৬৪১

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

https://2.bp.blogspot.com/-J8SUMWAytDQ/WAKzLE8RgPI/AAAAAAAAIV8/tNmYpl5_6G05QSSaL5oXP45fZDcgNRAxACK4B/s1600/way.jpg

Fine Tuning    sad

https://2.bp.blogspot.com/-Jj92pryfaYs/V_wpI9vkQ3I/AAAAAAAAISo/B25KyNUmFfAJZS-KWOZRC-yqake5Yw4NwCK4B/s1600/perfectly.jpg

hit like thunder and disappear like smoke

৬৪২

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আস্তিকতা নাস্তিকতা বিতর্ক কুতর্ক আমি ছেড়ে এসেছি অনেক আগে। যখন ব্লগ লিখতাম, তখন। এখন করি না। তখন বোকা ছিলাম। এখন বুদ্ধিমান। কিছু কিছু ভাই এখনো এ নিয়ে বেশ আগ্রহ বোধ করেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলি, এসব থেকে দূরে থেকে নিজে পড়াশুনায় মন দিন। এগুলোতে কোনো রেজাল্ট আনে না। এনার্জি সময় মনের উপর চাপ ইত্যাদি নেগেটিভ বিষয়গুলো প্রভাব সৃষ্টি করে। এতে নিজেরই ক্ষতি। এগুলোতে কোনো হারজিত নেই। কেউ হারতে চাইবে না। যত নিঁখুঁত যুক্তি তথ্যই তুলে ধরা হউক না। নাস্তিকতার অন্যান্য সাইট ছাড়া শুধুমাত্র ডারউইনবাদ নিয়ে যারা জানতে চান, তারা শুধু Stephen C. Meyer (https://www.youtube.com/user/DrStephenMeyer/videos) ফলো করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন। কারণ উনিই একাই ডারউইনবাদকে কবরস্থ করেছে। তবে, আগের মনীষীদের ঋণ স্বীকার পূর্বক।

৬৪৩

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

ডারউইনবাদ কি জিনিশ? ডারউইনবাদকে কবরস্থ করা বলতে কি বুঝাতে চেয়েছেন?
Stephen C. Meyer ইনি অফিশিয়ালী পড়াশুনা করেছেন পদার্থ বিজ্ঞান, হিস্টোরি, ফিলোসফি নিয়ে। উনার বায়োলজি নিয়ে কোন অফিশিয়াল পড়াশুনা নেই।

এভুলেশন/বিবর্তন ব্যাপারটা জটিল কিছু না। উইকিতে গেলে একবারে প্রথমেই এই লেখাটা পাবেন, "বিবর্তন (ইংরেজি: Evolution) হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের (traits) ক্রমপরির্তনকে বুঝায়।"।

মাটি দিয়ে প্রাণের সৃষ্টির কোন প্রমান আপনি দিতে পারবেন না (ধর্মগ্রন্থ ছাড়া) , কিন্তু এ্যমিনো এসিড সম্পর্কিত প্রমান বেশ পরিমানে পাবেন। একেবারে সহজ বিবর্তনের প্রমান হিসাবে যেকোন ছোট বাচ্চাকে দেখতে পারেন, এখানে শারীরিক প্রমান পাবেন না, কিন্তু অন্য একটা প্রমান পাবেন আর সেটা হচ্ছে বুদ্ধিমত্তা।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

৬৪৪

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস


13 মিনিট থেকে big_smile

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

৬৪৫

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

সমালোচক লিখেছেন:


13 মিনিট থেকে big_smile

আচ্ছা বিবর্তনের কোন ধাপে ধর্ম আবির্ভূত হল এবং কেন ? কিভাবেই বা এটা এতদিন ধরে টিকে রয়েছে ? এটা বিবর্তনের কোন ফলাফল ? যদি তাই হয়ে তাহলে এটাকে আঘাত করে ফায়দা কোথায় ? বিবর্তনে অন্য কোন বিকল্পতো আগামীতে এমনিতে এটাকে সরিয়ে দিবে ?

আশা করি কেউ উত্তর দিয়ে কৃতার্থ করবেন।

hard to hate but tough to love

৬৪৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (২১-১০-২০১৬ ০২:১৯)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

Gypsy Saleh লিখেছেন:

আচ্ছা বিবর্তনের কোন ধাপে ধর্ম আবির্ভূত হল এবং কেন ? কিভাবেই বা এটা এতদিন ধরে টিকে রয়েছে ? এটা বিবর্তনের কোন ফলাফল ?

  thumbs_up
সুন্দর প্রশ্ন। আমিও জানতে চাই।

সাথে আমি যতটুকু বুঝি তাই বলি,

যেকোন কমপ্লেক্স সিস্টেমের সাইড ইফেক্ট থাকাটা স্বাভাবিক। কনসাসন্যাস একটা অতি জটিল ব্যাবস্থা। এতোটাই জটিল যে এটা থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড ল কে পর্যন্ত কাচ কলা দেখায় (ক্ষনিকের জন্য হলেও,) যেমন সেকেন্ড ল বলছে, জিনিস শুধু অডার থেকে ডিসঅডারের দিকেই যেত পারে উল্টা দিকে নয়। কন্তু ঘরে গিয়ে আপনি যখন এলোমেলো টেবিলটা গুছান, তখন এক দৃষ্টি কোন থেকে সেকেন্ড ল কে উল্টে ফেললেন! অবশ্য কাজটা আপনি নিজে ডিসাইড করে করলেন না আখের দৈব ক্রমে ঘটল তা আরেক বিতর্কের বিষয়।।

স্পিরিচুয়ালিটি মুলত কনসাসন্যাস এর সাইডইফেক্ট। আমাদের মস্তিস্কে স্পিরিচুয়ালিটির বায়লজিক্যাল তথা টেন্জেবল রুট আছে। একটু আগে জলদস্যু ভাইের ছবির টপিকের ৫নং ছবিটা দেখে বললামনা, দেখে মনে হয়, মেঘটা সুর্য্যের অনেক কাছে, আমি অনেক দুরে। মনেহয় সুর্য্য বোধহয় মেঘটার মাত্র কয়েক মাইল পেছেনে। কিন্তু আমরা ভাল করেই জানি সুর্য্য ৯৩মিলিওন মাইল পেছেন। আমি এবং মেঘ মোটামুটি একই দুরত্বে। পুরা ব্যাপারটাই আমার ভিজুয়াল কোর্টেক্সের ইলুসান। কম খরচে ম্যাক্সিমাম ডেটা এনালাইজ করার ইভুলুসুনীয় সর্টকার্ট। তার মানে এই নয় যে আমার ছবি দেখাটা মিথ্যা। কারন মিথ্যা হোক আর সত্যি হোক এটাই আমার রিয়েলিটি। কেউ রাতে স্বপ্নে গড থেকে মলম বানানোর রেসিপি পেতে পারে আবার অন্যে পেতে পারে পুরা একটা বই। কোনটাই মিথ্যে নয়। স্পিরিচুয়ালিটির ব্যাপারটাও ঐ ছবির মতই সত্যি। ড: এন্ডি নিউবার্গ তার  গবেষনায় দেখিয়েছেন স্পিরিচুয়ালিটির অস্তিত্ব শুধু মানুষের মাথাতেই (সফ্টওয়ার) নয় বরং মাথাতেও (হার্ডওয়ার) বিদ্দমান!

আর রিলিজিয়ন হল এই স্পিরিচুয়ালিটিকে (মানে ব্রেনের এই ফ্ল/উইকন্যাস যা বলেন) কাজে লাগিয়ে প্রিডিটররী এডভান্টেজ নেয়ার কৌশল। এক প্রানীর বায়লজীক্যাল দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অন্য প্রানীর ফয়দা লুটার প্রকৃয়া ইভ্যুলুসনের সাধারন রুলগুলোর একটা। (যেমন জিব্রা স্থল প্রানী হওয়াতে সাতারে দক্ষ নয়, সেটাকে কাজে লাগিয়ে নদী পার হওয়ার সময় কুমির তার ফয়দা লুটে)। স্পিরিচুয়ালিটিতে ধর্ম ঢুকিয়ে দেয়াটাও ঠিক ওরকম। প্রফিট। আমার মনে হয় যত রিলিজিয়াস লিডার আছে তারা আসলে গড় মানুষের চেয়ে কম স্পিরিচুয়াল। তাই এটা ব্যাবহার করে তারা বেশী স্পিরিচুয়াল মানুষের ফয়দা লুটতে পারে।

আমি নিজেও যথেষ্ঠ স্পিরিচুয়াল। বিশ্বাষ করি ম্যানি থিংস্‌ ইনদ্যা হ্যাভেন উই ডোন্ট নো। তের বিলিওন বছর ইউনিভার্সের বয়স ধরলে.. যেখানে মানুষের (বি)জ্ঞানের বয়স মাত্র চার'শ বছর... খুবই সম্ভব ইউনিভার্সে কোথাও না কোথাও, কেউ না কেউ, স্পেস-টাইমের টোটাল মাস্টারি অর্জন করে বসে আছে। তার জন্য আমার সেমাই ফোর-ডি রিয়েলিটিকে ম্যানুপুলেট করা কোন ব্যাপারইনা।

সৌভাগ্যের ব্যাপার হল এই আমার ক্ষেত্রে ঐ স্পিরিচুয়ালিটির সাথে প্রচলিত ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই।

আমার কাছে ন্যাটিভ ইন্ডয়াদের রিলিজিয়ন সবচেয়ে ভাল লাগে। আসেলে এটা কো রিলিজিয়নই না। পুরাটাই স্পিরিচুয়াল। (আনলাইক ইউরস্‌) খোদার সাথে কথা বলতে/প্রার্থনা করতে, একটা  নির্দিষ্ট যায়গায় গিয়ে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর, নির্দিষ্ট দিকে ঘুরে, নির্দিষ্ট বাক্য বলে করতে হয় না। এবসুলেটিল নো রেস্ট্রিশন। নো রুলস্। নো ডিমান্ড। হোয়টএভার ইউ ফিল লাইক, হোয়েনএভার ইউ ফিল লাইক। ইটস বিটুইন ইউ এন্ড ইউর গড। (এন্ড ড্রাগস্‌ ইন সাম কেসেস  tongue)

Gypsy Saleh লিখেছেন:

যদি তাই হয়ে তাহলে এটাকে আঘাত করে ফায়দা কোথায় ? বিবর্তনে অন্য কোন বিকল্পতো আগামীতে এমনিতে এটাকে সরিয়ে দিবে ?

কোন ফয়দা নাই। বাই দ্যা সেকেন্ড ল, কোন কিছই চিরস্থায়ী নয়। আমাদের মস্তিস্কের যে প্রোপার্টির জন্য আমরা স্পিরিচুয়াল, সেটাও এক সময় মুছে যাবে, তার সাথে ইতি ঘটবে গডের! কিন্তু তার আসায় বসে থাকলে বর্তমান ফয়দা বাজদের অত্যাচার সহ্য করতে হবে সেটা হল সমস্যা!

৬৪৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সমালোচক (২১-১০-২০১৬ ০১:৫৮)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

https://forum.projanmo.com/post645887.html#p645887

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

৬৪৮

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

সমালোচক লিখেছেন:

https://forum.projanmo.com/post645887.html#p645887

এটা হচ্ছে মার্কসের মানবজাতির ঐতিহাসিক বিবর্তনের ব্যাখ্যা আর আমি জানতে চাইছি ধর্মের আবির্ভাবে জৈব বিবর্তনের মেকানিজম। সঠিক করে বললে ধর্মের আবির্ভাবে environment of evolutionary adaptedness(EEA) এর ভূমিকা। যেমনটা সদস্যদা বলছেন স্পিরিচুয়ালিটির অস্তিত্ব শুধু মানুষের মাথাতেই (সফ্টওয়ার) নয় বরং মাথাতেও (হার্ডওয়ার) বিদ্দমান!

আবার ধরুন এই লেখাটা
http://www.sachalayatan.com/tareqanu/43813
এটাই প্রথম নাকি এর চেয়ে আগে কিছু ছিল যা এখনও আবিস্কার হয় নি। আমাদের অন্য প্রজাতিরাও কি ধর্ম নিয়ে ধারণা করেছিল ?

সদস্যদার ব্যাখ্যার সাথে ফ্রয়েডের টোটেম ও ট্যাবু বইয়ের খানিকটা মিল আছে। এবার ধরুন আমার প্রশ্নটা থেকে বিবর্তন শব্দটা বাদ দিলে এর দর্শনগত ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে সোফির জগৎ ধরণের বইতে।

hard to hate but tough to love

৬৪৯

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

You should not bring this question in this forum I think that

৬৫০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন saif9602 (০৬-০৫-২০১৭ ২২:২৩)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

কিছু দিন আগে কম্যুনাল সেল কালচার ল্যাবে একজন সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট এর সাথে কথা হচ্ছিলো ইভোল্যুশন নিয়ে। কথা প্রসঙ্গে বললো, তুমি যদি বায়োলজি কম জানো ইভোল্যুশন তত্ত্বে বিশ্বাস করা খুবই সহজ, বায়োলজির জ্ঞান যত গভীরে যাবে ইভোল্যুশন ততো কমপ্লিকেটেড মনে হবে, এক পর্যায়ে এটা বিশ্বাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইভোল্যুশন নিয়ে কথা বলার আগে মিনিমাম বায়োলজির জ্ঞান থাকা জরুরি কেন মনে করি সেটা এই আলাপ থেকে বুঝে নিতে পারেন।

অনেকেই ইনবক্সে চ্যালেঞ্জ করে বিতর্কে আসার, প্রোফাইল ঘটলে দেখা যায় হয় কলা-বিজ্ঞানী অথবা বিজ্ঞানের কিন্তু নন-বায়োলজির শিক্ষার্থী। এভোল্যুশন যেহেতু বায়োলজির সাথে সম্পর্কিত তাই বায়োলজির বিশেষ করে মলিকুলার বায়োলজির জ্ঞান থাকাটা অত্যাবশ্যকীয় যদি কেউ এই বিষয়ে স্কলারলি ডিবেট করতে চায়। বাংলাদেশে যারা ইভোল্যুশন এর প্রচারক তাদের কেউই এই বিষয়ে কথা বলার স্কলারলি জ্ঞান রাখে না। কয়দিন আগে একজন একটা ভিডিও শেয়ার করেছিল ইনবক্সে, বাংলাদেশের কিছু ভূতত্ত্ব ও ইঞ্জিনীরিংয়ের ছাত্রের ইভোল্যুশন এর অস্তিত্বের প্রমান সম্মলিত একটা ভিডিও। সেই ভিডিও নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত লিখবো শুধু এইটুকু বলবো বায়োলজির বেসিক জানা কেউ যদি ওটা দেখে নিশ্চিত হার্ট ফেল করবে। সর্বোচ্চ গাজার ডোজেও কেউ এই রকম আতলামি করতে পারে না।

ডিএনএ'র মিল থাকলেও সব কিছু শেষ হয়ে যায় না, জীবদেহের ফিজিওলোজিক্যাল কাজে মূল ভূমিকা পালন করে প্রোটিন। প্রোটিন জিন (পার্ট অফ ডিএনএ) থেকে দুই ধাপে তৈরী হয়। একই জিন বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন তৈরি করতে পারে, একই প্রোটিনের বিভিন্ন আইসোফর্ম (দেখতে একই কিন্তু কাজ আলাদা) থাকতে পারে। এক ভদ্র লোক বললেন না, ডিএনএ'র মিল দিয়ে যেহেতু ফাইলোজেনেটিক এনালাইসিস করা হয় তাই ডিএনএ'র মিল মানেই পূর্বপুরুষ এক!!! চুজ & পিক দিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে নিজেই চুজের মধ্যে পড়ে গেছে। ডিএনএ'র মিল দেখলেন, তাইলে আর.এন.এ, প্রোটিন এরা কি দোষ করলো? বিশেষ করে প্রোটিন যখন শরীরে মূল কাজটা করে, তাই প্রোটিনের গুরুত্বই আগে আসা উচিত। শরীরের এমন অনেক জিন আছে (পার্ট অফ ডিএনএ) যা নির্দিষ্ট সময় পরে আর কোনো কাজে আসে না। জীবের গঠনের সময় একটা ধাপে হয়তো কিছু কাজ ছিল সেই ধাপ অতিক্রম করার পরে ইনাক্টিভ হয়ে যায়। তার মানে জিন অনেক ক্ষেত্রে এক্সিস্ট করলেও তা গুরুত্বহীন কিন্তু প্রোটিনের এক্সিস্টেন্স মানেই সেটা ফাঙ্কশনাল। তাই বলা চলে 'সাদৃশ্য'র আসল প্যারামিটার হওয়া দরকার 'প্রোটিন', সেটা না করে ডিএনএ'র মিল দিয়ে মানুষদের বোকা বানিয়েই চলেছে। আরো একটা বিষয়, শুধু ডিএনএ কেনো? ডিএনএ'র মূল ভিত্তি হলো রাইবোজ সুগার, যেটা তৈরী কার্বন, হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন দিয়ে, সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা যদি C,H, আর O, দিয়ে মিল খোঁজেন, আরো ডিপে যেতে চাইলে, ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রন যোগ করেন দেখবেন পৃথিবীর কিছুই বাদ যাইতেছেনা। ধান, চাল, আলু পটল, দালান,কোঠা সবাই আপনাদের প্রো-পিতামহ হয়ে যাচ্ছে।

এইবার ডারউইনবাদীদের সব চেয়ে বড় অস্ত্রটা দেখে নেই। অনেক জায়গাতে দেখলাম কেউ জিজ্ঞাসা করেছে, ম্যাক্রোইভোলুশন এখন কেনো হয় না? এক পন্ডিত বললো, অবশ্যই হয়। ঘটনা হলো, ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লবের সময় মথ পোকাগুলোর গায়ের রং সাদাটে ভাব থেকে কালো হয়ে যাচ্ছিলো, ব্যাস ডারউইন ও তার সঙ্গ পাঙ্গরা লাফ মেরে বলে উঠলো, এটাই হলো 'ন্যাচারাল সিলেকশনের' উদাহরণ। যদিও সেখানে মথ পরিবর্তিত হয়ে মুরগি হয়ে যায়নি, সামান্য রং পরিবর্তনই 'ম্যাক্রোইভোলুশন'!!!! ১৯৫০ এর মাঝামাঝির দিকে, বিখ্যাত ব্রিটিশ জেনেটিসিস্ট বার্নার্ড কেটলওয়েলস মথের এই রং পরিবর্তনের স্বপক্ষে একটা পরীক্ষা চালান, সেখানে তিনি তিনটি ভিন্ন রঙের অনেকগুলো মথ গাছের বাকলের উপরে রেখে দেন, পাখিরা এসে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক কালো রঙের মথ খেলো অন্যগুলোর চেয়ে!!! বন্ধুরা, এখন পর্যন্ত ম্যাক্রোইভোলুশনের উপরে চালানো সব চেয়ে বিখ্যাত ও প্রমাণিত এক্সপেরিমেন্ট হইলো এই 'কেটলওয়েলস এক্সপেরিমেন্ট'!!! দুর্ভাগ্য হলো, বেরসিক মার্কিন বিজ্ঞানী ডেভিড সার্জেন্ট যিনি ম্যাসাচুসেট্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ১৯৬৫-১৯৬৯ পর্যন্ত 'কেটলি ওয়েলস এক্সপেরিমেন্ট' পুনরূৎপাদন (রিপ্রোডিউস) করার চেষ্টা করেন, দুর্ভাগ্য প্রত্যেকবারই দেখেন পাখিগুলা এসে বাছ বিচার ছাড়াই মথ পোকাগুলো সাবাড় করে দিচ্ছে!!! পরে তিনি এটা সাজেস্ট করেছেন যে কেটলওয়েলস পাখিগুলোকে আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন যাতে নির্দিষ্ট রঙের মথ খেতে পারে!!! এই হলো 'ম্যাক্রোইভোলুশনের উপরে পরিচালিত বিখ্যাত ও একমাত্র এক্সপেরিমেন্টের পরিনাম!!!
ও ভুলে গেছি 'পিয়ার রেভিউইড' রেফারেন্স দেয়া লাগবে, সরি!!!!! এই নেন রেফারেন্স (goo.gl/uAopq1)

ডারউইনবাদীদের 'ন্যাচারাল সিলেকশন' তত্ত্বের এখন আর কদর নাই। আধুনিক বায়োলজিস্টরা এই তত্ত্বের এক্সপেরিমেন্টাল কোনো প্রমান পায় নি। এভোলুশনিস্টদের শেষ ভরসা হিসাবে টিকে আছে ফসিল ডাটা। এই ফসিল গবেষণার মধ্যেও ভেজাল ঢুকে গেছে, বিষয়টা কলা-বিজ্ঞনীরা প্রকাশ করেনা, হয় তারা জানেনা অথবা ইচ্ছা করে গোপন রেখেছে। ২০১৪ সালে প্রভাবশালী নেচার প্রকাশনার জার্নাল 'নেচার কমুনিকেশন'এ একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এতো দিন ধরে ফসিল ডাটা রেকর্ড করার যে মেথড ব্যবহার করা হয়েছে তাতে ত্রুটি রয়েছে!!!এর আগে ফসিল রেকর্ড করা হতো, কিছু জিওগ্রাফিকাল ও এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টরস যেমন সেডিমেন্টারি রকের স্থান, ফসিল কলেকশনের সংখ্যা এবং জিওলজিকাল ফর্মেশনের সংখার উপর ভিত্তি করে। লেটেস্ট গবেষণা মতে, রকের স্থান ছাড়া বাকি ফ্যাক্টরগুলোর কোনো ভূমিকা নাই, বরং বাকিগুলা ইনক্লুড করলে ডাটার জেনুইননেস নিয়ে প্রশ্ন উঠে। গবেষকদের মতে ফর্মেশন সংখ্যার উপরে ভিত্তি করে ফসিল ডাটা রেকর্ড করা নির্বোধের মতো কাজ। ফসিলের স্প্যাচিওটেমপোরাল বা স্থান, কাল ভেরিয়েশন মারাত্মক। একই ফসিল বিভিন্ন জায়গা ও সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেয়। ফসিল গবেষণার এই দুর্বল দিকগুলো সাধারণ মানুষদের জানানো হয়না।

এমনিতে ফসিল ডেটিং বা ফসিলের বয়স নির্ধারণ করার যে পদ্ধতি আছে তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বহুল যে দুটি পদ্ধতি চালু আছে, রেডিও কার্বন ও পটাসিয়াম-আর্গন, এই দুই পদ্ধতি ব্যবহার করে হিউমান এভোলুশনের যে বয়স আমাদের জানানো হয়েছে তার পার্থক্য ৪০০০০ থেকে ২০০০০০ বছর পর্যন্ত, যা মধ্য প্রস্তর যুগের সমান!!! এভোলুশনিস্টরা এই ডেটিং গ্যাপের কথা কদাচিৎ স্বীকার করলেও পাব্লিকলি কখনো ব্যাখ্যা করেনি। এই ভেজাল মার্কা পদ্ধতিতে প্রাপ্ত হিউমান ফসিলের বয়স সবজায়গাতে ইতিমধ্যে প্রচার পেয়ে গেছে। কিছুদিন হলো উটপাখির খোলস থেকে প্রাপ্ত অ্যামিনো অ্যাসিড মেথডের মাধ্যমে ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা হচ্ছে। বেটার মেথড পাওয়া গেলেও এর আগে পুরাতন মানব ফসিলের আসল বয়স বের করা আর সম্ভব নয় কারণ এর আগের ফসিলগুলো হয় নষ্ট বা পরিবর্তিত হয়ে গেছে অথবা পর্যাপ্ত স্যাম্পল মজুদ নেই। সুতরাং আধুনিক মানুষের উৎপত্তি নিয়ে সঠিক তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া ফসিল ডাটা থেকে দেয়া সম্ভব নয়।

জীব বিজ্ঞানে আপনি চাইলেই আপনার মন গড়া 'তত্ত্ব' বানাতে পারেন না। এক্সপেরিমেন্টাল এভিডেন্স ছাড়া জীব বিজ্ঞান কোনো কিছুই বিশ্বাস করে না। আধুনিক কম্পিউটেশনাল বায়োলজিতে অনেক সময় সিমুলেশন বা ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু প্রেডিক্ট/অনুমান করা হয়, বাস্তবে যখন বায়োলজিক্যাল সিস্টেমে টেস্ট করা হয় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বানুমান ভুল প্রমাণিত হয়। জীববিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের অন্য কোনো শাখা এতো রহস্যময়, জটিল ও বৈচিত্রময় নয়। আরো বলে রাখা ভালো, মানুষ মঙ্গলে পা রাখতে চলেছে, ইলেক্ট্রন, প্রোটন নিয়ে কাজ করছে, রোবট বানাচ্ছে আরো কত অ্যাডভান্স টেকনোলজি আমাদের সামনে, তারপরেও এখন পর্যন্ত আমাদের ডিএনএ র ৯০ ভাগেরও বেশি অংশ কি কাজ তা আমরা জানতে পারিনি । এতো জটিল একটা বিষয়ে একজন মানুষ বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়িয়ে, কিছু বানর, হনুমান, আর জংলী মানুষদের সাথে থেকেই 'জীব বিজ্ঞানের' থিওরি দিয়ে দিলো, আর কোটি কোটি মানুষ সেটা এইযুগেও বিশ্বাস করে চলেছে ভাবতেই আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংকিত হই।

এবার জেনে নেই ডারউইনের এভোলিউশনারী থিওরি সম্পর্কে তার সমসাময়িক প্রথিতযশা ও আধুনিক বিজ্ঞানীরা কে কি বলেছেন। বিখ্যাত ডেনিশ এম্ব্রায়োলজিস্ট সোরেন লোভট্রপ তার বই Darwinism: The Refutation of a Myth এ লিখেছেন, "...the reasons for rejecting Darwin's proposal were many, but first of all that many innovations cannot possibly come into existence through accumulation of many small steps, and even if they can, natural selection cannot accomplish it, because incipient and intermediate stages are not advantageous."

ক্যামব্রিজে পড়াশোনা করা বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ এডাম সিজুইক ডারউইনিজম নিয়ে তামাশা করেছেন, "...parts (of Darwin's Origin of Species) I laughed at till my sides were almost sore..."
ব্রিটিশ বায়োলজিস্ট জর্জ জ্যাকসন এই তত্ত্বকে "The Incompetency of 'Natural Selection' বলে অবহিত করেছেন।

মার্কিন বায়োলজিস্ট লুইস অগাস্টের মন্তব্য, "There are...absolutely no facts either in the records of geology, or in the history of the past, or in the experience of the present, that can be referred to as proving evolution, or the development of one species from another by selection of any kind whatever."

আরেক বিখ্যাত মার্কিন গণিত ও পদার্থবিদ উলফস্গং স্মিথ তার 'Teilhardism and the New Religion' বইয়ে বলেছেন 'evolutionism is in truth a metaphysical doctrine decked out in scientific garb'. একজন মার্কিন 'আধুনিক এভোলিউশনারী' থিওরিস্ট লিন মারগুলিস মাইকেল বেহে রচিত 'Darwin's Black Box' বইয়ে নিও-ডারউইনিজমকে 'a minor twentieth-century religious sect' বলে উল্লেখ করেছেন।


'Ultimately the Darwinian theory of evolution is no more nor less than the great cosmogenic myth of the twentieth century'- কথাটা বলেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ বায়োকেমিস্ট মাইকেল ডেনটন তার Evolution: A Theory in Crisis বইয়ে। ডারউইনের সমসাময়িক বিখ্যাত বায়োলজিস্ট, স্যার রিচার্ড ওয়েন তার 'Darwin on the Origin of Species' বইয়ে ডারউইনের তত্ত্বকে ধুয়ে দিয়েছেন। এই রকম উদাহরণ অসংখ্য দেয়া যাবে যারা ডারউইনের এই আষাঢ়ে গল্প নিয়ে হাসি তামাশা করেছেন।

আরো একটা বিষয় আপনাদের জানানো দরকার, ডারউইনকে ইউরোপ আমেরিকার লোকেরাই বিজ্ঞানী মনে করে না। সাধারণত ইউরোপ আমেরিকাতে বড় বড় বিজ্ঞানীদের নামে বিভিন্ন ধরণের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হয়ে থাকে যেমন, স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউট, ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট, পাস্তুর ইনস্টিটিউট, সাল্ক ইনস্টিটিউট, গর্ডন ইনস্টিটিউট, ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট, ওয়াটসন স্কুল অফ বায়োলজিক্যাল সাইন্স, এই রকম আরো অনেক নাম দেয়া যাবে যেখানে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদেরকে সন্মান জানানো হয়েছে তাদের নামে নামকরণের মধ্য দিয়ে। অবাক করা বিষয় ডারউইনের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীর (!!) নামে জীব বিজ্ঞানের কোনো ইনস্টিটিউটের নাম করণহয়নি এখন পর্যন্ত!!! তার মানে ডারউইনের দেশের মানুষরাই তাকে বায়োলজি ফিল্ডে বড় কোনো বিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি দেয় না।

বিবর্তন নিয়ে যে কোন আলোচনার জন্য আমার প্রোফাইলে https://www.facebook.com/saif9602 ঘুরে আসতে পারেন। উপরের আলোচনার কোন বিষয়ে ভিন্ন মত থাকলে এখানে লিখুন আমি উত্তর দিতে চেষ্টা করব। আর বিবর্তন বিষয়ে আমার কিছু লেখালেখি/সমালোচনাঃ

ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ: পর্ব-১ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 1142929273

ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ: পর্ব-২ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 3315283568

ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ: পর্ব-৩ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 1844466786

ডারউইনিজম বির্তক-১ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 9081187587

ডারউইনিজম বির্তক-২ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 8323358648

ডারউইনিজম বির্তক-৩ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 6484212683

ডকিন্স নামা: পর্ব ১ঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 2794569988

ডারউইনবাদীদের 'ন্যাচারাল সিলেকশন' তত্ত্বের এখন আর কদর নাই। আধুনিক বায়োলজিস্টরা এই তত্ত্বের এক্সপেরিমেন্টাল কোনো প্রমান পায় নিঃ https://www.facebook.com/saif9602/posts … 3121038312

গবেষণায় যদি পূর্ণবয়স্ক ইঁদুর বা মানুষের দেহ কোষ থেকে ভ্রূণ কোষ তৈরী করা যায়, তাহলে পূর্ণবয়স্ক আদমের (আঃ ) দেহ কোষ থেকে হাওয়া (আ)কে তৈরী করা কেনো অসম্ভব হবে? https://www.facebook.com/saif9602/posts … 8925863554

সমকামিতা কি আসলেই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত?
https://www.facebook.com/saif9602/posts … 2487172622

৬৫১

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

‘খোলা জায়গায় মাংস রেখে দিলে কিছুদিন পর সেই মাংস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোকায় পরিণত হয়’-এরিস্টটলের এই পর্যবেক্ষণ পৃথিবীবাসীকে 2000 বছরেরও অধিক সময় ধরে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে অন্ধবিশ্বাসী করে রেখেছিল। যাই হোক,এই পর্যবেক্ষণ দ্বারা তার আবিষ্কৃত Spontaneous Generation তত্ত্ব সপ্তদশ শতাব্ধিতে এসে ডাস্টবিনে স্থান পায়।
অবশ্য এই Spontaneous Generation তত্ত্ব শেষ পর্যন্ত প্রায় টিকেই গিয়েছিল যখন বৃটিশ বিজ্ঞানী জন নিডহাম একটি কাচ পাত্রে জড় উপাদান থেকেই ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে দেখান। এ অভাবনীয় আবিষ্কারে মুগ্ধ হয়ে তাকে ইংল্যান্ডের রয়েল সোসাইটির আজীবন সদস্যপদ দেয়া হয়। কিন্তু এতে বাগড়া দেন খুঁতখুঁতে স্বভাবের আরেক ইটালিয়ান বিজ্ঞানী লেজারো স্পেল্যানজানি। তিনি বললেন, আগে থেকেই কাচপাত্রের বাতাসের মধ্যে অণুজীব বিদ্যমান ছিল।  তিনি নিজে অনুরূপ যন্ত্র বানিয়ে কাচপাত্রটির জড় উপাদানগুলোকে ভালভাবে সিদ্ধ করে ওখান থেকে সব বাতাস বের করে দিয়ে ছিপি আটকিয়ে রেখে দেন। কিন্তু হায়! মাসের পর মাস গেল অথচ কোন ব্যাকটেরিয়া সেখানে জন্মাল না। এবার রয়েল সোসাইটির সদস্যরা অভিযোগ তুলল যে, প্রাণ সৃষ্টির অন্যতম উপাদান বায়ু চলাচল  ছিল না বলে সেখানে কোন প্রাণের সৃষ্টি হয় নি। আরও 100 বছর চলল প্রাণ সৃষ্টির এ বিতর্ক। অবশেষে এ  বাক-বিতণ্ডার ইতি টানলেন মহান বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর। তিনি কাচপাত্রটির মুখে একটি সোয়ান নেক আকৃতির বিশেষ ধরনের সরু কাচনল লাগিয়ে দেন যাতে সেখানে বায়ু ঢুকতে পারে কিন্তু অণুজীব সরু নলে আটকে পড়ে পাত্রে যেতে না পারে। ফলাফল হল এবারও সেখানে কোন ব্যাকটেরিয়া জন্মাল না। ইউরোপ সমাজে মুখ থুবড়ে পড়ল বৃটিশ বিজ্ঞানীর আবিষ্কার।

তাই বলে প্রাণ কী ভাবে সৃষ্টি হল তা জানতে গবেষকরা হাল ছেড়ে দেন  নি। উৎসুক মানুষ চেষ্টা করে যেতে থাকল,যে প্রাণটির ধাপে ধাপে লক্ষ বছর ধরে উন্নতির ফলে আজকের জীবজগত বিকশিত হল সেই প্রাণটি কীভাবে সৃষ্টি হল? বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াসের ছাত্র ফ্রেডরিখ ভোলার ল্যাবে ইউরিয়া উৎপাদন করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। তাদের ধারণা ছিল জৈব যৌগ কেবল ও কেবল মাত্র জীবদেহেই উৎপন্ন হয়। সুতরাং ল্যাবে জৈব যৌগ (ইউরিয়া একটি জৈব যৌগ) তৈরি করে ফেলা মানে স্বয়ং জীব তথা প্রাণ উৎপন্ন করার কাছাকাছি একটা ব্যপার! কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল-তারা জানতেনই না যে,প্রাকৃতিক পরিবেশে কোন জীবদেহ ছাড়াই বজ্রপাতের প্রভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ইউরিয়া উৎপন্ন হয় (আর এ জন্য, যে বছর বজ্রপাত বেশি হয় সে বার ফলনও ভাল হয়)। আরও সহজভাবে বললে জীবদেহে বিভিন্ন বিক্রিয়ায় পানি উৎপন্ন হয় আবার প্রাকৃতিক পরিবেশেও পানি উৎপন্ন হয় সুতরাং কেউ যদি ল্যাবে পানি উৎপাদন করে তার মানেই প্রাণের উৎপাদনের কাছাকাছি কোন ব্যপার নয়। যাই হোক তাদেরকে ধন্যবাদ বিজ্ঞানে কিছু যোগ করার জন্য।
‘আজকের জীবজগত গঠিত হয়েছে একটি আদি অতি ক্ষুদ্র জীবের উন্নতির ফলে’-এমন তত্ত্ব দিয়ে বিজ্ঞান জগতে হৈ-চৈ ফেলে দিলেন বিজ্ঞানী ডারউইন। কৌতুহলপ্রিয় ও অনুসন্ধানী মানুষের জন্য আজ অবধি এটার যৌক্তিকতা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েই গেছে। সহজ ভাষায় বিবর্তন হল, অকোষীয় বস্তু অথবা এককোষী  একটা অণুজীব থেকে  পর্যায়ক্রমে  আজকের বিশাল জীবজগৎ গড়ে উঠার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, একটা ভাইরাস বা  এককোষী ব্যাকটেরিয়া কিভাবে একটা দ্বিকোষী বা বহুকোষী জীবে উন্নীত হল সেটাই বিবর্তন। আর একটা ক্ষুদ্র জীব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি জীব হঠাৎ করেই তৈরি হয়ে যায় না। এদের মাঝে আরও অনেকগুলো মধ্যবর্তী ধাপ তৈরি হয় যাদের মাঝে একটু করে নতুন নতুন পরিবর্তন যোগ হতে হতে অবশেষে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের একটা প্রজাতি তৈরি হয়। পরিবর্তনের এই মধ্যবর্তী ধাপসমূহকে বলা হয় Transitional Form. ধরে নিলাম,এভাবে বহুকোষীতে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অসংখ্য Transitional Form তৈরি হতে হতে একটা সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের নতুন জীবের উদ্ভব হয়েই যেতে পারে। কিন্তু এভাবে দৈবচয়নিক পরিবর্তনে নতুন ফাংশনাল জিন তৈরি হবার ফলে জীবে নতুন নতুন বৈশিষ্ট যুক্ত হয়ে সবসময় যে অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবের  সৃষ্টি (Step Up Process)হবে-এটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক যুক্তি। বরং দৈবচয়নিক জিন বিন্যাশের ফলে, আগের জীবে কার্যকরী এমন কিছু জিন তার কোডিংয়ে পরিবর্তনের ফলে, নন-ফাংশনাল জিনে রূপান্তরিত হয়ে অথবা জিন ডিলিশনের (Gene Deletion) ফলে কিছু ফাংশন হারিয়ে প্যারেন্ট জীব থেকে অপেক্ষাকৃত কম উন্নত প্রাণীতে (এটাকে Step Down Process) বিবর্তিত হতে পারে। ফলে জিন ডিলিশন প্রক্রিয়ায় একটা উচ্চতর জীব থেকে অপেক্ষাকৃত নিম্নশ্রেণীর জীবও তৈরি হতে পারে। ফলে কে যে কার আদিপিতা সেটা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন থেকে গেল!!!
Step Up ও Step Down এই উভয় ধরনের পরিবর্তনসমূহের যুগপৎ চালু থাকাটা কিন্তু মোটেও অসম্ভব নয়। যারা প্রবাবিলিটির (Probability) ন্যূনতম জ্ঞান রাখেন তারা বুঝতেই পারছেন,পরিবর্তন যেহেতু দু-দিকেই ঘটবে সুতরাং Transitional Form পাওয়ার সম্ভাবনা এবার আগের চেয়ে দ্বিগুন নয় বরং অসংখ্যগুণ বেড়ে গেল। কারণ দুদিকের দুটি বড় সংখ্যা গুণ হবে। ব্যপার যদি এটাই হয় তাহলে আমাদের উচিত পৃথিবীব্যাপী মাটি খুড়াখুড়ি করে Missing Link (বিজ্ঞানের ভাষায় Transitional Form) খোঁজা বাদ দিয়ে এ মূহুর্তে কোন কোন জীবে Transitional Process চলছে সেটি খুঁজে বের করা! তাদের যুক্তি মেনে নিয়ে ধরে নিলাম যে, একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ A হতে B-তে বিবর্তনের মাঝে অসংখ্য Transitional Form থাকার কারণে এ দীর্ঘসময় লাগবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ার অতিপ্রথম Transitional Form টি হুট করে তৈরি হয়ে যেতে পারে। উক্ত প্রথম Transitional Form থেকে পরবর্তি Transitional Form টিও হুট করেই তৈরি হবার কথা। কিন্তু যেহেতু ২য় Transitional Form টি সৃষ্টির সম্ভাবনা নির্ভর করছে ১ম Transitional Form সৃষ্টির উপর, তাই ২য় Transitional Form টি সৃষ্টির সম্ভাবনা আগেরটির চেয়ে কম হবে ।এভাবে অনেকগুলো Transitional Form পাড়ি  দিয়ে অবশেষে  সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের প্রজাতি পাবার সম্ভাবনা অনেক কম। তাই দৈবচয়নিকভাবে নতুন প্রজাতি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর সময় লাগতে পারে তাদের এ দাবি মেনে নিলাম। কিন্তু ১ম Transitional Form তৈরি হওয়া একটি স্বাধীন ঘটনা বিধায় এটি হুট করে যে কোন সময় তৈরি হয়ে যেতে পারে, মিলিয়ন বছরও লাগতে পারে আবার এখনও হয়ে যেতে পারে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান অসংখ্য জীবকূলের সবার ক্ষেত্রেই যে নতুন প্রকরণ সৃষ্টির জন্য  ১ম Transitional Form টি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে ব্যাপারটি মোটেও বিজ্ঞানসমত নয়। দৈবচয়নিকভাবে অন্তত কিছু জীবে এটা এখন ঘটবে। সুতরাং প্রকৃতিতে  Transitional Form চলমান থাকতেই হবে।
অনেকে যুক্তি দেখাবেন যে বিবর্তনের ধারায়  জিনের বহুবিধ পুনর্বিন্যাসের ফলে বিশেষ ধরনের জিনবিন্যাস প্রাপ্ত এমন কিছু স্ট্যাবল জীবের সৃষ্টি হয়েছে যাদের মাঝে প্রকরণ সৃষ্টির মত বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেনা এবং এরাই টিকে আছে বাকিরা স্থিতিশীলভাবে টিকে থাকার জন্য দায়ী বিশেষ জিন বিন্যাস দৈবচয়নিকভাবে প্রাপ্ত হয় নি বলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে স্ট্যাবল জীবগুলো থেকে Transitional Form পাওয়া যাবে না। যাইহোক ধরে নিলাম, Transitional Form গুলো  তাদের বিভিন্ন গাঠনিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু যে প্যারেন্ট স্ট্যাবল প্রজাতি হতে  Transitional Form-গুলো  তৈরি হয়েছিল  সেই প্যারেন্ট স্ট্যাবল প্রজাতিগুলো তো আছে। এই প্যারেন্ট স্ট্যাবল প্রজাতিগুলো থেকে অতীতের একসময় যদি Transitional Form গুলো তৈরি হয়েই থাকে তাহলে সে প্রক্রিয়া চলমান থাকছে না কেন? এই স্ট্যাবল প্যারেন্ট প্রজাতিগুলো থেকে অতীতের মত বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো Transitional Form পার হয়ে প্রকৃতিতে আবার ডাইনসোর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা হয়ত কম,কিন্তু স্ট্যাবল প্রজাতিগুলো থেকে তৈরি হওয়া অতি প্রথম Transitional Form টি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও  Randomly মানে হুট করেই সৃষ্টি হবার কথা! কারণ বিবর্তন ধারাবাহিক নয়, একটি Random Process. অর্থাৎ একটির পর একটি এভাবে নয় বরং  মেইন স্ট্রিম  Step Up ,Step Down প্রক্রিয়া তো বটেই এমনকি এদের অন্তর্বর্তী ধাপ সমূহেরও বহুমুখী  Step up ,Step down প্রক্রিয়া Randomly যুগপৎ চলমান থাকবে ।
বিজ্ঞান যাত্রার লেখকেরা আমাদেরকে জার্নাল ঘেটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাজির করলেন যার কয়েকটি হল,মানুষের জিনোমের প্রায় ৮% হচ্ছে প্রাচীন ভাইরাসের ফসিল, এদের বলা হচ্ছে HERV (Human endogenous retroviruses)। সহজভাবে বলতে গেলে এইসব ভাইরাস জিনোমের পুরা কপিটাই মানব জিনোমে ইন্টিগ্রেটেড আছে। এখন পর্যন্ত মানব জিনোমে এরকম বিশটিরও বেশি শ্রেণীর  HERV পাওয়া গেছে। আরও ভাবনার  ব্যাপার হল মানব জিনোমের বিপুল একটা অংশজুড়ে পুনরাবৃত্তিমূলক সিকোয়েন্স (Interspersed Repetitive Elements) বিদ্যমান। যা কিনা পরজীবীর ফসিল মানে হল পরজীবীর জিনোমটাও আমাদের জিনোমে ইন্টিগ্রেটেড আছে।  সুতরাং সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত!  মানুষের উৎপত্তি হল এইসব আদিজীবের বিবর্তনের ফসল!

আসলে ব্যাপার হল, ডাটা আর রেফারেন্স উদ্ধৃত করে হড়বড় কথা বলে ভারিক্কি গদ্যশিল্প অনেকেই রচনা করতে পারে। কিন্তু ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন করার জন্য কিছু জ্ঞান লাগে। বিজ্ঞানযাত্রার লেখকদের ডাটা অ্যানালাইসিসের ধরণ দেখে একটা গল্প মনে পড়ল। বল্টু একটি তেলাপোকার কাছে গিয়ে দু-হাত এক করিয়া এক খানা তালি বাজাইল। তেলাপোকাটি দ্রুতবেগে ছোটা শুরু করিল। বল্টু উহাকে ধরিয়া আনিয়া একখান পা চিড়িয়া ফেলিল। বল্টু আবার তালি বাজাইল।  তেলাপোকাটি এবারও দৌড়ানো শুরু করিল কিন্তু বেগ এবার আগের চেয়ে একটু কমিয়া গেল। বল্টু এই পক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করিতে করিতে এক সময় বেচারা তেলাপোকাটি তাহার সকল পা হারাইয়া ফেলিল।  বল্টু আবারও তেলাপোকাটির কাছে গিয়া তালি বাজাইল।  কিন্তু এইবার বেচারা পা-হারা তেলাপোকাটি আর দৌড়াইতে পারিল না। বল্টু থিসিস লেখিতে বসিল, তেলাপোকার সবগুলা পা চিড়িয়া ফেলিলে সে আর শুনিতে পায় না যার ফলে শব্দ করলেও সে আর পতিক্রিয়া দেখাইতে অর্থাৎ দৌড়াইতে পারে না এবং উহার শ্রবণ হার বিদ্যমান পায়ের সমানুপাতিক!!! বিরাট একটা আবিষ্কার বটে।  বিজ্ঞান যাত্রার লেখকদের ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন আর বল্টুর ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন একই ধাঁচের।
এবার আসুন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে নেচার সময়িকীর ডাটাগুলো অ্যানালাইসিস করি। ভাইরাস থেকে যেহেতু মানুষ পর্যন্ত এই বিশটিরও বেশি শ্রেণীর   HERV-এর এই জিনোম কপিগুলো আসতে পেরেছে সেহেতু যে পূর্বপুরুষ থেকে মানুষ আসলো তাদের প্রত্যেকের মাঝেই এই HERV গুলোর অনুরূপ জিনোম কপি থাকতে হবে। পূর্বপুরুষদের কেবল ও কেবল যদি একটি প্রজাতিতেও এই HERV গুলোর জিনোম কপির ঘাটতি থাকে তাহলেও  ধরে নিতে হবে এগুলো ভাইরাস থেকে মানবদেহে আসে নি। বরং বিবর্তনের ভাষায়, Random জিন বিন্যাসের ফলেই এগুলো তৈরি হয়েছে যা কাকতালীয়ভাবে ভাইরাসের জিনোমের সাথে মিলে গেছে। অধিকন্তু  আদিজীব থেকে যে পরজীবী হয়ে মানুষ পর্যন্ত HERV-গুলো আসলো, সে পরজীবীর জিনোমেও এই HERV-গুলোর জিনোম থাকতে হবে। বিবর্তনের ভাষ্যমতে মানব দেহে যে  পুনরাবৃত্তিমূলক সিকোয়েন্স (Interspersed Repetitive Elements) বিদ্যমান সেগুলো হলো পরজীবীর ফসিল(অর্থাৎ পরজীবীর জিনোম)। তাহলে ধরে নেয়া যাক, এই পরজীবী হতেই মানুষের বিকাশ হল। সে ক্ষেত্রে এই HERV গুলো এই পরজীবীর মধ্যদিয়েই মানুষে এসেছে। সুতরাং ওই পরজীবীর জিনোমে (অর্থাৎ পুনরাবৃত্তিমূলক সিকোয়েন্স বা Interspersed Repetitive Elements এর ভেতরে) এই HERV-গুলো অবশ্যিকভাবে থাকবে। এখন বিজ্ঞান-যাত্রার লেখকদের উচিত নেচার সাময়িকীকে প্রশ্ন করা এই বিশটিরও বেশি শ্রেণীর   HERV গুলোর অক্ষত জিনোম কপিগুলো মানব জিনোমের পুনরাবৃত্তিমূলক সিকোয়েন্সের  (Interspersed Repetitive Elements) ভেতরে আছে কি না ? যাহোক যেহেতু বিজ্ঞান-যাত্রার লেখকেরা বাচ্চাদের মত তথ্য মুখস্ত করা ছাড়া সেটা অ্যানালাইসিস করার কোন যোগ্যতা রাখে না তাই অবলা বাচ্চা মনে করে তথ্যটি তাদেরকে করুনা করে দিয়েই দেই - তথ্যটি হল Interspersed Repetitive Elements -এর ভেতরে এই বিশটির  (বা অধিক) প্রত্যেকটি HERV নেই! এটা এটাই প্রমাণ করে যে মানব দেহে জিন কোডিং-এ স্বতঃস্ফূর্ত  বিন্যাশের ফলেই তথাকথিত HERV জিনোমগুলো তৈরি হয়েছে। যা কাকতালীয়ভাবেই ভাইরাস জিনোমের প্রতিরূপের সাথে মিলে গেছে। কোনোক্রমেই এগুলো ভাইরাসের ইনহেরিটেন্স নয়। যাহোক ক্লাস 4-5 এর কুইজ প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ তথ্যশিকারী শিক্ষার্থীর মত বিজ্ঞানযাত্রার এই লেখক তথ্যগুলো কী ফলাফল দেয় সেটা  নিজে  অনুধাবন না করতে পারলেও আমাদেরকে কপি পেস্ট করে জানিয়েছেন বলে উনাকে একটা ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করলাম না। তবে বেশ বুঝা যাচ্ছে, যেভাবে  ফুটপাতের হার্বাল বিক্রেতারা একটু বেশি বিক্রির আশায় তাদের মহৌষধটি অতীব বৈজ্ঞানিক ভাবে তৈরির দাবি করেন ঠিক একইভাবে বিজ্ঞানযাত্রার লেখকেরাও তথ্য-উপাত্তের গবেটমার্কা একটা ইন্টারপ্রিটেশন করে তার সাথে একটুখানি বিজ্ঞান গুলিয়ে মিশিয়ে দিয়ে রম্যরচনা তৈরি করে আম-জনতার কাছে সেটার একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবার অভ্যাসটি ভালই রপ্ত করে ফেলেছে।

টেকনিক্যাল টার্ম যথাসম্ভব পরিহার করে খুবসহজ ভাষায় বলতে গেলে,DNA আসলে A,G,C ও T এর একটা লম্বা সিকুয়েন্সমাত্র। যে সিকুয়েন্সের বিশেষ বিশেষ অংশ(কোডন) বিশেষ কাজ করতে পারে। সুতরাং উচ্চশ্রেণীর জীবে অগণিত ফাংশনের জন্য তাদের DNA-এ তে অসংখ্য কোড থাকা খুবই স্বাভাবিক। অপরদিকে মাত্র গুটি কয়েক ফাংশনসংবলিত নিম্নশ্রেণীর প্রতিনিধি ভাইরাসে সীমিত সংখ্যক কোড থাকবে। আবারও খুব সহজভাবে  রিপিট করছি, ভাইরাস তুলনামূলকভাবে অতিসরল  DNA (বা RNA) এর মধ্যস্থ অতিসরল  কিছু  কোডবিশেষ ছাড়া আর কিছুই নয় (যেহেতু প্রোটিন এনভেলপ ছাড়া শুধু জিনোম নিয়েও ভাইরাস দিব্যি টিকে থাকতে পারে যদিও  এদেরকে আমরা অন্য নামে ডাকি)। অগণিত ফাংশনের জন্য যেহেতু উচ্চ শ্রেণীর জীবে ব্যাপক সংখ্যক কোড দৈবচয়নিকভাবে তৈরি হচ্ছে তাই এদের কোডের একটা অংশের সাথে ন্নিমশ্রেণীর প্রতিনিধি ভাইরাসের সরল কোডের পুরোটার হুবহু মিল থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। একইভাবে উচ্চশ্রেণীর জীবদের DNA-এর ভেতরে A,G,C,T  একটা লম্বা বিন্যাস থাকে বিধায় এদের পস্পরের মধ্যে অনেক অনেক যায়গায় মিল থাকবে এটা সহজেই বলে দেয়া যায়। এ সিম্পল ব্যপারটা অনুধাবন করার জন্য নেচারের রিসার্চ পেপারের রেফারেন্স প্রয়োজন নেই। কিন্তু এ সহজ জিনিসটি বোঝানোর জন্য বিজ্ঞানযাত্রার লেখক, উচ্চ শ্রেণীর জীব মানুষ আর সিম্পাঞ্জির মধ্যকার  হিমগ্লোবিন এর β-chainয়ের সাদৃশ্য ,Vit-C কেন তৈরি হয় না, মেডিকেলীয় ভাষায় ইত্যাদি মিলের ফিরিস্তি দিলেন। মনে হচ্ছে,এ সকল ভারী তথ্য হাজির করে সাধারণ মানুষের কাছে একটা বৈজ্ঞানিক-বৈজ্ঞানিক ভাব ধরতে  চাইলেন! মানুষের সাথে সিম্পাঞ্জির মধ্যকার কিছুজিনে (রেন্ডম বিন্যাশের ফলে) মিল থাকলেও তাতে কিচ্ছু আসে-যায় না। কারণ, জিন একই হলেও ভিন্ন ভিন্ন প্রাণিতে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের প্রোটিন তৈরি করতে পারে যাদের অ্যান্টিজেনিক প্রপার্টি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে । কারণ উচ্চতর জীবে সরাসরি DNA নয় বরং DNA বেচারা RNA-তে পরিবর্তিত হয়ে প্রোটিন তৈরি করে। একই DNA ভিন্ন ভিন্ন কোষীয় পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচের RNA-তে কনভার্ট হতে পারে। আর এই RNA-র উপর নির্ভর করবে যে কোন্‌ ধরনের প্রোটিন তৈরি হবে। সুতরাং শুধু জিন নিয়ে লাফালাফি করলে চলবে না প্রাকটিক্যাল ফীল্ডে  জিন থেকে ঠিক কী ধরনের প্রোটিন উৎপন্ন হয় সেটাই মুখ্য জিনিস। এ পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলে Central Dogma of Life. বোঝাই যাচ্ছে জেনেটিক্সের জ-টা না জেনেও বিজ্ঞানযাত্রার ওই লেখক বিবর্তন ব্যখ্যা করে ফেললেন!
সহজ ভাষায়,আগেই বলেছি উচ্চশ্রেণীর জীবের DNA-এর অন্তস্থ অসংখ্য কোডেসমূহের একটা অংশের সাথে কালতালীয়ভাবে নিম্নশ্রেণীর প্রতিনিধি ভাইরাসের সরল কোডের পুরুটার হুবহু মিল থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। সেক্ষেত্রে উচ্চশ্রেণীর জীবের DNA-এর অন্তস্থ ঐ বিশেষ কোডগ্রুপটি (জিন)জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কেটে আলাদা করে নতুন ভাইরাস বানিয়ে ফেলাটাও অসম্ভব কিছু নয়। এমন কী DNA-এর অন্তস্থ কোডগ্রুপসমূহকে ভেঙে পছন্দমত জোড়াতালি (Ligation) দিয়ে নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি করে ফেলাও খুবই সম্ভব।জীবাণুবোমার ব্যপারটা তো এটাই! তবে মনে হচ্ছে এ কাজগুলার ব্যপারে এখনও খোঁজ পান নি বিজ্ঞানযাত্রার লেখকেরা!!! আর তাই ফ্রান্সে কে কোথায় বসে উচ্চতর জীবের জিনোম হতে একটা ফিনিক্স ভাইরাস তৈরি করলো সেটাই চোখ গোল করে, মুখ হা করে, গলা ফাটিয়ে বলতে এলেন, যদিও এ আবিষ্কার এটা প্রমাণ করে না যে জিনের এই কপিটা ভাইরাস থেকে মানবদেহে এসেছে । এটা কেন যে ভাইরাসের Inheritance নয় সেটা আগেই প্রমাণ করে দেখিয়েছি। তবুও বিজ্ঞানযাত্রার লেখকেরা, বল্টুর তেলাপোকার পায়ের সাথে উহার শ্রবণশক্তির সম্পর্ক তত্ত্বের মত, নতুন নতুন হাস্যকর ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হবেন।
Junk DNA নিয়ে বিজ্ঞের মত অনেক তথ্যই দিলেন। এক ফাঁকে মুখ ফসকে বলেও দিলেন -এই Junk DNA-এর অন্যতম কাজ নাকি বিবর্তনে সাহায্য করা! তার এ কথা যে সঠিক সেটার স্বপক্ষে নেচার সময়িকীর রেফারেন্সও দিলেন। যদিও এটা ছিল একটা রিভিউ পেপার। কিন্তু বিজ্ঞানযাত্রার লেখক বুক ফুলিয়ে এমন কনফিডেনসের সাথে তথ্যটা দিলেন যাতে করে মনে হচ্ছে ওই গবেষক তা Experimentally Prove করে দেখিয়েছেন। সত্য হল ওই গবেষক কিছু তথ্য-উপাত্ত দেখে একটা অনুমিত ধারণা দিয়েছেন মাত্র। যার কোন পরীক্ষামূলক প্রমাণ তিনি দিতে পারেন নি।
বিজ্ঞানযাত্রার  এই সমস্ত লেখকেরা Embryology-র E-টাও জানেন কিনা সন্দেহ আছে। তা না হলে Junk DNA বিবর্তনে অন্যতম(!) ভূমিকা রাখে এটা বলতে গিয়ে দুয়েকবার ভাবতে হত তাকে, অন্তত এত কনফিডেন্স নিয়ে বলতেন না । মানব ভ্রূণ সৃষ্টির শুরুতে একটিমাত্র কোষ, হ্যাঁ একটি মাত্র কোষই থাকে। সেই কোষের ভেতরে আস্ত DNA থাকে (আস্ত শব্ধটা উনার প্রিয়)। এখন সেই কোষটা বিভাজিত হয়ে দুটি, 4টি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়লো। এখন কোন কোষটি বিকশিত হয়ে চোখ হবে, কোনটি থেকে একটা হাত হবে সেটা নির্ধারন করা একেবারেই অসম্ভব। কারণ যদি কোনও ভাবে এই চারটি কোষকে পরস্পর থেকে আলাদা করে সেট করে দেয়া যায় তবে এদের প্রত্যেকটি থেকেই একেকটা মানব তৈরি হতে পারে। জমজ বা Identical Twin সৃষ্টির ব্যাপার আসলে এটাই।

ভ্রূণ বিকাশের (Embryo Development) সময় সাইটোপ্লাজমের হ্রাসবৃদ্ধির ফলে কোষস্থ জিনগুলোর কেউ কেউ ফাংশনে আসে আবার কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় থাকে। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে এক্সপোজারের ফলে জিনগুলো Switch On/Switch Off প্রক্রিয়ায় একটা ডাইনামিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানবের সৃষ্টি করে। পূর্ণাঙ্গ মানবে যে জিনগুলো ফাংশনাল সেগুলোতো ওই এককোষী ভ্রূনেও ছিল। তাহলে উক্ত জিনগুলো ভ্রূনের মধ্যে ফাংশনাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষের মত অসংখ্য প্রকারের হরমোন বা অসংখ্য প্রকারের প্রোটিন তৈরি করতে পারল না কেন? কারণ জিনগুলো ফাংশনাল থাকার মত কোষীয় পরিবেশ (Cellular Environment) পায় নি। মানে Switch Off ছিল। সুতরাং পূর্ণাঙ্গ মানবে কার্যকরী (Full Functioning) যে সকল জিন সমূহ ভ্রূনে Switched Off ছিল, ভ্রূনের সাপেক্ষে সেগুলোকে Junk DNA বলে চালানো যায়। ঠিক তেমনি ভাবে যে জিনগুলো ভ্রূণ বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল পূর্ণাঙ্গ মানবদেহে পরিবর্তিত কোষীয় পরিবেশে Exposed হবার ফলে ওদের ফাংশনও Switched Off হয়ে যায় বা যদিও কিছু ফাংশন থাকে তা একেবারেই সীমিত।

যদিও ভ্রূণ বিকাশের সময় আমরা শুধু বাহ্যিক পরিবর্তনগুলোই পর্যবেক্ষন করে আসছি কিন্তু অত্যন্ত ডাইনামিক এ পরিবর্তনের কোন পর্যায়ে কোন জিনটি Switch On হয়ে ভ্রূণ বিকাশ ঘটাচ্ছে সেটা নিয়ে বিস্তর গবেষণা দরকার। সে গবেষনার ফল হাতে না পেয়েই বিবর্তনবাদীরা অন্ধের মত বলে বেড়াচ্ছে যে Junk DNA নাকি বিবর্তনে অন্যতম(!) ভূমিকা রাখে!!! তাহলে ভ্রূনের বিকাশের সময় কে ভূমিকা রাখে??!! জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যমে Junk DNA ফেলে দিয়ে একটি ভ্রূনের বিকাশ হয় কিনা সেটা তো অন্ততঃ পরীক্ষা করে দেখা যায়।  বিবর্তনবাদীরা এক্ষেত্রে মহাবিজ্ঞানী বল্টুকেও হার মানাল। বল্টু অন্তত তেলাপোকার পা ছিড়ে একটা তত্ত্ব দিয়েছিলো কিন্তু বিবর্তনবাদীরা ভ্রূণ বিকাশে Junk DNA নিয়ে কোনরূপ যৌক্তিক পরীক্ষা-প্রমাণ না করেই দুয়েকটা তথ্য-উপাত্ত ঘেটে আন্দাজে বলতে শুরু করল এগুলা নাকি বিবর্তনে ভূমিকা রাখে! এরকম অন্ধ আন্দাজ দিয়ে আর কত দিন বিবর্তনবাদ চালাবেন? বিজ্ঞানের সৌন্দর্যই হচ্ছে পরীক্ষামূলক প্রমাণ। অনেক তো আন্দাজে ঢিল মারলেন এবার  পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের ধারায় ফিরে এসে, প্রমাণ দিতে পারেন আর নাই-বা পারেন, অন্ততঃ তাতে করে যদি আন্দাজ-বিজ্ঞান বাদ দিয়ে সত্যিকারের বিজ্ঞানমনষ্ক হতে পারেন সেও আমাদের জন্য ভাল। তখন অন্তত আপনাদের আজগুবি তত্ত্বের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমে যাবে আর আমরাদেরকেও  অযথা  সময় নষ্ট করে সেগুলোর ভুল শুদ্ধ নিরূপণ করতে হবে না।
আগেই দেখিয়েছি, বিবর্তনের Step Up ও Step Down Process-এর ফলে সার্বিকভাবে খুব কাছাকাছি মিলের  কম উন্নত ও  বেশি উন্নত জীবের মধ্যে, কম-উন্নত জীবটি বেশি উন্নত জীবের পূর্বপুরুষ হবে, নাকি বেশি-উন্নত জীবটি কম-উন্নত জীবটির পূর্বপুরুষ হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। তবুও বিবর্তনবাদীরা বাহ্যিক আকৃতি দেখেই  "আস্ত একটা  Tiktaalik"-কে  পূর্বপুরুষ ও উত্তরপুরুষের মাঝে বসিয়ে দিয়ে  বিবর্তনের ক্রম ঠিক করে ফেললেন! অধিকন্তু, শুধু গাঠনিক আকৃতি বা ফাংশন কাছাকাছি হলেই একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে  এমন দাবি, জিন আবিষ্কার হবার পরেও কীভাবে করা যায়! অক্টোপাস ও মানুষের চোখের ফাংশন খুবই কাছাকাছি। ফলে অক্টোপাস যদি একটি বিলুপ্ত প্রাণী হত এবং বিবর্তনবাদীরা যদি কোনক্রমে শিলাস্তরের ভেতর "আস্ত" একটি অক্টোপাসের চোখ খুজে পেত- তাহলে বিবর্তন দুনিয়ার বাসিন্দারা, কীভাবে আদিজীব হতে ধাপে ধাপে অক্টোপাস হয়ে মানুষ নিজের চোখটি পেল সেটা নিয়ে এক যুগান্তকারী তত্ত্ব  হাজির করত। কিন্তু ব্যপার হল ফাংশন কাছাকাছি  হলেও উভয়ের চোখ Genetically সম্পূর্ণ আলাদা। অর্থাৎ ফিনোটাইপ একই রকমের হলেও জিনোটাইপ আলাদা! তাহলে সিদ্ধান্ত হল,  অক্টোপাসের চোখ হতে মানুষের চোখ আসে নি। সুতরাং কোনো ফসিলকে দুটি জীবের মাঝে মিসিং লিঙ্ক হিসেবে সেট করতে হলে এদের বাহ্যিক আকার আকৃতির পাশাপাশি জিনোমিক লেভেলের ব্যপারটাও  বিবেচনায় আনতে হবে। ফসিলের আবিষ্কারকেরা কার্বন টেস্ট করে বয়স নির্ধারন ছাড়া সেটির জিনোমিক লেবেলে কখনও হাত দেন নি বা পারেন নি! মাটি খুঁড়ে একটা কিছু পেয়ে জিনফ্যাক্ট  বিবেচনা না করেই চেহারার একটু মিল দেখে  আর বাকিটা অনুমান করে দুটি জীবের মাঝে বসিয়ে দিয়ে মিসিং লিঙ্ক পাওয়া গেছে -এ জাতীয় দাবি অবৈজ্ঞানিক তো বটেই রীতিমত হাস্যকর। ফসিল নিয়ে Richard Dawkins নিজেও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, “And we find many of them already in an advanced state of evolution, the very first time they appear. It is as though they were just planted there, without any evolutionary history”.
[Source: The Blind Watchmaker, 1986, Page 229-230]

যাহোক, ফসিল নিয়ে অনেক ভারী  ভারী তথ্য তিনি দিলেন। এগুলো কত বছর আগের পুরোনো সেটার ভিত্তিতে ঠিক কোন যুগে স্তন্যপায়ীরা অন্য প্রজাতি থেকে সতন্ত্র বৈশিষ্ট নিয়ে আলাদা হয়ে গেল কার্বন টেস্ট করে সে হিসেবটাও সুন্দর দিয়ে দিলেন।  কার্বন টেস্টের নাম যে নিলেন আদতে উনি এই টেস্টটার কতটা বোঝেন? যে অস্থায়ী (মানে তেজস্ক্রিয়)  কার্বন আইসোটোপের অর্ধায়ু (সহজ ভাষায় ক্ষয়িষ্ণুতা) পরিমাপ করে জীবের বয়স নির্ণয় করা হয় সেটি কি জীব নিজে তৈরি করতে পারে!!! প্রকৃতি থেকেই যে এটা জীবের শরীরে আসে অন্তত এ তথ্যটা উনি হয়ত জানেন।  আর কার্বনের এ অস্থায়ী আইসোটোপ যে পৃথিবীপৃষ্ঠের সব অঞ্চলে সমসত্ব ভাবে বণ্টিত নয় এ তথ্যটা উনাকে দিলাম। ফলাফল দাঁড়ালো বাংলাদেশী বিজ্ঞানযাত্রার লেখকদের শরীরে অস্থায়ী কার্বন আইসোটোপের পরিমান আর আফ্রিকার কারো শরীরে সেটির আনুপাতিক হার কখনোই এক হবে না। ফলে একই সময়ে বসবাস করা সত্ত্বেও একজনের শরীরে অস্থায়ী কার্বনের অর্ধায়ু অপরজনের শরীরের অস্থায়ী কার্বনের অর্ধায়ুর সমান হবে না। আরও সহজভাবে বলি, ধরুন একটা দ্বীপের উপরের স্তরের মাটি শুধু Neanderthal দের ফসিল দিয়ে তৈরি। ধরে নেই দৈবক্রমে বিজ্ঞানযাত্রার ঐ লেখকের জন্ম বেড়ে উঠা ঐ দ্বীপেই হল এবং হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা করাতে এসে একসময় মারা গেল। এখন আমি যদি তার ডেডবডির কার্বন টেস্ট করতে যাই স্বভাবতই কার্বন টেস্ট আমাকে দেখাবে যে সে Neanderthal যুগের মানব!!!  কারণ অস্থায়ী কার্বন আইসোটোপগুলো পরিবেশ থেকেই তার শরীরে এসেছে! তখন তার ডেডবডির কবরে নয়, জাতীয় যাদুঘরে স্থান পাবে! যাহোক, কার্বন টেস্ট বয়সের একটা সম্যক ধারণা দেয় মাত্র, সঙ্গত কারণেই কখনোই নিশ্চিত ধারণা দিতে পারে না।

এবার আসুন দেখি,Organogenesis বা সহজভাষায় বলতে গেলে অঙ্গ সৃষ্টির প্রক্রিয়া এ ব্যপারে বিবর্তন কী বলে ।  বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী মেনে নিলাম DNA-র গাঠনিক কাঠামোয় রেন্ডম প্রসেসে ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে টিস্যুর অপরিকল্পিত বৃদ্ধিতে অনির্দিষ্ট Shape বা আকৃতির জীব তৈরি হওয়া খুবই সম্ভব। কিন্তু রেন্ডম প্রসেসে এ বিবর্তন চলতে চলতে একটা সময় এসে নতুন একটা সুনির্দিষ্ট ফাংশনাল অর্গান (যেমন চোখ ) তৈরি সম্ভব কী ?কারণ ‘একটা  Targeted Organ তৈরি করতে হবে’-এরকম কোন নির্দিষ্ট দিকে লক্ষ্য রেখে বিবর্তন চলতে পারে না। বিবর্তন হলো  সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যেহীন (Non-targeted) ও স্বতঃষ্ফুর্ত (Spontaneous) একটা প্রক্রিয়া। আর প্রবাবিলিটি থিওরির আলোকে হিসেব করতে গেলে এরকম সুনির্দিষ্ট ফাংশনাল অর্গান (যেমন চোখ ) তৈরি অসম্ভব।

সর্বশেষ শেষ কথা হল বিবর্তনবাদ যতটা না পরীক্ষামূলক তার চেয়ে অনেকবেশি ফিলোসফিক্যাল . "এরকম হতে পারে" বা "ঐরকম ভাবে হতে পারে ", "হয়ত"- এইসব আন্দাজনির্ভর  ধারণাগুলো দিয়ে বিজ্ঞানের প্রাথমিক  পর্যায় (Hypothesis) শুরু হয় সত্যি, কিন্তু সেটা বিজ্ঞান হিসেবে গৃহীত হতে হলে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের মানদন্ডে উত্তীর্ণ হওয়া অবশ্যক। বিবর্তনবাদ সেটা করতে শুধু চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েই ক্ষান্ত হয় নি বরং প্রচলিত পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান থেকে দূরে সরে গিয়ে ফিলোসফির আশ্রয়ে একটা নতুন ঘরানার Junk-Science প্রবর্তন করতে চাইছে। আর সেটাকেই বিজ্ঞানযাত্রার লেখকেরা মহাসমারোহে নিখাঁদ(!) বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব  বলে প্রচার করে চলছে ঠিক যেভাবে ইদানিংকালে ফুটপাতের কবিরাজেরাও হাতের নক্সা দেখে ভবিষ্যত নির্ণয়ের কাজটি বৈজ্ঞানিকভাবে(!) করেন বলে দাবি করেন।
Please, just stop polluting Science.

I am the expression of your neglected and unexpressed thoughts.
-Mamun Mehedee

৬৫২

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

জনাব saif9602, আপনি কি বায়োলজির সাথে সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে রিসার্স করছেন?

"ডেটিং গ্যাপের" দু চারটা রেফাসেন্স দিলে ভালো হয়।

জনাব paakhy , এটা "বিজ্ঞান যাত্রা" সাইট না, উপরে চেক করুন এটা প্রজন্ম ফোরাম।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

৬৫৩

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

Yeah definitely biotechnology genetic engineering neuroscience pharmacology clinical neuroscience I have university degrees on above all disciplines.

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

জনাব saif9602, আপনি কি বায়োলজির সাথে সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে রিসার্স করছেন?

Please just search in google. If you fail I will provide it later on

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

"ডেটিং গ্যাপের" দু চারটা রেফাসেন্স দিলে ভালো হয়।

৬৫৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০৭-০৫-২০১৭ ১৮:৩৮)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@সাইফুলঃ এনারা মনে হয় সুন্নী কপিপেস্ট কৃয়েশনিস্টদের চুখের মণি, বিলাই বাহিনীর পালনকর্তা (টার্কিশ শফী© তেঁতুল = কিটেনস love), পাপিষ্ঠা হুইটনী হিউস্টনের মরণোত্তর হেদায়াতকারী, সেক্সটর্শনিস্ট ব্ল্যাকমেইলিং ধর্মগুরু, আধ্যাত্বিক নাচগানার সমঝদার, শরীয়তসম্মত ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানের মুখচোরা মূখ্য আলোচকচ্যালেঞ্জ ছুঁড়ৈ দিয়ে পিঠটান দানকারী, নিজেকে ইয়াহুদী প্লাস মুসলমানী মসিহা কাম আরমানী স্যুটবুট পরিহিত ইমাম মাহদী গণ্যকারী, হারুণইয়াহিয়া-ডট-কম ওয়েবমাস্টার ও একই নামের ইসলামী বিলাই বিষয়ক ইউটিউব চ্যানেলের স্বনামধন্য স্বত্বাধীকারী আল্লামা আদনান ওকতার ইস্তাম্বুলী কর্তৃক প্রদত্ত নাস্তিকিস্ট ও বিবর্তনিস্টদের দাঁতভাঙা জবাবদানকারী, সিফিলিস ডারউইনের আতংকে ডায়রিয়া জাগরুককারী কাগজীয় ম্যাঁৎকার "হোয়াই এভুল্যুশন ইয রঙ" নামক চটি সিরিজ সমূহের উপর হাই-ডেফিনিশনে pee মানে পি.এইচডি করে এসে এখানে সেই গো+এষণা লব্ধ থিসিস প্রসব করছেন...

http://i.imgur.com/vr1E1Js.jpg
মিয়াঁও...  tongue

Calm... like a bomb.

৬৫৫

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

জনাব saif9602, আপনি কি বায়োলজির সাথে সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে রিসার্স করছেন?

"ডেটিং গ্যাপের" দু চারটা রেফাসেন্স দিলে ভালো হয়।

জনাব paakhy , এটা "বিজ্ঞান যাত্রা" সাইট না, উপরে চেক করুন এটা প্রজন্ম ফোরাম।

ধন্যবাদ, যখন দেখলাম ঈশ্বর, বিবর্তন এই বিষয়গুলো উঠে আসছে, এজন্য আর অন্যকিছু যাচাই করিনি। কিছুদিন আগে এসব নিয়ে আমার ব্লগের একটা লেখাই এখানে পেস্ট করেছি যেখানে বিজ্ঞান-যাত্রায় প্রকাশিত পোস্টের বিপরীতে লিখেছি। আপনি ঐ অংশটুকু ইগনোর করতে পারেন।

I am the expression of your neglected and unexpressed thoughts.
-Mamun Mehedee

৬৫৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সাইফুল_বিডি (০৮-০৫-২০১৭ ০১:০৫)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

paakhy লিখেছেন:

ধন্যবাদ, যখন দেখলাম ঈশ্বর, বিবর্তন এই বিষয়গুলো উঠে আসছে, এজন্য আর অন্যকিছু যাচাই করিনি। কিছুদিন আগে এসব নিয়ে আমার ব্লগের একটা লেখাই এখানে পেস্ট করেছি যেখানে বিজ্ঞান-যাত্রায় প্রকাশিত পোস্টের বিপরীতে লিখেছি। আপনি ঐ অংশটুকু ইগনোর করতে পারেন।

আপনি পুরো টপিকের কপাতা পড়ে জানতে পেরেছেন যে "ঈশ্বর, বিবর্তন" এর বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে? আর কি উপলক্ষেই আপনার জ্ঞানগর্ভ "পোস্ট" এখানে "পেস্ট" করেছেন? ফোরামে মুলত টপিকের সাবজেক্টে আলোচনা করার নিয়ম, মনে করেন কেউ কিছু বলেছে আপনি তার কথার সাথে একমত না , অথবা তার কথা বুঝেন নি , অথবা অন্যকোন ব্যাপার নিয়ে (টপিক সম্পর্কিত) বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন, যেমন বিবর্তনের সত্য(!) নয় এটা নিয়ে আলোকপাত করতে পারেন। অন্যকে উদ্দেশ্য করে লেখা এখানে না দেওয়াই উত্তম।

saif9602 লিখেছেন:

গবেষণায় যদি পূর্ণবয়স্ক ইঁদুর বা মানুষের দেহ কোষ থেকে ভ্রূণ কোষ তৈরী করা যায়, তাহলে পূর্ণবয়স্ক আদমের (আঃ ) দেহ কোষ থেকে হাওয়া (আ)কে তৈরী করা কেনো অসম্ভব হবে? http://www.facebook.com/saif9602/posts/ … 8925863554

যখন কোন  প্রজেক্টের  সোর্স কোড কারো কাছে থাকে তখন সেটা ফর্ক করে মডিফাই করা সহজ, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে নতুন করে নকঅফ ভার্শন লিখে সেটা মডিফাই করা সহজ না। আর যখন কেউ চাইলেই (ইচ্ছে) কিছু ম্যাজিকের মত হয়ে যায়, তখন শুধু ইচ্ছে করলেই হয়, হাড় খুলে সেটা থেকে ভ্রূণ বানিয়ে কিছু করতে হয় না। আর পুরো ফিমেল বডির জন্য প্রয়োজনীয় কোড মেল বডির সোর্শ কোডে থাকা চমৎকার এবং স্বাভাবিক ব্যাপার!

একজন মেল এবং ফিমেল উভয়ের মাঝে তাদের মায়ের X ক্রোমোজোম থাকে। মেয়েরা X পায় বাবা থেকে ছেলেরা Y পায় বাবা থেকে। সো এখানে কিছু কমপ্লিকেটেড ব্যাপার আছে , যেমন আদমের XY থেকে নাহয় একটা X নিলাম আরেকটা X পাবো কই।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

৬৫৭

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

সুন্দর কথা বলেছেন ।

৬৫৮

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

নাস্তিকদের জন্য অসাধারণ একটি গান

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

৬৫৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (০৭-০৭-২০১৯ ২৩:৩১)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের কিছু সাদৃশ্য

২৫ নভেম্বর, ২০১৪

সাধারণত মুসলমানরা ইহুদিদের দেখতে পারে না। ইহুদিরাও সাধারণত মুসলমানদের দেখতে পারে না। তবে ইসলাম ও ইহুদি ধর্মে পার্থক্য যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাদৃশ্যও আছে।

১.
মুসলমান ও ইহুদিরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। সৃষ্টিকর্তা এক এবং তাঁর কোন শরীক নেই।

২.
মুসলমান ও ইহুদিদের মতে, তাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) / আব্রাহাম। সমগ্র মানব জাতির পিতা হযরত আদম (আঃ) / অ্যাডাম।

৩.
মুসলমানরা প্রতিদিন পাঁচ বার (ভোরে , দুপুরে , বিকেলে , সন্ধ্যায় ও রাতে) নামাজ আদায় করে। ইহুদিরা প্রতিদিন তিন বার (ভোরে, দুপুরে ও রাতে) প্রার্থনা করে।

৪.
এই দুই ধর্মেই প্রার্থনার জন্য কিবলা (দিক) আছে। মুসলমানদের কিবলা মক্কার কাবা ও ইহুদিদের কিবলা (দিক) জেরুজালেমের প্রার্থনা স্থান।

৫.
মুসলমানদের জীবনে একবার হজ্জ্ব করতে হয় মক্কায়। ইহুদিদের বছরে তিনবার তীর্থ যাত্রা করতে হয় জেরুজালেমে।

৬.
মুসলমান ও ইহুদি পুরুষদের খতনা (circumcision) করতে হয়।

৭.
দাড়ি রাখতে বলা আছে দুই ধর্মেই। দাড়ি কাটা দুই ধর্মের দৃষ্টিতে গুনাহ / পাপ।

৮.
সম্পদ দান করা দুই ধর্মেই অবশ্যপালনীয় বিষয়। মুসলমানরা নিজের সম্পদের একটি অংশ যাকাত হিসেবে দেয়। ইহুদিরা তাদের সম্পদের একটি অংশ প্রতি বছর চ্যারিটি হিসেবে দেয়।

৯.
মুসলমানরা কোনো ব্যাক্তিকে দেখলে সালাম দেয়। ইহুদিরা কোনো ব্যাক্তিকে দেখলে সালোম / শালোম বলে। দুই শব্দের অর্থই - শান্তি।

১০.
দুই ধর্মেই বিশেষ আইন রয়েছে। মুসলমানদের জন্য শরীয়াহ আইন। ইহুদীদের জন্য হালাখা আইন। এই দুই আইনেরই শাস্তির বিধান কঠোর। জেনা (বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক) করা এই আইন অনুসারে মারাত্মক অপরাধ। জেনা করলে মুসলমানদের শরীয়াহ আইন মোতাবেক ১০০ বেত্রাঘাত। ইহুদীদের হালাখা আইন মোতাবেক পাথর ছুড়ে মারা।

১১.
ইসলাম ধর্ম মতে, শুক্রবার সপ্তাহের পবিত্র দিন ও বিশেষ ইবাদতের দিন - জুম্মা। ইহুদি ধর্ম মতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সপ্তাহের পবিত্র সময় ও বিশেষ প্রার্থনার সময়।শাব্বাত।

১২.
দুই ধর্মেই নির্দিষ্ট খাবারের অনুমতি আছে। মুসলমানদের জন্য হালাল খাবার। ইহুদিদের জন্য কোশার খাবার। দুই ধর্ম মতেই পশুর রক্ত ও শুকরের মাংস কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। একজন মুসলমান ইহুদিদের কোশার খাবার খেতে পারবে। একজন ইহুদী মুসলমানদের হালাল খাবার খেতে পারবে। তবে মুসলমানদের জন্য কোশারের মধ্যে অ্যালকোহল খাওয়ার অনুমতি নেই কারন যে কোনো ধরনের অ্যালকোহল মুসলমানদের জন্য হারাম।

১৩.
পশু জবাইয়ের নিয়ম দুই ধর্মেই প্রায় এক ধরনের। মুসলমানেরা প্রতিটি পশু জবাইয়ের আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। ইহুদিরা শুধু একবার প্রভুর নাম স্মরণ করে একসাথে সব পশু জবাই করে।

১৪.
মেয়েদের ক্ষেত্রে দুই ধর্মেই মাথায় কাপড় দেয়ার বিধান আছে, তবে ইসলাম ধর্মে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলেই মাথায় কাপড় দেয়ার বিধান আছে। আর ইহুদি ধর্মে মেয়ে বিয়ে করলে মাথায় কাপড় বাধার বিধান আছে। নারী ও পুরুষের জন্য শালীন কাপড় পরার বিধান দুই ধর্মে আছে।

১৫.
পুরুষের টুপি পড়ার বিধান দুই ধর্মেই আছে।

১৬.
ইবাদত/প্রার্থনার অংশ হিসেবে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার বিধান দুই ধর্মেই আছে। মুসলমানদের রমজান মাসের প্রতিদিন রোযা রাখা ফরজ আর ইহুদিদের বছরে পাঁচটি বিশেষ দিনে পানাহার থেকে বিরত থাকা অবশ্য পালনীয়।

১৭.
সন্তান জন্ম নিলে মুসলমানদের অনেকে বাচ্চার কানের কাছে আযান দেয়া হয়। ইহুদিরা অনেকে বাচ্চার কানের কাছে শিমা দেয়।

১৮.
দুই ধর্মেই সুদ নিষিদ্ধ।

১৯.
ধর্মীয় দিনপঞ্জিকায় মাস নতুন চাঁদ দেখে ঠিক করা হয় দুই ধর্মেই।

২০.
সন্তানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখার সময় ছাগল বা ভেড়া জবাই দেয়া দুই ধর্মেরই বিধান।

২১.
দুই ধর্ম মতেই জেরুজালেম হচ্ছে পবিত্র নগরী। মুসলিমদের জন্য মক্কা হচ্ছে সবচেয়ে পবিত্র নগরী তারপর মদীনা তারপর জেরুজালেম। ইহুদিদের জন্য জেরুজালেম সবচেয়ে পবিত্র নগরী। আগে মুসলিমদের কিবলা জেরুজালেমে ছিলো। পরে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা নগরীর কাবা হয় মুসলিমদের কিবলা।

২২.
কোরআন অনুসারে, অমুসলিমদের মধ্যে একমাত্র ইহুদি-নাছারা জাতির নারীর সাথে মুসলিম পুরুষের বিয়ের অনুমতি আছে। আলেম ওলামাদের মতে এই বিয়ে জায়েজ হবে তবে তা মাকরুহ/পছন্দনীয় কাজ না। এই ধরনের বিয়ে করলে শর্ত হলো সন্তান মুসলিম হতে হবে।

২৩.
ইহুদি পুরুষরা প্রার্থনা করার সময় মাথায় টুপি পরে। ইহুদিদের টুপির সাথে মুসলমানদের টুপির মিল আছে।

২৪.
ইহুদি বিবাহিত মহিলাদের মাথায় কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখা ও লম্বা কাপড় পরা বাধ্যতামূলক। মুসলমান যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের (বিবাহিত , অবিবাহিত) মাথায় কাপড় দেয়া বাধ্যতামূলক ও শরীর ঢেকে রাখতে লম্বা কাপড় পড়ার বিধান আছে।

https://www.facebook.com/41886873497893 … 650233414/

৬৬০

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

নিয়াজ মূর্শেদ লিখেছেন:

ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের কিছু সাদৃশ্য

২৫ নভেম্বর, ২০১৪

সাধারণত মুসলমানরা ইহুদিদের দেখতে পারে না। ইহুদিরাও সাধারণত মুসলমানদের দেখতে পারে না। তবে ইসলাম ও ইহুদি ধর্মে পার্থক্য যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাদৃশ্যও আছে।

এতে আশ্চর্য্যের কিছু নেই । প্রশ্ন হচ্ছে এমনটা হল কেন ? তারজন্য প্রথমে জানতে হবে মানুষের চিন্তাধারার ভিত্তি কি? একটা মানবশিশু যখন জন্মায়, তখন তার মাথাটা থাকে একেবারে চিন্তাশূন্য। তার মাথায় কোনাে রকম চিন্তাই থাকে না। তবে তার মাথায় মগজ থাকে, স্নায়ুকেন্দ্র থাকে, সারা গায়ে বিস্তৃত স্নায়ুতন্ত্র থাকে। এর ফলে কালক্রমে শিশু বড় হযে চিন্তা ইত্যাদি আয়ত্ত করতে পারে। প্রথমে তাকে শিখতে হয় ভাষা। কারণ ভাষা ছাড়া চিন্তা সম্ভব না। তবে ভাষা শেখার সাথে সাথে শিশু চিন্তা করতেও শিখতে থাকে। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ— এসব কথা শেখানাের মাধ্যমে তার পিতা মাতা, আত্মীয় স্বজন ও আশেপাশের মানুষ সমাজে প্রচলিত চিন্তাই তার মাথায় সঞ্চারিত করে। শিশু যখন বড় হয় তখন সে তাই সমাজে প্রচলিত চিন্তা ও প্রবণতাসমূহ আয়ত্ত করে।

সমাজে প্রচলিত চিন্তা ও প্রবণতা বলতে আমরা কি বুঝি? সমাজে দেখা যায় কেউ স্বার্থপর হয়, কেউ পরের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে, কেউ প্রসন্নচিত্ত হয়, কেউ কোপন স্বভাবের হয়। এ রকম বিভিন্ন ধরনের চিন্তা ও প্রবণতা সমাজে আছে। আমরা কিন্তু এ ধরনের চিন্তার কথা এখানে আলােচনা করছি না। এগুলােও চিন্তা ও প্রবণতা বটে৷ তবে তা ব্যক্তিগত পর্যায়ের। এ ছাড়া আরেক ধরনের চিন্তাধারা আছে, তাকে বলা চলে সামাজিক পর্যায়ের চিন্তাধারা বা ভাবাদর্শ। যেমন অতীতে এক সময়ে পৃথিবীতে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। তখন অবস্থম্পন্ন ব্যক্তি বাজার থেকে দাস কিনে আনত। দাস অবশ্য সব হিসেবেই মানুষ, কিন্তু সামাজিক মানদণ্ডে দাস। এবং সে যুগের দাসমালিক শ্রেণীর মানুষরা দাসকে গরু ভেড়ার মতাে সম্পত্তি বলে মনে করত। দাসের উপর অত্যাচার করলে বা দাসকে মেরে ফেললে কেউ তাতে দোষের কিছু দেখত না। সে যুগের একজন বিখ্যাত দাসমালিক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন যে, দাসরা স্বাধীন মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট। সে যুগের ভাবাদর্শের বিচারে দাসকে হেয় জ্ঞান করার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। কিন্তু এরিস্টটলের মতাে পণ্ডিত না হলেও আমাদের দেশের যে কোনাে সাধারণ মানুষও জানে যে, মানুষে মানুষে কোনাে পার্থক্য নেই এবং নিকৃষ্ট মানুষ বলেও পৃথিবীতে কিছু নেই। আরও উল্লেখযােগ্য কথা হচ্ছে, দুঃখে কষ্টে পড়ে অনেকে এখনও আমাদের দেশে ছেলেমেয়ে বিক্রি করে, এ রকম খবর শােনা গেলেও কেউ কাউকে দাস বানিয়েছে বা বানানাের ইচ্ছা করে এমন কথা বিশেষ শােনা যায় না। কারাে যদি একজন বিনা পয়সার দাস থাকে তবে সে তাকে খাটিয়ে আরাম আয়েশে থাকতে পারে। কিন্তু এ প্রলােভন সত্ত্বেও আমাদের দেশে কেউ কাউকে ক্রীতদাস বানাতে চাইবে কি না সন্দেহ। যদি দু' একজন এ রকম ইচ্ছা পােষণ করে, তবে সে যে সামাজিকভাবে ধিকৃত হবে তাতে সন্দেহ নেই। এর কারণ হচ্ছে আমরা যে সমাজে বাস করি, তার সামাজিক ভাবাদর্শ দাসপ্রথার বিরােধী।

আবার অতীতে পৃথিবীতে এমন এক সমাজ ছিল, যাকে বলা হয় সামন্ত সমাজ। সামন্ত সমাজে জমিদার এবং তার তাঁবেদার সামন্তরাই ছিল প্রভু শ্রেণীর মানুষ। সামন্ত সমাজে জমিদাররা প্রজাশােষণ করে নিজেদের ধনবৃদ্ধি করত। শােষণের ধরনটা ছিল বেগার খাটানাে। জমিদাররা কৃষকদের দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে নিজেদের জমি চাষ ও অন্যান্য কাজ করাত। অথচ আমাদের যুগে যদি শােনা যায় যে কেউ অন্যকে বিনা পারিশ্রমিকে জোর করে খাটাচ্ছে, তবে লােকে যে তাকে ঘৃণা করবে তাতে কোনাে সন্দেহ নেই, যদিও সামন্ত যুগে লোকের কাছে ব্যাপারটাকে খুবই স্বাভাবিক মনে হত। এর কারণ হচ্ছে, আমাদের যুগের ভাবাদর্শ সামন্ত ভাবাদর্শের বিরােধী।

অবশ্য আমাদের যুগের ভাবাদর্শের এমন কতগুলাে বৈশিষ্ট্য আছে যা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু অন্য সমাজের লােকের কাছে আশ্চর্যের মনে হবে। যেমন কেউ যদি কারখানা স্থাপন করে বা ব্যবসা করে ধনসঞ্চয় করে আমরা তাতে দোষের কিছু দেখি না। সহজ হিসেবে দেখা যাবে একজনকে মিলমালিক হতে হলে পাঁচ-সাতশ জনকে শ্রমিক হতে হবে। এরকম যদি একলক্ষ পুজিপতি হয় তবে বাকি সাত কোটি মানুষকে তার শ্রমিক বা কর্মচারী হতে হবে। তথাপি আমরা এতে দোষের কিছু দেখি না। কারণ এ সমাজের ভাবাদর্শ হচ্ছে পুঁজিবাদের অর্থাৎ জমিজমা, সম্পত্তি, কলকারখানার উপর ব্যক্তিগত মালিকানার ভাবাদর্শ। আমরা সবাই পুজিবাদকে ভাল মনে করি এবং মনে মনে আশা করি আমরাও পূজিপতি হব। ঠিক যেমন দাস সমাজে বিত্তহীনরাও দাস ব্যবস্থাকে ভাল মনে করত এবং সে যুগে মনে মনে আশা করত দাসমালিক হবার। তবে আদিম সমাজের কোনাে মানুষ যদি শুনত যে দেশের কারখানার উৎপাদিত জিনিস ব্যবহার করবে সারা দেশের মানুষ অথচ সে সম্পদের মালিক হবে অল্প কয়েকজন পুজিপতি, তবে তারা আশ্চর্য হত নিঃসন্দেহে। কারণ তাদের ভাবাদর্শ ছিল আদিম সাম্যবাদী সমাজের ভাবাদর্শ। আদিম শিকারীসমাজে উৎপাদনের উপায়সমূহ অর্থাৎ জমি, পশু ইত্যাদি কারাে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, তা ছিল সমস্ত ক্ল্যান বা ট্রাইবের সম্পত্তি।

আমরা মােটামুটি বুঝতে পারলাম যে, এক একটা সমাজে এক এক ধরনের চিন্তাধারা বা ভাবাদর্শ প্রসার লাভ করে। যেটুকু ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার ভিত্তিতে আলােচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এমন ধরে নিতে পারি যে, এক এক সমাজে তার সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনুরূপ এক একটা ভাবদর্শ জন্মলাভ করে। এ ভাবাদর্শ মানব সমাজের অস্তিত্বের পক্ষে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনাে সমাজ ভাবাদর্শ ছাড়া বাঁচতে পারে না। সমাজের মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থির হয় এ ভাবাদর্শের ভিত্তিতে। ভাবাদর্শ ছাড়া সমাজ অচল সমাজের সব লোেক কতগুলাে মূল বিষয়ে এক রকম বিশ্বাস ও ধারণা পােষণ করে বলেই তাদের মধ্যে মেলামেশা, লেনদেন, কাজ কারবার সম্ভব হয়। আমাদের সমাজে সবাই বিশ্বাস করে এবং জানে যে পারিশ্রমিক নিলে কাজ করতে হয়। ঋণ করে ঘি খেলে পরিশ্রম করে তা শােধ দিতে হয়, অন্যথায় জেলে যেতে হয়। আদিম সমাজের সব লােক বিশ্বাস করত এবং জানত যে সবাই মিলে পরিশ্রম করে শিকার করা ও ক্ল্যানের সব কাজ করাই নিয়ম। সকলেই এ কথা মানত বলেই কেউ কাজে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা তাে করতই না— ফাঁকি যে দেয়া চলে এমন আজব কথাও কারাে মনে হত না। সমাজের সব মানুষের মধ্যে এ ভাবাদর্শের মিল ছিল বলেই আদিম সমাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারত। এক এক জন যদি এক এক রকম চিন্তা করত আর জনে জনে বুঝিয়ে বা জবরদস্তি করে যদি কাজ করান হত তবে সে সমাজ টিকতে পারত না। আর বােঝাতই বা কে? সব সময় সমাজ সম্পর্কেই অবশ্য এ কথা মােটামুটি খাটে।

কিন্তু ভাবাদর্শের এ মিল সমাজের মানুষদের মধ্যে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়? এটা বুঝতে হলে ভাবাদর্শের প্রকৃত রূপ কি এবং তার উৎপত্তি হয় কিভাবে তা বুঝতে হবে। আমরা অবশ্য আমাদের সমাজের দিকে তাকালে দেখব, এক এক দল মানুষ এক এক রকম চিন্তা করে। কেউ মনে করে পুজিবাদ ভাল, কেউ মনে করে সমাজতন্ত্র ভাল, কেউ বা অন্য কিছু। একই সমাজে এত রকম ভাবাদর্শের সৃষ্টি হল কিভাবে? এ রকম হওযার কারণ হচ্ছে পৃথিবীতে যখন একটা সমাজ ভেঙে আরেকটা সমাজের সৃষ্টি হয়, তখন পুরান সমাজের ভাবাদর্শ কিছু কিছু নতুন সমাজেও টিকে থাকে। ফলে পৃথিবীতে ইতিহাস কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর একটা উৎসের পরিবর্তে একটা সমাজের ভাবাদর্শের দুটো উৎস দেখা দেয় একটা হচ্ছে নতুন সমাজের ভাবাদর্শ আরেকটা হচ্ছে আগের সমাজের ভাবাদর্শের রেশ। এ দুয়ের সংমিশ্রণের মধ্য দিয়ে নতুন সমাজের ভাবাদর্শ গড়ে ওঠে। আবার এমনও হতে পারে যে, পৃথিবীর একাংশে সমাজ এগিয়ে গিয়ে নতুন সমাজের সৃষ্টি করল। এখন এ অগ্রসরমান সমাজের ভাবাদর্শ সমসাময়িক অন্যান্য পশ্চাৎপদ সমাজের উপর প্রভাব ফেলবে। যেমন ইউরােপে যােল থেকে আঠার শতকের মধ্যে যখন হল্যাও, ইংল্যাণ্ড ও ফ্রান্সে পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা জন্ম নিল তখন নতুন পুঁজিবাদী ভাবাদর্শ ইউরােপের অবশিষ্ট দেশের সামন্ত ভাবাদর্শের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করল। আমাদের দেশেও বর্তমানে সামন্ত ভাবাদর্শ এবং পুজিবাদী ভাবাদর্শের প্রভাব পড়েছে।

কিন্তু অতীতে যখন পৃথিবীতে প্রথম মানবসমাজের উদয় ঘটেছিল, যাকে আমরা পুরােপলীয় শিকারী সমাজ বলেছি, তখন আর কোনাে প্রাচীনতর বা অগ্রসরতর সমাজ পৃথিবীতে ছিল না। তখন কিভাবে এবং কোন ভাবাদর্শের উৎপত্তি হয়েছিল? এ কথাটা বুঝলে আমরা সাথে সাথে আরও বুঝতে পারব, পরবর্তী কালের সমাজ সমূহের নতুন নতুন ভাবাদর্শের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল। মানুষ সব সময় দলবদ্ধ হযে বাঁচে, দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে, উৎপাদন করার জন্য তদের মধ্যে কাজের সহযােগিতা প্রয়ােজন হয়। এ সহযােগিতা কার্যকর করতে গিয়ে মানুষ ভাষা আয়ত্ত করেছিল অতীত কালে, একথা আমরা আগেই আলােচনা করেছি। ভাষার সাথে সাথে মানুষ চিন্তাশক্তিও আয়ত্ত করেছে। চিন্তার সাহায্যে মানুষ ক্রমশ এক ভাব জগতের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এ ভাব জগৎ বস্তু জগৎ থেকে সম্পূর্ণ সংযােগহীন নয়। কারণ দেখা যায়, যে, চিন্তাধারা মানুষের জীবন ধারণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে সম্ভবপর এবং সহজতর করে তুলত, আদিম মানুষ সেসব চিন্তাধারাই আয়ত্ত করত। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, চোখের সামনে খাবার বা বল্লা হরিণের পাল দেখলে আদিম মানুষ যতখানি কর্মতৎপর হতে পারত ঠিক ততখানি কর্মপ্রেরণা তারা পেত নিজেদের কল্পিত ধ্যান-ধারণা থেকে। বস্তুময় জগৎ মানুষকে যতখানি অনুপ্রাণিত করতে পারে, তার ভাবাদর্শ বা ভাব জগৎও তাকে ততখানি অনুপ্রাণিত করতে পারে। এ সকল ভাব ও চিন্তাধারা যে বাস্তবানুগ হতে হবে, তেমন কোনাে কথা নেই। অবাস্তব ধারণাও মানুষের প্রেরণার উৎস হতে পারে।
ভাবাদর্শের এহেন শক্তির কারণ হচ্ছে ভাবাদর্শ একটা সামাজিক সৃষ্টি। প্রথম কথা হচ্ছে, যেসব শব্দ বা কথা দিয়ে ভাবাদর্শ চিন্তাধারা গঠিত হচ্ছে, সে শব্দগুলাে সমাজেরই সৃষ্টি এবং সমাজ জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত বলেই সেসব কথা বা চিন্তা অর্থপূর্ণ হয়। তা ছাড়াও ঐ সব চিন্তাধারা মানুষকে প্রভাবিত করার শক্তি লাভ করে এবং নিজে একটা বাস্তবতা হিসাবে পরিচিত হয় শুধু এ কারণেই যে, সমাজ তাকে সত্য বলে গ্রহণ করে। নিতান্ত অসম্ভব কথাও সমাজে সত্য বলে পরিগণিত হতে পারে, যদি সমগ্র সমাজ অর্থাৎ দলের সমস্ত মানুষ তাকে সত্য বলে গ্রহণ করে এবং ছােটকাল থেকে সবাইকে সেটা শেখানাে হয়। সমস্ত লােকে যা বিশ্বাস করে তা অবিশ্বাস করার। কথা কারাে মনে কখনই জাগবে না।
কিন্তু আজগুবি যেনাে কোনাে চিন্তা মানুষের মাথায় এলে তাই কি সমাজের সকলের কাছে ভাবাদর্শ বলে গৃহীত হবে? তা হবে না। ভাবাদর্শের প্রধান কাজ হচ্ছে সমাজকে সংহত করা বা একত্রে ধরে রাখা এবং তার কাজকর্মকে সহজ ও বিঘ্নশূন্য করা। আবার সমাজ টিকে থাকে উৎপাদন ব্যবস্থাকে অবলম্বন করে। তাই এক একটা সমাজে উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে তার ভাবাদর্শের সৃষ্টি হয়। উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখাই ভাবাদর্শের প্রধান কাজ। উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য সমাজের মানুষদের মধ্যে যে রকম পারস্পরিক সম্পর্ক দরকার, ভাবাদর্শ সে ধরনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কাজেই সহায়তা করে। এসব ভাবাদর্শ বা চিন্তাধারা তাই সব সময় যে বিজ্ঞানসম্মত বা বাস্তবসম্মত হবে তার কোনাে কথা নেই বরং তার বিপরীতটাই সত্যি। বিশেষত আদিম সমাজের ভাবাদর্শ কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও অজ্ঞানতার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তা সত্ত্বেও আদিম গণতান্ত্রিক সমাজ পরিচালনায় সে ভাবাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শুধু আদিমকালেই নয়, আমরা পরে দেখতে পাব যে, তার পরবর্তীকালের অনেক সমাজের ভাবাদর্শই অজ্ঞানতা ও অন্ধবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কেবলমাত্র আধুনিক বিজ্ঞানের উদ্ভবের পরই মানুষের ধ্যান ধারণা বিজ্ঞান সম্মত হতে শুরু করেছে।

সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে ভাবাদর্শের সম্পর্ক ও পারস্পরিক। সমাজে উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে তার ভাবাদর্শের সৃষ্টি হয়েছিল। আদিম সমাজ ভেঙে যখন পরবর্তীকালের সভ্য সমাজ উদিত হয়েছিল, তখন এ ভাবাদর্শকে পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত করে বা বর্জন করে নতুন ভাবাদর্শ সৃষ্টির প্রয়ােজন দেখা দিল। নতুন ভাবাদর্শকে উৎপাদনব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হয়েছিল। নতুন সমাজে পুরান ভাবাদর্শ অবশ্য একেবারে লােপ পেয়ে যায় না, তার রেশ রয়ে যায় কিছু কিছু লােকের
চিন্তায় ও স্মৃতিতে এবং সেগুলাে সঞ্চারিত হয় নতুন যুগের ভাবাদর্শেও। তা ছাড়া পৃথিবীর একাংশে যখন সভ্যতার উদয় হয়েছিল, বাকি পৃথিবীতে তখনও অনগ্রসর বন্য ও বর্বর সমাজ রয়ে গিয়েছিল। এ সকল বন্য বা বর্বর সমাজকে অবলম্বন করে প্রাচীন ভাবাদর্শ অনেক কাল পৃথিবীতে টিকে ছিল। বস্তুত আমরা বর্তমানকালে যে গণতন্ত্রের এত বড়াই করি, আদিম মানুষদের কাছেই আমরা তার জন্য অনেকাংশে ঋণী। মধ্য যুগে ইউরােপে সভ্য রােমক মানুষ এবং বর্বর জনগােষ্ঠীর মিলন ও সংমিশ্রণের মাধ্যমে সামন্ত সমাজের উদয় হয়েছিল। এ বর্বর জনগােষ্ঠী তাদের আদিম গণতান্ত্রিক চিন্তা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রবর্তন করেছিল ইউরােপের সামন্ত সমাজে এবং সে সকল গণতান্ত্রিক প্রথাই শেষ পর্যন্ত সােড়শ, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে ইউরােপের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।

hard to hate but tough to love