সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন গিনি (১৩-০৫-২০১৮ ২২:১৫)

টপিকঃ সফেদা অঙ্গন

সফেদা অঙ্গন
গিনি
বৃদ্ধ সফেদা গাছ খানি বুড়ো ছাল লয়ে আছে দাঁড়িয়ে কত কাল জানা নেই। এই গৃহস্তের অনেক প্রজন্ম এর ফল খেয়েছে। এর তলে খেলেছে। মাদুর বিছিয়ে গল্পে অলস সময় পার করেছে। হয়তো অনেকেই এই বৃক্ষের ভালোবাসা টুকু লক্ষ্য করে নাই। কত সবুজ পাতা কত জন ঝার দিয়ে ফেলেছে। আবার কেউ বা তা দিয়ে বাঁশী বাজিয়েছে। এই গৃহস্তের অনেকেই বুঝে নাই তার ওপার প্রেম।
মধুদের গ্রামের ঘর খানি চিকন্দির গাছ গাছড়ায় ঘেরা এক বসত। এখানে রয়েছে সুপারি বাগান, নারকেলের আর তালের গাছ। বড়ুই, পেয়ারা, ঝোপ ঝার আর ঘর ঘেসে আঙ্গিনায় এক খানি সফেদা। বৃহৎ এই গাছের বেড়ে উঠার সাথে বেড়ে উঠেছে কেয়েক প্রজন্ম। শ্রাবনের ঘন বর্ষার দিন গুলিতে টিনের ঘরের জানালায় বসে কল কল জলের স্রোত বয়ে যেত ঐ বৃক্ষের শিকড় আর গোঁড়া ছুয়ে। ভাদ্রের তাল পাকানো তাপে মাদুর পেতে ঘরের মেয়েরা কত এম্ব্রোয়দারি করে গেছে কে মনে রেখেছে। ঘরটিকে আড়াল করার জন্য বাঁশের খুঁটি আর কলা পাতা দিয়ে প্রদা করা ছিল কিন্তু তা ঐ উঁচা বৃক্ষটিকে ঢাকতে পারে নাই। বহু দূর থেকে দেখা যেত গাছ টিকে। এমনকি পালং নদীর নৌকায় বসেও দেখা যায় তারে।
প্রায় বছর পঞ্চাশ পরে মধু আজ এক কি তারনায় ছুটে আসে সেই টিনের চালা টারে দেখার জন্য। ছেলে বেলার সে সব পরিচিত স্থান গুলি মনে হয় পর। সেই ডোবা , পুকুর উধাউ। ঘরের জানালা প্রায় ভাঙ্গা। ভিতরে অনেক ঝুল। উঠান খানি উঁচা নীচা। হাঁটা হাটির এক সময় নজর পরে বৃহৎ তরুটির দিকে। একটু ধাঁ ধাঁ লাগে, মনে হয় পাতা গুলি যেন নড়ে উঠে। মৃদু এক খানি নরম হাওয়া কোথা থেকে তাকে ছুয়ে যায়। মুখ উচু করে দেখে অনেক উপড়ে এক খানি হুতুম নিরবে বসে আছে। একটু ছোঁয় সে গাছ টিরে। মনে হয় কে যেন হাসে। কাউকে দেখা যায় না। এক খানা পাতা তার কাঁধে এসে পরে। পাতা টা হাতে নিয়ে গভীর ভাবে চেয়ে থাকে। কি যেন সব ঐ পাতায় লেখা, কি যেন সব আঁকা। সে ধেখে তার পরিবারের সকলে যারা গেছে চলে সব সব যেন হুতো পুঁটি করছে আর সে গাছটি ধীরে বড় থেকে বড় হচ্ছে। তার মা যেন কি নিয়ে সদা ব্যস্ত। তার দাদি কি বুনছে সে গাছ টার নিচে বসে। গাছ টার চার পাশে কত আধা বাদুরে খাওয়া ফল ছড়িয়ে ছিটয়ে। ঘর ঘর ভরা মানুষ , কত হৈ চৈ। একটা কাক কা কা করে মাথার উপর দিয়ে চলে গেল। আর কিছু দেখা যায় না। মাটিতে চোখ যায় ঠিক ঐ বৃদ্ধ গাছটির শিকড়ের দিকে।
অতি দৃঢ় তার সাথে গাথা সে শেকড়। শুধু উপরের টুকু দেখা যায়। যেন হাতের আঙ্গুলের মত শক্ত মুষ্টিতে আক্রে আছে তার নিজ আর মধুদের জন্ম স্থান। তার কারও প্রতি অভিযোগ নাই, চাওয়ার কিছু নাই, পাওয়ার কিছু নাই। তবু তবু সে আছে সব কিছু সাম্লে, আগলে এখনও আছে। বিধাতা তাকে যে পরম দায়িত্ব দিয়ে এই চড়া চড়ে পাথিয়েছেন সে তা, তার জীবন থাকা পর্যন্ত করে যাবে। মধু ভাবে তবে “ আমার শিকড় কোথায়!”
মধুর রিক্সা খানি রাস্তা থেকেই ঘণ্টা বাজায়।

Re: সফেদা অঙ্গন

আনন্দ পাইলাম clap lol

Re: সফেদা অঙ্গন

ধন্যবাদ