সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (১৬-০৪-২০১৮ ১৮:০৫)

টপিকঃ গার্মেন্টস_কর্মচারী_আউলের_বিড়ম্বনা,পর্ব১

☺????????

গার্মেন্টস কর্মচারী আউল এর বিড়ম্বনা, সকালে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে গেলাম দেখি পানি নেই, খাবার পানি দিয়েই কাজ সেরে

রান্না ঘরে ঢুকলাম, সকালের খাবার তৈরী করার জন্যে, দেখি গ্যাস নেই, চুলা জ্বলছে না

চিন্তা করছি সামনের চায়ের দোকানে গিয়ে নাস্তাটা সেরে আসি

মানি ব্যাগ খুলে দেখি, ৫টাকা ছাড়া কোন টাকা নেই,

মাঝে মধ্যে জরুরী প্রয়োজনের জন্যে ড্রয়ারে কিছু টাকা রাখি, ড্রয়ার খুলে দেখি ৫০টাকার নোট, ওয়াও

টাকাটা হাতে নিয়ে দেখি, তেলেপোকা তার মনের মাধুরী মিশিয়ে, ইচ্ছে মত টাকাটি কেটে ফেলছে

কি আর করা সামনের চায়ের দোকানে গিয়ে বলি ভাই, এই মূহুর্তে আমার কাছে টাকা নেই, আমি কিছু খাবো, পরে টাকা দিয়ে দিবো, দোকানদ্বার মুখের উপরে বলে দিলো, গার্মেন্টসে কাজ করা লোকজনদের কাছে বাকি বিক্রি করিনা

সকালের খাবার না খেয়েই বাসায় এসে একটু ফ্যানের নীচে বসলাম, দেখি ফ্যান চলছে না বিদ্যুৎ নেই

কি আর করা ৫টাকা পকেটে করে গার্মেন্টস কারখানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে, বীর উত্তম জিয়াউর রহমান (এয়ারপোর্ট )সড়কে উঠি, দেখি গাড়ির সংখ্যা কম, অনেক্ষন অপেক্ষায় একটি গাড়ি পেলাম, যার সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা, উঠলাম না, কিছু ক্ষন অপেক্ষা করে দেখি, লোকাল গাড়ি আসে কিন্তু বলে সিটিং, ভাড়া ২০, কি আর করা হেটেই গার্মেন্টস কারখানায় পৌছাই

গেটের দারোয়ান বলে আপনার চাকরি নেই, কারন প্রায় দেরী করে আসার কারনে, বল্লাম তাহলে গত মাসের বেতন আর এই ভাঙ্গা মাসের বেতন? দারোয়ান মুছকি হেসে বলেন, গার্মেন্টসে কি নতুন নাকি? জানেন না এই সব বেতন আর পাওয়া যায় না, মালিক দিবনা বলবে না, কিন্তু প্রতিদিন গেইটে এলে আমাদের দিয়ে বলাবে কাল আসুন

কি আর করা হাটতে হাটতে বাসায় আসতৈ দেখি বাড়িওয়ালা হাজির, গত মাসের ভাড়া চাই, সময় চাইলে তিনি এই মাসের মধ্যেই বাড়ি ছাড়ার অর্ডার করেন

কি আর করা, বাড়ি খুজতে বের হলাম, সব বাড়িওয়ালা বলে ১০ তারিখের মধ্যেই ভাড়া দিতে হবে, বছরে ৫০~১০০ পর্যন্ত ভাড়া বাড়তে পারে, পেলাম না বাড়ি ভাড়া

ঘরের সবকিছুই বেচে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে বস্তিতে উঠি, বিশ্ব বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্ৰী নিয়েঝ বেকার, দরিদ্র বাবা মা জায়গা জমি বিক্রি করে নিজেরা না খেয়ে আমাকে পড়িয়েছেন, তাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো, আর আজ আমি বেকার বস্তিতে উঠছি, চাকুরী খুজতে বের হলাম, শর্ত সাপেক্ষে মার্সন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্ট একটা কাজ জুটলো, মার্সন্ডাইজারের সেম্পল গুলো ও জিনিস পত্র বিভিন্ন বাইং অফিসে পৌঁছনোর কাজ, অবশ্য অনেকে চা সিগারেট ও আনত পাঠায়, যাক কাজ তো জুটেছে

মাস শেষে মালিক বেতন দেয়না, শ্রমিক সহ সবাই রাস্তায় নামে, পুলিশ এসে লাঠিচার্জ ইর টিয়া সেল আর গুলি, প্রান ভয়ে সবাই পালাই, বেতন থেকে জান আগে

কি আর করা বস্তিতে ফিরে আসি, টেনশন আর ক্লান্তির ঘুম, ঘুম ভেঙ্গে যায় নারী শিশুদের আর্তনাদ, দেখি আমাদের বস্তি গায়েবি ভাবে আগুন, শান্তনা দিতে ছুটে আসে বড় বড় নেতা, টিভির ক্যামেরা আর মিডিয়া কেপে উঠে তাদের বক্তব্যে কিন্তু আগুনে ২৫০০০ বস্তিবাসিদের স্বপ্ন পুড়ে যায়, এখন থাকার মত একটা জায়গাও নেই, অসুস্থ,নারী শিশু গর্ভবতী নারী সবাই খোলা আকাশের নীচে, পায়খানা প্রশ্রাব এর জায়গা ও নেই

আমি চাকরি হারিয়ে, মাথা গোছার আশ্রয় হারিয়ে ভাবছি, না আর নয়, বাড়ি চলে যাই

খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাই, মা বাবার কাছে, মা আমাকে দেখেই ছুটে আসেন, আঁচল দিয়ে আমার মুখ মূছতে মূছতে বলেন, বাবা তুই কি কিছু খেয়েছিস ?

#তারপর পর্ব২

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে