টপিকঃ সড়কে হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে

বাংলাদেশের এখন  প্রধান এবং এক নম্বর সমস্যা সড়কে হত্যা, সড়কে হত্যা মহামারীর রূপ নিয়েছে, প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে “অমুক স্থানে অমুক সড়কে মৃত্যু” আর আর বেশির ভাগ সড়কে মৃত্যুর খবর মিডিয়াতে আসেই না। আবার অনেক পত্রিকার হেডলাইন হয় “সড়কে হত্যার মিছিল” “সড়ক যেন মৃত্যুপুরী”, “থামছে না সড়কে হত্যা”,”২৮ লক্ষ লাইসেন্সহীন চালক”, প্রায় ৯ লাখ ফিটনেসহীন গাড়ি” – এইসব কোনো সংবাদই কর্তৃপক্ষের বা নীতি নির্ধারকদের চোখে পড়ে না। এক জরিপে বলা হয়েছে সড়কে মৃত্যুর হার ৮.৮% হারে বাড়ছে । সড়কে মৃত্যুর শিকারদের ৩৯ শতাংশই শিক্ষার্থী। এর প্রধান ও অন্যতম কারণ বিচারহীনতা!

সড়কহত্যাকাণ্ডের প্রচারিত সকল সংবাদের শেষলাইনে হলা হয়, "ঘাতক চালক ও হেল্পারকে গ্রেফতার করা হয়নি বা সম্ভব হয়নি" ্‌্‌্‌কিন্তু কেন?


লক্ষ্মীপুরে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুইজনের

লক্ষ্মীপুরে বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সড়কের সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহত অটোরিকশা চালক ও যাত্রীর নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, দুপুরে লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী শাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ফলবাহী অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশা চালক ও ফল ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

খাগড়াছড়িতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পুলিশের এসআই নিহত

খাগড়াছড়িতে পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পার্থ রায় চৌধুরী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের গামারীঢালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পার্থ রায় চৌধুরী পাশের জেলা রাঙ্গামাটি সদরের তবলছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় কর্মরত ছিলেন। তার আগে তিনি দীর্ঘদিন খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি থানায় কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, সকালের দিকে মোটরসাইকেল যোগে রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়ি আদালতে মামলার সাক্ষী দিতে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের গামারীঢালা এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এসআই পার্থ রায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারের রামুতে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে ১জন নিহত

কক্সবাজারের রামুতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত চালকের নাম মো. নুরুল আজিম (২৮)। তিনি উপজেলার কলঘর বাজারের আলী আহমদ সিকদার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, সকালে বালুবাহী একটি ট্রাক চকরিয়ার খুটাখালী থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মামুন মিয়ার বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চালক নুরুল আজিম মারা যান।

হাটহাজারীতে বাস চাপায় ব্যবসায়ী নিহত

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের হাটহাজারীতে বাসচাপায় মোহাম্মদ মুসা (৪০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাটহাজারীর বড়দিঘীর পাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মুসা হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি নগরের পাইকারি কাপড়ের বাজার টেরিবাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন।

জানা যায়, সকালে একটি বাস নাজিরহাট থেকে তৈরি পোশাক কারখানার কর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিল। বড়দিঘীর পাড় এলাকায় ডিভাইডারবিহীন অংশ পার হওয়ার সময় বাসটির চাপায় মুসা নামে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাবাবাসী মহাসড়কে অবস্থান নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে চালক ও সহকারী ঘটনার পরই পালিয়ে যান

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূর মৃত্যু

সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার শাকদাহ ব্রিজের ওপর ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শাসছুন্নাহার চুমকি (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার আসাদুর রহমান টুকু’র স্ত্রী। দুর্ঘটনায় টুকু আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

আহত আসাদুর রহমান টুকু জানান, স্ত্রী শামসুন্নাহার চুমকিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে গ্রামের বাড়ি আশাশুনিতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে শাকদাহ ব্রিজের ওপরে পৌঁছালে সামনে থেকে ঘাতক মাছের ট্রাক মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে দুজনই ছিটকে পড়েন। এরপর ট্রাকটি স্ত্রীর ডান হাতের ওপর দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা ইসলামী হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

"We want Justice for Adnan Tasin"