টপিকঃ মেঘের ভাজে ভাজে

মেঘের ভাজে ভাজে
গিনি

১৯৬০ সালের ঢাকা শহর।
তারো অনেক আগে থেকেই প্রবিরের পিতা ও শেফালির পিতা ছেলে বেলার বন্ধু। প্রবিরের পিতা সরকারি চাকুরে। পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ঢাকা শহরের মধ্য বিত্ত এলাকায়। এলাকার প্রায় প্রতি ঘরের বাসিন্দারা লেখা প্রার সাথে যুক্ত। সে হিসাবে এলাকাটা বনেদি। নামে গেণ্ডারিয়া। এই গেণ্ডারিয়া নাম সম্ভবত প্রাচীন ভারতের রাজ্য গান্ধারা নাম থেকে নেওয়া। কারন সে এলাকার মানুষ ও শিক্ষিত ছিল।
শেফালির পিতা মফস্বলের এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ইতি পূর্বে দুই বন্ধুর মধ্যে চিঠির মাধ্যমে দিন খন ঠিক হয়। ঘোড়া গাড়ি করে শেফালি আর তার পিতা প্রবিরদের পাকা দোতালা বাড়ির সামনে দাঁড়ালো। শেফালির বৃত্তি পরীক্ষার জন্য আসা। দিন দশেক থাকতে হবে। প্রবিরের পিতা তাদের থাকা, খাওয়ার সকল ব্যবস্থা পূর্ব থেকেই প্রস্তুত রেখেছেন।
প্রবির মেধাবি ছাত্র। ছেলে বেলায় সেও বৃত্তি পেয়েছে। সে এখন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।প্রবিরের দোতালা ঘরের জানালা দিয়ে সে দেখে শেফাক্লি ও তার পিতার আগমন। পিতা ডাক দেওয়াতে নিচে এসে মালপত্র টানাটানিতে লেগে যায়। এরি মধ্যে শেফালির সাথে তার পরিচয় হয়। তার পিতা বলে শেফালির কোনো অসুবিধা নাই প্রবির ওঁর পড়াশুনায় সাহায্য করতে পারবে। কথাটা শুনার পর প্রবির খেয়াল করলো উজ্জল মুখায়বের মধ্য এক গাল হাসি দিয়ে অরনা দিয়ে আড়াল করলো শেফালি। প্রবিরের মনে হল এক খানা পেখম মেলা ময়ূর। চোখ গুলা যেন কি আলো ছরাছে। আসে পাশের সব কিছু যেন চক চক করে উঠছে। সন্ধ্যার পর শেফালি আসে পড়ার ঘরে। প্রশ্ন শুরু হল। আর প্রবির কিছু বললেই সে হাসে। প্রবির তবু শক্ত হয়ে সব পরা গুলি বলে দিতে থাকে। প্রবির একটু বকা দেয়। এবার ত হাসি আর থামে না। প্রবির দা একদম মানাছে না। একটু হেসে কথা বলেন। প্রবির ল্কখ্য করে কানের পাসের চুল গুলা বারেবার সরাছে আর মাঝে মাঝে কাজল লাগানো ছোখে তার দিকে অবাক দেখছে। হাতের আঙ্গুল গুলাও কত সুন্দর। কথা বলার সময় ঠোঁট গুলা দেখার মত। প্রবির অস্থির হয়। বলে তুমি পড় আমি আসছি। শেফালি তার হাত চেপে ধরে, বলে, আমাকে একা ফেলে বড় যাচ্ছেন যে? দেখেন না বাহিরে কত অন্ধকার। আমার ভয় করছে। প্রবিরে আর যাওয়া হয় না। ওঁর ছোঁয়া পেয়ে সমস্ত শরীর হিম হয়। অনেক চেষ্টা করে বলে, আজ ঘুমাতে যাও। কাল আবার দেখাবো।
পরের দিন প্রবিরের বিপদ আরও ঘন। শেফালি পরা শুরু হওয়ার আগেই বলে, প্রবির দা আমি বেশী সুন্দর তাই না। প্রবির যেন হোঁচট খায়। মুখ দিয়ে শব্দ বেরুতে চায় না। ভাবে এর পড় আরও কি বলে বসে। কিন্তু আবার ভালো লাগা আসে। সে শেফালির দিকে চেয়ে একটু মৃদু হাসে। পড়া দেখানোর এক পর্যায়ে সে শেফালির খুব কাছে এসে পরে এমন সময় এক দমাক হাওয়া বয়ে যায়। শেফালির ওড়নার অংশ প্রবিরের মুখে পরে। সে হাঁড়ায় , হাঁড়ায় কোথায় সে নিজেও জানে না। কি মিষ্টি বাস। যেন স্বর্গের সেই স্বপনের পরী তার নরম হাত তার শরীরে বুলায়ে গেল। মনে হয় সে সু মিষ্ট কিছু একটা ঠোঁট দিয়ে চেপে আছে। সে কি এক বনাঞ্চলে ঘুরে বেরাছে, যেখানে প্রজাপতির বড় বড় ডানা দিয়ে তাকে বারি দিচ্ছে। ডাহুক মন মুগ্ধ কর সুরে চারিদিক ভরে দিচ্ছে। দূরে অজানা প্রাণী নূতন শব্দে নেশা আনছে। সেই আবচ্ছা পরিবেসে সে যেন কি একটা স্পর্শ করে।
প্রবির দা, প্রবির দা, হাতটা ছারেন ত। কি যে করেন?
প্রবির লজ্জা পায়।
আজ শেফালিদের যাবার দিন। এই পরিবারে শেফালির সাদা, প্রানোচ্ছল মনের দাগ সবার মনেই গেথে গেছে। সবাই বিদায় ভারাক্রান্ত। শেফালি সকল নিস্তব্দতা ভেঙ্গে বলে, প্রবির দা, আমার কাছে ত দেওয়ার কিছু নাই। আজ ভোরে আমলকির এই জোরা পাতাটা পেয়েছি। আমাকে যাতে ভুলে না যান তাই দিয়ে গেলাম। আবার সেই হাসি।
প্রবিরের লাগে এই আমলকির পত্রটি এক প্রকার ভেলা। এর পিঠে শেফালি আর সে হাওয়ায় ভেসে বেরাচ্ছে। কখনও কখনও মেঘেদের মাঝে।যেখানে শুধু স্বপন রচনা হয়, হাওয়ার তোলপাড়ে মেঘের ভাজে ভাজে।আজ কবিতা আসে,

হাওয়ায় ভেলাতে,
মেঘো মেলাতে,
রচে অধরা ছবি,
যৌবন বেলাতে,
মায়া ফেলাতে,
মচে ভাবুক সবি।

Re: মেঘের ভাজে ভাজে

কঠিন গল্প,ভাবার্থ বুঝলাম না neutral

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।