টপিকঃ গার্মেন্টস ও বায়িং কোয়ালিটি কন্ট্রোলার এখন পেশায় চোর

https://www.sahas24.com/wp-content/uploads/2020/12/chore.png


কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না –  – প্রকৃত অসৎ ব্যক্তি কে শত চেষ্টাতেও শোধরানো যায় না –  যার স্বভাব যা তা সে করবেই –  রক্তের সাথে মিশে থাকা চরিত্র একদিন না একদিন প্রকাশ পায় – পাবেই । শোভনতার বোধকে আরেকটু নিচে নামালে পাওয়া যাবে, ‘কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না’।এই সব প্রবাদের লক্ষ্য একটাই ‘স্বভাব’। যদিও এই আচরণিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে বহু আগে থেকেই গবেষণা হয়ে আসছে। এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিউরোলজি, জিনিওলজির মতো বৈজ্ঞানিক শাখা। বিস্তর গবেষণা হয়েছে, বিস্তর সূত্র দাঁড় করানো হয়েছে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে। ‘স্বভাব অপরিবর্তনীয়’ এই সরলীকরণের বিপরীতে অনেক কিছু নির্ভুল বলে প্রমাণও হয়েছে। সে খবর নেই; ‘স্বভাব যায় না মলে, ময়লা যায় না ধুলে’, প্রবাদ এখনো প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।  প্রবাদ-প্রবচন যে হলফ করে মেনে নিতে নেই তার কারণ: ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ শুনলে যেমন যুক্তিযুক্ত মনে হয়, তেমনি আবার ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’ শুনলেও অযৌক্তিক মনে হয় না। অথচ এর একটি অন্যটির সম্পূর্ণ বিপরীত।

বরিশাল উজিরপুর সাতলার ইউসুফ পাশা,  ৩০৪/১ হলান – দক্ষিণখান ঢাকায় বসবাস, ঢাকায় নিজের বাড়ি পারাগদি,পাঞ্জরা,নাগারি,কালিগঞ্জ,গাজীপুর…..  তার সম্ভবত ৩ ছেলে…… ৩ জনই বেকার, আলাপে ইউসুফ পাশা একদিন জানায় অসুস্থ কর্মহীন আর পারছিনা সংসারের ঘানি টানতে, তিনি বলেন আমি যেভাবে হোক নিজে চলতে পারব কিন্তু সন্তান গুলো তো কিছু করার চেষ্টা করবে ! তারা তা না করে এই বুড়ো বাবা উপর বসে… …তার ভাষায় তার বখে যাওয়া বড় সন্তান এইচ এম রাবিউল হাসান, যে রাজধানীর কাঁচকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়থেকে ২০০০ সালে এসএসসি পাস করে, ২০০৩ সালে তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বেকার, গলির মুখে মাস্তানি আর চা সিগারেট গাঁজা …নিয়েই ব্যস্ততা

সেইদিন অচেনা  অজানা বরিশাল উজিরপুর সাতলার ইউসুফ পাশা’র চোখে মুখে কষ্ট দেখে তার বড় ছেলেকে গার্মেন্টস  কারখানায় কাজে যুক্তকরি, কাজ শিখাই যাতে কথাও সে চাকরি হারাতে না হয় – এক স্থানে চাকরি হারানোর পর আবার অন্য জায়গায় চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, সে একে একে  (১) মালিবাগ রেল গেইট – কে আর কে গার্মেন্টস (২) মহাখালী রসুলবাগ-  স্টার সুয়েটার (৩) মহাখালী ডিওএইচএস –  এম এন ড্রেস ( বায়িং ) (৪) উত্তারা –  সেনসেল ডিজাইন  ( বায়িং ) (৫) বারিধারা ডিওএইচএস –  দয়াল সোর্সিং ( বায়িং ) (৬) আশুলিয়া –   এ এফ ফ্যাশান (৭) কাজিরচর পলাশ – চরকা টেক্সটাইল (৮) বারিধারা ডিওএইচএস –  এম এস এম সোর্সিং ( বায়িং ) – প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মার্চ ২০২০ করোনা আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত

এরই মাঝে ইউসুফ পাশা, তার স্ত্রী চলে যায় এই দুনিয়াতে থেকে – আমিও ২০১৭ তে হটাত করে পারাল্যসিস হয়ে যাই জি বি এস ভাইরাসে……১১ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ আমার আদরের সন্তানকে সড়কে সড়কঘাতকরা তাকে শিক্ষার্থীর পোশাকে দেখে ২০১৮ সালের রমিজ উদ্দিন কলেজের করিম-দিয়া আন্দোলনের প্রতিশোধ এ তাকে সড়কের জেব্রা ক্রসিঙের উপর হত্যা করে – কোন প্রতিবাদ হয়নি – কোন বিচার হয়নি – কারন এক ক্ষমতাহিন, টাকাহিন এক গার্মেন্টস কর্মচারীর পাশে কে দাঁড়াতে আসে?   

নভেম্বরের শেষে আমার শাশুড়ির অসুস্থতার কথা শুনে আমার স্ত্রী বাড়িতে চলে যায়- এই সুযোগে এইচ এম রাবিউল হাসান আমার ঘরে এসে হাজির হাতে কয়েক আটি শাঁক … সে আমার পায়ে ধরে সালাম করে বলে আমাদের খেতের শাঁক

আমি বলি আমার ঘরে তো কেউ নেই – এই শাঁক দিয়ে কি করব? সে বলে প্রয়জনে আমি রান্না করে দিব……আমি শাঁক গুলো পাশের বাসায় দিয়ে দেই…

অসুস্থ শরীরে তাকে চা বানিয়ে খাওয়াই…তার চাকরির বিষয়ে আলাপ করে… বললাম এবার গার্মেন্টস চাকরির বাজার খুব খারাপ, তার চেয়ে দেখো রেডিমেড গার্মেন্টস বানিয়ে লোকালে বিক্রি করলে ভালো… আলাপ আলোচনার পর আমি ওয়াশ রুমে গেলে সে  সামনের রুমে চার্জ এ থাকা “স্যামসাঙ গালাক্স্যি জে৮ মোবাইল (রেম৪,রোম৬৪) ও ওয়াড্রবের উপর সাংসারিক কাজের জন্য রাখা টাকা ছিল, ওয়াশ রুমে থেকে ফিরে এসে দেখি মোবাইল ও টাকা নেই, আর সেও ঘরে নেই, সে টাকা ও মোবাইল চুরি করে পালিয়ে যায় আমি তাকে তার কয়েকটি নাম্বারে ফোন করি ফোন বাজলেও সে ধরে না – শুনছি সে ফোনটি মগবাজারের তার খালত বোন কাছে বিক্রি করে।  তার আন্তিয় স্বজনদের এই বিষয়ে অভিযোগ করলে – তারা কোন গুরুত্বই দিল না – তারাও চায় সে চুরি করে হলেও যেন সংসার চালাতে পারে। তারাও তাকে হয়ত অনুপ্রাণিত করে।

উল্লেখ্য জানতে পারলাম সে বারিধারা ডিওএইচএস –  এম এস এম সোর্সিং ( বায়িং ) থেকেও নাকি ১ লাখ টাকা চুরি করে, এম এস এম সোর্সিং তার বিরুদ্ধে মামলা করে।

সারা জীবন যে উপকার দিয়েছি নিমিসেই সে প্রতিদান পেয়ে গেলাম।

তার কোন সন্ধান পেলে অনুগ্রহ করে ঢাকা – ভাটারা থানায় – জানাবেন।

"We want Justice for Adnan Tasin"