টপিকঃ ২৭ আগস্ট দিঘলিয়ার_দেয়াড়া_গণহত্যা_দিবস।

আজ ২৭ আগস্ট খুলনার
#দিঘলিয়ার_দেয়াড়া_গণহত্যা_দিবস।
============================

১৯৭১  সালের এদিন খুলনা জেলাধীন দিঘলিয়ার দেয়াড়া গ্রামে রাজাকার বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে ৬০ জন নিরপরাধ বাঙালিকে হত্যা করে। সেদিনের কথা স্মরণ করে আজও শিউড়ে ওঠেন এ অঞ্চলের মানুষ।

নারকীয় সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে শরীরে ১৯ টি আঘাত নিয়েও বেঁচে যাওয়া আবুল বাশার সেদিনের ঘটনা স্মরণে এখনও হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের অমিত তেজের মুখে ১৯৭১ এর আগস্ট মাসে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা তখন কোনঠাসা আর পর্যুদস্তু। এরই মধ্যে ২৭ আগস্ট ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পাকি সেনারা রাজাকারদের নিয়ে হামলে পড়ে দিঘলিয়ার দেয়াড়া গ্রামের অসহায় নিরীহ মানুষের ওপর।

আচমকা আক্রমণের মুখে কেউ কেউ পালাতে পারলেও তাদের হাতে ৬১ জন যুবক ও বয়স্ক মানুষ ধরা পড়েন। রাজাকাররা ওই ৬১ জনকে গুলি আর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ত বিত করার পৈচাশিক উল্লাসে মেতে ওঠে। নারকীয় ওই পরিবেশের মধ্যে ৬০ জন ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। এঁদের ৩৮ জনের লাশ পাষণ্ড রাজাকারের দল ভৈরব নদীতে ফেলে দেয়। বাকী  ২২ জনকে তিনটি গণকবরে মাটি চাপা দেয়।

আবুল বাশার জানান, আজও তিনি অপোয় আছেন ঘাতক-দালালদের বিচার দেখার আশায়।

এদিকে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আজ দিবসটি পালন করছে খুলনাবাসী।

সকাল ১০ টায় খুলনা বিএমএ মিলনায়তনে গণহত্যা দিবস স্মরণে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনা শাখার উদ্যোগে ডা. শেখ বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে  ‘একাত্তরে দিঘলিয়ার গণহত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৫ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বিশেষ অতিথি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন।

এর আগে সকাল ৮ টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনা জেলা শাখা গণহত্যাস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, খুলনা জেলা সভাপতি ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, ডা. বঙ্গকমল বসু, শরিফুল ইসলাম সেলিম প্রমূখ।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে দেয়াড়ার শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, খুলনা শহরের বধ্যভূমি ও নির্যাতনকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে সংপ্তি ইতিহাসসহ নামফলক স্থাপন এবং ২০ মে খুলনার চুকনগর গণহত্যাদিবসকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা।

উল্লেখ্য চুকনগর গণহত্যায় একদিনে দশ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল বর্বর পাকিস্তানিরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২৪ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১০ (*অন লাইন নিউজ)

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে