টপিকঃ কেনো মানুষ ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে?

আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগেনি যে আমরা কেন,কিভাবে,স্বপ্ন দেখি?

এই স্বপ্নের সৃষ্টি হয় কীভাবে?  আমাদের মস্তিষ্ক কিভাবে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে?


আমরা কৌতুহলী জ্ঞান পিপাসু লোকেরা কিন্তু এমন সব উদ্ভট প্রশ্ন মাথায় নিয়ে একটু ভেবে উত্তর খুজে না পেয়ে  অবহেলায় ভুলে যাই।  আজকের আর্টিকেল এ আলোচনা করবো
“কেন এবং কিভাবে আমরা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি?”

https://whqbangla.com/wp-content/uploads/2021/08/whqbangla-why-we-sleep-1024x683.jpg


স্বপ্ন হচ্ছে মানুষের একটি মানসিক অবস্থা, যাতে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা ও বস্তু  অবচেতনভাবে অনুভব করে থাকে। ঘটনাগুলি কিন্তু কাল্পনিক হলেও স্বপ্ন দেখার সময় সত্যি বলে মনে হয়। অধিকাংশ সময় দ্রষ্টা নিজে সেই ঘটনায় অংশগ্রহণ করছে বলে মনে করতে থাকে। অনেক সময়ই পুরনো অভিজ্ঞতার ছোট ছোট  স্মৃতি কল্পনায় বিভিন্নভাবে আসে ও পরিবর্তিত হয়ে সম্ভব অসম্ভব সব ঘটনার রূপ নেয়।

স্বপ্ন আমরা সবাই-ই দেখি, তবে যারা জন্মগত ভাবে অন্ধ তারা কখনো স্বপ্ন দেখে না, কারন তারা এই সুন্দর পৃথিবীটা চোখ দিয়ে দেখেনি, তাই স্বপ্নের মধ্যে এই পৃথিবীর উপাদান ও বস্তু নিয়ে কল্পনায় ছবি আঁকতে পারে না। স্বপ্ন হচ্ছে ছোট বড় ঘটনার কতগুলো ছবি। যা অনুভুতি, চিন্তা, ও স্পন্দন এর প্রতিচ্ছবি। যা ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে  এমনি এমনিই ঘটে যায়। স্বপ্নের মধ্যে দেখা ঘটনা বা বস্তু স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় না। এবং স্বপ্নে দেখা ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করার জন্য একটি যৌক্তিক বিন্দু হচ্ছে “দর্শন” ও “ধর্মীয় বিদ্যা”। তবে দুটো বিষয়ই কিন্তু কখনো কখনো সম্পুর্ন বিপরীত বিশ্লেষণ ও ফলাফল দেয়৷  দর্শন যেখানে যুক্তির উপর নির্ভর করে অনুমান এ বিশ্লেষণ করে সেখানে ধর্ম কখনো কখনো কোনো যুক্তি ছাড়াই বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে বিশ্লেষণ করে।
তবে দুইটা বিষয়ের লক্ষ্য হচ্ছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা খুজে বের করা।  স্বপ্নের যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুজে বের করারকে বলা হয় Oneirology।


আমরা সবাই-ই ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি।  বেশিরভাগই এগুলি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলির সাথে সম্পর্কিত।

স্বপ্নের ধারণা:

স্বপ্ন দেখার কারন নিয়ে অনেক অনুকল্পকে প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রস্তাব করা অনুকল্পগুলোর মধ্যে কোনকোনটি পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতামূলক গবেষণার সাথে বিরোধী বলে প্রমাণিত হয়। এটাও প্রস্তাব করা হয়েছে যে স্বপ্নের কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নেই, এবং স্বপ্ন কেবল ঘুমের সময় মস্তিষ্কে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলাফল।
আমদের ঘুম যখন  rapid-eye-movement (REM) পর্যায়ে থাকে তখনই কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখি। যখন সেরিব্রাম অ্যাকশন বেশি থাকে এবং সজাগ থাকার মতো দেখায়। এবং তখন আমাদের চোখ বাইরে থেকে পিট পিট করে।
রিপিট আই মুভমেন্ট হচ্ছে ঘুমের ৫ টি পর্যায়ের একটি পর্যায়।
ঘুমের মধ্যে REM পর্যায়টি বার বার আসে। এই পর্যায়ে দেখা স্বপ্নের দৈর্ঘ কম বেশি হতে পারে। এর দৈর্ঘ্য কয়েক মুহুর্ত বা ২০-৩০ মিনিট হতে পারে। এই পর্যায়ে দেখা স্বপ্ন গুলো আমারা মনে রাখতে পারি। তবে ঘুমের মধ্যে দেখা বেশিরভাগ স্বপ্নই আমাদের মনে থাকে না। একজন মানুষ ঘুমের মধ্যে ৩-৫ টি স্বপ্ন দেখে তবে কখনো কখনো এর সংখ্যা বেড়ে ৭ টিও হতে পারে।  কখনো কখনো এই সংখ্যাটিও উপেক্ষা করে যেতে পারে।  রাত বাড়ার সাথে সাথে স্বপ্নও দৈর্ঘ্য হতে থাকে। একজন মানুষের ৮ ঘন্টার ঘুমের মধ্যে প্রায় ২ ঘন্টা REM পর্যায়ে স্বপ্ন দেখে।
স্বপ্ন দেখার কারন নিয়ে মনোচিকিৎসক সিগমুন্ড ফ্রয়েড, কার্ল ইয়ং, এবং ফ্রিৎজ পার্লস এর দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো আলাদা আলাদা। এবং তারা বিভিন্ন সময় গবেষণার মাধ্যমে স্বপ্নের তত্ত্ব দেন।

১৯৩৫ সালে হার্ভাড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখলেন ঘুমের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এবং মানুষ ঘুমালে তাদের মস্তিস্কে ঘুমের বিভিন্ন স্তরে বৈদ্যুতিক সিগন্যালগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন হয় । গবেষকরা প্রথম দিকে মানুষের ঘুমের প্রথমিক ঘন্টা দুয়েক এর অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরবর্তিতে প্রায় দুই দশক পরে, জানতে পারে মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পরলে আরো চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে। মানুষ যখন গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে পরে তখন ধিরে ধিরে তাদের ঘুম হালকা হয়ে যায় ও চোখের পাতা নড়তে থাকে । মস্তিস্কের বৈদ্যুতিক সিগন্যাল দ্রুততর হয়ে ওঠে ।  ঘুমের এই স্তরকেই বলা হয় REM । এই সময়টাতে কাউকে জাগিয়ে তোলা হলে তারা প্রায় সময়ই বলে থাকে তারা স্বপ্নে দেখছিলো । ঘুমের মাঝে আমাদের মস্তিষ্ক কিন্তু পুরোপুরি অচেতন হয়ে যায় না । আমাদের মস্তিষ্ক হঠাৎ হঠাৎ কাজ করতে শুরু করে দেয় শুধু মস্তিষ্ক না , আমাদের শরীরও সচেতন হয়ে ওঠে ।

ঘুমের স্তরঃ

ঘুমের স্তর হচ্ছে ৫ টি । এগুলো হচ্ছে আলফা স্তর, প্রথম স্তর, থিটা স্তর, ডেলটা স্তর, REM স্তর।

আমরা বিছানায় শোয়ার পর যখন চোখে কেবল ঘুম আসে, শরীর শিথীল হয়ে যায় কিন্তু জাগ্রত অবস্থা তখন মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সিগনালের কম্পন থাকে সেকেন্ডে আট থেকে বারো । এটাকে বলা হয় আলফা তরঙ্গ। কয়েক মিনিট এই স্তরে থাকার পর  যখন মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সিগনাল কমে সেকেন্ডে চার থেকে আটে নেমে আসে। তখন ঘুম প্রথম স্তরে প্রবেশ করে এবং থিটা স্তরে মানুষ ১০ সেকেন্ড থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত কাটিয়ে থাকে । মানুষের সত্যিকারের ঘুমের শুরু হয় ২য় স্তরে বা থিটা স্তরে। এই স্তর ১০ থেকে ২০ মিনিটের মতো হয়ে থাকে । ডেলটা স্তরে মানুষ গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে পরে । ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ডেলটা স্তর এ ঘুম হয়ে থাকে । তারপর ধীরে ধীরে আবার বিপরীত দিকে অর্থাৎ চতর্থ স্তর থেকে তৃতীয়, তৃতীয় থেকে দ্বিতীয়, কিন্তু দেইতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে না গিয়ে ঘুম এবং জাগরনের মাঝামাঝি REM ( Rapid Eyeb Movement ) স্তরে চলে আসে । তখন মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, নিশ্বাস দ্রুততর হয়ে ওঠে, রক্ত চাপ বেড়ে যায় । এই স্তরে ১০ মিনিটের মত থাকতে পারে । তারপর আবার দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ বা গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পরে ।

"We want Justice for Adnan Tasin"