টপিকঃ ছবিস্যু

মেয়েটার নাম হলো ইসরাত।আমার দেওয়া ওর একটা গোপন নাম আছে।সেটা ফেশবুকের মেসেঞ্জার এ নিক নেইম হিসেবে সেইভ করা আছে।সেটা আপনাদের বলতে পারলে বেশ হতো,কিন্তু ও যদি জানে,আমি ওর বিখ্যাত নামটি ছড়িয়ে দিেয়ছি,তাহলে ও আমাকে কলেজ এর ছতালা ছাদ থেকে নির্ঘাত ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে।ও কি যে ভয়ানক মেয়ে তা আমিই জানি।এই পাগলাটে মেয়েটাকে আমি প্রথম দেখি আমােদর কলেজ এর নবীনবরণ এ।আমি চুপচাপ চেয়ার এ বসে আছি।কোথা থেকে হুট করেই এসে এক মেয়ে বলে-
-এই,তোমাকে তো অনেক সুন্দর লাগছে।
-ধন্যবাদ।
-এই মেয়ে,আসো না ছবি তুলি।

বলেই আমাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে,ক্যাচ ক্যাচ করে সেলফি তুলতে লাগল।আমি ভদ্র মেয়ে,তাই চুপচাপ আমার সুন্দর দাতগুলো বের করে ছবি তুলতে লাগলাম।কত ছবি তুললাম জানি না,তবে মেলা ছবি তুলেছি।আমার মৃত্যুর পর খোদা আমাকে ডেকে বলবে,-"এই,তুমি এত ছবি তুলস কেন? এত ছবি যে তুলসো,জান দিতে পারবা? বদমাইশ মেয়ে।"
সত্য বলতে আমি কম ছবি তুলি,দরকারে তুলি।ধরুন,ভোটার আইডি কার্ড করবার ছবি,গলায় ছাগলের দড়ির মতো কলেজ আইডিকার্ড করবার জন্য ছবি তুলতে হয়,সেই ছবি।সেলফি টেলফি আমার দ্বারা হয় না।আমি বোকা-সোকা,সহজ-সরল,নম্র-ভদ্র কন্যা।খোদা যে আমার কাছে কাকে পাঠাল,বুঝলাম না।খোদা যদি আমাকে এই কথা বলে! আমি জানি বলবে,আমিও তখন এই ইসরাত মেয়েটাকে টেনে আনব। আর বলব-" ও আমার খোদা,আমি ছবি তুলতে চাইনি,সত্যি বলছি,এই নারী,এই নারীই আমাকে ছবি তুলতে বাধ্য করেছে মাইলর্ড।" আর এই কথা বললেই,খোদা তার বিশাল সফটওয়ারওয়াালা কম্পিউটার দেখে,ঘেটে-ঘুটে,সব কিছু বের করে যখন দেখবে,তখন আমার সব পাপ মওকুফ হয়ে য়াবে,আমি জানি বেশ।
তা  যা বলসিলাম, সে মেয়ে আমাকে যখন যেখানে পায় তখন টেনে এনে ছবি তুলে। কি মহা জ্বালা।আমার ত মেজাজ খারাপ হয়,অতি ভালো ভদ্র মেয়ে বলে কিছু বলি না।মুখ বাকিয়ে,চোখ নাচিয়ে,ভ্রু কাচিয়ে কত যে ছবি।খোদা,পাপ মাফ করো,মাফ করো।

এরপর,ক্লাস হচ্ছে,গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস।পলিটিকাল ক্লাস।ম্যাম পড়াচ্ছে সক্রেটিস,প্লেটো,এরিস্টটল। কবে মরল,কি করল,কি বই লিখে আমাদের শিক্ষিত করে তুলবার জন্য উঠে পড়ে লাগল।ভালো লাগে না আর।বিরক্ত হয়ে সাপের মত ফুসছি।এক বিষধর নাগিনী ক্লাস করাচ্ছেন,তাই আমি ঢোরা সাপ হয়ে শুধু ফুসছিই আর ফুসছিই।এমন সময় দেখি পেছন থেকে গুতা আসছে।হাত সরিেয় বারবার গুতা সামাল দিচ্ছি।তাও গুতা আসে।আরে,কি যন্ত্রণা! শান্তি আর পাইনা।বাধ্য হয়ে দাঁত মুখ খিচিয়ে, বিষধর নাগীন এর ভাব ধরে সেই লুক দিয়ে পেছনে তাকালাম।আরে! এইতো সেই ইসরাত।সেলফি তুলছে।আমাকে গুতা দিয়ে বলে-
-এই,আসো,সেলফি তুলি।
-এ্যা! সেলফি?
-হ্যা,তোমাকে আজ দারুন লাগছে।উফ্,টিপে তোমাকে এত কিউট লাগে না।কিউটুস।

বলেই,আমার গাল দুটো টানার জন্য হাত বাড়াতেই আমি চিৎকার করে উঠে গেলাম।
-না না না।
পুরো ক্লাস তো চুপ।কি হলো! কি হলো! রব চারদিকে।আমি আতঙ্ক নিয়ে দাড়িয়ে আছি।
-কি হইসে?
-এ্যা ম্যাম আসলে....
-আসলে কি? আসল যা তাই নকল।বলো কি হইসে?

আমি চুপ করে দাড়িয়ে আছি।কি বলব আমি,বুঝছি না।মিথ্যে বলবার আগেই তো ম্যাম ধরে ফেলেছেন।তাহলে এখন উপায়?
আমি আমতা আমাতা করতে লাগলাম...


চলবে....

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।

Re: ছবিস্যু

বেশ চমৎকার এবং সাবলিল লেখা। বাস্তব জীবনের সত্য কাহিনি অবল্ম্বনে লেখা বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। দুই হাত খুলে লিখে যান থুক্কু টাইপ করে যান  tongue

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: ছবিস্যু

সমালোচক লিখেছেন:

বেশ চমৎকার এবং সাবলিল লেখা। বাস্তব জীবনের সত্য কাহিনি অবল্ম্বনে লেখা বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। দুই হাত খুলে লিখে যান থুক্কু টাইপ করে যান  tongue

ধন্যবাদ smile
বাস্তবতা এবং কিছু কল্পনার মিশেল এ লেখা smile
উৎসাহ দেবার জন্য  আবারও ধন্যবাদ smile

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।

Re: ছবিস্যু

লেখা চলবে । সুন্দর লাগছে ।

Re: ছবিস্যু

ভাল, ভাল। চালিয়ে যাও।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত