টপিকঃ ছোটগল্প

বকেয়া কথা
         - আশাফাক মাহমুদ।

১.

রেল স্টেশনের প্লটাফর্মের একটা ছোট্ট চা দোকানের পাশে একটা ছেলে চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কাধের ব্যাগটা পাশের একটা টুলে রাখা আছে। অন্য হাতে মোবাইল। চোখ মোবাইলের দিকে থাকলেও মাঝে মাঝে এদিক ওদিক নজর রাখছে।
কারো জন্য আপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে। এরপর কি মনে করে ব্যাগ টা কাধে তুলে নিলো। চা শেষ হয়েছে। চায়ের বিল দিয়ে, প্লাটফর্মের একদিকে হেটে চলেছে।
- আসিফ।
হটাৎ একটা মেয়ের কণ্ঠ শুনে প্রথমে চমকে উঠে। তারপর আবার হাটতে গিয়ে থেমে যায়। পিছনে ঘুরে তাকায়। একজন মহিলা তার দিকে খুব দিপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে। পরনে কালো বোরকা, হিজাব করে রেখেছে,  শুধু চোখ দুটো দেখা যায় মত করে হিজাব করা। চিনতে না পেরে প্রথমে একটু থতমত খেয়ে যাই । কিন্তু পরক্ষনেই আবার নিজেকে সামলে নিলাম ।
- আসিফ। কেমন আছো..?
আরে,  চিনি না জানি না,  কোথা থেকে এসে আমার খবর নেওয়া শুরু করেছে। এটা কিভাবে সম্ভব ?
এই পৃথিবীতে আমার এত শুভাকাঙ্কি কবে থেকে তৈরী হচ্ছে কে জানে। তারপরেও বললাম,
- ভালো আছি। খালাম্মা আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না। আপনি আমাকে কিভাবে চিনেন।
- খালাম্মা !!
মহিলাটা খুব করে হেসে যাচ্ছে,  কিন্তু এখন মনে হচ্ছে না যে সে খালাম্মা,  সদ্য বিবাহিত কোনো মুসলমান ঘরের মেয়ে হবে হয়তো। আমাকে অবাক করে দিয়ে মহিলা এবার তার হিজাব এর পিন খুললো। আস্তে আস্তে হিজাব সরিয়ে নিজের চাদ বদন চেহারা আমার সামনে তুলে ধরলো। খুব পরিচিত কেউ মনে হলেও ঠিক চিনতে পারলাম না। তাই হেসে হেসেই বললাম
- আমি আপনাকে এখনো চিনতে পারি নাই। তবে আপু আপনি যে খালাম্মা নন এটা নিশ্চিত।
- এখনো চিনো নাই। আচ্ছা আগে বলো তুমি আসিফ কি না ?
- হ্যা।
- ছোটবেলা থেকে চট্টগ্রামে আছো ?
- হ্যা। এক সেকেন্ড,  আপনি এতসব কিভাবে জানেন ?
- তুমি আফরা নামের কাউকে চিনতে ?
নিজের এক্সগার্লফ্রেন্ডের নাম শুনে প্রথমে একটু লজ্জা লাগলো। কিন্তু সেটা তো অনেক আগে। কলেজ লাইফে। আজ এত বছর পর এই নাম কেনো আজ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। আর তাছাড়া সে যে আফরা কে নিয়ে এত কল্পনা জল্পনা করে গেছে এবং যাচ্ছে তা তো আফরা জানে না। সে জানে ওরা খুব ভালো বন্ধু, ব্যাস এইটুকু।
- হ্যা।
- কচু চেনো। তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, আর তাকে চেনা তো দুরের কথা উল্টো আরো, আন্টি আপু করা শুরু করেছো।
- কি ?  তুমি ?   আফরা ? হাঃহাঃ। অনেক বড় হয়ে গেছো,  তাই চিনতে পারছি না।
- ওহ,  আর তুমি কচি খোকা। সেই আগের ছেলেটা রয়ে গেছো। 
- এমনটা আমি বলিনি।
- এমন টা তুমি আগেও কখনো বলো নি। বলতেও না। কি করছো এখন ?  মানে টো টো কোম্পানীর ম্যানেজারি ছাড়া আর কি কিছু করছো ?
- আপাতত একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে একাউন্টেন্ট অফিসার হিসেবে আছি। তোমার কি অবস্থা ?
- একটা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করছি, হিসাববিজ্ঞান এর উপর।
- বিয়ে করো নি ?
- না।
কিছু একটা বলবো ভেবে চুপ হয়ে গেলাম । সেই ১০ বছর আগ থেকে যে কথা এখনো বলতে পারে নি তা এখন কিভাবে বলবো। কথার পথ পাল্টানোর চেষ্টা করে বললাম
- তোমার কি কোনো বছর গ্যাপ ছিলো। আমরা তো একসাথে ইন্টার পাশ করেছি।
- হ্যা। খুব বড় ঘটনা তাই আজ বলছি না।

২.

সকালে ঘুম থেকে একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছে আজকে। ঘড়িতে দেখি ৯ টা বেজে ৩০ মিনিট। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখি ৬ টা কল একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে। পরিচিত কেউ হলে কারণ বুঝতে পারতাম কিন্তু এখন সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। কল দিলাম, রিং  হচ্ছে,
- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।  আপনি কি এই নাম্বারে সকালে অনেকবার কল দিয়েছিলেন ?
- হ্যা।  আসিফ। আমি আফরা।
- ওহ আচ্ছা।  কেমন আছো ?
- ভালো,  তুমি ? 
- ভালো। আচ্ছা পরে কথা বলবো। আমি একটা কাজে আছি, এখন। বাই।
- বাই। 
ওইদিনের রেল স্টেশনের দেখা হওয়ার পর আর ওর সাথে কোনো যোগাযোগ হয় নি। অবশ্য আমার নাম্বার যে ওর কাছে ছিলো সেটা এখনো মনে পড়ছে না। ও হ্যা।  সেই সেদিন অর্থাৎ প্রায় তিন মাস আগে যখন তার সাথে স্টেশনে কথা হয়েছিলো তখন নিয়েছিলো।  কিন্তু আজ হটাৎ কল দিলো। কেনো ?   বিশেষ কোনো কারণ ? সেই আগের ব্যাপার নিয়ে কি কোনো কথা ?
ঘুম থেকে দেরি করে উঠলে আমাদের ঘরে এখনো শাস্তির ব্যবস্থা আছে। নিজের নাস্তা দোকানে গিয়ে করে আসতে হবে। তাও নিজের পয়সায়। অগত্যা আমিও তাই করলাম। মা রান্নাঘর থেকে অবশ্য একবার ডেকেছিলো কিন্তু তা কি কারণে সেটা বুঝতে পারি নি।
বাড়ির গেটের বাইরে আজ বেশ কয়েকদিন ধরে একটা পাগল দেখা যাচ্ছে। হাব ভাব ভালো নয়। তেড়ে আসবে এমন একটা ভাব থাকে সবসময়।  আমি যথাসম্ভব এড়িয়েই এসেছি। আজ হটাৎ তাকে দেখলাম না।আমি হোটেলের দিকে বাক নিতেই সে কোথা থেকে এসে আমার সামনে এসে দাড়ালো। কিন্তু আজ আর সেই রুক্ষ ভাব টা নেই। যেন আমার কোনো আত্মীয়। আমার দিকে খুব আদরের সঙ্গে চেয়ে রইলো। যেন আমার থেকে কিছু চাইছে
- বাবা,  আজ সকাল থেকে পেটে কিছু পড়ে নি। কিছু খেতে দিবি !
আরে আমি যে নাস্তা খেতে যাচ্ছি এ লোক তা কিভাবে জানে ? আর কোনোদিন তো এমন আসে নি, তবে আজ কেনো ?
- দিবি না, বাবা ! বড়লোক রা এমনি হয়। বড়লোক রা এমনি হয়। বড়লোক রা এমনি হয়।
পাগলে তিনবার হাসে এটা শুনেছি কিন্তু এক কথা যে তিনবার বলে, এটা আজ দেখলাম। কিন্তু লোকটার কথা যেন আমার কানের কাছে পিন ফোটাচ্ছে। কেনো জানি না তাকে ডাকতে ইচ্ছে হচ্ছে,
- এই যে শুনুন। আসেন আমার সাথে। নাস্তা খেতে যাবো।
লোকটা সহাস্যমুখে আমার সাথে হেটে চলেছে। হোটেলে নিয়ে ওনাকে তিনটা পরটা আর একটা চা দিতে বললাম, লোকটা তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে ।  আর আমি তৃপ্তি নিয়ে দেখছি। আজ কয়দিন ধরে মনটা কেমন জানি করছিলো। এখন অনেকটা হালকা লাগছে।
বাসায় ফিরে এলাম। আজ অফিস বন্ধ।  আমার অফ ডে। বাসায় বসে বসে টিভি দেখছিলাম। ভালো লাগছিলো না বলে, ডায়েরিটা খুলে বসলাম। দেখলা কিছু রেখা টানা যায় কি না। তিনমাস আগের একটা ডেট দিয়ে একটা থিতিস লেখা।  পড়ার ইচ্ছে নেই। তাই লেখা শুরু করলাম। কি লিখছি তা নিজেও জানি না।
এমন সময় আফরা কল দিলো।
- হ্যালো আসিফ। তুমি কি ফ্রি আছো ?
- হ্যা। বলো। কি বলার ছিলো ?
- এই কথাটা তোমাকে অনেক আগেই বলার প্রয়োজন ছিলো। সেই ১০ বছর আগের সেই বন্ধু্ত্বটা আজ হটাৎ এত টা বেশি মনে হচ্ছে কেনো জানি না। কিন্তু কথাটা আজ না বললেই নয়। তাই বলছি মন দিয়ে শুনছো তো..?
- হ্যা। বলো।  ( খুব উদগ্রীব।)
- আমি তো.....
লাইন  কেটে গেছে। এর পর অনেক চেষ্টাতেও তার সাথে যোগাযোগ করা গেলো না, তখন আবার কল এলো
- হ্যালো আসিফ।  শুনছো ?
- হ্যা।
- আমি তোমাকে একটা জিনিস পাঠাবো। তোমাকে একটু কষ্ট করে জিনিসটা কুরিয়ার থেকে নিয়ে আসতে হবে।  ব্যাস এইটুকু।
- ওহ আচ্ছা। খুব পারবো।

৩.

রাত ১০ টা বেজে ২৫ মিনিট। এই মিনিট বলা টা আমি একজন মহান ব্যাক্তি থেকে শিখেছি। নাম টা এই মুহুর্তে মনে আসছে না। পরে বলবো। ঠিক এমন সময় আফরার কল এলো।  প্রথমে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। পরে ভাবলাম হবে হয়তো কোনো প্রয়োজনে।  রিসিভ করে কানে দিলাম
- কালকে তোমার একটা ইম্পোর্টেন্ট কাজ আছে। তোমার জন্য অবশ্য পালনীয়। 
- জ্বি বলেন। শুনছি।
- কাল সকাল দশটায় মহাখালী বাস স্ট্যান্ড এর পাশের সুন্দরবন কুরিয়ার থেকে একটা পার্সেল নিতে হবে।
- পার্সেল টা কার ?
- সেটা তোমার জানতে হবে না। বাই। পার্সেল নিয়ে আমাকে একটা ফোন দিয়ো। বাই।
বলেই ফোন কেটে দিলো। যেন আমি ওর কাজের লোক। যা ইচ্ছা তা করাচ্ছে। খুব খারাপ।  এভাবে আর কতদিন। জানি না। বুঝতে পারছি না। কাল আমার অফিসে প্রচুর কাজের চাপ থাকবে। বস ভিজিট করতে পারে। যখন তখন। বিশ্বাস নেই। কি করা যায় সেই নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। গোসল করে পাঞ্জাবি পরে নিলাম। বস কে একটা মিথ্যা বলতে এই পোশাক।  পোশাকের মর্ম কাজে প্রকাশ পায়। পোশাক দিয়ে অনেক কিছু হয় যেমন,  ছোটবেলায় একবার স্কুলে পৌছতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো। প্রথম ক্লাস ছিলো খুব একটা রাগি টিচার এর। ক্লাসের বাইরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম কি করা যায়।  পরে ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে প্যান্টের এক পাশে পানি ঢেলে একটু ভিজিয়ে নিলাম।  ক্লাসে গিয়ে খুব নরম সুরে,
- স্যার, আসতে পারি।
- না। এত দেরি হয়েছে কেনো। কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকো।
- স্যার একটা গাড়ি।
- গাড়ি কি হয়েছে ?
- ( স্যারকে প্যান্টের ভেজা অংশ দেখিয়ে ) স্যার রাস্তা দিয়ে একটা গাড়ি যাওয়ার সময় কাদা ছুড়ে দিয়েছে।  তাই দূরের একটা নল থেকে গিয়ে পরিষ্কার করতে হয়েছিলো।  তাই দেরি হয়ে গেছে।
- আজ কাল কার গাড়ির ড্রাইভার। মাথায় বুদ্ধি শুদ্ধি নেই। যা গিয়ে বস। 
সেই যাত্রার মত রক্ষা।
অফিসে বস এসেছেন একটু তাড়াতাড়ি।  আমার টেবিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটু দাঁড়িয়ে,
- আসিফ। ( আমি অফিসে সবার ছোট বলে আমাকে নাম ধরে ডাকেন।) তুমি আজ হটাৎ পাঞ্জাবি পরে এসেছ। কোনো বিশেষ কারণ ?
- স্যার কাল আমার এক আত্মীয়ের বিয়ে ছিলো।  আজ সেখান থেকেই এসেছি। কাল সারা রাত ঘুম হয় নি।
- তাহলে তুমি আজ ছুটি নিয়ে নাও। আজ আর এখানে থেকে কষ্ট করতে হবে না।
- ধন্যবাদ স্যার। অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ছুটি।  বাহ, কি যে আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারবো না। সঙে সঙে কুরিয়ার এর পথে রওনা দিলাম।  পৌছে দেখি ৯ টা ৩১ বাজে। কিছুক্ষন পাখার নিচে বসে ঠান্ডা হওয়ার চেয়ে বাইরে হোটেলে গিয়ে একটা চা খেয়ে নিলে মন্দ হয় না। তাই করলাম। ১০ টা ১২ মিনিটে আবার এলাম। কাউন্টারে নাম বলে পরিচয় দিলাম। ফোন নাম্বার চাইলো।  সেটাও দিলাম। একটা প্যাকেট দিলো।  একটা কাগজে সই করতে হলো। তারপর একটা বেঞ্চে বসে প্যাকেট খুলতে খুলতে আফরাকে কল দিলাম,
- হ্যালো, আফরা, পার্সেল পেয়েছি।
- Happy Birthday to you.
   Happy Birthday to you,  my dear Asif.
Happy birthday.  বইগুলো আশা করি তোমার পছন্দ হবে। বাই।
আমার মুখ দিয়ে কিছু বের হচ্ছে না। পেরালাইসড।
বই গুলো সহ পার্সেল টা ব্যাগে রেখে বাসায় গেলাম। বাসায় গিয়ে প্যাকেট থেকে বইগুলো আবার বের করলাম।  একটা কাজী নজরুল ইসলাম এর। আরেকটা হুমায়ুন আহমেদের। সাথে একটা ডায়েরি আর একটা ফাউন্টেনপেন।  সাথে একটা চিরকুট। তাতে ইংরেজিতে লেখা আছে।
" Best of luck  "
আজ আমার বয়স ২৮ হলো। কিন্তু আজ পর্যন্ত কয়টা জন্মদিন এ আমাকে কে বা কারা কখনো মনে করিয়ে দেয় নি বা আমার ও মনে নেই। আজ হটাৎ মনে পড়ায় অনেক খুশির কান্না কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে।  জানি না  কেনো ।
ডায়েরির মাঝখানটায় একটা পৃষ্ঠা ভাজ পড়ে আছে। সেখানে কিছু আছে কিনা দেখার জন্য ডায়েরিটা খুললাম। সেখানে একটা লেখা আছে। লেখাটা খুব বড় না হলেও খুব ছোট যে তা বলাও ভুল হবে। উপরে একটা তারিখ দেওয়া। হয়তো যেদিনের লেখা সেদিনের তারিখ।  লেখাটা অনেকটা এরকম
" আজ ১৭ জানুয়ারি।  সাল টা বলছি না। পরে নিশ্চই মমে পড়বে। কারণ এটা একটু স্পেশাল। আজ আমার জন্মদিন কিন্তু আমি নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার এই জন্মতারিখ ঠিক ই একজনের মনে আছে। সে একটা ছেলে, যদিও আমি মেয়ে। এই সম্পর্কটা আমাদের দেশে কেমন একটা অদ্ভুত শোনায়। যাই হোক ছেলেটা আমার বন্ধু, শুধুই বন্ধু, আর কিছুই না। স্বভাবে এক নাম্বারে ভীতু, লাজুকের হাড্ডি, আর যদি বলা যায় তো মনটা ভালো। যদিও মন বাহির থেকে দেখে বোঝার জো নেই। তবুও আমি যতটুকু চিনি ততটা থেকে বলছি। সে আমার এই জন্মদিন মনে রেখেছে। কেনো রেখেছে তা আমি জানি না। জানার ইচ্ছা নেই। সে আজ সকালে আমাকে ফোন দিয়েছে,  দিয়ে আমাকে একটা মিথ্যা বললো,  সে বলেছিলো আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ নোটস তার কাছে আছে সেগুলো যেন আমি নিয়ে যাই। আমিও তার কথা বিশ্বাস করে বের হলাম। সে আমার সামনে এসে আমতা আমতা করে বললো ' Happy Birthday ' শেষ আমার নামটা পর্যন্ত বললো না মুখে। বলে আমার হাতে একটা প্যাকেট দিলো।  দেখে বুঝলাম প্যাকেট টা ওর নিজের হাতে বানানো।  আমি জিজ্ঞাসা করলাম,  ' এসব কি ?  '
সে বললো সে জানে না। কিন্তু তখনো সে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।  কি জানি কি বিড়বিড় করছে। কিছু বলবে হয়তো। হয়তো ভয় পাচ্ছে,  লজ্জাও পাচ্ছে।  হয়তো কিছু বলবো না। জানি না। তবে এইটুকু জানি এই চমকে আমি খুশি হয়েছি। আচ্ছা আজ এই টুকু। এই ডায়েরিতে আর কিছু লেখা হবে কি না জানি না। কারণ ডায়েরি রাখার অভ্যেস টা আমার নেই। তবে সেই ছেলেটা যদি আর কিছু বলে বা করে, তা অবশ্যই লিখবো।  "

৪.

ডায়েরির লেখাটা পড়ে কিছুই বোঝা গেলো না। কি বলতে চাইলো কি বলতে পারে নি, কিচ্ছু না। কিন্তু একটা বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে ও আমার না বলা কথা গুলো শুনতে চায়। কিন্তু এই কাজটা আমাকে দ্বারা কিভাবে সম্ভব।  তা আমিও নিজেও জানি না। ১০ বছর আগে যে কাজ করতে চাইলেও করতে পারি নি,  শত চেষ্টা শত ইচ্ছাও যে কাজের কোনো ফল ঘোষণা করে নি তা এত বছর পর কিভাবে সম্ভব। তবে এই বছরগুলোতে নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছি আমি। আগের মত এখন আর চোখের সামনে ও কে দেখি না। রাতে ঘুমুতে গেলে ওর কথা মনে আসে না। তবে এর কারণ টাও যথার্থ।  আগে কলেজে থাকতে ওকে একবার দেখার সম্ভাবনা থাকতো যা এই বিগত বছর দশেক প্রায় অসম্ভব ছিলো। কিন্তু আজ হটাৎ তার ছবিটা কেনো জানি না সাদাকালো ক্যানভাস হতে তুলে এনে রঙ দিতে মন চাইছে। এত সব কিছু যখন আমার মনকে ঘিরে আছে তখন আর একটা মিরাকেল ঘটতে দেরি করে নি। আগের দিনে আমার গল্পের বই পড়ার একটা নেশা ছিলো বলা চলে,  তখনকার অনেক বই এখনো আমার কাছে আছে। তার মধ্যে একটা সেরা বই
ছিলো।  তা আজ হটাৎ আমার মনে অন্য এক চিন্তার বাণ ছুড়েছে।  সেটা ছিলো একটা হলুদ খাম। খামটার রঙ কাচা হলুদ হওয়ার ও একটা বিশেষ কারণ ছিলো। আফরার প্রিয় রঙ হলো কাচা হলুদ। খামটার ভেতরে আমার সহস্তে লেখা একটা চিঠি, যার প্রাপক হয়তো বা এর অপেক্ষার পালা শেষ করে আজ আবার আমার সামনে এসে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করছে। খামটা আবার খুললাম। তাতে সুন্দর সুস্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে অনেকগুলো বাচ্চা হাতের লেখা। লেখাটা অনেকটা এরকম।
" প্রিয় আফরা
আমার চিঠিটা হয়তো তোমার কাছে একটা বিরাট প্রশ্নের উত্তর প্রার্থী।  প্রশ্নটা করার আগে তোমাকে কিছু কথা বলে নেওয়া দরকার। তা হলো তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে, এই বয়সের ভালো লাগাটা মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় ভিন্ন রকম হলেও আমার কাছে এটাই সত্যি ।  জানি না বিষয়টা তুমি কিভাবে নিবে।  কিন্তু আমার দ্বারা যতটুকু সম্ভব আমি ততটুকু বলবো।
আমি শুধু এইটুকুই বলবো,   
আমি তোমাকে  ভালোবাসি।

ইতি
আসিফ মাহমুদ। "
এই চিঠিটায় কোনো তারিখ নেই। তাই ঠিক করলাম এই চিঠিটা এখন ওকে দেওয়া উচিত। শুধু বয়সের ব্যাপারটা ঠিক করতে হবে। না থাক। ওর জানা উচিত যে আমি ওকে কখন থেকে ভালোবাসি। চিঠিটা মুছে নিলাম। ওকে কাল ই দিতে হবে যেভাবে হোক।

৫.

আফরাকে ফোন দিবো ভেবেছিলাম সন্ধ্যায়। কিন্তু কি এক কাজের ধান্ধায় ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু এক আশ্চর্য ব্যাপার হলো,  আফরা আমাকে করলো নিজেই। রিসিভ করতেই শুরু হয়ে গেলো। কেমন আছো ?  কি করো ?  কালকে কি করবো ?  বিকেলে কোথায় থাকবো ?
ও কাল সকালে চট্টগ্রাম আসবে ওর খালার বাসায়। গাড়িতে উঠে পড়েছে। কাল থাকবে পরশু যাবে। কি বিশেষ কাজ করবে। সেই কাজ নাকি আমাকে বলা যাবে না। আমিও অগত্যা তাতেই রাজি। দেখা যাক কি বলে। নিজের চিঠিটা গুছিয়ে নিলাম। এত বছরের জমানো স্মৃতির সব কথা কাল বলতে পারবো। নিজের কাছে অনেকটা হালকা লাগবে। আশা করি। চিঠিটা খুজে নিয়ে সামনে ওর দেওয়া ডায়েরির সাথে রাখলাম। কাল ওর আসল মালিক আসছে,  দুঃখিত, মালকিন।
সকালে ঘুম ভাংলো অনেক তাড়াতাড়ি। যা সাধারণত এলার্মের দ্বারা সম্ভব হয় না। কিন্তু ও তো আসছে বিকেলে। যাই হোক,  অফিসের কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করতে পারলে পুরো বিকেলটা আমি স্বাধীন। কোনো কাজ নেই শুধু আমি আর আমার বিকেল আর আফরা। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে অফিসে গিয়ে কাজ বের করে দ্রুত হাত চালাতে লাগলাম। আমার পাশের বেঞ্চিতেতে বসে থাকা নকিব ভাই তো অবাক। আমাকে তিনি হয়তো এর আগে কখনো এমন করতে দেখেননি। সেটা কিভাবে,  আমি হলাম ফাঁকিবাজ।  যাই হোক কাজ কিছুটা এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। বিকেলের আগে বের হতে পারবো। 

বিকেল ৪ টা।  কাজ শেষ। বের হলাম অফিস থেকে। আফরাকে ফোন দিলাম।  ও ওর খালার বাসা থেকে বের হয়েছে। দুজনের কথা ছিলো দুজনেই একটা পার্কে দেখা  করবো। দেখা গেলো আমিই আগে পৌছে গেলাম। তবে এই অপেক্ষাটাও মধুর। একটা পিচ্চি ছেলে বাদাম বিক্রি করছে। তার থেকে দশ টাকার বাদাম নিলাম। ব্যাগ থেকে চিঠিটা বের করলাম। পার্কে ঢুকতে একটা গোলাপ ফুল কিনেছিলাম। গোলাপ ফুলটা চিঠিটার সাথে রাখলাম। একসাথে দিবো।  মনের ভেতর অন্য রকম এক অনুভূতি।  সেটা কিভাবে লিখতে হয় তা আমি জানি না, প্রকাশ করতেই লেগেছে ১০ বছর।
হটাৎ পেছন থেকে কে একজন ডাক দিলো। মেয়েলি কণ্ঠ শুনে বুঝতে দেরি রইলো না যে সে আফরা। পেছনে না ঘুরে আগে চিঠি আর গোলাপ ফুলটা আড়াল করলাম। আফরা এসে পাশে বসল,  ওর হাতে একটা বিয়ের কার্ড।  দেখতে খুব জমকালো কার্ড বিধায় আমার বুঝতে বাকি রইলো না যে ওটা বিয়ের কার্ড।  কিন্তু ওর বোনের বিয়ে হয়েছে অনেক বছর হলো।  তাহলে কার বিয়ের কার্ড,  আফরার নয় তো ?  মন এর ভেতরটা কেমন যেন ধুক করে উঠলো। চিঠিটা ক্রমশ আড়াল করতে লাগলাম। ও আমার থেকে একটু দূরে সরেই বসলো। কার্ডটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।  আমি জিজ্ঞাসা করলাম
- কার বিয়ে  ? আফরা।
- ওর মুখে লজ্জার ভাব।  কিন্তু কিছু বললো না। বললো,  খুলেই দেখো।
- আমি খুললাম।  বরের নাম : নিহাল বিল্লাহ।
কনের নাম  :  আফরা আক্তার।
আমি কি করবো বুঝতে পারলাম না। গোলাপ ফুলটা পাশে পড়ে গেলো। না দেখেই চিঠিটা কোনভাবে সরিয়ে পকেটে পুরলাম।

- যাবে তো ?  গেলে কিন্তু খুব খুশি হবো। খুব খুশি হবো।
- হ্যা যাবো তো। যাঃ যঃ যাঃ যাবো।  অবশ্যই যাবো। কেনো যাবো না। অবশ্যই যাবো।
আমি আর এক মুহুর্তের দেরি করলাম না। সেখান থেকে উঠে চলে এলাম। ব্যাগ টা কাধে নিয়ে আমি চলে এলাম। তারপর আর আফরার সাথে দেখা হয় নি। যোগাযোগ ও হয়নি।  ওর বিয়ের দিনটাও পার হয়ে গিয়েছে হয়তো। নিশ্চিত নই কারণ আমি তারিখটা দেখি নি।

৬.

এই কয়েকদিন যাবৎ আমার শরীর খুব খারাপ করেছে। আসল কথা শরীর ও মন দুটোই একসুত্রে গাথা।  তাই হয়তো শরীর খারাপ।  ওইদিনের বিকেলের ঘটনাটা মনে আনতে চাচ্ছি না, কিন্তু কেনো জানি না মনে একটা উতলা ভাব এখনো রয়ে গেছে। আবার নিরাশ হই এই ভেবে যে ওর তো বিয়ে হয়ে গেছে হয়তো।  ও হয়তো ভালোই আছে,  আমি যাই নি বলে একটু মন খারাপ করবে হয়তো,  হয়তো বা তাও করবে না। ওই বিকেলের ঘটনাটার আজ ১ সপ্তাহ হতে চললো। আমি এই কয়েকটা দিন খুব মন খারাপ এর মধ্যে আছি,  কাজ এ মন নেই, ঘরে কারো সাথে ঠিক করে কথা বলছি না। আজ সকাল এ ঘুম থেকে দেরি করে উঠেছি।  মা আর বাবা ঢাকা যাচ্ছে,  ছোট ভাইটা আমার এক খালার বাসায় বেড়াতে গিয়েছে। দিনতিনেক পর আসবে। বাবা আর মা যাচ্ছে আমার এক চাচার বাসায়, তিনি খুব অসুস্থ,  আমাকে বলা হয়েছে তাদের সঙে যেতে, কিন্তু আমার কাজ কর্মের অবস্থা দেখে বাবা নিষেধ করলেন। সুতরাং এই দুইদিন আমি বাসায় একা। মা আর বাবা আজ বিকেলের ট্রেনে রওনা দিবেন। তাই সকাল থেকেই মা ঘরের কাজে ব্যাস্ত।  ১০ টা বাজে মা আমার ঘরে এসে আমাকে ডাকলেন। বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসতে বললেন। মা ও আমার ব্যাপারে কিছুটা চিন্তিত।  কারণ আমি এর আগে কখনো এমন করি নি,  আর সব কথাই মা কে বলেছি, শুধু ওইদিনের ঘটনা বাদে। মা এসেছেন আমার ঘর টা পরিষ্কার করতে, আর সাথে আমার কাপড় চোপড়গুলো ধোয়ার জন্য নিয়ে যাবেন। আমিও মা র কথামত ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নামলাম। আজ বাইরের পরিবেশটা কেমন যেন অন্য রকম,  আমাদের সামনের রাস্তার পাগল লোকটাকে আজ আর পাগল মনে হচ্ছে না। নতুন একটা পাঞ্জাবি পরেছে।  আমাকে দেখে খানিকটা সহাস্যমুখে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আজ আর তার মুখে দারিদ্রের বা ক্ষুদার কোনো ছাপ নেই। আমাকে কিছু বলবে বলে সে এগিয়ে আসছে মনে হলো,  তার বলার আগেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম
- চাচা, কিছু খাবেন ?  চলেন নাস্তা করে আসি।
- না,  আইজ কিছু খামু না। যদি কও তো চা খাওয়াইতে পারো।
আমি কিছু অবাক হলাম, হাসিও পাচ্ছে খুব। পারিপার্শ্বিক মানুষের অবস্থার উন্নতি হলে আমার খুব আনন্দ লাগে। আজও লাগছে। তাকে নিয়ে হোটেলে গিয়ে চা খাচ্ছি,  কথার ছলে জিজ্ঞাসা করলাম
- চাচা তোমার ঘরে কে কে আছে ? 
- একটা বউ,  আর দুইটা পোলা,  একটা মাইয়া।
- ওহ আচ্ছা। ছেলেরা কি করে ? 
- দুইটাই চাকরি করে কিন্তু আমাগো খোজ খবর রাহে না। আমরাও আর খোজ খবর রাখি না,  আর মাইয়াটার বিয়া হইয়া গেছে শশুর বাড়িত আছে। ভালা আছে।
- হুম।
তাকে আজ অন্য রকম লাগছে,  কথা বলছে যেন সে পৃথিবীর অন্যতম একজন সুখী মানুষ। তবে আজ আমারও কিছুটা ভালো লাগছে। চা খেয়ে আমি বিল দিতে উঠে গেলাম,  কিন্তু লোকটি তখনো চেয়ারে বসে বসে মুচকি হাসছে। কি জানি কি ভাবছে।
বাসায় এসে দেখি মা আমার জামাকাপড় এক গাদা নিয়ে গোসলখানার দিকে যাচ্ছে।  আমাকে দেখে একটু থমালো,
- মানুষের প্যান্টের পকেটে টাকা থাকে,  আর তোর প্যান্টের পকেটে এসব কি ?
মা তাহলে আফরার জন্য লেখাটা চিঠিটা পেয়েছে,  পড়েছে ?  তা জানি না। খুব একটা থতমত খেয়ে আছি।
- কি পেয়েছো ? 
- বাদাম এর ঠোঙ্গা।  তুই আজকাল এসব পকেটে নিয়ে ঘুরছিস।  কি যে হয়েছে তোর। 
বলতে বলতে মা গোসলখানায় চলে গেলেন। আমি ভাবছি অন্য কথা,  ওইদিন তাহলে না দেখে আমি বাদামের ঠোঙ্গা নিয়ে ঘরে ফিরেছি ?  তাহলে চিঠিটা কই ?  নির্ঘাত পার্কে ফেলে এসেছি।  আফরা কি চিঠিটা পেয়েছে ?  এত চিন্তার চাপে কিছু মাথায় আসছে না। দুপুর দুটা বাজে। মা বাবার বের হওয়ার সময় হয়েছে,  তাদের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলাম। একটা সি এন জি ঠিক করে দিয়েছি। তারা চলে গেলে আমি এসে আমার রুমে বসে থাকলাম। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি, মোবাইল বন্ধ হয়ে আছে।  চার্জে দিয়ে রাখলাম কিন্তু পাওয়ার অফ।  একটা বালিশে হেলান দিয়ে বসে বসে হুমায়ুন আহমেদের লেখা  " ময়ুরাক্ষী " বইটা পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে কোনসময় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও জানি না। ঘুম ভাঙলো খুব জোরে দরজায় কড়া নাড়ানোর শব্দ শুনে। কিন্তু বাসায় তো কলিং বেল আছে। উঠে গিয়ে দরজা খুললাম। আমার শ্বাস বন্ধ হবার জোগাড়। আফরা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।  হাতে আমার লেখা হলুদ খামার ওই চিঠিটা। আর সেই গোলাপ ফুল তাতে খানিকটা বালি লেগে আছে।
- আফরা,  তুমি এখানে !  কেনো ?  কিভাবে ?
- তুমি যে মন ভোলা, আমাকে নিজের ঠিকানা দিয়েছো আর এখন জিজ্ঞাসা করছো কিভাবে এসেছি। ( চিঠিটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে )  এটা কি ? 
- একটা চিঠি।
- কার লেখা ? 
- আমার। 
- কার জন্য লিখেছিলে ?
- তোমার জন্য। 
- দাও নি কেনো।
- সাহস হয়নি।
- ভীতুর ডিম একটা। তোমার এই ভয়ের জন্য আমার জীবনে কত বড় এক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছিল তা তুমি জানো ?
- না বললে কিভাবে জানবো।
- আমি কি বাইরে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবো। কাণ্ডজ্ঞান তো কিছুই নাই দেখতেছি। ম্যানার তো ছিটেফোঁটাও নাই।
- এসো এসো ভেতরে এসো।
ভেতরে এসে সোফায় বসলো। আমি দাঁড়িয়ে আছি।
- একটু পানি দিতে পারবে ?
- অবশ্যই।
পানি খেয়ে আবার বলতে শুরু করলো
- কেমন আছো ? 
- ভালো। তোমার বিয়ে হয়ে গেছে,  তাই না। আমি অসুস্থ ছিলাম তাই যেতে পারি নি। 
- না। ভালো করেছো যাও নি। আর বিয়েটা হয়নি।
আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।
- তুমি মিথ্যে বলছো। এটা সম্ভব না।
- হ্যা। কিন্তু তোমার ভুলের জন্য সম্ভব হয়েছে।
- মানে কি ?
- আরে গাধা, আমার হাতের চিঠিটা দেখেও বুঝতে পারো নি। আমি যে কি দেখে তোমাকে..
- আমাকে কি ? 
- কিছুনা। তুমি আমাকে অনেক কিছু বলতে চাও, তাই তো। আজ বলবে। আমি সবকিছু জানতে চাই।
- আমি কি বলবো ?  তুমি বলো ? 
- যে কথা টা আরো আগে বলবে বলেছিলে।  না পারলে, আমি যাই তাহলে।  আশা করবো ভবিষ্যতে যেন আর দেখা না হয়।
আফরা উঠে যাচ্ছে,  দরজার কাছে যেতেই আমি বললাম
- আফরা আমি তোমাকে...
- আমাকে কি ? 
- আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আফরা এসে আমায় জড়িয়ে ধরেছে। আমার শ্বাস প্রশ্বাস খুব দ্রুত হচ্ছে। জানি না কি হবে তারপর। আর কিছু হয়তো বলার বাকি নেই। বকেয়া কথাও আজ আর বকেয়া নেই।
         
                                ( সমাপ্ত )

আশফাক..