টপিকঃ আঁতকে উঠেন কেন? সবিনয়ে জানতে চাই

পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন / টাকা দিতে গেলে বা বেতন বারাবার কথা বললে অনেক আন্তেল, বুদ্ধিজীবি , নেতা , পোশাক কারখানার মালিক আঁতকে উঠেন !! শুরু হয় ঝড় !! কিন্ত কেন?
পোশাক কারখানার শ্রমিকরা পরিশ্রম করে দেশের জন্য আয় করে আর সেই আয়ের থেকে তারা বেঁচে থাকার মত পারিশ্রমিক চায়!!

পত্রিকার খবরে দেখলাম,  বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে বছরে ৪০০ কোটি ডলার ভারতে যায় , মাত্র কয়েক জন ভারতিও শ্রমিক , তার সাথে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কান ফিলিপিনের মাত্র কয়েক জন শ্রমিক , তাতে কষ্ট লাগে না, দেশের শ্রমিকদের টাকা দেবার কথা বললে অনেক আন্তেল, বুদ্ধিজীবি , নেতা , পোশাক কারখানার মালিক বলেন কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে!

সরকারী চাকুরীজিবিদের সুবিধা, ১২৮% বেতন বাড়ানোর সাথে সাথে  বাজারে সব জিনিসের দাম আনুপাতিক হারে বাড়ে , সরকারী চাকুরীজিবি ২২ লাখ আর পোশাক কারখানার শ্রমিক ৫০ লাখ,
আর ন্যূনতম মজুরি কাকে দিবে, নতুন শ্রমিকদের , মাসে একটি  কারখানায় কতজন নতুন শ্রমিক নেয়া হয়? ন্যূনতম মজুরি ১৬,০০০ দরকার নাই, দ্রব্য মূল্য , বাড়ি ভাড়া , গাড়ি ভাড়া , শিক্ষা খরচ , চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধি অনুপাতে বেতন করা হোক!!

কিন্তু অনেক পোশাক কারখানার মালিক আবার রাজনিতীতে নেমে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন, সেই টাকা ত তারা বাড়ি থেকে আনেন নি!

ঈদুল আজহার ছুটির কারণে গত আগস্ট মাসের শেষ ১০ দিন পণ্য রপ্তানি হয়নি। তারপরও ওই মাসে ২৯২ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৪ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ফলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে পোশাক খাতের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য; পাট ও পাটপণ্য; হোম টেক্সটাইল এবং হিমায়িত চিংড়ির মতো অন্য বড় খাতগুলোর রপ্তানিতে ধস নেমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সব মিলিয়ে ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট পণ্য রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৪ শতাংশের বেশি। এই সময়ে ২৯১ কোটি ২৮ লাখ ডলারের নিট ও ২৮২ কোটি ২২ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাকে দেড় শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

একজন গাধা সারাদিনের বেশীর ভাগ সময়ে পরিশ্রম করে আর সিংহ সারাদিন বেশীর ভাগ সময়ে ঘুমায়,
কিন্ত গাধা গাধাই আর সিংহ হলো পশুর রাজা
এরদ্বারা মনে হচ্ছে, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি নয়, দরকার পেশী শক্তি আর ক্ষমতা

একজন গামের্ন্টস কর্মি দিনের বেশীর ভাগ সময়ে কাজ করে
গামের্ন্টস কর্মিরা সমাজে অবহেলীত, মাসের বেতন গুলো্ও ঠিক সময়ে পায় না, অভাবগ্রস্থ, শেষ জীবন কাটে অনাহারে, মরে বিনা চিকিৎসায় নেই চাকুরীর নিশ্চয়তা আর নেই কোন পেনশান বা সুযোগ সুবিধা এরদ্বারা মনে হচ্ছে, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি নয়, দরকার টাকার শক্তি আর স্থিতিশিল চাকুরী বা প্রভাবশালী .........

গার্মেন্টস কর্মীদের ১ মাস চাকুরী না থাকলে বা অসুস্থ হয়ে গেলে, পুরো পরিবারের উপর ঝড় বয়ে যায়, অসুস্থ হয়েছেন ত চাকুরী নাই, কোন আর্থিক বা মানবিক সয়াহতা ও নাই, এর বাস্তব উদারন আমি নিজে, এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বুঝতে পারছি , পোশাক কারখানার মালিকরা তাদের শ্রমিকদের গরু ছাড়া কিছু ভাবে না,  গরু দুধ বাজারে বেচে, গরু দিয়ে হাল চাষ করে, গরু এত কিছু দেয় কিন্তু সেই গরু অসুস্থ হলে সাথে সাথে জবাই !!

বাস্তব উদাহারন, আমি পোশাক  দীর্ঘ  প্রায় ২৫ বছর কাজ করছি, ২০১৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  কারখানায় কাজ করি, হটাত ১৩ই সেপ্টেম্বর সকালে অফিসে আশার প্রস্ততি নিতে গিয়ে  দাঁড়ানো থেকে হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে যাই, হাসপাতালে নেওর পর খুব দ্রুত ইমারজেঞ্চিতে ঢুকায়, আর আমার পরিবারের সদস্যদের বলেন জররি ভিত্তিতে ১২ লাখ টাকা রেডি করতে, আমি জিবিএস ভাইরাস এ আক্রান্ত হই ,নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি হই, অনেক টেস্ট,
ইঞ্জেক্সান ঔষধ চলে, তার মধ্যে ১ টি ইনজেকশান ৩০,০০০ টাকা করে ২৫ টা দিয়েছি,  প্রচুর টাকা ব্যায় করার পর ভাইরাস মুক্ত হই, কিন্ত আমার ২ হাত আর ২ পা সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হয়ে যায়, বর্তমানে আমি এক জন ফিজিওর আন্ডারে চিকিৎসাধীন তাকে আগে প্রতিদিনে ১০০০ টাকা করে দিতে হত, সে তখন দিনে ২ বার আসত, সকল জমা টাকা , ডি পি এস শেষ তাই তিনি দিনে একবার আসে, এখন প্রতিদিনে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়,  ঔষধ চলে প্রতিদিন তার উপর সাংসার খরচ, বাড়িভাড়া ২ সন্তানের লেখা পড়া , বই খাতা কলম খরচ, প্রাইভেট পড়ার খরচ , যাতায়াত খরচ, ইত্যাদি আমি গত ২০১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শয্যাশায়ী , কোন উপার্জন নাই, ২৫ বছরে ২৫ এর অধিক সাগরেদ , সুভাখাঙ্খি,  ছিল , কেউ ফন করে খবর ও নেয় না, যে কারখানায় কাজ করতাম তার চেয়ারম্যান আমার ফোন ধরে না, আমি ১২ই সেপ্টেম্বর তারিখ পর্যন্ত কাজ করেছি, তারা ২০১৮ সালে আমার সেই সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ভেঙ্গে ভেঙ্গে  দেয়, কিন্তু কোন খোঁজ খবর নেবার সময় তাদের নাই!! আমি আর আমার পরিবার এখন একমাত্র আল্লাহর ভরসায় বেঁচে আছি!!

২২ শে জুলাই দেশ টিভি খোজ খবর টক শো তে ইস্রাফিল নামের একজন সরকার দলের এম পি আলচনায় বলেন, পোশাক শ্রমিকরা ১৬০০০ টাকা, আর মালিক রা বলছেন ১৬০০০ টাকা দিলে এই দেশে গার্মেন্টস থাকবে না, মালিকরা যে তাদের কারখানা বড় করলেনন কমপ্লিয়াঞ্চ করলেন সে টাকা তারা কথায় পেয়েছেন? জায়গা বিক্রয় করে কি এনেছেন? বিশ্বের আধুনিক, নিয়মানে টপ ১০ কারখানার মধ্যে বাংলাদেশে ৭ , এটা কেভাবে হল? বিদেশী কর্মীদের উচ্চ বেতন দেওয়া হয়, ভারত শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ পোষাক সেক্টর থেকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে নিয়ে যায়!! বেতন বাজার দর অনুযায়ি বৃদ্ধি ও পেনশন সিস্টেম চালু করতে হবে!!

https://www.prothomalo.com/economy/arti … 5%E0%A6%BE

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে