টপিকঃ শিক্ষার্থী আদনান তাসিন হত্যাকাণ্ড বিচারহিনতার ১ বছরঃ সাংবাদিক সম্মেলন

http://www.sokaleralo.com/image/cnews/IMG_20200211_121425.jpg


১১ জানুয়ারী ২০২০,  মঙ্গলবার সকাল ১১:০০ টায় সড়কে সন্তান-স্বজনহারা অভিভাবক ফোরাম আয়োজিত “মেধাবী শিক্ষার্থী আদনান তাসিন হত্যাকাণ্ডের বিচারহিনতার ১ বছর ও সড়ক দুর্ঘটনার নামে সন্তান হত্যার বিচার” দাবীতে অভিভাবকদের সংবাদ সম্মেল” দাবী উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি, এনাম সরকার, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট,ইনজামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক, নিসআর, মোস্তাক আহমেদ ভাসানী, চেয়ারম্যান ন্যাপ ভাসানী

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছোটভাই মোস্তাক আহমেদ ভাসানী বলেন, ‘যাদের বেলায় আন্দোলন হচ্ছে শুধু তারাই ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন, আর যাদের বেলায় আন্দোলন নেই তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। বিচার ও ক্ষতিপূরণ দুটোই সবার বেলায় থাকা দরকার। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে। মামলা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াতও চাই।’

শেওড়ায় নিহত সাইফুল ইসলামের ভাই নাজিদউদ্দিন বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর ঘাতক বলাকা বাস ও তার চালককে আটক করে থানায় রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে চালককে ছেড়ে দেয়া হয়। আমরা মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানিয়ে মরদেহ নিয়ে দাফন করি। এরপর এই দুর্ঘটনার তেমন কোনো তদন্তই হয়নি।

গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর ওয়ারীতে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে ওয়াসার গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান আবির নামে এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় মামলা হলে ঘাতক চালক চুন্নু মিয়াকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এখন নানাভাবে ভয়ভীতি ও মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আবিরের বড়বোন লিজা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসার গাড়িটি যখন তার শরীরে উঠিয়ে দেয় তখন একটি হাত চাকার নীচে যায়। আবির বারবার চিৎকার করে জানায়, গাড়িটা সামনে নেন। সেদিন গাড়িটা সামনে বাড়ালে আমার ভাইয়ের হাত যেতো তবে বেচে থাকত। চালক না শুনে আবারও পেছন দিকে যাওয়ায় আমার ভাইয়ের মাথা থেতলে গিয়ে মগজ বের হয়ে যায় এবং মারা যায়।

আমানউল্লাহ সিকদার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছেই। আমরা দেখেছি যেসব দুর্ঘটনায় আন্দোলন অবরোধ হয়েছে সেগুলোরই তদন্ত হয়েছে, তাদের পরিবারই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। সবার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৮০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা হয় না, অল্পসংখ্যক মামলা হয় তার বেশিরভাগ মামলার তদন্ত দুর্বলতাসহ নানা কারণে আসামিরা খালাস পেয়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার সুশাসন থেকে বঞ্চিত হয়।

নিসআর যুগ্ম আহ্বায়ক ইনজামুল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার নামে হত্যাকাণ্ডের শিকার বড় অংশই শিক্ষার্থী। এসব সমস্যার সমাধানে সড়ক নিরাপত্তা ও নৈতিক শিক্ষা সম্মিলিত পাঠ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সড়কে সন্তান স্বজনহারা অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক আদনান তাসিনের পিতা আহসানুল্লাহ টুটুল, বলেন সন্তান হত্যার বিচারহিনতার আজ ১বছর,  ৩৬৫দিন পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি তার পরিবার। প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে শরণাপন্ন হওয়ার পরেও এখনো দোষী চালক বা বাস মালিক কেউই আইনের আওতায় আসেনি।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর খিলক্ষেত থানার জোয়ারসাহারা বাসস্ট্যান্ডের কাছে উত্তরা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ক-১১৪৫৮৪)তাকে শিক্ষার্থীর পোশাকে দেখে ক্রোধ –আক্রোশের বশে সেন্টযোসেফ কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদনান তাসিন কে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। আদনানের বাবা আহসান উল্লাহ টুটুল জিপিএস ভাইরাসে আক্রান্ত ২০১৭ সাল থেকে, শারীরিক অক্ষমতা হওয়ার পরও ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের দারে দারে ঘুরেছেন। এরপরেও তিনি বিচার পাননি। আদনান তাসিনের অসুস্থ বাবা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে শরণাপন্ন হওয়ার পরেওকোন ধরনের বিচার,সহানুভুতি বা বিচারের আশ্বাসও পায়নি! আজ যদি আদনান তাসিন আপনার সন্তান, ভাই বা আন্তিয় হত? আপনি কি পারতেন নিস্পাপ এই শিশুটির নির্মম হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে? পারতেন কি মেনে নিতেএই হত্যাকাণ্ডের বিচার ঢাকা পড়ে যাক? আদনান তাসিন আপনার এলাকার নিস্পাপ সন্তান –    আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে - অন্তত তার হত্যার বিচার হোক, ঘাতকের সাজা হোক, নিস্পাপ শিশুটি পৃথিবীতে নেই, তাকে হত্যা করা হয়েছে,সে আর ফিরে আসবেনা। আদনান তাসিনের মত সড়কে কোন ঘাতক চালকের হাতে আর কেউ যেনো খুন না হয় আর কারো মায়ের বুক যেনো খালি না হয়।

আজ তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ছেলেকে হত্যার পর চালক গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। থানা পুলিশ গাড়িটিকে আটক করে থানায় নিলেও পরে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রিন্সিপ্যাল, শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের রহস্যজনক নীরবতা ও ভুমিকার কারণে – কোন প্রতিবাদ হয়নি, কোন মিডিয়ায় সংবাদটি প্রকাশ হয়নি, ভাইরাল হয়নি তাই এ ঘটনায় বিচার পাওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, ছেলে হত্যার বিচারের জন্য আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, গুলশান বিভাগের ডিসি, উত্তরের মেয়র, কাউন্সিলর, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে শুরু করে সব সেক্টরে গিয়েছি। কোনো ব্যবস্থাই এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে আমি হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আপনারা জানেন যে, এখানে (জোয়ারসাহারা বাস স্ট্যান্ড -প্রস্তাবিতঃ আদনান তাসিন চত্বর) ফুটওভার ব্রিজ ছিল, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে ফুটওভার ব্রিজ সরিয়ে ফেলে, এত ব্যাস্ত সড়কে রাস্তার ডিভাইডার কেটে মানুষের চলাচলের জন্য জেব্রাক্রসিং করা হয় কিন্তু সামনে পিছনে কোন স্পীড ব্রেকার নাই, সিগন্যাল নাই, ট্র্যাফিক পুলিশ নাই, এটা মৃত্যুফাঁদ করা হয়, এই একই স্থানে ইতিমধ্যে আরো অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুবরণ করেছেন।শিক্ষার্থী আদনানতাসিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে শেষমেশ। আপনি বা আপনার আত্মীয়-স্বজন, সন্তান, শিক্ষার্থীর যেনো এমন করুণ পরিণতি না হয় সেজন্য সকলকে সচেতন করুন এবং সেই সবাইকে সাথে নিয়ে মানবন্ধনে শামিল হোন। আদনান তাসিনসহ সড়কে হত্যাকাণ্ডের শিকার সবার ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। আসুন আমরা সড়কে হত্যা খুনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধ হই। শিক্ষার্থী রাজিব, দীয়া-করিম, হিমেল, ফাইযা, আরিফ,আদনান তাসিন, সাইফুল আবরার, লাবণ্য, তাঞ্জিলা,  ওয়াসিম, সালাউদ্দিন, শিল্পী, সাব্বির, আবির,  তার পর কে? আপনি বা আপনার সন্তান নয় তো? ওদের থামান !! বিচারহিনতা ও প্রশ্রয় অপরাধ প্রবণতাকে আনুপ্রানিত করে !! গণজাগরণ সৃষ্টি করুন – সড়কহত্যা বন্ধে এগিয়ে আসুন।

"We want Justice for Adnan Tasin"