৪১

Re: মহাভারতের গপ্পো

দেবব্রতের ঘটকালি

পিতাকে  চিন্তাকুল ও মনমরা দেখে দেবব্রত কারণ জানতে চাইলো।
তখন রাজা শান্তনু বললেন - "পুত্র, আমার মহান বংশে তুমিই একমাত্র সন্তান। কিন্তু মানুষ নশ্বর, মরনশীল। তােমার কিছু ঘটে গেলে আমার বংশলােপ পাবে। তুমি শতপুত্রেরও অধিক, সেজন্য আমি বংশ রক্ষার জন্য আবার বিবাহ করতে চাইনা। তােমার মঙ্গল হক এই কামনাই করি। কিন্তু গুণীজনে বলেন- পুত্র না থাকা আর একটিমাত্র পুত্র থাকা একই কথা। তোমার অবর্তমানে আমার বংশের কি হবে এই চিন্তাই আমার দুঃখের কারণ।"

দেবব্রত তখন মন্ত্রীদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে তাঁর পিতার দাসকন্যাকে বিবাহ করতে চাওয়ার বিয়ষটি জানতে পারলো। তাই দেবব্রত মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দাসরাজের কাছে গেলেন এবং পিতার জন্য কন্যা প্রার্থনা করলেন।

দাসরাজা জানালো এই বিয়েতে তার অমত নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজা হবে দেবব্রত, আর সত্যবতীর সন্তানেরা হবে সৎ ভাই দেবব্রতের হুকুমের গোলাম। তাই দাসরাজ তার কন্যাকে রাজার সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি।

https://i.imgur.com/gLQcgb6.jpg

দাসরাজের বক্তব্য শুনে দেবব্রত তাঁকে কথা দিলো সত্যবতীর গর্ভে যে পুত্র হবে সেই রাজত্ব পাবে।
দেবব্রতের এই প্রতিজ্ঞা শুনেও দাসরাজ সন্তুষ্ট হতে পারল না। কারণ দেবব্রত রাজত্ব দাবি না করলেও ভবিষ্যতে তাঁর সন্তানেরা রাজত্ব দাবি করতে পারে।

দাসরাজের এই কথা শুনে দেবব্রত রাজত্ব ত্যাগ করার সাথে সাথে আরো প্রতিজ্ঞা করে যে সে ব্রহ্মচারী হবে, কখনই বিয়ে করবেনা, ফলে তার কোনো পুত্রও হবে না।

দেবব্রতের প্রতিজ্ঞা শুনে এবার দাসরাজ সন্তুষ্ট হয়ে নিজের কন্য সত্যবতীকে রাজা শান্তনুর সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হল। ঠিক তখন আকাশ থেকে অপ্সরা ও দেবতারা পুষ্পবৃষ্টি করে বললেন; এর নাম ভীষ্ম হল।

এবার ভীষ্ম সত্যবতীকে রথে চড়িয়ে হস্তিনাপুরে নিয়ে এলো। ভীষ্ম তার পিতাকে সমস্ত বত্তান্ত জানাল। পুত্রের জাকে খুশী হয়ে শান্তনু পত্রকে বর দিলেন-  "তুমি যতদিন বাঁচতে ইচ্ছা করবে তত দিন তােমার মত্যু হবে না, তােমার ইচ্ছানুসারেই মত্যু হবে।"

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০৫-০৯-২০২১ ১৬:১৫)

Re: মহাভারতের গপ্পো

|চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য

সত্যবতীর গর্ভে চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য নামে শান্তনুর দুই ছেল জন্ম নিল। ছোট ছেলে বিচিত্রবীর্য যৌবনলাভ করার আগেই শান্তনু মারা গেলেন। সত্যবতীর মত নিয়ে ভীষ্ম চিত্রাঙ্গদকে রাজা হিসেবে ঘোষণা করলেন। চিত্রাঙ্গদ ছিলো প্রচন্ড শক্তিশালী এবং অহংকারী। সে মানুষ, দেবতা, অসুর, গর্ন্ধব সকলেই নিকৃষ্ট মনে করতো।

এদিকে গর্ন্ধবরাজের নামও ছিল চিত্রাঙ্গদ। একদিন গর্ন্ধবরাজ চিত্রাঙ্গদ সত্যবতীর পুত্র চিত্রাঙ্গদকে তাঁর নাম পরিবর্তন করতে বললেন, আর নাম পরিবর্তন না করলে তাঁর সাথে লড়াইয়ে নামতে বললেন।

https://i.imgur.com/hsfjbQQ.jpg

কুরুক্ষেত্রে হিরন্মতী নদীর তীরে দুজনের মধ্যে প্রচন্ড লড়াই শুরু হল। লড়াইয়ে সত্যবতীর পুত্র চিত্রাঙ্গদ নিহত হল। চিত্রাঙ্গদের মৃত্যর পরে ভীষ্ম অপ্রাপ্তবয়স্ক বিচিত্রবীর্যকে রাজপদে বসালেন

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০৫-০৯-২০২১ ১৬:১৮)

Re: মহাভারতের গপ্পো

বিচিত্রবীর্য যৌবনলাভ করার পরে ভীষ্ম তাঁকে বিয়ে করানোর কথা ভাবলেন। কাশীরাজার তিন পরমা সুন্দরীর রাজকন্যার একসঙ্গে স্বয়ংবর হবে শুনে ভীষ্ম তাঁর সৎ মা সত্যবতীর অনুমতি নিয়ে একাই রথা নিয়ে বারাণসীতে সেই স্বয়ংবরে পৌছে গেলেন। নানা দেশ থেকে অনেক রাজারা স্বয়ংবরসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন। যখন রাজকন্যাদের সঙ্গে সমস্ত রাজাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছিলো তখন রাজকন্যারা ভীষ্মকে বৃদ্ধ ও একাকী দেখে তাঁর কাছ থেকে সরে গেলো। সভায় উপস্থিত অন্যান্য সকল রাজারা নানান কথায় ভীষ্মকে উপহাস করতে লাগলো।

এই সব কারণে ভীষ্ম ক্রুদ্ধ হয়ে তিন রাজকন্যাকেই নিজের রথে তুলে নিলেন এবং উপস্থিত রাজাদের উদ্দেশ্যে বললেন- "বিবাহের নানান পদ্ধতি প্রচলিত আছে, কিন্তু স্বয়ংবরসভায় বিপক্ষদের পরাজিত করে কন্যা হরণ করাই ক্ষত্রিয়ের পক্ষে শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। তাই আমি এই কন্যাদের হরণ নিয়ে যাচ্ছি, তোমাদের শক্তি থাকলে আমাকে আটকাও।"

https://i.imgur.com/KSAXGbM.jpg

ভীষ্মের কথা শুনে অন্যান্য রাজারাও রেগে গেলো, তারা তাদের অলংকার খুলে রেখে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হল। রাজারা নিজ নিজ রথে উঠে ভীষ্মকে আক্রমণ করলো। কিন্তু ভীষ্মের সঙ্গে লড়াইয়ে রাজারা পরাজিত হল। সকলে পরাজয় মেনে নিলেও শাল্বরাজা ভীষ্মের পিছু ধাওয়া করতে লাগলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভীষ্মের শরাঘাতে শাল্বরাজার সারথি ও ঘোড়া মারা পরলে তিনিও লড়াই ছেড়ে নিজ রাজ্যে ফিরে গেলেন। ভীষ্ম তিন রাজকন্যাকে নিজের সাথে যত্নসহকারে হস্তিনাপুরে নিয়ে গেলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৪

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/YO8YL0s.jpg
হস্তিনাপুরে পৌছে ভীষ্ম বিচিত্রবীর্যের সাথে তিন রাজকন্যার বিবাহের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে কাশীরাজের বড় কন্যা অম্বা ভীষ্মকে জানালো যে সে স্বয়ংবরে শাল্বরাজকেই স্বামী হিবেসে পছন্দ করেছিল এবং শাল্বরাজাও তাকে স্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেছিলেন। অম্বার কথা শুনে ভীষ্ম অম্বাকে শাল্বরাজার কাছে পাঠিয়ে দিলেন, এবং কাশীরাজের বাকি দুই কন্যা অম্বিকা ও অম্বালিকার সঙ্গে বিচিত্রবীর্যের বিবাহ দিলেন।

https://i.imgur.com/7voCQrb.jpg


বিচিত্রবীর্য দুইটি পরমা সুন্দরী যুবতী পত্নী পেয়ে কামাসক্ত হয়ে পড়লো। সাত বৎসর পরে বিচিত্রবীর্য যক্ষারোগে আকান্ত হল। চিকিৎসকদের বহু চেষ্টাতেও বিচিত্রবীর্যকে বাঁচানো গেলো না।

https://i.imgur.com/T1DYcwb.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৫

Re: মহাভারতের গপ্পো

দুই ছেলেকেই অকালে হারিয়ে সত্যবতী তাঁর স্বামীর বংশ রক্ষার চিন্তায় পরে গেলেন। তিনি ভীষ্মকে নিজের পিতা রাজা শান্তনুর বংশ রক্ষার জন্য দুই ভ্রাতৃবধূর অম্বিকা ও অম্বালিকার গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে আদেশ দিলেন। কিন্ত ভীষ্ম কিছুতেই তার প্রতিজ্ঞা ভুলে বিয়ে-সংসার-সন্তান বা রাজ্য গ্রহণ করতে রাজি হলেন না। তবে পিতার বংশ রক্ষার একটি উপায় তিনি মাতা সত্যবতীকে জানেলেন-

https://i.imgur.com/oFXLJey.jpg

পুরাকালে জামদগ্ন্য মুনির পুত্র মহাতেজস্বী পরশুরাম পৃথিবীর সমস্ত ক্ষত্রিয় হত্যা করেছিলেন তার কুঠার দিয়ে। তখন ক্ষত্রিয়নারীগণ নিজেদের বংশ রক্ষার জন্য ব্রাহ্মণের সঙ্গে সহবাসে করে সন্তান উৎপাদর্ন করেছিলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৬

Re: মহাভারতের গপ্পো

দীর্ঘতমা মুনির কাহিনী
একসময় উতথ্য ঋষির পত্নী মমতা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন তাঁর দেবর বৃহস্পতি মমতার নিষেধ না শুনে জোড় করে তাঁর সাথে সংগম করার চেষ্টা করছিল। তখন  গর্ভের শিশু তার পা দিয়ে চাচা বৃহস্পতিকে লাথি দিল। বৃহস্পতি গর্ভের শিশুকে অন্ধ হওয়ার অভিশাপ দিলেন। ফলে উতথ্যে-মমতার ছেলে দীর্ঘতমা অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করল। তিনি ধার্মিক ও বেদজ্ঞ ছিলেন, কিন্তু পশুর মতো যেখানে সেখানে সংগমে লিপ্ত (গোধর্ম) হতো বলে প্রতিবেশী মুনিগণ ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে ত্যাগ করে। আর মাতার আদেশে দীর্ঘতমার পুত্রেরা তাঁকে ভেলায় চড়িয়ে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়।

বলি রাজা দীর্ঘতমাকে দেখতে পেয়ে নিজের স্ত্রী সুদেষ্ণার কাছে নিয়ে যায় সন্তান উৎপাদনের জন্য। কিন্তু অন্ধ বৃদ্ধ দীর্ঘতমাকে দেখে সুদেষ্ণার পছন্দ হল না। তাই দীর্ঘতমার কাছে সুদেষ্ণা নিজে না গিয়ে তাঁর ধাত্রীকন্যাকে পাঠিয়ে দিল। সেই শূদ্রকন্যার গর্ভে এগারজন ঋষি জন্ম নিলোঅ। বিষয়টা জানতে পেরে বলি রাজা তার স্ত্রী সুদেষ্ণাকে বারবার অনুরোধ করে দীর্ঘতমার সাথে মিলনে রাজি করালেন। সুদেষ্ণা দীর্ঘতমা কাছে উপস্থিত হলে দীর্ঘতমা সুদেষ্ণার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে বললেন-  "তোমার পাঁচটি তেজস্বী পুত্র হবে - অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুন্ড্র ও সুহ্ম। তাদের দেশও এই সকল নামে খ্যাত হবে।"
বলি রাজার বংশ এইভাবে দীর্ঘতমার মাধ্যমে রক্ষা পেয়েছিলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৭

Re: মহাভারতের গপ্পো

উপরের কাহিনী দুটি শুনিয়ে ভীষ্ম তার সৎ মা সত্যবতীকে বলেন বিচিত্রীবীর্যের পত্নীদের গর্ভে সন্তান উৎপাদনের জন্য কোনো ব্রাহ্মণকে অর্থ দিয়ে নিয়োগ করতে। তখন সত্যবতী লজ্জিতভাবে [link|https://www.somewhereinblog.net/blog/qshohenq/30324745|তাঁর পূর্ব ইতিহাস জানালেন]। সেই সময় কুমারী অবস্থায় পরাশর মুনির সাথে মিলনে সত্যবতীর যে পুত্র জন্মেছিলো তাঁর নাম দ্বৈপায়ন, তিনি মহাযোগী মহর্ষি, চতুর্বেদ বিভক্ত করে ব্যাস উপাধি পেয়েছেন; তাঁর গায়ের রং কালো, সেজন্য তাঁর অন্য নাম কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাস। তিনি তার পিতা পরাশর মুনির সঙ্গে থাকেন। কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন তাঁর মা সত্যবতীকে বলেছিলেন প্রয়োজন হলে তাঁকে ডাকলেই তিনি আসবেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৮

Re: মহাভারতের গপ্পো

তরাষ্ট্র ,পান্ডু ও বিদুরের জন্ম বৃত্তান্ত
সত্যবতী কৃষ্ণ দ্বৈপায়নকে স্মরণ করলো, একটু পরেই সেখানে কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের আবিভার হলো। সত্যবতী তাঁকে আলিঙ্গন এবং স্তনদুগ্ধে সিক্ত করলেন। সত্যবতী দ্বৈপায়নকে তাঁর দুই পুত্রের মৃত্যু ও তাঁর স্বামীর বংশ রক্ষার বিষয়ে সব কিছু জানিয়ে অনুরোধ করলেন তার দুই পুত্রবধুর গর্ভে পুত্র উৎপাদন করতে।

https://i.imgur.com/oXDERdc.png

দ্বৈপায়ন সব কথা শুনে তাঁর সৎ ভ্রাতৃবধূদের গর্ভে পুত্র উৎপাদনের উদ্দেশ্যে তাঁদের সাথে মিলিতো হতে রাজি হলেন। কিন্তু তিনি দুই ভ্রাতৃবধূকে এক বছর ব্রতপালন করে শুদ্ধ হয়ে নিতে বলনে। তখন সত্যবতী জানালেন রাজহীন রার্জ্যে বৃষ্টি হয় না, দেবতারা প্রসন্ন হন না, অতএব যাত দ্রুত সম্ভব রাণীদের গর্ভবতী করতে হবে। এখন রাণীদের সন্তান হলে ভীষ্ম তাদের লালন পালন করে রাজা হিসেবে তৈরি করে দিতে পারবে। দ্বৈপায়ন তখন তার মাকে বললেন রানীরা যেন তাঁর কুৎসিত রূপ, গন্ধ আর বেশ সহ্য করে নেয়।


সত্যবতী তাঁর পুত্রবধূ অম্বিকাকে অনেক ভাবে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে দ্বৈপায়নের সঙ্গে মিলিতো হতে রাজি করিয়ে দ্বৈপায়নের কাছে পাঠালেন। কিন্তু দ্বৈপায়নের বিকট কালো রূপ, পিঙ্গল চুল আর দাড়ি-গোঁফের জটা দেখে অম্বিকা ভয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো। অম্বিকা সাথে মিলিতো হয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দ্বৈপায়ন সত্যবতীকে জানালেন এর গর্ভে শতহস্তিতুল্য বলবান ও বুদ্ধিমান পুত্র জন্ম নিবে এবং শতপুত্রের পিতা হবে, কিন্তু মাতার দোষে অন্ধ হবে।

অন্ধ ব্যক্তি রাজা হবার যোগ্য হবে না বুঝে সত্যবতী অনুরোধ করলো তাঁর দ্বিতীয় পুত্রবধূ অম্বালিকার গর্ভে আরেকটি পুত্রের জন্ম দিতে। মায়ের অনুরোধে দ্বৈপায়ন এবার অম্বালিকার শয়নগৃহে গেলেন। কিন্তু দ্বৈপায়নের বিকট কালো রূপ, পিঙ্গল চুল আর দাড়ি-গোঁফের জটা দেখে অম্বালিকা ভয়ে পান্ডু-বর্ণ (ফ্যাকাশে) হয়ে গেলেন। অম্বালিকার সাথে মিলিতো হয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দ্বৈপায়ন সত্যবতীকে জানালেন এর গর্ভের পুত্র বিক্রমশালী খ্যাতিমান এবং পঞ্চপুত্রের পিতা হবে, কিন্তু মাতার দোষে পান্ডুবর্ণ হবে।


যথাসময়ে অম্বিকা ধৃতরাষ্ট্র নামে একটি অন্ধ পুত্রের জন্ম দিল, আর অম্বালিকা পান্ডু নামে একটি পান্ডুবর্ণ পুত্র প্রসব করল।
পুত্র প্রসবের পরে অম্বিকা আবার ঋতুমতী হলে সত্যবতী তাঁকে আর একবার  দ্বৈপায়ন ব্যাসের কাছে যেতে বললেন, কিন্তু দ্বৈপায়নের রূপ আর গন্ধের কথা মনে করে অম্বিকা নিজে না গিয়ে অপ্সরার মতো রূপবতী এক দাসীকে পাঠিয়ে দিল। সেই দাসীর অভ্যর্থনা, সেবা ও পরিচর্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দ্বৈপায়ন ব্যাস বললেন-  "তুমি আর দাসী হয়ে থাকবে না, তোমার গর্ভস্থ পুত্র ধর্মাত্মা ও পরম বুদ্ধিমান হবে।" সেই দাসীর গর্ভে বিদুর জন্মগ্রহণ করেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪৯

Re: মহাভারতের গপ্পো

অণীমান্ডব্য মুনির কাহিনী

https://i.imgur.com/IN1PM3C.jpg

মান্ডব্য নামে এক মৌনব্রতী ঊর্ধ্ববাহু তপস্বী ছিলেন। একদিন কয়েকজন চোর চুরিকরা মালামাল সহ মান্ডব্যের আশ্রমে এসে লুকিয়ে রাইল। রাজার রক্ষীরা আশ্রমে এসে মান্ডব্যের কাছে চোরদের সম্পর্কে জানতে চাইলো কিন্তু তিনি মৌনব্রতের কারণে কোন উত্তর দিলেন না। রক্ষীরা আশ্রমে তল্লাশী করে চোরদের মামামাল সহ ধরে ফেললো। মান্ডব্য মুনি প্রশ্নের জবাবা না দেয়াতে রক্ষীরা চোরদের সঙ্গে মান্ডব্যকেও রাজার কাছে নিয়ে হাজির করলো। রাজা তাঁদের সবাইকে শূলে চড়ানোর আদেশ দিলেন। সবাইকে শূলে চড়ানোর পরে দেখা গেলো মান্ডব্য তপস্যার প্রভাবে জীবিত রইলেন এবং শূলের উপরে বসেই তাপস্য করতে লাগলেন। তাই দেখে রাজা মান্ডব্যের কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং তাঁকে শূল থেকে নামালেন, কিন্তু শূলের ভাঙ্গা অগ্রভাগ  মান্ডব্যের শরীরের মধ্যে রয়ে গেল। এইকারণে তার নাম হলো  অণীমান্ডব্য।

https://i.imgur.com/yTdKyJL.jpg

মান্ডব্য ধর্মরাজের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কর্মের ফলে তাঁকে এই দন্ড দেয়া হয়েছে।
ধর্মরাজ জানালেন মান্ডব্য মুনি ছোট বেলায় একটি পতঙ্গের পুচ্ছদেশে তৃণ প্রবিষ্ট করেছিলেন, তার জন্যই এই শাস্তি পেয়েছেন। 
তাই শুনে মান্ডব্য বললেন- "আপনি লঘু পাপে আমাকে গুরুদন্ড দিয়েছেন। আমার শাপে আপনি শুদ্র হয়ে জন্মগ্রহণ করবেন। আজ আমি এই বিধান দিচ্ছি চতুর্দশ বৎসর রয়সের মধ্যে কেউ কিছু করলে তা পাপ বলে গণ্য হবে না।"
অণীমান্ডব্যের অভিশাপের ফলেই ধর্মরাজ দাসীর গর্ভে বিদুররূপে জন্মেছিলেন

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৫০

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/zdL20bQ.jpg

ভীষ্ম নিজ ছেলের মতো করে ধৃতরাষ্ট, পাণ্ডু ও বিদুরকে লালন পালন করলেন। ধৃতরাষ্ট্র অসাধারণ বলবন, পাণ্ডু তুখর তীরন্দাজ, এবং বিদুর প্রচন্ড ধর্ম পরায়ণ হল। কিন্তু ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ, বিদুর দাসীর গর্ভজাত, একারণে পাণ্ডুই রাজ হল।

https://i.imgur.com/mZvGKRt.jpg

ভীষ্ম গান্ধাররাজ সুবলের কন্যা গান্ধারীর সঙ্গে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের বিবাহ দিলেন। অন্ধ স্বামীর পতি সম্মান দেখাতে পতিব্রতা গান্ধারী এক খণ্ড কাপড় ভাজ করে চোখের উপর বাঁধে নিলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৫১

Re: মহাভারতের গপ্পো

বসুদেবের পিতা শূরের পৃথা (পৃথা বা কুন্তী কৃষ্ণের পিসী) নামে একটি মেয়ে ছিল। শূর তাঁর ফুপাত ভাই নিঃসন্তান কুন্তিভােজকে সেই মেয়েটি দিয়ে দেন। পালক পিতার নাম অনুসারে পৃথার অপর নাম হয় কুন্তী

একদা ঋষি দূর্বাসা কুন্তীর বাড়িতে বেরাতে এলে কুন্তীর আপ্যায়নে সন্তুষ্ট হয়ে কুন্তীকে একটি মন্ত্র শিখিয়ে দেন। সেই মন্ত্র পাঠ করে যেকোনে দেবতাকে ডাকলে তাঁর সাথে মিলনে কুন্তী পুত্রলাভ করতে পারবে।

https://i.imgur.com/rh6RB5Z.jpg

কৌতুহলবশে কুন্তী সূর্য দেবতাকে মন্ত্র পড়ে ডাকলো। ততক্ষণাত সূর্যদেব আবির্ভূত হয়ে বললেন তাঁর সাথে মিলনের ফলে কুন্তী পুত্র লাভ করবে এবং কুমারীই থাকবে। সূর্য দেবতা সঙ্গে মিলনে কবচ (বর্ম) ও কুণ্ডল সহ  কুন্তীর একটি পুত্র জন্ম নিলো। (এই ছেলেটিই পরে কর্ণ নামে পরিচিত হয়।)

https://i.imgur.com/GRw1viJ.jpg

কুমারী মাতা কুন্তী কলঙ্কের ভয়ে তাঁর সদ্যজাত পুত্রকে একটি পাত্রে রেখে জলে ভাসিয়ে দিল। শূতবংশীয় অধিরথ ও তাঁর পত্নী রাধা শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ঘরে নিয়ে গিয়ে বসুষেণ নাম দিয়ে নিজের ছেলের মত পালন করলেন। বসুষেণ বড় হয়ে সকল প্রকার অস্ত্রচালনা শিখলো। সে প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের উপাসনা করতো। একদিন ব্রাহ্মণবেসে ইন্দ্র এসে বসুষেণের কাছে তাঁর কবচ চাইলো। বসুষেণ নিজের দেহ থেকে কবচটি কেটে দিয়ে দিলো। ইন্দ্র খুশী হয়ে তাঁকে শক্তি অস্ত্র দান করলেন। এই অস্ত্র যার উপরে নিক্ষেপ করা হবে সে অবশ্যই মারা যাবে। কিন্তু একজন নিহত হলেই অস্ত্রটি আবার ইন্দ্রের কাছে ফিরে যাবে।
কবচ কেটে দেওয়ার জন্য বসুষেণের নাম কর্ণ ও বৈকর্তন হয়।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৫২

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/qCuFE90.jpg

রাজা কুন্তিভােজ তাঁর পালিতা কন্যা কুন্তীর বিবাহের জন্য স্বয়ংবরসভার আয়োজন করলেন। সেখানে কুন্তী রাজা পাণ্ডুর গলায় বরমালা পরালেন।

ভীষ্ম পাণ্ডুর আর একটি বিবাহ দিতে চাইলেন। তিনি মদ্রদেশের রাজা শল্যেকে বহু ধন-রত্ন দান করে তাঁর বোন মাদ্রীকে হস্তিনাপুরে এনে পাণ্ডুর সঙ্গে বিবাহ দিলেন।

অন্যদিকে দেবক রাজার শূদ্রা পত্নীর গর্ভে এক ব্রাহ্মণের ঔরসে একটি কন্যার জন্ম হয়েছিল। সেই কন্যার সঙ্গে বিদুরের বিবাহ হল।


মহারাজ পাণ্ডু নানা দেশ জয় করে বহু-রত্ন নিয়ে স্বরাজ্যে ফিরে সেই সমস্ত ধন-রত্ন ভীষ্ম, দুই মা ও বিদুরকে উপহার দিলেন। তারপর তিনি তার দুই পত্নী কুন্তী ও মাদ্রীকে সঙ্গে নিয়ে বনবিহারে গেলেন। কিছুদিন পরে কুন্তীর গর্ভে যুধিষ্ঠির জন্ম হলো। (যুধিষ্ঠিরের জন্ম রহস্য আগামী পর্বে জানা যাবে।)

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৫৩

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/2lsPiSJ.jpg

অন্যদিকে  ধৃতরাষ্ট্রের স্ত্রী গান্ধারীও গর্ভবতী ছিলেন। কিন্তু দু্ বছর পার হয়ে গেলেও তার গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হচ্ছিলো না। কুন্তীর গর্ভে যুধিষ্ঠির জন্মের কথা জানতে পেরে গান্ধারী ঈর্ষান্বিত হয়ে পরলেন। অধির হয়ে শেষে গান্ধারী নিজের গর্ভপাত করলেন। তখন দেখতে পেলেন তার গর্ভে লোহার মতো শক্ত একখণ্ড মাংসপিণ্ড ছিলো। তিনি সেই মাংসপিণ্ডটি ফেলে দিতে যাচ্ছিলেন এমন সময় দ্বৈপায়ন ব্যাস এসে জানালেন তার আর্শীবাদে ধৃতরাষ্ট্রের স্ত্রী গান্ধারীর একশোটি পুত্র জন্ম নিবে]। (গান্ধারীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে দ্বৈপায়ন ব্যাস গান্ধারীকেও একশত পুত্রের বর দিয়েছিলেন।)  দ্বৈপায়ন ব্যাস সেই মাংসপিণ্ডটিকে শীতল জলে ভিজিয়ে রাখতে বললেন। দ্বৈপায়ন ব্যাসের কথা মতো গান্ধারী মাংসপিণ্ডটিকে শীতল জলে ভিজালে সেখান থেকে বুড়ো আঙুলের মতো একশোটি ভ্রুণ শিশু আলাদা হয়ে এলো। এবার গান্ধারী সেই ভ্রুণ শিশু গুলিকে একটি একটি করে একশোতটি ঘীয়ে ভরা কলসে রেখে দিলো। ঠিক এক বছর পরে একটি কলসে দুর্যোধন জন্মগ্রহণ করলো। কুন্তীর গর্ভে সেদিনই ভীম জন্মগ্রহণ করলো।

https://i.imgur.com/R7JDrH4.jpg

দুর্যোধন জন্মেই গর্দভের মত কর্কশ কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলো, সঙ্গে সঙ্গে শকুন-শিয়াল-কাকেরাও ডাকতে লাগল। আরো অন্যান্য অশুভ লক্ষণ দেখা গেল। ধৃতরাষ্ট্র ভীষ্ম ও বিদুর এবং অন্যান্য ব্রাহ্মণদের ডেকে জানালেন বংশের বড় রাজপুত্র যুধিষ্ঠির এর পরে ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র দুর্যোধন রাজা হবে। কিন্তু ঠিক তখনই হিংস্র জন্তুরা আবার ডেকে উঠল। তাই শুনে বিদুর ও অন্যান্য ব্রাহ্মণেরা জানালো দুর্যোধন বংশ নাশ করবে। দুর্যোধনকে পরিত্যাগ করাই মঙ্গল। কিন্তু পুত্রস্নেহে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র দুর্যোধনকে পরিত্যাগ করলেন না। এক মাসের মধ্যে ধৃতরাষ্ট্রের দুর্যোধন, দুঃশাসন দুঃসহ ইত্যাদি একশত পুত্র এবং দুঃশলা নামে একটি কন্যার জন্ম হল। গান্ধারী যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন এক বৈশ্যা (ব্যবসায়ী সম্প্রদায়) ধৃতরাষ্ট্রের সেবা করত। তাঁর গর্ভে একটি ছেলে জন্মে তার নাম যুযুৎসু

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।