সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন গিনি (০৮-০৬-২০১৮ ২০:৩৯)

টপিকঃ দূর ছায়াপথে

দূর ছায়াপথে
গিনি
সুরেন কিশোর বয়স থেকেই বাঁশীতে সুর তোলার জন্য পারদর্শী। এর সাথে সাথে অনেক অদ্ভুত আচরণ আর সাহসিক কাজের জন্য সকলে তাকে জানে। যেমন ঝড়ের সময় তাল গাছের মাথায় উঠে বাতাসে দোল খাওয়া, বিষদর সাপের লেজ ধরে ছুরে ফেলা বা গভীর রাতে  বাড়ির পাশের জাম গাছে উঠে বাশিতে সুর তোলা। এর কিছু বৎসর যায়। সুরেন এখন সুথাম দেহের সুদর্শন যুবক, কিন্তু তার ঐ সকল কর্ম গুলি এখনও বর্তমান।
আজ পূর্ণিমার রাত। অল্প কূয়াশাচ্ছন্ন। সে এক মনে নিবিড় এক সুর তোলে। মধুর সে সুর জাম গাছের শীর্ষের পাতা গুলিকে থির থির করে কাঁপায়। ঘুমন্ত টিয়া পাখি সে সুরে নিদ্রাচ্ছন্ন টি টি করে উঠে। সুরেন শুনে নুপুরের শব্দ। পায়ে হাঁটার ক্রমেই জোর হতে থাকে। আবচ্ছা আলোয় দেখা যায় কে যেন নাচ্ছে। আরে এতো চন্দ্রিকা। পালং নদীর ওপারে তালুকদার মাতবরের কন্যা। কাঁধের দুপাশে বেনী করা সেই মেয়েটি যাকে তার এতো ভালো লাগে। কথা কইতে মন চায়। হাত ধরে বলতে ইচ্ছা করে তোমাকে ভালো লাগে। এতো রাতে গাং পাড়ি দিয়ে। সাহস আছে ত। সে বাঁশী থামায়। নুপুরের ছুন ছুন শব্দ টা মনে হয় কে যেন দৌরে পালায়। নিজের কাছেই খারাপ লাগে। কেন যে বাঁশী থামালো। পরদিন সে গাছে নীচে টর্চ নিয়ে বসে বাঁশী শুরু করে। নাছ শুরু হতেই সে টর্চ মারে। কিন্তু দেখে এই কাছে ছিল এখন অনেক দূরে চলে গেছে। টর্চ বন্ধ করে। তার পরের দিন আজ আর টর্চ আনে না। নাচ শুরু হয় সে বাঁশী বাজাতে বাজাতে চন্দ্রকার কাছে এসে হাত ধরে।
তুমি কি ভাবে প্রতি রাতে এখানে আসো?
কেনো ঐ যে নাউ।
আমাকে কি তোমার ভালো লাগে না, আমার বাঁশী কে?
দুজন কেই।
যান, চন্দ্রিকা আমারাও তোমাকে ভালো লাগে।
পর দিন,
আজ শুধু হাত ধরা নয় এবার চুম্বন। প্রথমে গালে। আস্তে আস্তে ঠোঁটে পৌছায়।
যায় কিছু রাত,
চন্দ্রিকা বলে
চলো তোমায় নতুন কিছু দেখাই। চন্দ্রিকা তার হাত ধরে। মনে হয় তারা উড়ে চলেছে। কিন্তু চদন্রিকার ওড়নার জন্য সে কিছু দেখতে পায় না। ওড়না যখন সরে তখন দেখে। চারিদিক শুষ্ক। উঁচা নিচা পাহাড়, গর্ত। এরি মধ্যে এক পাংলঙ্ক। কি মিষ্টি সুবাস আছে। কি কাঠ দিয়ে বানানো কে জানে! চদন্রিকা ঘাঘরাটা ছড়িয়ে বসে। তাকে কাছে ডাকে।
এসো, পাশে বসো।
খিল খিল করে হেসে বলে,
নুপুর গুলা বেশী শব্দ করছে। খুলে রাখি।
এক নিবিড় আনন্দ সুরেনের সমস্ত শরীরীকে আচ্ছন্ন করে। তারা আলিঙ্গনে বদ্ধ হয়।
এ রাত মধু চন্দ্রিমার রাত। দুই ভিন্ন গ্রামের দুই ভিন্ন মেরুর প্রানের সহবাস পূর্ণ হয়।
যখন প্রভাতে ঘুম ভাঙ্গে তখন সুরেন দেখে সে জাম গাছটির নীচে ।
যায় আরও কিছু কাল। দুই প্রেমিকের এই আশ্চর্য মেলামেশা, নাচ, সুর আরও গভীর হয়, হয় একান্ত।
চন্দ্রিকা বলে
একটু ধীর লয় বাজাও। আমি অন্তস্ততা। তোমার সন্তান আমার গর্ভে। সুরেন উতফুল্ল হয়। সে বুঝতে পারে না তার চাওয়া এতো সহজ হয় কি ভাবে।
চন্দ্রকা- আমার চাঁদ মাতা জিজ্ঞাসা করে এ শিশু কোথায় বড় হবে। আমি বলি কেন ঐ দূর ছায়াপথে। সেখানে ওর মত আরও কত শত আছে। যারা দূর থেকেই ঝিক ঝিক করে। জানাই প্রানের স্পন্দন।
সুরেন- কেন আমাদের ভালোবাসার শিশু আমাদের কাছেই বড় হবে।
চন্দ্রিকা খিল খিল হাসে।
ও আলাভোলা। আমি চন্দ্র কন্যা। তুমি ধরার পুরুষ। আমাদের শিশু হবে কোনো যিক্রন বা হীরক খণ্ড। সে তোমার, আমার কারো সাথে থাকতে পারবে না। যা ছিল তোমার আর আমার প্রেম তাতো শেষ হবে যিক্রন যখন জন্মাবে। তখন শুরু হবে তার কৈশর, যৈবন। সেখানে তুমি আমি কোথায়। একটু ভেবে দেখো। ব্রমান্দ জুরে সারাক্ষন চলছে নতুনের সৃষ্টি। প্রতি সেকেন্ডেরও কোটি ভাগের এক ভাগে চলছে নতুনের গঠন। যদিও প্রেম থেকেই সব শুরু, কিন্তু আবার জন্মেই প্রেমের সমাপ্তি। শুধু সুর টুকু থেকে যায়। তুমি বাঁশী বাজাবে। তার ধবনি না পৌছালেও তার কম্পন টুকু পৌছাবে ঐ দূর ছায়াপথে। সে কম্পনে প্রান উদ্দেল হবে যিক্রনের আর তখন সে আলোর ছটায় থিরকাবে। যিক্রনের জীবন যে হেতু ঐ দূর ছায়াপথে হবে তার প্রেম কল্প বা গল্প যাই বল টা যাবে আরও দূরে কোন ছায়াপথে। হয়ত সেখানে যেখানে এই প্রেম আর জন্মের লীলা সংখ্যায় লিখলে সে সংখ্যা এতো বড় হবে যে শত কোটি ছায়াপথ জুরে দিলেও তার সমাপ্তি পাওয়া যাবে না। আর যা প্রকাশ করা দুসাদ্ধ তার অবস্থান হয় শূন্য বা মহাশূন্য। আমরা চির কাল এই মহাশূন্যের সাথি।

Re: দূর ছায়াপথে

বানানের দিকে এবং গুরুচণ্ডালীর দিকে নজর দিন

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত