টপিকঃ ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে জঘন্য শাসক কে? হিটলার এবং দ্যা হলোকাস্ট !

https://qph.fs.quoracdn.net/main-qimg-66d1f87319c038b3ba5593f0da65b89e-mzj


দ্যা হলোকাস্ট, যা শোহা নামেও পরিচিত , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় 1941 থেকে 1945 এর মধ্যে ইউরোপীয় ইহুদিদের ওপর চালানো হয়েছিল এই গণহত্যা। হত্যাকাণ্ডগুলো Mass Shooting , কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে অমানবিক শ্রমে বাধ্য করে , এবং গ্যাস চেম্বারে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল। হিটলারের বাহিনী পঞ্চাশ লক্ষ ইহুদি ছাড়াও সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, সাম্যবাদী, রোমানী ভাষাগোষ্ঠীর (যাযাবর) জনগণ, অন্যান্য স্লাভীয় ভাষাভাষী জনগণ, প্রতিবন্ধী, সমকামী পুরুষ এবং ভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষদের ওপর এই অমানবিক গণহত্যা পরিচালনা করে।

কেন হিটলার কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প নির্মাণ করেন :

জার্মানিতে হাজার হাজার নাৎসি বিরোধীদের দমন করার নিমিত্তে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প সিস্টেমের উদ্ভব হয়।হিটলার চেয়েছিলেন রাষ্ট্রের সকল সম্ভাব্য শত্রুদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারারুদ্ধ করতে ।পাশাপাশি জনসাধারণ এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতার আড়ালে হত্যার মাধ্যমে কোনো ছোট গোষ্ঠী বা লক্ষ্যযুক্ত ব্যক্তিদের নির্মূল করতে ।বন্দি জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে জোরপূর্বক শ্রম আদায় করা। এই উদ্দেশ্যটি শ্রমিকের ঘাটতি থেকে ঘটেছে ।

কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পের প্রকারভেদ :

Concentration camps: বেসামরিক নাগরিকদের আটকের জন্য নির্মিত যাদের "রাইখের শত্রু" হিসাবে দেখা হয়।
Forced-labor camps: জোরপূর্বক শ্রম শিবিরে নাৎসি সরকার অর্থনৈতিক লাভের জন্য এবং শ্রমিকের ঘাটতি মেটাতে বন্দীদের নিষ্ঠুরভাবে খাটায়। বন্দীদের সেখানে যথাযথ সরঞ্জাম, পোশাক, পুষ্টি, বা বিশ্রামের অভাব ছিল।
Transit camps: ট্রানজিট ক্যাম্প নির্বাসনের অপেক্ষায় থাকা ইহুদিদের জন্য অস্থায়ী হোল্ডিং সুবিধা হিসেবে কাজ করে। এই শিবিরগুলি সাধারণত একটি হত্যা কেন্দ্রে নির্বাসনের আগে শেষ স্টপ ছিল।
Prisoner-of-war camps: পোলস এবং সোভিয়েত সৈন্যসহ যুদ্ধবন্দী মিত্রদের জন্য।
Killing centers: প্রাথমিকভাবে বিপুল সংখ্যক লোকের assembly-line style হত্যার জন্য প্রতিষ্ঠিত। প্রাথমিকভাবে ইহুদিদের হত্যার জন্য ৫ টি হত্যা কেন্দ্র ছি।
কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পের গল্প :

ইসরাইলের নাগরিক কোরিস্কিকে ১৯৪৪ সালে নাৎজি বাহিনী লিথুনিয়া থেকে ধরে নিয়েছিল , যখন তার বয়স ১৬ বছর ছিল। 9২ বছর বয়সী এই ইসরায়েলি নাগরিক জার্মানিতে ব্রুনো ডি এর বিচারের সাক্ষ্য দিতে যান। ব্রুনো ডি একজন সাবেক এসএস সদস্য যিনি 5,230 হত্যার জন্য অভিযুক্ত। তিনি সেখানে তুলে ধরেন নির্যাতনের চিত্র |

কোরিস্কি বলেছিলেন যে এসএস গার্ডরা বন্দীদের অকল্পনীয় নির্যাতনের দৃষ্টান্ত রেখেছিল যেখানে একটি ছেলে অন্য বন্দীদের সামনে তার বাবাকে মারতে বাধ্য হয়েছিল।

কোরিস্কি বলেন, এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, ব্যারাকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কারণে ক্যাম্পের গ্যাস চেম্বারে মানুষ মারা যাচ্ছিল। তিনি যোগ করেন যে তার কাজ ছিল শ্মশান পরিষ্কার করা, যার অর্থ হাড় এবং অন্যান্য পোড়া অবশিষ্টাংশগুলি একটি ঠেলাগাড়িতে করে একটি গর্তে নিক্ষেপ করা ।

ক্যাম্পের নারীরা :

ঐতিহাসিক Regina Mühlhäuser উল্লেখ করেছেন, জোরপূর্বক চুল কামানো, উলঙ্গ করা এবং যৌনাঙ্গ পরিদর্শন করানো হতো।

ক্যাম্প রুটিন পদ্ধতি চলাকালীন, পুরুষরা কেবল মহিলাদের সাথে শুধু অপ্রীতিকর ব্যবহারই করেননি, বরং পুরুষরা তাদের স্তন এবং যৌনাঙ্গ স্পর্শ করতো । কিছু ভুল কাজের জন্য মহিলাদের শাস্তি দিতে এবং অন্য মহিলাদের ভয় দেখানোর লক্ষ্যে যৌন নিপীড়ণের ঘটনাও ঘটেছে।

জার্মানরা বা তাদের সহযোগীরা ব্যারাকে , বাড়িতে বা কর্মস্থলে নারীদের গণধর্ষণ করতো । অপরাধ গোপন করার জন্য, তারা প্রায়ই তাদের হত্যা করত। যারা প্রতিরোধ করতো তাদের মারধর বা হত্যা করা হতো । কিছু মেয়ে এবং তরুণীদের বিশেষভাবে যৌন নির্যাতনের জন্য বেছে নেওয়া হতো ।

এডমন্ড বাউমভাল্ড, হোলোকাস্ট বেঁচে যাওয়া লভিভের জনোস্কা ক্যাম্পের স্মৃতিচারণ করেন যে শিবিরের নেতৃত্বের একজন সদস্য ইহুদি নবাগতদের তাদের সম্পদ নিতে বাধ্য করেছিল। এক তরুণী তা করতে অস্বীকার করেন। অবাধ্যতার জন্য, তিনি তাকে তার স্কার্ট পিছন থেকে তুলে দিতে বাধ্য করেন এবং তারপর তাকে যৌনাঙ্গে আঙ্গুলি করেন।

অত্যাচারের শিকার হতো শিশুরাও :

জোসেফ উইটকোস্কি তার বই নাজির Nazi Concentration Camp for Children in Lodz এ উল্লেখ করেছেন তিনি কিভাবে শিশুদের অত্যাচার করেছেন : “তিনি মাতাল হয়ে বন্দীদের অমানবিক নির্যাতন করতে পেরে আনন্দ পেতেন । তিনি বাচাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থানে মারধর ও লাথি মেরেছিলেন, তিনি তাদের বালির বাক্সে চাপা দিয়েছিলেন, পানির ব্যারেলে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন, তাদের একটি পায়ে চেইন দিয়ে ঝুলিয়েছিলেন এবং ব্যবহৃত গাড়ির লুব্রিকেন্ট সহ একটি ট্যাঙ্কে তাদের মাথা নামিয়ে দিয়ে যৌনাঙ্গ কেটেছিলেন। শিশুদের হিল দিয়ে পেটানো এবং বন্দীদের বুকে সিগারেট নিভিয়ে দেওয়া ছিল তার কাছে সাধারণ কাজ ”।

যুদ্ধের পর বন্দীদের কাছ থেকে পাওয়া সাক্ষ্যগুলি অকল্পনীয় অত্যাচারের কথা বলে । সকালের নাস্তার জন্য বাচ্চারা এক টুকরো রুটি এবং আধা লিটার কালো কফি পেত | রাতের খাবারে ছিল বিট পাতা বা বাঁধাকপির সঙ্গে এক লিটার রুটবাগা বা আলুর স্যুপ। কখনও কখনও তাদের এক চামচ মুরব্বা দেওয়া হত। একটি সাধারণ শাস্তি ছিল অভুক্ত রাখা । ফলস্বরূপ, ক্যাম্পের শিশুরা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধায় ভুগছিল। তারা পাখি ও ইঁদুর শিকারে পারদর্শী হয়ে ওঠে , মরা মাছি এবং পোকামাকড় তাদের পানির স্যুপে ছিটিয়ে দেয়া শুরু করে ।

#সংগৃহীত


ফুটনোটগুলি

[1] The Holocaust - Wikipedia
[2] Nazi Camps
[3] Sexual Violence in the Holocaust: Perspectives from Ghettos and Camps in Ukraine | Heinrich Böll Stiftung

"We want Justice for Adnan Tasin"