বা সম্মত হয়ে ভীমকে নিয়ে আকাশপথে চলে গেল।

কিছুকাল পরে হিড়িম্বার একটি ভীষণাকার বলবান পুত্র হল। রাক্ষসীরা গর্ভবতী হয়েই সাথে সাথে প্রসব করে। হিড়িম্বার পুত্র জন্মাবার পরেই যৌবনলাভ করে সর্বপ্রকার অস্ত্রপ্রয়ােগে দক্ষ হল। তার মাথা ঘটের মত এবং চুল খাড়া সেজন্য হিড়িম্বা পুত্রের নাম রাখলে ঘটোৎকচ

https://i.imgur.com/5gA93cZ.jpg

কুন্তী ও পাণ্ডবদের প্রণাম করে ঘটোৎকচ বললো- আমাকে কি করতে হবে আজ্ঞা করুন।
কুন্তী বললেন- তুমি কুরকুলে জন্মেছো, তুমি সাক্ষাৎ ভীমের তুল্য এবং পঞ্চপাণ্ডবের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তুমি আমাদের সাহায্য করাে। ঘটোৎকচ বললো-  প্রয়ােজনে আমাকে মনে করলেই আমি উপস্থিত হব। এই বলে সে উত্তর দিকে চলে গেল।

https://i.imgur.com/ZgMaTrF.jpg

পাণ্ডবরা তপস্বীর ছদ্মবেশে নানান দেশের ভিতর দিয়ে চললেন। যেতে যেতে পিতামহ ব্যাসের সঙ্গে তাঁদের দেখা হল। ব্যাস বললেন, আমি তােমাদের সমস্ত খবরই জানি। যত দিন আমার সঙ্গে আবার দেখা না হয় তত দিন তােমরা নিকটস্থ ঐ নগরে ছদ্মবেশে বাস কর।  এই বলে ব্যাস পাণ্ডবদের একচক্রা নগরে এক ব্রাহ্মণের ঘরে রেখে এলেন।

https://i.imgur.com/8tLzNK8.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।