টপিকঃ গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন

৩০শে মে পর্যন্ত সরকারী ছুটি শেষ হবার সাথে সাথে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে, স্বল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে, দ্বিগুণ ভাড় নিয়ে সকল পরিবহন ১ জুন (সোমবার) থেকে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে অমানবিক এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন।

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে টানা সাধারণ ছুটিতে শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা এখন চরমে। বিশেষ করে নিম্নয়ায়ের মানুষ বিশেষত গার্মেন্টস, ডেইলি লেবার,বাসাবাড়ির কাজের মানুষ,রিক্সাওয়ালা,ফুটপাতের হকার,হকার, দোকান কর্মচারী কোটি শ্রমজীবী করোনার প্রভাবে কর্মহীন আর ভবিষ্যত নিয়ে অন্ধকারে, এ ধরণের কর্মজীবীদের কোন কাজ নেই, চাকরীচ্যুত, ন্যুনতম ক্ষতিপূরণ নেই, বীমা নেই, পেনশন নেই। অথচ এ ধরণের শ্রমজীবীর সংখ্যা ৫ কোটি ১৭ লক্ষেরও বেশি। যা দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮৫.১ শতাংশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি’র নির্বাহী পারিচালক ফাহমিদা খাতুন বলছেন, বাংলাদেশে শ্রমজীবীরা মূলত: অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেই বেশি এবং করোনা ভাইরাসের কারণে এখন যে পরিস্থিতি তাতে করে বিশাল আকারের এই শ্রমজীবীদের প্রতি আলাদা করে নজর না দিলে তা অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসম্ভব করে তুলবে। “সবচেয়ে বড় বিপদটা হলো যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত স্বল্প আয়ের লোক তাদের চাওয়ারও কোন জায়গা নেই। দেশে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-বেকার–কর্মহীন। এই জনগোষ্ঠীকে কিন্তু আমাদের খাইয়ে-পরিয়ে বাঁচিয়ে রাখার সময় এখন। তাদেরকে বাইরে রেখে আমরা অর্থনীতির এই সংকটকে মোকাবেলা করতে পারবো না।” দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠী খেয়ে পরে জীবন বাঁচানোও কষ্টসাধ্য তার উপর যদি গণপরিবহনের ভাড়া হটাত করে বর্ধিত বা দ্বিগুণ করা হয় – তবে তা হবে গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়া।

লক ডাউনের পরপরই পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, স্বল্প পরিসরে পণ্যবাহী যানবাহন, দোকান, বাজার, দোকান শপিংমল ইত্যাদি খোলা হয় – স্বাস্থ্যবিধি মেনে, স্বল্প পরিসরের কারনে তাদেরও ব্যবসার ক্ষতিহয় তারা তো মূল্যবৃদ্ধির অমানবিক প্রসঙ্গ উথাপন করেনি, আজ যদি গণপরিবহনের এই অযৌক্তিক দাবী মানা হয় তবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে – শপিংমল সহ অন্যরাও এই অমানবিক আবদার করে বসতে পারে, আর সাধারন মানুষ এই বাড়তি টাকাটা কোথা থেকে?

কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করতে হবে ঃ
(১) স্বাস্থ্যবিধি মেনে,স্বল্প যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে – এটা নিশ্চিত করবে কে?
(২) দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিন করবে কিভাবে? বিশেষত ঢাকায় লোকাল ও সিটিং নামে গাড়ি চলে – লোকাল চলে সরকারের নির্ধারিত কিলোমিটার ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী – আর সিটিং চলে তাদের নিজের আইনে – যেখানে লোকালের ভাড়া ৫ টাকা সেখানে তাদের ভাড়া ২০ টাকা, এখন যে গণপরিবহন চলবে তা চলবে সিটিং হিসাবে – সুতরাং ভারা ২০x২=৪০ মানে সর্বনিম্ন ভাড়া কি ৪০ টাকা হবে?
(৩) এই ভাড়া ই এক সময়ে নরমাল ভাড়া হয়ে যাবে: প্রথম প্রথম হয়ত যাত্রী কম নিবে তার পর সিট বাড়তে থাকবে-২/৩ জন দাঁড়ান যাত্রী – এইভাবে এক সময়ে গণপরিবহন – ৬০/৭০ যাত্রীতে ঠাঁসাঠাসি – কিন্তু ভাড়া কি কমবে?
(৪) প্রতিদিন গণপরিবহনে যাত্রী ও পরিবহনের হেল্পার চালকদের তর্কাতর্কী মারামারি (সিলেটে শিক্ষার্থী ওয়াসিম, গাজীপুরের সালাউদ্দিন, সাভারের শিল্পীর মত পরে বাস থেক ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাকার নীচে-এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে)

জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে অমানবিক এই ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি
আহবায়ক
সড়কে স্বজনহারা অভিভাবক ফোরাম

"We want Justice for Adnan Tasin"