টপিকঃ থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ কী?

যদিও শরীরের সব গ্ল্যান্ডেই টিউমার হতে পারে তবু থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের টিউমার ও ক্যান্সার আলাদা গুরুত্ব দাবী করে। কারণ বর্তমানে এই টিউমার সারা বিশ্ব জুড়েই খুব বেশি সংখ্যায় হচ্ছে। তাছাড়া এই ক্যান্সারের কয়েকটি বিশেষ দিক আছে যা অন্যান্য ক্যান্সারের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। যেমন, এই ক্যান্সারের সঙ্গে বয়সের একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। ৪৫ বছরের কম বয়সী কোও মানুষের ক্ষেত্রে চিকিত্সার ফলাফল খুবই ভাল। এইরকম ক্ষেত্রে ঠিক মতো চিকিত্সা করতে পারলে রোগ সম্পূর্ণ রূপে সেরে যায়।

https://qph.fs.quoracdn.net/main-qimg-f440749e969a8afc201f8f54311b18a7-lq

দেখা গেছে, ৪৫ বছরের কম বয়সী থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই সুস্থ হয়ে ওঠেন। এর চেয়ে বেশি বয়সে রোগ হলে তার চিকিত্সার ফলাফলও ভাল, তবে প্রথমটির মতো নয়। এটা একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল বেশিরভাগ থাইরেয়ড টিউমারই আদতে ক্যান্সার নয়। দেখা গেছে, ১০টি থাইরয়েড টিউমারের মধ্যে মাত্র ১-২টি টিউমার ক্যান্সারে পর্যবসিত হয়। সুতরাং থাইরেয়ড টিউমার হলেই ক্যান্সার ভেবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে অর্থাৎ, তাড়াতাড়ি অন্য জায়গায়, যেমন, লিম্ফ নোডে পৌঁছায় না।

প্রকৃতিতে সবচেয়ে খারাপ প্রকৃতির যে থাইরেয়ড ক্যান্সার তার নাম অ্যানাপ্লাস্টিক ক্যান্সার অফ থাইরয়েড। এই আগ্রাসী ক্যান্সার গলার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই সঙ্গে শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও ছড়ায়। এটাই একমাত্র থাইরয়েড ক্যান্সার যার চিকিত্সা করেও সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হয় না। তবে খুশির কথা এটাই যে এরা খুবই বিরল প্রকৃতির। খুব কম ক্ষেত্রেই এই ক্যান্সার হয়।

লক্ষণ

থাইরয়েড গ্ল্যান্ড গলার ভয়েস বক্সের নিচে এবং শ্বাসনালি বা ট্র্যাকিয়ার সামনে থাকে। এখন এই অংশে কোনও টিউমার হলে বাইরে থেকে বোঝা যায়। হাত দিয়ে অনুভবও করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি আয়নার সামনে দাঁড়ালেই এর অস্তিত্ব বুঝতে পারবেন। ঢোক গিললে টিউমারটি ওপরের দিকে উঠে যাবে। কারণ যে স্ট্রাকচারের সঙ্গে এটি জড়িত (যেমন, খাদ্যনালি বা শ্বাসনালি) ঢোক গিললেই সেই গোটা স্ট্রাকচারটি ওপরে দিকে উঠে যায়। তাই থাইরয়েড টিউমার হয়েছে কিনা জানতে আপাত বিচারে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

ব্যথা- কোনও ব্যথা হয় না। এটাই থাইরয়েড ক্যান্সারের বড় লক্ষ্ণণ। তবে টিউমারটি আকারে যত বড় হতে থাকে তত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। আর একটি ব্যাপার হল অনেক সময় গলার চারদিকে লিম্ফ নোড বিচির মতো ফুলে ওঠে। এটাকেও ক্যান্সারের লক্ষ্মণ বলে ধরতে হবে।


গলার আওয়াজে পরিবর্তন- থাইরয়েড ক্যান্সার হলে গলার আওয়াজে পরিবর্তন আসে। আর সেটা লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন। আসলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড একটি বদ্ধ জায়গায় থাকে যার আশে পাশে থাকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং রেকারেন্ট ল্যারিঞ্জিয়াল নার্ভ। এই নার্ভটি স্বরযন্ত্রের মধ্যে গিয়ে ঢুকে ভোকাল কর্ডের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং ল্যারিঞ্জিয়াল নার্ভের ওপরে চাপ পড়লে গলার আওয়াজ বদলে গিয়ে ফ্যাশফ্যাশে হয়ে যায়। কারণ তখন ভোকাল কর্ড ঠিক মতো নড়াচড়া করতে পারে না।

অন্য সমস্যা- কিছু অন্য সমস্যাও হয়। যেমন, টিউমারটি যদি শ্বাসনালিতে চাপ দেয় তাহলে শ্বাসকষ্ট হয়। অন্যদিকে টিউমার খাদ্যনালিতে চাপ দিলে গিলতে অসুবিধে হয়। এখানে একটা কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে একমাত্র অস্বাভাবিক ভাবে বড় না হয়ে উঠলে নন-ক্যান্সারাস সাধারণ টিউমার কিন্তু এই ধরনের কোনও চাপ দেয় না। দেখা গেছে সাধারণ ভাবে ক্যান্সারাস টিউমারের ক্ষেত্রেই ওই ঘটনাগুলি ঘটার সম্ভাবনা বেশি। এইরকম হলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেবেন।

কৃতজ্ঞতা- বিশিষ্ট অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ গৌতম মুখোপাধ্যায়

#সংগৃহীত

"We want Justice for Adnan Tasin"