টপিকঃ আপনার ব্যক্তিত্ব গড়বে যে ৮ কৌশলে

সাবলীল দক্ষতা এবং চরিত্রের বিকাশের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাগুলো সবসময়েই অসীম। আপনি যদি নিজের মধ্যকার গুণগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে যেমন নতুন কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, সাথে শিখতেও পারবেন অনেক কিছু। ব্যক্তিত্বের বিকাশ আপনার ব্যক্তিজীবন এবং কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করবে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী অনেকে বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি মানুষের স্বভাব-চরিত্র স্থায়ী এবং সেটা কোনোভাবেই বদলানো সম্ভব না। তবে এই কথাটি পুরোপুরি সত্য না। ব্যক্তিত্ব হচ্ছে আচার-আচরণ ও চিন্তাভাবনার একটি অনন্য মিশ্রণ। দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করলে নিজের স্বভাব এবং চিন্তাভাবনার উন্নতি সাধন করা সম্ভব।

নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার ব্যক্তিত্বের উন্নতি সাধন করতে পারেন:

১) হয়ে উঠুন চমৎকার একজন শ্রোতা:

কেউ মনোযোগ দিয়ে আপনার কথা শোনে?- এর মানে হচ্ছে তাঁর কাছে আপনি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের এই অনুভূতিটাই অন্যকে উপলব্ধি করাতে হয়ে উঠুন একজন চমৎকার শ্রোতা। সুন্দর করে কথা বলা যেমন একটি গুণ, তেমনি অন্যদের কথা শোনাও একটি বিশেষ দক্ষতা। একজন শ্রোতা নিজের আশপাশ থেকে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। আপনি যখন গুরুত্বসহকারে অন্যদের কথা শুনছেন, তখন অন্যরাও আপনার প্রতি সমান গুরুত্ব দেবে এবং যেকোনো বিষয়ে মন খুলে আপনার সাথে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করবে না। আপনার ব্যক্তিত্বে এই বিশেষ গুণটি যুক্ত করে নিজের ব্যক্তিত্ব আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন খুব সহজেই।

২) জানার পরিধি বাড়িয়ে তুলুন:
ব্যক্তিত্বের সাথে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আগ্রহের দিকগুলো বিস্তৃত করুন। এটি আপনার মনকে সতেজ রাখবে এবং নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞানের পরিধি বাড়াবে। এছাড়াও অন্যদের কাছে  আপনি আরো আকর্ষনীয় হয়ে উঠবেন কারণ তারা তখন আপনার কাছ থেকে নতুন কিছু জানার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে যেমন আপনার আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণে বেড়ে যাবে, তেমনি নিজের আগ্রহের বিষয়ে অন্যদের সাথে কথা বলার সুযোগটাও পেয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারেন এবং নিজের চিন্তাভাবনাকে চার দেয়ালের মাঝে আটকে না রেখে আরো বৈচিত্রময় করে তুলতে পারেন। অভিজ্ঞতা বাড়াতে বিভিন্ন সৃষ্টিশীল সংগঠন অথবা প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হতে পারলেই জানার পরিধি আস্তে আস্তে বাড়বে।

৩) আলাপচারিতা বাড়ান:
নিজের এবং অন্যদের আগ্রহের কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে আলাপ-আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। কোনো বিষয় সম্পর্কে আপনার যতো বেশি জ্ঞান থাকবে, যেকোনো কথপোকথনে আপনি ততো বেশিই অংশ নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে খুব ভালো একজন বক্তা হতে পারলে অন্যদের আকর্ষণের বিন্দু হয়ে যেতে পারেন খুব সহজেই। তবে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, সব বিষয়ে জ্ঞান রাখা পৃথিবীর কারোর পক্ষেই সম্ভব না। তাই অজানা কোনো বিষয় নিয়ে আলাপচারিতার সময়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলা অথবা অযথা বিতর্কে যাওয়া উচিত না। এতে বরং হিতে বিপরীত হয়ে অন্যদের কাছে আপনি হাসির পাত্র হয়ে যেতে পারেন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন, তেমনি অন্যদের কাছ থেকেও শিখতেও পারবেন অনেককিছু। আর এতে আপনার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে বহুগুণে। আর ব্যক্তিত্ব হবে সমৃদ্ধ।

৪) নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হোন:

সবসময় নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সাথে চলাফেরা করলে আপনার জানার পরিধি কম হবে। ডিজিটাল এই যুগে নেটওয়ার্কিং এর গুরুত্ব অনেক বেশি। যতো বেশি মানুষের সাথে পরিচিত হতে পারবেন, নেটওয়ার্কিং বাড়ানো ততোই সহজ হয়ে যাবে। নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হলে তাঁদের সংস্কৃতি, ধারণা, মতামত ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং তা আপনার মন-মানসিকতার বিকাশে সাহায্য করবে। এছাড়াও এর মাধ্যমে অন্যান্য লোকদের প্রতি আপনার সহনশীলতার মাত্রা বেড়ে যাবে। মোটকথা, এটি আপনার মনের দিগন্তকে আরো বিস্তৃত করবে, ব্যক্তিত্ব হবে উন্নত।

৫) Interpersonal Skill বা আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতাগুলোকে বাড়িয়ে তুলুন:
জীবনে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারপার্সোনার স্কিলগুলোর জুড়ি নেই। অন্যদের কথা মনযোগ সহকারে শোনা, তাদের সাথে যোগাযোগ করা এবং পজিটিভিটি ছড়ানোর মাধ্যমেই আমরা আমাদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিলগুলোকে বাড়াতে পারি। অন্যের সমস্যাগুলোকে নিজে অনুভব করতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দক্ষতা। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো জটিল বিষয় সমাধান করাও সম্ভব।এই স্কিলগুলো যে শুধুমাত্র পেশাগত জীবনে প্রয়োজনীয়-তা নয়, ব্যক্তিগত জীবনে এর মূল্য অপরিসীম। পৃথিবীর আদর্শ নেতাদের মধ্যে এই গুণটির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তাই আপনার ব্যক্তিত্ব আরো সুগঠিত করতে বাড়িতে তুলুন এই দক্ষতাটি।

৬) Leadership skill বা নেতৃত্বদানের দক্ষতা বাড়ান:

“নেতৃত্বদানের ক্ষমতা আসে জন্ম থেকেই’’-এই কথাটি সম্পূর্ণভাবে সঠিক নয়। আপনি যদি পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন করতে চান, তাহলে নেতৃত্বদানের দক্ষতাগুলো বাড়িয়ে তোলা আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সবার সাথে যোগাযোগ রাখা, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা, পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা করা, বিশ্বস্ততা অর্জন করা, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা বাড়ানো যায়।

চাকুরীজীবিরা এই দক্ষতাটি বাড়ানোর জন্য সবসময়ই উন্মুখ হয়ে থাকেন, কারণ এর মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, অনুপ্রেরণা দেওয়া সহজ হয়। পাশাপাশি দ্রুত প্রোমোশনের ক্ষেত্রেও এটি বেশ সহায়ক। তবে শুধুমাত্র চাকরিক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা আছে- তা নয়। পরিবারের যেকোনো ডিসিশন নেয়ার জন্যেও Leadership Skill গুলো ডেভেলপ করা প্রয়োজন। এতে করে অন্যরা আপনার কথা শুনবে, মানবে এবং আপনাকে শ্রদ্ধা করবে। আপনার ব্যক্তিত্ব হবে সমৃদ্ধ।

৭) উপস্থাপনার কৌশল আয়ত্ব করুন:
শুধুমাত্র চাকরীর ইন্টার্ভিউ অথবা ইউনিভার্সিটি লাইফে সিজিপিএর জন্য না, উপস্থাপনার কৌশল কাজে দেবে আপনার জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই। উপস্থাপনা এমন একটি গুণ, যা আপনার কনফিডেন্স বাড়িয়ে দেবে এবং আপনার প্রতি সবার পজেটিভ ধারণা সৃষ্টি করবে। আপনি যদি আপনার মনের কথাগুলোকে অন্যদের সামনে তুলে ধরতে চান, তবে উপস্থাপনার কৌশলগুলোকে আয়ত্ব করার কোনো জুড়ি নেই! যেকোনো বিষয় সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করলে আপনার প্রতি সবার আকর্ষণ অনেকাংশেই বেড়ে যাবে। আপনার বাচনভঙ্গি এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে হয়ে যেতে পারেন দক্ষ একজন উপস্থাপক। আপনার বাচনভঙ্গি আপনার ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে।

৮) অন্যকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন:
সম্মান এবং প্রশংসা অর্জন করা যায় ঠিক তখনি, যখন আপনি নিজে অন্যকে সম্মান দেবেন এবং প্রশংসা করবেন। কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে সেটা পূর্ণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘সততা’ এবং ‘সত্যতা’ একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষের জন্য এক অপরিহার্য গুণাবলী। মনে রাখবেন, সততা এবং সম্মান থাকলে আপনার ব্যক্তিত্ব অন্যদের চোখে চকমকে দেখাবে। ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কিংবা গায়ের বর্ণ দিয়ে কাউকে বিচার করা ছোট মন-মানসিকতার পরিচয়। আপনি যদি সবাইকে সম্মান করতে জানেন, তাহলে অন্যরাও আপনাকে সম্মান করবে। কাজেই অন্যদের সম্মান করুন যাতে করে আপনি নিজে একটি সম্মানজনক জীবন লাভ করতে পারেন।

সবশেষে,লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।সময় পেলে ইন্টারনেট অফার সংক্রান্ত আমার নতুন ওয়েবসাইটটি ঘুরে আসতে পারেনঃ priyosim.blogspot.com