সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ovijatrimedia (০৪-১২-২০১৮ ১৩:০৯)

টপিকঃ ১২টি টিপস যা পড়াশুনার গতি বাড়াবে

পড়াশুনা করতে করতে ক্লান্ত! মাথা হ্যাং হয়ে আছে তাই না??  sad
এতো পড়াশুনা করে কি হবে? একদিন তো মরেই যাবো??  cry
না, আর হাসি ঠাট্টা নয়। সিরিয়াস কথায় চলে আসি। যে বিষয় নিয়ে কথা বলছি- যারা নিয়মিত ঠিকঠাক মতো পড়াশুনা করছেন কিন্তু জায়গামতো ভাল করতে পারছেন না- তাদের জন্য এই লেখাটি।

ছাত্রাবস্থায় মনোযোগের সাথে পড়াশুনা এবং পরীক্ষায় ভাল করা দুটোই খুব কঠিন হয়ে যায় সাধারণ মানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য। সাধারণ মান বলে কাউকে ছোট করছি না, বরং যেটা বলার চেষ্টা করছি তা হচ্ছে- অন্য সব দক্ষতার মতো পড়াশুনাও একটা চর্চার বিষয়। এখানে যে যত বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারবে সে তত ভাল করবে। কেউ কেউ দিন রাত পড়েও পরীক্ষায় আশানুরূপ রেজাল্ট করতে পারে না, অন্যদিকে কেউ কেউ নামমাত্র পড়াশুনা করেও তার চেয়ে ভাল করছে। এটা আসলে কীভাবে হয়? কেন হয়?

এখানে যতটা না মেধা বা স্মৃতির খেলা তার চেয়ে বেশি বুদ্ধির খেলা।
এই লেখায় মাত্র ১২টি বিষয় নিয়ে বলবো যা ফলো করলে পড়াশুনায় অগ্রগতি আসবে এটা বলাই যায়।

অনলাইন ম্যাগাজিন অভিযাত্রী অবলম্বনে এখানে ১২টি বিষয়ে নিজের মতো করে লেখার চেষ্টা করেছি।


১. একটা স্টাডি গোল সেট করা:

এটা শুধু পড়াশুনার জন্যই না, যেকোন কাজের বেলায় একটা সঠিক গোল সেট করা, এবং সেই অনুয়ায়ি কাজ করার উপরই ৮০% নির্ভর করে ঐ কাজের সফলতা এবং ব্যর্থতা। সুতরাং একটা গোল সেট করে ফেলুন। একটা বড় লক্ষ্য পূরণ করতে তাকে প্রথমে ছোট ছোট অ্যাচিভেবল গোলে ভাগ করে নিন। ছোট একেকটা গোল যখন আপনি অ্যাচিভ করবেন তখন এমনিতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। দুরের ঐ বড় লক্ষ্যটিকে তখন আর কঠিন মনে হবে না আপনার কাছে। বছরের শুরুতে আপনার বড় গোল হতে পারে- এই বছর আপনি ক্লাসে প্রথম তিনজনের মধ্যে থাকতে চান। সো এটা অ্যাচিভ করতে প্রথমে প্রতিটি মাসব্যাপি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। জানুয়ারিতে আপনি এই পর্যন্ত পড়বেন, তারপরের মাসে এটুকু। এভাবে ছোট ও বড় লক্ষ্য নিয়েই একটা প্রোপার গোল সেট করে ফেলুন।   

২. স্টাডি প্ল্যান তৈরি করা:

গোলতো সেট করলেন, এখন কাজ হচ্ছে একেকটা গোল অনুয়ায়ি স্টাডি প্ল্যান তৈরি করা। মনে রাখবেন এমন পরিকল্পনা করবেন না, যেটা করা এই মুহূর্তে আপনার পক্ষে সম্ভব নয়।   

৩. পড়াশুনার মাঝে বিরতি নেওয়া:

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে মস্তিস্কের সেলগুলো একেকটা তথ্যকে উপযুক্ত সাথে স্টোর করতে কিছুটা সময় লাগে। আপনি যদি টানা পড়ে যান, তাহলে যেটা হবে একদিকে পড়ে যাবেন অন্যদিকে ভুলবেন। তাই এমনভাবে পড়ুন যেন মাঝে মাঝে কিছু গ্যাপ থাকে। টানা একঘণ্টা পড়লেন তারপর পাঁচমিনিটের একটা বিরতি নিন। এটা খুব কার্যকর হবে। 

৪. নিজেকে পরীক্ষা করে দেখা:

অনেক তো পড়াশুনা করলেন। এবার মিলিয়ে দেখুন আপনি যে ছোট ছোট গোলগুলো সেট করেছেন সেটা অর্জন হচ্ছে কিনা। নিজেকে মাঝে মাঝেই পরীক্ষা করুন। আপনার অগ্রগতি দেখুন।

৫. নতুন নতুন টেলনলজির সাথে অভ্যস্ত হওয়া:

এখন টেকনোজলির যুগ। হাতের কাছে এমন অনেক নতুন নতুন টেকনোলজি আছে যা আপনার কঠিন কাজকে সহজ করে দিচ্ছে। এর সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলুন। দারুণ কাজে আসবে। ধরুন আপনি মোবাইল ফোনে স্টিকি নোট ব্যবহার করছেন। ওখানে এমন তথ্যগুলো সাজিয়ে রাখুন যেটা আপনি ভুলে যান। সুযোগ পেলেই সেগুলো দেখুন। 

৬. একটা সুস্থ ব্যাল্যান্স তৈরি:

আগেই বলেছি সারাদিন পড়াশুনা করতে থাকলেই ভাল করা যায় না। কতটুকু পড়বেন, কতটুকু ঘুমাবেন বা অন্য কাজে ব্যয় করবেন তার একটা সুন্দর এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাল্যান্স তৈরি করুন।


৭. পজেটিভ থাকা:

দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকুন। কোন একটা লক্ষ্য আপনি অর্জন করতে পারেননি। তাই বলে ভেঙ্গে পড়বেন না। কারণগুলো খুঁজে বের করুন। পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি আপনার যেকোন লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি দরকার।

৮. স্টাডি পার্টনার নিন:

আপনার কাছের একজন বন্ধুকে স্টাডি পার্টনার হিসেবে সাথে নিন। তার সাথে আপনার স্টাডি ম্যাটেরিয়াল বিনিময় করুন। অনেক সময় ও প্রেশার কমে যাবে আপনার। তার সাথে নিজের জানা বিষয়গুলো শেয়ার করুন। তার কাছে থেকে শিখুন, এবং তাকে শেখান আপনি যা ভাল বোঝেন এবং পারেন। 


৯. লেসনকে গল্পে পরিণত করুন:

জটিল এবং তথ্যপূর্ণ ম্যাটেরিয়াল মনে রাখার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে গল্প তৈরি করা। ধরুন বাস্তুসংস্থানকে আপনি মনে রাখতে চান, আপনি প্রতিটা লেয়ার এবং পুরো সার্কেলটাকে নিয়ে একটা কাল্পনিক গল্প তৈরি করে ফেলুন। দেখবেন ম্যাজিকের মতো আপনার মাথায় গেথে যাবে। 

১০. একটা স্টডি রুটিন তৈরি করা:

আপনার স্টাডি প্ল্যান, গোল অনুয়ায়ি দৈনিক, মাসিক, বাৎসরিক একটা স্টাডি রুটিন তৈরি করে রাখুন। তাতে আপনার পরিকল্পনা ম্যাপ আকারে সবসময় অরজার্ভ করার সুযোগ পাবেন। অযথা সময় নষ্ট হবে না।   

১১. ছোটখাটো চ্যালেঞ্জগুল চিহ্নিত করুন:

আপনি যে লক্ষ্য অর্জন করতে চান, তা অর্জনের পথে আপনার কি কি বাঁধা আসতে পারে তা নিয়ে একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন। সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগে থেকে আপনি সতর্ক থাকলে সময়মত তা সামলে উঠা আপনার জন্য সহজ হবে। 

১২. শিক্ষকদের পরামর্শ নেওয়া:

আপনার সমস্যা নিয়ে, আপনার পরিকল্পনা বা চেষ্টার কথা শিক্ষকদের সাথে শেয়ার করুন। তারা অনেক বছরের অভিজ্ঞ। আপনাকে ভাল কিছু টিপস দিতে পারবে। তাদের পরামর্শ নিশ্চিতভাবে আপনার কাজে আসবে। 

পরিশেষে আপনার মঙ্গল কামনা করছি।

তথ্যসূত্র: http://www.ovijatri.com

Re: ১২টি টিপস যা পড়াশুনার গতি বাড়াবে

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য,
এই তথ্য গুলো যদি আরও অন্তত কয়েক বছর আগে পেলে ভাল হত অন্তত আমার জন্য !!

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে