সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shakil-Ahammed (২৩-১২-২০১৮ ০৮:২৭)

টপিকঃ জননী বাংলা সাহিত্য সংসদ — 'জবাসাস'

✨ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
◻ ◻  জননী বাংলা সাহিত্য সংসদ — 'জবাসাস'
একটি অরাজনৈতিক, শিক্ষা, সাহিত্য ও সেবামূলক সজিব  সংগঠন। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণই সংগঠনের প্রতিপাদ্য।
➡ " সাহিত্য চর্চায় কর মনোনিবেশ,
                       বাঁচাও সাহিত্য,বাঁচাও দেশ। "
এই বিশুদ্ধ চর্চাই সংগঠনের পাথেয়।  তরুণদের নিয়ে আগামীর সুষ্ঠু সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংগঠনের পথযাত্রা। এখানে হয়তো ভুলের পর ভুল হবে কিন্তু এক একটি ভুলই হবে আমাদের শিক্ষক ।
➡ তাই কাব্যের ভাষা বলতে চাই-
   ভুল ভুল বলে কেন
থাকবো সদা নিশ্চুপ?
ভুল হতে শিখবো সদা
  লভিব নব্য রূপ।
◻ ◻  আমাদের মৌলিক কার্যক্রম মূলত চারটি বিষয়ের ওপর  ভিত্তি করে পরিচালিত ।   যথা–

◼ শিক্ষাঃ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ব্যতীত কোন দেশ বা জাতি উন্নয়নের পথে হাটতে পারে না । মেরুদণ্ড ছাড়া যেমন মানুষ সোজা হয়ে দাড়াতে পারে না, হাঁটতে পারে না, চলাচল করতে পারে না; তেমনি শিক্ষা ব্যতীত কোন জাতি নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারে না। বলা হয় থাকে, যদি কোন দেশ বা কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চাও, তবে প্রথমে সে জাতি বা দেশের শিক্ষাকে ধ্বংস করে দাও। তাহলে অতি সহজে সে দেশ বা জাতিকে ধ্বংস করতে পারবে। শিক্ষার গুরুত্ব সম্বন্ধে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন,
➡ "আমার পরে সবচেয়ে বড় দানশীল সে , যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান লাভ করলো , অতপর তা ছড়িয়ে দিলো । [ বায়হাকী ] "
শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়বস্তু নিম্নরূপঃ-
▶ একাডেমিক শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদেরকে অধিক আগ্রহী করে তুলা।
▶ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
▶ নৈতিকতার শিক্ষা সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া।
▶ এছাড়াও  সংগঠনের সাধ্যানুযায়ী শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহনে 'জবাসাস' সর্বদা সচেষ্ট থাকবে  ইনশা আল্লাহ।


◼ সাহিত্যঃ মানুষের দর্শন,বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা, নৈরাশ্য, তার অন্তরের সত্য ও স্বপ্ন — এসবই সাহিত্য । দর্পনে যেমন আমাদের পূর্ণাঙ্গ মুখচ্ছবি প্রতিফলিত হয়, তেমনি সাহিত্যেও একটি জাতির পরিপূর্ণ চিত্র ফুটে উঠে। সাহিত্য কেবলমাত্র কবির কবিতা ও সাহিত্যিকের রচনা নয়, এটি একটি জাতির সংস্কৃতিরও ধারক।
➡ " সাহিত্য চর্চায় করো মনোনিবেশ,
                           বাঁচাও সাহিত্য, বাঁচাও দেশ ।
এই বিশুদ্ধ চর্চাই সংগঠনের পাথেয়। সাহিত্য একটি ধারালো অস্ত্রের মতো। যদি কোন ভালো মানুষ তাকে অর্জন করতে পারে তবে সে এ দ্বারা  সমাজের সকল নষ্টামির গর্দান উড়িয়ে দেয়। আর কোন মস্তিষ্কবিকৃত মানুষের হাতিয়ার হলে সে সমাজকে নষ্টামির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করে ফেলে। সাহিত্য— ফিলহালে কাঁটাভরতি এক বাগানের মতো, আমরা সেই বাগানের কাঁটাগুলোকে উপড়ে ফেলতে আমরা সদা প্রস্তুত। সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতার প্রভাব বিস্তার করতে আমরা দুঃসহ । সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়বস্তু নিম্নরূপঃ-
▶ সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করা ।
▶ সংগঠনের পক্ষ থেকে লেখার মান যাচাইয়ের ভিত্তিতে তা পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা।
▶ বিভিন্ন সময় সাহিত্য আসরের আয়োজন করা।
▶ এছাড়াও  সংগঠনের সাধ্যানুযায়ী সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহনে 'জবাসাস' সর্বদা সচেষ্ট থাকবে  ইনশা আল্লাহ।

◼ সেবামূলক কর্মকাণ্ডঃ অন্যের ব্যথায় সমব্যথী হওয়া এবং পরের বিপদে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা একটি মহৎ গুণ। এক ধরনের নেকীর কাজ। হিতৈষী মনোভাব ও সহমর্মিতার গুণ ছাড়া মানবিকতা ও মহানুভবতার বিকাশ পূর্ণতা পায় না।
➡ ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’
আমি তিনবেলা পেট পুরে খেতে পারি। একাধিক পদের তরকারি ছাড়া আমার খাবার রোচে না। বিচিত্র স্বাদ আস্বাদন ছাড়া আমার রসনা তৃপ্ত হয় না। বাসার নৈশ প্রহরী কুকুরকে নিত্য টাটকা গোশত খাওয়াই। দুই বেলা শাহী খাবার খেতে দেই। শ্যাম্পু ছাড়া ওর গোসল হয় না। অথচ পাশের বস্তিতে/বাড়িতে খাবার না পেয়ে অবোধ শিশুরা চিৎকার করে কাঁদে। জঠরজ্বালা সইতে না পেরে কত বনী আদম পথের ধারে উপুড় হয়ে কাতরায়। ফল-ফ্রুটস খেতে খেতে আমার আদরের দুলালের অরুচি ধরে যায়। অথচ বাড়ির বুয়ার অভুক্ত সন্তানদের মুখে মৌসুমী ফলটি পর্যন্ত ওঠে না। ক্ষুদে মাছির লঘু পদভার পড়ামাত্র সুডৌল আপেল, রসে টইটুম্বর আঙ্গুর ও টসটসে কমলা ওরা প্রায়শই নিক্ষেপ করে ডাস্টবিনে। অথচ এরা পঁচা ও উচ্ছিষ্ট ফল খাওয়ার জন্য ইতর প্রাণীর সঙ্গে যুদ্ধ করে ডাস্টবিনে। ফ্যাশন বদলের সঙ্গে সঙ্গেই আমার মেয়ের শীতবস্ত্র আর গ্রীষ্মের পোশাক বদল হয়। অথচ অদূরের গাঁয়েই কি-না শীতবস্ত্রের অভাবে গরীবের প্রাণ যায়।এসব তো বিবেক বা মানবতার পরিচায়ক নয়। অমানবের চেয়ে মানব শ্রেষ্ঠ কেন? প্রাণের কারণে? কেবল বুদ্ধির কারণে? মোটেও না। প্রাণের বৈশিষ্ট্যে মানুষ ও জীব-জন্তু প্রায় অভিন্ন। মানুষ বুদ্ধিমান জীব বলে অন্য সব জীবজন্তু একেবারে বুদ্ধিহীন নয়। বরং বুদ্ধির সঙ্গে বিবেক এবং আপন চাহিদার সঙ্গে মানবিকতার সংশ্লেষই অন্য সব জীব-জন্তুর ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছে। ইসলাম এ কারণে মানব সমাজে এমন বৈষম্য ও প্রভেদের কোনো সুযোগ রাখে নি। ইসলাম মানুষকে সর্বোচ্চ মানবিকতা, পরহিতৈষণা, সহমর্মিতা ও মহানুভবতার শিক্ষা দিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাঁর নবীকে প্রেরণ দয়া ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে।
➡ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّ ٱلۡمُصَّدِّقِينَ وَٱلۡمُصَّدِّقَٰتِ وَأَقۡرَضُواْ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا يُضَٰعَفُ لَهُمۡ وَلَهُمۡ أَجۡرٞ كَرِيمٞ ١٨﴾ [الحديد: ١٨]
‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত : ১৮]।  সেবামূলক বিভিন্ন কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নিম্নরূপঃ
▶ সাধ্যমত গরিব, দুঃখি ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্ঠা।
▶ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধ্যমত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্ঠা।
▶ দরিদ্র শিক্ষার্থী ও পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর তাগিদে যথাযথ পথ অবলম্বন করা। সর্বোপরি মানব কল্যাণ নিজেদের উৎসর্গ করা।
▶ এছাড়াও  সংগঠনের সাধ্যানুযায়ী সেবামূলক  বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহনে 'জবাসাস' সর্বদা সচেষ্ট থাকবে  ইনশা আল্লাহ।

◼ স্বদেশ প্রেম উদ্বুদ্ধ করাঃ মানুষের মধ্যে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে যতগুলো সৎ গুণাবলি বিরাজমান, তন্মধ্যে দেশপ্রেম অন্যতম। স্বদেশপ্রেম হচ্ছে নিজ জন্মস্থানের প্রতি ভালোবাসা। প্রকৃতপক্ষে স্বদেশপ্রেম মানবজীবনের মূল্যবান সম্পদ এবং সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষমাত্রই তার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন সর্বোপরি তার স্বদেশকে জন্মগতভাবেই ভালোবাসে। জীবন-জীবিকার প্রয়োজন ও কর্তব্যের টানে বিদেশে বসবাস করলেও মানুষ জন্মভূমি তথা মাতৃভূমির মায়া-মমতা ভুলতে পারে না। এসবের প্রভাব প্রতিটি মানুষের দেহ, মন ও প্রাণে বিদ্যমান থাকে। মাতৃভূমি ও জন্মস্থানের প্রতি মানুষের এ দুর্নিবার আকর্ষণ বা ভালোবাসা, ভালোলাগা, গভীর আবেগ-অনুভূতি ও মমত্ববোধকে বলে স্বদেশপ্রেম। দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করতে হলে স্বদেশপ্রেম অত্যাবশ্যক। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ : দেশের প্রতি ভালোবাসা মানব চরিত্রের একটি মহৎ গুণ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারলে মান-সম্মান, ঈমান-আমল রক্ষা করা যায়। ঈমানপ্রেমের মতো দেশপ্রেমও মোমিনের অস্তিত্বের অংশ। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে স্বদেশপ্রেমের কথা বলা হয়েছে। ইসলামে স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার জোরালো দিকনির্দেশনা রয়েছে। স্বদেশপ্রেম ও মাতৃভূমিকে ভালোবাসা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য । দেশ ও  দশের মঙ্গলকামনার্থে  আমাদের সংগঠন  সদা সর্বদা সম্মুখপানে হাটবে (ইনশাআল্লাহ)।  কখনো পিছুপা হবে না আমাদের এ পথযাত্রার (ইনশাআল্লাহ) ।

বিস্তারিতঃ facebook.com/groups/jb2018  ( ফেসবুক অফিসিয়াল গ্রুপ)
facebook.com/bhorbds (প্রতিষ্ঠাতা)

শাকিল আহম্মেদ